গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে উহার জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করিবার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে উহার জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা ০৯ মার্চ ২০০৮ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(খ) "নির্বাচন কমিশন" অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত নির্বাচন কমিশন;
(গ) "নির্বাচন কমিশন সচিবালয়" অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়;
(ঘ) "প্রধান নির্বাচন কমিশনার" অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং, ক্ষেত্রমত, সাময়িকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি;
(ঙ) "বিধি" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(চ) "সচিব" অর্থ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব বা সাময়িকভাবে তাহার দায়িত্ব পালনরত কোন ব্যক্তি।
(১) নির্বাচন কমিশনের একটি নিজস্ব সচিবালয় থাকিবে এবং উহা নির্বাচন কমিশন সচিবালয় নামে অভিহিত হইবে।
(২) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সরকারের কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তরের প্রশাসনিক আওতাধীন থাকিবে না।
(৩) নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত বিষয়াদি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সম্পাদিত হইবে।
[(৪) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য নির্বাচন কমিশন সার্ভিস নামে একটি সার্ভিস থাকিবে।]
(১) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় সকল সাচিবিক দায়িত্ব পালন করিবে এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক উহার উপর আরোপিত অন্যান্য যাবতীয় দায়িত্ব সম্পাদন করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দায়িত্ব ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বিশেষ করিয়া নিম্নলিখিত দায়িত্ব পালন করিবে, যথা:-
(১) জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান;
(২) নাগরিকগণের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান;
(৩) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদ্দেশ্যে নির্বাচনি আসনসমূহের সীমানা নির্ধারণ;
(৪) রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদসমূহের নির্বাচন পরিচালনাসহ উপ-নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠান;
(৫) ভোট গ্রহণের নিমিত্ত সারাদেশে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও সরকারি গেজেটে প্রকাশ;
(৬) রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রদান, প্রতীক বরাদ্দ ও সংরক্ষণ, নিবন্ধনকৃত রাজনৈতিক দলের রেজিস্টার সংরক্ষণ, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের সহিত নিয়মিত যোগাযোগ এবং সংলাপ আয়োজনসহ এতৎসংক্রান্ত কার্যাবলি;
(৭) প্রত্যেক নির্বাচনের জন্য সারাদেশে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থাদি গ্রহণ এবং ভোটগ্রহণের নিমিত্ত প্যানেল ও নিয়োগকৃতদের তালিকা সংরক্ষণ (যেমন- রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, ম্যাজিস্ট্রেট, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার, প্রভৃতি);
(৮) ব্যালট পেপারসহ সকল প্রকারের নির্বাচনি মালামাল মুদ্রণ, সরবরাহ এবং নির্বাচনের পর সংগ্রহের ব্যবস্থা গ্রহণ;
(৯) রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ, গণভোট এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল সংগ্রহ এবং প্রেরণ সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ;
(১০) প্রত্যেক নির্বাচনের ফলাফল একত্রীকরণ এবং সরকারি গেজেটে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ;
(১১) স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচনি দরখাস্ত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং এতৎসংক্রান্ত কার্যাদি সম্পাদন;
(১২) নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং এতদুদ্দেশ্যে সকল ধরনের তথ্য সংগ্রহ, একত্রীকরণ এবং রক্ষণাবেক্ষণসহ তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সহায়তাকরণ;
(১৩) জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর রিপোর্ট তৈরি ও প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং
(১৪) নির্বাচনি আইনি কাঠামো পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন, পরিমার্জন ও সংযোজনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।]
(১) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং সচিব নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হইবেন।
(২) সচিব নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন, শৃঙ্খলা বিধান এবং সচিবালয়ের উপর অর্পিত কার্যাদি যথাযথভাবে সম্পাদন করিবেন। তিনি এই আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন বিধানাবলীর যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করিবেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সচিবালয়ের কার্যাদি সম্পর্কে সময়ে সময়ে অবহিত করিবেন।
(৩) প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্ব বিধি বা স্থায়ী আদেশ দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অন্য কোন কমিশনার কিংবা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
(১) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, ধারা ৩(৩) এর বিধান সাপেক্ষে, সরকারের যে কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা অফিসের সহিত অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সহিত সরাসরি যোগাযোগ করিতে পারিবে।
(২) প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিধি বা স্থায়ী আদেশ দ্বারা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার ব্যবস্থা করিতে পারিবেন।
(১) সরকার প্রতি অর্থ বৎসরে নির্বাচন কমিশনের ব্যয়ের জন্য, নির্বাচন কমিশন হইতে প্রাপ্ত প্রস্তাব বিবেচনাক্রমে, উহার অনুকূলে বাজেটে নির্দিষ্টকৃত অর্থ বরাদ্দ করিবে; এবং অনুমোদিত ও নির্ধারিত খাতে উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ হইতে ব্যয় করিবার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা নির্বাচন কমিশনের জন্য আবশ্যক হইবে না।
(২) এই ধারার বিধান দ্বারা সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মহাহিসাব-নিরীক্ষকের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হইয়াছে বলিয়া ব্যাখ্যা করা যাইবে না।
(১) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিযুক্ত হইবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত [নির্বাচন কমিশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০০৮], প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে, এর বিধান অনুসারে উক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ নিযুক্ত হইবেন।
(২) [নির্বাচন কমিশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০০৮] এর অধীন নিযুক্ত এবং এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কিংবা অন্যত্র কার্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ, উক্ত সচিবালয়ে সরকার বা অন্য কোন সংস্থা হইতে বদলী কিংবা প্রেষণে কার্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ ব্যতীত, এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন।
এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, প্রজাতন্ত্রের অসামরিক পদে নিযুক্ত সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চাকুরীর শর্তাবলী নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিযুক্ত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বেতন, ভাতা, ছুটি, ভবিষ্য তহবিল, গ্রাচ্যুইটি , পেনশন ও চাকুরীর অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা, প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের বিরুদ্ধে গ্রহণীয় শৃংখলামূলক ব্যবস্থা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শৃংখলা ও আপীল সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা, প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(১) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যাবতীয় দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য সচিব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিকট দায়ী থাকিবেন।
(২) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণে, সচিবের নিকট দায়ী থাকিবেন এবং সচিবের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তাহারা কাজ কর্ম পরিচালনা করিবেন।
কোন ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের সহিত কোন বিষয়ে যোগাযোগের প্রয়োজনবোধ করিলে তিনি সরাসরি সচিবের সহিত বা তাহার দায়িত্ব পালনরত অন্য কোন কর্মকর্তার সহিত যোগাযোগ করিতে পারিবেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য অনুমোদিত বাজেটে নির্ধারিত খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হইবেন।
(১) সময়ে সময়ে নির্বাচন কমিশনের সাংগঠনিক কাঠামো ( To & E) পর্যালোচনাপূর্বক পরিবর্তনের সুপারিশমালা প্রস্তুতকরণের জন্য নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য একটি সাংগঠনিক কমিটি থাকিবে, যথা :-
(ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার-যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
(খ) সকল নির্বাচন কমিশনার;
(গ) অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার নিম্নে নয় অর্থ বিভাগের এমন একজন কর্মকর্তা;
(ঘ) অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার নিম্নে নয় [জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের] এমন একজন কর্মকর্তা;
(ঙ) সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়-যিনি উহার সদস্য সচিবও হইবেন।
(২) উপরি-উক্ত সাংগঠনিক কমিটির সুপারিশমালা বিবেচনাপূর্বক নির্বাচন কমিশনের সাংগঠনিক কাঠামো সরকার কর্তৃক চূড়ান্ত করা হইবে।
নির্বাচন কমিশন উহার কার্যাবলী ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জনসাধারণকে সম্যকভাবে অবহিত করিবার লক্ষ্যে যথাযথভাবে অবগতিমূলক কর্মসূচী গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সচিবালয় উক্তরূপ কর্মসূচীর ব্যবস্থা করিবে।
নির্বাচন কমিশন, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারবে।
(১) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০০৮ (২০০৮ সনের ৫নং অধ্যাদেশ) এতদ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত অধ্যাদেশের অধীনকৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীনকৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।