মৎসখাদ্য ও পশুখাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিত্রুয়, বিতরণ, পরিবহন এবং এতদ্সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধানকল্পে প্রণীত আইন। যেহেতু বাংলাদেশে মৎসখাদ্য ও পশুখাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিত্রুয়, বিতরণ, পরিবহন এবং এতদ্সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইলঃ-
(১) এই আইন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) 'অধিদপ্তর' অর্থ মৎস্যখাদ্য সম্পর্কিত বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর এবং পশুখাদ্য সম্পর্কিত বিষয়ে পশুসম্পদ অধিদপ্তর;
(২) 'কোম্পানী' অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোম্পানী;
(৩) 'খামার' অর্থ মৎস্য ও গৃহপালিত পশুর হ্যাচারি, নার্সারি, প্রজনন খামার এবং মৎস্য ও গৃহপালিত পশুর বাণিজ্যিক খামার;
(৪) 'নির্ধারিত' অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(৫) 'পশু' অর্থে নিম্নবর্ণিত সকল ধরনের প্রাণী অন্তভুর্ক্ত হইবে, যথা:-
(৬) 'পশুখাদ্য' অর্থ পশুর জীবনধারণ ও অপুষ্টি হইতে রক্ষার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বা অন্যভাবে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন পুষ্টিযুক্ত খাদ্যদ্রব্য বা উহার মিশ্রণ;
(৭) 'পরিচালক' অর্থ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উহার কোন অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য;
(৮) "ফৌজদারী কার্যবিধি" অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898(Act No.V of 1898);
(৯) 'ব্যক্তি' অর্থে যে কোন ব্যক্তি এবং কোন প্রতিষ্ঠান, কোম্পানী, অংশীদারী কারবার, ফার্ম বা অন্য যে কোন সংস্থাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১০) 'বিধি' অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১১) 'ভেজাল মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য' অর্থ কোন বিষাক্ত বা ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য যাহা মৎস্য, পশু বা অন্যান্য প্রাণী বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অথবা এমন মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য যাহা এই আইনের ধারা ১১ এবং ১৩ তে উল্লিখিত বিষয়াদির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নহে, অথবা মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরীতে ভেজাল বা বিষাক্ত বা ক্ষতিকর মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য বা অপদ্রব্য হিসাবে প্রমাণিত;
(১২) 'মৎস্য' অর্থ সকল প্রকার কোমল অস্থি ও কঠিন অস্থিবিশিষ্ট মাছ(Cartilaginous and bony fishes),স্বাদু ও লবণাক্ত পানির চিংড়ি(Prawn and Shrimp),উভচর জলজ প্রাণী, কচ্ছপ, কাছিম, কাঁকড়া জাতীয় (Crustacean),শামুক বা ঝিনুক জাতীয়(Molluscs)জলজ প্রাণী,একাইনোডার্মস্ জাতীয় (Sea Cucumber),ব্যাঙ(Frogs)এবং উহাদের জীবনচক্রের যে কোন ধাপ এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত অন্য কোন জলজ প্রাণী;
(১৩) 'মৎস্যখাদ্য' অর্থ মাছের জীবনধারণ ও অপুষ্টি হইতে রক্ষার উদ্দেশ্যে কারখানায় বা অন্যভাবে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন পুষ্টিযুক্ত খাদ্যদ্রব্য বা উহার মিশ্রণ;
(১৪) 'মহাপরিচালক' অর্থ মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা, ক্ষেত্রমত, পশুসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক;
(১৫) 'মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরী' অর্থ নিম্নবর্ণিত প্রতিষ্ঠানসমূহের মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরী, যথা :-
(১৬) 'লাইসেন্স' অর্থ মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয়, বিতরণ, পরিবহন এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করিবার লক্ষ্যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ধারা ৫ এর অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স;
(১৭) 'সরকার' অর্থ মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়।
(১) মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মৎস্যখাদ্য নিয়ন্ত্রণ কতৃর্পক্ষ হইবেন।
(২) পশুসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পশুখাদ্য নিয়ন্ত্রণ কতৃর্পক্ষ হইবেন।
এই আইন কার্যকর হইবার পর কোন ব্যক্তি ধারা ৬ এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করিতে পারিবেন না।
এই আইনের অধীন মৎস্যখাদ্য সংক্রান্ত বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা মহাপরিচালক কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণীর কোন কর্মকর্তা এবং পশুখাদ্য সংক্রান্ত বিষয়ে পশুসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা মহাপরিচালক কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণীর কোন কর্মকর্তা লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবেন।
(১) এই আইনের অধীন মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করিতে ইচ্ছুক কোন ব্যক্তি লাইসেন্সের জন্য ধারা ৫ এ উল্লিখিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে আবেদন করিতে পারিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তি লাইসেন্সের জন্য লিখিতভাবে আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ-
(৩) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে কোন ব্যক্তি মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন,প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ, পরিবহন এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করিয়া থাকিলে তিনি এই আইন কার্যকর হইবার অনধিক ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা না হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বের মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য উৎপাদন,প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ, পরিবহন এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী পরিচালনার যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিবে।
(১) এই আইনের অধীনে প্রদত্ত লাইসেন্সের মেয়াদ হইবে লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসর।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হইবার অনূর্ধব ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে নির্ধারিত ফিসহ নবায়নের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত ফরমে আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী কর্তৃক এই আইন বা বিধি বা লাইসেন্সের শর্তাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হইয়াছে তাহা হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নবায়ন ফি পরিশোধ সাপেক্ষে, লাইসেন্স নবায়ন করিবে অথবা লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আবেদনকারী প্রযোজ্য শর্তাবলী প্রতিপালন করে নাই তবে লাইসেন্স নবায়নের আবেদনটি নামঞ্জুর করিবেন এবং লিখিতভাবে লাইসেন্স গ্রহীতাকে অবহিত করিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী লাইসেন্স নবায়নের আবেদন লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সটি বহাল আছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং তদনুসারে লাইসেন্স গ্রহীতা তাহার কার্যাবলী সম্পাদন করিতে পারিবেন।
এই আইনের অধীন প্রদেয় লাইসেন্স এর ফি ও নবায়ন ফি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি এর হার ধার্য করিতে পারিবে।
(১) কোন লাইসেন্স গ্রহীতা এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা লাইসেন্সের কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স গ্রহীতাকে যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিয়া প্রদত্ত লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কোন লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হইলে স্থগিত বা বাতিল আদেশের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহীতা সরকারের নিকট নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে আপীল করিতে পারিবে এবং সরকার উক্ত আপীল দায়েরের তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আপীল নিষ্পত্তি করিবে এবং এই ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপীল আদেশ অবহিত হইবার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আপীল আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন প্রাপ্তির অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
১০৷ (১) সরকার বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদিতব্য মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের গুণগতমান বজায় রাখিবার লক্ষ্যে বিধি দ্বারা মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের বিভিন্ন উপাদানের আদর্শমাত্রা নির্ধারণ করিবে এবং বাণিজ্যিকভিত্তিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য প্রস্তুতকালে উক্ত আদর্শমাত্রা অনুসরণ বাধ্যতামূলক হইবে৷
(২) মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরীতে ও পরীক্ষায় কোন মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আদর্শমাত্রা না পাওয়া গেলে বা পুষ্টি বিরোধী কোন উপাদানের উপস্থিতি প্রমাণিত হইলে বা উহাতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের অযোগ্য বা ক্ষতিকর কোন দ্রব্যের মিশ্রণ পাওয়া গেলে উক্ত মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা যাইবে৷
১১৷ (১) আমদানিকৃত ও দেশে উৎপাদিত যে কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজারজাত করিবার যে কোন পর্যায়ে উহার মান যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন উৎপাদক, আমদানিকারক বা বিক্রেতার নিকট হইতে নমুনা সংগ্রহ করিয়া উহা মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করাইতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরীক্ষায় মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ব্যবহারের অনুপযোগী প্রমাণিত হইলে উক্ত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজেয়াপ্ত করা হইবে এবং উহার আমদানীকারক, উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী এই অাইনের অধীন অপরাধ করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
(৩) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের যে সকল উপকরণ বিপণন হইয়া থাকে উহা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১২৷ (১) কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অথবা উহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীর মাধ্যমে এইরূপ কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয়, পরিবহন বা বিতরণ করিতে পারিবে নাঃ
(২) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষণ সম্পর্কিত প্রত্যয়নপত্র এবং উক্ত খাদ্যদ্রব্য মৎস্য ও পশুর খাওয়ার উপযোগী মর্মে প্রত্যয়নপত্র শিপিং ডকুমেন্টের সহিত বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত করিতে হইবে৷
(৩) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে৷
১৩৷ কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজারজাত করা যাইবে না, যদি-
(১) প্রস্তুত কারকের নাম ও যে দেশে প্রস্তুত সেই দেশের নাম;
(২) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন নম্বর;
(৩) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের প্রকৃত ওজন;
(৪) বিদ্যমান বিভিন্ন খাদ্য উপকরণের ও পুষ্টি উপাদানের নাম এবং শতকরা হার;
(৫) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য চিহ্নিত করার জন্য প্রদেয় লট নম্বর বা অন্যবিধ উপায়;
(৬) উৎপাদিত পণ্যের উৎস সনাক্তকরণ কোড;
(৭) কোন জাতীয় মৎস্য বা পশুর খাদ্য তাহার উল্লেখ;
(৮) উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ৷
১৪৷ (১) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে এন্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা যাইবে না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে উহা এই অাইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে৷
১৫৷ মহাপরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, যুক্তিসঙ্গত সময়ে কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য কারখানা ও উহার প্রাঙ্গণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি, প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে উক্ত কারখানায় আনীত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের যে কোন উপাদান ও উপাদানসমূহ মজুদ করিবার স্থান, পরিবহনকারী যে কোন যান, বিক্রয় কেন্দ্র বা এতদসংশ্লিষ্ট অন্য কোন স্থান বা যানবাহন এবং মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যে কোন দলিল পরিদর্শন করিতে পারিবেন৷
১৬৷ (১) কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ক্ষতিকর ও ভেজাল প্রমাণিত হইলে মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য এবং উহাদের উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত পণ্য ও যন্ত্রপাতির সমুদয় বা কোন অংশ বাজেয়াপ্ত করিতে পারিবেন৷
(২) বাজেয়াপ্ত অস্বাস্থ্যকর বা পঁচা বা দূষিত বা ভেজাল মিশ্রিত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনষ্ট করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) এ বাজেয়াপ্তকৃত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তাঁহার মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের বা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না এমন স্বাস্থ্যসম্মত পন্থায় বিনষ্ট করিবেন এবং উক্তরূপে বিনষ্টকরণ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে৷
১৭৷ কোন কোম্পানী কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর এইরুপ প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ, রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷
১৮৷ (১) মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না৷
(২) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কতৃর্ক বিচার্য হইবে।
(৩) এই আইনে ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XXII তে বর্ণিত পদ্ধতি, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (non-cognizable) ও জামিনযোগ্য (bailable) হইবে।
যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব এক বৎসরের কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য এই আইনে অনুমোদিত যে কোন দন্ড আরোপ করিতে পারিবে।
২২৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২৩৷ এই আইন কার্যকরী হইবার পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে যাহা এই অাইনের অনুমোদিত ইংরেজি পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে৷
(১) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য অধ্যাদেশ, ২০০৮ (২০০৮ সনের ২০ নং অধ্যাদেশ), অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লিখিত, এর অধীন কৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(২) এর বিধান অনুসারে উক্ত অধ্যাদেশ এর কার্যকরতা লোপ পাওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ লোপ পাইবার পর উহার ধারাবাহিকতায় বা বিবেচিত ধারাবাহিকতায় কোন কাজকর্ম কৃত বা ব্যবস্থা গৃহীত হইয়া থাকিলে উহা এই আইনের অধীনেই কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।