বাংলাদেশে হাই-টেক শিল্প স্থাপন ও বিকাশের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে হাই-টেক পার্ক সৃষ্টি এবং ইহারসুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা এবং উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন। যেহেতু বাংলাদেশে হাই-টেক শিল্প স্থাপন ও বিকাশের নিমিত্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে হাই-টেক পার্ক সৃষ্টি এবং ইহার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, উন্নয়ন এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদির জন্য বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
(১) এই আইন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) "কর্তৃপক্ষ " অর্থ এই আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত "বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ";
(২) "চেয়ারম্যান" অর্থ বোর্ড অব গভর্নরস এর চেয়ারম্যান;
(৩) "ডেভেলপার" অর্থ এইরূপ কোন ব্যক্তি যিনি হাই-টেক পার্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষের সহিত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চুক্তির মাধ্যমে পার্কের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ,রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত।
(৪) "নির্ধারিত" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;
(৫) "বোর্ড অব গভর্নরস" অর্থ কর্তৃপক্ষের বোর্ড অব গভর্নরস;
[(৬) “পার্ক” অর্থ এই আইনের অধীন সরকার কর্তৃক হাই-টেক শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্টকৃত স্থান অথবা সরকার কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত হাই-টেক শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে ব্যক্তি উদ্যোক্তা কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত স্থান; এবং সরকার কর্তৃক ঘোষিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পের জন্য প্রতিষ্ঠিত আইটি পার্ক, আইটি ভিলেজ, টেকনোলজি পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, বায়ো-টেক পার্ক, রিনিউএবল এনার্জি পার্ক, গ্রীন টেকনোলজি পার্ক, হার্ডওয়্যার পার্ক ও সায়েন্স পার্কও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;]
(৭) "প্রবিধান" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৮) "বিধি" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৯) "নির্বাহী কমিটি" অর্থ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী কমিটি;
(১০) "ব্যক্তি" ব্যক্তি অর্থে পার্কে হাই-টেক শিল্প স্থাপনে আগ্রহী ব্যক্তি, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, কোম্পানী, অংশীদারী কারবার, ফার্ম বা অন্য কোন সংস্থাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
[(১০ক) “ব্যবস্থাপনা পরিচালক” অর্থ হাই-টেক পার্ক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক;]
(১১) "সভাপতি" অর্থ নির্বাহী কমিটির সভাপতি; এবং
[(১২) “হাই-টেক শিল্প” অর্থ জ্ঞান ও পুঁজি নির্ভর, পরিবেশ এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি), সফটওয়্যার টেকনোলজি, বায়ো-টেকনোলজি, রিনিউএবল এনার্জি, গ্রীন টেকনোলজি, হার্ডওয়্যার, ইনফরমেশন টেকনোলজি এনাবল্ড সার্ভিসেস (আইটিইএস) এবং রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আর এন্ড ডি) নির্ভর শিল্প।]
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, যতশীঘ্র সম্ভব, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে এবং তদতিরিক্ত ঐচ্ছিকভাবে ইলেকট্রনিক গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পদ [অর্জন] , সংরক্ষণ ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহার নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহা, প্রয়োজনবোধে,সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাইবে।
কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য হইবে বাংলাদেশে হাই-টেক শিল্প স্থাপন ও বিকাশের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার কর্তৃক অথবা বেসরকারি উদ্যোগে পার্ক স্থাপন এবং উহার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, উন্নয়ন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
(১) কর্তৃপক্ষের বিষয়াদি ও সাধারণ কার্যাবলীর পরিচালনা ও প্রশাসন একটি নির্বাহী কমিটির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষের যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে, নির্বাহী কমিটিও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) নির্বাহী কমিটি উহার দায়িত্ব পালন ও কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে এই আইন, বিধি, প্রবিধি ও সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত ও জারীকৃত আদেশ ও নির্দেশনা অনুসরণ করিবে।
[৭। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষের নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি বোর্ড অব গভর্নরস থাকিবে, যথাঃ-
(২) প্রধানমন্ত্রী, প্রয়োজনবোধে, তদ্কর্তৃক মনোনীত মন্ত্রী, যিনি বোর্ড অব গভর্নরস এরও সদস্য, তাঁহাকে বোর্ড অব গভর্নরস এর চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, প্রধানমন্ত্রীর পূর্বানুমোদনক্রমে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ যে কোন ব্যক্তিকে বোর্ডের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করিতে অথবা কোন সদস্যকে বোর্ড হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।]
[৮। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষের একটি নির্বাহী কমিটি গঠিত হইবে, যথা :
(২) বোর্ড অব গভর্নরস কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির সদস্য পদের মেয়াদ হইবে তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী তিন বৎসর :
তবে শর্ত থাকে যে, বোর্ড অব গভর্নরস, প্রয়োজনবোধে, যে কোন সময় বোর্ড অব গভর্নরস কর্তৃক মনোনীত সদস্যের মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে তাহাকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঞ) এ উল্লিখিত বোর্ড অব গভর্নরস কর্তৃক মনোনীত কোন সদস্য সভাপতির উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।]
(১) এই ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড অব গভর্নরস এবং নির্বাহী কমিটি উহার সভার কার্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।
(২) চেয়ারম্যানের সহিত পরামর্শক্রমে, বোর্ডের সদস্য-সচিব, চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও স্থানে বোর্ড অব গভর্নরস এর সভা আহবান করিবেন।
(৩) নির্বাহী কমিটির সভা সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে এবং সভাপতির সহিত পরামর্শক্রমে নির্বাহী কমিটির সদস্য-সচিব উক্ত সভা আহবান করিবেন।
(৪) বোর্ড অব গভর্নরস এর চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) নির্বাহী কমিটির সকল সভায় নির্বাহী কমিটির সভাপতি সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি নির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৬) নির্বাহী কমিটির সভায় কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
(৭) নির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত সকল সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
নির্বাহী কমিটি, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নরূপ দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবে, যথা [:-]
কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে,সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) কর্তৃপক্ষের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকিবে।
(২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবে এবং তাহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবে এবং তিনি-
(১) নির্বাহী কমিটি উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদানের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত কমিটি নির্বাহী কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং উহা নির্বাহী কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে কার্য সম্পাদন করিবে।
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, পার্কের প্রয়োজন বিবেচনায় Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক বাংলাদেশের যে কোন পার্কে স্থাপিত হাই-টেক শিল্প-কারখানার কাঁচামাল, প্যাকেজিং সামগ্রী, আধা-প্রক্রিয়াজাত দ্রব্যাদি, আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি, ইত্যাদি আমদানির জন্য পাবলিক ওয়্যার হাউজ স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ব্যবস্থা করিতে পারিবে।
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার,-
কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মতিক্রমে, নিম্নবর্ণিত বিষয়ে বন্ডেড সুবিধাদি প্রদান করিতে পারিবে, যথা [:-]
(১) হাই-টেক শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে পার্ক প্রতিষ্ঠা করিতে আগ্রহী ব্যক্তিকে কর্তৃপক্ষের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে অনুমতির জন্য আবেদন করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্রের সহিত দাখিলকৃত সকল তথ্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত হইবে এবং নির্ধারিত সময়, পদ্ধতি ও ফরমে আবেদনকারী অনুমতি প্রদান করিবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোন আবেদনকারীর আবেদন যথাযথ বিবেচিত না হইলে আবেদনকারীকে যুক্তিসঙ্গত শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া আবেদনটি নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে নামঞ্জুর করিতে পারিবে এবং উক্ত সিদ্ধান্তের যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক উহা আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে।
(১) ধারা ১৭ এর অধীন প্রদত্ত অনুমতি পত্রের শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) ধারা ১৭ এর অধীন প্রাপ্ত কোন অনুমতি বা উহার অধীন অর্জিত স্বত্ব, হস্তান্তরযোগ্য হইবে না এবং এইরূপ হস্তান্তর ফলবিহীন (void) হইবে।
(৩) ধারা ১৭ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন অনুমতি প্রদান করার সময় কর্তৃপক্ষ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ যে কোন শর্ত সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্রে উল্লেখ করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উক্ত শর্ত যে কোন সময় পরিবর্তন করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন শর্ত পরিবর্তন করা হইলে অনুমতিপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি উহা মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে।
পার্কে হাই-টেক শিল্প স্থাপনে আগ্রহী ব্যক্তি বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিবে [:]
তবে শর্ত থাকে যে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ডেভেলপার নিয়োগ করা হইলে আবেদনকারীকে নিয়োগপ্রাপ্ত ডেভেলপার এর মাধ্যমে এবং ব্যক্তি উদ্যোক্তা কর্তৃক স্থাপিত পার্কে আবেদনকারীকে ব্যক্তি উদ্যোক্তার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
হাই-টেক শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে পার্কে ডেভেলপার নিয়োগ করা যাইবে।
কর্তৃপক্ষ, পার্কে হাই-টেক শিল্প স্থাপনে আগ্রহী ব্যক্তি বা ডেভেলপারকে, উপযুক্ত ফি ও সার্ভিস চার্জ গ্রহণ সাপেক্ষে, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত সেবা প্রদান করিতে পারিবে, যথা [:-]
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারী গেজেটে এবং তদতিরিক্ত ঐচ্ছিকভাবে ইলেকট্রনিক গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উহাতে বর্ণিত কোন স্থান বা স্থানসমূহকে এবং ব্যক্তি কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত স্থান বা স্থানসমূহকে পার্ক হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।
(১) কর্তৃপক্ষ, তদকর্তৃক নির্ধারিত শর্তাবলী সাপেক্ষে,ধারা ১৯ এর অধীন পার্কে হাই-টেক শিল্প স্থাপনে অনুমতি প্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট ভূমি বা ভবনের স্পেস বরাদ্দ, ভাড়া বা ইজারা প্রদান করিতে পারিবে।
(২) হাই-টেক শিল্প স্থাপনের জন্য বরাদ্দ প্রাপ্ত ভূমি বা ইজারা বা ভাড়ায় গৃহীত স্পেস হাই-টেক শিল্প স্থাপন বা সংশ্লিষ্ট ফরোয়ার্ড এন্ড ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প ব্যতিত অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করিলে উক্ত বরাদ্দ বা ইজারা বা ভাড়া বাতিল করা যাইবে।
কর্তৃপক্ষ, নির্বাহী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় সময়, কোন একটি নির্দিষ্ট পার্কে কোন কোন ধরনের শিল্প স্থাপিত হইবে উহা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমতিক্রমে, যে কোন উৎস হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
কর্তৃপক্ষ, বিনিয়োগকারীগণের আর্থিক লেনদেনের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতিক্রমে, স্থানীয় ব্যাংক বা বিদেশী ব্যাংক বা ব্যাংকসমূহকে পার্কে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ব্যাংক বা ব্যাংকসমূহ পার্কে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করিবে এবং পার্কে কর্মরত বা সম্পৃক্ত বিদেশী ব্যক্তিদের নিকট হইতে আমানতও গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) আপাততঃ কার্যকর অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা পার্ক স্থাপন, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করিবার লক্ষ্যে, পার্কে কোন আইন বা আইনসমূহ বা উহার বা উহাদের সকল বা নির্দিষ্ট কোন বিধান এর প্রয়োগ রহিত করিতে পারিবে অথবা এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে যে, প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিবর্তন সাপেক্ষে অনুরূপ কোন আইন বা উহার নির্দিষ্ট কোন বিধান পার্কে প্রয়োগ করা যাইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, পার্কে নিয়োগকৃত ডেভেলপার, প্রতিষ্ঠিত শিল্প ইউনিটসমূহ, অন্যান্য আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিবেশ সংক্রান্ত সকল আইনের প্রতিপালনসহ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুস্বাক্ষরকৃত বা অনুমোদিত কনভেনশনসমূহের অধীন পালনীয় অঙ্গীকারসমূহ পালন করিতে বাধ্য থাকিবে।
কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে যাহাতে পার্ক সংশ্লিষ্ট নিম্নবর্ণিত উৎসসমূহ হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত অর্থ উত্তোলন ও ব্যয় করা যাইবে, যথা[:-]
কর্তৃপক্ষ প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয় ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বাৎসরিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কর্তৃপক্ষের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহারও উল্লেখ থাকিবে।
(১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের এতদসংক্রান্ত সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পরিবেন এবং কর্তৃপক্ষের যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পরিবেন।
(১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ তদকর্তৃক উক্ত অর্থ বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যে কোন সময় কর্তৃপক্ষের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৩) সরকার যে কোন সময় কর্তৃপক্ষের কর্মকান্ড অথবা যে কোন প্রকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিতে পারিবে।
পার্কে কর্মরত শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে [ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ও শিল্প সম্পর্ক আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪৩ নং আইন)] প্রয়োজনীয় অভিযোজন সাপেক্ষে, প্রযোজ্য হইবে।
কর্তৃপক্ষের নিম্নবর্ণিত বিশেষ অধিকারসমূহ থাকিবে, যথা [:-]
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে এবং তদতিরিক্ত ঐচ্ছিকভাবে ইলেকট্রনিক গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কর্তৃপক্ষ, সরকারি গেজেটে এবং তদতিরিক্ত ঐচ্ছিকভাবে ইলেকট্রনিক গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে;
(২) বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ৰেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।