বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন,২০১০
বীমা শিল্প ব্যবসার তত্ত্বাবধান, বীমা পলিসি গ্রাহক ও পলিসির অধীনে উপকারভোগীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বীমা শিল্পের নিয়মতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের নিমিত্ত একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন।
বীমা শিল্প ব্যবসার তত্ত্বাবধান, বীমা পলিসি গ্রাহক ও পলিসির অধীনে উপকারভোগীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বীমা শিল্পের নিয়মতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের নিমিত্ত একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন। যেহেতু বীমা শিল্প ব্যবসার তত্ত্বাবধান, বীমা পলিসি গ্রাহক ও পলিসির অধীনে উপকারভোগীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বীমা শিল্পের নিয়মতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের নিমিত্ত একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
-বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
Section ৩. কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর, যথা শীঘ্র সম্ভব, এই আইনের বিধান অনুযায়ী সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) কর্তপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার পক্ষে ইহা নিজের নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৪. কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়, ইত্যাদি
(১) কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমতিক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
কর্তৃপক্ষের গঠন, ইত্যাদি
৫৷ (১) চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবে৷
(২) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৭ এর বিধান সাপেক্ষে, লাইফ ইন্স্যুরেন্স বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অন্যূন একজন এবং নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অন্যূন একজন ব্যক্তিকে কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসাবে নিয়োগ করিতে হইবে৷
(৩) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন সদস্য চেয়ারম্যানরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন৷
Section ৮. প্রধান নির্বাহী
চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধান অনুসারে, কর্তৃপক্ষের প্রশাসন পরিচালনা করিবেন।
ভবিষ্যৎ চাকুরীতে নিয়োগে বিধি-নিষেধ
৯৷ চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে তাহাদের কার্যকালের মেয়াদ অতিক্রান্ত হইবার অব্যবহিত পরবর্তী ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে সরকারের অধীনে বা কোন বীমা কোম্পানীতে চাকুরী গ্রহণ করিতে পারিবেন না৷
Section ৬. চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের কার্যকাল, ইত্যাদি
(১) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন এবং অনুরূপ একটি মাত্র মেয়াদের জন্য পুনরায় নিয়োগের যোগ্য হইবেন।
(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যে কোন সময়, ৩ (তিন) মাসের নোটিশ প্রদানপূর্বক, স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান বা ক্ষেত্রমত, সদস্য স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন।
Section ৭. চেয়ারম্যান ও সদস্যের যোগ্যতা, অযোগ্যতা, ইত্যাদি
(১) বীমা, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, মার্কেটিং, পরিসংখ্যান, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন বা আইনে অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য হইবার যোগ্য হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী পাওয়া না গেলে অভিজ্ঞতার সময়সীমা শিথিল করা যাইবে।
(৩) কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিযুক্ত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
Section ১১. উপদেষ্টা ও পরামর্শক নিয়োগ
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ হিসাবরক্ষক, একচ্যুয়ারী, আইনজ্ঞ, জরিপকারী, মূল্যায়নকারী এবং ইসলামী শরীয়াহ্ বিশেষজ্ঞসহ পেশাজীবীদের মধ্য হইতে পরামর্শক বা উপদেষ্টা নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের নিয়োগের শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পারিশ্রমিক, ভাতা, ইত্যাদি
১২৷ চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷
Section ১৫. কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী ও দায়িত্ব
কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী ও দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
বার্ষিক বাজেট বিবরণী
১৭৷ কর্তৃপক্ষ প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে৷
Section ১৮. ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোন ব্যাংক বা ঋণ প্রদানকারী সংস্থা বা অন্য কোন উৎস হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
১০৷ (১) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম বা সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশাবলী সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(২) কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৩. কর্তৃপক্ষের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(২) কর্তৃপক্ষ প্রতিমাসে কমপক্ষে একবার সভায় মিলিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) সভাপতিসহ অন্যূন ৩ (তিন) জন সদস্যের উপস্থিতিতে কর্তৃপকক্ষের সভার কোরাম পূর্ণ হইবে।
(৫) উপস্থিত সদস্যদের মধ্য হইতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৬) শুধুমাত্র চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা কর্তৃপক্ষ গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে কর্তৃপক্ষের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(৭) প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী সভার সভাপতি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে এবং উক্ত সভার পরবর্তী ২০ (বিশ) দিনের মধ্যে উহার একটি কপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা
১৯৷ (১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) Chartered Accountants Order, 1973 (P.O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব প্রতি বৎসর নিরীক্ষা করা হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ চার্টার্ড একাউন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কোন হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট, নিরীক্ষক বা নিরীক্ষাদল কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৫) এই ধারার অধীন কোন চার্টার্ড একাউন্টেন্টস কর্তৃক নিরীক্ষা কার্য সমাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, চার্টার্ড একাউন্টেন্টস, কর্তৃপক্ষের নিকট নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবে।
কমিটি
২১৷ কর্তৃপক্ষ উহার কাজের সহায়তার জন্য, প্রয়োজনবোধে, এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত কমিটির সদস্য সংখ্যা, দায়িত্ব এবং কার্যধারা নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
Section ২২. ক্ষমতা অর্পণ
কর্তৃপক্ষ, প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা ব্যতীত, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব তদকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে চেয়ারম্যান, সদস্য এবং কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ১৪. অপসারণ
(১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, সরকার কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা যে কোন সদস্যকে অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি-
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কারণে চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে তাঁহার পদে বহাল থাকিবার অযোগ্য মনে করিলে, সরকার, উক্ত কারণের যথার্থতা যাচাই করিবার জন্য, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করিবে এবং কমিটি গঠনের আদেশে উক্ত তদন্ত কমিটি কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমাও নির্ধারণ করিয়া দিবে।
(৩) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের ব্যাপারে উপ-ধারা (২) এর অধীনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হইলে, সরকার, সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনাক্রমে, তাঁহাকে, তাঁহার দায়িত্ব পালন হইতে বিরত থাকিবার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হইলে তিনি তাহা পালনে বাধ্য থাকিবেন।
(৪) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটি সরকারের নিকট সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি ও কারণসহ চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হইয়াছে কিনা এবং তাঁহাকে অপসারণ করা সমীচীন হইবে কিনা, তদ্মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করিবে এবং সরকার উক্ত প্রতিবেদন বিবেচনা করিয়া যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৫) কারণ দর্শাইবার যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান না করিয়া এই ধারার অধীনে সরকার চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে অপসারণ করিবে না।
(৬) এই ধারার অধীন অপসারিত কোন ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে বা সরকারের বা সরকারী সংস্থার বা কর্তৃপক্ষের অন্য কোন পদে নিয়োজিত বা পুনঃনিয়োজিত হইতে পারিবে না।
অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা
২৫৷ এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমালযোগ্য (non-cognizable), জামিনযোগ্য (bailable) এবং আপোষযোগ্য (compoundable) হইবে৷
Section ২৬. কর্তৃপক্ষের পাওনা আদায়
কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কর্তৃপক্ষের পাওনা সরকারী দাবী হিসাবে Public Demands Recovery Act, 1913(Ben. Act, III of 1913) এর বিধানানুসারে আদায়যোগ্য হইবে৷
Section ২৯. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৩০. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন এবং তদধীন প্রণীত কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ১৬. কর্তৃপক্ষের তহবিল
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কতৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা :-
(২) কর্তৃপক্ষের তহবিল কর্তৃপক্ষের নামে তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করা হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পারিশ্রমিক, বেতন, ভাতা, ইত্যাদি এই তহবিল হইতে পরিশোধ করা হইবে এবং কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের নিয়মনীতি ও বিধি-বিধান, অনুসরণ করিতে হইবে।
(৪) সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসরে কর্তৃপক্ষের ব্যয় নির্বাহের পর কর্তৃপক্ষের তহবিলে কোন অর্থ উদ্বৃত্ত থাকিলে সরকারের নির্দেশ অনুসারে উহার সম্পূর্ণ বা অংশ বিশেষ সরকারের কোষাগারে জমা করিতে হইবে।
(৫) কর্তৃপক্ষ তহবিলের অর্থ বা উহার অংশ বিশেষ, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
Section ২০. প্রতিবেদন, ইত্যাদি
(১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ তদকর্তৃক উক্ত অর্থ বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং সরকার তাহা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(২) সরকার, প্রয়োজনমত, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যে কোন সময় উহার কর্মকান্ড বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোন তথ্য, পরিসংখ্যান, হিসাব-নিকাশ, আনুষঙ্গিক কাগজাদি ও তথ্যাদি তলব করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৩) সরকার, যে কোন সময়, কর্তৃপক্ষের কর্মকান্ড অথবা যে কোন প্রকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিতে পারিবে।
Section ২৩. তথ্যাবলীর গোপনীয়তা
(১) এই আইনের অধীনে নিযুক্ত চেয়ারম্যান, প্রত্যেক সদস্য, কর্মকর্তা, পরামর্শক এবং উপদেষ্টা এই আইনের অধীনে তাহার নিজ দায়িত্ব সম্পাদনের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে কর্তৃপক্ষের অপ্রকাশিত কর্মকাণ্ডের তথ্য এবং তাহার কর্তব্য পালনকালে তাহার গোচরে আনা বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাইরে কোন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, সংস্থা বা সরকার বা কর্তৃপক্ষের আর্থিক বা অর্থ সংশ্লিষ্ট সকল তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করিবেন।
(২) যদি কোন ব্যক্তি আইনের বাধ্যবাধকতা বা নিজের দায়িত্ব পালন ব্যতীত অন্য কোন কারণে কোন তথ্য প্রকাশ করেন, তবে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ২৪. অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ও বিচার
(১) কর্তৃপক্ষ বা কর্তৃপক্ষ হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।
(২) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
Section ২৭. স্বার্থের বিরোধ
(১) কর্তৃপক্ষ বা কমিটি কর্তৃক সভায় আলোচিত ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এমন কোন বিষয়ে যদি কর্তৃপক্ষের কোন সদস্য বা কর্মকর্তা বা কমিটির কোন সদস্যের আর্থিক বা অন্য কোন সংশ্লেষ থাকে যাহা এই আইনের অধীন তাহার দায়িত্বকে ক্ষুণ্ন করিতে পারে, তবে তিনি বিষয়টিতে তাহার ক্ষমতা প্রয়োগের বা কর্তৃপক্ষ বা উহার কোন কমিটি কর্তৃক আলোচনার পূর্বে কর্তৃপক্ষকে বা কর্তৃপক্ষের কমিটিকে লিখিতভাবে সেই বিষয়ে তাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্টতা এবং তাহার প্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত করিবেন৷
(২) কোন সদস্য অথবা কর্মকর্তা অথবা কমিটির সদস্য এই ধারার বিধান অনুযায়ী স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার বিষয় অবহিত করিতে ব্যর্থ হইলে তাহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং দোষী সাব্যস্ত হইলে অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
Section ২৮. অসুবিধা দূরীকরণে সরকারের ক্ষমতা
এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থ, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের বিধান অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবার তারিখ হইতে সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে, ৩ (তিন) বৎসর অতিক্রান্ত হইবার পর উক্তরূপ কোন আদেশ দেওয়া যাইবে না।
Section ৩১. নির্দেশ প্রদানে সরকারের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উক্ত নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ কোন নির্দেশ প্রদানের পূর্বে সরকার কর্তৃপক্ষকে তদ্সম্পর্কে মতামত প্রদান করিবার সুযোগ প্রদান করিবে।
Section ৩২. রিভিউ
(১) এই আইনের অধীন চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য বা কর্মকর্তার আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংক্ষুব্ধ হইলে, সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে ও নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে, উক্ত আদেশ রিভিউ এর জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং এই রিভিউ আবেদনের উপর কর্তৃপক্ষের আদেশই চূড়ান্ত হইবে।
(২) নির্ধারিত সময়ের পর দায়েরকৃত কোন রিভিউ গ্রহণযোগ্য হইবে না। তবে রিভিউকারী যদি এই মর্মে কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করিতে পারেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিভিউ আবেদন দাখিল না করার যুক্তিসংগত কারণ ছিল; সেই ক্ষেত্রে উক্ত সময় অব্যবহিত হওয়ার পরও দাখিলকৃত রিভিউ আবেদন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৩) প্রতিটি রিভিউ আবেদন চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করিতে হইবে।
(৪) কর্তৃপক্ষ, যেমন যুক্তযুক্ত মনে করিবে, রিভিউ আবেদনের উপর তদরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ৩৩. আইনের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, অনধিক ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
Section ৩৪. বীমা অধিদপ্তর বিলোপ, ইত্যাদি
(১) এই আইনের অধীন কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে,-
(২) বিলুপ্ত অধিদপ্তরের-
তবে শর্ত থাকে যে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরীর শর্তাবলী নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষে ন্যস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরী এইরূপে নিয়ন্ত্রিত হইবে যেইরূপে বীমা অধিদপ্তর বিলুপ্ত হইবার পূর্বে নিয়ন্ত্রিত হইত;