ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ও শিল্প সম্পর্ক আইন, ২০১০
ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ও শিল্প সম্পর্ক বিষয়ক আইনের সংশোধন ও সংহতকরণকল্পে প্রণীত আইন।
ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ও শিল্প সম্পর্ক বিষয়ক আইনের সংশোধন ও সংহতকরণকল্পে প্রণীত আইন। যেহেতু, ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ও শিল্প সম্পর্ক বিষয়ক আইনের সংশোধন ও সংহতকরণ সমীচীন ও প্রয়োজন; সেহেতু, এতদ্দ্বারা নিম্নরুপ আইন করা হইল :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ এবং প্রবর্তন
(১) এই আইন ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ও শিল্প সম্পর্ক আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা Bangladesh Export Processing Zones Authority Act, 1980 (Act No. XXXVI of 1980) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকার শ্রমিক ও মালিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে। (৩) এই আইনের ধারা ৯, ৫২ এবং ৮১ এর বিধান ২৫ আগস্ট, ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং অন্যান্য ধারার বিধান অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) "বেআইনী ধর্মঘট" অর্থ এই আইনের বিধানাবলীর ব্যত্যয়ে ঘোষিত, সূচিত বা অব্যাহত কোন ধর্মঘট;
(২) "বেআইনী লক-আউট" অর্থ এই আইনের বিধানাবলীর ব্যত্যয়ে ঘোষিত, সূচিত বা অব্যাহত লক-আউট;
(৩) "আপীল ট্রাইবু্যনাল" অর্থ ধারা ৫১ এর অধীন গঠিত ইপিজেড শ্রম আপীল ট্রাইবু্যনাল;
(৪) "ইপিজেড" অর্থ Bangladesh Export Processing Zones Authority Act 1980 (Act No. XXXVI of 1980) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা;
(৫) "এলাকা" অর্থ Bangladesh Export Processing Zones Authority Act 1980 (Act No. XXXVI of 1980) এর ধারা ১০ এর অধীন সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কোন রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা;
(৬) "কর্তৃপক্ষ" অর্থ Bangladesh Export Processing Zones Authority Act 1980 (Act No. XXXVI of 1980) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ
(৭) "কর্মকর্তা" অর্থ কোন সমিতি সম্পর্কে উক্ত সমিতির নির্বাহী পরিষদের কোন সদস্য;
(৮) "কোম্পানী" অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮নং আইন) এর অধীন নিবন্ধিত কোন কোম্পানী যাহার অধীন কোন এলাকায় এক বা একাধিক শিল্প ইউনিট রহিয়াছে;
(৯) "ট্রাইবু্যনাল" অর্থ ধারা ৪৮ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ইপিজেড শ্রম ট্রাইবু্যনাল;
(১০) "ধর্মঘট" অর্থ কোন শিল্প ইউনিটে কর্মে নিযুক্ত একদল শ্রমিক কর্তৃক সাধারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংঘবদ্ধভাবে কাজ বন্ধ করা;
(১১) "নির্ধারিত" অর্থ বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;
(১২) "নির্বাহী চেয়ারম্যান" অর্থ বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান;
(১৩) "নির্বাহী পরিষদ" অর্থ কোন সমিতির গঠনতন্ত্র দ্বারা উক্ত সমিতির বিষয়াদিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিষদ;
(১৪) "প্রবিধান" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোন প্রবিধান;
(১৫) "বিধি" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোন বিধি;
(১৬) "মালিক" অর্থ কোন শিল্প ইউনিট সম্পর্কে এইরূপ কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, নিগমিত হইয়া থাকুন বা না থাকুন, যিনি বা যাহা নিয়োগ সম্পর্কিত চুক্তির অধীন শ্রমিকগণকে কোন শিল্প ইউনিটে নিয়োগদান করিয়া থাকেন বা থাকে; এবং কোন এলাকায় এক বা একাধিক শিল্প ইউনিটে শ্রমিক নিয়োগকারী কোন নিবন্ধিত কোম্পানী মালিক বলিয়া গণ্য হইবে;
(১৭) "মীমাংসা" অর্থ মীমাংসা কার্যক্রম উপনীত কোন মীমাংসা, এবং মীমাংসা কার্যক্রম বহির্ভূত অন্য কোন পদ্ধতিতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে উপনীত লিখিতভাবে সম্পাদিত এবং স্বাক্ষরিত কোন চুক্তি;
(১৮) "মীমাংসাকারী" অর্থ ধারা ৪০ এর অধীন অনুরূপ পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি;
(১৯) "মীমাংসা কার্যক্রম" অর্থ এই আইনের অধীন মীমাংসাকারীর নিকট নিষ্পন্নবাধীন কোন কার্যক্রম;
(২০) "শিল্প ইউনিট" অর্থ কোন এলাকায় কোন দ্রব্য বা পণ্য প্রস্তুত বা উৎপাদন করিবার জন্য প্রতিষ্ঠিত কোন শিল্প ইউনিট; এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি এলাকায় একই মালিকের অধীন একাধিক শিল্প ইউনিট একটি শিল্প ইউনিট হিসাবে গণ্য হইবে;
(২১) "শিল্প বিরোধ" অর্থ মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে উদ্ভূত কোন বিরোধ বা মতপার্থক্য যাহা কোন ব্যক্তির নিয়োগ বা অনিয়োগ বা নিয়োগের শর্তাবলী বা কর্মের শর্তাদির সহিত সম্পর্কিত;
(২২) "শ্রমিক" অর্থ মালিকের সংজ্ঞায় পড়ে না এমন যে কোন ব্যক্তি (শিক্ষানবিস হিসাবে নিযুক্ত ব্যক্তিসহ), যিনি, বেতন বা পারিতোষিকের ভিত্তিতে কোন এলাকায় কোন শিল্প ইউনিটে কোন দক্ষ অদক্ষ কায়িক, কারিগরী অথবা কারণিক কার্য করিবার জন্য, সরাসরিভাবে বা ঠিকাদারের মাধ্যমে যেভাবেই হউক না কেন, নিযুক্ত হইয়াছেন, এবং উক্তরূপ নিযুক্তির শর্তে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত থাকুক বা না থাকুক, সেই ব্যক্তি শ্রমিক হিসাবে গণ্য হইবেন, এবং কোন শিল্প বিরোধের প্রশ্নে এই আইন অনুসারে কার্যক্রম শুরু করিবার ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হইতে পারিবে, যাহাকে শাস্তিমূলকভাবে বরখাস্ত, পদচ্যুত, ছাঁটাই অথবা লে-অফ করা হইয়াছে, অথবা উক্ত বিরোধের সূত্র ধরিয়া বা উক্ত বিরোধের কারণে অন্য কোনভাবে চাকুরী হইতে অপসারণ করা হইয়াছে, অথবা যাহার শাস্তিমূলক পদচ্যুতি, বরখাস্ত, লে-অফ অথবা অপসারণের কারণে উক্ত বিরোধের উৎপত্তি হইয়াছে, কিন্তু নিম্নলিখিত ব্যক্তি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথাঃ-
(২৩) "শ্রমিক কল্যাণ সমিতি" অর্থ এই আইনের অধীন শ্রমিক ও মালিকগণের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করিবার উদ্দেশ্যে শ্রমিকগণ কর্তৃক গঠিত সমিতি;
(২৪) "সমিতি" অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি;
(২৫) "সংগঠন" অর্থ শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নতিসাধন করিবার উদ্দেশ্যে কোন শিল্প ইউনিট বা ইউনিটসমূহে যোগ্য শ্রমিকগণের সমন্বয়ে গঠিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতি;
(২৬) "সালিসকারী" অর্থ ধারা ৪৫ এর অধীন নিযুক্ত অনুরূপ কোন ব্যক্তি;
(২৭) "স্বাক্ষর" অর্থ বৃ দ্ধাঙ্গুলীর ছাপ অনত্দর্ভুক্ত হইবে, যদি উক্ত শব্দ কোন শ্রমিক সম্পর্কে ব্যবহৃত হইয়া থাকে;
(২৮) "যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট" অর্থ কোন শিল্প ইউনিট বা ইউনিটসমূহ সম্পর্কে ধারা ৩৭ এর অধীন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি যাহা যৌথ দর-কষাকষির বিষয়ে উক্ত ইউনিট বা ইউনিটসমূহে দর-কষাকষির উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের প্রতিনিধি;
(২৯) "যোগ্য শ্রমিক" অর্থ ধারা ২০ এর উপ-ধারা (৩) এ উলিস্নখিত যোগ্য শ্রমিক;
(৩০) "রোয়েদাদ" অর্থ শ্রম ট্রাইবু্যনাল, সালিসকারী অথবা শ্রম আপীল ট্রাইবু্যনাল কর্তৃক কোন শিল্প বিরোধ অথবা উহার সহিত সম্পর্কিত কোন বিষয়ে প্রদত্ত সিদ্ধানত্দ, এবং কোন অনত্দর্বর্তীকালীন রোয়েদাদ উহার অনত্দর্ভুক্ত হইবে;
(৩১) "লক আউট" অর্থ মালিক কতর্ৃক কোন কর্মস্থল বা উহার কোন অংশ বন্ধ করা, অথবা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে সাময়িক কাজ বন্ধ করা, অথবা কোন শিল্প বিরোধ সংক্রানত্দ বিষয়ের সহিত জড়িত হইবার ফলে মালিক কর্তৃক অনুরূপভাবে সাময়িক বা পূর্ণকালীন বন্ধ ইউনিটের সামগ্রিকভাবে বা শর্তাধীনে কর্মচারীদিগকে কাজ করিতে দিতে অস্বীকার করা, অথবা চাকুরীর সহিত জড়িত কোন শর্তাবলী মানিয়া লইবার জন্য কর্মচারীদিগকে বাধ্য করাইবার উদ্দেশ্যে মালিক কর্তৃক ইউনিট বন্ধকরণ, সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা, অথবা কাজ করিতে দিতে অস্বীকার করা।
Section ৩. আইনের প্রাধান্য
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে বিপরীত যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. আইনের বিধান হইতে অব্যাহতি প্রদানে বিধি-নিষেধ
সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বা অন্য কোন প্রকারে কোন এলাকা বা এলাকাসমূহে কোন শিল্প ইউনিট অথবা কোন শ্রেণী বা বর্ণনার শিল্প ইউনিটকে এই আইনের কোন বিধানের প্রয়োগ হইতে অব্যাহিত প্রদান করিতে পারিবে না।
Section ৫. শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন
(১) ১ নভেম্বর ২০০৬ তারিখ শুরু হইবার পর কোন এলাকায় অবস্থিত কোন শিল্প ইউনিটে নিয়োজিত শ্রমিকগণের, এই আইন, বিধি বা প্রবিধানে বিধানাবলী সাপেক্ষে শ্রম-সম্পর্ক বিষয়ে কার্যসম্পাদনের নিমিত্ত সমিতি গঠন করিবার অধিকার থাকিবে।
(২) পৃথক নিগমিতকরণ সনদসহ (certificate of incorporation) কোম্পানী হিসাবে নিবন্ধিত কোন মালিক কোন এলাকায় কার্যরত থাকিলে উক্ত এলাকায় উক্ত কোম্পানীর অধীন একটি শ্রমিক কল্যাণ সমিতি থাকিবে ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোম্পানী হিসাবে নিবন্ধিত মালিকের অধীন কোন এলাকায় দুই বা ততোধিক শিল্প ইউনিট থাকিলে উহারা এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি শিল্প ইউনিট হিসাবে গণ্য হইবে।
Section ৬. সমিতি গঠন করিবার জন্য দাবী
(১) যদি কোন এলাকায় অবস্থিত কোন শিল্প ইউনিটে কর্মরত যোগ্য শ্রমিকগণ কোন সমিতি গঠন করিতে আগ্রহী হইয়া থাকেন, তাহা হইলে উক্ত শিল্প ইউনিটে কর্মরত যোগ্য শ্রমিকগণের অনূ্যন ৩০% (ত্রিশ শতাংশ) শ্রমিক নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিকট নির্ধারিত ফরমে দরখাস্ত করিয়া একটি শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করিবার দাবী পেশ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দরখাস্ত প্রাপ্তির পর নির্বাহী চেয়ারম্যান পরীক্ষা করিয়া নিশ্চিত হইবেন যে, অনূ্যন ৩০% (ত্রিশ শতাংশ) যোগ্য শ্রমিক অনুরূপ দরখাস্তে স্বাক্ষর বা বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ দিয়া পক্ষ হইয়াছেন।
(৩) কোন শ্রমিক কর্তৃক এই ধারার অধীন স্বাক্ষরিত কোন ফরম, উহা স্বাৰরিত হইবার তারিখ হইতে ছয় মাস পর্যন্ত বৈধ থাকিবে।
(৪) ধারা ৭ এর অধীন অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠিত না হইয়া থাকে, তাহা হইলে উক্ত কারণে কোন মালিক কোন প্রকারেই কোন শ্রমিকের প্রতি উপ-ধারা (১) এর অধীন দরখাস্তে পক্ষ হইবার জন্য কোনরূপ বৈষম্যমূলক আচরণ করিবে না, এবং এইরূপ কোন বৈষম্যমূলক আচরণ করিলে উহা ধারা ৩৩ এর অধীন মালিক কর্তৃক অন্যায় আচরণ হিসাবে গণ্য হইবে।
Section ৭. সমিতি গঠনের জন্য সমর্থন নিরূপণের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠেয় গণভোট
(১) নির্বাহী চেয়ারম্যান ধারা ৬ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হইয়া থাকেন যে, যোগ্য শ্রমিকগণের অনূ্যন ৩০% নির্ধারিত ফরমে দরখাস্ত করিয়া সমিতি গঠন করিবার জন্য দাবী পেশ
করিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি ধারা ৬ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন দরখাস্ত প্রাপ্তির পর অনধিক ৫ দিনের মধ্যে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠনের অনুকূলে যোগ্য শ্রমিকগণের সমর্থন নিরূপণ করিবার উদ্দেশ্যে শিল্প ইউনিটে কর্মরত যোগ্য শ্রমিকগণের গণভোট অনুষ্ঠান করিবেন।
(২) যোগ্য শ্রমিকগণের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) এর অধিক ভোট প্রদান না করিয়া থাকিলে, এই ধারার অধীন অনুষ্ঠিত গণভোট অকার্যকর হইবে।
(৩) যদি যোগ্য শ্রমিকগণের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) এর অধিক ভোট প্রদান করিয়া থাকেন এবং প্রদত্ত ভোটের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) এর অধিক ভোট শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠনের পক্ষ হইয়া থাকে, তাহা হইলে উহার দ্বারা উক্ত শিল্প ইউনিটে নিয়োজিত শ্রমিকগণ এই আইনের অধীন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠনের বৈধ অধিকার অর্জন করিবে; এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান গণভোট অনুষ্ঠিত হইবার ২৫ দিনের মধ্যে উক্ত সমিতিকে নিবন্ধন করিবেন।
(৪) গোপন ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হইবে এবং গণভোট অনুষ্ঠানের পদ্ধতি নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হইবে।
Section ৮. পরবর্তী এক বৎসর গণভোট নিষিদ্ধ
ধারা ৭ এর অধীন অনুষ্ঠিত গণভোটে শ্রমিকগণ যদি শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করিবার পক্ষে সমর্থন অর্জন করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে গণভোট অনুষ্ঠানের এক বৎসর অতিবাহিত হইবার পূর্বে উক্ত শিল্প ইউনিটে পুনরায় গণভোট অনুষ্ঠান করা যাইবে না।
Section ৯. শ্রমিক কল্যাণ সমিতির গঠনতন্ত্র
(১) শ্রমিকগণ শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করিবার পক্ষে ধারা ৭ এর অধীন তাহাদের সমর্থন ব্যক্ত করিয়া থাকিলে, নির্বাহী চেয়ারম্যান তৎপরবর্তী অনধিক ৫ দিনের মধ্যে শ্রমিকগণকে, একজন আহ্বায়কসহ অনধিক ৯ (নয়) জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে, একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটি, অতঃপর গঠনতন্ত্র কমিটি বলিয়া উল্লিখিত, গঠন করিবার জন্য বলিবেন।
(২) গঠনতন্ত্র কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রাপ্তির ৫ দিনের মধ্যে নির্বাহী চেয়ারম্যান, তৎকর্তৃক সন্তুষ্ট হওয়া সাপেক্ষে উক্ত গঠনতন্ত্র কমিটি অনুমোদন করিবেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও পেশ করিবার জন্য গঠনতন্ত্র কমিটিকে বলিবেন।
(৩) গঠনতন্ত্রের কোন বিধান এই আইনের কোন বিধানের পরিপন্থী হইবে না।
(৪) সমিতির গঠনতন্ত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা :-
ব্যাখ্যা :-দফা (গ) এর অধীন যোগ্য শ্রমিক সংখ্যা প্রতি ১০০(একশত) জন নির্ধারণের ক্ষেত্রে, যদি উক্ত সংখ্যার কোন ভগড়বাংশ থাকে, তাহা হইলে উক্ত ভগ্নাংশের আলোকে শ্রমিক প্রতিনিধি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিক সংখ্যা ৫০ জনের কম হইলে পূর্ববর্তী পূর্ণ সংখ্যা এবং ৫০ জনের অধিক হইলে পরবর্তী পূর্ণ সংখ্যার সহিত যোগ করিয়া উক্ত সংখ্যা নির্ধারণ করিতে হইবে।
Section ১০. গঠনতন্ত্রের অধিকতর আবশ্যক বিষয়াদি
(১) সমিতি গঠন করিবার উদ্দেশ্যে প্রণীত কোন গঠনতন্ত্র এই আইনের অধীন অনুমোদিত হইবে না, যদি না উক্ত গঠনতন্ত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হইয়া থাকে, যথা :-
(২) নির্বাহী চেয়ারম্যানের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি এলাকা বহিভর্ূত কোন উৎস হইতে কোন অর্থ সংগ্রহ বা গ্রহণ করিবে না।
Section ১১. গঠনতন্ত্র অনুমোদন
নির্বাহী চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হইয়া থাকেন যে, এই আইনের বিধানসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করিয়া গঠনতন্ত্র প্রণীত হইয়াছে এবং এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের বিধানের ব্যত্যয় করা হয় নাই, তাহা হইলে তিনি উক্ত গঠনতন্ত্র অনুমোদন এবং ৫ দিনের মধ্যে তৎমর্মে একটি অনুমোদনপত্র জারী করিবেন।
Section ১২. সমিতি নিবন্ধনের জন্য আবেদন
গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ধারা ১১ এর অধীন অনুমোদিত গঠনতন্ত্রের অধীন গঠিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধনের জন্য নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিকট লিখিতভাবে আবেদন করিবেন।
Section ১৩. দরখাস্তের আবশ্যক বিষয়সমূহ
(১) শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধনের জন্য নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিকট আবেদনপত্র দাখিল করিতে হইবে যাহাতে নিমড়ববর্ণিত বিষয়সমূহের উল্লেখ থাকিবে, যথা :-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন পত্রের সহিত সমিতির অনুমোদিত গঠনতন্ত্রের তিনটি অনুলিপি প্রদান করিতে হইবে।
Section ১৪. সমিতির নিবন্ধন
(১) নির্বাহী চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হইয়া থাকেন যে, শ্রমিক কল্যাণ সমিতি এই আইনের অধীন সকল আবশ্যকতা প্রতিপালন করিয়াছে এবং অনুমোদিত গঠনতন্ত্রের কাঠামোর মধ্যেই উহা গঠিত হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি ধারা ১২ এর অধীন আবেদনপত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে উক্ত শ্রমিক কল্যাণ সমিতিকে নির্ধারিত রেজিস্টারে নিবন্ধন করিবেন।
(২) যদি নির্বাহী চেয়ারম্যান দেখিতে পান যে, আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় বিষয় বা বিষয়াদিও অপূর্ণতা রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি লিখিতভাবে তাহার আপত্তি উক্ত শ্রমিক কল্যাণ সমিতিকে আবেদন প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে অবহিত করিবেন এবং অবহিত হইবার ১০ দিনের মধ্যে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি উক্ত আপত্তিসমূহের জবাব প্রদান করিবে।
(৩) নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক উত্থাপিত আপত্তিসমূহ সনত্দোষজনকভাবে পরিপূরণ করা হইলে, নির্বাহী চেয়ারম্যান উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে উক্ত শ্রমিক কল্যাণ সমিতিকে নিবন্ধন করিবেন এবং যদি আপত্তিসমূহের সনত্দোষজনক জবাব প্রদান করা না হয়, তাহা হইলে নির্বাহী চেয়ারম্যান আবেদন প্রত্যাখান করিতে পারিবেন।
(৪) আবেদনপত্র প্রত্যাখান করা হইলে অথবা নির্বাহী চেয়ারম্যান আপত্তি নিষ্পত্তি করিবার পর উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত ১০ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি না করিয়া বিলম্ব করিলে, শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ট্রাইবু্যনালে আবেদন পেশ করিতে পারিবে; এবং ট্রাইবু্যনাল উহার রায়ে কারণ উল্লেখপূর্বক, আদেশ প্রদান করিয়া নির্বাহী চেয়ারম্যানকে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি নিবন্ধন এবং নিবন্ধন সম্পর্কিত সনদ জারী করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে, অথবা আবেদন খারিজ করিতে পারিবে।
Section ১৫. নিবন্ধন সম্পর্কিত সনদ
(১) ধারা ১৪ এর অধীন কোন সমিতিকে নিবন্ধন করিবার পর নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্ধারিত ফরমে নিবন্ধন সম্পর্কিত সনদ জারী করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সনদ জারী করা হইলে, উহা এই আইনের অধীন উক্ত শ্রমিক কল্যাণ সমিতি যথাযথভাবে নিবন্ধিত হইবার বিষয়ে চূড়ানত্দ প্রমাণ হিসাবে গণ্য হইবে।
Section ১৬. নতুন শিল্প ইউনিটে ৩ মাস পর্যন্ত সমিতি গঠন নিষিদ্ধ
এই আইন কার্যকর হইবার পর প্রতিষ্ঠিত কোন শিল্প ইউনিটে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরম্ন হইবার পরবতর্ীতে তিন মাস অতিবাহিত হইয়া না থাকিলে উক্ত ইউনিটে এই আইনের অধীন কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করিবার অনুমতি প্রদান করা যাইবে না।
Section ১৭. শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সংখ্যা সম্পর্কিত সীমাবদ্ধতা
(১) কোন এলাকায় কোন শিল্প ইউনিটে একের অধিক শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করা যাইবে না।
(২) কোন এলাকায় একই মালিকের কোম্পানীর অধীন একাধিক শিল্প ইউনিট থাকিলে এবং অনুরূপ শিল্প ইউনিটসমূহের কোন একটি ইউনিট ধারা ১৬ এর আওতাভুক্ত হইয়া থাকিলে, উহার দ্বারা অবশিষ্ট শিল্প ইউনিটসমূহে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন বারিত হইবে না।
Section ১৮. শিল্প ইউনিটের মালিকানা নির্ধারণে নির্বাহী চেয়ারম্যানের ক্ষমতা
একই এলাকায় দুই বা ততোধিক শিল্প ইউনিট একই মালিকের অধীন কিনা সেই প্রশ্নে কোন সন্দেহ বা বিরোধ উদ্ভূত হইয়া থাকিলে, তদ্বিষয়ে নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।
Section ১৯. সমিতির সদস্যপদ এবং কর্মকান্ড
(১) শ্রমিক কল্যাণ সমিতির কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট এলাকার আঞ্চলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিবে।
(২) একজন শ্রমিক যে শিল্প ইউনিটে নিযুক্ত থাকিবেন, তিনি কেবল সেই শিল্প ইউনিটে শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সদস্য হইবার অধিকারী হইবেন।
(৩) ধারা ২৪ এর অধীন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ফেডারেশন গঠনের অধিকার ব্যতীত, কোন একটি এলাকায় গঠিত কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি উক্ত এলাকায় গঠিত অন্য কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি কিংবা কোন এলাকা বহির্ভূত কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সহিত অধিভুক্ত হইতে কিংবা অন্য কোন প্রকার সংশ্রব রক্ষা করিতে পারিবে না।
Section ২০. নির্বাহী পরিষদের নির্বাচন
(১) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংগঠিত ও পরিচালিত কোন নির্বাচনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ উক্ত শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধিত সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।
(২) কেবল যোগ্য শ্রমিকগণ এই অধ্যায়ের অধীন নির্বাহী পরিষদে নির্বাচিত হইবার এবং ভোট প্রদান করিবার অধিকারী হইবেন।
(৩) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে "যোগ্য শ্রমিক" অর্থে-
Section ২১. নির্বাহী পরিষদের অনুমোদন
নির্বাহী পরিষদ শ্রমিক কল্যাণ সমিতির গঠনতন্ত্রেও কাঠামোর অধীনে যথাযথভাবে নির্বাচিত হইয়া থাকিলে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে নির্বাহী চেয়ারম্যান উহা অনুমোদন করিবেন।
Section ২২. নির্বাহী পরিষদের মেয়াদ
পূর্বেই নিবন্ধচ্যুতি, কিংবা অন্য কোন প্রকারে অবসায়ন না হইয়া থাকিলে, কোন সমিতির নির্বাহী পরিষদ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হইবার পর তিন বৎসরের জন্য বহাল থাকিবে।
Section ২৩. পরবর্তীতে নির্বাচন অনুষ্ঠান
(১) কোন শ্রমিত কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিষদেও নির্বাচন উহার নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্ববতর্ী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বেই যদি কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিষদ ভাঙ্গিয়া যায়, তাহা হইলে অনুরূপ ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
Section ২৪. শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ফেডারেশন
(১) কোন এলাকায় গঠিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতিসমূহের ৫০ শতাংশের অধিক সম্মত হইলে, উহারা উক্ত এলাকায় একটি শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ফেডারেশন গঠন করিতে পারিবে।
(২) পূর্বেই নিবন্ধনচ্যুত কিংবা অবসায়ন হইয়া না থাকিলে, এই ধারার অধীন গঠিত ফেডারেশন নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক অনুমোদিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী চার বৎসরের জন্য বহাল থাকিবে।
(৩) কোন এলাকায় গঠিত কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ফেডারেশন অন্য কোন এলাকার ফেডারেশন অথবা কোন এলাকা বহিভর্ূত কোন ফেডারেশনের সহিত অধিভুক্ত হইতে কিংবা অন্য কোন প্রকারে সংস্রব রক্ষা করিতে পারিবে না।
(৪) কর্তৃপক্ষ প্রবিধান দ্বারা শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ফেডারেশনের নির্বাচনের পদ্ধতি এবং অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করিবে।
Section ২৫. কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সদস্য কিংবা কর্মকর্তা হইবার ক্ষেত্রে অযোগ্যতা
কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির গঠনতন্ত্র বা বিধিসমূহে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির কর্মকর্তা নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার অধিকারী হইবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত বা এই আইন কিংবা বিধি বা প্রবিধানের অধীন কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া যে কোন মেয়াদে কারাদন্ডে দন্ডিত হইয়া মুক্তি পাইবার পর ২ (দুই) বৎসরকাল অতিবাহিত হইয়া না থাকে।
Section ২৬. নিবন্ধিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতি কর্তৃক রেজিস্টার, ইত্যাদি সংরক্ষণ
প্রতিটি নিবন্ধিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতি নির্ধারিত ফরমে ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ সংরক্ষণ করিবে, যথা :-
Section ২৭. শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধনচু্যতি
(১) কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি বহাল থাকাকালীন যে কোন সময়ে অনু্যন ৩০% যোগ্য শ্রমিক নির্ধারিত ফরমে নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিয়া সমিতির নিবন্ধনচ্যুতি দাবী করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর নির্বাহী চেয়ারম্যান সমিতির অনুরূপ নিবন্ধনচ্যুতির পক্ষে উত্থাপিত দাবী যাচাই করিবার উদ্দেশ্যে পরী্ক্ষা করিয়া দেখিবেন যে, প্রকৃতই অনূ্যন ৩০% যোগ্য শ্রমিক স্বাক্ষর কিংবা অঙ্গুলির ছাপ প্রাদন করিয়া আবেদন করিয়াছেন কি না।
(৩) নির্বাহী চেয়ারম্যান উপ-ধারা (২) এর অধীন সন্তুষ্ট হইয়া থাকিলে, তিনি নিবন্ধনচ্যুতির পক্ষে সমর্থন যাচাই করিবার উদ্দেশ্যে ৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে যোগ্য শ্রমিকদের ভোট গ্রহণের জন্য গণভোট অনুষ্ঠান করিবেন।
(৪) যদি গণভোটে যোগ্য শ্রমিকগণের ৫০ শতাংশের অধিক শ্রমিক ভোট প্রদান করিয়া থাকেন এবং অনুরূপ প্রদত্ত ভোটের ৫০ শতাংশের অধিক ভোট যদি সমিতির নিবন্ধনচূ্যতির পক্ষে হইয়া থাকে, তাহা হইলে নির্বাহী চেয়ারম্যান উহার পরবর্তী ২৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধনচ্যুতি প্রচার করিয়া একটি আদেশ জারী করিবেন। (৫) উপ-ধারা (৩) এর অধীন অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধনচ্যুতির না হইয়া থাকে, তাহ হইলে উক্ত কারণে কোন মালিক কোন প্রকারেই কোন শ্রমিকের প্রতি উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করিবার জন্য কোনরূপ বৈষম্যমূলক আচরণ করিবেন না; এবং এইরূপ কোন বৈষম্যমূলক আচরণ ধারা ৩৩ এর অধীন মালিক পৰের অন্যায় আচরণ হিসাবে গণ্য হইবে।
(৬) এই ধারার অধীন অনুষ্ঠেয় গণভোটের পদ্ধতি ও অন্যান্য বিষয় কর্তৃপক্ষ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করিবে।
(৭) এই ধারার অধীন কোন সমিতি নিবন্ধনচ্যুত হইয়া থাকিলে, নিবন্ধনচ্যুতি সম্পর্কিত আদেশ জারীর তারিখ হইতে পরবর্তী এক বৎসর অতিবাহিত হইবার পূর্বে সংশিস্নষ্ট শিল্প ইউনিটের পুনরায় কোন সমিতি গঠন করা যাইবে না।
(৮) কোন শ্রমিক কর্তৃক উপ-ধারা (১) এর অধীন স্বাক্ষরিত কোন ফরম স্বাৰরের তারিখ হইতে ছয় মাস পর্যনত্দ বৈধ থাকিবে।
Section ২৮. শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধন বাতিল
(১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, ধারা ২৭ এর অধীন নিবন্ধনচু্যতি সম্পর্কিত পদ্ধতির অতিরিক্ত, নির্বাহী চেয়ারম্যান নিম্নবর্ণিত যে কোন কারণে কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবেন, যথা :-
(২) নির্বাহী চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে অভিমত পোষণ করিয়া থাকেন যে, কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা আবশ্যক, তাহা হইলে তিনি অনুরূপ নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করিয়া ট্রাইবু্যনালে দরখাস্ত দাখিল করিবেন।
(৩) ট্রাইবু্যনাল হইতে অনুমতি প্রাপ্তির পাঁচ দিবসের মধ্যে নির্বাহী চেয়ারম্যান শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধন বাতিল করিবেন।
(৪) যদি ট্রাইবু্যনালে দরখাস্ত দাখিল করিবার পূর্ববর্তী তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অন্যায় আচরণ সংঘটিত হইয়া না থাকে, তাহা হইলে কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধন উপ-ধারা (১) এর দফা
Section ২৯. নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে আপীল
ধারা ২৮ এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, অনুরূপ আদেশ প্রদত্ত হইবার ৩০ দিনের মধ্যে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি শ্রম আপীল ট্রাইবু্যনালে আপীল করিতে পারিবে এবং আপীল ট্রাইব্যুনালে তর্কিত আদেশ বহাল রাখিতে, বাতিল বা সংশোধন করিতে পারিবে।
Section ৩০. নিবন্ধন ব্যতিরেকে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি কর্তৃক কার্য সম্পাদন নিষিদ্ধ
(১) অনিবন্ধিত, নিবন্ধনচু্যত অথবা নিবন্ধন বাতিল করা হইয়াছে, এইরূপ কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি যৌথ দর কষাকষি এজেন্ট বা শ্রমিক কল্যাণ সমিতি হিসাবে কার্য করিতে পারিবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির জন্য কোন ব্যক্তি কোনরূপ চাঁদা সংগ্রহ করিবেন না।
Section ৩১. নির্বাহী চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথা :-
Section ৩২. শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিগমবদ্ধকরণ (incorporation)
(১) প্রতিটি নিবন্ধিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতি নিগমবদ্ধ সংস্থা হইবে, যাহার স্থায়ী ধারাবাহিকতাসহ একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং নিবন্ধিত নামে উহার চুক্তি সম্পাদন এবং সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও বিলি-বন্দোবস্ত করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উক্ত নামে উহা মামলা করিতে পারিবে বা উহার বিরুদ্ধেও মামলা করা যাইবে।
(২) শ্রমিক কল্যাণ সমিতির কার্যালয় স্থাপনের জন্য মালিক শিল্প এলাকার অভ্যনত্দরে স্থানের ব্যবস্থা করিবে।
Section ৩৩. মালিকদের তরফে অন্যায় আচরণ
(১) কোন মালিক বা মালিকের দায়িত্ব পালনকারী কোন ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত কোন কাজ করিলে উহা অন্যায় আচরণ হিসাবে গণ্য হইবে, যথা :-
(২) ব্যবস্থাপকের দায়িত্বসম্পন্ন পদে নিয়োগ বা পদোন্নতির কারণে কোন ব্যক্তির সমিতির সদস্য বা কর্মকর্তার পদ বাতিল হইবার কিংবা সমিতির সদস্য বা কর্মকর্তা পদে তাহার অধিষ্ঠিত থাকিবার যোগ্যতা হারাইবার বিষয়ে মালিকের অধিকার উপ-ধারা (১) এর বিধান দ্বারা ক্ষুন্ন হইবে না।
Section ৩৪. শ্রমিক বা সমিতির তরফে অন্যায় আচরণ
(১) কোন শ্রমিক বা শ্রমিক কল্যাণ সমিতি এবং উক্ত শ্রমিক বা সমিতির পক্ষে কর্মসম্পাদনকারী কোন ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত কোন কাজ করিলে উহা অন্যায় আচরণ হিসাবে গণ্য হইবে, যথা :-
Section ৩৫. চুক্তির বলবৎযোগ্যতা
(১) সমিতির ও মালিকের মধ্যে সম্পাদিত কোন চুক্তি পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হইবে এবং উহা আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে।
(২) এই ধারার অধীনে কোন চুক্তি বলবৎকরণ বা চুক্তি ভঙ্গের কারণে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কোন মামলা কোন দেওয়ানী আদালতে গ্রহণযোগ্য হইবে না।
Section ৩৬. হিসাব ও তথ্য দাখিল
(১) প্রতিবৎসর নির্ধারিত তারিখে বা উহার পূর্বে প্রত্যেক শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিগত বৎসরের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং উক্ত তারিখ পর্যন্ত সমগ্র বৎসরের সম্পদ ও দায়-দায়িত্বের হিসাব নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিরীক্ষিত সাধারণ বিবরণীসহ নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করিতে হইবে।
(২) সাধারণ বিবরণীর সহিত প্রেরণের তারিখ পর্যন্ত সংশোধনীসহ শ্রমিক কল্যাণ সমিতির গঠনতন্ত্রের একটি অনুলিপি এবং উক্ত বৎসরে নির্বাহী পরিষদ এবং সাধারণ পরিষদের সকল সদস্যেও হালনাগাদ পদের বিবরণী নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(৩) শ্রমিক কল্যাণ সমিতির গঠনতন্ত্রের প্রত্যেক সংশোধনীর একটি অনুলিপি এবং গঠনতন্ত্রের বিধানসমূহের কার্যকরতা সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবের কপি উক্ত সংশোধনী বা প্রস্তাব গৃহীত হইবার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
Section ৩৭. যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট (Collective Bargaining Agent)
(১) কোন শিল্প ইউনিটে এই আইনের অধীন নিবন্ধিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতি উক্ত শিল্প ইউনিটের যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট হইবে।
(২) মালিকের সহিত মজুরী, কর্মঘণ্টা (working hour) এবং নিয়োগের অন্যান্য শর্তাদি বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করিবার অধিকার কমিটির থাকিবে এবং আলাপ-আলোচনার উদ্দেশ্যে তথ্য প্রাপ্তির জন্য সমিতি কর্তৃক পেশকৃত কোন যুক্তিসংগত অনুরোধ মালিক অস্বীকার করিবে না।
(৩) কোন শিল্প ইউনিট সম্পর্কিত যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট উপরোক্ত বিষয়ের অতিরিক্ত নিম্নোক্ত বিষয়েও কার্য সম্পাদনের অধিকারী হইবে, যথাঃ-
(৪) কোন এলাকায় অবস্থিত কোন মালিক বা কোম্পানী যেখানে নিবন্ধিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতি রহিয়াছে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কেবল উক্ত প্রারম্ভিক মজুরী প্রযোজ্য হইবে, যাহা প্রবেশ পর্যায়ে, আইন অথবা প্রযোজ্য কোন আইনগত আদেশ দ্বারা, তাহাদের জন্য নির্ধারণ করা হইয়াছে এবং অন্যান্য মজুরী সম্পর্কিত বিষয়াদি, যথা-মজুরী বৃদ্ধি, পদোন্নতি অথবা অন্যান্য বর্ধিত সুবিধাদি মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সমিতির মধ্যে আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষ হইবে।
Section ৩৮. চাঁদা কর্তন (Check off)
(১) যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট অনুরোধ করিলে, কোন সমিতির সদস্য-শ্রমিকদের মালিক, অনুরূপ প্রত্যেক শ্রমিকের সম্মতিক্রমে, উক্ত শ্রমিকদের বেতন হইতে মূল বেতনের অনূর্ধ্ব এক শতাংশ পরিমাণ টাকা সমিতি কর্তৃক পেশকৃত ডিমান্ড স্টেটমেন্ট অনুযায়ী কর্তন করিয়া সমিতির তহবিলে চাঁদা হিসাবে জমা করিবে।
(২) কোন মালিক উপ-ধারা (১) এর অধীনে বেতন হইতে টাকা কর্তন করিয়া থাকিলে উক্ত কর্তনের সমুদয় অর্থ পরবর্তী ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে যে সমিতির পক্ষে উহা কর্তন করা হইয়াছে সেই সমিতির হিসাবে জমা করিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীনে উহার সদস্যদের বেতন হইতে চাঁদা কর্তন করা হইতেছে কি না তাহা যাচাই করিবার জন্য মালিক যৌথ দর-কষাকষি এজেন্টকে পূর্ণ সুযোগ প্রদান করিবে।
(৪) নির্বাহী পরিষদ প্রত্যেক পঞ্জিকা বৎসরের শুরুতে পূর্ববর্তী বৎসরের আর্থিক বিবরণসহ চলতি বৎসরের আয়-ব্যয় সম্বলিত রাজস্ব বাজেট অনুমোদনের জন্য নির্বাহী চেয়ারম্যান অথবা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট জমা দিবে।
Section ৩৯. শিল্প বিরোধ সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা
(১) যে কোন সময়, যদি, কোন মালিক বা কোন যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট দেখিতে পান যে, শ্রমিক এবং মালিকের মধ্যে শিল্প বিরোধ উদ্ভূত হইতে যাইতেছে, তাহা হইলে মালিক বা, ক্ষেত্রমত, যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট, তাঁহার বা উহার মতামত লিখিতভাবে অপর পক্ষকে অবহিত করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী অবহিত হইবার ১৫ দিনের মধ্যে, উক্ত অবহিত পক্ষ, অপর পক্ষের প্রতিনিধিগণের সহিত আলোচনাক্রমে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় উপনীত হইবার লক্ষ্যে উদ্ভূত বিষয়ের উপর যৌথ দর-কষাকষির জন্য অপর পক্ষের প্রতিনিধিগণের সহিত একটি সভার আয়োজন করিবে।
(৩) উভয় পক্ষ আলোচিত বিষয়ের উপর মীমাংসায় উপনীত হইলে, একটি মীমাংসা-স্মারক লিখিত হইবে এবং উভয় পক্ষ কর্তৃক উহা স্বাক্ষরিত হইবে এবং উহার একটি কপি নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং মীমাংসাকারীর নিকট প্রেরিত হইবে।
Section ৪০. মীমাংসাকারী ও কাউন্সিলর
(১) সরকার, নির্বাহী চেয়ারম্যানের সুপারিশের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মীমাংসাকারী (Conciliator) নিয়োগ করিবে এবং উক্ত প্রজ্ঞাপনে, যে এলাকা বা এলাকাসমূহের জন্য অথবা কোন এলাকা বা এলাকাসমূহের যে শ্রেণীর শিল্প ইউনিট বা শিল্পসমূহ সম্পর্কে তাহাদের প্রত্যেকে দায়িত্ব পালন করিবেন, উহার উল্লেখ থাকিবে।
(২) সরকার, নির্বাহী চেয়ারম্যানের সুপারিশের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কাউন্সিলর নিয়োগ করিবে এবং কাউন্সিলরগণের কার্যাবলী এবং যে এলাকা বা এলাকাসমূহের জন্য কাউন্সিলর নিয়োগ করা হইবে উহা নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্ধারণ করিবেন।
Section ৪১. ধর্মঘটের নোটিশের পূর্বে মীমাংসা, ইত্যাদি
পক্ষগণ ধারা ৩৯ এর অধীন আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কোন মীমাংসায় পৌঁছাইতে ব্যর্থ হইলে, যে কোন পক্ষ নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং মীমাংসাকারীকে অবহিত করিতে পারিবে যে, আলাপ-আলোচনা ব্যর্থ হইয়াছে এবং লিখিতভাবে বিরোধটি মীমাংসা করিবার জন্য মীমাংসাকারীকে অনুরোধ করিতে পারিবে এবং মীমাংসাকারী অনুরূপ অনুরোধ প্রাপ্তির পর বিরোধটি মীমাংসার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন।
Section ৪২. ধর্মঘট অথবা লক-আউটের নোটিশ
(১) মীমাংসাকারী ধারা ৪১ এর অধীন অনুরোধ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ১০ দিনের মধ্যে বিরোধটি মীমাংসা করিতে ব্যর্থ হইলে, যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট অথবা মালিক, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, এবং এই আইনের বিধান অনুসারে, বিরোধের অপর পক্ষের প্রতি ধর্মঘট বা, ক্ষেত্রমত, লক-আউটের ২১ দিনের নোটিশ জারী করিতে পারিবে।
(২) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইয়া না থাকিলে, নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক অনুমোদিত পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় গোপন-ব্যালটের মাধ্যমে শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিষদের অন্যূন তিন-চতুর্থাংশ সদস্য সম্মতি প্রদান না করিলে, কোন যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট ধর্মঘটের নোটিশ জারী করিবে না।
Section ৪৩. ধর্মঘট বা লক-আউটের নোটিশ জারীর পর মীমাংসা
(১) শিল্প বিরোধের কোন পক্ষ ধারা ৪২ এর অধীন ধর্মঘট বা লক-আউটের নোটিশ জারী করিলে, উক্ত নোটিশ জারীর একই সাথে উহার একটি কপি মীমাংসাকারীকে হস্তান্তর করিবেন এবং মীমাংসাকারী তখন ধর্মঘট বা লক-আউটের নোটিশ সত্ত্বেও মীমাংসা কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন অথবা, বিরোধের মীমাংসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখিবেন।
(২) বিরোধের মীমাংসা শুরুর পূর্বেই মীমাংসাকারী ধর্মঘটের নোটিশের বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হইলে এবং যদি নোটিশটি এই আইনের বিধান বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান বা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক কল্যাণ সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী না হয়, তাহা হইলে ধর্মঘটের নোটিশ এই আইনের বিধান অনুসারে প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না; এবং এইরূপ ক্ষেত্রে মীমাংসাকারী, তাহার স্বীয় বিবেচনায় মীমাংসা কার্যক্রম গ্রহণ না করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন।
Section ৪৪. মীমাংসাকারীর কার্যপদ্ধতি
(১) মীমাংসাকারী, যত দ্রুত সম্ভব, মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে বিরোধের পক্ষগণকে সভায় আহবান করিবেন।
(২) বিরোধের পক্ষগণ, ব্যক্তিগতভাবে অথবা তাহাদের মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে মীমাংসাকারীর নিকট উপস্থিত হইবেন, এবং পক্ষগণের উপর বাধ্যকর চুক্তিতে আবদ্ধ হইবার ও তাহাদের পক্ষে আলাপ-আলোচনা করিবার ক্ষমতা প্রতিনিধিগণকে প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) মীমাংসাকারী, তাহার নিকট প্রেরিত কোন বিরোধ সম্পর্কে যেরূপ নির্ধারন করা হইবে সেইরূপ কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন, এবং বিশেষতঃ আপোষে বিরোধটির নিষ্পত্তির সম্ভাব্য লক্ষে, দাবীতে যেরূপ ছাড় প্রদান বা পরিমার্জন মীমাংসাকারীর অভিমতে প্রয়োজনীয় মনে হইবে, ঐরূপ ছাড় প্রদান বা পরিমার্জনের জন্য যে কোন পক্ষকে তিনি পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৪) মীমাংসাকারীর নিকট নিষ্পন্নোধীন কোন মীমাংসা কার্যক্রমে কোন বিরোধের বা বিরোধের অন্তর্ভুক্ত কোন বিষয়ের মীমাংসা হইয়া থাকিলে, মীমাংসাকারী বিরোধের পক্ষগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিতমীমাংসা স্মারকসহ উহার একটি কপি নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৫) ধর্মঘট বা লক-আউটের নোটিশের সময়সীমার মধ্যে মীমাংসায় পৌঁছানো সম্ভব না হইলে, মীমাংসা কার্যক্রম, বিরোধের পক্ষগণ যেরূপ সম্মত হইবেন সেইরূপ অধিকতর সময়ের জন্য, অব্যাহত রাখা যাইবে।
Section ৪৫. সালিস
(১) মীমাংসা ব্যর্থ হইলে, বিরোধটি একজন সালিসকারীর নিকট প্রেরণে সম্মত হইবার জন্য মীমাংসাকারী পক্ষগণকে উদ্বুদ্ধ করিবেন, এবং পক্ষগণ সম্মত হইলে, তাহাদেও সম্মতিক্রমে বিরোধটি একজন সালিসকারীর নিকট প্রেরণের জন্য তাহারা যৌথভাবে লিখিত অনুরোধ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন যে সালিসকারীর নিকট বিরোধ প্রেরিত হইবে, তিনি নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনয়নের ভিত্তিতে প্রণীত প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত হইবেন; এবং সালিসকারীদেও অনুরূপ প্যানেল প্রতি ১৮ মাস অন্তর সকল পক্ষ কর্তৃক পর্যালোচনা করিতে হইবে।
(৩) সালিসকারী, উপ-ধারা (১) অনুযায়ী তাহার নিকট প্রেরিত বিরোধ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে অথবা বিরোধের পক্ষগণ কর্তৃক সম্মত বর্ধিত সময়-সীমার মধ্যে, তাঁহার রোয়েদাদ প্রদান করিবেন।
(৪) রোয়েদাদ প্রদানের পর, উক্ত রোয়েদাদের যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য, সালিসকারী উহার কপি পক্ষগণকে এবং নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৫) সালিসকারীর রোয়েদাদ চূড়ান্ত ও পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হইবে, এবং ইহার বিরুদ্ধে কোন আপীল চলিবে না, এবং ইহা অনূর্ধ্ব দুই বৎসর অথবা সালিসকারী কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের জন্য বৈধ থাকিবে।
Section ৪৬. ধর্মঘট এবং লক-আউট
(১) মীমাংসা কার্যক্রমের মাধ্যমে কোন মীমাংসায় উপনীত হওয়া সম্ভব না হইলে এবং বিরোধীয় পক্ষগণ ধারা ৪৫ এর অধীন বিরোধটি একজন সালিসকারীর নিকট প্রেরণ করিতে সম্মত না হইলে, ধারা ৪২ এর অধীন নোটিশের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর, অথবা বিরোধীয় পক্ষগণের প্রতি মীমাংসাকারী কর্তৃক মীমাংসা কার্যপদ্ধতি ব্যর্থ হইয়াছে মর্মে সার্টিফিকেট ইস্যু করিবার পর, যাহা পরে হয়, শ্রমিকগণ ধর্মঘটে যাইতে পারিবে অথবা, ক্ষেত্রমত, মালিক লকআউট ঘোষণা করিতে পারিবে।
(২) বিরোধের পক্ষগণ, যে কোন সময়, ধর্মঘট বা লক-আউট আরম্ভ হইবার পূর্বে বা পরে, বিরোধের বিচারের জন্য ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনালে যৌথ দরখাস্ত দায়ের করিতে পারিবে।
(৩) ধর্মঘট বা লক-আউট ১৫ দিনের অধিক অব্যাহত থাকিলে, নির্বাহী চেয়ারম্যান, লিখিত আদেশ দ্বারা, ধর্মঘট বা লক-আউট নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্বাহী চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, উক্তরূপ ধর্মঘট বা লক-আউটের ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হইতেছে অথবা উহা জনস্বার্থে বা জাতীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর, তাহা হইলে তিনি লিখিত আদেশ দ্বারা উক্তরূপ ধর্মঘট বা লক-আউটের মেয়াদ ১৫ (পনের) দিন পূর্তির পূর্বেই যে কোন সময় ধর্মঘট বা লক-আউট নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন।
(৫) নির্বাহী চেয়ারম্যান কোন ধর্মঘট বা লক-আউট নিষিদ্ধ করিলে, তিনি তৎক্ষণাৎ বিরোধটি ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করিবেন।
(৬) ট্রাইব্যুনাল, বিরোধের উভয় পক্ষকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া, যত দ্রুত সম্ভব, যেরূপ সমীচীন মনে করিবে সেইরূপ রোয়েদাদ প্রদান করিবে, কিন্তু রোয়েদাদ প্রদানের সময়সীমা, বিরোধটি ইহার নিকট প্রেরিত হইবার তারিখ হইতে ৪০ দিনের বেশি হইবে না।
(৭) ট্রাইব্যুনাল, বিরোধীয় যে কোন বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রোয়েদাদও প্রদান করিতে পারিবে এবং রোয়েদাদ প্রদানে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিলম্ব হইবার কারণে, তৎকর্তৃক প্রদত্ত কোন রোয়েদাদের বৈধতা ক্ষুন্ন হইবে না।
(৮) ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত রোয়েদাদ, রোয়েদাদে বর্ণিত মেয়াদের জন্য বৈধ থাকিবে, তবে উহা কোনক্রমেই দুই বৎসরের অধিক সময়ের জন্য বৈধ থাকিবে না।
Section ৪৭. ট্রাইব্যুনালের নিকট দরখাস্ত
কোন যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট বা শ্রমিক, কোন আইন বা রোয়েদাদ বা মীমাংসার অধীন কোন অধিকার বাস্তবায়নের জন্য ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত করিতে পারিবে।
Section ৪৮. ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল
(১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তদ্বিবেচনায় যত সংখ্যক প্রয়োজন ততসংখ্যক ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকাসমূহের জন্য প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে এবং যে ক্ষেত্রে একাধিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত হইবে, সেক্ষেত্রে সরকার উক্ত গেজেটে প্রত্যেক ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা বা এলাকাসমূহ নির্দিষ্ট করিয়া দিবে।
(২) সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন চেয়ারম্যান এবং, একজন মালিকদের এবং একজন শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসাবে চেয়ারম্যানকে পরামর্শদানের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিযুক্ত, দুইজন সদস্যের সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হইবে।
(৩) কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগলাভের জন্য যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন না, যদি না তিনি জেলাজজ বা অতিরিক্ত জেলাজজ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন বা আছেন।
(৪) ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
(৫) বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন ট্রাইব্যুনালকে উক্ত আইনের অধীন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রয়োগের বা কার্য সম্পাদনের এখতিয়ার প্রদান করিতে পারিবে এবং, উক্তরূপে এখতিয়ার প্রাপ্ত হইলে, ট্রাইব্যুনাল উক্ত আইনের অধীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উক্তরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(৬) ট্রাইব্যুনালের একজন সদস্য ট্রাইব্যুনালের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকিলে অথবা উপস্থিত হইতে অসমর্থ হইলেও, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত থাকিবে এবং উক্ত সদস্যের অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ প্রদান করিতে পারিবে; এবং কেবল একজন সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে ট্রাইব্যুনালের কোন কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ অবৈধ হইবে না, কিংবা এই বিষয়ে কোনরূপ প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ৪৯. ট্রাইব্যুনালের কার্যপদ্ধতি ও ক্ষমতা
(১) এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, ট্রাইব্যুনাল ফৌজদারী কার্যধারার ক্ষেত্রে, যতদূর সম্ভব, ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সনের ৫নং আইন) এ বর্ণিত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে।
(২) এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারের উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনাল ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সনের ৫নং আইন) এর অধীন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অনুরূপ ক্ষমতার অধিকারী হইবে এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়েরের প্রশ্নে উক্ত ট্রাইব্যুনাল উক্ত কার্যবিধির অধীন দায়রা আদালতের সমমর্যাদাসম্পন্ন গণ্য হইবে।
(৩) শিল্প বিরোধের বিচার ও নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনাল দেওয়ানী আদালত হিসাবে গণ্য হইবে, এবং দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর অধীন দেওয়ানী আদালতের অনুরূপ ক্ষমতাসহ উহার নিম্নোক্ত ক্ষমতাবলী থাকিবে, যথাঃ-
(৪) কোন মামলা দায়ের, দলিলপত্র প্রদর্শন বা রেকর্ড করিবার জন্য কিংবা ট্রাইব্যুনাল হইতে কোন দলিল সংগ্রহের জন্য কোনরূপ কোর্ট ফি প্রদান করিতে হইবে না।
Section ৫০. ট্রাইব্যুনালের রোয়েদাদ ও সিদ্ধান্ত
(১) ট্রাইব্যুনালের রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে ও প্রকাশ্য ট্রাইব্যুনালে প্রদান করিতে হইবে, এবং উহার একটি অনুলিপি অবিলম্বে নির্বাহী চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(২) মামলা দায়েরের পর ট্রাইব্যুনাল ২৫ দিনের মধ্যে ইহার রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে, যদি না বিরোধে জড়িত পক্ষগণ লিখিতভাবে সময় বৃদ্ধির পক্ষে সম্মতি প্রদান করিয়া থাকে।
(৩) ট্রাইব্যুনালের কোন সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ, কেবল উহা প্রদানে বিলম্ব হইবার কারণে অকার্যকর হইবে না।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত কোন রোয়েদাদের দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ উক্ত রোয়েদাদ প্রদত্ত হইবার ৩০ দিনের মধ্যে আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল করিতে পারিবে এবং উক্ত আপীলের বিষয়ে আপীল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
(৫) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত রোয়েদাদ ব্যতীত, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত সকল সিদ্ধান্ত এবং ধারা ৪৯ এর উপ-ধারা (২) এ প্রদত্ত দন্ড চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে এবং কোন আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট উক্ত বিষয়ে কোনরূপ প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ৫১. ইপিজেড শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল
(১) সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ইপিজেড শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠন করিবে এবং সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নিয়োগকৃত একজন সদস্য লইয়া উক্ত আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হইবে।
(২) আপীল ট্রাইব্যুনালের সদস্য এমন একজন ব্যক্তি হইবেন যিনি সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক পদে বহাল আছেন অথবা ছিলেন, এবং উক্ত সদস্যের নিয়োগের শর্তাবলী সরকার যেরূপ নির্ধারণ করিবে সেইরূপ হইবে।
(৩) আপীল ট্রাইব্যুনাল, কোন আপীল বিবেচনার পর ট্রাইব্যুনালের রোয়েদাদ বহাল, বাতিল, সংশোধন, অথবা রদবদল করিতে পারিবে, এবং এই আইনের অধীন ট্রাইব্যুনালকে প্রদত্ত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে; এবং আপীল ট্রাইব্যুনাল আপীল দায়ের হইবার ৪০ (চল্লিশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে।
(৪) আপীল ট্রাইব্যুনালের কোন সিদ্ধান্ত উহা প্রদানে বিলম্ব হইবার কারণে অকার্যকর হইবে না।
(৫) আপীল ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করিবে।
(৬) আপীল ট্রাইব্যুনাল উহার নিজের অথবা উহার আপীল এখতিয়ারের অধীন কোন ট্রাইব্যুনালের কর্তৃত্বের অবমাননার জন্য এইরূপ দন্ড প্রদান করিতে পারিবে, যেন ইহা হাইকোর্ট বিভাগ।
(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড
কিংবা ৫ (পাঁচ) হাজার টাকার ঊর্ধ্বের অর্থদন্ডের আদেশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আপীল বিভাগে, উক্ত
বিভাগ কর্তৃক লিভ মঞ্জুর হওয়া সাপেক্ষে, আপীল করিতে পারিবে।
Section ৫২. ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল ও ইপিজেড শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠন সম্পর্কিত বিশেষ বিধান
(১) ধারা ৪৮ এর অধীন ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল ও ধারা ৫১ এর অধীন ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), অতঃপর এই ধারায় শ্রম আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ২১৪ এর অধীন স্থাপিত শ্রম আদালত ও ধারা ২১৮ এর অধীন গঠিত শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যথাক্রমে ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল ও ইপিজেড শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) শ্রম আইনের অধীন একাধিক শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠিত থাকিলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের প্রত্যেক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা বা এলাকাসমূহ নির্দিষ্ট করিয়া দিবে।
(৩) শ্রম আদালত ও শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচার অথবা অপরাধ ব্যতীত অন্য কোন বিষয়, প্রশ্ন বা বিরোধের বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন উহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করিবে।
Section ৫৩. নিষ্পত্তি বা রোয়েদাদ যাহাদের উপর বাধ্যকর
(১) আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে উপনীত কোন নিষ্পত্তি, সালিসের রোয়েদাদ, ধারা ৫০ এর অধীন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ, অথবা ধারা ৫১ এর অধীন আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্ত নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণের উপর বাধ্যকর হইবে, যথাঃ-
(২) আপোষ মীমাংসার মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোন প্রকারে মালিক এবং সমিতির মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে কোন মীমাংসা হইয়া থাকিলে, চুক্তিভুক্ত পক্ষদের সকলের উপর উহা বাধ্যকর হইবে।
Section ৫৪. মীমাংসা, রোয়েদাদ, ইত্যাদি কার্যকর হইবার তারিখ
(১) মীমাংসা কার্যকর হইবে-
(২) পক্ষদ্বয় যতদিনের জন্য সম্মত হইবে, ততদিন তাহাদের উপর মীমাংসা বাধ্যকর থাকিবে, এবং এইরূপ কোন মেয়াদ নির্ধারণে তাহারা সম্মত না হইলে, মীমাংসা-স্মারক স্বাক্ষরের দিন হইতে এক বৎসর পর্যন্ত উহা বাধ্যকর থাকিবে।
(৩) ধারা ৫০ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত রোয়েদাদ, উহার বিরুদ্ধে আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল করা না হইলে, রোয়েদাদ উল্লিখিত তারিখ হইতে নির্দিষ্ট মেয়াদে অনধিক দুই বৎসর কার্যকর থাকিবে।
(৪) সালিসকারী, ট্রাইব্যুনাল, অথবা ক্ষেত্রমত, আপীল ট্রাইব্যুনাল, রোয়েদাদের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন
দাবী, প্রতিটি ক্ষেত্রে কোন তারিখে ও কী শর্তে কার্যকর হইবে, উহা উল্লেখ করিবে।
(৫) ধারা ৫১ এর অধীন আপীল আবেদনের উপর আপীল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত, রোয়েদাদ প্রদানের তারিখ হইতে কার্যকর হইবে।
(৬) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন রোয়েদাদের কার্যকরতার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও, একপক্ষ অপর পক্ষের নিকট উহার সম্মতির কথা লিখিতভাবে অবগত করিবার তারিখ হইতে পরবর্তী দুইমাস পর্যন্ত উক্ত সিদ্ধান্ত মানিয়া চলিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ বাধ্য থাকিবে।
Section ৫৫. কার্যক্রমের সূচনা ও সমাপ্তি
(১) ধারা ৪২ এর অধীন মীমাংসাকারী যে তারিখে ধর্মঘট বা লক-আউটের নোটিশপ্রাপ্ত হইবেন, সেই তারিখ হইতে মীমাংসা কার্যকর শুরু হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) মীমাংসা কার্যক্রম সেই তারিখে সমাপ্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে-
(৩) ট্রাইব্যুনালে উত্থাপিত কার্যক্রম সেই তারিখে শুরু হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে-
(৪) ট্রাইব্যুনালের রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত ধারা ৫০ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন যে তারিখে প্রদত্ত হইয়াছে, সেই তারিখে ট্রাইব্যুনালে মোকদ্দমার কার্যক্রম সমাপ্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ৫৬. কতিপয় বিষয়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ
(১) কোন সমিতি কিংবা ব্যক্তি, ইউনিট বা কোম্পানী বা মালিক কর্তৃক পরিচালিত কোন ব্যবসা বিষয়ে কোন তদন্ত বা অনুসন্ধান পরিচালনার সময় নির্বাহী চেয়ারম্যান, মীমাংসাকারী, ট্রাইব্যুনাল, সালিসকারী বা আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সংগৃহীত বা প্রাপ্ত কোন তথ্য যাহা ঐরূপ কর্তৃপক্ষের সম্মুখে সাক্ষ্য প্রদান ব্যতিরেকে অন্য কোন উপায়ে পাওয়া সম্ভব নহে, এবং যাহা সংশ্লিষ্ট সমিতি, ব্যক্তি, ইউনিট বা কোম্পানী গোপন রাখিবার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে অনুরোধ করিয়াছে, উহা এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোন প্রতিবেদন, রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত হইবে না; এবং এইরূপ কোন তথ্য, সমিতির সভাপতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ইউনিট বা, ক্ষেত্রমত, কোম্পানী লিখিত সম্মতি প্রদান না করিলে, মোকদ্দমার কার্যক্রমে প্রকাশ করা যাইবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার কোন কিছুই দন্ড বিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ১৯৩ এর অধীন কোন মামলায় অনুরূপ কোন তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
Section ৫৭. শিল্প বিরোধ উত্থাপন
যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট নির্ধারিত পদ্ধতিতে উত্থাপন না করা পর্যন্ত কোন শিল্প বিরোধের উদ্ভব হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
Section ৫৮. কার্যক্রম চলাকালীন ধর্মঘট বা লক-আউটের নোটিশ প্রদানের উপর নিষেধাজ্ঞা
কোন মীমাংসা কার্যক্রম চলাকালীন, অথবা মীমাংসাকারী, সালিসকারী বা ট্রাইব্যুনালে কোন শিল্প বিরোধ কিংবা আপীল ট্রাইব্যুনালে এই সংক্রান্ত কোন আপীল শুনানীকালে উক্ত শিল্প বিরোধের সহিত জড়িত কোন পক্ষ সংশ্লিষ্ট বিরোধ বিষয়ে ধর্মঘট বা লক-আউটের নোটিশ জারী করিতে পারিবে না।
Section ৫৯. ট্রাইব্যুনাল ও আপীল ট্রাইব্যুনালের ধর্মঘট, ইত্যাদি নিষিদ্ধকরণের ক্ষমতা
(১) কোন শিল্প বিরোধকে কেন্দ্র করিয়া ট্রাইব্যুনালে ধারা ৪৭ এর অধীন কোন আবেদনের শুনানী চলাকালীন সময়ে উক্ত বিরোধ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধর্মঘট বা লক-আউট শুরু হইয়া থাকিলে এবং উহা চলিতে থাকিলে ট্রাইব্যুনাল লিখিত আদেশ জারী করিয়া উক্ত ধর্মঘট বা লক-আউট নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে।
(২) শিল্প-বিরোধ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে কোন আপীল ধারা ৫১ এর অধীন আপীল ট্রাইব্যুনালে প্রেরিত হইয়া থাকিলে, আপীল দায়েরের তারিখে উক্ত শিল্প বিরোধকে কেন্দ্র করিয়া কোন ধর্মঘট বা লক-আউট শুরু হইয়া থাকিলে বা চলিতে থাকিলে, আপীল ট্রাইব্যুনাল লিখিত আদেশ জারী করিয়া অনুরূপ ধর্মঘট বা লক-আউট নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে।
Section ৬০. বেআইনী ধর্মঘট ও লক-আউট
(১) ধর্মঘট বা লক-আউট বেআইনী হইবে, যদি-
(২) বেআইনী ধর্মঘটের ধারাবাহিকতায় ঘোষিত লক-আউট এবং বেআইনী লক-আউটের ধারাবাহিকতায় ঘোষিত ধর্মঘট অবৈধ বলিয়া গণ্য হইবে না।
Section ৬১. কার্যক্রম চলাকালে চাকুরীর শর্ত অপরিবর্তিত থাকা
(১) কোন মালিক, কোন মীমাংসাকারী, সালিসকারী, ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল বা ইপিজেড শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে শিল্প বিরোধ সম্পর্কিত কোন মীমাংসা কার্যক্রম বা অন্য কোন কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে, সংশ্লিষ্ট বিরোধে জড়িত কোন শ্রমিকের চাকুরীর শর্ত, মীমাংসাকারী, সালিসকারী, ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল বা ইপিজেড শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে উক্ত কার্যক্রম শুরু হইবার পূর্বে যেরূপ ছিল সেইরূপ অবস্থা হইতে উক্ত শ্রমিকের স্বার্থের হানিকরভাবে পরিবর্তন করিতে পারিবেন না; এমনকি তিনি-
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন কার্যধারা অব্যাহত থাকাকালে, কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির কোন কর্মকর্তাকে, ট্রাইব্যুনালের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে, অপসারণ, বরখাস্ত অথবা অসদাচরণের জন্য অন্য কোনভাবে শাস্তি প্রদান করা যাইবে না।
Section ৬২. সমিতির নির্বাচিত কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
(১) কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা অন্য কোন কর্মকর্তাকে নির্বাহী চেয়ারম্যানের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে এক এলাকা হইতে অন্য এলাকায় অথবা এক শিল্প ইউনিট হইতে অন্য শিল্প ইউনিটে বদলী করা যাইবে না।
(২) কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা অন্য কোন কর্মকর্তাকে নির্বাহী চেয়ারম্যানের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে চাকুরী হইতে বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোনভাবে কর্মচ্যুত করা যাইবে না।
(৩) কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির কোন কর্মকর্তাকে এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন নিষিদ্ধ অন্যায় আচরণের অভিযোগের ভিত্তিতে চাকুরী হইতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিতে বা তাহার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করিতে মালিক বারিত বলিয়া গণ্য হইবে না।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন মালিকের যে কোন কার্যের বৈধতার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত প্রদানে নির্বাহী চেয়ারম্যানের কর্তৃত্ব থাকিবে, এবং তিনি মালিকের সিদ্ধান্ত বহাল রাখিতে বা বাতিল করিতে এবং কোন কর্মকর্তাকে স্ব-পদে পুনর্বহাল এবং তাহার অপরিশোধিত মজুরী ও সুবিধাদি পরিশোধের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
Section ৬৩. কতিপয় ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধান
কোন ব্যক্তি কোন বেআইনী ধর্মঘটে বা বেআইনী লক-আউটে অংশগ্রহণ করিতে, বা অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখিতে অস্বীকার করিলে, উক্ত অস্বীকৃতির কারণে তাহাকে কোন সমিতি হইতে বহিষ্কার করা যাইবে না, বা কোন জরিমানা আরোপ বা দ- প্রদান করা যাইবে না, বা এমন কোন অধিকার বা সুবিধা হইতে তাহাকে বঞ্চিত করা যাইবে না, যাহা তিনি বা তাহার কোন প্রতিনিধি উহা না হইলে ভোগ করিবার অধিকারী হইতেন, অথবা সমিতির অন্যান্য সদস্যদের সহিত তুলনামূলকভাবে অধিকতর অসুবিধাজনক কোন অবস্থা বা অক্ষমতার মধ্যে তাহাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিপতিত করা যাইবে না।
Section ৬৪. পক্ষদের প্রতিনিধিত্ব
(১) শিল্প বিরোধে পক্ষ কোন শ্রমিক এই আইনের অধীন যে কোন কার্যক্রম প্রতিনিধি হিসাবে সমিতির একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালনা করিতে অধিকারী হইবেন, এবং উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, শিল্প বিরোধের পক্ষ হিসাবে কোন মালিক তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তির মাধ্যমে নিজের পক্ষে অনুরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবেন।
(২) শিল্প বিরোধের কোন পক্ষ এই আইনের অধীনে কোন মীমাংসা কার্যক্রম আইনজীবীর মাধ্যমে পরিচালনা করিতে পারিবেন না।
(৩) শিল্প বিরোধের কোন পক্ষ, ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল বা আপীল ট্রাইব্যুনাল বা সালিসকারীর সম্মুখে অনুষ্ঠিত কোন কার্যক্রম, উক্ত আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা সালিসকারীর অনুমতিক্রমে, আইনজীবীর প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে পরিচালনা করিতে পারিবেন।
Section ৬৫. মীমাংসা এবং রোয়েদাদের ব্যাখ্যা
কোন রোয়েদাদ কিংবা মীমাংসার কোন বিষয়বস্তু বা অর্থের ব্যাখ্যা বিষয়ে কোন অসুবিধা বা সন্দেহে উদ্ভূত হইলে, ইহা এই আইনের অধীন গঠিত আপীল ট্রাইব্যুনালের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে। (২) আপীল ট্রাইব্যুনাল উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রেরিত কোন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে শুনানীর সুযোগদানের পর বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে এবং ইহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং পক্ষদের উপর বাধ্যকর হইবে।
Section ৬৬. মীমাংসা বা রোয়েদাদ অনুযায়ী মালিকের নিকট হইতে পাওনা টাকা আদায়
(১) কোন মীমাংসাকারী, সালিসকারী, ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল বা আপীল ট্রাইব্যুনালের কোন রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মালিকের নিকট হইতে পাওনা কোন টাকা, নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক উক্ত টাকার প্রাপক ব্যক্তির পক্ষে আবেদন করা হইলে, বকেয়া ভূমি রাজস্ব বা সরকারী পাওনা আদায়ের অনুরূপ পদ্ধতিতে আদায়যোগ্য হইবে।
(২) মীমাংসাকারী, সালিসকারী, ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল বা আপীল ট্রাইব্যুনালের রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত অনুসারে মালিকের নিকট হইতে কোন শ্রমিক সংশ্লিষ্ট কোন সুবিধা পাওনা হইলে এবং অনুরূপ পাওনা টাকার অংকে নিরূপণ করিয়া আদায় করার উপযোগী হইলে, উহা বিধি ও প্রবিধান সাপেক্ষে, অনুরূপভাবে টাকার অংকে নিরূপিত হইবে, এবং উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী আদায় করিয়া সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে প্রদান করিতে হইবে।
Section ৬৭. অন্যায় আচরণের জন্য দন্ড
(১) কোন ব্যক্তি ধারা ৩৩ এর উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত কোন কাজ করিলে, তিনি ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, এবং অনাদায়ে ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ডেদন্ডিত হইবেন।
(২) কোন শ্রমিক ধারা ৩৪ এর উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত কোন কাজ করিলে, তিনি ২ (দুই) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে, এবং অনাদায়ে ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ডেদন্ডিত হইবেন।
(৩) কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি, অথবা শ্রমিক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি, ধারা ৩৪ এর উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত কোন কাজ করিলে, তিনি ২০ (বিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে, এবং অনাদায়ে ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ডেদন্ডিত হইবেন।
Section ৬৮. কোন মীমাংসা ভংগ করিবার জন্য দন্ড
কোন ব্যক্তি কোন আপোষ রফার শর্ত, রোয়েদাদ অথবা তাহার উপর বাধ্যকর, কোন সিদ্ধান্ত ভংগ করিয়া থাকিলে, তিনি- (ক) প্রথমবার অনুরূপ অপরাধ করিবার জন্য ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে, এবং অনাদায়ে ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হইবেন;
Section ৬৯. আপোষ রফা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার দন্ড, ইত্যাদি
কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন তাহার উপর বাধ্যকর মীমাংসার কোন শর্ত, রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হইলে, তিনি ২০ (বিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, এবং অনাদায়ে ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ডেদন্ডিত হইবেন।
Section ৭০. মিথ্যা বিবৃতি প্রদানের দন্ড, ইত্যাদি
কোন ব্যক্তি এই আইন অথবা বিধি বা প্রবিধানের অধীন দাখিলকৃত কোন আবেদনপত্রে বা অন্য কোন দলিলপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোন বিবৃতি প্রদান করিয়া বা করাইয়া থাকেন, যাহা অসত্য বলিয়া তিনি জানেন অথবা বিশ্বাস করিবার কারণ রহিয়াছে, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে এই আইন অথবা বিধি বা প্রবিধানের অধীন সংরক্ষণ বা পেশ করিতে ইচ্ছাকৃতভাবে গাফিলতি করিয়া থাকেন বা ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদন্ড, অথবা ১০ (দশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে, অথবা উভয়দন্ডেদন্ডিত হইবেন।
Section ৭১. বেআইনী ধর্মঘট বা লক-আউটের জন্য দন্ড
(১) কোন শ্রমিক কোন বেআইনী ধর্মঘট আরম্ভ করিলে, চালাইলে অথবা উহার সমর্থনে অন্য কোনভাবে কোন কার্য করিলে, তিনি ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদন্ড, অথবা ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, অথবা উভয়দন্ডেদন্ডিত হইবেন।
(২) কোন মালিক বেআইনীভাবে কোন লক-আউট আরম্ভ করিলে, চালাইলে অথবা উহার সমর্থনে অন্য কোনভাবে কোন কার্য করিয়া থাকিলে, তিনি ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড, অথবা ২০(বিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, অথবা উভয়দন্ডেদন্ডিত হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের পুনরাবৃত্তি করিবার ক্ষেত্রে প্রথম অপরাধের পর অনুরূপ অপরাধ অব্যাহত থাকাকালীন সময়ে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ২ (দুই) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডেদন্ডিত হইবেন।
Section ৭২. বেআইনী ধর্মঘট বা লক-আউট করিতে প্ররোচনা প্রদান করিবার দন্ড
কোন ব্যক্তি বেআইনী ধর্মঘট বা বেআইনী লক-আউটে অংশগ্রহণ করিবার জন্য অন্যান্যদিগকে প্ররোচিত বা উত্তোজিত করিলে, কিংবা উক্ত উদ্দেশ্যে অর্থ সরবরাহ করিলে অথবা অন্য কোনভাবে সহায়তা করিলে, তিনি ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদন্ডে, অথবা ১০ (দশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, অথবা উভয়দন্ডেদন্ডিত হইবেন।
Section ৭৩. ধারা ৬১ এর বিধান লংঘন করিবার দন্ড
কোন মালিক বা কোম্পানী ধারা ৬১ এর বিধান লংঘন করিলে তিনি ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদন্ড, অথবা ১০ (দশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হইবেন।
Section ৭৪. তহবিল তসরুপ বা আত্মসাতের দন্ড
(১) কোন নিবন্ধিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতির কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী উক্ত শ্রমিক কল্যাণ সমিতির তহবিল তসরুপ বা আত্মসাতের জন্য দোষী সাব্যস্ত হইলে, তিনি ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ডে, এবং তদুপরি যে পরিমাণ অর্থ তসরুপ বা আত্মসাত হইয়াছে মর্মে ট্রাইব্যুনালের নিকট প্রমাণিত হইবে, অনধিক উক্ত পরিমাণ অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অর্থদন্ডের টাকা আদায় হইয়া থাকিলে, ট্রাইব্যুনাল উক্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট শ্রমিক কল্যাণ সমিতি কে প্রত্যার্পণ করিতে পারিবেন।
Section ৭৫. অন্যান্য অপরাধের দন্ড
কোন ব্যক্তি কর্তৃক এই আইনের কোন বিধান লংঘন করিবার, অথবা প্রতিপালন করিতে ব্যর্থ হইবার ক্ষেত্রে অনুরূপ লংঘন বা ব্যর্থতার জন্য এই আইনের অধীন কোন শাস্তির বিধান করা না থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডেদন্ডিত হইবেন।
Section ৭৬. ধারা ৪৪ এর বিধান লংঘন করিবার দন্ড
কোন ব্যক্তি, সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে, এই আইনের ধারা ৪৪ এর উপ-ধারা (২) এর বিধান লংঘন করিয়া মীমাংসাকারীর নিকট হাজির হইতে বা প্রতিনিধি প্রেরণ করিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হইলে, তিনি ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে, এবং অনাদায়ে ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ডেদন্ডিত হইবেন।
Section ৭৭. কোম্পানী কর্তৃক কৃত অপরাধ
এই আইনের অধীন কৃত অপরাধে দোষী ব্যক্তি কোন কোম্পানী বা নিগমবদ্ধ সংস্থা (Body Corporate) হইলে, উহার প্রত্যেক পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সচিব বা অন্যান্য কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি, যদি তিনি প্রমাণ করিতে না পারেন যে, কৃত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে বা তাহার অসম্মতিক্রমে করা হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ প্রতিরোধের জন্য তিনি সাধ্যমত চেষ্টা করিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি বা তাহারা সকলেই উক্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইবেন।
Section ৭৮. অপরাধের বিচার
(১) এই আইনের অধীন দন্ডনীয় কোন অপরাধ, এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত শ্রম ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত অন্য কোন ট্রাইব্যুনাল বা আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে না, এবং এই অধ্যায়ের অধীন দন্ডনীয় অপরাধের জন্য নির্বাহী চেয়ারম্যান অথবা তদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক অনুমোদিত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক বা তাহার কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে কোন ফৌজদারী কার্যধারা রুজু করা যাইবে না।
(২) এই আইনের অধীন সকল অপরাধ আমলঅযোগ্য (non-cognizable) এবং জামিনযোগ্য (bailable) হইবে।
Section ৭৯. দায়মুক্তি
এই আইন বা উহার অধীন কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত বা অভিপ্রেত কোন কার্যের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন মামলা, ফৌজদারী কার্যক্রম বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা রুজু করা যাইবে না।
Section ৮০. রাজনৈতিক দলের সহিত সম্পর্ক নিষিদ্ধ
(১) কোন এলাকায় গঠিত কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি বা শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ফেডারেশন, প্রকাশ্যে বা গোপনে, কোন রাজনৈতিক দল কিংবা রাজনৈতিক দলের অংগ সংগঠন অথবা বেসরকারী সংস্থা (NGO) এর সহিত কোনরূপ সম্পর্ক স্থাপন বা রক্ষা করিতে পারিবে না।
(২) কোন মালিক কর্তৃক উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি বা শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ফেডারেশনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত নালিশের ভিত্তিতে তদন্ত অনুষ্ঠান করিয়া অনুরূপ অভিযোগ সত্য বলিয়া সিদ্ধান্তে উপনীত হইলে, নির্বাহী চেয়ারম্যান অবিলম্বে উক্ত শ্রমিক কল্যাণ সমিতি বা, ক্ষেত্রমত, শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ফেডারেশনের নিবন্ধন বাতিল করিবেন, এবং অনুরূপ বাতিল হইবার পর উক্ত শিল্প ইউনিট বা ইউনিটসমূহের শ্রমিকগণ বা, ক্ষেত্রমত, সমিতিসমূহ পরবর্তী ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত শ্রমিক কল্যাণ সমিতি বা, ক্ষেত্রমত, ফেডারেশন গঠন করিতে পারিবে না।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, কোন মালিক, সমিতি বা ফেডারেশন, ট্রাইব্যুনালে উহার বিরুদ্ধে আবেদন করিতে পারিবে, এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল করা যাইবে, এবং উক্ত বিষয়ে আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশই চূড়ান্ত হইবে।
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে রাজনৈতিক দল বলিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত রাজনৈতিক দলকে বুঝাইবে, এবং অনুরূপ রাজনৈতিক দলের সহিত অধিভুক্ত যে কোন অংগ সংগঠনও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
Section ৮১. ক্রামিত্মকালীন ও অস্থায়ী বিধান
(১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারায় অন্তর্ভুক্ত ক্রামিত্মকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী কার্যকর হইবে। (২) ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখ পর্যন্ত কোন এলাকায় কোন শিল্প ইউনিটে ধর্মঘট বা লক-আউট নিষিদ্ধ থাকিবে। (৩) ধারা ৪৫ তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন প্রবর্তনের পর হইতে শুরু করিয়া এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়কাল, পক্ষগণের জন্য সালিস বাধ্যতামূলক হইবে। (৪) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সালিসকারীগণের মধ্য হইতে পক্ষগণ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সালিসকারী নিয়োগ করিবেন। পক্ষগণ সালিসকারী নির্বাচন করিতে সম্মত হইতে ব্যর্থ হইলে, নির্বাহী চেয়ারম্যান তৎকর্তৃক অনুমোদিত তালিকা হইতে একজন সালিসকারীকে দায়িত্ব অর্পণ করিবেন। সালিসের জন্য অনুরোধ করিবার তারিখ হইতে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সালিসকারীর নির্বাচন বা নিয়োগ সম্পন্ন করিতে হইবে এবং সালিসের শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করিতে হইবে। প্রথম শুনানীর তারিখ হইতে পরবর্তী ৩০ দিবসের মধ্যে সালিসের শুনানী পরিসমাপ্ত হইবে এবং রোয়েদাদ প্রদত্ত হইবে। (৫) সালিসকারী কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হইবে এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক উহা বলবৎযোগ্য হইবে। নির্বাহী চেয়ারম্যান সালিসকারীর সিদ্ধান্তের শর্তসমূহ কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন। (৬) সালিশকারী কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত হইতে সীমিত পরিসরে কেবল ঐ সকল ক্ষেত্রে আপীল চলিবে যে সকল ক্ষেত্রে সালিসকারীর সিদ্ধান্তের প্রতারণা, দুর্নীতি অথবা অন্যান্য গুরুতর ত্রুটির যুত্তিসংগত সন্দেহ বা প্রমাণ বিদ্যমান রহিয়াছে। (৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন আপীল শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে দায়ের করিতে হইবে এবং দায়ের হইবার ৩০ দিনের মধ্যে আপীল ট্রাইব্যুনাল উক্ত আপীল নিষ্পত্তি করিবে; এবং আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং পক্ষগণের মধ্যে উহা বাধ্যকর হইবে।
Section ৮২. যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি ও সমিতির উল্লেখে কমিটির অন্তর্ভুক্তি
প্রসঙ্গে ভিন্নরূপ আবশ্যক না হইলে, এই আইনের তৃতীয় ও চতুর্থ অধ্যায়ের যেখানে ‘‘যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি’’ ও ‘‘শ্রমিক কল্যাণ সমিতি’’ এর উল্লেখ আছে সেইখানে শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব ও কল্যাণ কমিটিও অন্তর্ভুক্ত হইবে।
Section ৮৩. শ্রমিক কল্যাণ সমিতির অবর্তমানে নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক বেতন, ইত্যাদি নির্ধারণ
কোন এলাকার কোন শিল্প ইউনিট বা একই মালিকের অধীনে শিল্প ইউনিটসমূহে যৌথ দর-কষাকষি এজেন্ট হিসাবে কোন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি বিদ্যমান না থাকিলে, নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক উহার শ্রমিকগণের মজুরী, কর্মঘন্টা, বেতন, অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি এবং চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি সম্পর্কিত ন্যূনতম মানদন্ড নির্ধারিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন এলাকার কোন শিল্প ইউনিটে যে ক্ষেত্রে কোন নিবন্ধিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতি থাকিবে সেখানে নিয়োজিত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কেবল প্রবেশ পর্যায়ে প্রযোজ্য প্রারম্ভিক সর্বনিম্ন মজুরী প্রযোজ্য হইবে এবং মজুরী সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াদি, যথাঃ মজুরী বৃদ্ধি, পদোন্নতি অথবা অন্যান্য বর্ধিত সুবিধাদি মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সমিতির মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে হইবে।
Section ৮৪. গণভোট ও নির্বাচনের পরিবীক্ষণ
(১) বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ, মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ এবং নিরপেক্ষ উৎস হইতে নির্বাচিত বা মনোনীত প্রতিনিধিগণ এই আইনের কোন বিধানের অধীন অনুষ্ঠেয় কোন নির্বাচন কিংবা গণভোট নিরপেক্ষভাবে পরিবীক্ষন করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নির্বাচন কিংবা গণভোট পরিবীক্ষণের নিমিত্ত পদ্ধতি এবং অন্যান্য বিষয়াদি কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করিবে।
(৩) কোম্পানী বা মালিকগণ এই আইনের অধীন কোন গণভোট বা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবার পূর্বে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি সম্পর্কিত গণভোট বা নির্বাচনে ভোট প্রদান করিতে যোগ্য শ্রমিকগণের তালিকা নির্বাহী চেয়ারম্যানকে সরবরাহ করিবে।
(৪) কোম্পানী বা মালিকগণ উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত শ্রমিকগণের তালিকা সংশ্লিষ্ট কারখানায় প্রকাশ্য স্থানে দৃশ্যমানভাবে গণভোট বা নির্বাচনের পূর্ববর্তী ৭২ ঘণ্টার জন্য লটকাইয়া রাখিবেন।
(৫) শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধন সম্পর্কিত নির্বাচন বা গণভোট এমন সময়ে ও স্থানে করিতে হইবে যাহাতে শ্রমিকগণ ভোট প্রদান করিতে বাধাগ্রস্ত না হন।
(৬) শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নির্বাচনের জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন এবং উক্ত নির্বাচন চূড়ান্তভাবে পরিসমাপ্ত হইবার পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে কোন পক্ষ কর্তৃক কোনরূপ ভীতি প্রদর্শন বা প্রতিশোধের হুমকি প্রদর্শন করা যাইবে না।
(৭) শ্রমিক কল্যাণ সমিতির নিবন্ধন সম্পর্কিত নির্বাচন সম্পর্কে শিল্প ইউনিটের প্রাঙ্গণে বা ইহার কর্মকালীন সময়ে কোন পক্ষ কর্তৃক কোন প্রকার প্রচারণা চালানো যাইবে না এবং কোন বিশেষ বা সাধারণ সভা শিল্প ইউনিটের প্রাঙ্গণে এবং ইউনিটের কর্মকালীন সময়ে আহবান করা বা পরিচালনা করা যাইবে না।
Section ৮৫. নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক সময় বর্ধিতকরণ
এই আইনের কোন বিধানের অধীন করণীয় কোন কাজ বা পালনীয় কোন কর্তব্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে করা বা পালন করা সম্ভব না হইলে, নির্বাহী চেয়ারম্যান যুক্তিসংগত কারণে উক্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।
Section ৮৬. নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক ক্ষমতা অর্পণ
কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে, নির্বাহী চেয়ারম্যান এই আইনের অধীন তাঁহার কোন ক্ষমতা তাঁহার অধঃস্তন কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
Section ৮৭. জনসেবক
নির্বাহী চেয়ারম্যান, মীমাংসাকারী, ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্য এবং ইপিজেড শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালের সদস্য দন্ড বিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ২১ ধারার অধীন সরকারি কর্মচারী হিসাবে গণ্য হইবেন।
Section ৮৮. তহবিল গঠন
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ইপিজেড শ্রম ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা এবং ইপিজেড শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য বিচারকসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ, মীমাংসাকারী নিয়োগ, সালিসকারী নিয়োগ ও কাউন্সিলর নিয়োগের বেতন ভাতাসহ প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক ব্যয় নির্বাহের জন্য বিনিয়োগকারীদের নিকট হইতে সংগৃহীত অনুদানের মাধ্যমে একটি তহবিল গঠন করা হইবে এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান অনুদান সংগ্রহের পদ্ধতি নির্ধারণ করিবেন।
Section ৮৯. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি পরিচালনা
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের উপর, এই আইনের পরিচালনার এবং এলাকাসমূহে শ্রমিকগণের অধিকার এবং শিল্প সম্পর্কিত বিষয়াদি পরিচালনার ভার অর্পিত থাকিবে।
Section ৯০. বিধি ও প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৯১. মূল পাঠ এবং ইংরেজী পাঠ
এই আইনের মূল পাঠ বাংলাতে হইবে এবং সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ইংরেজীতে অনূদিত উহার একটি নির্ভরযোগ্য (Authentic English Text) পাঠ প্রকাশ করিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
Section ৯২. রহিতকরণ ও হেফাজত সংক্রান্ত বিধান
(১) ইপিজেড শ্রমিক সংঘ ও শিল্প সম্পর্ক আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৩ নং আইন), অতঃপর উক্ত রহিত আইন বলিয়া অভিহিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত রহিত আইনের অধীন কৃত কোন কার্যক্রম অথবা গৃহীত কোন ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) উক্ত রহিত আইনের ধারা ৫ এর অধীন গঠিত শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব ও কল্যাণ কমিটি কর্তৃপক্ষের নিকট নিবন্ধিত হইবার তারিখ হইতে ৪ (চার) বৎসরের জন্য বলবৎ থাকিবে।