কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহস্থালী কাজের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে উহাদের উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণনের নিমিত্ত দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে, এবং প্রয়োজনে, বিদেশ হইতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী আমদানী করিবার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানী সম্পর্কিত খনিজ পদার্থের দ্রুত আহরণ ও ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নিমিত্ত অনুসরণীয় বিশেষ বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন। যেহেতু দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর ঘাটতি চরমভাবে বিরাজ করিতেছে; এবং যেহেতু জ্বালানীর সরবরাহের স্বল্পতাহেতু বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হইতেছে না; এবং যেহেতু বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর ঘাটতিজনিত কারণে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহস্থালী কাজকর্ম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হইতেছে এবং উক্ত খাতসমূহে কাঙ্খিত বিনিয়োগ হইতেছে না; এবং যেহেতু বিদ্যুতের অপর্যাপ্ত সরবরাহের জন্য উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নূতন সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, প্রযুক্তির বিকাশ, দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী, কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হইতেছে এবং জন জীবনে অস্বস্তি বিরাজ করিতেছে; এবং যেহেতু বর্তমানে প্রচলিত আইনের অধীন প্রতিপালনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর ঘাটতি এবং অপর্যাপ্ততা নিরসন সময় সাপেক্ষ; এবং যেহেতু বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর ঘাটতি এবং অপর্যাপ্ততা দ্রুত নিরসন একান্ত অপরিহার্য; এবং যেহেতু কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহস্থালী কাজের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে উহাদের উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণনের নিমিত্ত দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে, এবং প্রয়োজনে, বিদেশ হইতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী আমদানী করিবার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানী সম্পর্কিত খনিজ পদার্থের দ্রুত আহরণ ও ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নিমিত্ত অনুসরণীয় বিশেষ বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
(১) এই আইন বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
(২) পূর্বেই রহিত বা মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হইলে, এই আইন কার্যকর হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী [১৬ (ষোল) বৎসর] মেয়াদে কার্যকর থাকিবে।
(১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(২) এই আইনে ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বা অভিব্যক্তির সংজ্ঞা দেওয়া হয় নাই, সেই সকল শব্দ বা অভিব্যক্তি বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪০ নং আইন), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ১৩ নং আইন), খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ (১৯৯২ সনের ৩৯ নং আইন) এবং Electricity Act, 1910 (Act IX of 1910) এ যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে প্রযোজ্য হইবে।
সরকার এবং সরকারি মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন সকল প্রতিষ্ঠান, এই আইনের অধীন বিদ্যুৎ বা জ্বালানীর দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণন সংক্রান্ত যে কোন পরিকল্পনা গ্রহণ বা বিদেশ হইতে বিদ্যুৎ বা জ্বালানীর আমদানী ও উহার সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণন সংক্রান্ত যে কোন পরিকল্পনা গ্রহণ ও উহার দ্রুত বাস্তবায়নের নিমিত্ত যে কোন প্রস্তাব গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে গৃহীত যে কোন পরিকল্পনা ও প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, সরকার, উক্ত পরিকল্পনার টেকনিক্যাল ও অন্যান্য বিষয়ের সহিত সামঞ্জস্য বজায় রাখিয়া উক্ত টেকনিক্যাল ও অন্যান্য বিষয়ের উপর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে প্রক্রিয়াকরণ কমিটি গঠন করিবে এবং উক্ত কমিটি পরিকল্পনাটির প্রাথমিক পর্যায় হইতে প্রস্তাব প্রণয়ন এবং ক্ষেত্র অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত বা সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের পর্যায় না আসা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংরক্ষণ করিবে।
(২) প্রক্রিয়াকরণ কমিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট যে কোন প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগাযোগ, আলোচনা ও দর কষাকষির মাধ্যমে উক্ত প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ জনস্বার্থ সংরক্ষণ হয় এইরূপ সুপারিশ সম্বলিত প্রস্তাব প্রণয়ন করিবে।
(১) প্রতিটি ক্রয় এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনা বা প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিতভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করিয়া উহাতে অংশগ্রহণ করিবার জন্য অনুরোধ করিতে পারিবে, যথাঃ-
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীর সম্মতি গ্রহণক্রমে যে কোন ক্রয়, বিনিয়োগ পরিকল্পনা বা প্রস্তাব ধারা ৫ এ বর্ণিত প্রক্রিয়াকরণ কমিটি সীমিত সংখ্যক অথবা একক কোন প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগাযোগ ও দরকষাকষির মাধ্যমে উক্ত কাজের জন্য মনোনীত করিয়া ধারা ৭ এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণে অর্থনৈতিক বিষয় বা সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রেরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(১) ধারা ৫ এর অধীন প্রক্রিয়াকরণ কমিটি কতৃর্ক প্রণীত প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট বিভাগ এতদ্সংক্রান্ত পদ্ধতি অনুসরণক্রমে, ক্ষেত্র অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বিষয় বা সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করিবে।
(২) অর্থনৈতিক বিষয় বা সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কতৃর্ক প্রস্তাবটি অনুমোদিত হইলে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগ উহার যথাযথ বাসত্মবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(৩) অর্থনৈতিক বিষয় বা সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি সুপারিশসহ ফেরত প্রদান করিলে, উহা প্রক্রিয়াকরণ কমিটিতে উপস্থাপন করিতে হইবে এবং মন্ত্রিসভা কমিটির নির্দেশনা বিবেচনাক্রমে প্রক্রিয়াকরণ কমিটি উহার সিদ্ধান্ত গ্রহণক্রমে উহা মন্ত্রিসভা কমিটির পুনঃবিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করিবে।
কমিটি কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে যে কোন ব্যক্তি, কোন সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার সহযোগিতা চাহিতে পারিবে।
এই আইনের অধীন কৃত, বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোন কার্য, গৃহীত কোন ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতের নিকট প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি, সাধারণ বা বিশেষ আদেশের অধীন দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে কৃত, বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোন কার্যেও জন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন প্রকার আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রয়োজনে, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, এই আইনের বিধানের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, যে কোন কার্যক্রম গ্রহণ ও সম্পাদন সম্পর্কিত বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের কোন বিধানের অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে, সরকার, এই আইনের অন্যান্য বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা দিতে পারিবে।
এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের নির্ভরযোগ্য ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
এই আইনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও, এই আইনের অধীন কৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এমনভাবে অব্যাহত থাকিবে ও পরিচালিত হইবে যেন এই আইনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় নাই।