কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে গমনেচ্ছু বাংলাদেশী বেকার যুবকদের সহায়তা প্রদান, প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশে প্রত্যাগমনের পর কর্মসংস্থানের সহায়তা প্রদান, প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণ এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী পন্থায় সহজে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে গমনেচ্ছু বাংলাদেশী বেকার যুবকদের সহায়তা প্রদান, প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশে প্রত্যাগমনের পর কর্মসংস্থানের সহায়তা প্রদান, প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণ এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী পন্থায় সহজে রেমিট্যান্স প্রেরণ প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নামে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
(১) এই আইন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘কল্যাণ তহবিল’’ অর্থ The Emigration Ordinance, 1982 (Ordinance No. XXIX of 1982) এর section 19 এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার কতৃর্ক প্রণীত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল বিধিমালা, ২০০২ এর অধীন গঠিত বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল;
(২) ‘‘কর্মকর্তা’’ অর্থ ব্যাংকের কর্মকর্তা;
(৩) ‘‘কর্মচারী’’ অর্থ ব্যাংকের কর্মচারী;
(৪) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;
(৫) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৬) ‘‘পরিচালক’’ অর্থ ব্যাংকের পরিচালক;
(৭) ‘‘ব্যাংক’’ অর্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক;
(৮) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড;
(৯) ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংক’’ অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(President”s Order No. 127 of 1972)এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংক;
(১০) ‘‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’’ অর্থ ধারা ১২ এর অধীন নিযুক্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক;
(১১) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; এবং
(১২) ‘‘ব্যাংক কোম্পানী আইন’’ অর্থ ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন)।
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলীর সাথে অন্য আইনের কোন বিরোধ দেখা দিলে এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নামে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হইবে।
(২) ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলী সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয়বিধ সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
(৩) বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের অনুমোদনক্রমে, কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন, ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী হিসাবে নিবন্ধিত হইতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৫) এর বিধান সাপেক্ষে, ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এবং ব্যাংক কোম্পানী সম্পর্কিত আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের বিধান ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(৫) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এবং ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) বা অনুরূপ অন্য কোন আইনের কোন বিধান ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে বলিয়া নির্দেশ জারী করিলে উক্ত বিধান ব্যাংকের ক্ষেত্রে কার্যকর হইবে।
(৬) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকটি বাণিজ্যিক এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে।
(৭) বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদক্রমে, প্রয়োজনে, Bangladesh Bank Order, 1972
(President”s Order No. 127 of 1972) ) এর অধীন ব্যাংকটি তফসিলি ব্যাংকে রূপান্তর করা যাইবে।
ব্যাংকের উদ্যোক্তা হইবে সরকার ও কল্যাণ তহবিল পরিচালনার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল বিধিমালা, ২০০২ এর অধীন গঠিত পরিচালনা বোর্ড।
(১) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে, বোর্ড কতৃর্ক নির্ধারিত স্থানে উহার আঞ্চলিক অফিস, অন্যান্য অফিস এবং শাখা স্থাপন করিতে পারিবে।
(৩) সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমোদক্রমে বিদেশে ব্যাংকের শাখা স্থাপন করিতে পারিবে।
(১) ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হইবে পাঁচশত কোটি টাকা।
(২) অনুমোদিত মূলধন একশত টাকা মূল্যমানের পাঁচ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত থাকিবে।
(৩) ব্যাংক, সরকারের অনুমোদনক্রমে সময়ে সময়ে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ মূল্যমান অপরিবর্তিত রাখিয়া বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(১) ব্যাংকের প্রারম্ভিক পরিশোধিত মূলধন হইবে একশত কোটি টাকা, যাহার ৫% সরকার কর্তৃক এবং ৯৫% কল্যাণ তহবিল হইতে পরিশোধ করা হইবে।
(২) বোর্ডের অনুমোদনক্রমে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পরিশোধিত মূলধনের অতিরিক্ত মূলধন প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট হইতে সংগ্রহ করা যাইবে।
(৩) ব্যাংক, সরকারের অনুমোদনক্রমে সময়ে সময়ে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ মূল্যমান অপরিবর্তিত রাখিয়া বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(১) ব্যাংকের পরিচালনা ও প্রশাসন এই আইনের অধীন গঠিত পরিচালনা বোর্ড এর উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ব্যাংক যে সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) ব্যাংক কোন নীতিগত প্রশ্নে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশাবলী অনুসরণ করিবে এবং কোন বিষয় নীতিগত কিনা সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্ন দেখা দিলে উহাতে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
(১) নিম্নবর্ণিত পরিচালক সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড গঠিত হইবে, যথাঃ-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন মনোনীত কোন পরিচালক তাঁহার পদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে তিন বৎসর পর্যন্ত স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।
(৩) সরকার যে কোন সময় কোন মনোনীত পরিচালকের মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে।
(১) ব্যাংকের একজন চেয়ারম্যান থাকিবেন।
(২) চেয়ারম্যান সরকার কতৃর্ক নিযুক্ত হইবেন।
(৩) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন পরিচালক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকিবেন।
(২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে।
(৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন।
(৪) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত বোর্ড কর্তৃক মনোনীত কোন কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য পরিচালকগণ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করিবেন।
চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা কোন পরিচালক সরকারের নিকট তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(১) বোর্ডের সকল সভা, উহার চেয়ারম্যানের নির্দেশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্তৃক আহুত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারম্যান কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে।
(২) এই ধারা বিধান সাপেক্ষে, বোর্ডের সভার কার্যধারা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মূলতবি সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত পরিচালকদের মধ্য হইতে তাঁহাদের দ্বারা নির্বাচিত, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যতিত, অন্য একজন পরিচালক সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) শুধু কোন পরিচালক পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(৬) সভার কোন আলোচ্যসূচীতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন পরিচালকের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকিলে তিনি বোর্ডের সভায় উক্ত বিষয়ের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করিতে পারিবেন না।
বোর্ড উহার কাজের সহায়তার জন্য প্রয়োজনবোধে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা ও উহার দায়িত্ব ও কার্যাবলী নির্ধারণ করিতে পারিবে।
ব্যাংকের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
(১) ব্যাংক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বন্ড এবং ঋণপত্র (debenture) জারী এবং বিক্রয় করিতে পারিবে এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সুদের হারই হইবে উক্ত বন্ড ও ঋণপত্রের সুদের হার।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত এবং বিক্রিত বন্ড এবং ঋণপত্রে সরকারি নিশ্চয়তা থাকিবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় জারীকৃত নির্দেশাবলী সাপেক্ষে আয় ও ব্যয়ের হিসাব ও ব্যালেন্স শীটসহ ব্যাংক যথাযথভাবে উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্ত্তত করিবে।
(১) বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P.O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত দুইজন Chartered Accountant দ্বারা ব্যাংকের হিসাব প্রত্যেক বৎসর নিরীক্ষা করা হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগকৃত নিরীক্ষককে ব্যাংকের বার্ষিক ব্যালেন্স শীট ও অন্যান্য হিসাবের কপি সরবরাহ করা হইবে এবং তাঁহারা ব্যাংকের সকল রেকর্ড, দলিল, দাপ্তরিক ও অন্যান্য সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং এতদুদ্দেশ্যে ব্যাংকের যে কোন পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৩) নিরীক্ষকগণ এই ধারার অধীন নিরীক্ষা প্রতিবেদন বোর্ডের মাধ্যমে সরকারের নিকট পেশ করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদনে এই মর্মে উল্লেখ করিতে হইবে যে, তাঁহাদের মতে বার্ষিক ব্যালেন্স শীটে এমন প্রয়োজনীয় বিবরণাদি সন্নিবেশিত করা হইয়াছে এবং উহা এমনভাবে প্রস্তুত করা হইয়াছে যাহাতে ব্যাংকের কার্যক্রমের যথার্থ এবং সঠিক চিত্র প্রদর্শিত হয় এবং এই সকল বিষয়ে ব্যাংকের নিকট হইতে তাঁহারা কোন ব্যাখ্যা বা তথ্য চাহিয়া থাকিলে উহার সরবরাহ সন্তোষজনক ছিল কিনা তাহাও উল্লেখ করিবেন।
(৪) ব্যাংকের উদ্যোক্তা এবং ব্যাংকে অর্থ জমাকারীদের স্বার্থ রক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে কিনা তাহা নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করিতে হইবে।
(৫) ব্যাংকের কার্যক্রম নিরীক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের পর্যাপ্ততা সম্পর্কে নিরীক্ষকগণের নিকট প্রতিবেদন চাহিয়া সরকার অথবা ক্ষেত্রমত, বোর্ড যে কোন সময় নির্দেশ জারী করিতে পারিবে এবং যে কোন সময় সরকার অথবা ক্ষেত্রমত, বোর্ড নিরীক্ষার বিষয়াদি সম্প্রসারণ অথবা নিরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন করিবার জন্য নিরীক্ষকগণকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১) সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রয়োজনমত, ব্যাংকের নিকট হইতে ব্যাংকের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং ব্যাংক সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক প্রতিবেদন বা বিবরণী প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(২) প্রত্যেক আর্থিক বৎসর শেষ হইবার তিন মাসের মধ্যে ব্যাংক ধারা ২০ এর অধীন নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি কপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে এবং উহাতে নিরীক্ষকের মন্তব্য, যদি থাকে, তৎভিত্তিতে ব্যাংকের মতামত প্রদান করিবে।
ব্যাংক একটি সংরক্ষিত তহবিল গঠন করিবে, যাহাতে ব্যাংকের বার্ষিক আয় হইতে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা হইবে।
ধারা ২২ এর অধীন সংরক্ষিত তহবিলে জমা করিবার এবং পরিশোধ বন্ধ হইয়াছে বা উহা সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে এমন ঋণ, সম্পদের ঘাটতি এবং সচরাচর ব্যাংক কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত অনুরূপ অন্যান্য ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা করিবার পর ব্যাংকের লভ্যাংশ বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিল-বন্টন করা যাইবে।
(১) ব্যাংক উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে, তবে প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কতৃর্ক নির্ধারিত হইবে।
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংকের পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৮নং আইন) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
ব্যাংকের দক্ষতা নিশ্চিতকরণকল্পে এবং দৈনন্দিন ব্যবসায়িক লেনদেন কার্যক্রম সহজতর করিবার জন্য বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট শর্তে পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা ব্যাংকের অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(১) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন ঋণ বা অন্য কোন সুবিধা গ্রহণ বা মঞ্জুর করাইবার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবরণ প্রদান করিবেন না বা কাহাকেও মিথ্যা বিবরণ প্রদানে বা জামানত হিসাবে ব্যাংকে জমাকৃত দলিলে মিথ্যা বিবরণ রাখিবার সুযোগ প্রদান করিবেন না।
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি ব্যাংকের লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে কোন বিজ্ঞাপন বা প্রসপেক্টাসে ব্যাংকের নাম ব্যবহার করিবেন না।
(৪) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (৩) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড বা পঁচিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।
ব্যাংকের কোন পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হইলে বা ক্ষতিগ্রস্থ হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সংশ্লিষ্ট পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর রিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।
(১) ব্যাংকের প্রত্যেক পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাহার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে ব্যাংক কর্তৃক বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যাংকের আনুগত্য ও গোপনীয়তা রক্ষার ঘোষণা প্রদান করিবেন।
(২) কোন পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আনুগত্য ও গোপনীয়তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিলে দন্ডণীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ছয় মাসের কারাদন্ড বা পঁচিশ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এর বিধান অনুসারে ‘‘কারখানা’’, ‘‘দোকান’’, ‘‘বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান’’ বা ‘‘শিল্প প্রতিষ্ঠান’’ বলিয়া গণ্য হইবে না।
এই আইনের উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।