পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০
জাতিসংঘ কর্তৃ ক ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ, ১৯৭৯ ও শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯ এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসাবে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত নারী ও শিশুর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ,পারিবারিক সহিংসতা হইতে নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন।
জাতিসংঘ কর্তৃ ক ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ, ১৯৭৯ ও শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯ এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসাবে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত নারী ও শিশুর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ,পারিবারিক সহিংসতা হইতে নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন। যেহেতু জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ, ১৯৭৯ ও শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯ এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসাবে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত নারী ও শিশুর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা হইতে নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম এবং প্রবর্তন
(১) এই আইন পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।
- এস, আর, ও নং ৪০৫-আইন/২০১০, তারিখ: ২৮ ডিসেম্বর, ২০১০ ইং দ্বারা ৩০ ডিসেম্বর, ২০১০ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
Section ২. সংজ্ঞা
- বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) "অর্ন্তব র্তীকালীন সুরক্ষা আদেশ" অর্থ ধারা ১৩ এর অধীন প্রদত্ত আদেশ;
(২) "অংশীদারী বাসগৃহ" অর্থ এমন বাসগৃহ
একত্রে বা পৃথকভাবে বসবাস করিত;
মালিকানা স্বত্ব ছিল বা উহাদের যে কোন একজন বা উভয়েই যৌথভাবে ভাড়া নিয়াছিল;
(৩) "আবেদন" অর্থ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি অথবা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন প্রতিকার লাভের জন্য আদালতে দাখিলকৃত কোন আবেদন;
(৪) "আশ্রয় নিবাস" অর্থ সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত আবাসিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত কোন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান অথবা আশ্রয় কেন্দ্র, যেখানে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি নিরাপদে সাময়িক সময়ের জন্য অবস্থান করিতে পারেন;
(৫) "ক্ষতিপূরণ আদেশ" অর্থ ধারা ১৬ এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ;
(৬) "সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি" অর্থ কোন শিশু বা নারী যিনি পারিবারিক সম্পর্ক থাকিবার কারণে পরিবারের অপর কোন সদস্য কতৃর্ক পারিবারিক সহিংসতার শিকার হইয়াছেন বা হইতেছেন বা সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যে রহিয়াছেন;
(৭) "নিরাপদ আশ্রয় স্থান" অর্থ সরকার কতৃর্ক অনুমোদিত অথবা আদালতের বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য নিরাপদ বলিয়া বিবেচিত এমন কোন আশ্রয় বা গৃহ, যাহা কোন ব্যক্তি বা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়;
(৮) "নিরাপদ হেফাজত আদেশ" অর্থ ধারা ১৭ এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ; (৯) "নারী" অর্থ যে কোন বয়সের নারী;
(১০) "পরিবার" অর্থ রক্ত সম্বন্ধীয় বা বৈবাহিক সম্পর্কীয় কারণে অথবা দত্তক বা যৌথ
পরিবারের সদস্য হইবার কারণে যাহারা অংশীদারী বাসগৃহে একত্রে বসবাস করেন অথবা বসবাস করিতেন;
(১১) "পারিবারিক সম্পর্ক" অর্থ রক্ত সম্বন্ধীয় বা বৈবাহিক সম্প র্কীয় কারণে অথবা দত্তক বা যৌথ পরিবারের সদস্য হইবার কারণে প্রতিষ্ঠিত কোন সম্পর্ক;
(১২) "পারিবারিক সহিংসতা" অর্থ ধারা ৩ এ পারিবারিক সহিংসতা অভিব্যক্তিটি যে অর্থেব্যবহৃত হইয়াছে;
(১৩) "প্রতিপক্ষ" অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যাহার বিরুদ্ধে এই আইনের অধীন কোন আবেদন দাখিল বা প্রতিকার প্রার্থনা করা হইয়াছে;
(১৪) "প্রয়োগকারী কর্মকর্তা" অর্থ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা সরকার কতৃর্ক ধারা ৫ অনুসারে নিযুক্ত কোন কর্মকর্তা;
(১৫) "ফৌজদারী কার্যবিধি" অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898); (১৬) "বসবাস আদেশ" অর্থ ধারা ১৫ এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ;
(১৭) "বিধি" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১৮) "শিশু" অর্থ আঠার বৎসর বয়স পূর্ণ হয় নাই এমন কোন ব্যক্তি;
(১৯) "সুরক্ষা আদেশ" অর্থ ধারা ১৪ এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ।
Section ৩. পারিবারিক সহিংসতা
- এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পারিবারিক সহিংসতা বলিতে পারিবারিক সম্পর্ক রহিয়াছে এমন কোন ব্যক্তি কতৃর্ক পরিবারের অপর কোন নারী বা শিশু সদস্যের উপর শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন অথবা আর্থিক ক্ষতিকে বুঝাইবে।
ব্যাখ্যা : এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে-
আদেশ অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যে সকল আর্থিক সুযোগ-সুবিধা, সম্পদ বা সম্পত্তি লাভের অধিকারী উহা হইতে তাহাকে বঞ্চিত করা অথবা উহার উপর তাহার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান;
Section ৪. পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব ও কর্তব্য
যদি কোন পুলিশ অফিসার কোনভাবে পারিবারিক সহিংসতার সংবাদ প্রাপ্ত হন অথবা পারিবারিক সহিংসতা যে স্থানে ঘটিয়াছে সে স্থানে উপস্থিত থাকিবার কারণে পারিবারিক সহিংসতা সম্পর্কে তথ্য প্রাপ্ত হন, তাহা হইলে তিনি পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিকে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অবহিত করিবেন, যথাঃ-
Section ৫. প্রয়োগকারী কর্মকর্তা নিয়োগ
(১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ক্ষেত্রমত, প্রত্যেক উপজেলা, থানা, জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য এক বা একাধিক প্রয়োগকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে এবং প্রয়োগকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য তাহাদের অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।
(২) প্রয়োগকারী কর্মকর্তার নিয়োগ পদ্ধতি এবং চাকুরীর শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ৬. প্রয়োগকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্তব্য
(১) প্রয়োগকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
২। প্রয়োগকারী কর্মকর্তা আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকিয়া সরকার বা আদালতের নির্দেশ এবং এই আইন অনুসারে তাঁহার উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদন করিবে।
Section ৭. সেবা প্রদানকারী এবং উহাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
(১) এই আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধির বিধান সাপেক্ষে, Societies Registration Act, 1860 (Act No.XXI of 1860) এর অধীন নিবন্ধিত কোন স্বেচ্ছাসেবী সমিতি, Voluntary Social Welfare Agencies (Registration and Control) Ordinance, 1961 (Ordinance No. XLVI of 1961) অথবা কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিবন্ধিত কোন অলাভজনক কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান অথবা Foreign Donations (Voluntary Activities) Regulation Ordinance, 1978 (Ordinance No. XLVI of 1978) এর অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত কোন অলাভজনক সংস্থা বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান, যাহা আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত এবং যাহার উদ্দেশ্যাবলীর মধ্যে মানবাধিকার বিশেষতঃ মহিলা ও শিশুদের স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণ অন্তর্ভুক্ত এবং যাহা উক্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নার্থে আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, আর্থিক বা অন্যকোন সহায়তা প্রদানের নিমিত্ত এই
আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করিয়াছে এইরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সেবা প্রদানকারী বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) সেবা প্রদানকারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
Section ৮. আশ্রয় নিবাসের দায়িত্ব
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে কোন পুলিশ অফিসার, প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, সেবা প্রদানকারী বা অন্য কোন ব্যক্তির অনুরোধের প্রেক্ষিতে আশ্রয় নিবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে আশ্রয় প্রদান করিবে।
Section ৯. চিকিৎসা সেবা প্রদানকারীর দায়িত্ব
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে কোন পুলিশ অফিসার, প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, সেবা প্রদানকারী বা অন্য কোন ব্যক্তির অনুরোধের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করিবে।
Section ১০. অংশীদারী বাসগৃহে বসবাসের অধিকার।
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির পারিবারিক সম্পর্ক থাকিবার কারণে অংশীদারী বাসগৃহে বসবাসের অধিকার থাকিবে।
Section ১১. আদালতে আবেদন
(১) সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে কোন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, সেবা প্রদানকারী বা অন্য কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রতিকার পাইবার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিটি আবেদন বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে আদালত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদন শুনানীর জন্য তারিখ নির্ধারণ করিবে।
Section ১২. আবেদন দাখিলের স্থান
এই আইনের অধীন কোন আবেদন নিম্নবর্ণিত স্থানের অধিক্ষেত্র সম্পন্ন কোন আদালতে দাখিল করা যাইবে-
Section ১৩. অন্তবর্তীকালীন সুরক্ষা আদেশ ও নোটিশ জারী
(১) ধারা ১১ এর অধীন কোন আবেদন প্রাপ্তির পর আদালত যদি আবেদন পত্রের সহিত উপস্থাপিত তথ্যাদি পর্যালোচনা করিয়া এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, প্রতিপক্ষ কর্তৃক বা তাহার প্ররোচনায় কোনরূপ পারিবারিক সহিংসতা ঘটিয়াছে বা ঘটিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, তাহা হইলে আদালত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে অন্তব র্তীকালীন সুরক্ষা আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং কেন স্থায়ী সুরক্ষা আদেশ প্রদান করা হইবে না, নোটিশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে, উহার কারণ দর্শাইবার জন্য প্রতিপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) রেজিস্টার্ড ডাকযোগে, জারী কারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নোটিশ জারী করা যাইবে।
Section ১৪. সুরক্ষা আদেশ
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ও প্রতিপক্ষকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, পারিবারিক সহিংসতা ঘটিয়াছে বা ঘটিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, তাহা হইলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির পক্ষে সুরক্ষা আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং প্রতিপক্ষকে নিম্নবর্ণিত কাজ করা হইতে বিরত থাকিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা :-
Section ১৫. বসবাস আদেশ
(১) সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত নিম্নরূপ বসবাস আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা :-
(২) অংশীদারী বাসগৃহের সম্পূর্ণ বা অংশ বিশেষ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির অনুকূলে দখলে রাখিবার আদেশ প্রদান করা হইলেও উক্ত আদেশ উক্ত বাসগৃহে প্রতিপক্ষের স্বত্ব ও স্বার্থকে ক্ষুন্ন করিবে না।
(৩) যদি আদালতের এই মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার জন্য প্রতিপক্ষকে অংশীদারী বাসগৃহ হইতে সাময়িকভাবে উচ্ছেদ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে আদালত প্রতিপক্ষকে অংশীদারী বাসগৃহ হইতে সাময়িক উচ্ছেদের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ আদেশ অকার্যকর হইবে, যদি-
(৪) আদালতের নিকট উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা তাহার সন্তান অথবা তাহার পরিবারের অন্য কোন সদস্যের নিরাপত্তার স্বার্থে অন্য যে কোন শর্ত আরোপ বা নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
(৫) প্রতিপক্ষকে জামানতসহ বা জামানত ব্যতীত এই মর্মে মুচলেকা সম্পাদনের আদেশ দিতে পারিবে যে, তিনি বা তাহার পরিবারের অন্য কোন সদস্য ভবিষ্যতে পারিবারিক সহিংসতামূলক কাজ করিবেন না।
(৬) উপ-ধারা (১), (২) অথবা (৩) এর অধীন আদেশ প্রদানের সময় আদালত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা তাহার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার লক্ষো সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৭) আদালত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির মালিকানাধীন যে কোন স্থাবর সম্পত্তি, স্ত্রীধন, উপহার সামগ্রী বা বিবাহের সময় অর্জিত যে কোন সম্পদ এবং অস্থাবর সম্পত্তি, মূল্যবান দলিল, সনদ এবং অন্য কোন সম্পদ বা মূল্যবান জামানত তাহাকে ফেরত প্রদান করিবার জন্য প্রতিপক্ষকে আদেশ দিতে পারিবে।
Section ১৬. ক্ষতিপূরণ আদেশ
(১) সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি হইলে বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকিলে, ধারা ১১ এর অধীন আবেদনের সহিত অথবা পরবর্তীতে পৃথক দরখাস্তের মাধ্যমে আদালতের নিকট ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে আদালত উক্ত আবেদন নিষ্পত্তি করিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পক্ষসমূহকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া, উপ-ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ আর্থিক ক্ষতিপূরণ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে প্রদানের জন্য প্রতিপক্ষকে আদেশ দিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন নিষ্পত্তির পূর্বে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদালত দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারিবে এবং ক্ষতিপূরণের আবেদন শুনানীর সময় আদালত নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিবে, যথা :-
(৫) আদালত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এবং তাহার সন্তানের ভরণ পোষণের জন্য, তিনি যেরূপ জীবনযাত্রার অভ্যস্ত সেইরূপ জীবনযাত্রার জন্য পর্যাপ্ত ও যুক্তিযুক্ত অর্থ প্রদানের জন্য প্রতিপক্ষকে আদেশ দিতে পারিবে।
(৬) আদালত উপযুক্ত মনে করিলে, এককালীন বা মাসিক পরিশোধযোগ্য ভরণপোষণের আদেশ দিতে পারিবে।
(৭) আদালত এই ধারার অধীন প্রদত্ত ক্ষতিপূরণ আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিবে, যাহার অধিক্ষেত্রের মধ্যে প্রতিপক্ষ সাধারণতঃ বসবাস করেন বা অবস্থান করেন।
(৮) প্রতিপক্ষ সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী হইলে ক্ষতিপূরণ আদেশের একটি অনুলিপি প্রতিপক্ষের ঊধবর্তন কতৃর্পক্ষ বরাবর প্রেরণ করিবে।
(৯) উপ-ধারা (৩) এর অধীন আদেশ অনুসারে প্রতিপক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হইলে, আদালত প্রতিপক্ষের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা যাহার অধীনে তিনি কর্মরত রহিয়াছেন তাহাকে উক্তরূপ ক্ষতিপূরণ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বরাবর পরিশোধের নিমিত্ত প্রতিপক্ষের মজুরী, বেতন বা অন্য কোন পাওনা হইতে নির্ধারিত অংশ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে সরাসরি অথবা তাহার ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১০) এই ধারার অধীন প্রদত্ত ক্ষতিপূরণ আদেশের অর্থ Public Demands Recovery Act, 1913(Bengal Act III of 1913)এর বিধান অনুযায়ী আদায় করা যাইবে।
Section ১৭. নিরাপদ হেফাজত আদেশ
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আদালত এই আইনের অধীন আবেদন বিবেচনার যে কোন পর্যায়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির সন্তানকে তাহার নিকট অথবা তাহার পক্ষে অন্য কোন আবেদনকারীর জিম্মায় অস্থায়ীভাবে সাময়িক নিরাপদ হেফাজতে রাখিবার আদেশ দিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে, উক্ত আদেশে প্রতিপক্ষ কর্তৃক উক্ত সন্তানের সহিত সাক্ষাৎ করিবার বিষয়টি উল্লেখ করা যাইবে।
Section ১৮. বিনা মূল্যে আদেশের অনুলিপি সরবরাহ
এই আইনের অধীন প্রদত্ত সকল আদেশের অনুলিপি আদালত পক্ষগণ, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রয়োগকারী কর্মকর্তা এবং প্রযোয্য ক্ষেত্রে, সেবা প্রদানকারী কে বিনা মূল্যে সরবরাহ করিবে।
Section ১৯. আদেশের মেয়াদ ও সংশোধন, ইত্যাদি
(১) ধারা ১৪ এর অধীন প্রদত্ত সুরক্ষা আদেশ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কর্তৃক উহা প্রত্যাহারের আবেদন না করা এবং আদালত কর্তৃক গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে।
(২) সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিপক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনের প্রেক্ষিতে পক্ষগণকে শুনানীর সুযোগ দিয়া আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই আইন অনুসারে প্রদত্ত কোন আদেশ পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন বা বাতিল করা প্রয়োজন, তাহা হইলে আদালত উপযুক্ত বিবেচনায় লিখিত কারণ উল্লেখপূর্বক আদেশ সংশোধন করিতে পারিবে।
Section ২০. আবেদন নিষ্পত্তি
(১) এই আইনের অধীন প্রতিটি আবেদন, ধারা ১৬ এর অধীন ক্ষতিপূরণ আদেশের আবেদন ব্যতীত, নোটিশ জারীর তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের মধ্যে আদালত নিষ্পত্তি করিবে।
(২) কোন অনিবার্য কারণে উপ-ধারা (১) উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কোন আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে, আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অতিরিক্ত ১৫ (পনের) কার্য দিবসের মধ্যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করিবে এবং তদসম্পর্কে লিখিতভাবে আপীল আদালতকে অবহিত করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত বর্ধিত সময়ের মধ্যেও যদি যুক্তিসঙ্গত কারণে কোন আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য আরো ৭ (সাত) কার্য দিবস সময় নিতে পারিবে এবং এইরূপ সময় বর্ধিতকরণ সম্পর্কে লিখিতভাবে আপীল আদালতকে অবহিত করিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত বর্ধিত সময়ের মধ্যেও কোন আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে, আদালত যথাশীঘ্র সম্ভব আবেদনটি নিষ্পত্তি করিবে এবং নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ৭ (সাত) দিন অন্তর অন্তর আবেদনটির নিষ্পত্তির প্রতিবেদন লিখিতভাবে আপীল আদালতকে অবহিত করিবে, তবে আপীল আদালত যে কোন পক্ষ কর্তৃক আবেদন অথবা স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে আবেদনটি এখতিয়ার সম্পন্ন অন্য কোন আদালতে স্থানান্তর করিতে পারিবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) অধীন কোন আবেদন স্থানান্তর করা হইলে উহা অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পত্তি করিতে হইবে এবং যে পর্যায়ে আবেদনটি স্থানান্তরিত হইয়াছে সে পর্যায় হইতে উহার কার্যক্রম পরিচালনা করা হইবে, যেন উক্ত আদালতে আবেদনটি ঐপর্যায়ে নিষ্পন্নাধীন ছিল এবং ইহা কখনও স্থানান্তরিত হয় নাই।
Section ২১. বিচার
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন দাখিলকৃত আবেদন বা অপরাধের বিচার বা কার্যধারার নিষ্পত্তি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
(২) ক্ষতিপূরণ আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কোন নির্দিষ্ট সীমা থাকিবে না।
Section ২২. বিচারের কার্যপদ্ধতি
(১) এই আইনের অধীন কোন আবেদন বা অপরাধের বিচার বা কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
(২) এই আইনের অধীন আবেদন অপরাধের বিচার বা কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XXII অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি প্রযোজ্য হইবে ।
Section ২৩. নিভৃত কক্ষে বিচার কার্যক্রম
সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের সম্মতির ভিত্তিতে অথবা আদালত স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন বিচার কার্যক্রম রুদ্বদ্বার কক্ষে (trial in camera)করিতে পারিবে।
Section ২৪. সরেজমিনে তদন্ত
কোন আবেদন বা কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আদালত পক্ষগণকে অবহিত করিয়া ঘটনার সত্যতা নিরূপনের নিমিত্ত সরেজমিনে তদন্তের আদেশ দিতে পারিবে এবং উক্তরূপ তদন্ত কাজ আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে।
Section ২৫. আদেশ জারী
(১) আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন আদেশ ফৌজদারী কার্যবিধিতে উল্লেখিত পদ্ধতি অনুসরণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের নিকট জারীর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) এই আইনের অধীন প্রদত্ত যে কোন আদেশ জারীকারক বা পুলিশ বা প্রয়োগকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে জারি করা যাইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতারী পরোয়ানা পুলিশ কর্তৃক তামিল করিতে হইবে।
(৩) জারীকারক বা পুলিশ বা প্রয়োগকারী কর্মকর্তা জারীকরণের উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত আদেশের অনুলিপি ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে জারী করিবেন এবং জারী সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রত্যয়নসহ আদালতে প্রেরণ করিবেন।
(৪) প্রয়োজনে, উক্তরূপ জারীর সহিত রেজিস্টার্ড ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বা আদেশ ক্ষেত্রমত, নোটিশ জারী করা যাইবে, এইরূপ একাধিক পদ্ধতিতে জারীর ক্ষেত্রে খরচ আবেদনকারী বহন করিবেন।
Section ২৬. প্রতিপক্ষের অনুপস্থিতিতে বিচার
(১) প্রতিপক্ষের প্রতি উপস্থিতির জন্য নোটিশ জারী করা হইলেও প্রতিপক্ষ যদি আদালতে উপস্থিত না হন বা একবার উপস্থিত হইয়া পরবর্তীতে আর উপস্থিত না হন, তাহা হইলে আদালত প্রতিপক্ষের অনুপস্থিতিতে নিষ্পন্নাধীন আবেদন এক তরফাভাবে নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।
(২) আদালতে উপস্থিতির জন্য প্রতিপক্ষের প্রতি নোটিশ জারী করা হইলে, তিনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হইলে বা একবার উপস্থিত হইয়া পরবর্তীতে আর উপস্থিত না হইলে আদালত তাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করিতে পারিবে।
Section ২৭. আবেদন খারিজ
আবেদনকারীর অনুপস্থিতির কারণে কোন আবেদন খারিজ হইলে যে আদালত কর্তৃক আবেদনটি খারিজ করা হইয়াছে সেই আদালত আবেদনকারীর আবেদনের ভিত্তিতে এবং যুক্তিসংগত বলিয়া বিবেচিত হইলে খারিজকৃত আবেদন যে পর্যায়ে খারিজ হইয়াছে সেই পর্যায় হইতে আবেদন পুনরম্নজ্জীবিত করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে আবেদন খারিজের ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে উক্তরূপ আবেদন করিতে হইবে এবং একবারের অধিক আবেদন করা যাইবে না।
Section ২৮. আপীল
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আপীল আদালত হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) এই আইনের অধীন প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে যে কোন সংক্ষুব্ধ পক্ষ আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপীল করিতে পারিবে।
(৩) আপীল দায়েরের ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের মধ্যে আপীল আবেদন নিষ্পত্তি করিতে হইবে এবং উপযুক্ত কারণ ব্যতীত আপীল একাধিকবার বদলী করা যাইবে না।
Section ২৯. আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা এবং আপোষযোগ্যতা
এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং আপোষযোগ্য হইবে।
Section ৩০. সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘনের শাস্তি
প্রতিপক্ষ কতৃর্ক সুরক্ষা আদেশ বা উহার কোন শর্ত লঙ্ঘন করিলে উহা অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬(ছয়) মাস কারাদন্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং অপরাধ পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদন্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।
Section ৩১. সমাজকল্যাণমূলক কাজে সেবা প্রদান
(১) আদালতের নিকট উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইলে প্রতিপক্ষকে ধারা ৩০ এর অধীন শাস্তি প্রদান না করিয়া নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন ধরণের সমাজকল্যাণমূলক কাজে সেবা প্রদানের জন্য আদেশ দিতে পারিবে এবং উক্তরূপ সেবা প্রদানের বিষয়টি তত্ত্বাবধায়নের জন্য যে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে দায়িত্ব প্রদান করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সমাজকল্যাণমূলক কাজের সেবা প্রদানের জন্য প্রতিপক্ষ কর্তৃক উপার্জিত আয়ের মধ্য হইতে আদালত যেরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ পরিমাণ অর্থ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এবং ক্ষেত্রমত, তাহার সন্তান বা তাহার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিকে প্রদানের আদেশ দিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এবং (২) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করা যাইবে।
Section ৩২. মিথ্যা আবেদন করিবার শাস্তি
যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে এই আইনের অধীন আবেদন করিবার আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও আবেদন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদন্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।
Section ৩৩. জনসেবক
এই আইনের অধীন কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োগকারী কর্মকর্তা Penal Code, 1860 এর section 21 এর জনসেবক (Public servant) অভিব্যক্তিটি যে অর্থেব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ৩৪. প্রয়োগকারী কর্মকর্তার জবাবদিহিতা
আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ যদি প্রয়োগকারী কর্মকর্তা পালন করিতে অস্বীকার করেন, অবহেলা করেন বা ব্যর্থ হন এবং তিনি উহার উপযুক্ত কারণ দর্শাইতে না পারেন তাহা হইলে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
Section ৩৫. এই আইনের বিধানাবলীর অতিরিক্ততা
এই আইনের বিধানাবলী অন্যান্য আইনের কোন বিধানের ব্যত্যয়ে না হইয়া উহার অতিরিক্ত হইবে।
Section ৩৬. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৩৭. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা পাঠ ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।