বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, আন্তঃরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং তৎসংশ্লিষ্ট কার্যাবলী সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রাইফেলস্ পুনর্গঠনপূর্বক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নামে একটি আধা-সামরিক বাহিনী গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সুসংহতকরণপূর্বক উহা পুনঃ প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন। যেহেতু বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, আন্তঃরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং তৎসংশ্লিষ্ট কার্যাবলী সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রাইফেল্স পুনর্গঠনপূর্বক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নামে একটি আধা-সামরিক বাহিনী গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও রক্ষাণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সুসংহতকরণপূর্বক উহা পুনঃ প্রণয়নকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
(১) এই আইন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
-বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) ‘‘অধিনায়ক (Commanding Officer) ” অর্থ কোন ইউনিট বা বর্ডার গার্ড সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত কোন স্বতন্ত্র দল বা সংগঠনকে আদেশ প্রদান এবং নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তা;
(২) ‘‘অপরাধ’’ অর্থ এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধ এবং অসামরিক অপরাধও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩) ‘‘অবাধ্যতা’’ অর্থ অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃক মৌখিক, লিখিত, সাংকেতিক বা অন্য কোনভাবে প্রদত্ত কোন আইনানুগ আদেশ অমান্য করা;
(৪) ‘‘অসামরিক অপরাধ’’ অর্থ অসামরিক আদালতে বিচার্য কোন অপরাধ;
(৫) ‘‘অসামরিক আদালত’’ অর্থ অন্য কোন আইনের অধীন গঠিত সাধারণ ও বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ফৌজদারী আদালত বা ট্রাইব্যুনাল;
(৬) ‘‘অসামরিক কারাগার’’ অর্থ কোন অপরাধে বন্দী রাখিবার উদ্দেশ্যে Prisons Act, 1894 (Act No.IX of 1894) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন কারাগার;
(৭) ‘‘অসামরিক পদ’’ অর্থ ধারা ৬(১) এ উল্লিখিত পদ ব্যতীত অন্য কোন পদ;
(৮) ‘‘অসামরিক বর্ডার গার্ড সদস্য’’ অর্থ বাহিনীর অধীন অসামরিক পদে নিয়োজিত (প্রেষণে ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসহ) সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী;
(৯) ‘‘আইন কর্মকর্তা’’ অর্থ সরকার কর্তৃক সশস্ত্র বাহিনী অথবা অন্য কোন সরকারী কর্মবিভাগ হইতে প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত কোন আইন কর্মকর্তা;
(১০) ‘‘ইউনিট’’ অর্থ বাহিনীর সদস্য সমন্বয়ে একটি ইউনিট;
(১১) ‘‘উইং’’ অর্থ কতিপয় কোম্পানী সমন্বয়ে গঠিত বাহিনীর ষ্ট্যাটিক প্রতিষ্ঠান (static establishment) ;
(১২) ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (Superior Officer) ” অর্থ অধিভুক্ত কোন ব্যক্তিকে আদেশ প্রদানে সক্ষম কোন কর্মকর্তা, তবে তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্যগণ উহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন না;
(১৩) ‘‘এখতিয়ারভুক্ত এলাকা’’ অর্থ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী চৌকি বা এলাকা এবং অন্য কোন আইনের অধীন বা সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত কোন এলাকা;
(১৪) ‘‘কর্মকর্তা’’ অর্থ ধারা ৬(১) এর দফা (ক) এ উল্লিখিত কোন কর্মকর্তা;
(১৫) ‘‘কোম্পানী’’ অর্থ কোন উইং বা ব্যাটালিয়ন বা সদর দপ্তরের অংশবিশেষ বা উইং এর সহিত সংযুক্ত কতিপয় প্লাটুনের সমন্বয়ে গঠিত সাব-ইউনিট;
(১৬) ‘‘গার্ড পুলিশ’’ অর্থ ধারা ৬৯ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কোন গার্ড পুলিশ;
(১৭) ‘‘চৌকি (Post) ” অর্থ সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর কোন অবস্থান, যে স্থান হইতে প্রয়োজনীয় অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং উহার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং বর্ডার অপারেশন পোস্টও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৮) ‘‘জুনিয়র কর্মকর্তা (Junior Officer) ” অর্থ ধারা ৬(১) এর দফা (খ) এ উল্লিখিত কোন কর্মকর্তা;
(১৯) ‘‘ডিটাচমেন্ট’’ অর্থ কোম্পানীর সদর দপ্তর হইতে বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্রভাবে কর্মরত কোন সাব-ইউনিট;
(২০) ‘‘তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্য’’ অর্থ ধারা ৬(১) এর দফা (ঘ) এ উল্লিখিত কোন সদস্য;
(২১) ‘‘নির্দেশমালা’’ অর্থ এই আইনের অধীন মহাপরিচালক কর্তৃক সময়ে সময়ে জারীকৃত কোন নির্দেশমালা;
(২২) ‘‘পদবিধারী বর্ডার গার্ড সদস্য’’ অর্থ ধারা ৬(১) এর দফা (গ) এ উল্লিখিত বাহিনীর সদস্য;
(২৩) ‘‘প্রজ্ঞাপন’’ অর্থ সরকারী গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন;
(২৪) ‘‘প্রবিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধি;
(২৫) ‘‘প্রহরী (Sentry) ” অর্থ বাহিনীর এমন কোন সদস্য যিনি কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, স্থান বা সম্পত্তি বা সীমান্ত রক্ষা নিমিত্ত বিশেষভাবে একক বা দলগতভাবে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন;
(২৬) ‘‘বর্ডার গার্ড আদালত’’ অর্থ ধারা ৭০ এর অধীন গঠিত যে কোন আদালত;
(২৭) ‘‘বর্ডার গার্ড হাজত (Border Guard Custody) ” অর্থ কোন বর্ডার গার্ড সদস্যকে গ্রেফতার করিয়া অন্তরীণ রাখিবার আইন সম্মত কোন নির্দিষ্ট স্থান;
(২৮) ‘‘বর্ডার গার্ড সদস্য’’ অর্থ বাহিনীতে কর্মরত সকল পোষাকধারী ও অসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী;
(২৯) ‘‘ব্যাটালিয়ন’’ অর্থ কতিপয় কোম্পানীর সমন্বয়ে গঠিত বাহিনীর একটি ব্যাটালিয়ন;
(৩০) ‘‘বাহিনী’’ অর্থ ধারা ৫ এর অধীন গঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ;
(৩১) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন সরকার কর্তৃক প্রণীত কোন বিধি;
(৩২) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর মহাপরিচালক;
(৩৩) ‘‘রিজিয়ন কমান্ডার’’ অর্থ অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদমর্যাদাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা যিনি একাধিক সেক্টরের সমন্বয়ে গঠিত রিজিয়নের অধিনায়ক;
(৩৪) ‘‘শক্র’’ অর্থ দেশ ও বাহিনীর সদস্যগণের জন্য হুমকি স্বরূপ সকল প্রকারের বিদ্রোহী, দাঙ্গাকারী, সন্ত্রাসী, জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী;
(৩৫) ‘‘সক্রিয় কর্তব্য (active duty) ” অর্থ কোন অধিভুক্ত ব্যক্তি যখন বাহিনীর সদস্য হিসাবে বা উহার অংশ হিসাবে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় টহল বা প্রহরায় অথবা সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে অথবা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যে নিয়োজিত অথবা শত্রুর বিরুদ্ধে কোন অপারেশনে কর্তব্যরত অথবা সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের যে কোন স্থানে সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের কার্যে নিয়োজিত থাকেন;
(৩৬) ‘‘সেক্টর কমান্ডার’’ অর্থ উপ-মহাপরিচালক পদমর্যাদাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা যিনি একাধিক ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠিত সেক্টরের অধিনায়ক;
ব্যাখ্যা।-এই আইনে ‘‘বিশ্বাস করিবার কারণ (reason to believe) ’’, ‘‘অপরাধজনক বল প্রয়োগ (criminal force) ’’, ‘‘আক্রমণ (assault) ’’, ‘‘প্রতারণামূলকভাবে (fraudulently) ’’ এবং ‘‘স্বেচ্ছায় আঘাতকরণ (voluntarily causing hurt) ’’ অভিব্যক্তিসমূহ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এ উলিখিত অভিব্যক্তিসমূহের অনুরূপ হইবে; অধিকন্তু, এই আইনে যে সকল শব্দ এবং অভিব্যক্তি ব্যবহৃত হইয়াছে কিন্তু সংজ্ঞায়িত হয় নাই, সেই সকল শব্দ এবং অভিব্যক্তির আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে প্রদত্ত সংজ্ঞা এবং অভিব্যক্তির অনুরূপ হইবে।
(১) এই আইনে অধিভুক্ত ব্যক্তি অর্থে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথাঃ-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক)-(ঙ) এ উল্লিখিত প্রত্যেক ব্যক্তি যতদিন না চাকুরী হইতে অবসরগ্রহণ, চাকুরীচ্যুত, অপসারিত, বরখাস্ত বা অব্যাহতিলাভ করেন ততদিন পর্যন্ত অধিভুক্ত বলিয়া গণ্য হইবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (চ) এ উল্লিখিত কোন ব্যক্তি যতদিন না তাহার অপরাধের নিষ্পত্তি হইবে ততদিন পর্যন্ত অধিভুক্ত বলিয়া গণ্য হইবেন।
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
(১) বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তঃরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নামে একটি আধা-সামরিক (para-military) বাহিনী থাকিবে।
(২) এই বাহিনী উহার নিয়মিত এবং সংরক্ষিত অংশের সমন্বয়ে গঠিত হইবে।
(৩) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২ অনুসারে শৃঙ্খলা বাহিনী যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে একটি শৃঙ্খলা বাহিনী হইবে।
(৪) এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে Bangladesh Rifles Order, 1972(President's Order No. 148 of 1972) এর অধীন গঠিত ‘বাংলাদেশ রাইফেল্স’ বাহিনীর নাম, এই আইন কার্যকর হওয়ার পর, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ নামে অভিহিত হইবে এবং বাংলাদেশ রাইফেল্স বাহিনীর লোগোর পরিবর্তে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ এর লোগো প্রতিস্থাপিত হইবে।
(১) সরকার কর্তৃক, সময় সময় নির্ধারিত সংখ্যক নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা ও বর্ডার গার্ড সদস্যের সমন্বয়ে নিয়মিত বর্ডার গার্ড বাহিনী গঠিত হইবে, যথাঃ-
(২) এই আইনের অন্য কোন বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার প্রশাসনিক ও আইনী বিষয়সমূহ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অসামরিক কর্মকর্তাকে উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এ উল্লিখিত মহাপরিচালক ব্যতীত অন্যান্য পদে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রেষণে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) বিধি দ্বারা নির্ধারিত মেয়াদে, শর্তে ও পদ্ধতিতে সিপাহী ও অযোদ্ধা পদে তালিকাভুক্ত করিতে হইবে।
(৪) নিয়মিত বর্ডার গার্ড বাহিনী সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত সংখ্যক ব্যাটালিয়ান, সেক্টর ও রিজিয়নের সমন্বয়ে গঠিত হইবে।
(৫) যেক্ষেত্রে যুদ্ধাবস্থা চলাকালীন সময়ে বা সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপন দ্বারা অপারেশন ও প্রশিক্ষণের জন্য সক্রিয় কর্তব্য ঘোষণা করা হয়, এবং বাহিনীর সংরক্ষিত অংশের সমগ্র বা কোন একটি অংশের কর্মকর্তা ও বর্ডার গার্ড সদস্যগণকে উক্ত সময়ের প্রয়োগ ও প্রশিক্ষণের জন্য নিয়মিত বর্ডার গার্ড বাহিনীর সহায়তার জন্য তলব করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত বাহিনীর সংরক্ষিত অংশের কর্মকর্তা এবং বর্ডার গার্ড সদস্যগণকে নিয়মিত বর্ডার গার্ড বাহিনীর কর্মকর্তা ও বর্ডার গার্ড সদস্য হিসাবে গণ্য করা হইবে।
(১) সরকার কর্তৃক, সময় সময় প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত সংখ্যক ও মেয়াদের জন্য বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জুনিয়র কর্মকর্তা, পদবিধারী বর্ডার গার্ড সদস্য এবং তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্যের সমন্বয়ে বাহিনীর সংরক্ষিত অংশ গঠিত হইবে।
(২) বাহিনীর সংরক্ষিত অংশে তালিকাভুক্তির শর্ত, প্রশিক্ষণ, কর্মের মেয়াদ, পারিতোষিক, ইত্যাদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, সংরক্ষিত অংশে তালিকাভুক্তির শর্ত, প্রশিক্ষণ, কর্মের মেয়াদ, পারিতোষিক, ইত্যাদি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদর দপ্তর নামে ঢাকায় বাহিনীর একটি সদর দপ্তর থাকিবে এবং বিভাগীয় শহরে বা অন্য কোন জেলায় রিজিয়ন সদর দপ্তর ও সেক্টর সদর দপ্তর থাকিতে পারিবে।
(১) বাহিনীর প্রধান হিসাবে একজন মহাপরিচালক থাকিবেন।
(২) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হইতে, প্রেষণে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিযুক্ত হইবেন।
(১) বাহিনী সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকিবে এবং মহাপরিচালক, এই আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধি সাপেক্ষে, সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত সাধারণ আদেশ ও নির্দেশ অনুসারে বাহিনী পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করিবেন।
(২) মহাপরিচালক, কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা এবং বর্ডার গার্ড সদস্যগণ এই আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধি দ্বারা নির্ধারিত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রয়োগ করিতে পারিবেন।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বাহিনীর কার্যাবলী নিম্নরূপ হইবেঃ-
(২) সরকার, প্রয়োজনে আদেশ দ্বারা, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কার্যাবলী সুনির্দিষ্ট করিতে পারিবে।
সরকার কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত শর্ত ও সীমা সাপেক্ষে, বাহিনীর এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় উহার যে কোন সদস্য বা কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর সদস্য-
এর অধীন অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তিকে গ্রেফতার, উক্ত অপরাধ সম্পর্কিত মালামাল আটক, উক্ত অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা উহা সংঘটিত হইয়াছে মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে এইরূপ কোন স্থানে বা কোন যানবাহনে প্রবেশ, তল্লাশী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেহ বা মালামাল তল্লাশীর ক্ষেত্রে উক্ত আইনসমূহে উল্লিখিত কোন কর্তৃপক্ষের বা পুলিশ বাহিনীর কোন নির্দিষ্ট স্তরের সদস্য কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য কোন নির্দিষ্ট বা সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।
মহাপরিচালক এই আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধির অধীন তাঁহার উপর অর্পিত কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, লিখিত আদেশ দ্বারা, বাহিনীর যে কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
এই আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধির সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, মহাপরিচালক তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সহিত সম্পাদন ও বাহিনী পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকল্পে নির্দেশাবলী জারী করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ নির্দেশাবলী (instructions) বাহিনীর সকল সদস্য মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবেন।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি-
পুস্তক, চিঠি বা অন্য কোন প্রকার ডকুমেন্ট প্রকাশ করিবেন না বা প্রকাশে সহযোগিতা বা প্রকাশ করিবার কারণ হইবেন না; বা
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার অথবা মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে, অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি পেশাগত দক্ষতাবৃদ্ধি বা বাহিনীর স্বার্থে কোন পেশাজীবী সংঘ বা সংগঠনের সদস্য হইতে পারিবেন।
বাংলাদেশের নাগরিক নহেন এমন কোন ব্যক্তি বাহিনীতে নিয়োগ বা তালিকাভুক্ত হইবার যোগ্য হইবেন না।
(১) সরকার সশস্ত্র বাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের মধ্য হইতে প্রেষণে, বা পদবিধারী বর্ডার গার্ড সদস্যগণের মধ্য হইতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, কর্মকর্তা পদে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সশস্ত্র বাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বাহিনীতে প্রেষণে নিয়োজিত থাকাকালে চাকুরীর শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিলে বা এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করিলে, তিনি এই আইন অনুযায়ী দণ্ডিত হইবেন।
(১) জুনিয়র কর্মকর্তাগণের নিয়োগ এবং বর্ডার গার্ড সদস্যগণের তালিকাভুক্তি ও চাকুরীর শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) বিধি অনুসারে তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্যগণের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতা, মেধা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে পদবিধারী বর্ডার গার্ড সদস্য ও জুনিয়র কর্মকর্তাগণের নিয়োগ প্রদান করা হইবে।
(৩) মহাপরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, জুনিয়র কর্মকর্তাগণের মধ্য হইতে অনারারী কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি প্রদান করিবেন।
(৪) মহাপরিচালক, অসামরিক ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে বর্ডার গার্ড সদস্য পদে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে ঘাটতি জনবল পূরণ করিতে পারিবেন।
(৫) মহাপরিচালক সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাহিনীর ঘাটতি জনবলের বিপরীতে, সংরক্ষিত অংশের সদস্যগণের মধ্য হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জুনিয়র কর্মকর্তা, পদবিধারী বর্ডার গার্ড সদস্য এবং তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্য সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত করিতে পারিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিধি অনুসারে ঘাটতি জনবল নিয়োগ ও প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে তাহাদিগকে দায়িত্ব প্রদান করিবার পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, সাময়িকভাবে নিয়োজিত সংরক্ষিত অংশের সদস্যগণকে তাহাদের নিযুক্তি ও দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে হইবে।
বাহিনীর সদস্যগণের বদলী ও ছুটি সংক্রান্ত বিধানাবলী প্রবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১)সরকার এই আইনের অধীন যে কোন কর্মকর্তা বা জুনিয়র কর্মকর্তা বা বর্ডার গার্ড সদস্যকে চাকুরী হইতে বরখাস্ত, অপসারণ, অব্যাহতি বা অবসর প্রদান করিতে পারিবে।
(২) মহাপরিচালক জুনিয়র কর্মকর্তা বা তদনিম্ন পদবীর যে কোন বর্ডার গার্ড সদস্যকে, কারণ উলেখপূর্বক চাকুরী হইতে বরখাস্ত, অপসারণ, অব্যাহতি বা অবসর প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) অতিরিক্ত মহাপরিচালক বা উপ-মহাপরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণ যাহারা কমান্ড নিযুক্তিতে রহিয়াছেন তাহারা কর্মকর্তা ও জুনিয়র কর্মকর্তা ব্যতীত যে কোন পদবিধারী ও তদনিম্ন পদবীর বর্ডার গার্ড সদস্যকে কারণ উল্লেখপূর্বক চাকুরী হইতে বরখাস্ত বা অপসারণ বা অব্যাহতি বা অবসর প্রদান করিতে পারিবেন।
(৪) বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ যে কোন কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা ও তদনিম্ন পদবীর বর্ডার গার্ড সদস্য কর্তৃক স্বেচ্ছায় দাখিলকৃত আবেদনের প্রেক্ষিতে অবসর বা অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।
কোন জুনিয়র কর্মকর্তা অথবা তালিকাভুক্ত অন্যান্য বর্ডার গার্ড সদস্যকে চাকুরী হইতে অবসর, অব্যাহতি, অপসারণ বা বরখাস্ত করা হইলে তাহার অধিনায়ক কর্তৃক নিম্নবর্ণিত তথ্যসহকারে চাকুরী হইতে অবসানের একটি সনদ প্রদান করা হইবেঃ-
(১) মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদমর্যাদার কোন কর্মকর্তা, প্রশাসনিক আদেশে, অতিরিক্ত পরিচালক এবং তদনিম্ন অস্থায়ী পদবীর কর্মকর্তাগণের অদক্ষতা বা দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য কোন কারণে লিখিতভাবে অবহিত করিয়া এক স্তর নিম্নপদে পদাবনমন করিতে পারিবেন।
(২) মহাপরিচালক অথবা রিজিয়ন কমান্ডার বা সেক্টর কমান্ডার, প্রশাসনিক আদেশে জুনিয়র কর্মকর্তাগণের অদক্ষতা বা দায়িত্ব অবহেলা বা অন্য কোন কারণে লিখিতভাবে অবহিত করিয়া একস্তর নিম্নপদে পদাবনমন করিতে পারিবেন।
(৩) মহাপরিচালক অথবা রিজিয়ন কমান্ডার অথবা পরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোন সেক্টর কমান্ডার বা ইউনিট অধিনায়ক প্রশাসনিক আদেশে অস্থায়ী পদবিধারী বর্ডার গার্ড সদস্যগণের অদক্ষতা বা দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য কোন কারণে লিখিতভাবে এক স্তর নিম্নপদে পদাবনমন করিতে পারিবেন।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি ধারা ২১ ও ২৩ এর অধীন গৃহীত কোন আদেশের প্রেক্ষিতে নিজেকে সংক্ষুব্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত মনে করিলে, তিনি উক্ত আদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিকট পুনরীক্ষণের (revision) জন্য আবেদন করিতে পারিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিকট পুনরীক্ষণের আবেদন করিতে হইবে।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক সর্বোচ্চ ১৪ (চৌদ্দ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
ব্যাখ্যা।-‘‘বিদ্রোহ’’ অর্থ অধিভুক্ত দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সম্মিলিতভাবে বাহিনী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন কর্তৃপক্ষর আইনানুগ আদেশ অমান্য করা বা উক্ত কর্তৃপক্ষর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা, প্রতিহত করা বা উৎখাত করা অথবা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি তাহাদের বৈধ বা অবৈধ অসন্তুষ্টি সম্মিলিতভাবে কর্তৃপক্ষর নিকট প্রকাশ করা বা উক্তরূপ কার্যকরণের কোন প্রচেষ্টা গ্রহণ করা।
(১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি চাকুরী হইতে পলায়ন করেন অথবা চাকুরী হইতে পলায়নের প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক-
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি জ্ঞাতসারে উপরি-উল্লিখিতভাবে বাহিনী অথবা শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্যকে চাকুরী হইতে পলায়নে সহায়তা করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত)বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক যুদ্ধাবস্থায় অথবা সক্রিয় কর্তব্যরত অবস্থায় উক্ত অপরাধটি সংঘটিত হইলে, অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে, এবং উক্ত অপরাধটি যুদ্ধাবস্থায় অথবা সক্রিয় কর্তব্যরত ব্যতীত অন্যান্য অবস্থায় এই অপরাধ সংঘটিত হইলে, অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি তাহার নিম্ন পদমর্যাদা সম্পন্ন অধঃস্তন কোন ব্যক্তিকে আঘাত অথবা তাহার প্রতি দুর্ব্যবহার (ill-treat) করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(১) যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক ব্যক্তিগতভাবে প্রদত্ত আইনানুগ আদেশ, যাহা তিনি মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে বা সংকেতের মাধ্যমে অথবা অন্য কোন উপায়ে প্রদান করেন, এমনভাবে অগ্রাহ্য করেন যাহাতে তাহার কর্তৃত্বের প্রকাশ্য বিরূদ্ধাচরণ প্রকাশ পায়, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ১০ (দশ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনানুগ আদেশ অগ্রাহ্য করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক-
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি তালিকাভুক্তির সময়ে তালিকাভুক্তিকরণ কর্মকর্তার নিকট সুনির্দিষ্ট তালিকাভুক্তিকরণ ফরমে প্রদত্ত কোন প্রশ্নে স্বেচ্ছায় মিথ্যা উত্তর প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
(১) যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি-
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় কোন কার্য বা চাকুরী সংক্রান্ত কোন কার্য করিবার বা কোন কার্য করা হইতে বিরত থাকিবার বা কোন ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাত বা পক্ষপাতহীনতা প্রদর্শনের কারণে পুরস্কার স্বরূপ, তাহার বৈধ পারিতোষিক ব্যতীত, অন্য কোন পারিতোষিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিজের বা অন্য কাহারও জন্য, অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে গ্রহণ করেন বা লাভ করেন বা গ্রহণ করিতে সম্মত হন বা গ্রহণের চেষ্টা করেন অথবা অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির উৎকোচ গ্রহণের বিষয় জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত না করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি, কর্তব্যরত অবস্থায় হউক বা না হউক, জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন অথবা মদ্যপ অবস্থায় মাতলামী করেন অথবা অভ্যাসগতভাবে মাদকাসক্ত হন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক-
(১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হইয়া কোন বন্দীকে বা বাহিনীর হাজত হইতে কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুক্ত করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক-
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
তাহা হইলে তিনি, কর্মকর্তা হইলে, বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক, চাকুরী হইতে বরখাস্ত অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে, এবং, কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য পদবীর হইলে, অনধিক ০২ (দুই) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি তাহার নিজের ব্যবহারের জন্য ইস্যুকৃত বা জিম্মায় প্রদত্ত বা বাহিনীর কার্যে ব্যবহারের জন্য প্রদত্ত অস্ত্র, গোলাবারুদ, সাজ-সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, পোষাক-পরিচ্ছদ অথবা অন্য কোন সামগ্রী যাহা সরকারি বা বাহিনীর সম্পত্তি, ইচ্ছাকৃতভাবে বিনষ্ট করেন বা হারাইয়া ফেলেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক, অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, এবং অবহেলা জনিত কারণে অপরাধটি সংঘটিত হইলে, অনধিক ০২ (দুই) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি-
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক অপরাধ করেন, যথাঃ-
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি বাহিনীর সদস্যগণের বেতন ভাতা গ্রহণ করিয়া উক্ত বেতন ভাতা অবৈধভাবে আটক করেন অথবা উহা যথাসময়ে প্রদান না করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০২ (দুই) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
কোন কর্মকর্তা বা কোন জুনিয়র কর্মকর্তা যদি তাহার পদমর্যাদার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এমন কোন আচরণ কিংবা চাকুরীর আচরণের পরিপন্থী কোন কার্য করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০২ (দুই) বৎসরের সশ্রম কারদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি এমন কোন কার্য বা বিচ্যুতি সংঘটনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন যাহা এই আইনে উল্লিখিত কোন অপরাধের আওতায় পড়ে না কিন্তু উক্ত কার্য বা বিচ্যুতি স্পষ্টভাবে সু-আচরণ ও বাহিনীর শৃঙ্খলার পরিপন্থী হয়, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৩ (তিন) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৩ (তিন) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি এই আইনে উল্লিখিত কোন অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন এবং অনুরূপ প্রচেষ্টা গ্রহণ করতঃ উক্ত অপরাধ সংঘটনের নিমিত্ত কোন কার্য করেন, এবং এই আইনে উক্ত প্রচেষ্টা গ্রহণের শাস্তি বিধানের জন্য যদি কোন সুষ্পষ্ট বিধান না থাকে, তাহা হইলে তাহাকে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক নিম্নবর্ণিত দণ্ড প্রদান করা হইবে, যথাঃ-
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি বাহিনীর আইনে উল্লিখিত কোন অপরাধ সংঘটনে অন্য কোন ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় উল্লিখিত দণ্ডে, অথবা যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(১) ধারা ৫৪ এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে, এই আইনে উল্লিখিত অপরাধ ব্যতীত, কোন অসামরিক অপরাধ সংঘটন করিলে, উক্ত অপরাধ এই আইনের অধীনকৃত বলিয়া গণ্য হইবে এবং বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে।
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হইলে, তাহাকে সংশ্লিষ্ট অসামরিক অপরাধ সংঘটনের জন্য নির্ধারিত দণ্ড অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ড প্রদান করা হইবে।
(১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি খুন বা খুন বলিয়া গণ্য নহে এইরূপ দণ্ডনীয় নরহত্যার অপরাধ করে বা ধর্ষণের অপরাধ সংঘটিত করে, তাহা হইলে উক্ত অপরাধ বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক এই আইনের অধীন বিচার্য হইবে না, যদি না অধিভুক্ত ব্যক্তি উক্ত অপরাধ নিম্নবর্ণিত পরিস্থিতিতে সংঘটন করেঃ-
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হইলে তাহাকে সংশ্লিষ্ট অসামরিক অপরাধ সংঘটনের জন্য নির্ধারিত দণ্ড অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ড প্রদান করা যাইবে।
(১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক বিচারের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত এক বা ক্ষেত্রমত, একাধিক দণ্ড প্রদান করা যাইবে, যথাঃ-
(২) উপ-ধারা (১) এর (ঙ) দফায় উল্লিখিত দণ্ড, শুধুমাত্র দণ্ড অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ধারা ১০৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগকালে অথবা বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক ধারা ১০৫-এ উল্লিখিত পুনরীক্ষণ (Revision) এর সময় ধারা ১০৮-এ উল্লিখিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির প্রতিকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োগ করা যাইবে।
(১) এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, ধারা ২৫ হইতে ধারা ৫৪-এ উল্লিখিত যে কোন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে উক্ত ধারাসমূহে উল্লিখিত দণ্ড অথবা উহার পরিবর্তে অপরাধের ধরণ ও গুরুত্ব বিবেচনায় ৫৫ ধারায় উল্লিখিত নিম্নতর শ্রেণীর যে কোন লঘু দণ্ড প্রদান করা যাইবে।
(২) যে ক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক ধারা ৫৫ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) অনুযায়ী জরিমানার দণ্ড সশ্রম কারাদণ্ডের সহিত একত্রে অথবা এককভাবে আরোপ করা হয়, সেইক্ষেত্রে আদালত এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে যে, আরোপিত জরিমানা অনাদায়ে দণ্ডিত ব্যক্তি অনধিক ৫ বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করিবে এবং উক্তরূপ কারাদণ্ড সংশ্লিষ্ট মামলায় ধারা ৫৫ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ), (গ) ও (চ) এর অধীন প্রদত্ত সশ্রম কারাদণ্ডের অতিরিক্ত হইবে।
(১) বর্ডার গার্ড আদালত ধারা ৫৫ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এ উল্লিখিত শুধুমাত্র বরখাস্তজনিত দণ্ড অথবা বরখাস্তের সহিত উক্ত ধারায় উল্লিখিত অন্য যে কোন দণ্ড একত্রে প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত উপ-ধারার দফা (চ) হইতে (ড) এ উল্লিখিত এক বা একাধিক দণ্ড একত্রে প্রদান করিতে পারিবে।
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি ৯০ (নববই) দিনের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইলে, স্বয়ংসিদ্ধভাবে (automatically) দণ্ডিত ব্যক্তি চাকুরী হইতে বরখাস্ত হইবে।
অধিভুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড আদালত গঠন ব্যতীত ধারা ৫৯ ও ৬০ এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে দণ্ড প্রদান করা যাইবে।
ধারা ৬০ এ উল্লিখিত শর্ত ও বিধি সাপেক্ষে, মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ইউনিট অধিনায়ক বা কমান্ড নিযুক্তিতে রহিয়াছেন এইরূপ কর্মকর্তা পদবীধারী ও তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্য কর্তৃক এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের জন্য নিম্নবর্ণিত এক বা ক্ষেত্রমত, একাধিক লঘু দণ্ড প্রদান করিতে পারিবেন, যথাঃ
(১) যে ক্ষেত্রে ধারা ৫৯ এর দফা (ক), (খ), (গ) ও (ঘ) এ উল্লিখিত দুই বা ততোধিক লঘু দ- একত্রে প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে দফা (ক) অথবা (খ) এ উল্লিখিত দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর দফা (গ) অথবা (ঘ) এ উল্লিখিত দণ্ড কার্যকর হইবে।
(২) যেক্ষেত্রে ধারা ৫৯ এর দফা (ক), (খ) ও (গ) এ উল্লিখিত দুই বা ততোধিক লঘু দণ্ড একত্রে বা পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হয় বা ভোগরত থাকে, সেইক্ষেত্রে সর্বমোট দণ্ডের পরিমাণ একত্রে ৪২ (বিয়ালিশ) দিনের অতিরিক্ত হইবে না।
(৩) ধারা ৫৯ এর দফা (ক) এবং (খ) এ উল্লিখিত দণ্ড অপরাধ সংঘটনকালে পদবীধারী বর্ডার গার্ড সদস্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(৪) ধারা ৫৯ এর দফা (ছ) এ উল্লিখিত দণ্ড, পদবীধারী বর্ডার গার্ড সদস্যের নিম্ন পদবীর ব্যক্তিকে প্রদান করা যাইবে না।
বিধি সাপেক্ষে মহাপরিচালক অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা, যিনি উপ-মহাপরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন, পরিচালক ও তদনিম্ন পদবীর কর্মকর্তাগণকে এবং মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তাগণকে এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের জন্য নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু দণ্ড প্রদান করিতে পারিবেন, যথাঃ-
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ দণ্ডের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির বর্ডার গার্ড আদালতের মাধ্যমে বিচার প্রার্থনার অধিকার থাকিবে;
(১) কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, বিধি সাপেক্ষে, ধারা ৫৯ ও ৬১ এর অধীন সংক্ষিপ্ত নিষ্পত্তিতে প্রদেয় দণ্ডের একটি অনুলিপি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর নিকট আবেদনকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বা অন্য কোনভাবে যদি প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড সম্পূর্ণ বেআইনী বা আইনের নির্ধারিত মাত্রা হইতে অতিরিক্ত বা অপরাধের গুরত্ব বিবেচনায় অতি কঠোর হইয়াছে, তাহা হইলে উক্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় উক্ত দণ্ড বাতিল, পরিবর্তন বা আংশিকভাবে হ্রাস বা সম্পূর্ণ মওকুফের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) দণ্ড প্রদানের তারিখ হইতে ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে আবেদন করিতে হইবে।
(১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির বিরদ্ধে কোন অভিযোগ আনয়ন করা হইলে তাহাকে গ্রেফতার করিয়া বাহিনীর হাজতে আটক রাখা যাইবে।
(২) বাহিনীর যে কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অনুরূপ অধিভুক্ত ব্যক্তিকে বাহিনীর হাজতে আটক রাখিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং কর্মকর্তা ব্যতীত অধিভুক্ত অন্যান্য উক্তরূপ বর্ডার গার্ড সদস্যদের ক্ষেত্রে গার্ড পুলিশ সদস্য তদ্ররূপ আটকাদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) কোন কর্মকর্তা অন্য কোন কর্মকর্তাকে, ঊর্ধ্বতন পদবীর কর্মকর্তা হউক বা না হউক, যদি তিনি কলহ, প্রকাশ্যে মারামারি অথবা বিশৃংখলায় লিপ্ত হন, তাহা হইলে তাহাকে গ্রেফতার করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
প্রত্যেক অধিনায়ক এই মর্মে সতর্ক থাকিবেন যেন, তাহার কমান্ডের আওতাধীন কোন ব্যক্তি, কোন অভিযোগে অভিযুক্ত হইয়া তাহার নিকট আনীত হইলে, অভিযোগের তদন্ত শুরু করা ব্যতীত গ্রেফতার হইবার সময় হইতে ৪৮ ঘন্টার অধিক আটক না থাকে, যদি না উক্ত সময়ের মধ্যে জনস্বার্থে বা চাকুরীর স্বার্থে উক্ত তদন্ত অনুষ্ঠান অসম্ভব হয় এবং ৪৮ ঘন্টার অধিক সময় বর্ডার গার্ড হাজতে আটক প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে, আটকের বিদ্যমান কারণসমূহ উল্লেখ করিয়া অধিনায়ক অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচারের নিমিত্ত স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালত গঠনকারী কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, ৪৮ ঘন্টা গণনার ক্ষেত্রে সকল সরকারি ছুটির দিন ও যাত্রার সময় বাদ দিতে হইবে।
ধারা ৬৪এ উল্লিখিত ক্ষেত্র ব্যতীত এবং যুদ্ধাবস্থায় অথবা সক্রিয় কর্তব্যরত অবস্থায় নাই এইরূপ যে কোন ব্যক্তির বিচারের জন্য বাহিনীর আদালত গঠন করা ব্যতীত, তাহাকে ৮ (আট) দিনের অধিক সময় অন্তরীণ রাখা হইলে, তাহার অধিনায়ক, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নির্ধারিত কর্তৃপক্ষর নিকট উক্ত বিলম্বের কারণ উল্লেখ করিয়া একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করিবেন এবং বিচার অনুষ্ঠান না হওয়া অথবা উক্ত ব্যক্তিকে আটক অবস্থা হইতে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত প্রতি ৮ (আট) দিন অন্তর অনুরূপ প্রতিবেদন প্রেরণ করিতে থাকিবেন।
(১) এই আইনে উল্লিখিত কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি, যখন কোন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তার এখতিয়ারাধীন থাকেন, তখন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তা উক্ত ব্যক্তির অধিনায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত পত্র বা আবেদন প্রাপ্তির পর অনুরূপ ব্যক্তিকে গ্রেফতার এবং বাহিনীর হাজতে হস্তান্তর করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত গ্রেফতারকারী কর্তৃপক্ষ বাহিনীর কোন সদস্যকে গ্রেফতার করিবার পর নিকটস্থ কোন ব্যাটালিয়ন, ইউনিট বা স্থাপনার অধিনায়ক বা গার্ড পুলিশকে অবহিত করিয়া উপযুক্ত কর্মকর্তার হেফাজতে হস্তান্তর করিবেন।
(১) যখন অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি চাকুরী হইতে পলায়ন করেন, তখন তাহার অধিনায়ক উক্ত পলাতককে গ্রেফতারের জন্য সহায়তা প্রদান করিতে সক্ষম এইরূপ অসামরিক কর্তৃপক্ষকে উক্ত পলায়নের সংবাদটি লিখিতভাবে অবহিত করিবেন এবং অতঃপর অনুরূপ অসামরিক কর্তৃপক্ষ উক্ত পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিবার নিমিত্ত এমনভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন যেন, তাহার বিরূদ্ধে এখতিয়ার সম্পন্ন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হইয়াছে এবং উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিয়া বাহিনীর হেফাজতে হস্তান্তর করিবেন।
(২) পরোয়ানা ব্যতীত কোন পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক কোন ব্যক্তি যাহাকে তিনি যুক্তিসংঘত- ভাবে এই আইনের অধিভুক্ত একজন ব্যক্তি এবং পলাতক বা ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিত বলিয়া মনে করেন, তাহাকে গ্রেফতার করিবেন এবং তাহার বিরূদ্ধে এই আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে অবিলম্বে নিকটস্থ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থিত করিবেন।
(১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যথাযথ অনুমতি ব্যতীত তাহার কর্তব্য হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিন অনুপস্থিত থাকিলে, সংশ্লিষ্ট ইউনিট অধিনায়ক যথাশীঘ্র সম্ভব একটি তদন্ত আদালত গঠন করিবেন এবং উক্তরূপ আদালত, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, শপথ বা হলফ গ্রহণের পর উক্ত ব্যক্তির বিরূদ্ধে অনুপস্থিতিজনিত তদন্ত আরম্ভ করিবে।
(২) উক্তরূপ আদালত অভিযুক্তের দায়িত্বে অর্পিত কোন সরকারি সম্পত্তি বা অস্ত্র, গোলাবারূদ, সাজ-সরঞ্জামাদি, যন্ত্রপাতি, পোশাক-পরিচ্ছদ বা নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর ঘাটতি হইয়া থাকিলে এবং যথাযথ অনুমতি বা অন্য কোন উপযুক্ত কারণ ব্যতীত উক্ত অনুপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত হইলে, উক্তরূপ অনুপস্থিতি ও উহার মেয়াদ এবং উক্ত ক্ষতির পরিমাণ, যদি থাকে, ঘোষণা করিবে এবং উক্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অধিনায়ক ইউনিট বর্ডার গার্ড আদালত বহিতে উক্ত ঘোষণা লিপিবদ্ধ করিবেন।
(৩) অনুপস্থিত ঘোষিত ব্যক্তি যদি পরবর্তীকালে আত্মসমর্পণ না করেন বা তাহাকে গ্রেফতার করা না যায়, তাহা হইলে তাহাকে পলাতক বলিয়া গণ্য করা হইবে।
(৪) উপ-ধারা (১) হইতে (৩) এ উল্লিখিত বিষয় ব্যতীত অন্য যে কোন বিষয়ের তদন্তের জন্য, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, তদন্ত আদালত গঠন ও তদন্ত অনুষ্ঠান করা যাইবে।
(১) মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত দায়িত্ব পালনের নিমিত্ত অধিভুক্ত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে বিধি দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক গার্ড পুলিশ, অতঃপর ‘গার্ড পুলিশ’ নামে অভিহিত, নিয়োগ করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত গার্ড পুলিশের কর্তব্য নিম্নরূপ হইবেঃ-
(৩) ধারা ৬৩ এর বিধান সাপেক্ষে, কোন অধিভুক্ত ব্যক্তি যখন কোন অপরাধ সংঘটন করেন বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তখন গার্ড পুলিশ তাহাকে যে কোন সময় গ্রেফতার করিতে পারিবেন এবং বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দন্ডাদেশ অথবা ধারা ৫৯ এর ক্ষমতাবলে কোন কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত দন্ডাদেশ কার্যকর করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত তিন প্রকারের বর্ডার গার্ড আদালত থাকিবে, যথাঃ-
(গ)সামারী বর্ডার গার্ড আদালত।
(১) মহাপরিচালক অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা যিনি রিজিয়ন কমান্ডারের নিযুক্তিতে রহিয়াছেন তিনি স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালত গঠন করিতে পারিবেন।
(২) অন্যূন তিন জন অথবা ক্ষেত্রমত, পাঁচ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালত গঠিত হইবে এবং তাহাদের প্রত্যেকের অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের কমিশন বা প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা হিসাবে চাকুরীর অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে এবং তাহাদের মধ্যে অন্যূন তিন জন সদস্য অতিরিক্ত পরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে হইবেন না।
(৩) বর্ডার গার্ড আদালত গঠনকারী কর্তৃপক্ষ, স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালতের সদস্যগণের মধ্য হইতে একজন সভাপতি নিয়োগ করিবেন।
(৪) বর্ডার গার্ড আদালত গঠনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিটি স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালতে আবশ্যিকভাবে একজন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে হইবে।
(৫) স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালতের এই আইনের অধীন বিচার্য যে কোন অপরাধের জন্য অধিভুক্ত যে কোন ব্যক্তির বিচার করিবার এবং এই আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড প্রদান করিবার ক্ষমতা থাকিবে।
(১) স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালত গঠন করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন কোন কর্মকর্তা অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা, যিনি উপ-মহাপরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এবং কমান্ডে নিযুক্ত রহিয়াছেন, স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালত গঠন করিতে পারিবেন।
(২) অন্যূন তিন জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালত গঠিত হইবে এবং তাহাদের প্রত্যেকের অন্যূন ০৫ (পাঁচ) বৎসরের কমিশন বা প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা হিসাবে চাকুরীর অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে এবং তাহাদের মধ্যে অন্যূন একজন সদস্য অতিরিক্ত পরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে হইবেন না।
(৩) বর্ডার গার্ড আদালত গঠনকারী কর্তৃপক্ষ, স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের সদস্যগণের মধ্য হইতে একজন সভাপতি নিয়োগ করিবেন।
(৪) বর্ডার গার্ড আদালত গঠনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিটি স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালতে আবশ্যিকভাবে একজন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে হইবে।
(৫) স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের উপ-পরিচালক বা তদনিম্ন পদবীর যে কোন বর্ডার গার্ড সদস্যকে এই আইনের অধীন যে কোন অপরাধের বিচার করিবার এবং অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ অনুমোদিত যে কোন লঘুদণ্ড প্রদান করিবার ক্ষমতা থাকিবে।
(১) সামারী বর্ডার গার্ড আদালত হইবে কোন ইউনিট, ব্যাটালিয়ন বা স্বতন্ত্র উইং এর অধিনায়ক বা সদর দপ্তরের প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যিনি অতিরিক্ত পরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এবং ইহা একটি স্থায়ী আদালত হইবে।
(২) উক্ত আদালতের বিচার কার্যক্রম পরিচালনাকালে অন্য একজন কর্মকর্তা, অথবা জুনিয়র কর্মকর্তা, যিনি সেক্টর কমান্ডার কর্তৃক মনোনীত এবং অভিযুক্তের ইউনিট ব্যতীত অন্য ইউনিট হইতে নিয়োগপ্রাপ্ত হইবেন, বিচারকার্য প্রত্যক্ষ করিবেন এবং তিনি ‘উপস্থিত সদস্য’ বলিয়া গণ্য হইবেন, তবে তিনি বিচারের রায় ও দণ্ডের ক্ষেত্রে ভোট প্রদান করিবার অধিকারী হইবেন না।
(৩) সামারী বর্ডার গার্ড আদালত পদবীধারী ও তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্য কর্তৃক সংঘটিত এই আইনে বিচার্য শত্রুসম্পর্কিত অপরাধ, বিদ্রোহ, অসামরিক অপরাধ, অধিনায়কের সহিত সংশ্লিষ্ট কোন অপরাধ ব্যতীত যে কোন অপরাধের বিচার করিবার এবং অনধিক এক বৎসরের সশ্রম কারাদন্ডসহ অনুমোদিত যে কোন লঘু দণ্ড প্রদান করিবার ক্ষমতা থাকিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, অধিনায়কের পদমর্যাদা অতিরিক্ত পরিচালক হইলে, তিনি অনধিক ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করিতে পারিবেন।
(১) বিচার আরম্ভ হইবার পর, কোন বর্ডার গার্ড আদালতের অপরিহার্য ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা যদি হ্রাস পায়, তাহা হইলে উক্ত বর্ডার গার্ড আদালত বিলুপ্তি হইবে।
(২) রায় ঘোষণার পূর্বে যদি আইন কর্মকর্তা বা অভিযুক্তের অসুস্থতার কারণে বিচার কার্য চালাইয়া যাওয়া অসম্ভব হইয়া পড়ে, তাহা হইলে আদালত গঠনকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত বর্ডার গার্ড আদালতের কার্যক্রম বিলুপ্ত ঘোষণা করিতে পারিবে।
(৩) বর্ডার গার্ড আদালত গঠনকারী কর্তৃপক্ষর নিকট যদি বাহিনীর শৃঙ্খলার স্বার্থে বা অন্য কোন কারণে বর্ডার গার্ড আদালতে বিচারকার্য চালাইয়া যাওয়া অসম্ভব বলিয়া প্রতীয়মান হয়, তাহা হইলে তিনি কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া উক্ত বর্ডার গার্ড আদালত বিলুপ্ত ঘোষণা করিতে পারিবেন।
(৪) এই ধারায় কোন বর্ডার গার্ড আদালতের বিলুপ্তি ঘটিলে নূতনভাবে গঠিত বর্ডার গার্ড আদালতে অপরাধীকে নূতনভাবে বিচার করা যাইবে।
যেক্ষেত্রে অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি কোন বর্ডার গার্ড আদালত বা অসামরিক আদালত কর্তৃক কোন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত বা খালাসপ্রাপ্ত হন অথবা এই আইনে উল্লিখিত বিধান অনুসারে কোন অপরাধে সংক্ষিপ্ত বিচারে দন্ডপ্রাপ্ত হন, সেইক্ষেত্রে তাহাকে একই অপরাধের জন্য বা একই ঘটনার বিষয়ে বর্ডার গার্ড আদালতে দ্বিতীয়বার বিচার করা যাইবে না অথবা বিষয়টি ধারা ৫৯ ও ৬১ এ উল্লিখিত লঘু দণ্ড প্রদানের মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে নিষ্পত্তি করা যাইবে না।
(১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি অধিভুক্ততা থাকাকালীন সময়ে কোন অপরাধ করিয়া থাকিলে এবং তাহার অধিভুক্ততা সমাপ্তির পরও তাহাকে বাহিনীর হাজতে আটক রাখা যাইবে এবং অনুরূপ অপরাধের জন্য এমনভাবে তাহার বিচার ও তাহাকে দণ্ড প্রদান করা যাইবে যেন, তিনি এখনও এই আইনের অধিভুক্ত রহিয়াছেন।
(২) কোন অপরাধে উক্ত ব্যক্তির বিচার করা যাইবে না, যদিনা উক্ত বিচার এই আইনে তাহার অধিভুক্ততা সমাপ্ত হইবার ০১ (এক) বৎসরের মধ্যে আরম্ভ হয়ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারায় উল্লিখিত কোন কিছুই চাকুরী হইতে পলায়ন অথবা বিদ্রোহ বা শক্র সম্পর্কিত অপরাধ সংঘটনকারী কোন ব্যক্তির বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না অথবা অসামরিক আদালত বা বর্ডার গার্ড আদালত বা উভয় আদালতে বিচার্য কোন অপরাধের বিচার করিবার এখতিয়ার ক্ষুণ্ণ করিবে না।
(১) বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক বরখাস্তের দণ্ড ব্যক্তির ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ জারীর সময় হইতে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অসমারিক দণ্ডদেশ কারাগারে ভোগযোগ্য সশ্রম করাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে উক্ত কারাদণ্ড ভোগের উদ্দেশ্যে দণ্ডত ব্যক্তিকে অসামরিক কারাগার কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের সময় হইতে দণ্ডিত ব্যক্তির এই আইনের অধিভুক্ততা সমাপ্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক মুত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করিবার উদ্দেশ্যে দণ্ডত ব্যক্তিকে অসামরিক কারাগার কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের সময় হইতে দণ্ডত ব্যক্তির এই আইনের অধিভুক্ততা সমাপ্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করিলে, অপরাধ সংঘটনের স্থান নির্বিশেষে তাহার বিচার ও দণ্ড প্রদান যে কোন স্থানে করা যাইবে।
কোন অসামরিক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে যখন অসামরিক আদালত এবং বর্ডার গার্ড আদালত উভয়েরই অধিক্ষেত্র থাকে, তখন কোন আদালতে মামলার বিচার নিষ্পত্তি হইবে উহা নির্ধারণে মহাপরিচালক অথবা রিজিয়ন কমান্ডার অথবা সেক্টর কমান্ডার অথবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্মকর্তা স্বীয় বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন এবং যদি উক্ত কর্মকর্তা এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, বিচার কার্যক্রম বর্ডার গার্ড আদালত আরম্ভ করিবে, তাহা হইলে তিনি উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাহিনীর হাজতে আটক রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন।
(১) যেক্ষেত্রে যথাযথ এখতিয়ার সম্পন্ন কোন অসামরিক আদালত এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, কোন অসামরিক অপরাধ সংক্রান্ত মামলা উক্ত আদালতে বিচার করা বাঞ্ছনীয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত আদালত লিখিতভাবে মহাপরিচালক অথবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্মকর্তাকে তাহার স্বীয় বিবেচনায় অপরাধীর বিরূদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার নিমিত্ত নিকটস্থ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ করিতে পারিবে অথবা সরকারকে অবহিত করিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত সকল কার্যধারা স্থগিত রাখিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর আধীন অনুরোধের প্রেক্ষিতে উল্লিখিত কর্মকর্তা অসামরিক আদালতের নিকট অপরাধীকে হস্তান্তর করিবেন অথবা কোন আদালতে মামলাটি বিচার করিতে হইবে, উহা নির্ধারণের নিমিত্ত বিষয়টি অবিলম্বে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করিবেন এবং সেইক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
ব্যাখ্যা।-ধারা ৭৯ ও ৮০ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর section 549 এ উল্লিখিত ‘অনুরূপ আইন (any similar law) অর্থে এই আইনকে এবং ‘কোর্ট মার্শাল’ অর্থে বর্ডার গার্ড আদালতকে অন্তর্ভুক্ত করিবে এবং ‘সামরিক অপরাধী (military offender) ’ অর্থে অধিভুক্ত ব্যক্তিকে বুঝাইবে।
(১) স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালত ও স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালতে বিচারের ক্ষেত্রে, আদালত গঠিত হইবার পর, যথা শীঘ্র সম্ভব, আদালতের সভাপতি এবং অন্যান্য সদস্যের নাম অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পড়িয়া শুনাইতে হইবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এই মর্মে জিজ্ঞাসা করা হইবে যে, আদালতে আসন গ্রহণ কারী কোন কর্মকর্তা দ্বারা বিচারে তাহার কোন আপত্তি আছে কিনা।
(২) অভিযুক্ত ব্যক্তি উক্তরূপ কোন কর্মকর্তার ব্যাপারে আপত্তি করিলে তাহার আপত্তি এবং যে কর্মকর্তার বিরূদ্ধে আপত্তি করা হইয়াছে, তাহার প্রত্যুত্তর শোনা হইবে এবং অবশিষ্ট কর্মকর্তাগণ আপত্তিকৃত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে উক্ত আপত্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন।
(৩) ভোটাধিকারী কর্মকর্তাগণের অর্ধেক বা তদতিরিক্ত ভোটে আপত্তিটি গৃহীত হইলে এবং আপত্তিকৃত কর্মকর্তাকে উক্ত আদালতের সদস্য পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে হইবে এবং অন্য কোন কর্মকর্তা কর্তৃক অভিযুক্ত ব্যক্তির আপত্তির অধিকার সাপেক্ষে, বিধি অনুসারে তাহার শূন্য আসন পূরণ করা যাইবে।
(৪) যদি কোন আপত্তি উত্থাপিত না হয়, অথবা উত্থাপিত করা হইলেও উহা বৈধ না হয় অথবা সফলভাবে আপত্তিকৃত কোন কর্মকর্তার স্থান এমন কোন কর্মকর্তা কর্তৃক পূরণ করা হয়, যাহার বিরূদ্ধে কোন আপত্তি উত্থাপিত হয় নাই বা আপত্তি উত্থাপিত হইলেও উহা বৈধ হয় নাই, তাহা হইলে উক্ত সদস্যগণ আদালতের বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখিবেন।
(১) বিচার আরম্ভ হইবার পূর্বেই বর্ডার গার্ড আদালতের প্রত্যেক সদস্য ও আইন কর্মকর্তাকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, শপথ বা হলফ গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) বর্ডার গার্ড আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, শপথ বা হলফ গ্রহণ করিতে হইবে;
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন শিশু অপ্রাপ্ত বয়স্ক বিধায় শপথ বা হলফের প্রকৃতি অনুধাবন করিতে অসমর্থ, সেই ক্ষেত্রে আদালত তাহাকে শপথ বা হলফ গ্রহণ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(১) বর্ডার গার্ড আদালতের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে উক্ত সিদ্ধান্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুকূলে নিষ্পত্তি হইবে।
(২) স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালতের ক্ষেত্রে আদালতের সদস্যগণের অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি ব্যতিরেকে মৃত্যুদণ্ড-জনিত কোন দণ্ড প্রদান করা যাইবে না।
(৩) আপত্তি বা রায় বা দণ্ড ব্যতীত অন্য সকল বিষয়ে সভাপতির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষ, বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক গৃহীত সকল কার্যধারার সাক্ষীর ক্ষেত্রে Evidence Act, 1872 (Act No.I of 1872) প্রযোজ্য হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে, কেবল উক্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করিয়া বর্ডার গার্ড আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দণ্ড প্রদান করিতে পারিবে না।
(১) আদালত গঠনকারী কর্মকর্তা, বর্ডার গার্ড আদালত অথবা তদন্ত আদালতের সভাপতি, আইন কর্মকর্তা অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিনায়ক তাহার স্বহস্তে সম্পাদিত সমন দ্বারা সাক্ষী প্রদান অথবা কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু উপস্থাপন করিবার জন্য যে কোন ব্যক্তিকে উক্ত সমনে উলিস্নখিত সময়ে এবং স্থানে উপস্থিত হইতে আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির সাক্ষী গ্রহণের ক্ষেত্রে তাহার অধিনায়কের নিকট সমন প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত অধিনায়ক তদানুসারে উহা উক্ত সাক্ষীর উপর জারী করিবেন।
(৩) অন্যান্য সাক্ষীর ক্ষেত্রে, এখতিয়ার সম্পন্ন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট সমন প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত সমন এমনভাবে জারী করিবেন যেন, উল্লিখিত সাক্ষীকে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতেই তলব করা হইয়াছে।
(৪) কোন সাক্ষীকে তাহার জিম্মায় বা অধীন রক্ষিত কোন দলিল বা বিষয় উপস্থাপন করিতে সমন জারী করা হইলে, উক্ত সমনে উহার যুক্তিসঙ্গত সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকিতে হইবে।
(৫) যদি বর্ডার গার্ড আদালতের জন্য আবশ্যক হয়, তাহা হইলে ডাক ও টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ, কুরিয়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট অপারেটর কর্তৃপক্ষর জিম্মায় রক্ষিত যে কোন নথি বা দলিল আদালতে তলব করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোন কিছুই Evidence Act, 1872 (Act No. I of 1872) section 123 এবং 124 এর বিধানকে ক্ষুণ্ণ করিবে না।
(১) যদি বর্ডার গার্ড আদালত চলাকালীন সময়ে ন্যায় বিচারের স্বার্থে কোন সাক্ষীকে পরীক্ষা করা অপরিহার্য বলিয়া আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় এবং উক্ত সাক্ষীর উপস্থিতি যদি অহেতুক বিলম্ব, অত্যাধিক ব্যয় অথবা অন্যান্য অসুবিধার কারণে সম্ভবপর না হয় বা বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক বলিয়া গণ্য হয়, তাহা হইলে উক্ত আদালত এখতিয়ারসম্পন্ন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন কর্মকর্তাকে সাক্ষী গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা কর্মকর্তাকে কমিশন নিযুক্ত করা হইলে, তিনি সাক্ষী যে স্থানে বসবাস করেন, সেই স্থানে গমন করিবেন এবং তিনি Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এবং Evidence Act, 1872 (Act No. I of 1872) এর বিধান অনুযায়ী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করিবেন।
(১) ধারা ৮৭ এর অধীন গঠিত কমিশন, প্রশ্নমালার আলোকে, মামলার প্রসিকিউটরের উপস্থিতিতে উক্ত সাক্ষীকে পরীক্ষা করিবেন।
(২) প্রসিকিউটর এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনজীবীর মাধ্যমে অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্তরীণ না থাকিলে, সশরীরে অনুরূপ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অথবা কর্মকর্তার সম্মুখে উপস্থিত হইতে পারিবেন এবং প্রয়োজনমত উক্ত সাক্ষীকে জবানবন্দী, জেরা এবং পুনঃ জবানবন্দী গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(৩) উক্ত কমিশনের কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদিত হইবার পর কমিশন কর্তৃক পরীক্ষিত সাক্ষীর জবানবন্দীসহ উহা বর্ডার গার্ড আদালতের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(৪) যেক্ষেত্রে ধারা ৮৭ এর অধীন কমিশন নিয়োগ করা হয়, সেইক্ষেত্রে এইরূপ প্রতিটি কমিশনের কার্যক্রম আরম্ভ হওয়ার পর উহা সম্পন্ন করিবার নিমিত্ত নির্ধারিত যুক্তিসঙ্গত সময়ের জন্য বিচারকার্য মুলতবী করা যাইবে।
(১) পলায়নের অভিযোগে অভিযুক্ত কোন ব্যাক্তিকে পলায়নের প্রচেষ্টা গ্রহণের অভিযোগে অথবা ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিতির জন্য বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
(২) পলায়নের প্রচেষ্টা গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে, ছুটি ব্যতীত, অনুপস্থিতির জন্য বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
(৩) কোন ব্যক্তি অপরাধজনক বলপ্রয়োগের অভিযোগে অভিযুক্ত হইলে, তাহাকে আক্রমণের (assault) অভিযোগে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
(৪) কোন ব্যক্তি হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত হইলে, তাহাকে অবাধ্যতামূলক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
(৫) কোন ব্যক্তি ধারা ৩৬ এর দফা (ক) এবং (খ) উল্লিখিত যে কোন অপরাধে অভিযুক্ত হইলে, তাহাকে উক্ত অপরাধসমূহের যে কোনটির জন্য, যাহাতে সে অভিযুক্ত হইতে পারিত, বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
(৬) কোন ব্যক্তি বর্ডার গার্ড আদালতের ধারা ৫২ এর অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধে অভিযুক্ত হইলে, তাহাকে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধান অনুসারে যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যাইত উক্তরূপ যে কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
(৭) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য বর্ডার গার্ড আদালতে অভিযুক্ত হইলে তাহাকে উক্ত অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টা অথবা প্ররোচনার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, যদিও উক্ত প্রচেষ্টা অথবা প্ররোচনার অভিযোগে তাহাকে পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা হয় নাই।
(১) তালিকাভুক্তিকারী কর্মকর্তা কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে কোন তালিকাভুক্তি ফরমে প্রদত্ত স্বাক্ষর এই আইনের যে কোন কার্যধারায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি যেরূপ বিবৃতির মাধ্যমে উত্তর প্রদান করিয়াছেন সেইরূপে উহা সাক্ষ্য হিসাবে বিবেচিত হইবে।
(২) তালিকাভুক্তি ফরমের জিম্মাদার কর্মকর্তা কর্তৃক তালিকাভুক্তি ফরমের মূলকপি বা এতদুদ্দেশ্যে প্রত্যায়িত তালিকাভুক্তি ফরমের একটি অনুলিপি উপস্থাপনের মাধ্যমে অনুরূপ ব্যক্তির তালিকাভুক্তি প্রমাণ করা যাইবে।
(১) কোন অধিভুক্ত ব্যক্তি যিনি কোন ইউনিট হইতে বরখাস্ত বা অব্যাহতি লাভ করিয়াছিলেন, অথবা বাহিনীর কোন ইউনিটে তিনি চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন বা চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন না সেই সম্পর্কিত কোন পত্র, রিটার্ণ বা অন্য কোন দলিল সরকার বা মহাপরিচালক বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন কর্মকর্তা বা তাহার পক্ষে অন্য কোন কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইলে, উক্ত পত্র, রিটার্ণ বা দলিলে উল্লিখিত ঘটনা সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে।
(২) বাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত বাহিনীর সদস্যগণের কোন তালিকা বা গেজেটে প্রকাশিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা জুনিয়র কর্মকর্তার পদ ও মর্যাদা এবং অনুরূপ কর্মকর্তা কর্তৃক সদর দপ্তর, ব্যাটালিয়ন, ইউনিট, উইং, শাখায় ধারণকৃত নিযুক্তি লাভ সংক্রান্ত পত্র, উল্লিখিত ঘটনার সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।
(৩) এই আইন বা এই আইনের অধীন প্রণীত কোন বিধি অনুসারে কোন সার্ভিস বহিতে লিপিবদ্ধ কোন বিবরণ বা কর্তব্যের প্রতিপালনে সার্ভিস বহিতে লিপিবদ্ধ কোন বিবরণ যাহা অধিনায়ক বা অনুরূপ বিবরণ লিপিবদ্ধকারী কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত, উহা অনুরূপ দলিলে উল্লিখিত সমস্ত ঘটনার সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।
(৪) কোন সার্ভিস বহির কোন বিবরণীর বিষয়ে উক্ত সার্ভিস বহির জিম্মাদার কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও সত্যায়িত অনুলিপি উক্ত লিপির সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।
(৫) যেক্ষেত্রে অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির পলায়ন বা ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিতির অভিযোগে বিচার অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুরূপ ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন ইউনিট বা কর্মকর্তা বা অন্য কোন ব্যক্তির হেফাজতে আত্মসমর্পণ করেন বা অনুরূপ কর্মকর্তা বা ব্যক্তি কর্তৃক গ্রেফতার হন, সেইক্ষেত্রে তৎসংক্রান্ত বিষয়ে উক্ত কর্মকর্তা কর্তৃক বা গ্রেফতারকারী ব্যক্তির ইউনিটের অধিনায়ক কর্তৃক স্বাক্ষরিত সনদ, প্রয়োজনবোধে, উক্ত আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতার হইবার ঘটনা, তারিখ এবং স্থান সম্বলিত বর্ণনার সনদ, উল্লিখিত বিষয়ের সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।
(৬) যেক্ষেত্রে অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির পলায়ন অথবা ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিতির অভিযোগে বিচার অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুরূপ ব্যক্তি যখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিম্ন পদবীর নহেন এমন পুলিশ কর্মকর্তার নিকট আত্মসমর্পণ করেন অথবা অনুরূপ পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক গ্রেফতার হন, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত সনদ, যাহাতে উক্ত ব্যক্তির আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারের ঘটনা, তারিখ ও স্থানের বর্ণনা রহিয়াছে উহা উল্লিখিত বিষয়ে সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।
(৭) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত বা স্বীকৃত কোন রাসায়নিক পরীক্ষক বা সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষকের নিকট পরীক্ষার জন্য উপস্থাপিত কোন বস্ত্ত বা বিষয়ের উপর পরীক্ষা বা বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেদনের জন্য প্রেরিত হইলে উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের স্বাক্ষরিত রিপোর্ট, এই আইনের অধীনে কোন কার্যধারার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে।
(১) যেক্ষেত্রে পলায়ন বা অনুমতি ব্যতিরেকে ছুটি বা ছুটি সমাপ্ত হইবার পর ছুটিতে থাকা অথবা তলব করিবার পরও চাকুরীতে যোগদান না করা সংক্রান্ত অপরাধের বিচারে বা কোন কার্যধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে পর্যাপ্ত বা যুক্তিসংগত অযুহাত উপস্থাপন করিয়া প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তার বরাত দেন এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনে উক্ত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্য প্রমাণিত বা অপ্রমাণিত হইতে পারে বলিয়া আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয়, সেইক্ষেত্রে আদালত বা কার্যধারা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা উক্ত কর্মকর্তাকে এতদুদ্দেশ্যে তাহার বক্তব্য প্রদান করিবার জন্য লিখিত নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং তাহার উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আদালত সাময়িকভাবে মূলতবী রাখিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন কর্মকর্তার নিকট হইতে লিখিত জবাব প্রাপ্তির পর, উহা তৎকর্তৃক স্বাক্ষরিত হইলে, সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে এবং আদালতে বা কার্যধারা পরিচালনাকারী কর্মকর্তার সম্মুখে শপথ বা হলফ করিয়া বক্তব্য প্রদানের ন্যায় গুরুত্ব বহণ করিবে।
(৩) উক্তরূপ জবাব প্রাপ্তিতে অত্যধিক বিলম্ব হইলে, আদালত অন্যান্য সকল বিষয় বিবেচনাপূর্বক যাহা ন্যায়সঙ্গত বিবেচিত হইবে তদনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন।
(১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি কোন অপরাধে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হইলে, উক্ত বর্ডার গার্ড আদালত উক্ত ব্যক্তির পূর্বের কোন বর্ডার গার্ড আদালত বা অসামরিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড বা এই আইনের অধীন সংক্ষিপ্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রদত্ত দণ্ড সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং সাক্ষ্য গ্রহণ ও লিপিবদ্ধ করিতে পারিবেন এবং অধিকন্তু উক্ত ব্যক্তির সাধারণ চরিত্র ও অন্যান্য নির্ধারিত বিষয়ে অনুসন্ধান এবং উহার ফলাফল লিপিবদ্ধ করিতে পারিবে।
(২) এই ধারার অধীন গৃহীত সাক্ষ্য মৌখিক অথবা লিখিত আকারে বা বর্ডার গার্ড আদালতের কার্যধারা হইতে সত্যায়িত উদ্ধৃতাংশ অথবা অন্য কোন দাপ্তরিক নথি হইতে সংকলিত হইতে পারে এবং অপরাধীকে বিচারের পূর্বে তাহার পূর্বের দণ্ড বা সাধারণ চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইবে মর্মে কোন প্রকার অবহিত করিবার প্রয়োজন হইবে না।
(৩) সামারী বর্ডার গার্ড আদালতে, আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তা যথাযথ মনে করিলে অভিযুক্তের পূর্বের দণ্ড, তাহার সাধারণ চরিত্র এবং অনুরূপ অন্যান্য নির্ধারিত বিষয় সম্পর্কে যাহা তাহার স্বীয় জ্ঞান হইতে লদ্ধ, এই ধারার পূর্ববর্তী বিধান অনুসারে প্রমাণ না করিয়া লিপিবদ্ধ করিতে পারিবেন।
(১) যেক্ষেত্রে কোন বর্ডার গার্ড আদালতের বিচারের পর্যায়ে আদালতের নিকট প্রতিয়মান হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অপ্রকৃতিস্থ হইবার কারণে তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে অযোগ্য অথবা উক্ত ব্যক্তি আনীত অভিযোগে উল্লিখিত কার্যটি সংঘটিত করিলেও অপ্রকৃতিস্থতার কারণে কৃতকর্মের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা করিতে অপারগ ছিলেন অথবা ইহা অনুধাবন করিতে অক্ষম ছিলেন যে উহা অন্যায় বা আইনের পরিপন্থী, সেইক্ষেত্রে আদালত তদানুসারে তাহার রায় লিপিবদ্ধ করিবে।
(২) আদালতের সভাপতি, অথবা সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের ক্ষেত্রে বিচার পরিচালনাকারী কর্মকর্তা অবিলম্বে কার্যধারা অনুমোদনকারী কর্মকর্তাকে বা, যেক্ষেত্রে সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের রায় অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না, সেইক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্মকর্তার নিকট বিষয়টি অবহিত করিবেন।
(৩) কার্যধারা অনুমোদনকারী কর্মকর্তা যাহাকে উপ-ধারা (২) এর বিধানমতে বিষয়টি অবহিত করা হইয়াছে, তিনি যদি রায়টি অনুমোদন না করেন, তাহা হইলে অভিযুক্তকে মূল অভিযোগের বিচার সম্পন্ন করিবার জন্য উক্ত আদালত বা অন্য কোন বর্ডার গার্ড আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে নির্ধারিত কর্মকর্তা যাহার নিকট সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের রায় সম্পর্কে অবহিত করা হইয়াছে এবং কার্যধারা অনুমোদনকারী কর্মকর্তা অনুরূপ রিপোর্টকৃত বিষয়ে রায় অনুমোদন করিবার পর অভিযুক্তকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অন্তরীণ রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে সরকারের সিদ্ধান্তে জন্য উপস্থাপন করিবেন।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর বিধান অনুসারে রিপোর্ট প্রাপ্তির পর, সরকার অভিযুক্তকে পাগলাগারদে আটক বা অন্য কোন উপযুক্ত স্থানে নিরাপদ জিম্মায় রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপ্রকৃতিস্থ হইবার কারণে আত্মপক্ষ সমর্থনে অযোগ্য হন এবং অন্তরীণ বা বন্দী থাকেন, সেইক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্মকর্তা-
উক্ত বর্ডার গার্ড আদালত বা অন্য কোন বর্ডার গার্ড আদালতে আনীত মূল অভিযোগের বিচারের অথবা অসামরিক অপরাধের ক্ষেত্রে অসামরিক আদালতে বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
যেক্ষেত্রে ধারা ৯৪ এর উপ-ধারা (৪) অনুসারে কোন ব্যক্তি কারাগারে অন্তরীণ থাকেন অথবা উক্ত ধারার উপ-ধারা (৫) অনুসারে আটক বা নিরাপদ জিম্মায় থাকেন, সেইক্ষেত্রে-
সরকার উক্ত ব্যক্তিকে মুক্তির আদেশ প্রদান অথবা কারাগারে অন্তরীণ রাখিবার অথবা যদি তাহাকে ইতোমধ্যে অনুরূপ পাগলাগারদে না পাঠানো হইয়া থাকে, তাহা ইলে পাগলাগারদে পাঠাইবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
বর্ডার গার্ড আদালতে বিচারে যখন কোন মালামাল সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটিত হয় বা যখন কোন অপরাধ সংঘটনে উহাকে ব্যবহার করা হইয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হয়, তখন আদালত তাহার নিজস্ব বিবেচনায় যেভাবে যথাযথ মনে করে সেইভাবে বিচারকার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উহার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত মালামাল যদি পচনশীল বা দ্রূত বিনষ্টযোগ্য হইবার বিষয়বস্তু হয়, তাহা হইলে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করিয়া উহা বিক্রয় বা অন্যভাবে নিষ্পত্তির আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১) বর্ডার গার্ড আদালতে বিচার সমাপ্ত হইবার পর, আদালত বা বর্ডার গার্ড আদালতের রায় ও দণ্ডাদেশ অনুমোদনকারী কর্মকর্তা অথবা তাহার ঊর্ধ্বতন কোন কর্তৃপক্ষ অথবা সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের বিচারের ক্ষেত্রে, যখন রায় ও দণ্ড অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না, তখন স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালত গঠন করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তা যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেইরূপে আদালতের নিকট উপস্থাপিত মালামাল বা নথিপত্র যাহা অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হইয়াছে, উহা ধ্বংস, সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত বা বৈধ দাবিদারের নিকট অথবা অন্যভাবে হস্তান্তর করিতে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) অনুসারে কোন আদেশ প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে বিচারের স্থান নির্বিশেষে, উক্ত আদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষর স্বাক্ষরিত ও প্রত্যায়িত একটি অনুলিপি উক্ত মালামাল সংক্রান্ত অপরাধ যে জেলায় সংঘটিত হইয়াছে, উক্ত জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং আদেশ প্রাপ্তির পর উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধান অনুসারে আদেশ কার্যকর করিবার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৩) এই ধারায় ‘মালামাল’ অর্থে যে মালামালের ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হয়, শুধুমাত্র উক্ত মালামাল অন্তর্ভুক্ত করিবে না, বরং এইরূপ মালামালকে বুঝাইবে যাহা রূপান্তরিত বা বিনিময় হইয়াছে এবং রূপান্তর বা বিনিময়ের মাধ্যমে অর্জিত মালামালও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
এই আইনের বিধান অনুসারে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনুষ্ঠিত কোন বিচারিক কার্যধারা Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) অনুযায়ী বিচারিক কার্যধারা হিসাবে গণ্য হইবে এবং বর্ডার গার্ড আদালত Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) অনুযায়ী আদালত হিসাবে গণ্য হইবে।
এই আইনের বিধানানুসারে অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালত ও স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের কোন রায় বা দণ্ডাদেশ কার্যকর করা যাইবে না।
স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালতের রায় এবং দণ্ডাদেশ মহাপরিচালক অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুমোদন করিতে পারিবেন।
স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালত গঠন করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তা অথবা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের রায় ও দণ্ডাদেশ অনুমোদন করিবেন।
ধারা ১০১ ও ১০২ এর অধীন ক্ষমতা প্রদানকারী কর্মকর্তা তাঁহার স্বীয় বিবেচনানুযায়ী শর্ত, সীমাবদ্ধতা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করিতে পারিবেন।
ধারা ১০১ ও ১০২ এর অধীন ক্ষমতা প্রদানকারী কর্মকর্তা কর্তৃক আরোপিত সীমাবদ্ধতা, নিয়ন্ত্রণ বা শর্ত সাপেক্ষে, বর্ডার গার্ড আদালতের দন্ডাদেশ অনুমোদন করিবার সময় অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের মাত্রা হ্রাস বা লাঘব করিতে পারিবেন অথবা আদালত কর্তৃক অপরাধীকে অন্যান্য যে দণ্ড প্রদান করা যাইত অনুরূপ কোন দণ্ডকে লঘু মাত্রায় পরিবর্তন করিতে পারিবেন বা দণ্ডটি যদি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়, তাহা হইলে উহাকে এই আইনের ধারা ৫৫ এ উল্লিখিত যে কোন লঘুদণ্ড পরিবর্তন করিতে পারিবেন।
(১) বর্ডার গার্ড আদালতের যে সকল রায় ও দণ্ডাদেশ অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষর নির্দেশে একবারই সংশোধনার্থ পুনরীক্ষণ করা যাইবে এবং উক্তরূপ পুনরীক্ষণের সময় অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত হইলে, আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) পুনরীক্ষণের জন্য আদালত, অপরিহার্য কারণে কোন কর্মকর্তার অনুপস্থিতি ব্যতীত, মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তা সমন্বয়ে গঠিত হইবে।
(৩) অপরিহার্য কারণে অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে কারণটি কার্যধারায় যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করিয়া আদালত পুনরীক্ষণের কার্যক্রম শুরু করিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালতের ক্ষেত্রে কর্মকর্তার সংখ্যা তিন জন অথবা পাঁচ জন এবং স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের ক্ষেত্রে তিন জন হইবে।
সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের রায় ও দণ্ডাদেশ কোন প্রকার অনুমোদন ব্যতীত তৎক্ষণাৎ কার্যকর করা যাইবে ।
সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের কার্যধারা অনতিবিলম্বে স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালত গঠনের ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে, এবং উক্ত কর্মকর্তা বা অন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলার গুণাগুণ বিবেচনা করিয়া কার্যধারাটি বাতিল করিতে পারিবেন বা দণ্ড লাঘব করিতে পারিবেন।
(১) যেক্ষেত্রে কোন বর্ডার গার্ড আদালতে ‘‘দোষী’’ রায় অনুমোদিত হইবার পূর্বে অথবা, রায় অনুমোদনের প্রয়োজন না থাকিলে রায় ঘোষণার পর কোন কারণে রায়টি অসিদ্ধ প্রতীয়মান হয় বা সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত না হয়, সে ক্ষেত্রে ধারা ১২২ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নূতন রায় প্রতিস্থাপন করিতে পারিবে এবং উক্ত কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক রায়টি আইন সম্মতভাবে প্রদান করা যাইত তাহা হইলে উল্লিখিত অপরাধের জন্য প্রযোজ্য দণ্ড প্রতিস্থাপন করিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশ অনুমোদিত হইবার পূর্বে বা যে দণ্ডাদেশ অনুমোদনের প্রয়োজন নাই, উপ-ধারা (১) অনুসারে নূতন রায়ের প্রেক্ষিতে প্রতিস্থাপিত দণ্ডাদেশ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে কোন কারণে প্রদত্ত দণ্ড অসিদ্ধ বলিয়া প্রতীয়মান হয়, তাহা হইলে উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত কর্তৃপক্ষ বৈধ দণ্ডাদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) যে অসিদ্ধ দণ্ডের জন্য উপ-ধারা (১) বা উপ-ধারা (২) এর অধীন নূতন দণ্ড প্রতিস্থাপিত হয় উহা প্রদেয় দণ্ড অপেক্ষা অধিক হইবে না।
(৪) এই ধারার অধীন বর্ডার গার্ড আদালতের রায় ও দণ্ডাদেশ কোন রায় ও দণ্ডাদেশ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হইলে এবং প্রতিস্থাপিত রায়ের প্রেক্ষিতে অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ড প্রদান করা হইলে, উহা এমনভাবে কার্যকর হইবে যেন উহা বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক প্রদান করা হইয়াছে।
(১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালত বা স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের রায় বা দণ্ডাদেশের দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, উক্ত রায় ও দণ্ডাদেশ অনুমোদিত হইবার পূর্বে, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তার নিকট অথবা অনুমোদিত হইবার পর সরকার, মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট দণ্ডর গুরূত্ব অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিকার প্রার্থনা করিয়া আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের রায় বা দণ্ডাদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কার্যধারা প্রতিস্বাক্ষরের পূর্বে কার্যধারা প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্তৃপক্ষর নিকট এবং প্রতিস্বাক্ষরের পর মহাপরিচালক বা স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালত গঠনকারী কর্তৃপক্ষর নিকট প্রতিকার প্রার্থনা করিয়া আবেদন করিতে পারিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, অনুমোদনকারী কর্মকর্তা, প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার পদমর্যাদা হইতে উচ্চতর হইবেনঃ
আরও শর্ত থাকে যে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এই ধারায় রায় বা দণ্ডাদেশের বিরূদ্ধে প্রতিকার চাহিয়া আবেদন করিলে, তিনি ধারা ১১১ এর অধীন কোন আপীল দায়ের করিতে পারিবেন না।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ উল্লিখিত শর্তাবলী ক্ষুণ্ণ না করিয়া, উক্ত উপ-ধারা অনুসারে প্রাপ্ত কোন প্রতিকারের আবেদনকে সরকার, মহাপরিচালক অথবা ধারা ১০২ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবেন।
সরকার অথবা মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বর্ডার গার্ড আদালতের কার্যধারা বেআইনী অথবা অন্যায্য হইয়াছে মর্মে বাতিল করিতে পারিবেন।
(১) বর্ডার গার্ড আদালতের নিম্নবর্ণিত দণ্ডাদেশের বিরূদ্ধে বর্ডার গার্ড আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল করা যাইবেঃ-
(২) বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন দণ্ডাদেশের বিরূদ্ধে কোন আপীল চলিবে না, যদিনা আপীলে কোন উল্লেখযোগ্য আইনের প্রশ্ন জড়িত থাকে।
(৩) দণ্ডাদেশ জারীর তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের মধ্যে এই ধারার অধীন আপীল করিতে হইবে।
(১) সরকার প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে এক বা একাধিক বর্ডার গার্ড আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে এবং বর্ডার গার্ড আপীল ট্রাইব্যুনাল তিন সদস্য বিশিষ্ট হইবে যাহাতে একজন সভাপতি ও অন্য দুই জন সদস্য থাকিবে।
(২) ন্যূনতম উপ-মহাপরিচালক পদমর্যাদার কোন কর্মকর্তা বর্ডার গার্ড আপীল ট্রাইব্যুনালের সভাপতি হইবেন এবং সদস্যদ্বয়ের একজন সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অন্য কোন বাহিনীর আইন কর্মকর্তা এবং অপরজন অ্যাটর্নী জেনারেলের প্রতিনিধি হিসাবে নিয়োজিত কোন আইন কর্মকর্তা হইবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, যে বর্ডার গার্ড আদালতের রায় বা দণ্ডাদেশের বিরূদ্ধে আপীল করা হইয়াছে উক্ত আদালতের কোন সদস্য আপীল ট্রাইব্যুনালের সভাপতি বা সদস্য হইতে পারিবেন না।
(১) ধারা ১১১ এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন প্রদত্ত রায়ের বিরূদ্ধে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদন মহাপরিচালকের মাধ্যমে বর্ডার গার্ড আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গ্রহণ করিবার এখতিয়ার থাকিবে।
(২) বর্ডার গার্ড আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আপীল গৃহীত হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল উহা পরীক্ষা করিবেন এবং পরীক্ষান্তে আপীলের যথাযথ কারণ থাকিলে উহাতে অগ্রসর হইবেন, অন্যথায় কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আপীলটি খারিজ করিতে পারিবেন।
(৩) আপীল নিষ্পত্তিকরণার্থে ট্রাইব্যুনাল যথাযথ মনে করিলে সাক্ষীগণকে হাজিরকরণ, কমিশন নিয়োগ, দলিল দাখিল ও সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড আদালতের অনুরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) আপীল ট্রাইব্যুনাল বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় ও দণ্ডাদেশ বহাল, বৃদ্ধি, হ্রাস, পরিবর্তন বা বাতিলের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, ট্রাইব্যুনাল বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশ বৃদ্ধি করিতে চাহিলে আসামীর উপস্থিতিতে তাহার বক্তব্য শ্রবণ করিতে হইবে।
(৫) আপীল ট্রাইব্যুনাল উহার নিকট উপস্থাপিত আইনগত ও তথ্যগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে এবং আপীল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
এই আইনের বিধান ব্যতীত বর্ডার গার্ড আদালত এবং বর্ডার গার্ড আপীল ট্রাইব্যুনালের কোন কার্যধারা, রায়, আদেশ বা সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে অন্য কোন অসামরিক আদালত বা সুপ্রীম কোর্টে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট আপীল ট্রাইব্যুনালের রায় বা আদেশ বা সিদ্ধান্ত ঘোষণার ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন দাখিল করিতে পারিবে।
মৃত্যু দণ্ডাদেশ কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে অপরাধীকে গলায় ফাঁস লাগাইয়া মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঝুলাইয়া মৃত্যু দণ্ডাদেশ কার্যকর করিতে হইবে।
যেক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে দণ্ডাদেশের মেয়াদ আদালত বা ট্রাইব্যুনালের সভাপতি কর্তৃক মূল কার্যধারা স্বাক্ষরিত হইবার তারিখ হইতে এবং সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের কার্যধারা আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইবার তারিখ হইতে গণনা করিতে হইবে।
যেক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় অথবা মৃত্যু দণ্ডাদেশকে লঘু দণ্ড পরিবর্তন করিয়া যাবজ্জীবন বা সশ্রম কারাদণ্ড রূপান্তর করা হয়, সেইক্ষেত্রে দণ্ড ভোগকারী ব্যক্তির অধিনায়ক অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত ফরমে লিখিত ওয়ারেন্টের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অসামরিক কারা কর্তৃপক্ষের নিকট বিদ্যমান কারা আইনানুযায়ী কারাভোগের জন্য প্রেরণ করিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সশ্রম কারাদন্ড ৯০ (নববই) দিনের অধিক না হইলে দণ্ড অনুমোদনকারী কর্মকর্তা বা যেক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ অনুমোদন করিবার প্রয়োজন হয় না, সেইক্ষেত্রে আদালত উক্ত দণ্ড বর্ডার গার্ড হাজতে অতিবাহিত হইবে মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
যেক্ষেত্রে মহাপরিচালকের পক্ষে উপ-মহাপরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন, এইরূপ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা এই মর্মে অভিমত প্রকাশ করেন যে, কোন দণ্ডাদেশ বা কারাদণ্ডর কোন অংশ বিশেষ, ধারা ১১৭ এর বিধান অনুসারে সুবিধাজনকভাবে কার্যকর করা সম্ভব নহে, সেইক্ষেত্রে উক্ত কর্মকর্তা উক্ত দণ্ড বা দণ্ডাদেশের অংশ যে কোন অসামরিক কারাগার বা অন্য কোন সুবিধাজনক স্থানে আটক রাখিয়া কার্যকর করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
এই আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডর প্রতিটি ক্ষেত্রে, কয়েদীকে যথাস্থানে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তাহাকে সশ্রম কারাদণ্ডর ন্যায় দণ্ডাদেশ ভোগ করিতে হইবে এবং এই সশ্রম কারাদণ্ডর মেয়াদ তাহার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডর মেয়াদ হিসাবে গণ্য হইবে।
যেক্ষেত্রে এই আইনের অধীন যথাযথভাবে কোন দণ্ডাদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়, সেইক্ষেত্রে যে আদেশ বা ওয়ারেন্টের বলে উক্ত ব্যক্তিকে অসামরিক কারাগারে অন্তরীণ রাখা হয়, উক্ত কারা কর্তৃপক্ষর নিকট পরিবর্তিত আদেশের প্রেক্ষিতে সংশোধিত ওয়ারেন্ট প্রেরণ করিতে হইবে।
যেক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোন জরিমানার দণ্ড আরোপ করা হয়, সেইক্ষেত্রে আদালতের সভাপতি বা, ক্ষেত্রমত, আদালত গঠনকারী কর্মকর্তা কর্তৃক উক্ত আদেশের একটি কপি স্বাক্ষরিত ও প্রত্যায়িত করিয়া সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট উহা প্রাপ্তির পর উক্ত জরিমানা Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এ উল্লিখিত জরিমানা সংক্রান্ত বিধান অনুসারে আদায় করিবেন।
যেক্ষেত্রে অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যখন কোন অভিযোগে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং ধারা ১০৯ অনুসারে দাখিলকৃত দরখাস্ত প্রত্যাখ্যাত হয়, অথবা তাহার আপীলটি অগ্রাহ্য বা প্রত্যাখ্যান করা হয়, সেইক্ষেত্রে সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড বা তদূর্ধ্ব দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার এবং অন্যান্য দণ্ডর ক্ষেত্রে মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপ-মহাপরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কর্মকর্তা-
(১) যদি কোন শর্তে কোন ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় বা তাহার দণ্ড হ্রাস করা হয় অথবা তাহাকে প্যারোলে মুক্তি প্রদান করা হয় এবং ক্ষমা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত শর্ত পূরণ করা হয় নাই, তাহা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ ক্ষমা বা দণ্ড লাঘব বা প্যারোলের আদেশটি বাতিল করিতে পারিবেন এবং তৎপ্রেক্ষিতে আদালত প্রদত্ত দণ্ডাদেশ এমনভাবে কার্যকর করা যাইবে যেন অপরাধীকে উক্ত ক্ষমা বা দণ্ড লাঘব বা প্যারোলে মুক্তি প্রদান করা হয় নাই।
(২) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) অনুসারে কোন ব্যক্তির দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হইবে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে দণ্ডাদেশের শুধুমাত্র অনতিবাহিত অংশটুকু ভোগ করিতে হইবে।
(১) যেইক্ষেত্রে অধিভুক্ত কোন ব্যক্তিকে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ধারা ১০৯ অনুযায়ী দাখিলকৃত দরখাস্তটি প্রত্যাখ্যাত হয় অথবা তাহার আপীলটি অগ্রাহ্য বা প্রত্যাখ্যাত হয়, সেইক্ষেত্রে সরকার, মহাপরিচালক বা স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালত গঠন করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তা, অপরাধীকে ইতোমধ্যে কারাগারে বা বাহিনীর হেফাজতে প্রেরণ করা হউক বা না হউক, উক্ত দণ্ড স্থগিত করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা অনুরূপ কোন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপরাধীর ক্ষেত্রে এই মর্মে আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে, উক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত অপরাধীকে কারাগার বা বাহিনীর হেফাজতে প্রেরণ করা হইবে না।
(৩) উপ-ধারা (১) এবং (২) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে যেই সকল দণ্ড অনুমোদিত হইয়াছে, হ্রাস করা হইয়াছে বা লঘু দণ্ড রূপান্তর করা হইয়াছে, সেই সকল ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যাইবে।
(১) যেক্ষেত্রে ধারা ১২৪ এর অধীন দণ্ডাদেশ স্থগিতের আদেশ প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে আদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তা আদেশ প্রদান করিবার সময়, এই মর্মে আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে, কর্তৃপক্ষের বা ধারা ১২৪ এ উল্লিখিত কর্মকর্তার আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত অপরাধীকে কারাগারে বা বাহিনীর হেফাজতে প্রেরণ করিবেন না।
(২) যেক্ষেত্রে সামারী বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে বিচার পরিচালনাকারী কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবেন।
যেক্ষেত্রে ধারা ১২৪ এর আদেশ অনুসারে কোন দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়, সেইক্ষেত্রে কারাগারে বা হাজতে প্রেরণ করা হউক বা না হউক, অপরাধীকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করিতে হইবে।
যেক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়, সেইক্ষেত্রে স্থগিত দণ্ডাদেশের মেয়াদ উক্তরূপ দণ্ডাদেশের অংশ হিসাবে গণ্য হইবে।
ধারা ১২৪ এ উল্লিখিত কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকাকালীন, ধারা ১২২ এর শর্ত সাপেক্ষে, যে কোন সময় এই মর্মে আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে,
(১) যেক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে অনধিক চার মাস অন্তর অন্তর ধারা ১২৪ এ উল্লিখিত কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা কর্তৃক অথবা অতিরিক্ত পরিচালকের নিম্নে নহে এমন কর্মকর্তা বা ধারা ১২৪ এ উল্লিখিত কর্মকর্তা কর্তৃক উক্ত স্থগিত দণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনা করিতে হইবে।
(২) যদি উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক পুনর্বিবেচনায় ইহা প্রতীয়মান হয় যে, দণ্ডর মেয়াদ আরম্ভ হইবার পর হইতে অপরাধীর পরিবর্তীত আচরণ তাহার দণ্ড লাঘবের ন্যায্যতা প্রতিপাদন করে, তাহা হইলে তিনি ধারা ১২৪ এ উল্লিখিত কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি উপস্থাপন করিবেন।
কোন অপরাধীর দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকা অবস্থায় অন্য কোন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হইলে-
ধারা ১২৪ বা ১২৫ এর অধীন প্রদেয় ক্ষমতা দণ্ডাদেশের মাত্রা হ্রাস, লাঘব বা লঘু দণ্ড রূপান্তরিত করিবার ক্ষমতার অতিরিক্ত হইবে এবং উহার কোন ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করিবে না।
(১) যে ক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অন্যান্য দণ্ডের অতিরিক্ত বরখাস্তজনিত দণ্ড প্রদান করা হয় এবং ধারা ১২৪ এর অধীন অন্যান্য দণ্ড স্থগিত করা হয়, সেইক্ষেত্রে ধারা ১২৫ এ উল্লিখিত কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তার নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত উক্ত বরখাস্ত কার্যকর হইবে না।
(২) যদি ধারা ১২৮ এর ক্ষমতাবলে অন্যান্য দণ্ড লাঘব করা হয়, তাহা হইলে বরখাস্তের দণ্ডও লাঘব হইবে।
এই আইন এবং তদ্ধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধি বা প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশের অধীন সরল-বিশ্বাসে কৃত কোন কাজকর্মের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে সরকার, মহাপরিচালক বা অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি বা তাহাদের আদেশ বা নির্দেশ পালনকারী ব্যক্তির বিরূদ্ধে কোন ধরনের মামলা বা অন্যবিধ আইনগত কার্যধারা কোন আদালতে গ্রহণ করা যাইবে না।
(১) নিম্নবর্ণিত আইনদ্বয় এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল, যথাঃ-
(২) এই আইন কার্যকর হইবার পূর্বে Bangladesh Rifles Order, 1972(President's Order No. 148 of 1972) এর অধীন গঠিত ‘বাংলাদেশ রাইফেলস্’ এ যে সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (Superior Officer), অধঃস্তন কর্মকর্তা (Sub-ordinate Officer), রাইফেলম্যান (Riflemen), সিগনেলম্যান (Signalman) ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগপ্রাপ্ত হইয়াছিল তাহারা এই আইন কার্যকর হওয়ার পর এই আইনের অধীন গঠিত ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ এর আওতাভুক্ত ক্ষেত্রমত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা, পদবিধারী বর্ডার গার্ড সদস্য, তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্য ও অন্যান্য কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে এই সংস্থায় তাহাদের জন্য নিজ নিজ দপ্তর ও কর্মের যে মেয়াদ ও শর্তাবলী প্রযোজ্য ছিল এই আইন কার্যকর হওয়ার পর তাহাদের জন্য এই আইন ও এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি এবং প্রবিধি সাপেক্ষে একই মেয়াদ ও শর্তাবলী প্রযোজ্য হইবে।
(৩) Bangladesh Rifles Order, 1972(President's Order No. 148 of 1972) এর অধীন গঠিত বাংলাদেশ রাইফেলস এর যে সকল অস্থাবর বা স্থাবর সম্পত্তি, তহবিল, দায় ও দলিলাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেই সকল সম্পত্তি, তহবিল, দায় ও দলিলাদি এই আইন কার্যকর হওয়ার পর এই আইনের অধীন গঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর নিকট তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং অর্পিত হইবে।
(৪) Bangladesh Rifles Order, 1972(President's Order No. 148 of 1972) এর অধীন প্রণীত সকল বিধি, প্রবিধি, বা স্থায়ী আদেশ (standing orders) যাহা উক্ত আইন রহিত হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর ছিল উহা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধি বা নির্দেশমালা দ্বারা রহিত বা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ এবং যতদূর পর্যন্ত আইনের বিধানাবলীর পরিপন্থী না হয় ততদূর পর্যন্ত কার্যকর থাকিবে।
(৫) Bangladesh Rifles Order, 1972(President's Order No. 148 of 1972) এবং Bangladesh Rifles (Special Provisions) Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXXV of 1976) এর অধীন কৃত কোন কাজ-কর্ম অথবা জারীকৃত কোন আদেশ, বিভাগীয় কার্যধারা, বাহিনীর কোন সদস্যের উপর গৃহীত কোন শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা বাহিনীর আদালতের কার্যধারা, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে,রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে এবং এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন কৃত, প্রণীত, জারীকৃত, দায়েরকৃত, পেশকৃত, মঞ্জুরীকৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৬) এই আইন প্রবর্তনের তারিখে বাংলাদেশ রাইফেলস এর কোন সদস্যের বিরূদ্ধে রহিতকৃত আইনদ্বয়ের অধীন দায়েরকৃত কোন মামলা বা কার্যধারা কোন আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত আইনদ্বয় রহিত হয় নাই।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) উপরিউল্লিখিত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া বিশেষভাবে উক্ত বিধিতে নিম্নবর্ণিত বিষয় সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা যাইবে, যথাঃ-
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মহাপরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ধারা ১৩৫ এ উল্লিখিত বিষয়াবলী ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে এই আইন বা বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন।
এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে যাহা এই আইনের অনূদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।