[জাতীয়] ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন [যেহেতু সরকার মনে করে যে, ক্রীড়া, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার ক্ষেত্রে যাহারা বিশেষ অবদান রাখিয়াছেন বা রাখিতেছেন তাঁহাদের এবং তাঁহাদের উপর নির্ভরশীলদের কল্যাণার্থে ‘বাংলাদেশ ক্রীড়াবিদ কল্যাণ ট্রাস্ট’ এর স্থলে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-]
(১) এই আইন [জাতীয়] ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০১১ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) এই আইন বলবৎ হইবার পর সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, [জাতীয়] ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) ফাউন্ডেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয়বিধ সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহার নামে উহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) ফাউন্ডেশন প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
(১) ফাউন্ডেশনের পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ফাউন্ডেশন যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) বোর্ড উহার কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নীতি অনুসরণ করিবে।
[৬। (১) ফাউন্ডেশনের পরিচালনা বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (থ) এর অধীন মনোনীত কোন সদস্য তাঁহার মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসরের জন্য স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপে মনোনীত কোন সদস্য, ইচ্ছা করিলে, যে-কোন সময় চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক উহা গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পদটি শূন্য হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, সরকার, মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেই কোন কারণ প্রদর্শন ব্যতিরেকে, মনোনীত কোন সদস্যকে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে।]
[৭। ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি ছয় মাসে বোর্ডের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে [সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যান] সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
[(৫) প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।]
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
বোর্ড উহার কার্যাবলী দক্ষতার সহিত সম্পাদনে সহায়তা করিবার জন্য যেইরূপ সঙ্গত মনে করিবে সেইরূপ এক বা একাধিক কমিটি গঠন এবং উহাদের দায়িত্ব ও কার্যাবলী নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(১) ফাউন্ডেশনের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথাঃ-
(২) তহবিলের অর্থ ফাউন্ডেশনের নামে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান ও বোর্ডের সদস্য-সচিব এর যৌথ স্বাক্ষরে তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন করা যাইবে।
(৪) তহবিল হইতে ফাউন্ডেশনের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।
[১১। (১) ফাউন্ডেশনের একজন নির্বাহী পরিচালক থাকিবেন।
(২) নির্বাহী পরিচালক সরকারের অন্যূন যুগ্মসচিব পর্যায়ের কোন কর্মকর্তার মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার বেতন, ভাতা ও চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) নির্বাহী পরিচালক ফাউন্ডেশনের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
(৪) নির্বাহী পরিচালকের পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে নির্বাহী পরিচালক তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত, কিংবা নির্বাহী পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।]
ফাউন্ডেশন উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য বোর্ড বা কোন সদস্য বা অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা, প্রয়োজনবোধে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে চেয়ারম্যান, কোন সদস্য, [নির্বাহী পরিচালক] বা ফাউন্ডেশনের অন্য যে কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
ফাউন্ডেশন প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্টকৃত সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ফাউন্ডেশনের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে।
(১) ফাউন্ডেশন, প্রচলিত আইন অনুসরণক্রমে, উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর ফাউন্ডেশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ফাউন্ডেশনের সকল রেকর্ড, দলিল এবং দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং যে কোন সদস্য এবং ফাউন্ডেশনের যে কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(১) ফাউন্ডেশন তদ্কর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন প্রতি বৎসর জানুয়ারি মাসে সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, প্রয়োজনে, যে কোন সময় ফাউন্ডেশনের নিকট হইতে উহার যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং ফাউন্ডেশন সরকারের নিকট উহা সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ফাউন্ডেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, প্রয়োজনবোধে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
(১) ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ৩০ এপ্রিল, ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখের ক্রীড়া-১/১০ম-৩৩/৮৪-১৬৭ নং প্রজ্ঞাপন, অতঃপর বিলুপ্ত প্রজ্ঞাপন বলিয়া উল্লিখিত, বাতিল হইয়া যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন বাতিল হইবার সঙ্গে সঙ্গে-