উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদির আন্তর্জাতিক পরিবহনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পোকা-মাকড়, রোগ-বালাই অনুপ্রবেশ ও বিস্তার রোধ এবং উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ এতদ্সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক ও সহায়ক ব্যবস্থাদি গ্রহণকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদির আন্তর্জাতিক পরিবহনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পোকা-মাকড়, রোগ-বালাই অনুপ্রবেশ ও বিস্তার রোধ এবং উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ এতদ্সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক ও সহায়ক ব্যবস্থাদি গ্রহণকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
(১) এই আইন উদ্ভিদ সংগনিরোধ আইন, ২০১১ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘আমদানি’’ অর্থ জল, স্থল বা আকাশপথে অন্য কোন দেশ হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আনয়ন করা;
(২) ‘‘আমদানি অনুমতিপত্র’’ অর্থ ধারা ১০ এর বিধান অনুযায়ী প্রদত্ত একটি দাপ্তরিক সনদপত্র যাহা উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিপালন সাপেক্ষে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু অথবা প্যাকিং দ্রব্যাদি আমদানির অনুমতি প্রদান করে;
(৩) ‘‘আমদানিকারক’’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন, স্বত্বাধিকারী, প্রাপক (consignee) বা প্রতিনিধি (agent)যাহার অধিকারে বা তত্ত্বাবধানে বা নিয়ন্ত্রণে কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু অথবা প্যাকিং দ্রব্যাদি রহিয়াছে এবং যাহা আইনানুগভাবে অন্য কোন দেশ হইতে বাংলাদেশে পৌঁছিয়াছে বা পৌঁছানোর অপেক্ষমান;
(৪) ‘‘আক্রমণ (infestation) ’’ অথবা ‘‘সংক্রমণ (infection)’’ অর্থ কোন নির্দিষ্ট উদ্ভিদ, উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি বা উহার প্যাকিং দ্রব্যাদির মধ্যে জীবন্ত বালাই এর উপস্থিতি;
(৫) ‘‘উপকারী জীবাণু’’ অর্থ ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, নেমাটোড, ভাইরাস, ভাইরাসের মত জীবাণুসহ যে কোন সমজাতীয় জীবাণু বা এমন কোন অমেরুদন্ডী প্রাণী যাহা বালাই দমনে বা পরাগায়নে বা বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান কৃষিজ দ্রব্যাদি উৎপাদনের জন্য উপকারী এবং যাহা সরকার কর্তৃক সময় সময় কৃষি উৎপাদনের জন্য উপকারী বলিয়া ঘোষিত;
(৬) ‘‘উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদপত্র (phytosanitary certificate) ’’ অর্থ-
(৭) ‘‘উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা’’ অর্থ ধারা ৮ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা;
(৮) ‘‘উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি’’ অর্থ উদ্ভিদ প্রজাতি বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি বা বীজসহ উদ্ভিদের জীবন্ত বা মৃত অংশ, উদ্ভিদ উৎসের বংশ উৎপাদনকারী, জার্মপ্লাজম, উদ্ভিদ উৎসের প্রক্রিয়াকৃত বা অপ্রক্রিয়াকৃত দ্রব্যাদি যাহা তাহাদের বৈশিষ্ট্যের কারণে অথবা প্রক্রিয়াকরণের কারণে বালাই বহন, সংক্রমণ এবং বিস্তার করিতে সক্ষম;
(৯) ‘‘কনটেইনমেন্ট’’ অর্থ উদ্ভিদ সংগনিরোধ বালাই এর বিস্তার রোধকল্পে সংক্রমিত এলাকার ভিতরে এবং বাহিরে উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা;
(১০) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ ধারা-৩ এ বর্ণিত জাতীয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্তৃপক্ষ;
(১১) ‘‘ট্রানজিট’’ অর্থ কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিতজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু অথবা প্যাকিং দ্রবাদি এক দেশে হইতে অন্য দেশে পরিবহনকালে বাংলাদেশ অতিক্রমের সময় উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থা ও সংগনিরোধ পদ্ধতির আওতায় থাকা;
(১২) ‘‘নিয়ন্ত্রিত এলাকা’’ অর্থ ধারা ২১ এর অধীন ঘোষিত নিয়ন্ত্রত এলাকা;
(১৩) ‘‘প্যাকিং দ্রব্যাদি’’ অর্থ উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, বালাই বা উপকারী জীবাণু প্যাকিং, ধারণ অথবা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয় এমন কোন দ্রব্যাদি;
(১৪) ‘‘পরিদর্শন’’ অর্থ উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদিতে বালাই এর উপস্থিতি অথবা উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিপালন করা হইতেছে কিনা তাহা নির্ণয়ের লক্ষ্যে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি অথবা প্যাকিং দ্রব্যাদির চাক্ষুস পরীক্ষণ;
(১৫) ‘‘প্রবেশোত্তর সংগনিরোধ’’ অর্থ বাংলাদেশে প্রবেশের পর উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদির উপর পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, পরিদর্শন, শোধন সম্পর্কিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা এবং উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক এইরূপ উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদির কনসাইনমেন্ট এর উপর আরোপিত বাধা-নিষেধ;
(১৬) ‘‘ফসল’’ অর্থ যে কোন কৃষিজ, উদ্যানতাত্ত্বিক, ঔষধি ও আঁশ ফসল এবং সকল প্রকার উদ্ভিদ, লতা গুল্মাদি এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি;
(১৭) ‘‘বাহন’’ অর্থ উদ্ভিদ, উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, বালাই, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি জল, স্থল বা আকাশপথে এক স্থান হইতে অন্য স্থানে পরিবহন করিতে সক্ষম এমন সকল প্রকার যান্ত্রিক বা অযান্ত্রিক বা প্রাণী বা মানুষ চালিত বাহন;
(১৮) ‘‘বালাই নির্জিবীকরণ (disinfestation) ’’ বা ‘‘সংক্রামক জীবাণু নাশকরণ (disinfection) ’’ অর্থ উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদির উপরে, ভিতরে বা মধ্যস্থিত অংশে থাকে বা থাকিতে পারে এমন যে কোন পোকামাকড় বা রোগ জীবাণুর সংক্রমণ ধ্বংস বা হ্রাস করিবার উদ্দেশ্যে গৃহীত যে কোন বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা;
(১৯) ‘‘বালাই (pests) ’’ অর্থ যে কোন ধরনের উদ্ভিদ বা জীবন্ত প্রাণীর প্রজাতি, স্ট্রেইন বা বায়োটাইপ বা উপকারী জীবাণু ব্যতীত রোগ সৃষ্টিকারী যে কোন জীবাণু, যাহা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি বা উপকারী জীবাণুর ক্ষতিসাধন করিতে সক্ষম এবং লিভিং মডিফাইড অর্গানিজমস্, এলিয়েন ইনভেসিভ স্পেসিস এবং আগাছাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২০) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি ; এবং
(২১) ‘‘রপ্তানী’’ অর্থ জল, স্থল বা আকাশপথে বাংলাদেশ হইতে আইনানুগভাবে অন্য যে কোন দেশে প্রেরণ করা।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, জাতীয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী জাতীয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্তৃপক্ষ নামে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত পরিচালক, উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জাতীয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবে এবং এই আইনের অধীন যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং-এ কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।
কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ উহার যে কোন ক্ষমতা উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের অধীন অন্য যে কোন কর্মকর্তার অনুকূলে অর্পণ করিতে পারিবে।
(১) Imports and Exports (Control) Act, 1950 (Act No. XXXIX of 1950)এর অধীন সরকার কর্তৃক, সময় সময় জারীকৃত আমদানি বা রপ্তানি নীতি আদেশে উল্লিখিত শর্তে কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদিতে বালাই সংক্রমণের কারণ হইতে পারে এইরূপ কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদির আমদানি বা রপ্তানি নিষিদ্ধ বা শর্তারোপকৃত বা অন্য কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাইবে।
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি এবং প্যাকিং দ্রব্যাদি আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে Customs Act, 1969 (Act IV of 1969)-এ শুল্ক কর্মকর্তাদের, সময় সময়, বাধা- নিষেধ আরোপ করিবার যেই ক্ষমতা রহিয়াছে, সেই একই ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাইবে এবং উক্ত আইন এর বিধানাবলী একইরূপে এই আইনের ক্ষেত্রেও বলবৎ থাকিবে।
উদ্ভিদ সংগনিরোধের জন্য আটক বা বাজেয়াপ্ত সকল উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে থাকিবে, এবং তিনি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদির সংগনিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং-এর প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তাকে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে।
(১) আমদানি অনুমতিপত্র ব্যতিরেকে কোন আমদানিকারক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু, মাটি অথবা প্যাকিং দ্রব্যাদি আমদানি করিতে পারিবে না।
(২) কর্তৃপক্ষ, সময় সময়, সরকারের পূর্বানুমতিক্রমে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি আমদানির পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ, সরকারের অনুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময়, কোন নির্দিষ্ট উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদিকে আমদানির শর্তাবলী হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(১) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আমদানি অনুমতিপত্র ও প্রত্যয়নপত্র ব্যতিত উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু অথবা প্যাকিং দ্রব্যাদি আমদানি করা যাইবে না।
(২) যে কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু অথবা প্যাকিং দ্রব্যাদি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রবেশ পথে বাংলাদেশে আমদানি করা যাইবে এবং আমদানি ঘোষণা প্রদান করিয়া কনসাইনমেন্টটির অনুকূলে প্রদত্ত আমদানি অনুমতিপত্র এবং রপ্তানিকারক দেশের জাতীয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদপত্রসহ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তার পরীক্ষার জন্য দাখিল করিতে হইবে।
(৩) উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি আমদানি করা হইলে উহাতে কিরূপ শোধন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করিতে হইবে বা আমদানির পূর্বে বা পরে উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতকরণার্থে প্রবেশোত্তর সংগনিরোধসহ যে সকল ব্যবস্থাদি গ্রহণ করিতে হইবে, তাহা আমদানি অনুমতিপত্রে বর্ণিত থাকিবে।
কর্তৃপক্ষ যুক্তিসংগত কারণে-
(১) কোন ব্যক্তি তাহার সম্মতিক্রমে বা অসম্মতিতে, কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু অথবা প্যাকিং দ্রব্যাদি বাংলাদেশের বাহির হইতে প্রাপ্ত হইলে, তিনি উহা নিকটস্থ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তার নিকট ঘোষণা প্রদান করিবেন।
(২) উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা উল্লিখিত দ্রব্যাদি পরীক্ষান্তে উহা ছাড়করণ বা ধ্বংসকরণ বা শোধন বা নিষ্পত্তি করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তার আদেশ মোতাবেক উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু অথবা প্যাকিং দ্রব্যাদি বহনকারী ও গুদামজাতকারী বা বাহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত বাহন, এবং উহার অভ্যন্তরস্থ দ্রব্যাদি পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শোধনের জন্য উন্মুক্ত করিয়া দিতে বাধ্য থাকিবে।
যে কোন আমদানিকারক উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তার চাহিদা মোতাবেক আমদানিকৃত দ্রব্যাদি পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহ করিবার অনুমতি প্রদানে বাধ্য থাকিবে।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তার পরীক্ষাধীন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, বালাই, উপকারী জীবাণু এবং প্যাকিং দ্রব্যাদি তাহার অনুমতি ব্যতিত স্থানান্তরিত করা যাইবে না বা কোন কন্টেইনার খোলা যাইবেনাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কাস্টমস্ অথবা পোস্ট অফিসের কর্মকর্তার কার্য নির্বাহের জন্য বর্ণিত বিধানটি শিথিলযোগ্য হইবে।
এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিয়া বাংলাদেশে আমদানি করা উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি অথবা ট্রানজিটে থাকা উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি অথবা বাংলাদেশের এক অংশ হইতে অন্য অংশে বহন করা উক্ত দ্রব্যাদি, যাহা বালাই পোষণকারী হিসাবে সন্দেহযুক্ত, তাহা আটক করা যাইবে অথবা ক্ষেত্রবিশেষে উহা প্রবেশে অসম্মতি প্রদান, ধ্বংস, অপসারণ, শোধন বা উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অন্য যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
(১) উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি রপ্তানির ক্ষেত্রে সংগনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক প্রতিটি কনসাইনমেন্ট রপ্তানি-পূর্ব পরীক্ষা করাইতে হইবে।
(২) রপ্তানীর উদ্দেশ্যে উপস্থাপনকৃত উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদির প্রত্যেকটি কনসাইনমেন্ট আমদানিকারী দেশের উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসুরক্ষা চাহিদা অনুযায়ী উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরীক্ষিত হইবে।
(৩) উপস্থাপনকৃত কনসাইনমেন্টটি উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদপত্র প্রাপ্তির উপযুক্ত প্রতীয়মান হইলে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদপত্র ইস্যু করিবেন।
(১) কোন রপ্তানিকারক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদপত্র (phytosanitary certificate) ব্যতিরেকে কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি রপ্তানি করিতে পারিবে না।
(২) কর্তৃপক্ষ, সময় সময় সরকারের পূর্বানুমতিক্রমে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি রপ্তানির পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ, সরকারের অনুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময় রপ্তানির শর্তাবলী হইতে কোন নির্দিষ্ট উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদিকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
কর্তৃপক্ষ, সরকারের পৃর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, বালাই, জেনেটিক্যালি মডিফাইড অর্গানিজমস্, লিভিং মডিফাইড অর্গানিজমস্ এবং এলিয়েন ইনভেসিভ স্পেসিস, উপকারী জীবাণু, জার্মপ্লাজম, প্যাকিং দ্রব্যাদি অথবা বালাই পোষণকারী ও বিস্তারকারী সমজাতীয় যে কোন দ্রব্যাদির অনুপ্রবেশ, প্রবর্তন, বিক্রয়, চাষাবাদ, বংশবৃদ্ধিকরণ বা পরিবহন নিষিদ্ধ বা বাধা-নিষেধ আরোপ করিতে পারিবে।
(১) কোন সংগনিরোধ বালাই বিরাজমান থাকিলে বা বিরাজমান থাকিবার আশঙ্কা থাকিলে অথবা কোন বালাই যদি ফসল উৎপাদন, উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদির ব্যবসা, উপকারী জীবাণু বা প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য শঙ্কাপূর্ণ হয় বা কোন বালাই যদি বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করিয়াছে মর্মে নিশ্চিত হওয়া যায় অথবা বাংলাদেশে বিদ্যমান রহিয়াছে এমন বালাই সীমাবদ্ধকরণ ও নির্মূলকরণ প্রয়োজনীয় বলিয়া পরিগণিত হয় তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা উক্ত বালাইকে সংগনিরোধ বালাই হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।
(২) কোন জমি অথবা কোন আঙ্গিনায় সংগনিরোধ বালাই হিসাবে পরিচিত বা অনুমিত বালাই পাওয়ার ক্ষেত্রে, ঐ জমি বা আঙ্গিনার অধিকারী বা মালিক উহা নিকটস্থ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন।
কর্তৃপক্ষ, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে, যথাঃ-
(১) যদি উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা এই মর্মে নিশ্চিত হন যে, কোন একটি স্থানে সংগনিরোধ বালাই রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি ঐ স্থানের অধিকারী বা মালিকের উপর লিখিত বিজ্ঞপ্তি জারী করিতে পারিবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি সংগনিরোধ বালাই নির্মূল, সীমাবদ্ধ এবং বিস্তার সীমিত করিবার লক্ষ্যে উক্ত জমি বা আঙ্গিনার অধিকারী মালিককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পন্ন করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) কোন জমি বা আঙ্গিনার মালিক বা অধিকারী যদি উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তির কোন শর্ত অমান্য করে বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিপালন করিতে অপারগ হয়, তাহা হইলে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা ঐ জমিতে বা আঙ্গিনায় প্রবেশ করিতে এবং লিখিত বিজ্ঞপ্তি জারী করিয়া উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসুরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৩) উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা, সংগনিরোধ ব্যবস্থার অধীন রক্ষিত কোন জমি বা আঙ্গিনার অবস্থা সম্বন্ধে নিয়মিত পর্যালোচনা করিবেন এবং যখন এই মর্মে নিশ্চিত হইবেন যে, সংশ্লিষ্ট বালাই নির্মূল হইয়াছে এবং সংশ্লিষ্ট জমিতে বা উহার অংশবিশেষে সংগনিরোধ বিধি-নিষেধ বজায় রাখার প্রয়োজন নেই, সেই ক্ষেত্রে, সংগনিরোধ বিধি-নিষেধের আওতামুক্ত হওয়ার তারিখ উল্লেখপৃর্বক বিজ্ঞপ্তি দ্বারা জমির মালিক বা অধিকারীকে উহা জ্ঞাত করাইবেন।
কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, ডাক বিভাগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, রেল বিভাগ, শিপিং এজেন্সীজ, বিমান এবং সমজাতীয় সকল প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা এই আইনের পরিপন্থী কার্যক্রম রোধ করিতে এবং উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তাকে এই আইনের আওতায় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিবে।
(১) সরকার, উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া সংগনিরোধ বালাই নির্মূল, সীমাবদ্ধ বা বিস্তার রোধ করিবার ক্ষেত্রে কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি বা অন্য কোন দ্রব্যাদি ধ্বংস করিলে ক্ষেত্রমত, সরকারি অর্থের যোগান ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করিয়া ধ্বংসকৃত উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি বা সমজাতীয় অন্যান্য দ্রব্যাদির ক্ষতিপূরণ উহার স্বত্বাধিকারীকে প্রদান করিতে পারিবে।
(২) কোন ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হইবেন না, যদি উপ-ধারা-১ এর অধীন গৃহীত ব্যবস্থা সংশোধনের জন্য গ্রহণ করা হইয়া থাকে এবং উহা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অমনোযোগিতার জন্য বা আইনানুগ নির্দেশাবলী মানিতে অপারগ হওয়ার জন্য বা এই আইনের বর্ণিত বিধান ভঙ্গের জন্য ঘটিয়া থাকে।
(৩) কর্তৃপক্ষ সরকারের পৃর্বানুমোদনক্রমে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা পারিপার্শ্বিক অবস্থার সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণ করিয়া ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করিতে পারিবে।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি আটক, অপেক্ষারত অবস্থায় রাখা, প্রবেশাধিকার নিষেধ, ফেরত প্রদান, শোধন, অপসারণ বা ধ্বংস কার্যক্রম গ্রহণ করিবার ক্ষেত্রে, যথাশীঘ্র সম্ভব, যেই সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইয়াছে তাহাসহ উক্তরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের কারণ দ্রব্যের মালিককে অবগত করিবে।
কোন ব্যক্তি, কোম্পানি বা সংস্থা নিজে অথবা কর্মচারী বা প্রতিনিধির মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত কার্যসমূহসহ এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে এই আইনের আওতায় উহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-
কোন কোম্পানী কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর এমন প্রত্যেক পরিচালক, অংশীদার, প্রধান নির্বাহী, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা প্রতিনিধি উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
ব্যাখ্যা: এই ধারায়-
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
এই আইনের অধীন উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য(non-cognizable)এবং জামিনযোগ্য (Bailable) হইবে।
(১) কোন ব্যক্তি ধারা ২৬ এ বর্ণিত অপরাধ করিলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা ৫,০০,০০০(পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(২) নিষিদ্ধ দ্রব্য হইতে প্রাপ্ত সকল অর্থ ও মুনাফা বাজেয়াপ্ত করা যাইবে।
(১) এই আইনের অধীন কোন দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হইলে, ধ্বংস করিতে হইবে এমন দ্রব্য ব্যতীত অন্যান্য দ্রব্যাদি, প্রকাশ্য নিলামে বা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক অন্য কোন আইনসম্মত উপায়ে বিক্রয় বা অন্য কোনভাবে নিষ্পত্তি করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন বিক্রয় বা অন্য কোনভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করিতে হইবে।
ফৌজদারী কার্যবিধি আইন, ১৮৯৮তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ৩১ এ বর্ণিত যে কোন দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের অধীন লিখিত কোন আদেশ দ্বারা কোন অনুমতিপত্র বা সনদপত্র গ্রহীতা সংক্ষুদ্ধ হইলে উক্ত সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি অনুরূপ আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ১৫(পনের) দিনের মধ্যে প্রতিকার লাভের উদ্দেশ্যে নিম্নরূপ নিয়ম অনুসরণপূর্বক আপীল করিতে পারিবেন, যথাঃ-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আপীল দাখিল হইলে, আপীল দাখিলের অনধিক ৯০(নববই) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
সরকার কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু অথবা প্যাকিং দ্রব্যাদি পরিদর্শন, পরীক্ষণ অথবা ঐ সব উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু অথবা প্যাকিং দ্রব্য শোধনের জন্য, সময় সময়, ফিস ও মাসুল নির্ধারণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত ফিস ও মাসুল আদায় পদ্ধতিও নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
কোন আমদানিকারক আমদানি অনুমতিপত্রে উল্লিখিত শর্ত লঙ্ঘন করিয়া কোন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি, উপকারী জীবাণু অথবা প্যাকিং দ্রব্যাদি আমদানি করিলে উক্ত আমদানিকৃত দ্রব্যাদি শোধন বা অপসারণ বা ধ্বংস করিবার ক্ষেত্রে যাবতীয় ব্যয় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক বহন করিবে।
এই আইন বা তদাধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন সরল বিশ্বাসে কৃতকর্মের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য কর্তৃপক্ষ বা উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা বা সরকারের বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না
এই আইনের কোন বিধানে অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে, কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, অন্যান্য বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা উক্তরূপ অসুবিধা দূরীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রীকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, উক্তরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়েও বিধান করা যাইবে, যথা:-
এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের হুবহু ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, মূল বাংলা পাঠ এবং ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
The Destructive Insects and Pests Act, 1914 (Act No. II of 1914) অত:পর রহিতকৃত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল। উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিতকৃত আইনের অধীন কৃত কাজ কর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।