বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করিবার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট স্থাপন এবং এতদ্সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করিবার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট স্থাপন এবং এতদ্সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
(১) এই আইন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট আইন, ২০১১ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।
* এস, আর, ও নং ৪৬-আইন/২০১২, তারিখ: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ইং দ্বারা ০৩ ফাল্গুন, ১৪১৮ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে -
(১) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান;
(২) ‘‘ট্রাস্ট’’ অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট;
(৩) ‘‘তহবিল’’ অর্থ ধারা ১০ এ উল্লিখিত ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট তহবিল’;
(৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৫) ‘‘ট্রাস্টি বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড;
(৬) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৭) ‘‘সদস্য’’ অর্থ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য।
(১) এই আইন বলবৎ হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব সরকার এই আইনের বিধান অনুযায়ী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করিবে।
(২) ট্রাস্ট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) ট্রাস্টি বোর্ড প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
ট্রাস্টের সার্বিক পরিচালনা ও প্রশাসন ধারা ৭ এর অধীন গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(১) ট্রাস্টি বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ-
(২) উপ-ধারা (১) এর ক্রমিক নং (ট), (ঠ) ও (ড) এ উল্লিখিত মনোনীত সদস্যগণ মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, প্রয়োজনবোধে, যে কোন সময় তৎকর্তৃক মনোনীত যে কোন সদস্যকে মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে কোন কারণ- দর্শানো ব্যতিরেকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) শুধুমাত্র সদস্যপদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ক্রটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(৪) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক ট্রাস্টি বোর্ডের প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করিবেন।
ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, ট্রাস্টি বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) ট্রাস্টি বোর্ডের সভা, চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) ন্যূনতম প্রতি তিন মাসে একবার অথবা চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে প্রয়োজনে যে কোন সময় সভা আহবান করা যাইবে।
(৫) ট্রাস্টি বোর্ডের সভার কোরামের জন্য মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৬) ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(১) ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট তহবিল’ নামে ট্রাস্টের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথাঃ--
(২) তহবিল ট্রাস্টের নামে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত পদ্ধতিতে উঠানো যাইবে।
(৩) ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দীর্ঘ মেয়াদী আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবে ট্রাস্টের একটি রিজার্ভ ফান্ড সৃষ্টি করা যাইবে এবং উহা হইতে অর্জিত সুদ দ্বারা ট্রাস্টের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং ট্রাস্টের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
(১) ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনক্রমে ব্যাংক হিসাব খোলা হইবে এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সদস্য-সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে হিসাব পরিচালিত হইবে।
(২) ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনক্রমে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম সম্পাদিত হইবে।
ট্রাস্ট প্রত্যেক বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী (ট্রাস্ট সংক্রান্ত) সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ট্রাস্টের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
(১) ট্রাস্ট উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর ট্রাস্টের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ট্রাস্টের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন।
(৪) প্রত্যেক অর্থ বৎসর শেষ হইবার সংগে সংগে ট্রাস্টি বোর্ড উক্ত অর্থ বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(৫) সরকার প্রয়োজন মত ট্রাস্টি বোর্ডের নিকট হইতে যে কোন সময়ে উহার যে কোন কাজের প্রতিবেদন বা বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং ট্রাস্টি বোর্ড উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
ট্রাস্টি বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা, প্রয়োজনবোধে এবং নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্যের নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ট্রাস্টি বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদন এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
১) এই আইনের ধারা ৩ এর অধীন সরকার কর্তৃক ট্রাস্ট গঠিত হইবার পর ১৭-০৫-২০০১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত ১৯ নং ট্রাস্ট দলিল দ্বারা গঠিত”Science and Technology Promotion Trust”অতঃপর বিলুপ্ত ট্রাস্ট বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে।
(২) বিলুপ্ত ট্রাস্টের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ এই আইন দ্বারা গঠিত ট্রাস্টের অনুকূলে ন্যস্ত হইবে।
(৩) বিলুপ্ত ট্রাস্টের অধীন কৃত কোন কার্যক্রম অথবা গৃহীত কোন ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।