[পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, গোপালগঞ্জ] প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকরী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ—
(১) এই আইন [পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, গোপালগঞ্জ] আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে—
(১) ‘‘একাডেমি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত [পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, গোপালগঞ্জ];
(২) ‘‘চেয়ারম্যান ’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;
(৩) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৫) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত বোর্ড;
(৬) ‘‘ভাইস-চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান;
(৭) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ একাডেমির মহাপরিচালক;
(৮) ‘‘সদস্য’’ অর্থ বোর্ডের সদস্য।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, এই আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, [পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, গোপালগঞ্জ (Rural Development Academy, Gopalganj)] নামে একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হইবে।
(২) একাডেমি একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে, যাহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীল মোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উক্ত নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
একাডেমির প্রধান কার্যালয় হইবে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায় এবং, প্রয়োজনে, সরকার দেশের যে কোন স্থানে ইহার শাখা স্থাপন করিতে পারিবে।
একাডেমির গবেষণা এলাকা হইবে সমগ্র বাংলাদেশ।
একাডেমির সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং একাডেমি যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে বোর্ড সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে বোর্ড গঠিত হইবে, যথাঃ—
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ধ) এর অধীন মনোনীত সদস্য তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে তিন বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন;
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যে কোন সময় তাহার সদস্য পদ বাতিল করিতে পারিবে।
(৩) চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে লিখিত স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে মনোনীত কোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত কোন পদত্যাগ কার্যকর হইবে না।
—(১) চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও স্থানে বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) প্রতি চার মাসে বোর্ডের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) বোর্ডের সকল সভা চেয়ারম্যান-এর সভাপতিত্বে এবং তাহার অনুপস্থিতিতে ভাইস চেয়ারম্যান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৪) বোর্ডের সভার কোরাম গঠনের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
(৫) বোর্ডের সভায় উপস্থাপিত সকল বিষয় উপস্থিত সদস্যগণের প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হইবে।
(৬) বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে, সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
(৭) কেবল বোর্ডের কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে অসংগতির কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা সিদ্ধান্ত অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
একাডেমির কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ—
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সময় সময়, বোর্ডকে, পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের প্রয়োজনে, তদবিবেচনায় যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং বোর্ড উক্তরূপ সকল নির্দেশনা পালন করিবে।
একাডেমির স্বার্থে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে, চেয়ারম্যান অনুরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং বোর্ডকে তাহার অনুরূপ পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করিবেন।
(১) একাডেমির একজন মহাপরিচালক থাকিবেন, যিনি সরকারের যুগ্ম-সচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে নিযুক্ত হইবেন।
(২) মহাপরিচালক একাডেমির একজন সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন এবং প্রধান নির্বাহী হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) মহাপরিচালকের দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ—
(৪) মহাপরিচালক বোর্ডের যাবতীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বোর্ডের নিকট দায়ী থাকিবেন।
(৫) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে মহাপরিচালক তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, সরকার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে তদবিবেচনায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(১) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, একাডেমি উহার কার্যাবলী সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে, চেয়ারম্যান, সদস্য, মহাপরিচালক বা একাডেমির কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(১) একাডেমির একটি তহবিল থাকিবে, যাহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে—
(২) বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এক বা একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে একাডেমির তহবিল জমা রাখিতে হইবে;
তবে শর্ত থাকে যে, কোন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক না থাকিলে সরকারের অনুমোদনক্রমে যে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে একাডেমির তহবিল জমা রাখা যাইবে।
(৩) একাডেমির তহবিল হইতে একাডেমির প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
(৪) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে একাডেমির তহবিল বিনিয়োগ করা যাইবে।
একাডেমি, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ বৎসরে, সরকারের নিকট হইতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।
(১) সরকার কর্তৃক র্নিধারিত পদ্ধতিতে একাডেমি উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর একাডেমির হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও একাডেমির নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও The Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P. O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট দ্বারা একাডেমির হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে একাডেমি বা একাধিক চার্টার্ড একাউন্টেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) একাডেমি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত ত্রুটি বা অনিয়মসমূহ সংশোধনে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(১) প্রতি বৎসর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একাডেমি পূর্ববর্তী অর্থ বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলীর একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার প্রয়োজনমত একাডেমির নিকট হইতে যে কোন সময় একাডেমির যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং একাডেমী উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একাডেমি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) একাডেমি প্রতিষ্ঠা হইবার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স, কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ, অতঃপর বিলুপ্ত কমপ্লেক্স বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে।
(২) বিলুপ্ত কমপ্লেক্স-এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ঋণ, দায় ও দায়িত্ব, সুবিধা এবং স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংক স্থিতি, সংরক্ষিত সঞ্চিত তহবিল বিনিয়োগ এবং অন্য সকল অধিকার এবং এইরূপ সম্পত্তিতে অথবা উহা হইতে উদ্ভূত অন্যান্য সকল স্বার্থ ও অধিকার এবং সকল বহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র এবং অন্যান্য সকল দলিল-দস্তাবেজ একাডেমির নিকট হস্তান্তরিত হইবে এবং ন্যস্ত থাকিবে।
(৩) একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হইবার পূর্বে বিলুপ্ত কমপ্লেক্স কর্তৃক বা উহার পক্ষে সরকার কর্তৃক কৃত কোন কার্য, গৃহীত কোন ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোন আদেশ ও নিয়োগ, জারীকৃত বিজ্ঞপ্তি অথবা কৃত, গৃহীত, প্রদত্ত বা জারীকৃত বলিয়া বিবেচিত কোন কার্য, ব্যবস্থা, আদেশ, নিয়োগ বা বিজ্ঞপ্তি, বৈধভাবে কৃত, গৃহীত, প্রদত্ত বা জারীকৃত বলিয়া গণ্য হইবে এবং সর্বদা উহা কার্যকর থাকিবে বা কার্যকর বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং উহা সম্পর্কে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা এবং ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।