পরিসংখ্যান সম্পর্কিত কার্যক্রম গতিশীল, সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশের জনসংখ্যা, কৃষি, শিল্প, জনমিতি, অর্থনীতি, আর্থ-সামাজিক বিষয়াদি, প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ, ইত্যাদি সংক্রান্ত সঠিক ও নির্ভুল পরিসংখ্যান সম্পর্কিত কার্যক্রমকে গতিশীল, সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
(১) এই আইন পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে –
(১)“উপ-মহাপরিচালক” অর্থ ব্যুরোর উপ-মহাপরিচালক;
(২) “জরিপ” অর্থ পরিসংখ্যান বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে সমগ্রক হইতে নমুনা চয়নের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ;
(৩) “পরিসংখ্যান” অর্থ পরিসংখ্যান বিজ্ঞান বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণক্রমে শুমারি বা সেন্সাস ও জরিপের মাধ্যমে সংগৃহীত ও প্রকাশিত তথ্য;
(৪) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৫) “ব্যক্তি ” অর্থ কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ এবং কোম্পানি, সমিতি, অংশীদারী কারবার, সংবিধিবদ্ধ বা অন্যবিধ সংস্থা বা উহাদের প্রতিনিধিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৬) “’ব্যুরো” অর্থ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো;
(৭)“মহাপরিচালক” অর্থ ব্যুরোর মহাপরিচালক;
(৮) “শুমারী” অথবা “সেন্সাস” অর্থ একটি ভূখণ্ডের সকল মানুষ ও বিভিন্ন সেক্টর বা ইউনিটকে গণনা করা; এবং
(৯) সরকারি পরিসংখ্যান” অর্থ ব্যুরো কর্তৃক প্রণীত, সংরক্ষিত, প্রকাশিত ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ধারা ১১ এর অধীন অনুমোদিত পরিসংখ্যান।
আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
এই আইন বলবৎ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো নামে একটি ব্যুরো প্রতিষ্ঠা করিবে।
(১) ব্যুরোর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত হইবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, ঢাকার বাহিরে যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ব্যুরোর কার্যাবলী হইবে নিম্নরুপ, যথা:-
(ঞ)পরিসংখ্যান কার্যক্রম সম্পাদনে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ;
(১) ব্যুরোর একজন মহাপরিচালক ও একজন উপ-মহাপরিচালক থাকিবে।
(২) মহাপরিচালক ও উপ-মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন ও তাহাদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও চাকুরীল শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) মহাপরিচালক ব্যুরোর প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(১) মহাপরিচালক-
(২) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে, বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে মহাপরিচালক তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, উপ-মহাপরিচালক বা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোন ব্যক্তি অস্থায়ীভাবে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।
সরকার এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এক বা একাধিক কমিটি গঠন ও উহার কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
যে কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা উহাদের অধীনস্থ দপ্তর, অধিদপ্তর বা সংস্থার পরিসংখ্যান সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে সরকারি পরিসংখ্যান বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহৃত হইবে।
ব্যুরো যে সকল বিষয়ে পরিসংখ্যান প্রণয়ন করে না সে সকল বিষয়ে, যে কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা উহাদের অধীনন্থ দপ্তর, অধিদপ্তর বা সংস্থা, ব্যুরো কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা অনুসরণক্রমে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও সময়ে ব্যুরোর অনাপত্তি গ্রহণপূর্বক পরিসংখ্যান প্রস্তুত ও প্রকাশ করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ব্যুরোর চাহিদা অনুযায়ী যে কোন ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ উহাদের নিকট সংরক্ষিত তথ্য, ইত্যাদি ব্যুরোকে প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
(২) ব্যুরোর কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সংগৃহীত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের সম্মতি সাপেক্ষে প্রকাশ করা যাইবে।
এই আইনের অন্য কোন বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অন্যান্য আইনের বিধানাবলী ও যথাযথভাবে অবহিতকরণ সাপেক্ষে, মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যুরোর কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন বা বিধির অধীন তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করিবার উদ্দেশ্যে কোন রেকর্ড, রেজিস্টার, দলিল বা এতদসংশ্লিষ্ট কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরীক্ষা, যাচাই-বাছাই বা সংগ্রহ করিবার জন্য কোন ভবন বা স্থানে প্রবেশ করিবার অধিকারী হইবেন এবং সংশ্লিষ্ট ভবন বা স্থানের মালিক বা কর্তৃপক্ষ চাহিত তথ্য প্রদানে বাধ্য থাকিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার পরিসংখ্যান বিষয়ক এবং উহার সহিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে, প্রয়োজনে, প্রশিক্ষণ একাডেমী প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
(২) প্রশিক্ষণ একাডেমীর দায়িত্ব ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
ব্যুরো উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) ব্যুরো তৎকর্তৃক সংগৃহীত ও প্রস্ততকৃত পরিসংখ্যান প্রকাশ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রকাশিত প্রকাশনাসমূহ, সময় সময়, হালনাগাদক্রমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া লাইব্রেরীতে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
ব্যুরো উহার কার্যাবলী, কার্যপদ্ধতি ও প্রতিবেদন সম্পর্কে জনসাধারণকে সম্যক অবহিত করিবার লক্ষ্যে যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণ করিবে।
কোন ব্যক্তি এই আইনের ধারা ১৩ এর বিধান লংঘন করিলে, তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ১(এক) মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০,০০০(দশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (Non-cognizable) ও জামিনযোগ্য (Bailable) হইবে।
এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, কোন অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
ব্যুরো প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ-বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বৎসরে ব্যুরোর কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
মহাপরিচালক, প্রয়োজনবোধে, এই আইনের অধীন তাহার উপর অর্পিত যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, লিখিত আদেশ দ্বারা, ব্যুরোর যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন এবং সরকারকে উহা যথাশ্রীঘ্র সম্ভব অবহিত করিবেন।
মহাপরিচালক , ব্যুরোর কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ব্যুরোর পক্ষে কাজ করিবার জন্য যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনকালে, Penal Code, 1860 (Act XLV of 1860), এর section 21 এ বর্ণিত অর্থে Public Servant বা জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবেন।
(১) মহাপরিচালক প্রতি বৎসর ৩১ মার্চের মধ্যে পূর্ববর্তী ৩১ ডিসেম্বরে সমাপ্ত এক বৎসরের স্বীয় কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবেন।
(২) সরকার ব্যুরোকে যে কোন সময় উহার যে কোন কাজের প্রতিবেদন বা বিবরণী বা পরিসংখ্যান উহার নিকট প্রেরণের নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ নির্দেশ প্রাপ্তির পর ব্যুরো উহা সরকারের নিকট প্রেরণে বাধ্য থাকিবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ ( Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) এই আইনের বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের ধারা ৬ এর দফা (ঙ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ব্যুরো সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নীতিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের অধীন ব্যুরো প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২৬ আগস্ট, ১৯৭৪ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন নং-৪/২৫/৭২-বিধি, অত:পর উক্ত প্রজ্ঞাপন বলিয়া উল্লিখিত, বাতিল হইয়া যাইবে।
(২) উক্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল হইবার সঙ্গে সঙ্গে-
(৩) এই আইন প্রবর্তনের সংগে সংগে ১৩ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখের সরকারি আদেশ নং ১/এনএসসি/৭৭ (২০০) মূলে গঠিত জাতীয় পরিসংখ্যান কাউন্সিল বিলুপ্ত হইবে এবং বিলুপ্ত কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত, এই আইনের সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এমনভাবে কার্যকর ও বাস্তবায়িত হইবে যেন উক্ত কাউন্সিল বিলুপ্ত হয় নাই।