বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ, এক্সচেঞ্জসমূহে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সু-শাসন প্রতিষ্ঠা, সিকিউরিটিজ এ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এতদ্সংক্রান্ত বিষয়াবলী নিশ্চিত করিবার জন্য বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রণীত আইন যেহেতু, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ, এক্সচেঞ্জসমূহে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সু-শাসন প্রতিষ্ঠা, সিকিউরিটিজ এ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এতদ্সংক্রান্ত বিষয়াবলী নিশ্চিতকরণ সমীচীন ও প্রয়োজন; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
(১) এই আইন এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
(১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘অর্ডিন্যান্স’’ অর্থ Securities and Exchange Ordinance, 1969 (Ordinance No. XVII of 1969) );
(২) ‘‘অনুমোদিত স্কীম’’ অর্থ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত কোন ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কীম;
(৩) ‘‘এক্সচেঞ্জ’’ অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীনে নিগমিত একটি শেয়ার দ্বারা সীমিত দায় পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী যাহা সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য একটি বাজার অথবা সিকিউরিটিজ এর ক্রেতা-বিক্রেতাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সুবিধা প্রদান করে অথবা প্রয়োজনীয় সুবিধাদিসহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যাহা সাধারণভাবে একটি এক্সচেঞ্জ এর সর্বপ্রকার কার্যক্রম পরিচালনা করে;
(৪) ‘‘কমিটি’’ অর্থ এক্সচেঞ্জ কর্তৃক গঠিত কোন কমিটি;
(৫) ‘‘কমিশন’’ অর্থ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ১৫ নং আইন) এর ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন;
(৬) ‘‘কোম্পানী’’ অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীনে গঠিত এবং নিবন্ধিকৃত কোন কোম্পানী বা কোন বিদ্যমান কোম্পানী;
(৭) ‘‘কৌশলগত বিনিয়োগকারী’’ অর্থ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত দেশী বা বিদেশী কোন প্রতিষ্ঠান;
(৮) ‘‘ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক)’’ অর্থ এই আইন কার্যকর হইবার পর কোন এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ অনুমোদিত স্কীম অনুযায়ী ব্রোকার বা ডিলার হিসাবে লেনদেন করিবার যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে উক্ত এক্সচেঞ্জ কর্তৃক ইস্যুকৃত সিকিউরিটিজ লেনদেনের অধিকার সম্বলিত সনদ;
(৯) ‘‘ডিপজিটরি’’ অর্থ ডিপজিটরি আইন, ১৯৯৯ (১৯৯৯ সনের ৬ নং আইন) এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত কোন ডিপজিটরি;
(১০) ‘‘ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন’’ অর্থ অনুমোদিত স্কীম অনুযায়ী যেকোন এক্সচেঞ্জ এর সিকিউরিটিজ লেনদেনের অধিকার (Trading Right) হইতে উহার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ;
(১১) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;
(১২) ‘‘পরিচালনা পরিষদ’’ অর্থ কোন এক্সচেঞ্জ এর পরিচালনা পরিষদ;
(১৩) ‘‘প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডার’’ অর্থ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন এর তারিখে কোন এক্সচেঞ্জ এর শেয়ারের আইনগত মালিক;
(১৪) ‘‘বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ’’ অর্থ কোন স্টক এক্সচেঞ্জ যাহা Securities and Exchange Ordinance, 1969 (Ordinance No. XVII of 1969) এর অধীনে নিবন্ধিত অথবা নিবন্ধিত বলিয়া গণ্য এবং এই আইন কার্যকর হওয়ার তারিখে বাংলাদেশে কার্যরত;
(১৫) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থ স্বাভাবিক ব্যক্তিসহ (natural person) যে কোন কোম্পানী, অংশীদারী কারবার বা ফার্ম বা একাধিক ব্যক্তির সমিতি বা সংঘ তাহা নিবন্ধিত হউক বা না হউক;
(১৬) ‘‘ব্লকড হিসাব (blocked account) ’’ অর্থ ধারা ৮ এর দফা (গ) অনুযায়ী কোন এক্সচেঞ্জ কর্তৃক ডিপোজিটরিতে খোলা হিসাব;
(১৭) ‘‘রেজিস্ট্রার’’ অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীনে কোম্পানীসমূহ নিবন্ধনের দায়িত্ব পালনকারী রেজিস্ট্রার বা অন্য যে কোন কর্মকর্তা, তিনি যে নামেই অভিহিত হউন না কেন;
(১৮) ‘‘সদস্য’’ অর্থ বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ এর কোন সদস্য;
(১৯) ‘‘সম্পর্কিত ব্যক্তি’’ অর্থ প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বার (Natural Person) ক্ষেত্রে তাহার স্বামী বা স্ত্রী, অথবা তাহার উপর নির্ভরশীল কোন ব্যক্তি, অথবা তাহার কোন অংশীদারী প্রতিষ্ঠানের অংশীদার, অথবা তাহার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার রহিয়াছে বা তিনি উহার একজন পরিচালক এমন কোন কোম্পানী বা নিগমিত সংস্থা, এবং আইনানুগ ব্যক্তিসত্ত্বার ক্ষেত্রে উহার সহিত সম্পর্কিত কোন আন্ডারটেকিং, কোম্পানী বা নিগমিত সংস্থা যাহা উক্ত আইনানুগ ব্যক্তিসত্ত্বার একটি নিয়ন্ত্রণকারী (holding), অধিনস্থ (subsidiary) বা সহযোগী (associate) কোম্পানী;
(২০) ‘‘সিকিউরিটিজ’’ অর্থ Securities and Exchange Ordinance, 1969 (Ordinance No. XVII of 1969) এর section 2 এর clause (l) এ সংজ্ঞায়িত “securities”;
(২১) ‘‘স্বতন্ত্র পরিচালক’’ অর্থ এক্সচেঞ্জ এর কোন পরিচালক, যিনি উহার ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা, সেবা, লেনদেন এবং উহার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার ধারকের সহিত সম্পর্কিত নহে।
(২) প্রসংগের প্রয়োজনে ভিন্নরূপ না হইলে, এই আইনে ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বা অভিব্যক্তির সংজ্ঞা দেওয়া হয় নাই, সেই সকল শব্দ বা অভিব্যক্তি Securities and Exchange Ordinance, 1969 (Ordinance No. XVII of 1969), ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ১৫ নং আইন), আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন), কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন), ডিপজিটরি আইন, ১৯৯৯ (১৯৯৯ সনের ৬ নং আইন), বীমা আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ১৩ নং আইন) এ যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে উক্ত শব্দ বা অভিব্যক্তি সেই অর্থ বহন করিবে।
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন, চুক্তি বা আইনগত দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর ধারা ৫ অনুযায়ী স্কীম দাখিল এবং এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলী অনুসরণ ও কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত কার্যক্রম সম্পন্ন করিয়া বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ এর সিকিউরিটিজ লেনদেনের অধিকার (Trading Right) উহার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা হইতে পৃথকীকরণের মাধ্যমে ডিমিউচ্যুয়ালাইজ করিতে হইবে।
(২) এই আইন কার্যকর হইবার পর নিম্নলিখিত শর্তাবলী পরিপালন না করিয়া কোন এক্সচেঞ্জ অথবা কোন ব্যক্তি সিকিউরিটিজ লেনদেনের উদ্দেশ্যে এক্সচেঞ্জ কর্তৃক পরিচালিত কোন কার্যক্রম পরিচালনা বা সেবা প্রদান করিতে পারিবে না, যদি না,-
এই আইন কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কীমসহ নিম্নলিখিত তথ্যাদি কমিশন এর নিকট দাখিল করিবে, যথাঃ-
(১) ধারা ৫ অনুযায়ী দাখিলকৃত স্কীম প্রাপ্তির পর অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে কমিশন তৎকর্তৃক প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকেই উক্ত স্কীম অনুমোদন করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কোন সংশোধন বা পরিবর্তন করিবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান এক্সচেঞ্জকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিতে হইবে ।
(৩) দাখিলকৃত স্কীম ও তথ্যাদির মধ্যে অসম্পূর্ণতা থাকিলে উহা দূরীকরণের জন্য কমিশন সময় নির্দিষ্ট করিয়া বিদ্যমান এক্সচেঞ্জকে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে, কমিশন, সংশ্লিষ্ট দলিলাদি প্রস্তুত করিয়া উহার সিদ্ধান্ত বিদ্যমান এক্সচেঞ্জকে প্রতিপালনের জন্য জানাইয়া দিতে পারিবে এবং উক্ত দলিলাদি প্রস্তুতের জন্য কোন মার্চেন্ট ব্যাংকার বা কোন নিরীক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন হইলে, উহার যাবতীয় ব্যয় সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ বহন করিবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন কমিশন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দলিলাদি বা গৃহীত কোন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জ এবং উহার সদস্যবৃন্দের জন্য বাধ্যকর হইবে।
বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ স্কীম অনুমোদন প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে অনুমোদিত স্কীম-
স্কীম অনুমোদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ-
(১) বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ ধারা ৮ এর দফা (ক) অনুযায়ী সংঘস্মারক ও সংঘবিধি পরিবর্তনের বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে উহা কমিশন এবং রেজিস্ট্রারের নিকট নিম্নলিখিত কাগজাদি দাখিল করিবে, যথাঃ-
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কাগজাদি দাখিল হওয়ার পর উক্ত কাগজাদি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণের বিষয়ে সন্তুষ্ট হইলে, রেজিস্ট্রার, দাখিল হওয়ার অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে-
(৩) এই আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় পর্যন্ত এক্সচেঞ্জের প্রথম পরিচালনা পরিষদ উহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবে।
ধারা ৮ এর দফা (ক)-তে বর্ণিত সভা অনুষ্ঠানের তারিখ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ধারা ৯ এর উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র প্রদানের তারিখ, এই দুইয়ের মধ্যে যেই তারিখ পরে হয়, ক্ষেত্র বিশেষে সেই তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজড বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) বিদ্যমান অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ডিমিউচ্যুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জ, নিম্নলিখিত শর্তাদি আবশ্যিকভাবে পালন করিবে, যথাঃ-
(২) ডিমিউচ্যুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জ এর পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য স্বতন্ত্র পরিচালক হইবেন।
(৩) ডিমিউচ্যুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জ এর পরিচালনা পরিষদ স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্য হইতে চেয়ারম্যান নির্বাচন করিবে।
(১) ডিমিউচ্যুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জ এর ক্ষেত্রে-
তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন, জনস্বার্থে, এই সীমার অধিক শেয়ার ধারণ করিবার জন্য কোন কৌশলগত বিনিয়োগকারীকে অনুমোদন প্রদান করিতে পারিবে:
(২) যদি কোন এক্সচেঞ্জ এর এমন ধারণা পোষণ করিবার কারণ ঘটে যে, কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) বা (খ) বা (গ) লংঘন করিয়াছে, তাহা হইলে উক্ত এক্সচেঞ্জ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শেয়ারের প্রকৃত মালিকের পরিচয় প্রকাশের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং এইরূপ নির্দেশ অমান্য করিলে, এক্সচেঞ্জ উক্ত নির্দেশ অমান্যকারী শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক ধারণকৃত শেয়ার জব্দ করিতে পারিবে এবং বিষয়টি ৭ (সাত) দিনের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করিবে।
(৩) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) বা (খ) বা (গ) এ বর্ণিত শেয়ার হোল্ডিং সীমা লংঘন করিলে, কমিশন উক্ত ব্যক্তিকে তাহার ধারণ সীমার অতিরিক্ত শেয়ারসমূহ তদকর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং সময়ে হস্তান্তর করিবার নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
(১) ব্লকড হিসাবে সংরক্ষিত শেয়ারের প্রাপ্যতা হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
(২) ব্লকড হিসাবে সংরক্ষিত শেয়ার রক্ষণাবেক্ষণ এবং হস্তান্তরের অধিকার পরিচালনা পরিষদের উপর বর্তাইবে।
(১) ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়, কমিশন, কোন এক্সচেঞ্জকে নিম্নলিখিত কার্যাদি নির্দেশনা প্রদানের ১ (এক) বৎসরের মধ্যে সম্পাদনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে, যথাঃ-
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে উক্ত নির্দেশনা প্রতিপালন করিতে না পারিবার যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করিয়া আবেদন করিলে, কমিশন, উক্তরূপ প্রতিপালনের সময়সীমা বর্ধিত করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ১ (এক) বৎসর অথবা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোন এক্সচেঞ্জ যদি বর্ণিত শেয়ার বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কোন কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সহিত চুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত এক্সচেঞ্জ, কমিশনের অনুমোদনক্রমে, কৌশলগত বিনিয়োগকারী ব্যতীত অন্য কাহারও নিকট উহার পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত শেয়ারসমূহ হস্তান্তর করিতে পারিবে।
(৩) ব্লকড হিসাবে সংরক্ষিত শেয়ারের হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত উহার বিপরীতে ভোটদানের ক্ষমতা রহিত থাকিবে।
(১) ধারা ১৪ অনুসারে কোন কৌশলগত বিনিয়োগকারী শেয়ার অর্জন করিলে, কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে, উহা কেবলমাত্র অন্য কোন কৌশলগত বিনিয়োগকারীর নিকট বিক্রয় করিতে পারিবে।
(২) কমিশন, লিখিত আদেশ দ্বারা, কৌশলগত বিনিয়োগকারীর শেয়ার ক্রয়, বিক্রয়, অর্জন, অধিগ্রহণ বা কর্তৃত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে এতদ্সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধানাবলীর প্রযোজ্যতা হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(১) অনিবন্ধিত কোন প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডার, যাহার অনুকূলে ট্রেক ইস্যু করা হইয়াছে, তিনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ১৫ নং আইন) বা তদধীন প্রণীত কোন বিধিমালার বিধান অনুসারে নিবন্ধিত না হইয়া থাকিলে, তাহাকে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে উক্ত আইন বা বিধিমালার বিধান অনুসারে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করিতে হইবে এবং উক্ত সনদ প্রাপ্তির ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে ব্যবসা শুরু করিতে হইবে।
(২) ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের তারিখ হইতে ৫ (পাঁচ) বৎসরের মধ্যে ইস্যুকৃত ট্রেক একবার হস্তান্তর করা যাইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন কোন কোম্পানী হস্তান্তরিত ট্রেক গ্রহণ করিলে, উক্তরূপ গ্রহণের ১২ (বার) মাসের মধ্যে উহাতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ১৫ নং আইন) বা তদধীন প্রণীত কোন বিধিমালার বিধান অনুসারে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করিতে হইবে এবং উক্ত সনদ গ্রহণের ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা শুরু করিতে হইবে।
(৪) ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের ৫ (পাঁচ) বৎসরের মধ্যে, কোন এক্সচেঞ্জ শেয়ারহোল্ডারদের সভায় বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ পূর্বক ট্রেকের সংখ্যা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(৫) ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের তারিখ হইতে ৫ (পাঁচ) বৎসর অতিক্রান্ত হইবার পর কোন এক্সচেঞ্জ কর্তৃক, ধারা ১১ এর দফা (গ) পরিপালন সাপেক্ষে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোন আবেদনকারীর অনুকূলে ট্রেক ইস্যু করা যাইবে।
(৬) ধারা ১১ এর দফা (গ) এর অধীনে কোন কোম্পানী ট্রেক গ্রহণ করিলে, উহার ১২ (বার) মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ১৫ নং আইন) বা তদধীন প্রণীত কোন বিধিমালার বিধান অনুসারে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করিতে হইবে এবং নিবন্ধন সনদ গ্রহণের ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে ব্যবসা শুরু করিতে হইবে।
(৭) ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের তারিখ হইতে ৫ (পাঁচ) বৎসর অতিক্রান্ত হইলে সকল ট্রেক অ-হস্তান্তরযোগ্য হইবে।
(৮) কোন কোম্পানী বা প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডার উপ-ধারা (১) ও (৩) এর বিধান অনুযায়ী নিবন্ধন সনদ গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবসা শুরু করিতে ব্যর্থ হইলে সংশ্লিষ্ট ট্রেক বাতিল হইয়া যাইবে।
(৯) ট্রেডিং রাইট এন্টাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট ধারকগণের জন্য উহার শেয়ার ধারক হইবার বাধ্যবাধকতা থাকিবে না।
(১০) ডিমিউচ্যুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ট্রেক ইস্যু, স্থগিত ও বাতিল করিতে পারিবে।
কোন এক্সচেঞ্জের শেয়ার উহার সিদ্ধান্ত ও সময় অনুযায়ী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অন্য যে কোন এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হইতে পারিবে।
ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন এর ফলে বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ এর-
এক্সচেঞ্জ সকল সময়,-
(১) কমিশনের নিকট প্রাথমিকভাবে (Prima facie) যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন এক্সচেঞ্জ বা বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ বা উহার কোন পরিচালক, সদস্য, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কমিটির কোন সদস্য, শেয়ারহোল্ডার বা কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ও জ্ঞাতসারে এই আইনের কোন বিধান পালনে ব্যর্থ হইয়াছে বা লংঘন করিয়াছে, তাহা হইলে কারণ প্রদর্শনের যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া উক্তরূপ ব্যর্থতা বা লংঘনের জন্য কমিশন-
(২) এই আইনের অধীন কমিশন কর্তৃক আরোপিত অর্থদন্ড অনাদায়ী হইলে উহা বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর বিধানের সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, কমিশন-
এই আইনের কোন বিধান লংঘনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানী হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা এজেন্ট বিধানটি লংঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত লংঘন তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে বা উক্ত লংঘন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপ-ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ এবং প্রাক-প্রকাশনা করিতে হইবে।
(৩) প্রাক-প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিধি, বা সংশোধনের নিমিত্ত উহার খসড়া অন্যূন ৩ (তিন) সপ্তাহের সময় প্রদানপূর্বক জনমত আহবান করিয়া সরকারি গেজেটের পাশাপাশি কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিতে হইবে এবং কমপক্ষে ৩ (তিন)টি দৈনিক পত্রিকাতে উল্লিখিত ওয়েবসাইটের ঠিকানাসহ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিধির প্রাক-প্রকাশনা সংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করিতে হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী প্রাক-প্রকাশনার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি, যদি কোন, পাওয়া গেলে উহা বিবেচনা করিয়া, কমিশন, খসড়া বিধি সংশোধনপূর্বক উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুসারে চূড়ান্তভাবে সরকারি গেজেটে প্রকাশের ব্যবস্থা করিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, এক্সচেঞ্জ, কমিশনের পূর্বানুমতিক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধির সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) যদি কমিশনের নিকট এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে কোন এক্সচেঞ্জ সংক্রান্ত কোন প্রবিধান প্রণয়ন অথবা বিদ্যমান কোন প্রবিধানের সংশোধন বা বাতিল করা প্রয়োজন তাহা হইলে কমিশন উক্ত কার্য সম্পাদনের জন্য এক্সচেঞ্জকে সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখপূর্বক লিখিত আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) যদি কোন এক্সচেঞ্জ উপ-ধারা (২) এ প্রদত্ত আদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পালনে ব্যর্থ হয় তাহা হইলে কমিশন উক্ত প্রবিধান প্রণয়ন, সংশোধন বা বাতিল করিতে পারিবে এবং উক্তরূপে প্রণীত, সংশোধিত বা বাতিলকৃত প্রবিধান এই ধারার অধীন এক্সচেঞ্জ কর্তৃক প্রণীত, সংশোধিত বা বাতিল হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিবার প্রয়োজন হইলে, কমিশন, কোন এক্সচেঞ্জ অথবা এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার অথবা ট্রেকহোল্ডার অথবা কোন কমিটি বা কমিটির সদস্যকে যথোপযুক্ত আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
এক্সচেঞ্জ বা বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ এর কোন পরিচালক, সদস্য, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কমিটির কোন সদস্য, শেয়ারহোল্ডার বা কোন ব্যক্তি এই আইনের বিধান অনুযায়ী কোন দায়িত্ব পালনকালে অথবা অন্য কোনভাবে কোন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, তদন্তাধীন কোন বিষয়ের তথ্য বা বাজার নজরদারি (Market surveillance) হইতে প্রাপ্ত কোন তথ্য অবগত হইলে উহা কমিশনের সম্মতি ব্যতীত অন্য কাহারও নিকট প্রকাশ করিতে পারিবেন না।
এই আইনের বিধানবলী কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে এই আইনের কোন বিধানের অস্পষ্টতার কারণে কোন জটিলতা বা অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া, স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের দিক-নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে।