জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়নের নিমিত্ত বিদ্যমান শিশু আইন রহিতক্রমে এতদ্সংক্রান্ত একটি নূতন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রণীত আইন যেহেতু জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে বাংলাদেশ পক্ষভুক্ত হইয়াছে; এবং যেহেতু উক্ত সনদ এর বিধানাবলী বাস্তবায়নের নিমিত্ত বিদ্যমান শিশু আইন রহিতপূর্বক উহা পুনঃপ্রণয়ন ও সংহত করিবার লক্ষ্যে একটি নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন শিশু আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।
* এস, আর, ও নং ২৭৫-আইন/২০১৩, দ্বারা ৬ ভাদ্র, ১৪২০ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২১ আগস্ট ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ তারিখে উক্ত আইন কার্যকর করা হইয়াছে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘অধিদপ্তর’ অর্থ সমাজসেবা অধিদপ্তর;
(২) ‘আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি Guardian and Wards Act, 1890 (Act No. VIII of 1890) এর section 7 এর অধীনে, শিশুর কল্যাণার্থে, আদালত কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক (guardian);
(৩) ‘আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু (Children in Conflict with the Law)’ অর্থ এমন কোন শিশু যে, দণ্ডবিধির ধারা ৮২ ও ৮৩ এ বিধান সাপেক্ষে, বিদ্যমান কোন আইনের অধীন কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত অথবা বিচারে দোষী সাব্যস্ত;
(৪) ‘আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু (Children in Contact with the Law)’ অর্থ এমন কোন শিশু, যে বিদ্যমান কোন আইনের অধীনে কোন অপরাধের শিকার বা সাক্ষী;
(৫) ‘দণ্ডবিধি’ অর্থ Penal Code, 1860 (Act No. LV of 1860);
(৬) ‘ধারা’ অর্থ এই আইনের কোন ধারা;
(৭) ‘নিরাপদ স্থান (Safe Home)’ অর্থ কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান বা এমন কোন স্থান বা প্রতিষ্ঠান যাহার কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন শিশু-আদালত, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, প্রবেশন কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, অন্য কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রেরিত শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখিবার দায়িত্ব পালন করে;
(৮) ‘প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান’ অর্থ ধারা ৫৯ ও ৬০ এ উল্লিখিত কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান;
(৯) ‘প্রবেশন কর্মকর্তা (Probation Officer)’ অর্থ ধারা ৫ এ উল্লিখিত কোন প্রবেশন কর্মকর্তা;
(১০) ‘ফৌজদারী কার্যবিধি’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
(১১) ‘বর্ধিত পরিবার (extended family)’ অর্থ দাদা, দাদী, নানা, নানী, চাচা, চাচী, ফুফা, ফুফু, মামা, মামী, খালা, খালু, ভাই, ভাবী, ভগ্নি, ভগ্নিপতি বা এইরূপ রক্তসম্পর্কীয় অথবা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ কোন আত্মীয়ের পরিবার;
(১২) ‘বিকল্প পরিচর্যা (alternative care)’ অর্থ ধারা ৮৪ এর অধীন গৃহীত কোন ব্যবস্থা;
(১৩) ‘বিকল্পপন্থা (diversion)’ অর্থ ধারা ৪৮ এর অধীন গৃহীত কোন ব্যবস্থা;
(১৪) ‘ব্যক্তি’ অর্থে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, কোন কোম্পানী, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৫) ‘বোর্ড’ বা ‘শিশুকল্যাণ বোর্ড’ অর্থ ধারা ৭, ৮ ও ৯ এর অধীন গঠিত, ক্ষেত্রমত, জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড, জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড বা উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড;
(১৬) ‘ভিক্ষা’ অর্থ কোন ব্যক্তির নিকট হইতে অর্থ, অন্ন, বস্ত্র বা অন্য কোন দ্রব্যাদি প্রাপ্তি বা আদায়ের উদ্দেশ্যে-
[ (১৬ক) ‘‘ম্যাজিস্ট্রেট’’ অর্থ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৬ এর উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যাহার অপরাধ আমলে গ্রহণ করিবার ক্ষমতা রহিয়াছে;]
(১৭) ‘শিশু’ অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত শিশু হিসাবে নির্ধারিত কোন ব্যক্তি;
[ (১৮) ‘‘শিশু-আদালত’’ অর্থ ধারা ১৬ এ উল্লিখিত কোনো আদালত;]
(১৯) ‘শিশুউন্নয়ন কেন্দ্র’ অর্থ ধারা ৫৯ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন শিশুউন্নয়ন কেন্দ্র;
(২০) ‘শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা’ অর্থ ধারা ১৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত শিশুবিষয়ক ডেস্ক এর দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা;
(২১) ‘সমাজকর্মী’ অর্থ অধিদপ্তরে বা উহার অধীনে কর্মরত ইউনিয়ন সমাজকর্মী বা পৌর সমাজকর্মী অথবা খালাম্মা, বড়ভাইয়া বা উক্তরূপ সমমানের কোন কর্মী, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যিনি শিশুদের সেবাদানের সহিত সংশ্লিষ্ট;
(২২) ‘সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন’ অর্থ ধারা ৩১ এ উল্লিখিত সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন;
(২৩) ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশু’ অর্থ ধারা ৮৯ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন শিশু;
(২৪) ‘সভাপতি’ অর্থ, ক্ষেত্রমত, জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড, জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড বা উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর সভাপতি।
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
বিদ্যমান অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অনুর্ধ্ব ১৮ (আঠার) বৎসর বয়স পর্যন্ত সকল ব্যক্তি শিশু হিসাবে গণ্য হইবে।
(১) এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার, ক্ষেত্রমত, প্রত্যেক জেলা, উপজেলা এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় এক বা একাধিক প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে, বিদ্যমান অন্য কোন আইনের অধীন কোন ব্যক্তিকে প্রবেশন কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করা হইলে, তিনি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত, এই আইনের অধীন প্রবেশন কর্মকর্তা হিসাবে এমনভাবে দায়িত্ব পালন করিবেন যেন তিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত হইয়াছেন।
(৩) কোন এলাকায় প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ না করা পর্যন্ত সরকার, প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের জন্য, অধিদপ্তরে এবং উহার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সমাজসেবা কর্মকর্তা বা সমমানের অন্য কোন কর্মকর্তাকে প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারিবে।
প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ‘জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড’ নামে একটি বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-
(২) জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা :-
(১) প্রত্যেক জেলায়, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে, ‘জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড’ নামে একটি করিয়া বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-
(২) জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা :-
(১) প্রত্যেক উপজেলায় নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ‘উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড’ নামে একটি করিয়া বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-
(২) ‘উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(১) জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড, জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড ও উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসরের জন্য স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপে মনোনীত কোন সদস্য, ইচ্ছা করিলে, যেকোন সময়, সংশ্লিষ্ট সভাপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন এবং সভাপতি কর্তৃক উহা গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পদটি শূন্য হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) মনোনয়ন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় তদ্কর্তৃক প্রদত্ত মনোনয়ন বাতিল করিয়া তদস্থলে উপযুক্ত নূতন কোনো ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বোর্ডের সদস্য সংখ্যা হ্রাস বা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) বোর্ড এর সভা, উহার সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) প্রতি ৬(ছয়) মাসে জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড, প্রতি ৪(চার) মাসে জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এবং প্রতি ৩(তিন) মাসে উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৪) সভাপতি বোর্ড এর সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে, তদ্কর্তৃক নির্দেশিত কোন সদস্য বা এইরূপ কোন নির্দেশনা না থাকিলে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের দ্বারা নির্বাচিত অন্য কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) মোট সংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিতিতে বোর্ডের সভার কোরাম গঠিত হইবে।
(৬) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বোর্ড এর সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
(৭) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ক্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ড এর কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) জাতীয় সংসদের স্পীকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট জেলা’র একজন সংসদ সদস্য জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর উপদেষ্টা হইবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট জেলায় কোন মহিলা সংসদ সদস্য থাকিলে, মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে, উক্ত মহিলা সংসদ সদস্যকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।
(২) উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর উপদেষ্টা হইবেন।
(৩) জেলা ও উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড এর উপদেষ্টার দায়িত্ব ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যেক থানায়, সাব-ইন্সপেক্টর এর নিম্নে নহেন এমন একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদানক্রমে, একটি শিশুবিষয়ক ডেস্ক গঠন করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন থানায় মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর কর্মরত থাকিলে উক্ত ডেস্ক’এর দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে তাহাকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত শিশুবিষয়ক ডেস্ক’ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে অভিহিত হইবেন।
শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:
[ ১৫। (১) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো অপরাধ সংঘটনে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশু জড়িত থাকিলে, পুলিশ রিপোর্ট (জি.আর মামলার ক্ষেত্রে) বা ক্ষেত্রমত, অনুসন্ধান প্রতিবেদন (সি.আর মামলার ক্ষেত্রে) বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুর জন্য পৃথকভাবে প্রস্তুত করিয়া দাখিল করিতে হইবে।
(২) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশু কর্তৃক একত্রে সংঘটিত কোনো অপরাধ আমলে গ্রহণের ক্ষেত্রে তাহাদের অপরাধ পৃথকভাবে আমলে গ্রহণ করিতে হইবে।]
[ ১৫ক। কোনো অপরাধ আমলে গ্রহণ করিবার পর, মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করিয়া-
[ ১৬। (১) আইনের সহিত সংঘাত জড়িত শিশু কর্তৃক সংঘটিত যে কোনো অপরাধের বিচার করিবার জন্য, প্রত্যেক জেলা সদরে শিশু-আদালত নামে এক বা একাধিক আদালত থাকিবে।
(২) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৮ নং আইন) এর অধীন গঠিত প্রত্যেক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্বীয় অধিক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত শিশু আদালত হিসাবে গণ্য হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় উক্তরূপ কোনো ট্রাইব্যুনাল না থাকিলে উক্ত জেলার জেলা ও দায়রা জজ স্বীয় অধিক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত শিশু-আদালত হিসাবে গণ্য হইবে।
(৩) ধারা ১৫ক এর অধীন কোনো মামলা প্রেরিত না হইলে, শিশু-আদালত শিশু কর্তৃক সংঘটিত কোনো অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।]
[ *]
[ (৩) শিশু-আদালত বিধি দ্বারা নির্ধারিত স্থান, দিন এবং পদ্ধতিতে উহার অধিবেশন অনুষ্ঠান করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত শিশু-আদালতের বিচারক তাহার স্বীয় বিবেচনায় বিচারের দিন, ক্ষণ, স্থান নির্ধারণক্রমে, উহার অধিবেশন আরম্ভ এবং সমাপ্ত করিবেন।]
(৪) সাধারণতঃ যে সকল দালান বা কামরায় এবং যে সকল দিবস ও সময়ে প্রচলিত আদালতের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় উহা ব্যতীত, যতদূর সম্ভব, অন্য কোন দালান বা কামরায়, প্রচলিত আদালতের ন্যায় কাঠগড়া ও লালসালু ঘেরা আদালতকক্ষের পরিবর্তে একটি সাধারণ কক্ষে এবং অন্য কোন দিবস ও সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ব্যতীত শুধুমাত্র শিশুর ক্ষেত্রে শিশু-আদালতের অধিবেশন অনুষ্ঠান করিতে হইবে।
[ ১৮। দায়রা আদালত যেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারে শিশু-আদালতও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে।]
(১) আদালতকক্ষের ধরন, সাজসজ্জা ও আসন বিন্যাস বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) শিশু-আদালতের আসন বিন্যাস এমনভাবে করিতে হইবে যেন সকল শিশু বিচার প্রক্রিয়ায় তাহার মাতা-পিতা বা তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ বা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তা ও আইনজীবীর, যতদূর সম্ভব, সন্নিকটে বসিতে পারে।
(৩) উপ-বিধি (১) এর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করিয়া আদালতকক্ষে শিশুর জন্য উপযুক্ত আসনসহ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য, প্রয়োজনে, বিশেষ ধরনের আসন প্রদানের বিষয়টি শিশু-আদালত নিশ্চিত করিবে।
(৪) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত কর্তৃক শিশুর বিচার চলাকালীন, আইনজীবী, পুলিশ বা আদালতের কোন কর্মচারী আদালতকক্ষে তাহাদের পেশাগত বা দাপ্তরিক ইউনিফরম পরিধান করিতে পারিবেন না।
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন, আদালতের রায় বা আদেশে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অপরাধ সংঘটনের তারিখই হইবে শিশুর বয়স নির্ধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক তারিখ।
(১) অভিযুক্ত হউক বা না হউক, এমন কোন শিশুকে কোন অপরাধের দায়ে বা কোন শিশুকে অন্য কোন কারণে শিশু-আদালতে সাক্ষ্য দানের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে, আনয়ন করা হইলে এবং শিশু-আদালতের নিকট তাহাকে শিশু বলিয়া প্রতীয়মান না হইলে উক্ত শিশুর বয়স যাচাই এর জন্য শিশু-আদালত প্রয়োজনীয় তদন্ত ও শুনানি গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তদন্ত ও শুনানিকালে যেইরূপ সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাইবে তাহার ভিত্তিতে শিশুর বয়স সম্পর্কে শিশু-আদালত উহার মতামত লিপিবদ্ধ করিবে এবং শিশুর বয়স ঘোষণা করিবে।
(৩) বয়স নির্ধারণের উদ্দেশ্যে-
(৪) এই ধারার অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক উদ্ঘাটিত এবং কোন শিশুর ঘোষিত বয়স এই আইনের উদ্দেশ্যে উক্ত শিশুর প্রকৃত বয়স বলিয়া গণ্য হইবে এবং পরবর্তীকালে উক্ত বয়স ভ্রমাত্মক প্রমাণিত হইলেও উহার কারণে শিশু-আদালত প্রদত্ত কোন আদেশ বা রায় অকার্যকর বা অবৈধ হইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তিকে ইতঃপূর্বে শিশু-আদালত কর্তৃক শিশু নয় মর্মে ঘোষণা করা হইলেও কোন সন্দেহাতীত দালিলিক প্রমাণ দ্বারা তাহাকে শিশু হিসাবে প্রমাণ করা সম্ভব হইলে উক্ত আদালত, যথাযথ যুক্তি উপস্থাপনপূর্বক, সংশ্লিষ্ট শিশুর বয়স সম্পর্কে প্রদত্ত উহার পূর্বের মতামত পরিবর্তন করিতে পারিবে।
(১) বিচার প্রক্রিয়ার সকল স্তরে ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করা সংশ্লিষ্ট শিশুর অধিকার হিসাবে বিবেচিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয় না হইলে শিশু-আদালত, কোন মামলা বা বিচারিক কার্যধারার যেকোন পর্যায়ে, শিশুর সম্মতি সাপেক্ষে, তাহাকে ব্যক্তিগত হাজিরা প্রদান হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মামলা বা কার্যধারা অব্যাহত রাখিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ক্ষেত্রে শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে শিশুর তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা শিশুর আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী শিশুর অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য পরিচালনা করা হইলে শিশু-আদালত উক্তরূপ অনুপস্থিতির কারণ নথিতে লিপিবদ্ধ করিবে এবং বিচার কার্য পরিচালনার সময় শিশুর পক্ষে যিনি আদালতে উপস্থিত থাকিবেন, তাহার মাধ্যমে আদালতের গৃহীত পদক্ষেপ ও কার্যক্রম এবং শিশুর পক্ষে বা বিপক্ষে করণীয় ব্যবস্থাদি সম্পর্কে শিশুকে অবহিত করিবে।
(৪) শিশুর পক্ষে নিযুক্তীয় আইনজীবী এবং প্রবেশন কর্মকর্তা আদালতের সিদ্ধান্ত ও আদেশসহ বিচার প্রক্রিয়ার ধরন ও পরিণাম বুঝিবার জন্য সংশ্লিষ্ট শিশুকে, ভাষাসহ, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিবেন।
(৫) মামলা দায়ের বা পরিচালনার ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি সঠিকভাবে অনুসরণে শিশুবিষয়ক বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বা প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে কোন অসাবধানতা, গাফিলতি বা ব্যর্থতা শিশু-আদালতের নিকট গোচরীভূত হইলে উক্ত আদালত তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রবেশন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এবং শিশুবিষয়ক বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এর নিকট, যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, প্রেরণ করিবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদ্কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট শিশু-আদালতকে অবহিত করিতে বাধ্য থাকিবে।
এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি শিশু-আদালতের অধিবেশনে উপস্থিত থাকিতে পারিবেন না, যথা :-
এই আইনের অধীন শিশু-আদালতে হাজিরকৃত শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বর্তমান থাকিলে এবং তিনি বা তাহারা যুক্তিসঙ্গত দূরত্বে বসবাস করিলে শিশু-আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে আদালতে হাজির হইতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ যুক্তিসঙ্গত দূরত্বের বাহিরে বসবাস করিলে,আদালত যুক্তিসঙ্গত সময় নির্ধারণ করিয়া তাহাদিগকে আদালতে হাজির হইতে নির্দেশ প্রদান করিবে।
(১) শিশু-আদালত প্রয়োজন মনে করিলে, কোন মামলা শুনানিকালে, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে সংশ্লিষ্ট শিশু ব্যতীত ধারা ২৩ এ উল্লিখিত যেকোন ব্যক্তিকে উক্ত আদালত হইতে বহিরাগমণের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত আদালত পরিত্যাগ করিতে বাধ্য থাকিবেন।
(২) [ শিশু আদালত]শালীনতা বা নৈতিকতা বিরোধী কোন অপরাধ সংক্রান্ত মামলা শুনানিকালে কোন শিশুকে সাক্ষী হিসাবে তলব করা হইলে, সংশ্লিষ্ট মামলা বা কার্যধারার সহিত সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এবং শিশু-আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং প্রবেশন কর্মকর্তা ব্যতীত শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে যাহাদিগকে প্রত্যাহার করা যুক্তিযুক্ত ও সমীচীন হইবে, শিশু-আদালত তাহাদিগকে প্রত্যাহারের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত আদালত পরিত্যাগ করিতে বাধ্য থাকিবেন।
(১) [*] শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার বিষয়টি সর্বশেষ পন্থা হিসাবে বিবেচনা করিতে হইবে, যাহার মেয়াদ হইবে যথাসম্ভব স্বল্পতম সময়ের জন্য।
(২) সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ হেফাজতে রক্ষিত শিশুকে বিকল্পপন্থায় পরিচালনার জন্য প্রেরণ করিতে হইবে।
(৩) শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা একান্ত প্রয়োজন হইলে শিশু-আদালত, সংশ্লিষ্ট শিশুকে উক্ত আদালত হইতে যুক্তিসঙ্গত দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীন কোন শিশুকে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকারী অধিক বয়স্ক শিশুদের হইতে প্রেরিত শিশুকে পৃথক করিয়া রাখিতে হইবে।
(১) আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর সাক্ষ্য গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম শিশুর জন্য সরল ও বোধগম্য ভাষায় পরিচালনা করিতে হইবে।
(২) শিশুর সাক্ষ্য গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমসমূহ শিশুর বোধগম্য ভাষায় ব্যাখ্যা করিবার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হইলে আদালত বিনা খরচে শিশুকে একজন ব্যাখ্যাকারী প্রদান করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিবে।
(১) শিশু-আদালতে বিচারাধীন কোন মামলায় জড়িত বা সাক্ষ্য প্রদানকারী কোন শিশুর ছবি বা এমন কোন বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম অথবা ইন্টারনেটে প্রকাশ বা প্রচার করা যাইবে না যাহা সংশ্লিষ্ট শিশুকে শনাক্তকরণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুর ছবি, বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশ করা শিশুর স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হইবে না মর্মে শিশু-আদালতের নিকট প্রতীয়মান হইলে উক্ত আদালত সংশিস্নষ্ট শিশুর ছবি, বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
(১) এই আইনসহ ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালতে হাজিরকৃত কোন শিশুর মামলা বিকল্প পন্থায় পরিচালনা করা না হইলে, শিশু-আদালত সংশ্লিষ্ট শিশুকে, অপরাধটি জামিনযোগ্য বা অজামিনযোগ্য যাহাই হউক না কেন, জামানতসহ বা জামানত ছাড়াই জামিনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবে।
(২) শিশুর নিজের মুচলেকায় অথবা শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য, প্রবেশন কর্মকর্তা অথবা কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার, শিশু-আদালত যাহাকে উপযুক্ত বিবেচনা করিবে, তত্ত্বাবধানে জামানত প্রদান সাপেক্ষে অথবা জামানত ছাড়া শিশুকে জামিন প্রদান করা যাইবে।
[ (৩) উপ-ধারা (১) এবং (২) এর অধীন জামিন মঞ্জুর করা না হইলে, শিশু আদালত উক্তরূপ নামঞ্জুরের কারণ লিপিবদ্ধ করিবে এবং সংশ্লিষ্ট শিশুকে কোনো প্রত্যায়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণের জন্য আদেশ প্রদান করিবে।]
এই আইনের অধীন কোন আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে শিশু-আদালত নিম্নবর্ণিত বিষয় বিবেচনা করিবে, যথা :-
(১) [ আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে] শিশু-আদালতে হাজির করিবার অনধিক ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে প্রবেশন কর্মকর্তা, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, শিশু-আদালতে একটি সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করিবেন এবং উহার অনুলিপি নিকটস্থ বোর্ড-এ ও অধিদপ্তরে দাখিল করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক শিশুর পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, মনস্তাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা, পটভূমি এবং কোন্ অবস্থায় ও এলাকায় সে বসবাস করে এবং কোন্ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে, ইত্যাদির বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।
(৩) প্রবেশন কর্মকর্তার সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনসহ শিশু সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিবেদন গোপনীয় বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত উক্ত আদালতে শিশুর প্রথম উপস্থিত হইবার তারিখ হইতে ৩৬০ (তিনশত ষাট) দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে।
(২) কোন যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তব কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে শিশু-আদালত, উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা আরও ৬০ (ষাট) দিন বর্ধিত করিতে পারিবে।
(৩) শিশু-আদালতে বিচার আরম্ভ হইবার পর হইতে, বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত [ যতদূর সম্ভব,] একাদিক্রমে উহার কার্যক্রম প্রত্যেক কার্যদিবসে বিনা বিরতিতে চলিতে থাকিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করা না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণ্য বা গুরুতর অপরাধের দায়ে দায়েরকৃত মামলা ব্যতীত, শিশু-আদালতের বিবেচনায় তাহার বিরুদ্ধে আনীত লঘু মাত্রার অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবে এবং একই অপরাধের জন্য তাহার বিরু্দ্ধে অন্য কোন বিচার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট মামলায় কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অভিযুক্ত থাকিলে তাহার মামলা অব্যাহত থাকিবে।
(১) অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কারাদণ্ড প্রদান করা যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শিশুকে যখন এইরূপ কোন মারাত্নক ধরনের অপরাধ সংঘটন করিতে দেখা যায় যে, তজ্জন্য এই আইনের অধীন প্রদানযোগ্য কোন আটকাদেশ আদালতের মতে পর্যাপ্ত নহে, অথবা আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে শিশুটি এত বেশি অবাধ্য অথবা ভ্রষ্ট চরিত্র যে তাহাকে কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা চলে না এবং অন্যান্য যে সকল আইনানুগ পন্থায় মামলাটির সুরাহা হইতে পারে উহাদের কোন একটিও তাহার জন্য উপযুক্ত নহে, তাহা হইলে শিশু-আদালত শিশুকে কারাদণ্ড প্রদান করিয়া কারাগারে প্রেরণের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে :
আরও শর্ত থাকে যে, এইরূপে প্রদেয় কারাদণ্ডেরর মেয়াদ তাহার অপরাধের জন্য প্রদেয় দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদের অধিক হইবে না :
আরও শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ কারাদণ্ডে থাকাকালীন যেকোন সময়ে শিশু-আদালত উপযুক্ত মনে করিলে এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে যে, এইরূপ কারাদণ্ডে আটক রাখিবার পরিবর্তে অভিযুক্ত শিশুকে, তাহার বয়স ১৮ (আঠারো) বৎসর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত, কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে আটক রাখিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর শর্তাংশের অধীন কোন শিশুকে কারাদণ্ড প্রদান করা হইলে, তাহাকে কারাগারে অবস্থানরত অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্ক আসামীর সহিত মেলামেশা করিতে দেওয়া যাইবে না।
(১) কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দোষী প্রমাণিত হইলে শিশু-আদালত তাহাকে অনুর্ধ্ব ১০ (দশ) বৎসর এবং অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে আটকাদেশ প্রদান করিয়া শিশুউন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় নয় এমন কোন অপরাধে দোষী প্রমাণিত হইলে শিশু-আদালত তাহাকে অনধিক ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে আটকাদেশ প্রদান করিয়া শিশু উন্নয়ন কেণ্দ্রে আটক রাখিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) শিশু-আদালতের আদেশে অথবা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আটকাদেশপ্রাপ্ত শিশুর আচরণ, চারিত্রিক ও ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটিলে এবং হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণ্য বা গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত না হইলে, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ শিশুর বয়স ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইবার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট শিশুকে মুক্তি প্রদানের লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইবার অন্যূন ৩ (তিন) মাস পূর্বে, সরকারের নিকট সুপারিশ প্রেরণ করিতে পারিবে।
(৩) হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, দস্যুতা বা মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত শিশুর বয়স ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইলে এবং মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকিলে অথবা উল্লিখিত অপরাধের মামলায় আদালতের আদেশ অনুযায়ী আটকাদেশপ্রাপ্ত শিশুর বয়স ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইলে, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ, শিশু-আদালতের অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে প্রেরণ করিবে।
(৪) কারাগার কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রেরিত ব্যক্তিকে, কারাগারে অবস্থানরত অন্য কোন আইনের অধীনে দণ্ডপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন আসামীদের হইতে পৃথক করিয়া ভিন্ন ওয়ার্ডে রাখিবার ব্যবস্থা করিবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাহার আটকাদেশের মেয়াদ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আটকাদেশের অবশিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত অবস্থান করিবেন।
(৫) কোন শিশুর বিচার প্রক্রিয়া ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইবার পর সমাপ্ত হইলে এবং বিচার সমাপ্তির পর তাহাকে আটকাদেশ প্রদান করা হইলে উক্ত শিশুকে শিশু-আদালত সরাসরি কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে প্রেরণ করিবে।
(৬) এই ধারায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, কোন শিশুকে উপ-ধারা (১) এর অধীন শিশুউন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার পরিবর্তে যথাযথ সতর্কীকরণের পর খালাস প্রদানের অথবা সদাচারণের জন্য প্রবেশনে মুক্তি দানের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৭) কোন শিশুকে, উপ-ধারা (৬) এর অধীন, প্রবেশনে মুক্তির ক্ষেত্রে শিশু-আদালত সংশ্লিষ্ট শিশুকে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে অথবা তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য অথবা অন্য কোন উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শিশুকে তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যের অনুকূলে সোপর্দ করা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উক্ত শিশুর, অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কাল, সদাচরণের জন্য দায়ী থাকিবেন মর্মে জামিনসহ বা বিনা জামিনে অথবা আদালত যেইরূপ নির্দেশ প্রদান করিবে সেইরূপ মুচলেকা প্রদান করিতে হইবে।
(৮) প্রবেশন কর্মকর্তার নিকট হইতে রিপোর্ট প্রাপ্তি অথবা অন্য কোনভাবে যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, প্রবেশনে মুক্ত শিশু তাহার প্রবেশনকালে সদাচরণ করে নাই, তাহা হইলে আদালত, যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ তদন্ত করিবার পর, সংশ্লিষ্ট শিশুকে প্রবেশনের অসমাপ্ত সময়ের জন্য প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে আটক রাখিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১) শিশু-আদালতের প্রত্যেক আদেশে ইহা নির্দিষ্ট বিরতিতে পর্যালোচনা করিবার বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যাহার মাধ্যমে শিশু-আদালত ইহার প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনা করিতে পারিবে এবং শিশুকে শর্ত সাপেক্ষে বা বিনা শর্তে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবে।
(২) সরকার যেকোন সময়, ধারা ৩৪ এর উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে প্রাপ্ত সুপারিশ বিবেচনা করিয়া, আটকাদেশপ্রাপ্ত শিশুকে শিশুউন্নয়ন কেন্দ্র বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান হইতে বিনা শর্তে বা তদ্কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য বিষয়টি জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।
(১) দণ্ডবিধিতে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে, এই আইনে যেইরূপ পরিভাষা ব্যবহার করা হইয়াছে সেইরূপ পরিভাষা ব্যতীত কোন শিশু সম্পর্কে দণ্ডবিধিতে ব্যবহৃত ‘অপরাধী’, ‘দণ্ডিত’ বা ‘দণ্ডাদেশ’ শব্দসমূহ ব্যবহার করা যাইবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে শিশুদের ক্ষেত্রে ‘অপরাধী’, ‘দণ্ডিত’ বা ‘দণ্ডাদেশ’ শব্দসমূহের পরিবর্তে শিশু-আদালত যথাক্রমে ‘দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি’ বা ‘দোষী সাব্যস্তকরণ’ বা ‘দোষী সাব্যস্তকরণ আদেশ’ বা উক্ত আদালতের বিবেচনায় উক্ত শব্দসমূহের পরিপূরক অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করিবে।
(১) শিশু-আদালতের বিবেচনায় কোন শিশু লঘু প্রকৃতির অপরাধ সংঘটন করিলে, উক্ত আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অপরাধের শিকার ও অপরাধ সংঘটনকারীর মধ্যে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে ধারা ৪৯ এর বিধান, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, প্রযোজ্য হইবে।
(২) প্রবেশন কর্মকর্তা, শিশু-আদালত কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে ও পদ্ধতিতে, সমাজের উপযুক্ত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অপরাধের শিকার ও অপরাধ সংঘটনকারীর মধ্যে বিরোধ মীমাংসার নিমিত্ত কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করিবেন এবং তদানুসারে বিরোধ মীমাংসা করিবেন এবং উহা, যথাশীঘ্র সম্ভব, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন।
(৩) শিশু-আদালত উপ-ধারা (২) অনুসারে তথ্য প্রাপ্তির পর বিষয়টির ওপর প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিবে এবং উহার ওপর করণীয়, যদি থাকে, সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করিয়া অধিদপ্তরকে অবহিত করিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন নির্দেশনা জারি করা হইলে, অধিদপ্তর উক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতঃ উহার অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতকে অবহিত করিবে।
(১) অপরাধের শিকার শিশুর বিরুদ্ধে [ আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত কোনো শিশু] দোষী সাব্যস্ত হইলে, উক্ত শিশু বা তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য, প্রবেশন কর্মকর্তা, আইনজীবী বা পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুরোধক্রমে অথবা শিশু-আদালত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হইয়া শিশুকে পূর্বাবস্থায় ফিরাইয়া দেওয়ার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য [ দোষী সাব্যস্তকৃত শিশুর পিতা-মাতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যদের] প্রতি আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য কোন আদেশ প্রদান করিলে শিশু-আদালত উক্ত আদেশে তদ্কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এককালীন বা কিস্তিতে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য এবং শিশুর কল্যাণে উহার ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিক্-নির্দেশনা প্রদান করিবে।
(১) অপরাধের শিকার শিশুর বিরুদ্ধে কোন শিশু দোষী সাব্যস্ত হইলে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর প্রতি শিশু-আদালত কর্তৃক আর্থিক ক্ষতিপূরণের জন্য আদেশ প্রদান করা হইলে শিশু-আদালত দোষী সাব্যস্ত শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে, উক্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য উক্ত আদেশে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করিবে, যদি,ক্ষেত্রমত, শিশুটির-
(২) এই ধারার অধীন আদেশ প্রদানের নিমিত্ত, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রবেশন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য আদালত নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) শিশুর মাতা-পিতা, আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক শিশুর তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য কর্তৃক ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানে অপারগতার কারণে শিশুকে কারাদণ্ড প্রদান করা যাইবে না।
(১) বিচার প্রক্রিয়া সমাপ্ত হইবার ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে শিশু-আদালত বিচারের ফলাফল সম্পর্কে শিশু, শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য, শিশুর আইনজীবী ও প্রবেশন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে।
(২) কোন শিশু মুক্তিপ্রাপ্ত হইলে শিশু-আদালত তাহার মুক্তি প্রদানের তথ্য, তদ্কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অধিদপ্তর, প্রবেশন কর্মকর্তা বা আইনজীবীর মাধ্যমে অথবা সরাসরি উক্ত শিশু ও তাহার মাতা-পিতাকে এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে অবহিত করিবে।
(৩) কোন মামলায়, উপ-ধারা (২) এর অধীন, কোন শিশু মুক্তিপ্রাপ্ত হইলে এবং উক্ত মামলায় আইনের সংস্পর্শে আসা কোন শিশু জড়িত থাকিলে, শিশু-আদালত সংশ্লিষ্ট মুক্তি প্রদানের তথ্যটি, তদ্কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অধিদপ্তর, প্রবেশন কর্মকর্তা বা আইনজীবীর মাধ্যমে অথবা সরাসরি আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও তাহার মাতা-পিতাকে এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে অবহিত করিবে।
(১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত [ আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ বা রায়] প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে।
[ (২) শিশু-আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনা (Revision) করা যাইবে।]
(৩) এই ধারার অধীন আপিল বা, ক্ষেত্রমত, পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হইলে উক্ত আবেদনটি দায়েরের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(১) এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধিতে সুস্পষ্ট ও ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে, [ অভিযোগ দায়ের,] মামলার বিচার এবং কার্যধারা গ্রহণের ক্ষেত্রে, ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য ও অনুসরণ করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কৃত সকল অপরাধ আমলযোগ্য হইবে এবং এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধিতে সুস্পষ্ট বিধান থাকিলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উক্ত বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।
কোন শিশু এই আইন বা অন্য কোন আইনের অধীন কোন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইলেও-
(১) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।
(২) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে নিবর্তনমূলক আটকাদেশ সংক্রান্ত কোন আইনের অধীন গ্রেফতার বা আটক করা যাইবে না।
(৩) শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্ত্ত, ইত্যাদি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন এবং প্রাথমিকভাবে তাহার বয়স নির্ধারণ করিয়া নথিতে লিপিবদ্ধ করিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতার করিবার পর কোন শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা, উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির সময় প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদ্ঘাটনপূর্বক যাচাই-বাছাই করিয়া তাহার বয়স লিপিবদ্ধ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন শিশু কিন্তু সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করিয়াও দালিলিক প্রমাণ দ্বারা তাহা নিশ্চিত হওয়া যায় না, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের বিধান অনুযায়ী শিশু হিসাবে গণ্য করিতে হইবে।
(৫) সংশ্লিষ্ট থানায় শিশুর জন্য উপযোগী কোন নিরাপদ স্থান না থাকিলে গ্রেফতারের পর হইতে আদালতে হাজির না করা সময় পর্যন্ত শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ক্ষেত্রে শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক বা ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন এইরূপ কোন শিশু বা অপরাধী এবং আইনের সংস্পর্শে আসা কোন শিশুর সহিত একত্রে রাখা যাইবে না।
(১) কোন শিশুকে গ্রেফতারের পর গ্রেফতারকারী কর্মকর্তা কর্তৃক থানায় আনয়ন করিলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, চতুর্থ অধ্যায়ে বর্ণিত বিধানাবলীকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে-
উক্ত গ্রেফতার সম্পর্কে অবহিত করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রমত, বোর্ডকে অবহিত করা সম্ভব না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশুকে আদালতে হাজির করিবার প্রথম দিবসে উক্তরূপ বিধান অনুসরণ না করিবার কারণ সংবলিত একটি প্রতিবেদন শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক আদালতে দাখিল করিতে হইবে।
এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধিতে সুস্পষ্ট ও ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে, এই আইনের অধীন সকল তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে, ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য ও অনুসরণ করিতে হইবে।
(১) শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মীর উপস্থিতিতে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুর জবানবন্দী গ্রহণ করিবেন।
(২) শিশুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রকৃতি ও শিশুর মানসিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় লইয়া শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা-
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে গ্রেফতার বা আটকের পর হইতে বিচার কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রমের পরিবর্তে, শিশুর পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, নৃতাত্ত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক ও শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনাপূর্বক, বিরোধীয় বিষয় মীমাংসাসহ তাহার সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে বিকল্প পন্থা (diversion) গ্রহণ করা যাইবে।
(২) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুর গ্রেফতারের পর হইতে বিচার কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালত আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নিমিত্ত বিকল্প পন্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি প্রবেশন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার শর্ত প্রতিপালন করিতেছে কি না প্রবেশন কর্মকর্তা তাহা লক্ষ্য রাখিবেন এবং বিষয়টি, সময় সময়, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন।
(৪) শিশু, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে প্রবেশন কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত আকারে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন।
(৫) বিকল্প পন্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৬) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অধিদপ্তর বিকল্প পন্থা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ যুগোপযোগী ও বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) ধারা ৪৮ এর অধীন বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হইলে প্রবেশন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিরোধ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারিবারিক সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(২) পারিবারিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীগণ সমঝোতার ভিত্তিতে সম্মেলনের কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ ও অনুসরণ করিয়া শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে পরিকল্পনা গ্রহণ করিতে পারিবেন যাহা শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিতে হইবে।
(৩) কোন বিশেষ ক্ষেত্রে কোন শিশুকে বিকল্প পন্থায় প্রেরণের সময় শিশু-আদালত বা ক্ষেত্রমত, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা পারিবারিক সম্মেলনের জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে এবং প্রবেশন কর্মকর্তা সেই মোতাবেক পারিবারিক সম্মেলনের আয়োজন করিবেন।
(৪) শিশু, বা তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য পারিবারিক সম্মেলনে গৃহীত কোন সিদ্ধান্তের শর্ত ভঙ্গ বা প্রতিপালন করিতে ব্যর্থ হইলে প্রবেশন কর্মকর্তা উহা লিখিতভাবে শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন।
(৫) পারিবারিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হইতে ব্যর্থ হইলে সম্মেলনটি বাতিল হইয়া যাইবে এবং ভিন্নরূপ একটি বিকল্প পন্থা গ্রহণের নিমিত্ত প্রবেশন কর্মকর্তা বিষয়টি শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার নিকট ফেরত পাঠাইবেন।
(৬) পারিবারিক সম্মেলনের কার্যক্রমসমূহ গোপনীয় বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কোন ব্যক্তির কোন বক্তব্য পরবর্তীতে কোন আদালতের বিচার কার্যক্রমে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না।
(১) এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে বিকল্প পন্থা গ্রহণ ও সমাপ্ত করিতে হইবে।
(২) অপরাধ সংঘটনকারী শিশু বিকল্প পন্থা অবলম্বনে ইতিবাচক সাড়া প্রদান করিলে, বিকল্প পন্থা নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বেই সমাপ্ত করা যাইবে।
এই আইনের বিধান অনুসারে প্রবেশন কর্মকর্তার প্রতিবেদন প্রাপ্ত হইয়া বা অন্য কোনভাবে যদি শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, শিশু, শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার শর্ত ভঙ্গ করিয়াছেন বা বিকল্প পন্থা সংক্রান্ত কোন আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইয়াছেন, তাহা হইলে বিষয়টি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে যাচাইপূর্বক শিশু-আদালত বা, ক্ষেত্রমত শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা-
(১) ফৌজদারি কার্যবিধিসহ বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা এই আইনের অন্য কোন বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর এই আইনের অধীন মুক্তি প্রদান বা বিকল্প পন্থায় প্রেরণ করা অথবা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে হাজির করা সম্ভবপর না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে, ক্ষেত্রমত, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বা প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শর্ত ও জামানত সাপেক্ষে, অথবা, শর্ত ও জামানত ব্যতীত জামিনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শিশুকে জামিনে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধ জামিনযোগ্য বা জামিন অযোগ্য কি না তাহা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বিবেচনায় লইবেন না।
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধের প্রকৃতি গুরুতর বা ঘৃণ্য প্রকৃতির হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে উহা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু কোন কুখ্যাত অপরাধীর সাহচর্য লাভ করিতে পারে বা নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হইতে পারে বা জামিন প্রদান করা হইলে ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হইবার আশঙ্কা থাকিলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিশুকে জামিন বা মুক্তি প্রদান করিবেন না।
(৪) গ্রেফতারকৃত শিশুকে উপ-ধারা (৩) এর অধীন জামিনে মুক্তি প্রদান করা না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, গ্রেফতারের পর আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ সময় ব্যতীত, ২৪ (চবিবশ) ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিশুকে নিকটস্থ শিশু-আদালতে হাজির করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৫) থানা হইতে জামিনপ্রাপ্ত হয় নাই এমন কোন শিশুকে শিশু-আদালতে উপস্থাপন করা হইলে শিশু-আদালত তাহাকে জামিন প্রদান করিবে বা নিরাপদ স্থানে বা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার আদেশ প্রদান করিবে।
কোন ব্যক্তি যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করেন যে, কোন শিশু অপরাধমূলক ঘটনার শিকার বা কোন অপরাধের সাক্ষী তাহা হইলে তিনি উহা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মীকে অবহিত করিবেন এবং উক্ত ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মী উক্ত শিশুর সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(১) [ *]আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, বয়স, লিঙ্গ এবং অক্ষমতা ও পরিপক্কতার বিষয়সমূহ বিবেচনায় লইতে হইবে।
(২) শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক বিশেষ শিশুবান্ধব পরিবেশে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে উক্ত শিশুর মাতা-পিতা অথবা তাহাদের অবর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তার, যাহাদের উপস্থিতিতে শিশু সাক্ষাৎকার প্রদানে রাজি থাকে বা স্বাচ্ছন্দবোধ করে, উপস্থিতিতে একজন মহিলা পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করিয়া শিশুর সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করিবার জন্য শিশু-আদালত নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করিবার নিমিত্ত আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা :
(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করিয়া শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করিবার জন্য শিশু-আদালত পদ্ধতি নির্ধারণপূর্বক বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ মীমাংসার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১) আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু এবং আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিত্ব ব্যতীত কোন আদালত কোন মামলার বিচার কার্য পরিচালনা করিবে না।
(২) শিশু তাহার আইনগত প্রতিনিধিকে নিজের ভাষায় এবং, ক্ষেত্রমত, ব্যাখ্যাকারীর সাহায্যে প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করিবার অধিকার সংরক্ষণ করিবে।
(৩) শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য কর্তৃক কোন আইনজীবী নিয়োগ করা না হইলে অথবা মাতা-পিতা অথবা তাহাদের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য না থাকিলে অথবা আইনজীবী নিয়োগের আর্থিক সামর্থ্য না থাকিলে, শিশু-আদালত জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটি বা, ক্ষেত্রমত, সুপ্রিম কোর্ট’ এর তালিকাভুক্ত বা প্যানেলভুক্ত আইনজীবীগণের মধ্য হইতে একজন উপযুক্ত আইনজীবীকে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রদান করিবার লক্ষ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এবং উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা, প্রবিধানমালা ও নীতিমালা অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(১) ধারা ৫৫ এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন শিশুর পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট মামলার সকল শুনানীতে অবশ্যই হাজির থাকিতে হইবে এবং যুক্তিসঙ্গত কোন কারণে তিনি মামলা পরিচালনা করিতে অপরাগ হইলে উক্ত অপারগতার কারণসহ বিষয়টি লিখিতভাবে, যুক্তিসঙ্গত সময়ে, তাহার প্রতিনিধি, শিশুর মাতা-পিতা অথবা তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বা প্রবেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত করিতে হইবে।
(২) কোন আইনজীবী উপ-ধারা (১) এর অধীন তাহার অপরাগতার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করিলে, উক্ত ক্ষেত্রে একজন নূতন আইনজীবী নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানি স্থগিত থাকিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, নূতন আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা’র জেলা আইনগত সহায়তা কমিটি কোনক্রমেই ৩০ (ত্রিশ) দিনের অতিরিক্ত সময় অতিক্রান্ত করিবে না।
(৩) শিশুর পক্ষে শিশুর মাতা-পিতা অথবা তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য কর্তৃক আইনজীবী নিয়োগ করা হইলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট মামলার সকল শুনানিতে অবশ্যই হাজির থাকিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, প্রয়োজনে, যুক্তিসঙ্গত কারণে, শিশু আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, মামলার শুনানী হইতে অব্যাহতি যাচিতে পারিবেন।
শিশুর পক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত বারংবার আদালতে অনুপস্থিত থাকিলে বা মামলা পরিচালনায় তাহার সুস্পষ্ট গাফিলতি পরিলক্ষিত হইলে শিশু-আদালত তাহাকে উক্ত মামলা পরিচালনার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিয়া বিষয়টি অসদাচরণ গণ্যে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির চেয়ারম্যানকে এবং, ক্ষেত্রমত, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতিকে নির্দেশনা প্রদান করিবে এবং উক্তরূপ নির্দেশনার আলোকে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে আদালতকে নির্দেশনা প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অবহিত করিবার বিষয়টি উল্লেখ করিবে।
[*] আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা, ক্ষেত্রমত, আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা রহিয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হইলে সংশ্লিষ্ট শিশুর তত্ত্বাবধানকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত শিশুর জন্য নিম্নবর্ণিত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে, যথা :-
(১) সরকার, বিচার প্রক্রিয়ায় আটকাদেশপ্রাপ্ত শিশু এবং বিচারের আওতাধীন শিশুর আবাসন, সংশোধন ও উন্নয়নের লক্ষে, লিঙ্গভেদে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর প্রাসঙ্গিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া সরকার, যেকোন সময়, উহার যেকোন ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানকে শিশু অপরাধীদেরকে অবস্থানের জন্য উপযুক্ত মর্মে প্রত্যয়ন করিতে পারিবে।
(৩) সরকার উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বা, ক্ষেত্রমত, উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে আগত ও অবস্থানরত শিশুদের আবাসন, সংশোধন, উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার নিমিত্ত নীতিমালা প্রণয়ন বা, সময় সময়, পরিপত্র জারি করিবে।
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি বা নীতিমালার আলোকে, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান হিসাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করিবার লক্ষ্যে, নির্ধারিত শর্তপূরণ সাপেক্ষে, অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
বৈধ প্রত্যয়নপত্র ব্যতীত ধারা ৬০ এ উল্লিখিত কোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিতে ব্যর্থ কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা অব্যাহত রাখা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক বা কর্মকর্তা ৫ (পাঁচ) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ৫৯ এবং ৬০ এর অধীন সরকারি বা, ক্ষেত্রমত, বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান প্রতিটি শিশুর নাম, লিঙ্গ, বয়স ও উক্ত প্রতিষ্ঠানে শিশুকে গ্রহণ করিবার কারণসহ গ্রহণের তারিখ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে লিপিবদ্ধ করিয়া, অধিদপ্তরকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অবহিত করিবে এবং অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য সকল তথ্য অধিদপ্তরকে সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(১) সরকার, সময় সময়, অফিস আদেশ বা নির্দেশনা জারির মাধ্যমে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুদের যথাযথ পরিচর্যার জন্য ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করিবে এবং প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ উক্ত আদেশ বা নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যার ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখিবে।
(২) প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুদের অপরাধের মাত্রা, ধরণ ও বয়স বিবেচনায় লইয়া বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করিয়া রাখিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত শ্রেণি বিভাগের সময় বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখিতে হইবে যেন, ৯ (নয়) বৎসরের ঊর্ধ্বের কোন শিশুর সহিত ১০ (দশ) বৎসরের এবং ১০ (দশ) বৎসরের ঊর্ধ্বের কোন শিশুর সহিত ১২ (বার) বৎসরের ঊর্ধ্বের শিশুকে একত্রে একই কক্ষে এবং ফ্লোরে রাখা না হয়;
আরও শর্ত থাকে যে, ১২ (বার) বৎসর এবং তদুর্ধ্ব বয়সের বয়স্ক শিশুর ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা, শিশুর বাড়ন্ত শারীরিক কাঠামো, সবলতা, ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় লইয়া তাহাদের আবাসনের বিষয়টি সতর্কভাবে খেয়াল রাখিতে হইবে এবং, যতদূর সম্ভব, তাহাদের পৃথক পৃথক কক্ষে রাখিবার ব্যবস্থা করিতে হইবে।
(৩) দণ্ডবিধির ধারা ৮২ এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে ৯ (নয়) বৎসর বয়সের কম বয়সী কোন শিশুকে কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে রাখা যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন কারণে ৯ (নয়) বৎসর বয়সের কম বয়সী অভিভাবকহীন কোন শিশুকে কোথাও পাওয়া গেলে তাহাকে অধিদপ্তর বা উহার নিকটস্থ কোন কার্যালয়ে প্রেরণ করিতে হইবে এবং অধিদপ্তর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বোর্ডের গোচরীভূত করতঃ সংশ্লিষ্ট শিশুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশু গণ্যে, ক্ষেত্রমত, ধারা ৮৪ বা ধারা ৮৫ এর বিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ, উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকারী, প্রত্যেক শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা এবং তাহাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, মানবিক আচরণ এবং যথোপযুক্ত শিক্ষাসহ কারিগরী শিক্ষা নিশ্চিত করিবে।
সরকার বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তদ্কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, দাপ্তরিক বা বিশেষ কোন প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে, যেকোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করিতে পারিবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে।
অধিদপ্তর, বিশেষ প্রয়োজনে, একটি শিশুকে এক প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান হইতে অন্য প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
কোন প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়িত মর্যাদা লোপ পাইলে এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের আদেশক্রমে উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুদের অন্য কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে বদলি বা স্থানান্তর করা যাইবে।
কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুদের যথাযথ পরিচর্যার জন্য, ধারা ৬৩ এর অধীন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পরিচর্যার ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখিতে ব্যর্থ হইলে, সরকার উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতি নোটিশ জারি করিয়া নোটিশে উল্লিখিত তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়ন প্রত্যাহার করা হইল মর্মে ঘোষণা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ নোটিশ জারির পূর্বে, প্রত্যয়নপত্র কেন প্রত্যাহার করা হইবে না তাহার কারণ দর্শাইবার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।
এই আইনের বিধানাবলীর অধীন কোন ব্যক্তি বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে কোন শিশুকে সোপর্দ করা হইলে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উক্ত শিশুকে তাহার মাতা-পিতার ন্যায় নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করিবার জন্য দায়ী থাকিবেন এবং সংশ্লিষ্ট শিশুর মাতা-পিতা বা অন্য কোন ব্যক্তি দাবী করা সত্ত্বেও শিশু-আদালত বা বোর্ড বা অন্য কোন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শিশুটিকে অব্যাহতভাবে তাহার তত্ত্বাবধানে রাখিবেন।
(১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন এবং এই আইনের অন্যান্য বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান অথবা যে ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকিবার জন্য শিশুকে নির্দেশ প্রদান করা হইয়াছিল, তাহার তত্ত্বাবধান হইতে কোন শিশু পলায়ন করিলে উক্ত পলাতক শিশুকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করিতে পারিবেন এবং উক্ত শিশুর কোন অপরাধ নথিভুক্ত না করিয়া বা তাহার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের না করিয়া তাহাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিকট ফেরত পাঠাইবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ পলাতক হইবার কারণে উক্ত শিশু কোন অপরাধ করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পলাতক কোন শিশুকে গ্রেফতার করা হইলে তাহাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিকট ফেরৎ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে রাখিতে হইবে।
কোন ব্যক্তি যদি তাহার হেফাজতে, দায়িত্বে বা পরিচর্যায় থাকা কোন শিশুকে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ ব্যক্তিগত পরিচর্যার কাজে ব্যবহার বা অশালীনভাবে প্রদর্শন করে এবং এইরূপভাবে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, পরিত্যাগ ব্যক্তিগত পরিচর্যা বা প্রদর্শনের ফলে উক্ত শিশুর অহেতুক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাস্থ্যের এইরূপ ক্ষতি হয়, যাহাতে সংশ্লিষ্ট শিশুর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়, শরীরের কোন অঙ্গ বা ইন্দ্রিয়ের ক্ষতি হয় বা কোন মানসিক বিকৃতি ঘটে, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেন বা কোন শিশুর দ্বারা ভিক্ষা করান অথবা শিশুর হেফাজত, তত্ত্বাবধান বা দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগদানে প্রশ্রয়দান করেন বা উৎসাহ প্রদান করেন বা ভিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শিশুর দেখাশুনার দায়িত্বে থাকাকালে কোন ব্যক্তিকে যদি প্রকাশ্য স্থানে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এই কারণে যদি তিনি শিশুটির যথাযথ তত্ত্বাবধান করিতে অসমর্থ হন, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
যদি কোন ব্যক্তি অসুস্থতা বা অন্য কোন জরুরী কারণে উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তারের আদেশ ব্যতীত কোন শিশুকে নেশাগ্রস্তকারী মাদকদ্রব্য বা ঔষধ প্রদান করে বা করায়, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
যদি কোন ব্যক্তি কোন শিশুকে মাদক বা বিপজ্জনক ঔষধ বিক্রয়ের স্থানে লইয়া যায় অথবা এইরূপ স্থানের স্বত্ত্বাধিকারী, মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে অনুরূপ স্থানে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করে অথবা কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ স্থানে কোন শিশুর গমনের কারণ সৃষ্টি করেন, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
যদি কোন ব্যক্তি মৌখিকভাবে, লিখিত শব্দ দ্বারা, কোন প্রকার ইঙ্গিত দ্বারা বা অন্য কোনভাবে কোন শিশুকে কোন বাজি ধরিতে বা পণ রাখিতে অথবা কোন বাজি বা পণভিত্তিক লেনদেনে অংশগ্রহণ করিতে বা শেয়ার লইতে উসকানি প্রদান করে বা প্রদানের চেষ্টা করে অথবা অনুরূপভাবে কোন শিশুকে ঋণ গ্রহণ করিতে বা ঋণ গ্রহণমূলক লেনদেনে অংশগ্রহণ করিতে উসকানি প্রদান করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোন ব্যক্তি কোন শিশুর নিকট হইতে কোন দ্রব্য, তাহা উক্ত শিশুর পক্ষ হইতে বা অন্য কোন ব্যক্তির পক্ষ হইতে প্রদেয় হউক না কেন, বন্ধক গ্রহণ করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(১) ৪ (চার) বৎসরের অধিক বয়সের কোন শিশুকে যৌনপল্লীতে বাস করিতে কিংবা গমনাগমন করিতে সুযোগ বা অনুমতি প্রদান করা যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, ৪ (চার) বৎসর বয়স অতিক্রান্ত হইবার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত শিশুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশু গণ্যক্রমে, ক্ষেত্রমত, ধারা ৮৪ বা ধারা ৮৫ এর অধীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরে বা উহার নিকটস্থ কার্যালয়ে প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন।
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(১) কোন ব্যক্তি কোন শিশুর প্রকৃত দায়িত্বসম্পন্ন হইয়া বা তাহার তত্ত্বাবধানকারী হইয়া তাহাকে অসৎ পথে পরিচালিত করিলে কিংবা যৌনবৃত্তিতে প্রবৃত্ত করিলে বা তজ্জন্য উৎসাহ প্রদান করিলে অথবা স্বামী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির সহিত তাহার যৌন সঙ্গম করাইলে বা তজ্জন্য উৎসাহ প্রদান করিলে, উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তির নালিশের পরিপ্রেক্ষিতে যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন শিশু তাহার মাতা-পিতা অথবা তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যের জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে অসৎ পথে পরিচালিত হইতেছে বা যৌনবৃত্তিতে লিপ্ত হইবার ঝুঁকির সম্মুখীন হইতেছে, তাহা হইলে আদালত এইরূপ শিশুর বিষয়ে উপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং তদারকি করিবার জন্য একটি মুচলেকা সম্পাদন করিতে, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট মাতা-পিতা, তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ, আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
[ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যে সেই ব্যক্তি কোন শিশুকে অসৎ পথে বা যৌনবৃত্তিতে পরিচালিত করাইয়াছেন বা তজ্জন্য উৎসাহ প্রদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি উক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে কোন যৌনকর্মী কিংবা ভ্রষ্ট চরিত্র বলিয়া জ্ঞাত ব্যক্তির সহিত বাস করিতে বা তাহার অধীন চাকুরিতে নিয়োজিত হইতে বা থাকিতে জ্ঞাতসারে অনুমতি প্রদান করিয়া থাকেন।]
(১) যদি কোন ব্যক্তি কোন শিশুর দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্র বা অবৈধ ও নিষিদ্ধ বস্ত্ত বহন করান বা পরিবহন করান, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি শিশুর প্রকৃত দায়িত্বসম্পন্ন বা তত্ত্বাবধানকারী ইউক, বা না হউক, কোন শিশুকে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৬ নং আইন) এর ধারা ৬ এ উল্লিখিত কোন সন্ত্রাসী কার্যে নিয়োজিত করিলে বা ব্যবহার করিলে তিনি স্বয়ং উক্ত সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য তিনি উক্ত ধারায় উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(১) শিশু-আদালত কর্তৃক শিশুর জিম্মাদার, রক্ষণাবেক্ষণকারী, প্রতিপালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা অন্য কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভৃত্যের চাকরী বা শ্রম আইন, ২০০৬ এর বিধান মোতাবেক কোন কারখানা কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োগের কথা বলিয়া হস্তগত করে, কিন্তু কার্যতঃ শিশুকে নিজ স্বার্থে শোষণ করে, আটকাইয়া রাখে অথবা তাহার উপার্জন ভোগ করে, তাহা হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) শিশু-আদালত কর্তৃক শিশুর জিম্মাদার, রক্ষণাবেক্ষণকারী বা প্রতিপালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা অন্য কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভৃত্যের চাকুরী বা শ্রম আইন, ২০০৬ এর বিধান মোতাবেক কোন কারখানা কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োগের কথা বলিয়া হস্তগত করে, কিন্তু কার্যতঃ শিশুকে অসৎ পথে চালিত করে বা যৌনকর্ম কিংবা নীতি-গর্হিত কোন কাজে লিপ্ত হইবার ঝুঁকির সম্মুখীন করে, তাহা হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) বা (২) এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে শোষিত বা কাজে লাগানো শিশুর শ্রমের ফল ভোগ করিলে অথবা নৈতিকতা বিরোধী বিনোদনের কাজে শিশুকে ব্যবহার করিলে তিনি সংশ্লিষ্ট দুষ্কর্মের সহায়তার জন্য দায়ী হইবেন।
(১) [*] বিচারাধীন কোন মামলা বা বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন শিশুর স্বার্থের পরিপন্থী এমন কোন প্রতিবেদন, ছবি বা তথ্য প্রকাশ করা যাইবে না, যাহার দ্বারা শিশুটিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শনাক্ত করা যায়।
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) কোন কোম্পানী, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানী, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন অনধিক ২ (দুই) মাসের জন্য স্থগিত রাখাসহ উহাকে অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করা যাইবে।
কোন ব্যক্তি, জ্ঞাতসারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠান, নিরাপদ স্থান বা বিকল্প পন্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধান হইতে কোন শিশুকে,-
তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন মামলার কার্যক্রমে কোন আদালতে কোন শিশুর সম্পর্কে যদি এমন কোন তথ্য প্রকাশ করেন যাহা মিথ্যা, বিরক্তিকর বা তুচ্ছ প্রকৃতির তাহা হইলে আদালত, প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, যাহার বিপক্ষে উক্ত তথ্য প্রদান করা হয় তাহার অনুকূলে ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকার ঊর্ধ্বে যেকোন পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদান করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদানকারীর প্রতি নির্দেশ প্রদান করিতে এবং অনাদায়ে অনধিক ৬ (ছয়) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদানের পূর্বে, তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে কেন ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবার আদেশ প্রদান করা হইবে না তদ্মর্মে কারণ দর্শাইবার জন্য নোটিশ প্রদান করিতে হইবে এবং তথ্য প্রদানকারী কোন কারণ প্রদর্শন করিলে তাহা বিবেচনায় লইতে হইবে।
(১) সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু, যাহাদের বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন, তাহাদের পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, নৃতাত্ত্বিক, মনস্তাত্বিক ও শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনাপূর্বক, সার্বিক কল্যাণ ও সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে, বিকল্প পরিচর্যার (alternative care) উদ্যোগ গ্রহণ করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিকল্প পরিচর্যায় প্রেরণের পূর্বে ধারা ৯২ অনুযায়ী শিশুর যাচাই (assessment) সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিবেচনা করিতে হইবে।
(২) বিকল্প পরিচর্যার উপায় ও ধরন নির্ধারণ করিবার সময় শিশুর মাতা-পিতার সহিত পুনঃএকীকরণের (re-integration) বিষয়টিকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিবেচনা করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, মাতা-পিতার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়া থাকিলে বা অন্য কোন কারণে তাহারা পৃথকভাবে বসবাস করিলে, যতদূর সম্ভব, শিশুর মতামতকে প্রাধান্য প্রদানপূর্বক, মাতা-পিতার মধ্যে যে কোন একজনের সহিত পুনঃএকীকরণ করিতে হইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, শিশুর মতামতকে প্রাধান্য প্রদানের পূর্বে মাতা-পিতার পৃথকভাবে বসবাসের কারণসহ তাহাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত হইতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী মাতা-পিতার সহিত পুনঃএকীকরণ সম্ভব না হইলে, বর্ধিত পরিবারের সহিত পুনঃএকীকরণ করা যাইবে, অথবা মাতা-পিতার অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা অন্য কোন উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট সমাজভিত্তিক একীকরণের (community based integration) উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা যাইবে।
(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশুকে ধারা ৮৫ তে উল্লিখিত কোন প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা যাইবে।
(৫) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে যদি এইরূপ প্রতীয়মান হয় যে, শিশুর মাতা-পিতা শিশুকে কোন অনৈতিক বা বেআইনী কোন কাজে নিয়োজিত করিতে পারে তাহা হইলে, উক্ত মাতা-পিতার উক্তরূপ অবস্থা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য, শিশুকে ধারা ৮৫ তে উল্লিখিত কোন প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করিতে হইবে এবং শিশুটিকে যাহাতে তাহার মাতা-পিতার সহিত পুনঃএকীকরণ করা যায় তদ্লক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট মাতা-পিতাকে পুনর্বাসনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৬) বিকল্প পরিচর্যার প্রক্রিয়া, পদ্ধতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
সুবিধাবঞ্চিত যে সকল শিশুর জন্য ধারা ৮৪ এর উপ-ধারা (২) ও (৩) অনুযায়ী মাতা-পিতাকেন্দ্রিক পরিচর্যা বা অ-প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা যাইবে না, অধিদপ্তর, এতদুদ্দেশ্যে সরকার প্রণীত নীতিমালার আলোকে, নিম্নরূপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাহাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা নিশ্চিত করিবে, যথা :
শিশু কল্যাণ বোর্ড বা প্রবেশন কর্মকর্তা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় আনিয়া শিশুর জন্য সবচাইতে উপযুক্ত পরিচর্যার উপায় নির্ধারণ করিবেন।
অধিদপ্তর এই আইনের অধীন বিকল্প পরিচর্যার নিমিত্ত নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে, যথা :-
(১) শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ সংরক্ষণে বিকল্প পরিচর্যার মেয়াদ স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি হইতে পারিবে।
(২) প্রবেশন কর্মকর্তা শিশু এবং তাহার পরিবারের অভিমত বিবেচনায় লইয়া গৃহীত বিকল্প পরিচর্যা নির্দিষ্ট বিরতিতে পুনর্বিবেচনা করিবেন।
(৩) নির্দিষ্ট বিরতিতে পুনর্বিবেচনার অংশ হিসাবে প্রবেশন কর্মকর্তা শিশুর বিকল্প পরিচর্যা নিয়মিত পরিদর্শন করিবেন এবং, ক্ষেত্রমত, জেলা বা উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড বা অধিদপ্তরকে উক্ত বিষয়ে অবহিত করিবেন।
(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পুনর্বিবেচনার ওপর ভিত্তি করিয়া প্রবেশন কর্মকর্তা প্রয়োজনে, এই আইনের অধীন অন্য কোন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় বিবেচনার জন্য অধিদপ্তরের নিকট সুপারিশ করিতে পারিবেন।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত শিশুগণ সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসাবে গণ্য হইবে, যথা:-
(২) সরকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুর বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) কোন ব্যক্তি বা সংস্থা সুবিধাবঞ্চিত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাত জড়িত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, এতদ্সংক্রান্ত কোন সংবাদ প্রাপ্ত হইলে, উক্ত ব্যক্তি বা সংস্থা সংশ্লিষ্ট শিশুকে বা উক্ত সংবাদ-
(২) প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মী সুবিধাবঞ্চিত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, এতদ্সংক্রান্ত কোন সংবাদ প্রাপ্ত হইলে, উক্তরূপ প্রাপ্তি সংক্রান্ত তথ্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে লিপিবদ্ধ করিবেন এবং-
(৩) অধিদপ্তর বা উহার কোন কার্যালয় সুবিধাবঞ্চিত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, এতদ্সংক্রান্ত কোন সংবাদ প্রাপ্ত হইলে, উক্তরূপ প্রাপ্তি সংক্রান্ত তথ্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে লিপিবদ্ধ করিবে এবং-
(১) কোন পুলিশ কর্মকর্তা সুবিধাবঞ্চিত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু বা আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে বা, ক্ষেত্রমত, এতদ্সংক্রান্ত কোন সংবাদ প্রাপ্ত হইলে, উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিশুকে সংশ্লিষ্ট থানার শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শিশুকে প্রাপ্ত হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুর ক্ষেত্রে এই আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুর ক্ষেত্রে, ক্ষেত্রমত, ধারা ৮৪ এবং ধারা ৮৫ এর বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাহাকে অধিদপ্তর বা উহার নিকটস্থ কার্যালয়ে প্রেরণ করিবেন।
(১) এই আইনের অধীন প্রাপ্ত শিশুকে ধারা ৮৫ তে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন ‘নিরাপদ স্থানে’ রাখিয়া প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, যাচাই করিবেন এবং তাহার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে এই আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(২) প্রবেশন কর্মকর্তা বা সমাজকর্মী শিশুর প্রকৃত অবস্থাসহ শিশুর মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যকে খুঁজিয়া বাহির করিবেন।
(১) শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে প্রবেশন কর্মকর্তা উহার নিকট রক্ষিত ও প্রাপ্ত সকল তথ্য নিয়মিতভাবে বোর্ড’এর সদস্য-সচিবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিশুকল্যাণ বোর্ড-এ উপস্থাপন করিবেন এবং উহার একটি অনুলিপি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরণ করিবেন।
(২) জেলা এবং, ক্ষেত্রমত, উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করিবে এবং শিশুর সার্বিক কল্যাণার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান করিবে।
[*]
সরকার এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
সরকার এই আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং এতদ্বিষয়ে, প্রয়োজনে, নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে।
এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অস্পষ্টতা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্তরূপ অস্পষ্টতা দূর করিতে পারিবে।
এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে করা হইয়াছে বা করিবার উদ্দেশ্য ছিল বলিয়া বিবেচিত কোন কার্যের জন্য কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন প্রকার আইনগত কার্যধারা রুজু করিতে পারিবেন না।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, প্রয়োজনবোধে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) এই আইনের বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Children Act, 1974 (Act No. XXXIX of 1974), অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, রহিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও উক্ত Act এর অধীন-