Bangla Academy Ordinance, 1978 রহিতপূর্বক সংশোধনসহ উহা পুনঃপ্রণয়ন ও সংহত করিবার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু Bangla Academy Ordinance, 1978 (Ordinance No. XIX of 1978) রহিতপূর্বক সংশোধনসহ উহা পুনঃপ্রণয়ন ও সংহত করিবার উদ্দেশ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
(১) এই আইন বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে;-
(১) ‘‘একাডেমি’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলা একাডেমি;
(২) ‘‘একাডেমির সভাপতি’’ অর্থ ধারা ৬ এর অধীন নিযুক্ত একাডেমির সভাপতি;
(৩) ‘‘তহবিল’’ অর্থ একাডেমির তহবিল;
(৪) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;
(৫) ‘‘নির্বাহী পরিষদ’’ অর্থ ধারা ২৩ এর অধীন গঠিত নির্বাহী পরিষদ;
(৬) ‘‘নির্বাহী পরিষদের সভাপতি’’ অর্থ ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এ উল্লিখিত নির্বাহী পরিষদের সভাপতি;
(৭) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৮) ‘‘ ফেলো’’ অর্থ ধারা ৭ এ উল্লিখিত ফেলো ও সাম্মানিক ফেলো;
(৯) ‘‘বিভাগ’’ অর্থ ধারা ১২ এর অধীন গঠিত একাডেমির বিভাগ;
(১০) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১১) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ ধারা ২৬ এর অধীন নিযুক্ত একাডেমির মহাপরিচালক;
(১২) ‘‘সাধারণ পরিষদ’’ অর্থ ধারা ১৯ এর অধীন গঠিত একাডেমির সাধারণ পরিষদ;
(১৩) ‘‘সচিব’’ অর্থ ধারা ৩০ এর অধীন নিযুক্ত একাডেমির সচিব;
(১৪) ‘‘সদস্য’’ অর্থ ধারা ৮ এ উল্লিখিত একাডেমির জীবন সদস্য ও সদস্য।
(১) ৩। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বাংলা একাডেমি নামে একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হইবে।
(২) একাডেমি একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
একাডেমির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একাডেমি গঠিত হইবে, যথা :-
(১) রাষ্ট্রপতি একাডেমির সভাপতি নিয়োগ করিবেন।
(২) প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পন্ডিত, সাহিত্যিক অথবা স্বাধীনতা পদক বা একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে একাডেমির সভাপতি নিযুক্ত হইবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশের নাগরিক নহেন এমন কোনো ব্যক্তিকে সভাপতি হিসাবে নিয়োগ করা যাইবে না।
(৩) একাডেমির সভাপতি তাহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৩(তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।
(৪) একাডেমির সভাপতি যে কোনো সময়ে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৫) এই আইন লঙ্ঘন বা গুরুতর অনিয়ম বা অসদাচরণের অভিযোগে সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একাডেমির সভাপতির বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অনাস্থা জ্ঞাপন করিলে, নির্বাহী পরিষদ উহা রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করিবে এবং রাষ্ট্রপতি স্বীয় বিবেচনায় তাহাকে অপসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৬) সভাপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে সভাপতি তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত সভাপতি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা সভাপতি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে একজন ফেলো সভাপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) একাডেমি কর্তৃক সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি, নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে, একাডেমির ফেলো হইবেন।
(২) ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সামাজিক বিজ্ঞান বা জ্ঞানের বিশেষ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদান রাখিয়াছেন এমন কোনো ব্যক্তিকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক সাম্মানিক ফেলো করা যাইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তিকে মরণোত্তর সাম্মানিক ফেলো করা যাইবে না।
(৩) এক খ্রিষ্টীয় বৎসরে সর্বোচ্চ ৭(সাত) জন ব্যক্তিকে সাম্মানিক ফেলো করা যাইবে।
(৪) কোনো ফেলোকে একাডেমির সভাপতি হিসাবে নিয়োগ করা হইলে, যতদিন পর্যন্ত তিনি সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন, ততদিন পর্যন্ত ফেলো হিসাবে তাহার ভোটাধিকার স্থগিত থাকিবে।
(৫) কোনো ফেলো মহাপরিচালকের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে ইস্তফা দিতে পারিবেন।
(১) ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাংবাদিকতা, সামাজিক বিজ্ঞান অথবা জ্ঞানের বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রহিয়াছে এবং যাহার বয়স কমপক্ষে ৩০(ত্রিশ) বৎসর পূর্ণ হইয়াছে, এইরূপ বাংলাদেশের কোনো নাগরিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে একাডেমির জীবন সদস্য ও সদস্য পদ লাভ করিতে বা অব্যাহতি গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(২) এক খ্রিষ্টীয় বৎসরে সর্বোচ্চ ২১(একুশ) জন ব্যক্তিকে সদস্য করা যাইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি তিন খ্রিষ্টীয় বৎসরে সদস্যের সংখ্যা, উক্ত তিনবৎসর কাল শুরু হইবার পূর্বে মোট সদস্য সংখ্যা যাহা ছিল, উহা হইতে ৫(পাঁচ) শতাংশের অধিক বৃদ্ধি করা যাইবে না।
(৩) কোনো সদস্যের সদস্যপদ কোনো কারণে বাতিল হইলে, সদস্যপদ হইতে অব্যাহতি গ্রহণ বা সদস্যপদ হইতে পদত্যাগ করিলে তিনি পুনর্বার সদস্য হইতে পারিবেন না।
একাডেমি নিম্নবর্ণিত কোনো কারণে কোনো সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করিতে পারিবে, যথা:-
একাডেমির কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
(১) জাতীয় আশা আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রাখিয়া বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়ন, লালন ও প্রসার সাধন;
(২) দ্রুত পরিবর্তনশীল ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া এবং একই সঙ্গে, বাংলা ভাষার গৌরবময় ঐতিহ্য সমুন্নত রাখিয়া জীবনের সর্বস্তরে এবং জ্ঞানচর্চার সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন, ব্যবহার ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও সহায়তা প্রদান;
(৩) বাংলা ভাষার প্রামাণ্য অভিধান, পরিভাষা ও ব্যাকরণ রচনা, রেফারেন্স গ্রন্থ, গ্রন্থপঞ্জি এবং বাংলা ভাষায় বিশ্বকোষ প্রণয়ন, প্রকাশন ও সহজলভ্যকরণ;
(৪) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার ব্যাপকতর ও সমৃদ্ধতর করিবার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ;
(৫) বাংলা শব্দের প্রমিত বানান ও উচ্চারণ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(৬) বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধি সাধনকল্পে উন্নতমানের গবেষণা পরিচালনা এবং সৃষ্টিশীল ও গবেষণাধর্মী গ্রন্থ প্রকাশ এবং তদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(৭) বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্যকরূপে অনুধাবনের সুবিধার্থে বাংলা ভাষার সহিত সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য ভাষা চর্চা এবং উক্তরূপ ভাষা ও উক্তরূপ ভাষায় লিখিত সাহিত্য বিষয়ে গবেষণার ব্যবস্থা গ্রহণ;
(৮) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিবর্তন ও উহার ইতিহাস রচনা বিষয়ে গবেষণা ও প্রকাশনার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাহিরে কোনো উল্লেখযোগ্য কর্ম সম্পাদিত হইয়া থাকিলে উহার সহিত পরিচয় ও প্রয়োজনে, সমন্বয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ;
(৯) বাংলা ভাষায় উচ্চতর পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক রচনা করা ও জ্ঞানচর্চায় সহায়তা প্রদান এবং উক্ত উদ্দেশ্যে গবেষণা, অনুবাদ ও অন্যন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(১০) আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলা সাহিত্যের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় বাংলা সাহিত্যকর্মের অনুবাদের ব্যবস্থা করা এবং অন্যান্য ভাষার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম বাংলায় অনুবাদের ব্যবস্থা করা;
(১১) ভাষা-আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে গবেষণা, সংকলন ও গ্রন্থ প্রকাশের ব্যবস্থা করা;
(১২) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সহিত যোগাযোগ রক্ষা করিয়া বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ;
(১৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা বহির্বিশ্বে প্রচার ও পরিচিত করিবার জন্য বিদেশে সেমিনার ও বইমেলার আয়োজন করা এবং বিভিন্ন দেশে বাঙালি অভিবাসী এবং তাহাদের নূতন প্রজন্মের সহিত বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের সংযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা গ্রহণ;
(১৪) বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অন্তর্ভুক্ত করিবার জন্য সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ প্রদান এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে বিদেশের উৎসাহী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ;
(১৫) বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসমূহের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণে সহায়তা করা এবং তাহাদের জীবন ও সংস্কৃতি বিষয়ে গ্রন্থ প্রকাশ;
(১৬) সাহিত্য পুরস্কার প্রদান এবং বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন;
(১৭) বাংলা ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণার জন্য বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিসম্পন্ন গ্রন্থাগার স্থাপন এবং পৃথিবীর বিখ্যাত গ্রন্থাগারসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন;
(১৮) দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ করিবার ক্ষেত্রে লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহ, সংরক্ষণ, অধ্যয়ন ও গবেষণা জোরদারকরণ;
(১৯) যে কোনো বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিভাবান লেখক ও গবেষকদের সহায়তা প্রদান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে মৌলিক গবেষণার জন্য বৃত্তি প্রদান;
(২০) ফেলো, জীবনসদস্য ও সদস্যপদ প্রদান;
(২১) সরকার কর্তৃক অনুরোধ করা হইলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন, বাংলা বানান রীতি ও ব্যবহার সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন; এবং
(২২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় অন্য কোনো কার্য সম্পাদন।
বাংলা ভাষা প্রমিতকরণ ও উহার উৎকর্ষ সাধন এবং বাংলা ভাষার অভিধান প্রণয়নের জন্য একাডেমি মুখ্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে গণ্য হইবে।
(১) একাডেমির নিম্নবর্ণিত বিভাগ থাকিবে, যথা :-
(২) নির্বাহী পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগ গঠন এবং পুনর্বিন্যাস করিতে পারিবে।
(৩) একাডেমির প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্ব ও কার্যাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
জ্ঞানের কোনো বিশেষ বিষয়ে মৌলিক গবেষণা এবং উহার উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে, একাডেমি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, গবেষণা কেন্দ্র বা ইনস্টিটিউট স্থাপন করিতে পারিবে।
একাডেমির একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মুদ্রণালয় থাকিবে, যাহা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে।
একাডেমি, প্রয়োজনে, নির্বাহী পরিষদের পূর্বানুমোদনক্রমে, ধারা ১০ এ উল্লেখকৃত কোনো কার্য সম্পাদনের জন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সাহায্য বা সহযোগিতা গ্রহণ করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান যদি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ সাহায্য বা সহযোগিতা গ্রহণ করিবার পূর্বে সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(১) একাডেমি, নির্ধারিত পদ্ধতিতে কিংবা বিধি বা প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে, বাংলা ভাষার জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে চেয়ার প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অধিকতর অবদান রাখিতে পারিবেন, এইরূপ ব্যক্তিবর্গ যাহাতে উক্তরূপ অবদান রাখিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন সেই উদ্দেশ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে একাডেমি, নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে চেয়ার প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষার জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য একাডেমি, বিধি অনুযায়ী, পুরস্কার অথবা সম্মাননা প্রদান করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশের নাগরিক নহেন এইরূপ ব্যক্তিকে পুরস্কার বা সম্মাননা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একাডেমি, নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে এবং সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বিদেশের বিশিষ্ট কোনো লেখক বা গবেষককে বাংলাদেশে আগমনের জন্য আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে।
একাডেমির একটি সাধারণ পরিষদ থাকিবে, যাহা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে গঠিত হইবে যথা :-
(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানসাপেক্ষে, একাডেমির সর্বময় কর্তৃত্ব সাধারণ পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(২) সাধারণ পরিষদ একাডেমির কার্যাবলি তদারকি ও পর্যালোচনা করিবে এবং নির্বাহী পরিষদকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করিবে।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানসাপেক্ষে, সাধারণ পরিষদ উহার সভার কার্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) সাধারণ পরিষদের সকল সভা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হইবে এবং মহাপরিচালক, নির্বাহী পরিষদের সহিত আলোচনা ক্রমে, সভার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করিবেন।
(৩) প্রতি বৎসর সাধারণ পরিষদের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৪) একাডেমির সভাপতি সাধারণ পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে একজন ফেলো সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) সাধারণ পরিষদের সভার কোরামের জন্য কমপক্ষে এক-পঞ্চমাংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
(৬) সাধারণ পরিষদের আলোচ্য বিষয় মহাপরিচালক, নিবাহী পরিষদের সহিত আলোচনাক্রমে, নির্ধারণ করিবেন।
(৭) সাধারণ পরিষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক একটি ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(১) সাধারণ পরিষদের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ সদস্য কোনো বিষয় বিবেচনার উদ্দেশ্যে তলবি সভা আহবান করিবার জন্য মহাপরিচালক লিখিতভাবে অনুরোধ করিবে, মহাপরিচালক, নির্বাহী পরিষদের সহিত আলোচনাক্রমে, অনূর্ধ্ব ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে তলবি সভার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করিবেন।
(২) মহাপরিচালক উপ-ধারা (১) অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তলবি সভা আহবান করিতে ব্যর্থ হইলে, আহবানকারী সদস্যগণ উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার অব্যবহিত পরবর্তী ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে তলবি সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করিতে পারিবেন এবং উক্ত সময়সীমার মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত না হইলে তলবি সভা বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) তলবি সভা অনুষ্ঠানের অন্যূন ৭ (সাত) দিন পূর্বে উহার আলোচ্য বিষয় সংযুক্ত করিয়া সাধারণ পরিষদের সকল সদস্যকে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করিতে হইবে।
(৪) তলবি সভার কোরামের জন্য সাধারণ পরিষদের অন্যূন অর্ধেক সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
(৫) তলবি সভায় সাধারণ পরিষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক একটি ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(১) একাডেমির একটি নির্বাহী পরিষদ থাকিবে, যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ছ) ও (জ) এর অধীন যথাক্রমে, ফেলো ও সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি করিয়া আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং ফেলো বা সদস্য নির্বাচন, আচরণবিধি, ইত্যাদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (ছ) ও (জ) এর অধীন নির্বাচিত সদস্যগণ নির্বাচিত হইবার পর অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের প্রথম সভার তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদের জন্য নির্বাহী পরিষদের সদস্য হইবেন এবং তাঁহারা ২ (দুই) মেয়াদের অধিক সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হইতে পারিবেন না।
(৪) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ), (ঙ) ও (চ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
(৫) নির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্য নির্বাহী পরিষদের সভাপতির নিকট স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত পত্রযোগে নির্বাহী পরিষদের সদস্যপদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৬) পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে নির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত কোনো সদস্যের পদ শূন্য হইলে, উক্ত পদ শূন্য হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে এবং উক্তরূপে নির্বাচিত সদস্য অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বহাল থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, শূন্য পদের অবশিষ্ট মেয়াদ যদি ৯০ (নববই) দিন বা তাহার কম হয়, তাহা হইলে শূন্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে না।
(৭) নির্বাহী পরিষদের মনোনীত সদস্যগণ সাধারণ পরিষদের সদস্য না হইয়া থাকিলে, তাঁহারা যতদিন নির্বাহী পরিষদের সদস্য থাকিবেন, ততদিনের জন্য সাধারণ পরিষদের সদস্য হিসাবে গণ্য হইবেন।
(১) নির্বাহী পরিষদের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(২) নির্বাহী পরিষদ উহার কার্যাবলির জন্য সাধারণ পরিষদের নিকট দায়ী থাকিবে।
(১) নির্বাহী পরিষদের সভাপতির অনুমোদনক্রমে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে সচিব নির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করিবেন।
(২) প্রতি বৎসর নির্বাহী পরিষদের কমপক্ষে ৪ (চার) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) নির্বাহী পরিষদের সভাপতি নির্বাহী পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত নির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) নির্বাহী পরিষদের সভার কোরামের জন্য কমপক্ষে এক-পঞ্চমাংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
(৫) নির্বাহী পরিষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক একটি ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(১) একাডেমির একজন মহাপরিচালক থাকিবেন।
(২) বাংলাদেশের নাগরিক এইরূপ কোনো ফেলো অথবা প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বা গবেষকদের মধ্য হইতে সরকার মহাপরিচালক নিয়োগ করিবে এবং তাহার চাকুরির শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) মহাপরিচালক তাহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, একই ব্যক্তি দুই মেয়াদের অধিক নিয়োগ লাভ করিবেন না।
(৪) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে মহাপরিচালক স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৫) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে, বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে মহাপরিচালক তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সচিব অস্থায়ীভাবে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে, ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
মহাপরিচালক একাডেমির সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি-
(১) এই আইন লঙ্ঘন বা গুরুতর অনিয়ম বা অসদাচরণের অভিযোগে নির্বাহী পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য লিখিতভাবে একাডেমির সভাপতির নিকট মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করিলে, একাডেমির সভাপতি উক্ত বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে অনুরোধ করিবেন এবং সরকার তাঁহাকে অপসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার মহাপরিচালককে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি-
(১) একাডেমির একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা :-
(২) তহবিলে জমাকৃত অর্থ এক বা একাধিক তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা যাইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালিত হইবে।
ব্যাখ্যা। - ‘‘তফসিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(P.O. NO. 127 of 1972) এর Article 2(J) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank-কে বুঝাইবে।
(৩) তহবিল হইতে একাডেমির যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।
(৪) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোনো খাতে তহবিল বা উহার অংশ বিশেষ বিনিয়োগ করা যাইবে।
(১) একাডেমির একজন সচিব থাকিবেন, যিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরির শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(২) সচিব একাডেমির সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
(৩) সচিবের পদ শূন্য হইলে, বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে সচিব তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযু্ক্ত সচিব কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা সচিব পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার একাডেমির কোনো কর্মকর্তাকে সচিবের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একাডেমি, নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে, চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে এবং এইরূপ বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত পরামর্শকের চুক্তির মেয়াদ হইবে ২ (দুই) বৎসর এবং কোনো ব্যক্তিকে দুই বারের বেশি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা যাইবে না।
(১) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, একাডেমি উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একাডেমি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, স্কলার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম বা অনুরূপ কোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদনের জন্য চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে।
একাডেমি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রয়োজনবোধে, কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহা পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(১) নির্বাহী পরিষদ উহার যে কোনো ক্ষমতা, প্রয়োজনবোধে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, মহাপরিচালক অথবা সচিবকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(২) মহাপরিচালক তাঁহার যে কোনো ক্ষমতা, প্রয়োজনবোধে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, সচিব বা একাডেমির যে কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
(১) একাডেমি, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।
(২) সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত সরকার কর্তৃক অনুমোদিত বাজেটের অর্থ এক খাত হইতে অন্য খাতে স্থানান্তর করা যাইবে না।
(১) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে একাডেমি উহার হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্ত্তত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর একাডেমির হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও একাডেমির নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) এই ধারার অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে, বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি অথবা উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিযুক্ত চার্টার্ড একাউনটেন্ট একাডেমির সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং নির্বাহী পরিষদের যে কোনো সদস্য বা একাডেমির যে কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব-নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P.O. No. 2 of 1973) এর Article ২(১) (ন) তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউনটেন্ট দ্বারা একাডেমির হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে একাডেমী এক বা একাধিক চার্টার্ড একাউনটেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।
(১) প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্তির ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে মহাপরিচালক একাডেমির পূর্ববর্তী বৎসরে গৃহীত ও সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বাৎসরিক প্রতিবেদন প্রস্ত্তত করিয়া নির্বাহী পরিষদের নিকট উপস্থাপন করিবেন এবং নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে, বার্ষিক সাধারণ সভায় পেশ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, প্রয়োজনে, যে কোনো সময়ে একাডেমির নিকট হইতে উহার যে কোনো বিষয়ে প্রতিবেদন বা বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং একাডেমি সরকারের নিকট উহা সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একাডেমির সার্বিক কর্মকান্ড বা কোনো বিশেষ বিষয়ে তদন্ত করিবার জন্য সরকার কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) কমিটি, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, তদন্তের বিষয়ে উহার প্রতিবেদন সরকারের নিকট প্রদান করিবে, এবং উক্ত প্রতিবেদন বিবেচনাক্রমে সরকার, প্রয়োজনবোধে, একাডেমিকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একাডেমি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ইংরেজিতে অনুদিত এই আইনের একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
(১) Bangla Academy Ordinance, 1978 (Ordinance No. XIX of 1978), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও-
(৩) উক্ত Ordinance রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে-