বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ এবং তদ্লক্ষ্যে একটি দক্ষ ও কার্যকর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এতদ্সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা আবশ্যক; এবং যেহেতু বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ এবং তদ্লক্ষ্যে একটি দক্ষ ও কার্যকর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এতদ্সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল-
(১) এই আইন নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।
*এস, আর, ও নং ১৫-আইন/২০১৫, তারিখঃ জানুয়ারি ২৬, ২০১৫ ইং দ্বারা সরকার ১৯ মাঘ, ১৪২১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ ধারা ৫ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ;
(২) ‘‘কীটনাশক বা বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ’’ অর্থ উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিক্রয় বা বিপণনের যে কোন পর্যায়ে, কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে, খাদ্য বস্ত্ততে উপস্থিত কোন বিশেষ বস্ত্ত বা উদ্ভুত কোন অবস্থা, যাহাতে কীটনাশক বা বালাইনাশকের মূল উপাদান, সহযোগী অংশ, রূপান্তরিত উৎপন্ন দ্রব্য, বিপাক বা শোষণকৃত (metabolites) অবশিষ্টাংশ, বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত বস্ত্ত বা সৃষ্ট দূষিত বস্ত্তসহ এইরূপ কোন বস্ত্ত বিদ্যমান থাকে ও যাহাদের উপস্থিতিতে খাদ্যদ্রব্যে মারাত্মক বিষক্রিয়া সংঘটিত হয় বলিয়া বিবেচিত হয়; এবং কোন খাদ্যদ্রব্যে পরিবেশ হইতে সংক্রামিত অবশিষ্টাংশও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(৩) ‘‘খাদ্য’’ অর্থ চর্ব্য, চূষ্য, লেহ্য (যেমন-খাদ্যশস্য, ডাল, মৎস্য, মাংস, দুগ্ধ, ডিম, ভোজ্য-তৈল, ফলমূল, শাকসব্জি, ইত্যাদি) বা পেয় (যেমন- সাধারণ পানি, বায়ুবায়িত পানি, অঙ্গারায়িত পানি, এনার্জি-ড্রিংক, ইত্যাদি)-সহ সকল প্রকার প্রক্রিয়াজাত, আংশিক-প্রক্রিয়াজাত বা অপ্রক্রিয়াজাত আহার্য উৎপাদন এবং খাদ্য, প্রক্রিয়াকরণ বা প্রস্ত্ততকরণে ব্যবহৃত উপকরণ বা কাঁচামালও, যাহা মানবদেহের জন্য উপকারী আহার্য হিসাবে জীবন ধারণ, পুষ্টি সাধন ও স্বাস্থ্য-রক্ষা করিতে ব্যবহৃত হইয়া থাকে, উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
ব্যাখ্যা-
তবে ঔষধ, ভেষজ, মাদক ও সৌন্দর্য সামগ্রী, ইত্যাদি খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
(৪) ‘‘খাদ্য আদালত’’ অর্থ ধারা ৬৪ এর অধীন নির্ধারিত বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত;
(৫) ‘‘খাদ্য উৎপাদন’’ অর্থ যে কোন খাদ্যের উপাদানকে খাদ্যদ্রব্যে পরিবর্তন করিবার প্রক্রিয়া, যাহার সহিত অন্যান্য প্রক্রিয়াও অঙ্গীভূত থাকিতে পারে;
(৬) ‘‘খাদ্য পরীক্ষাগার’’ অর্থ কোন আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোন খাদ্য পরীক্ষাগার বা প্রতিষ্ঠান, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;
(৭) ‘‘খাদ্য বিশ্লেষক’’ অর্থ ধারা ৪৫ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত কোন খাদ্য বিশ্লেষক এবং উপ-ধারা (২) এর অধীন খাদ্য বিশ্লেষকের দায়িত্বপালনকারী ব্যক্তিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮) ‘‘খাদ্য ব্যবসা’’ অর্থ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, গুদামজাতকরণ, পরিবহন, আমদানি, বিতরণ বা বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং মজুদ, যোগান, সরবরাহ ও সেবাসহ খাদ্যদ্রব্য প্রস্ত্ততকরণ অথবা খাদ্যের উপাদান বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৯) ‘‘খাদ্য ব্যবসায়ী’’ অর্থ যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের অধীন বা প্রবিধান অনুযায়ী খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং যিনি উক্ত ব্যবসার প্রতি দায়িত্বশীল বা উক্ত ব্যবসার সত্ত্বাধিকারী;
(১০) ‘‘খাদ্য সংযোজন দ্রব্য’’ অর্থ বিশেষ উদ্দেশ্যে খাদ্যের সহিত প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মাত্রার সংযোজিত যে কোন বস্ত্ত, যাহা সাধারণত মূল আহার্য হিসাবে ভক্ষণ করা হয় না, তবে বৈশিষ্ট্যসূচক উপাদান হিসাবে কারিগরী প্রয়োজনে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রস্ত্ততকরণ, মোড়কজাতকরণ, সংরক্ষণের মাধ্যমে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রত্যাশিত উপযোগিতা প্রাপ্তির জন্য খাদ্যে ব্যবহৃত হয় এবং দূষক বা অন্য কোন মিশ্রিত পদার্থের অন্তর্ভুক্তি ব্যতিরেকেই খাদ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখিবার জন্য মূল খাদ্যের বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে;
(১১) ‘‘খাদ্য-স্থাপনা’’ অর্থ খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি, সরবরাহ, মজুদ, বিতরণ বা বিক্রয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমি, দালানকোঠা, যানবাহন, ভ্যান, তাবু অথবা উন্মুক্ত, আবৃত বা দেওয়ালঘেরা কোন জায়গা অথবা যে কোন ধরনের অবকাঠামো এবং জলপ্রবাহ, হ্রদ, সমুদ্রতীর, নালা-নর্দমা, খানা-খন্দক, নদী, পোতাশ্রয় বা অন্য কোন জলাশয়ের উপর অবস্থিত অবকাঠামোও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১২) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান;
(১৩) ‘‘দণ্ডবিধি’’ অর্থ Penal Code (Act. No. XLV of 1860);
(১৪) ‘‘দূষক’’ অর্থ এইরূপ কোন বস্ত্ত যাহা, খাদ্যদ্রব্যে যোগ করা হউক বা না হউক, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, প্রস্ত্ততকরণ, মোড়কাবদ্ধকরণ, পরিবহন, মজুদ অথবা পরিবেশ-দূষণ বা অন্য কোন কারণে খাদ্যে উপস্থিত থাকিতে পারে, তবে পোকামাকড়ের অংশবিশেষ, চুল, লোম বা অন্য কোন বহিঃস্থ পদার্থ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(১৫) ‘‘ধারণপাত্র’’ অর্থ ইতোপূর্বে ব্যবহৃত হইয়াছে এইরূপ কোন স্বাস্থ্য হানিকর পাত্র হইতে প্রস্ত্তত নয়, এইরূপ কোন আধার বা মোড়ক, যাহা ধূলাবালি, অননুমোদিত মাত্রার জৈব বা রাসায়নিক দূষক, আর্সেনিক, পারদ বা স্বাস্থ্য হানিকর ভারী-ধাতু হইতে মুক্ত;
(১৬) ‘‘নকল খাদ্য’’ অর্থ বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের অনুকরণে অননুমোদিতভাবে অনুরূপ খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রস্ত্তত বা লেবেলিং করা, যাহার মধ্যে অনুমোদিত খাদ্যের উপাদান, উপকরণ, বিশুদ্ধতা ও গুণগত মান বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক;
(১৭) ‘‘নিরাপদ খাদ্য’’ অর্থ প্রত্যাশিত ব্যবহার ও উপযোগিতা অনুযায়ী মানুষের জন্য বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত আহার্য;
(১৮) ‘‘নিরাপদ খাদ্য বিরোধী কার্য’’ অর্থ পঞ্চম অধ্যায়ে উল্লিখিত খাদ্য ব্যবসা পরিচালনায় বিধি-নিষেধ লংঘনজনিত কোন কার্য;
(১৯) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, সরকারের অনুমোদনক্রমে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লিখিত আদেশ দ্বারা নির্ধারিত;
(২০) ‘‘পরিদর্শক’’ অর্থ ধারা ৫১ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত কোন নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং উপ-ধারা (২) এর অধীন নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের দায়িত্বপালনকারী ব্যক্তিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২১) ‘‘পশু বা মৎস্য-রোগের ঔষধের অবশিষ্টাংশ’’ অর্থ পশু বা মৎস্য-রোগের ঔষধে ব্যবহৃত মূল যৌগ বা তাহার বিপাক বা শোষণকৃত-বস্ত্ত, যাহা কোন প্রাণীজ উৎস হইতে প্রাপ্ত খাদ্যদ্রব্যের ভোজ্য অংশে বা পশু বা মৎস্য খাদ্যের উপকরণের মধ্যে উপস্থিত ঔষধের অবশিষ্টাংশ এবং সহযোগী দূষণকারী দ্রব্যাদি (impurities) থাকিলে উহাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২২) ‘‘পরিষদ’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা পরিষদ;
(২৩) ‘‘প্রক্রিয়াকরণ-সহায়ক দ্রব্য’’ অর্থ যন্ত্রপাতি ও গৃহ-সরঞ্জাম ব্যতীত অন্য যে কোন পদার্থ বা বস্ত্ত, যাহা খাদ্য হিসাবে সরাসরি ভক্ষণ করা হয় না, তবে খাদ্যোপকরণ হিসাবে বিশেষ কারিগরি প্রয়োজনে কোন শোধন অথবা প্রক্রিয়াকরণের স্বার্থে ব্যবহৃত হয় বা প্রক্রিয়াকরণের পর চূড়ান্ত খাদ্যদ্রব্যে উপজাত বা অবশিষ্টাংশ (residue) বা যাহাদের অনিবার্য উপস্থিতি আদি নহে এইরূপ বস্ত্ত হিসাবে পরিলক্ষিত হয়;
(২৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(২৫) ‘‘ফৌজদারী কার্যবিধি’’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
(২৬) ‘‘বহিঃস্থ পদার্থ (extraneous matter)” অর্থ এইরূপ কোন পদার্থ যাহা খাদ্যপণ্য প্রস্ত্ততকরণে কাঁচামাল বা উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ বা প্যাকেজিং এ ব্যবহৃত হইবার কারণে উহার মধ্যে উপস্থিত থাকিতে পারে, কিন্তু উক্ত খাদ্যপণ্যকে অনিরাপদ করে না;
(২৭) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(২৮) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থে কোন কোম্পানি, সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি, সংঘ, সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২৯) ‘‘ভেজাল খাদ্য’’ অর্থ এমন কোন খাদ্য বা খাদ্যদ্রব্যের অংশ,
(৩০) ‘‘মৎস্য’’ অর্থ সকল প্রকার কোমল অস্থি ও কঠিন অস্থিবিশিষ্ট মাছ, স্বাদু ও লবণাক্ত পানির চিংড়ি, উভচর জলজ প্রাণী, কচ্ছপ, কাছিম, কাঁকড়া ও শামুক বা ঝিনুক জাতীয় জলজ প্রাণী, একাইনোডার্ম জাতীয় প্রাণী, ব্যাঙ ও উহার জীবনচক্রের যে কোন ধাপ এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষিত অন্য কোন জলজ প্রাণীও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩১) ‘‘সদস্য’’ অর্থ কর্তৃপক্ষের কোন সদস্য এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, চেয়ারম্যানও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(৩২) ‘‘সভাপতি’’ অর্থ পরিষদের সভাপতি এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পরিষদের সহসভাপতিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(৩৩) ‘‘সমন্বয় কমিটি’’ অর্থ ধারা ১৫ এর অধীন গঠিত কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সহিত সংশ্লিষ্ট সকলকে, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক্-নির্দেশনা প্রদানের নিমিত্ত জাতীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা পরিষদ নামে একটি পরিষদ থাকিবে।
(২) পরিষদ নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :-
(৩) উপ-ধারা (২) এর দফা (গ) ও (ল) এ বর্ণিত ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্যান্য দফায় বর্ণিত ব্যক্তিবর্গ পদাধিকারবলে পরিষদের সংশ্লিষ্ট পদে অন্তর্ভুক্ত হইবেন।
(৪) পরিষদ, প্রয়োজনবোধে, সংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যক্তিকে পরিষদের সদস্য হিসাবে কো-অপ্ট করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা ।-এই ধারায় ‘‘সচিব’’ অর্থে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(১) বৎসরে কমপক্ষে ২ (দুই) বার পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৪) সভাপতি পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সভাপতির অনুপস্থিতিতে পরিষদের সহ-সভাপতি অথবা উভয়ের অনুপস্থিতিতে সভাপতি কর্তৃক মনোনীত উহার অন্য কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।
(৫) পরিষদের মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে এবং সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
(৬) শুধু পরিষদের কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা পরিষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে উহার কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই আইন বলবৎ হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থা্য়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ, স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় থাকিবে ঢাকায় এবং কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
(১) একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবে।
(২) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহারা কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন।
(৩) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(৪) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা, মর্যাদা এবং চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৫) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত বা অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য সম্পাদন করিবেন।
(৬) কেবল কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা কর্তৃপক্ষ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কর্তৃপক্ষের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ নিয়োগ লাভের তারিখ হইতে ৪ (চার) বৎসর পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
(১) খাদ্য বিষয়ে অন্যূন ২৫ (পঁচিশ) বৎসরের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন।
(২) নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কমপক্ষে ২০ (বিশ) বৎসরের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ, প্রত্যেক বিষয় হইতে একজন করিয়া, সদস্য হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন; যথা :-
(৩) এই ধারার অন্যান্য বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না, যদি-
(৪) কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনকালে, চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ একইসংগে অন্য কোন দপ্তর, সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের কোন পদে অধিষ্ঠিত থাকিতে বা দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন না অথবা কোন লাভজনক কর্মে নিয়োজিত হইতে পারিবেন না।
(১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য কমপক্ষে ৩ (তিন) মাস পূর্বে নোটিশ প্রদান করিয়া, সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে, স্বীয় পদ হইতে পদত্যাগ করিতে পারিবেন এবং সরকার কর্তৃক পদত্যাগপত্র গৃহীত হইবার তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট পদটি শূন্য হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি-
(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান না করিয়া, চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করা যাইবে না।
চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান শূন্য পদে যোগদান না করা পর্যন্ত অথবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, কর্তৃপক্ষের জ্যেষ্ঠতম সদস্য সাময়িকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) সভার অলোচ্যসূচি, তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত হইবে এবং চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে কর্তৃপক্ষের সচিব এইরূপ সভা আহবান করিবেন।
(৩) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত অন্য কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।
(৪) চেয়ারম্যান এবং কমপক্ষে দুইজন সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম হইবে, তবে মূলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৫) চেয়ারম্যান এবং উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান বা, ক্ষেত্রমত, সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৬) চেয়ারম্যান, সদস্যগণের সহিত আলোচনাক্রমে, প্রয়োজনে, সভার আলোচ্যসূচির সহিত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ যে কোন ব্যক্তিকে সভায় আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবেন, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে না।
(১) কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলী হইবে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সহিত সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন করা।
(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব পালন করিবে, যথা :-
(৩) কর্তৃপক্ষ, উহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদনে, নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে, যথা:-
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ প্রবিধান প্রণয়ন করিবে।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারায়-
(১) কর্তৃপক্ষের একজন সচিব থাকিবেন, যিনি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিয়োগপ্রাপ্ত হইবেন।
(২) সচিব নিম্নরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন, যথা:-
(৩) কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের স্বার্থে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরীর শর্তবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৪) কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত উহার সাংগঠনিক কাঠামোতে ৫ (পাঁচ) জন পরিচালকের নেতৃত্বে কমপক্ষে ৫ (পাঁচ)টি বিভাগ থাকিবে, যথা:-
(৫) কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপর চেয়ারম্যানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে সরকার, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার সহিত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে ‘কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করিবে, যথা:-
(২) সমন্বয় কমিটি এই আইনের অধীন কর্তৃপক্ষের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব ও কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করিবে।
(৩) সমন্বয় কমিটির সদস্যগণ স্ব-স্ব সংস্থার পক্ষ হইতে কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী উহাকে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সেবা, সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন।
(১) সমন্বয় কমিটির চেয়ারপারসন কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে, বৎসরে কমপক্ষে ৩ (তিন) বার, উহার সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) সমন্বয় কমিটির চেয়ারপারসন উহার সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তদ্কর্তৃক নির্দেশিত উক্ত কমিটির অন্য কোন সদস্য বা এইরূপ কোন নির্দেশনা না থাকিলে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক মনোনীত উক্ত কমিটির অন্য কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) সমন্বয় কমিটি, প্রয়োজনবোধে, সংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যক্তিকে সমন্বয় কমিটির সদস্য হিসাবে কো-অপ্ট করিতে অথবা সভায় আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে।
(৪) এই ধারার বিধানাবলি সাপেক্ষে, সমন্বয় কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(১) কর্তৃপক্ষ, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উহার কার্য পরিচালনায় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞগণের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কারিগরি কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, অন্যান্যের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করা যাইবে, যথা :-
(৩) কারিগরি কমিটি, প্রয়োজনে, উহার আলোচনা সভায় সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ভোক্তা প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞগণকে আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে।
(৪) কারিগরি কমিটি উহার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।
(৫) কর্তৃপক্ষ, জনস্বার্থে, কারিগরি কমিটির বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ মতামত গ্রহণ করিলে উহা উহার বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করিবে এবং জনগণের নিকট সহজলভ্য করিবার জন্য, তাৎক্ষণিকভাবে উহার ওয়েব সাইটসহ বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৭) কারিগরি কমিটির গঠন-কাঠামো ও দায়-দায়িত্বসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, বিশেষ উদ্দেশ্যে উহার এক বা একাধিক সদস্য সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অন্যান্য কমিটি গঠন এবং এইরূপ কমিটির কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(১) কর্তৃপক্ষ, সময় সময়, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সহিত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত যে কোন কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা ব্যক্তিকে নিরাপদ খাদ্য ও উহার গুণগত মান সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা ব্যক্তি উক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যসম্পাদনে বাধ্য থাকিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যে কোন কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা ব্যক্তির নিকট প্রয়োজনীয় সহায়তা যাচনা করিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা ব্যক্তি কর্তৃপক্ষকে উক্তরূপ সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
(১) কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা :-
(২) কর্তৃপক্ষের তহবিল কর্তৃপক্ষের নামে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিতে হইবে, তবে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা নির্দেশনা অনুযায়ী উক্ত তহবিল পরিচালনা করা যাইবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ উহার তহবিল হইতে, সরকারি বিধি-বিধান অনুসারে, উহার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করিবে।
ব্যাখ্যা । -এই ধারায় উল্লিখিত তফসিলি ব্যাংক অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(P.O.No.127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত Schedule Bank।
কর্তৃপক্ষ প্রতিবৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ-বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কর্তৃপক্ষের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
(১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্ত্তত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P.O.No.2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক চার্টার্ড একাউন্টেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পারিতোষিক প্রাপ্য হইবেন।
(৫) উপ-ধারা (২) বা (৩) এর বিধান অনুসারে হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব নিরীক্ষক কিংবা তদকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি অথবা, ক্ষেত্রমত, চার্টার্ড একাউন্টেন্ট কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কর্তৃপক্ষের যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অথবা বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারী রাসায়নিক দ্রব্য বা উহার উপাদান বা বস্ত্ত (যেমন-ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন, সোডিয়াম সাইক্লামেট), কীটনাশক বা বালাইনাশক (যেমন-ডি.ডি.টি., পি.সি.বি. তৈল, ইত্যাদি), খাদ্যের রঞ্জক বা সুগন্ধি, আকর্ষণ সৃষ্টি করুক বা না করুক, বা অন্য কোন বিষাক্ত সংযোজন দ্রব্য বা প্রক্রিয়া সহায়ক কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণে ব্যবহার বা অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবেন না অথবা উক্তরূপ দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ মজুদ, বিপণন বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রবিধান দ্বারা বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের অধীন নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণ তেজস্ত্রিয়তাসম্পন্ন বা বিকিরণযুক্ত পদার্থ অথবা প্রাকৃতিক বা অন্য কোনভাবে থাকা কোন সমজাতীয় পদার্থ বা ভারী-ধাতু কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণে ব্যবহার বা অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কোন ভেজাল খাদ্য বা খাদ্যোপকরণ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে উৎপাদন অথবা আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, মানুষের আহার্য হিসাবে ব্যবহারের জন্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মান অপেক্ষা নিম্নমানের কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে উৎপাদন অথবা আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণ খাদ্য সংযোজন-দ্রব্য বা প্রক্রিয়াকরণ-সহায়ক দ্রব্য কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণে ব্যবহার বা অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবেন না অথবা উক্তরূপে প্রস্ত্ততকৃত কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণে কোন ভেজাল দ্রব্য মিশ্রিত করিবার উদ্দেশ্যে, শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত তৈল, বর্জ্য বা কোন ভেজালকারী দ্রব্য তাহার খাদ্য স্থাপনায় রাখিতে বা রাখিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, মেয়াদোত্তীর্ণ কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রবিধান দ্বারা বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের অধীন নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণ কীটনাশক বা বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ পশু বা মৎস্য-রোগের ঔষধের অবশিষ্টাংশ, হরমোন, এন্টিবায়োটিক বা বৃদ্ধি প্রবর্ধকের অবশিষ্টাংশ, দ্রাবকের অবশিষ্টাংশ, ঔষধ-পত্রের সক্রিয় পদার্থ, অণুজীব বা পরজীবী কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণে ব্যবহার বা অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবেন না বা উক্তরূপ দ্রব্য মিশ্রিত কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ মজুদ, বিপণন বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রবিধান দ্বারা বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের অধীন নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমোদন গ্রহণ ব্যতিরেকে বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকৃত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব-খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য (irradiated food), স্বত্বাধিকারী খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, বিশেষ পথ্য হিসাবে ব্যবহৃত খাদ্য, নিউট্রাসিউটিক্যাল এবং উক্তরূপ অন্যান্য খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারায়-
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে,-
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি প্রবিধান দ্বারা বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের অধীন নির্ধারিত স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়া অনুরসণের মানদণ্ড ও শর্তের ব্যত্যয় ঘটাইয়া মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হইতে পারে এইরূপ কোন প্রক্রিয়ায় প্রস্ত্ততকৃত কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত বা পচা মৎস্য বা মৎস্যপণ্য অথবা রোগাক্রান্ত বা মৃত পশু-পাখির মাংস, দুগ্ধ বা ডিম দ্বারা কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ প্রস্ত্তত, সংরক্ষণ বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি হোটেল রেস্তোরাঁ বা ভোজনস্থলে পরিবেশন-সেবা প্রদানকারী, প্রবিধান দ্বারা বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের অধীন নির্ধারিত মানদণ্ডের ব্যত্যয় ঘটাইয়া দায়িত্বহীনতা, অবহেলা বা অসতর্কতার মাধ্যমে খাদ্যগ্রহীতার স্বাস্থ্যহানি ঘটাইতে পারিবেন না।
কোন ব্যাক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি ছোঁয়াচে ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ প্রস্ত্তত, পরিবেশন বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৯ নং আইন) এর অধীন নিবন্ধিত কোন ট্রেডমার্ক বা ট্রেডনামে বাজারজাতকৃত কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের অনুকরণে অননুমোদিতভাবে কোন নকল খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
প্রত্যেক খাদ্য ব্যবসায়ী বা তাহার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তি, খাদ্য ব্যবসা পরিচালনাকালে, খাদ্যপণ্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন, আমদানি প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সরবরাহ বা বিক্রয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের নাম, ঠিকানা ও রশিদ বা চালান সংরক্ষণ এবং কর্তৃপক্ষ বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রদর্শন করিতে বাধ্য থাকিবেন।
কোন ব্যক্তি, আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের অধীন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হইলে উহার ব্যত্যয় ঘটাইয়া, অনিবন্ধিত অবস্থায় কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রয় করিত পারিবেন না।
প্রত্যেক খাদ্য ব্যবসায়ী বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তি, খাদ্য ব্যবসা পরিচালনাকালে, কর্তৃপক্ষ বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে খাদ্য ব্যবসা সংশ্লিষ্ট যে কোন বিষয়ে পরিদর্শন, তদন্ত, নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষাকরণে সহযোগিতা করিতে বাধ্য থাকিবেন।
কোন ব্যক্তি কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ বিপণন বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত বিজ্ঞাপনের শর্তাদি লঙ্ঘন করিয়া বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্য প্রদান করিয়া অথবা মিথ্যা নির্ভরতামূলক বক্তব্য প্রদান করিয়া ক্রেতার ক্ষতিসাধন করিতে পারিবেন না।
(১) কোন ব্যক্তি কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের গুণ, প্রকৃতি, মান, ইত্যাদি সম্পর্কে অসত্য বর্ণনাসম্বলিত কোন বিজ্ঞাপন প্রস্ত্তত, মুদ্রণ, প্রকাশ বা প্রচার করিতে পারিবেন না যাহার দ্বারা জনগণ বিভ্রান্ত হইতে পারে।
(২) এই ধারার অধীন আনীত কোন মামলায় বিবাদিকে, আত্মপক্ষ সমর্থনে, প্রমাণ করিতে হইবে যে-
(৩) এই ধারার অধীন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন অভিযোগ উত্থাপিত হইলে, ভিন্নরূপ না হইলে, আদালত এই মর্মে বিবেচনা করিতে পারিবে যে, সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী বা বিক্রয়কারী কর্তৃক উক্ত বিজ্ঞাপন, প্রস্ত্তত, মুদ্রণ, প্রকাশ বা প্রচারের প্রয়াস বা সহায়তা করা হইয়াছে।
(১) যদি কোন ব্যক্তির নিকট বিশ্বাস করিবার মত যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, তিনি যে সকল খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সরবরাহ বা বিক্রয় করিয়াছেন সেইগুলির ক্ষেত্রে এই আইন বা অন্য কোন আইনের অধীন নির্ধারিত মানদণ্ড প্রতিপালিত হইতেছে না অথবা উহাতে কোন দুষক, তেজস্ক্রিয়তাযুক্ত, বিকিরণযুক্ত বা অন্য কোন ঝুকিপূর্ণ বা বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি, কারণ উল্লেখপূর্বক বিষয়টি সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে প্রচারসহ, অনতিবিলম্বে সন্দেহজনক প্রশ্নবিদ্ধ খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ, কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিয়া, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাজার বা খাদ্য ভোক্তার নিকট হইতে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(২) যদি কর্তৃপক্ষের নিকট বিশ্বাস করিবার মত যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তি কর্তৃক যে সকল খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সরবরাহ বা বিক্রয় করা হইয়াছে, সেইগুলির ক্ষেত্রে এই আইন বা অন্য কোন আইনের অধীন নির্ধারিত মানদণ্ড প্রতিপালিত হইতেছে না অথবা উহাতে কোন দূষক, তেজস্ক্রিয়তাযুক্ত, বিকিরণযুক্ত বা অন্য কোন ঝুকিপূর্ণ বা বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি বিদ্যমান, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ, সন্দেহজনক প্রশ্নবিদ্ধ খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ বাজার বা ভোক্তার নিকট হইতে প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দেশ প্রদান করিবে এবং উক্ত ব্যক্তি উক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুসরণে সংশ্লিষ্ট খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(১) কোন খাদ্যাদ্রব্য বা খাদ্যেপকরণ উৎপাদনকারী বা মোড়ককারী এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের শর্তাবলী প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে উহা এই আইনের লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ মজুদকারী বা বিতরণকারী এই আইনের বিধান লঙ্ঘনের জন্য দায়ী হইবেন, যদি তিনি,-
(৩) কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ বিক্রেতা কোন খাদ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধান লংঘনের জন্য দায়ী হইবেন, যদি তিনি,-
(১) কর্তৃপক্ষ, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের নমুনা বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক খাদ্য বিশ্লেষক নিয়োগ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্তৃপক্ষ, বিশেষ প্রয়োজনে, সরকার বা স্থানীয় কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রম, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তাকে খাদ্য বিশ্লেষকের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে এবং দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একজন খাদ্য বিশ্লেষক হিসাবে গণ্য হইবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) বা (২) এ যাহা কিছু্ই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তিকে খাদ্য বিশ্লেষক হিসাবে নিয়োগ বা দায়িত্ব প্রদান করা যাইবে না, যদি তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন বা বিপণনের সহিত সংশ্লিষ্ট কোন ব্যবসা বা বাণিজ্যের সহিত জড়িত থাকেন।
(১) কোন ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ সংগ্রহ বা ক্রয় করিবার পর, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফিস পরিশোধপূর্বক, যে স্থান বা উৎস হইতে খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ সংগ্রহ বা ক্রয় করিবেন, তাহা যে, অধিক্ষেত্রের খাদ্য বিশ্লেষকের এখতিয়ারাধীন হইবে, সেই খাদ্য বিশ্লেষকের দ্বারা উহার নমুনা বিশ্লেষণ বা পরীক্ষা করাইতে পারিবেন এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্তরূপ বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার ফলাফলের সনদ গ্রহণ করিতে পারিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি খাদ্য বিশ্লেষক প্রদত্ত কোন সনদ বা উহার অনুলিপি তাহার ব্যবসায়িক স্থাপনা বা অন্য কোন স্থানে প্রদর্শন করিতে বা বিজ্ঞাপন হিসাবে ব্যবহার করিতে পারিবেন না।
(২) এই ধারার অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত খাদ্য বিশ্লেষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের নমুনা বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষ বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তি, উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, বিক্রয় বা প্রস্ত্ততিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের মূল্য প্রদানপূর্বক উহার নমুনা সংগ্রহ করিতে পারিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ বিক্রয়ের জন্য না হইলেও উহা নমুনা হিসাবে সংগ্রহ করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নমুনা বিক্রয়, উৎপাদন, সরবরাহ বা মজুদ স্থলসহ যে কোন স্থান হইতে সংগ্রহ করা যাইবে এবং যে ব্যক্তির দখলে থাকাব্যস্থায় কোন খাদদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের নমুনা সংগ্রহের জন্য যাচনা করা হইবে, সেই ব্যক্তি, এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী, উক্ত নমুনা বিক্রয় বা, ক্ষেত্রমত, সমর্পণ (Surrender) করিতে বাধ্য থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সমর্পণকৃত খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকণের মূল্য দাবী করা হইলে, উক্তরূপ দাবীর এক মাসের মধ্যে দাবীকৃত নমুনার মূল্য পরিশোধ করিতে হইবে।
(৩) এই ধারার অধীন নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে নমুনা প্রদানকারী, কর্তৃপক্ষ বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট, বিশ্লেষণ বা পরীক্ষণের উদ্দেশ্যে, উক্ত নমুনা বিক্রয় বা, ক্ষেত্রমত, সমর্পণ করিয়াছেন মর্মে নির্ধারিত ফর্মে একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করিয়া লিখিতভাবে স্বীকারোক্তি প্রদান করিবেন।
(৪) উৎপাদান বা মজুদস্থল হইতে খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ যে সকল সরবরাহ পথ অতিক্রম করে বা যে সকল স্থানে সরবরাহ বা মজুদ করা হইয়া থাকে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনে, সে সকল স্থানে প্রবেশের এবং উক্ত স্থানের যে কোন রেকর্ডপত্র পরিদর্শনের অধিকার থাকিবে।
(১) ধারা ৪৬ এর বিধান অনুযায়ী কোন ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের নমুনা বিশ্লেষণ বা অন্যভাবে পরীক্ষা করিতে আগ্রহ প্রকাশ করিলে অথবা ধারা ৪৭ এর বিধান অনুসারে কোন নমুনা বিক্রিত বা সমর্পিত হইলে, নমুনা গ্রহণকারী, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে,-
(২) খাদ্য বিশ্লেষক বা খাদ্য পরীক্ষাগার বা কার্যালয় প্রধান উপ-ধারা (১) এর অধীনপ্রাপ্ত নমুনার দুইটি অংশের মধ্যে একটি অংশ ধারা ৪৯ এর বিধান অনুযায়ী বিশ্লেষণ বা পরীক্ষা করাইয়া পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং অবশিষ্ট অংশ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও স্থানে সংরক্ষণ করিবেন।
(১) ধারা ৪৮ এর বিধান অনুযায়ী খাদ্য বিশ্লেষকের নিকট কোন নমুনা বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার জন্য উপস্থাপিত হইলে,-
(২) এই আইনের অধীন যে কোন তদন্ত, বিচার বা কার্যধারা পরিচালনার ক্ষেত্রে খাদ্য বিশ্লেষক কর্তৃক, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত ফরমে, সনদ হিসাবে স্বাক্ষরিত কোন দলিল এই ধারার অধীন একটি বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার ফলাফলের প্রমাণ হিসাবে গণ্য হইবে।
(১) এই আইনের অধীন কোন তদন্ত বা বিচার চলাকালে খাদ্য আদালত, প্রয়োজনে, স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অথবা বাদী বা বিবাদীর আবেদনক্রমে, যে কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের নমুনা বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন খাদ্য আদালত কর্তৃক কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের নমুনা বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত হইলে কর্তৃপক্ষ, এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারের মাধ্যমে, সংশ্লিষ্ট খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের নমুনা বিশ্লেষণ বা পরীক্ষা করাইয়া উহার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আদালতে উপস্থাপিত প্রতিবেদন সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য করা যাইবে।
(৪) এই ধারার অধীন সকল পরীক্ষা বা বিশ্লেষণের ব্যয়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাদী বিবাদী বা উভয় পক্ষ কর্তৃক পরিশোধিত হইবে।
(১) কর্তৃপক্ষ, এই আইনের অধীন নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নিয়োগ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্তৃপক্ষ, বিশেষ প্রয়োজনে, সরকার বা স্থানীয় কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তাকে নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে এবং দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একজন নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক হিসাবে গণ্য হইবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) বা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তিকে পরিদর্শক হিসাবে নিয়োগ বা দায়িত্ব প্রদান করা যাইবে না, যদি তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন বা বিপণনের সহিত সংশ্লিষ্ট কোন ব্যবসা বা বাণিজ্যের সহিত জড়িত থাকেন।
(১) পরিদর্শক নিম্নরূপ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিবেন, যথা :-
(১) এই আইনের বিধান লংঘন করিয়া খাদ্য স্থাপনা, ভবন বা গৃহে কোন ঘটনা সংঘটিত হইতেছে কিনা তাহা নিশ্চিত হইবার জন্য পরিদর্শক, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় যে কোন সময়ে, যে কোন খাদ্য স্থাপনা বা ভবনে প্রবেশ করিতে পারিবেন।
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন আইনানুগ কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে কোন পরিদর্শককে কোন খাদ্য-স্থাপনা, ভবন বা গৃহে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিতে পারিবেন না।
কোন পরিদর্শক, তদন্ত করিবার জন্য, খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ সংক্রান্ত ব্যবসা বা বাণিজ্য পরিচালনাকারী অথবা উৎপাদন বা বিপণনকারীর নিকট, লিখিতভাবে নোটিশ প্রদান করিয়া, উহার সকল ব্যবসা, বাণিজ্য, উৎপাদন, উৎস-সনাক্তকরণ (traceability) বা বিপণন সংক্রান্ত জমা-খরচের বহি, রশিদ ও অন্যান্য দলিলপত্র যাচনা করিতে পারিবেন এবং পরিদর্শকের চাহিদা অনুযায়ী নোটিশপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাহা প্রতিপালন করিতে বাধ্য থাকিবেন।
(১) পরিদর্শক, মধ্যরাত হইতে সূর্যোদয়ের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময় ব্যতীত, যে কোন সময়ে-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে যে কোন পরিদর্শন বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পরিদর্শককে কোন ব্যক্তি বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিতে পারিবেন না।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিদর্শন এবং পরীক্ষাকালে যদি পরিদর্শকের বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে খাদ্য প্রস্ত্ততকরণ বা বিপণন সংক্রান্ত কাজে নির্দিষ্ট কোন জীবন্ত বা ক্রিয়াশীল বন্তু, ধারণপাত্র বা উহার উপাদান যাহা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা অনুপযোগী বা ভেজাল, তাহা হইলে তিনি ঐ সকল বস্ত্ত বা উহা দ্বারা প্রস্ত্ততকৃত খাদ্যদ্রব্য জব্দ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীনে কোন কিছু জব্দের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিতে পারিবেন না।
(৫) উপ-ধারা (৩) এর অধীনে যে কোন খাদ্য, উপকরণ বা বস্ত্তকে ভেজাল বা দূষিত হিসাবে বিশ্বাস করিয়া জব্দ করা হইলে পরিদর্শক জব্দকৃত নমুনাকে ধারা ৪৮ এর বিধান অনুসারে, যথাশীঘ্র সম্ভব, পৃথক করিয়া, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, সকল নমুনা বন্টন ও হস্তান্তর করিবেন।
(৬) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন জীবন্ত বা ক্রিয়াশীল বস্ত্ত, ধারণপাত্র বা উহার উপাদান বা উহা দ্বারা প্রস্ত্ততকৃত খাদ্যদ্রব্য জব্দ করিবার ক্ষেত্রে, জব্দকারী,-
(৭) কোন ব্যক্তি এই ধারার বিধান অনুসারে পরিচালিত কোন অপসারণ কার্যকে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিতে পারিবেন না এবং কোন জীবন্ত বা ক্রিয়াশীল বস্ত্ত, উপকরণ খাদ্যদ্রব্য পদার্থ, বা ধারণপাত্র উপ-ধারা (৬) এর দফা (খ) এর বিধান অনুসারে রক্ষিত হেফাজত হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন না বা হেফাজতে থাকাকালীন উহা হস্তান্তর করিতে পারিবেন না।
(১) ধারা ৫৫ এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন পরিদর্শক বা কোন কর্তৃপক্ষ হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন পরিদর্শক বা জীবন্ত বা ক্রিয়াশীল বস্ত্ত, খাদ্যদ্রব্য, উপকরণ, পদার্থ, ধারণপাত্র জব্দ করা হইলে, উহা যে মালিক দখলে পাওয়া যাইবে সেই ব্যক্তি বা মালিকের লিখিত সম্মতিতে দুইজন ব্যক্তির সম্মুখে উহা তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করা যাইবে;
(২) যদি উক্তরুপ সম্মতি না পাওয়া না যায়, তাহা হইলে জব্দকৃত জীবন্ত বা ক্রিয়াশীল বস্ত্ত বা উপকরণ, পদার্থ দ্রুত পচনশীল প্রকৃতির হইলে এবং ধারা ৫৫ এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন জব্দকারী পরিদর্শক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির বিবেচনায় উহা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা মানুষের খাদ্য হিসাবে অনুপযোগী হইলে, উহা তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করা যাইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের সমুদয় ব্যয় উক্ত জীবন্ত বা ক্রিয়াশীল বস্ত্ত, খাদ্যদ্রব্য, উপকরণ, পদার্থ, বা ধারণপাত্র জব্দের সময় যাহার দখলে পাওয়া যাইবে তাহার নিকট হইতে সরকারি দাবী হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।
(১) ধারা ৫৫ এর উপ-ধারা (৩) এর পরিদর্শক বা এতদ্দ্যুশ্যে কর্তৃপক্ষ হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃক অধীন যে কোন জীবন্ত বা ক্রিয়াশীল বস্ত্ত বা যে কোন উপকরণ, পদার্থ, বা ধারণপাত্র পরিদর্শক কর্তৃক জব্দ করা হইলে, ধারা ৫৬ এর বিধান অনুযায়ী উক্ত জীবন্ত বা ক্রিয়াশীল বস্ত্ত, উপকরণ, পদার্থ, ধারণপাত্র ধ্বংস করা না গেলে, যে ব্যক্তির দখলে থাকাবস্থায় উহা জব্দ করা হইয়াছে তাহাকে উক্তরূপ জব্দের বিষয়টি এইমর্মে অবহিত করিতে হইবে যে, জব্দকৃত বস্ত্ত, উপকরণ, পদার্থ বা ধারণপাত্রটি এখতিয়ার সম্পন্ন ম্যাজিষ্ট্রেটের সম্মুখে উপস্থাপন করা হইবে।
(২) এই আইনে বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের অধীন কোন অভিযোগ উত্থাপিত হউক বা না হউক, উপ-ধারা (১) এর অধীন বিবেচনার জন্য কোন জীবন্ত বা ক্রিয়াশীল বস্ত্ত বা যে কোন উপকরণ, পদার্থ বা ধারণপাত্র ম্যাজিষ্ট্রেটের সম্মুখে উপস্থাপন করা হইলে ম্যাজিষ্ট্রেট, তদ্বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি গ্রহণের পর, যদি মনে করেন যে, উক্ত-
তাহা হইলে ম্যাজিষ্ট্রেট, উক্ত জীবন্ত বা ক্রিয়াশীল বস্ত্ত বা খাদ্যদ্রব্য, উপকরণ, পদার্থ বা ধারণপাত্র কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতঃ কর্তৃপক্ষকে তৎক্ষণাৎ উহা ধ্বংস করিতে নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং উক্তরূপ কোন নির্দেশ প্রদত্ত হইলে কর্তৃপক্ষ উহা ধ্বংস বা অন্য কোন ভাবে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
কোন ব্যক্তি তফসিলের কলাম (৩) এ বর্ণিত এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য উক্ত বিধানের বিপরীতে কলাম (৪) এ বর্ণিত দণ্ডে এবং একই বিধান পুনরায় লঙ্ঘন করিলে কলাম (৫) এ বর্ণিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(১) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের কোন বিধান লঙ্ঘনকারী বা অপরাধ সংঘটনকারী যদি কোম্পানী হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানীর মালিক, অংশীদার, স্বত্ত্বাধিকার, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক জেনারেল ম্যানেজার, ম্যানেজার, সচিব বা প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট অন্য কোন কর্মকর্তা, কর্মচারী বা এজেন্ট, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, বিধানটি লঙ্ঘন বা অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত লঙ্ঘন বা অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত লঙ্ঘন বা অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়া অকৃতকার্য হইয়াছেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানী আইনগত ব্যক্তিসত্ত্বা (Body Corporate) হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানীকে পৃথকভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে ফৌজদারী মামলায় উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শুধু অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারায়-
এই আইনের ধারা ২৩, ২৪,২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৭ এ বর্ণিত অপরাধ আমলযোগ্য (cognizable) ও অজামিনযোগ্য (non-bailable) হইবে এবং উক্ত অপরাধ ব্যতীত এই আইনের অন্যান্য অপরাধ অ-আমলযোগ্য (non-cognizable) ও জামিনযোগ্য (bailable) হইবে।
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন অপরাধ যদি অন্য কোন আইনে বিশেষ অপরাধ হিসাবে উচ্চতর দণ্ডযোগ্য অপরাধ হইয়া থাকে, তাহা হইলে উহাকে এই আইনের অধীন নিরাপদ খাদ্য বিরোধী বিশেষ অপরাধ হিসাবে গণ্য করিয়া বিচারের জন্য গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনত কোন বাধা থাকিবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট অপরাধের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া যদি কর্তৃপক্ষ মনে করে যে, উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে, যাহা প্রযোজ্য, উহার বিচার হওয়া সমীচীন হইবে, তাহা হইলে এতদুদ্দেশ্যে চেয়ারম্যানের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে, উহার অধিকতর কার্যকর বিচার নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে, বিশেষ আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে যাহা প্রযোজ্য, মামলা দায়েরের লক্ষ্যে চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
এই আইনের অধীন কোন মামলায় খাদ্য আদালত কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করিয়া কোন অর্থদণ্ড আরোপ করিলে উক্ত অর্থের ২৫ (পঁচিশ) শতাংশ অর্থ প্রণোদনা হিসাবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী প্রাপ্ত হইবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, অভিযোগকারী কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী হইলে, তিনি উক্ত প্রণোদনা প্রাপ্য হইবেন না।
(১) এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘনজনিত কোন কার্যের সহিত কোন বিক্রেতার জ্ঞাতসারে সংশ্লিষ্টতা না থাকার বিষয়টি যদি সন্দেহাতীত ভাবে বোধগম্য হয় এবং প্রয়োজনবোধে উক্ত বিক্রেতা আইনের বিধান লঙ্ঘনকারীকে সনাক্তকরণে সহযোগিতা করিতে যদি প্রস্ত্তত থাকেন, তাহা হইলে এই আইনের অধীন অপরাধের জন্য দায়ী করিয়া তাহার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া আইনের বিধান লঙ্ঘণকারীকে সনাক্তকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে।
(২) কোন দোকান হইতে বিক্রিত কোন খাদ্যদ্রব্য দূষিত, ভেজাল, নকল বা ত্রুটিপূর্ণ হইবার ক্ষেত্রে যদি উক্ত খাদ্যদ্রব্য কোন বৈধ বা অনুমোদিত কারখানা, ফ্যাক্টরি বা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত বা প্রস্ত্তত হইয়া থাকে এবং যদি সন্দেহাতীতভাবে বোধগম্য হয় যে খাদ্যদ্রব্য প্রস্ত্তত বা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সহিত দোকানের মালিক বা পরিচালকের কোন সংশ্লিষ্টতা নাই এবং প্রয়োজনবোধে যদি উক্ত ব্যক্তি আইনের বিধান লঙ্ঘনকারীকে সনাক্তকরণে সহযোগিতা করিতে প্রস্ত্তত থাকেন, তাহা হইলে দোকানের মালিক বা পরিচালককে দায়ী করিয়া কোন ফৌজদারী বা প্রশাসনিক কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া আইনের বিধান লঙ্ঘনকারীকে সনাক্তকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে।
(৩) জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি কোন খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিয়া হকার বা ফেরিওয়ালা হিসাবে বিক্রয় করিলে এবং অনুরূপ বিক্রিত খাদ্যদ্রব্য যদি নকল, ভেজাল বা অন্য কোনরূপ ত্রুটিপূর্ণ হইয়া থাকে এবং উহার দ্বারা কোন খাদ্যভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হইয়া থাকে, তাহা হইলে অনুরূপ কারণে যদি সন্দেহাতীতভাবে বোধগম্য হয় যে, তিনি অবৈধভাবে লাভবান হইবার উদ্দেশ্যে সজ্ঞানে বা যোগসাজশে অথবা জানিয়া শুনিয়া উহা খাদ্য ভোক্তার নিকট বিক্রয় করেন নাই এবং প্রয়োজবোধে যদি উক্ত হকার বা ফেরিওয়ালা বিধান লঙ্ঘনকারীকে সনাক্তকরণে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করিতে প্রস্ত্তত থাকেন, তাহা হইলে উক্ত হকার বা ফেরিওয়ালাকে দায়ী করিয়া কোন ফৌজদারী বা প্রশাসনিক কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া আইনের বিধান লঙ্ঘনকারীকে সনাক্তকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে।
(৪) কাঁচা মৎস্য ও শাক-সবজির ন্যায় দ্রুত পচনশীল কোন খাদ্যদ্রব্য কোন হকার বা ফেরিওয়ালার নিকটি বা কোন দোকানে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক কারণে পচিয়া যাওয়া অবস্থায় পাওয়া গেলে যদি ইহা সহজেই বোধগম্য হয় যে পচিয়া গিয়াছে জানিয়াও অবৈধভাবে লাভবান হইবার উদ্দেশ্যে সজ্ঞানে বা যোগসাজশে তিনি উহা খাদ্য ভোক্তার নিকট বিক্রয় বা বিক্রয়ের চেষ্টা করেন নাই তাহা হইলে উক্ত হকার, ফেরিওয়ালা বা দোকানদারকে দায়ী করিয়া কোন ফৌজদারী বা প্রশাসনিক কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পচনশীলতা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে।
(৫) এই ধারার অধীন দায় হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হইলে তাৎক্ষণিকভাবে নকল বা ভেজালের উৎস উদঘাটনের বিষয়ে এবং প্রয়োজনবোধে বিচার কার্যের সাক্ষী হিসাবে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন।
(১) এই আইনের অধীন অপরাধ বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আদালত থাকিবে যাহা বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত নামে অভিহিত হইবে।
(২) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সুপ্রিম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত হিসাবে নির্ধারণ করিবে এবং একাধিক আদালত নির্ধারণ করা হইলে উহাদের প্রত্যেকটি আদালতের জন্য এলাকা নির্দিষ্ট করিয়া দিবে।
(৩) সরকার, সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময়, উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত খাদ্য আদালতের অধিক্ষেত্র নির্ধারণ বা পুনঃ নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৪) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তির উপর অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে খাদ্য আদালতের এই আইনে উল্লিখিত যে কোন পরিমাণ অর্থদণ্ড আরোপ করিবার ক্ষমতা থাকিবে।
(১) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ যে খাদ্য আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্রের মধ্যে সংগঠিত হইবে, সাধারণভাবে সেই আদালতে উহার বিচার অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) খাদ্য আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে, এই আইনে ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XXII -তে বর্ণিত পদ্ধতি, যতদূর প্রযোজ্য হয়, অনুসরণ করিবে।
(১) খাদ্য ক্রেতা, ভোক্তা, গ্রহীতা বা খাদ্য ব্যবহারকারীসহ যে কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন নিরাপদ খাদ্য বিরোধী কার্য সম্পর্কে চেয়ারম্যান বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি বা পরিদর্শকের নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ জানাইতে পারিবেন।
(২) চেয়ারম্যান বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বা পরিদর্শক, এই আইনের অধীন যে কোন অপরাধ সংঘটনের বিষয় অবহিত হইবার পর, প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষান্তে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হইলে, খাদ্য আদালতে মামলা দায়ের করিবে।
(৩) এই ধারায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে কোন ব্যক্তি, এই আইনের অধীন মামলা দায়েরের জন্য কারণ উদ্ভব হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, নিরাপদ খাদ্য বিরোধী যে কোন কার্য সম্পর্কে খাদ্য আদালতে মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।
(১) চেয়ারম্যান কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা স্থানীয় অধিক্ষেত্রে নিয়োজিত পরিদর্শক তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে এই আইনে বর্ণিত সকল অভিযোগের তদন্ত করিবেন।
(২) এই আইনের অধীন কোন অভিযোগের তদন্তকার্য পরিচালনাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারী কার্যবিধির বিধান অনুসরণে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ন্যায় ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রয়োজনে, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্য যে কোন সংস্থার নিকট সহায়তা যাচনা করিতে পারিবেন এবং এইরূপ সহায়তা যাচনা করা হইলে উক্ত সংস্থা যাচিত সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
(১) চেয়ারম্যান কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা পরিদর্শক খাদ্য আদালত কর্তৃক কোন অপরাধ তদন্তের আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে পরবর্তী ৯০ (নববই) কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্ন করিবেন।
(২) কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে, তদন্তকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অতিরিক্ত ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্ন করিবেন এবং তৎসম্পর্কে কারণ উল্লেখপূর্বক খাদ্য আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যেও তদন্তকার্য সম্পন্ন করা না হইলে, সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার ২৪ (চবিবশ) ঘন্টার মধ্যে উক্তরূপ তদন্তকার্য সম্পন্ন না হওয়া সম্পর্কে খাদ্য আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন তদন্তকার্য সম্পন্ন না হওয়া সম্পর্কে অবহিত হইবার পর খাদ্য আদালত উক্ত অপরাধের তদন্তভার অন্য কোন কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করিবে এবং উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত কর্মকর্তা কর্তৃক যথাসময়ে তদন্তকার্য সম্পন্ন না করিবার ব্যর্থতাকে অযোগ্যতা গণ্যে তাহার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করিবে।
কর্তৃপক্ষ বা উহার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আর্জির প্রেক্ষিতে বা স্বীয় বিবেচনায় খাদ্য আদালতের যদি এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে,-
তাহা হইলে অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া উক্ত আদালত উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিবার জন্য বা উক্ত স্থানে, দিনে বা রাতে যে কোন সময়ে, পরোয়ানা জারী করিতে পারিবে।
এই আইনের অধীন জারীকৃত পরোয়ানা তল্লাশি, গ্রেফতার ও আটকের বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধান প্রযোজ্য হইবে।
(১) ধারা ৬৯ এর অধীন জারীকৃত কোন পরোয়ানার ভিত্তিতে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হইলে বা কোন বস্ত্ত আটক করা হইলে অনতিবিলম্বে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি বা আটককৃত বস্ত্তটিকে নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন ব্যক্তি বা বস্ত্ত যে কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করা হইবে তিনি যথাশীঘ্র সম্ভব উক্ত ব্যক্তি বা বস্ত্ত সম্পর্কে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(১) অভিযোগের সত্যতা নিরূপণের ক্ষেত্রে খাদ্য আদালত যদি মনে করে যে, উক্ত খাদ্যদ্রব্যের যথাযথ পরীক্ষা ব্যতীত অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব নহে, তাহা হইলে আদালত অভিযোগকারীর নিকট হইতে উক্ত পণ্যের একটি নমুনা সংগ্রহ করিয়া উহাতে সীলমোহর প্রদানক্রমে তৎনির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রত্যয়ন করিবে এবং নমুনায় নিষিদ্ধ পদার্থ বিদ্যমান থাকিবার বিষয়ে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় নির্দেশসহ উহা সরকার বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত পরীক্ষাগারে প্রেরণ করিবে।
(২) কোন পরীক্ষাগারে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন খাদ্যদ্রব্য পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হইলে, প্রেরণের তারিখ হইতে ১ (এক) মাসের মধ্যে উহার রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যুক্তিসঙ্গত কারণে উক্ত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করা না গেলে, পরীক্ষাগারের চাহিদামত, পরীক্ষার সময় আরও ২ (দুই) সপ্তাহ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাইবে।
(৩) খাদ্য আদালত কোন খাদ্যদ্রব্যের নমুনা সরকার বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত পরীক্ষাগারে প্রেরণের পূর্বে উক্ত খাদ্যদ্রব্যের নমুনায় উত্থাপিত অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত অর্থ বা ফি জমা দানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
খাদ্য আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় বা আদেশ দ্বারা কোন পক্ষ সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি উক্ত রায় বা আদেশ প্রদত্ত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে স্থানীয় অধিক্ষেত্রের দায়রা জজের আদালতে আপীল দায়ের করিতে পারিবেন।
এই আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ, যে ক্ষেত্রে যতটুকু প্রযোজ্য, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) অনুসারে বিচার্য হইবে।
(১) এই আইন বিরোধী কার্যকলাপের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম দায়ের ও তদ্কারণে সংঘটিত ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হইবার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোন ব্যক্তি বা খাদ্যভোক্তা কর্তৃক উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানী প্রতিকার দাবী করিয়া সংশ্লিষ্ট স্থানীয় অধিক্ষেত্রের উপযুক্ত দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করিতে আইনগত কোন বাধা থাকিবে না।
(২) কোন বিক্রেতার নিরাপদ খাদ্য বিরোধী কার্যের দ্বারা কোন খাদ্য-গ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হইলে এবং উক্ত ক্ষতির পরিমাণ আর্থিক মূল্যে নিরূপণযোগ্য হইলে, তিনি উক্ত নিরূপিত অর্থের অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) গুণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করিয়া উপযুক্ত দেওয়ানী আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।
(৩) দেওয়ানী আদালত বাদীর আর্জি, বিবাদীর জবাব, সাক্ষ্য প্রমাণ এবং পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করিয়া নিরূপিত ক্ষতির সঠিক পরিমাণের অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) গুণের মধ্যে যে কোন অংকের ক্ষতিপূরণ, যাহা ন্যায় বিচারের স্বার্থে যথাযথ বলিয়া বিবেচিত হইবে, প্রদান করিতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908), Contract Act, 1872 (Act No. IX of 1872) এবং Civil Courts Act, 1887 (Act No. XII of 1887) এ ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার বিধানাবলী কার্যকর হইবে।
(১) কোন ব্যক্তির খাদ্যের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে কোন অভিযোগ থাকিলে তিনি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উহা কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ উক্ত অভিযোগ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনার পর যে ব্যক্তি উক্ত খাদ্য প্রস্ত্তত, বিপণন বা বিক্রয় করিয়াছেন সেই ব্যক্তিকে তাহার করণীয় সম্পর্কে যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন তদন্ত পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষ উহার যে কোন কর্মকর্তাকে এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিযুক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, তদন্ত কার্য পরিচালনা করিবেন এবং তৎসম্পর্কে একটি প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবেন।
(৫) এই ধারার অধীন দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন বিবেচনার পর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত বিষয়ে কোন ব্যক্তিকে কোন নির্দেশ প্রদান করা হইলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত নির্দেশ মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবেন এবং উক্তরূপ নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হইলে কর্তৃপক্ষ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তির উপর অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এ যাহা থাকুক না কেন, এই আইনের ধারা ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৭ লংঘনের ক্ষেত্রে এই ধারার অধীন প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যাইবে না।
(৭) কোন ব্যক্তি এই ধারার অধীন তাহার উপর আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হইলে উহা Public Demands Recovery Act, 1913(Act IX of 1913) এর অধীন সরকারি দাবী গণ্যে আদায়যোগ্য হইবে।
কোন ব্যক্তি ধারা ৭৮ এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ হইলে, তিনি উক্ত আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, সরকারের নিকট আপীল দায়ের করিতে পারিবেন এবং সরকার উক্ত আপীল দায়েরের ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণসহ এই আইনের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেক খাদ্য বিশ্লেষক এবং পরিদর্শক দণ্ডবিধির ধারা ২১ এ public servant (জনসেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) এই আইনের অধীন অপরাধ দমনে সহায়তাকারী কোন সরকারি কর্মচারী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে বা কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে অনুরূপ ব্যর্থতা বা লঙ্ঘনের জন্য তিনি দায়ী হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, অনুরূপ ব্যর্থতা বা, ক্ষেত্রমত, লঙ্ঘন তাহার অজ্ঞাতসারে ঘটিয়াছে বা উক্ত লঙ্ঘন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়া অকৃতকার্য হইয়াছেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন ব্যর্থতা বা লঙ্ঘণের অভিযোগে কোন সরকারি কর্মচারী দায়ী হইলে তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি-বিধান অনুযায়ী আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত হইবেন এবং উক্ত কারণে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করিতে হইবে।
সরকার, প্রয়োজনে, এই আইনের যথাযথ বস্তবায়ন নিশ্চিত করিবার নিমিত্ত, পরিষদের পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারী সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং উহাদের দায়-দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করিতে পারিবে।
কোন ব্যক্তি কর্তৃক কর্তৃপক্ষের নিকট সরবরাহকৃত কোন তথ্য গোপন রাখিবার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হইলে এবং কর্তৃপক্ষ উহাতে সম্মতিজ্ঞাপন করিয়া থাকিলে, কর্তৃপক্ষ উহা তৃতীয় কোন পক্ষের নিকট প্রকাশ করিতে কিংবা প্রকাশের উৎস হিসাবে ব্যবহার করিতে পারিবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হইলে, সংশ্লিষ্ট তথ্য জনসমক্ষে প্রচার করা যাইবে।
প্রত্যেক বৎসরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কর্তৃপক্ষ তৎকর্তৃক পূর্ববর্তী বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং সরকার কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যে কোন সময় উহার যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী যাচনা করিতে পারিবে।
কর্তৃপক্ষ, জরুরি প্রয়োজনে, লিখিত আদেশ দ্বারা, সুনির্দিষ্ট শর্তে, এই আইনের অধীন উহার উপর অর্পিত যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, উহার চেয়ারম্যান, সদস্য বা অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অস্পষ্টতা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানবলীর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্তরূপ অস্পষ্টতা দূর করিত পারিবে।
এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, প্রয়োজনবোধে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (authentic english text) প্রকাশ করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা পাঠ ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সংগে সংগে Pure Food Ordinance, 1959(E. P. Ordinance No. LXVIII of 1959), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, রহিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন স্থাপিত Pure Food Court ধারা ৬১ এর অধীন নির্ধারিত বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং উপ-ধারা (৩) অনুসারে উহাতে উল্লিখিত মামলাসমূহ নিষ্পত্তি করা যাইবে।
(৩) উক্ত ধারা রহিতকরণের অব্যবহিত পূর্বে রহিত আইনের অধীন অনিষ্পন্ন মামলা সংশ্লিষ্ট বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, এবং উক্তরূপ মামলায় প্রদত্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরূদ্ধে আপীল সংশ্লিষ্ট আদালতে, এমনভাবে পরিচালিত, নিষ্পত্তি হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও-