নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩
নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় একটি ট্রাস্ট স্থাপনের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় একটি ট্রাস্ট স্থাপনের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষার নিমিত্ত একটি ট্রাস্ট স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘অভিভাবক’’ অর্থ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা বা পিতা বা তদ্কর্তৃক নিয়োজিত কোনো অভিভাবক;
(২) ‘‘উপদেষ্টা পরিষদ’’ অর্থ ধারা ১১ এর অধীন গঠিত উপদেষ্টা পরিষদ;
(৩) ‘‘চেয়ারপারসন’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারপারসন;
(৪) ‘‘জেলা কমিটি’’ অর্থ ধারা ২০ এর অধীন গঠিত জেলা কমিটি;
(৫) ‘‘ট্রাস্ট’’ অর্থ ধারা ৮ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন স্থাপিত নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট;
(৬) ‘‘তহবিল’’ অর্থ ট্রাস্টের তহবিল;
(৭) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(৮) ‘‘নিবন্ধিত সংগঠন’’ অর্থ ধারা ২১ এর অধীন নিবন্ধিত কোনো সংগঠন;
(৯) ‘‘নিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবক’’ অর্থ ধারা ২৩ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো অভিভাবক;
(১০) ‘‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’’ অর্থ ধারা ৩ এ উল্লিখিত যে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তি;
(১১) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(১২) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ১৩ এর অধীন গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড;
(১৩) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১৪) ‘‘বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’’ অর্থ এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মূলধারার শিক্ষার পরিবর্তে বিশেষ ধরনের শিক্ষা প্রদান করা হয়;
(১৫) ‘‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’’ অর্থ ধারা ৩০ এর অধীন নিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক;
(১৬) ‘‘সদস্য’’ অর্থ চেয়ারপারসন ও ভাইস চেয়ারপারসনসহ বোর্ডের কোনো সদস্য।
Section ৩. নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতার ধরন
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিগত, বিকাশগত এবং ইন্দ্রিয়গত ক্ষতিগ্রস্ততা ও প্রতিকূলতার ভিন্নতা বিবেচনায়, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতার ধরনসমূহ হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
Section ৪. অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারস
যাহাদের মধ্যে নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত লক্ষণসমূহের মধ্যে দফা (ক), (খ) ও (গ) এর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে এবং দফা (ঘ), (ঙ), (চ), (ছ), (জ), (ঝ), (ঞ) ও (ট) তে উল্লিখিত লক্ষণসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক লক্ষণ পরিলক্ষিত হইবে, তাহারা অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারস্ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা :-
[ ব্যাখ্যা ।-অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারস্ মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের এইরূপ একটি জটিল প্রতিবন্ধকতা যাহা শিশুর জন্মের এক বৎসর ছয়মাস হইতে তিন বৎসরের মধ্যে প্রকাশ পায়। এই ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাধারণত শারীরিক গঠনে কোনো সমস্যা বা ত্রুটি থাকে না এবং তাহাদের চেহারা ও অবয়ব অন্যান্য সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের মতই হইয়া থাকে। ইহারা পরিবেশের সহিত যথাযথভাবে যোগাযোগ করিতে পারে না, যেমন-ভাষার ব্যবহার রপ্ত করিতে না পারা, নিজের ভিতর গুটাইয়া থাকা, ইত্যাদি। তবে, অনেক ক্ষেত্রে ছবি আঁকা, গান করা, কম্পিউটার চালনা বা গাণিতিক সমাধানসহ অনেক জটিল বিষয়ে এই ধরনের ব্যক্তিরা বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করিয়া থাকে। ]
Section ৫. ডাউন সিনড্রোম
কোনো ব্যক্তির মধ্যে এইরূপ কোনো বংশানুগতিক (genetic) সমস্যা, যাহা ২১ তম ক্রমোসোম জোড়ায় একটি অতিরিক্ত ক্রমোসোমের উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, এবং মৃদু হইতে গুরুতর মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা, দুর্বল পেশীক্ষমতা, খর্বাকৃতি ও মঙ্গোলয়ড মুখাকৃতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হইলে, তিনি ডাউন সিনড্রোমসম্পন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন।
Section ৬. বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা
নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী কোনো ব্যক্তি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা :-
Section ৭. সেরিব্রাল পালসি
(১) অপরিণত মস্তিস্কে কোনো আঘাত বা রোগের আক্রমণের কারণে যদি কোনো ব্যক্তির,-
তাহা হইলে তিনি সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন।
(২) সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধিতার বৈশিষ্ট্যসমূহ হইবে নিম্নরূপ, যথা:
Section ৮. ট্রাস্ট স্থাপন
(১) এই আইন বলবৎ হইবার পর, সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, এই আইনের বিধান অনুযায়ী নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট স্থাপন করিবে।
(২) ট্রাস্ট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহার নামে উহার পক্ষে বা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৯. ট্রাস্টের কার্যালয়
ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয় থাকিবে ঢাকায় এবং বোর্ড, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ১০. ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হইবে, সমাজের অংশ হিসাবে মর্যাদার সহিত বসবাস করিবার উপযোগী করিয়া তুলিবার লক্ষ্যে, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে,-
Section ১১. উপদেষ্টা পরিষদ
(১) ট্রাস্টের একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকিবে যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একই সঙ্গে উক্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকিলে, উক্ত ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী সদস্য হইবেন;
(২) উপদেষ্টা পরিষদ, প্রয়োজনবোধে, সময় সময়, বোর্ডকে প্রয়োজনীয় দিক্-নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করিবে।
(৩) উপদেষ্টা পরিষদের সভার কার্যপদ্ধতি এবং দায়িত্ব ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১২. প্রশাসন ও পরিচালনা
ট্রাস্টের প্রশাসন ও পরিচালনা একটি ট্রাস্টি বোর্ডের ওপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ট্রাস্ট যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, উক্ত বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
Section ১৩. ট্রাস্টি বোর্ড গঠন
(১) ট্রাস্টি বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ৭ (সাত) জন প্রতিনিধির মধ্যে অন্যূন ৪ (চার) জন প্রতিনিধি নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা, পিতা বা অভিভাবকগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইবেন;
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক), (থ), (দ) ও (ধ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
(৩) শুধু সদস্যপদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(৪) সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বোর্ডের সদস্য সংখ্যা হ্রাস বা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
Section ১৪. চেয়ারপারসন এবং সদস্যবৃন্দের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা
(১) নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি চেয়ারপারসন হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন।
(২) কোনো ব্যক্তি চেয়ারপারসন বা সদস্য হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-
Section ১৫. পদত্যাগ, অপসারণ বা দায়িত্ব পালনে অসমর্থতা
(১) চেয়ারপারসন বা মনোনীত কোনো সদস্য কমপক্ষে ৩ (তিন) মাস পূর্বে নোটিশ প্রদান করিয়া, সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে, স্বীয় পদ হইতে পদত্যাগ করিতে পারিবেন এবং সরকার কর্তৃক পদত্যাগপত্র গৃহীত হইবার তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট পদটি শূন্য হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, চেয়ারপারসন বা মনোনীত কোনো সদস্যকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি-
Section ১৬. চেয়ারপারসন পদে সাময়িক শূন্যতা পূরণ
চেয়ারপারসন এর পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারপারসন তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত চেয়ারপারসন উক্ত শূন্য পদে যোগদান না করা পর্যন্ত অথবা চেয়ারপারসন পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, বোর্ডের ভাইস চেয়ারপারসন সাময়িকভাবে চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করিবেন।
Section ১৭. ট্রাস্টের কার্যাবলী
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ট্রাস্টের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
Section ১৮. বোর্ডের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) সভার আলোচ্যসূচি, তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারপারসন কর্তৃক নির্ধারিত হইবে এবং চেয়ারপারসনের অনুমোদনক্রমে বোর্ডের সদস্য-সচিব এইরূপ সভা আহবান করিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি ৪ (চার) মাসে বোর্ডের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) চেয়ারপারসন বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে বোর্ডের ভাইস চেয়ারপারসন সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৫) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী চেয়ারপারসন বা, ক্ষেত্রমত, ভাইস চেয়ারপারসনের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৬) চেয়ারপারসন, সদস্যগণের সহিত আলোচনাক্রমে, প্রয়োজনে, সভার আলোচ্যসূচির সহিত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ যে কোনো ব্যক্তিকে সভায় আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবেন, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে না।
Section ১৯. বোর্ডের দায়িত্ব
ধারা ১২ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বোর্ড, অন্যান্যের মধ্যে, নিম্নরূপ দায়িত্বও পালন করিবে, যথা:-
Section ২০. জেলা ও অন্যান্য কমিটি
(১) বোর্ড, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, প্রত্যেক জেলায় নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করিবে, যথা :-
(২) জেলা কমিটির সভার কার্যপদ্ধতি এবং দায়িত্ব ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বোর্ড, ট্রাস্টের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন ও পরিচালনায় সহায়তার জন্য, দায়িত্ব ও কার্যাবলী নির্ধারণপূর্বক, এক বা একাধিক অন্যান্য কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
Section ২১. সংগঠন, নিবন্ধন, ইত্যাদি
(১) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে উক্তরূপ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন বা তাহাদের অভিভাবকদের সংগঠন গঠন করা যাইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হইলে, উক্ত সংগঠন এই আইনের অধীন কোনো সুবিধা লাভের যোগ্য হইবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত সংগঠনকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ফরম পূরণ ও ফি প্রদান সাপেক্ষে, নিবন্ধনের জন্য বোর্ডের নিকট আবেদন করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন কার্যকর হইবার পূর্বে কোনো সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকিলে উহাকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উহাতে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ফরম পূরণ ও ফি প্রদান সাপেক্ষে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করিতে হইবে।
(৩) বোর্ড, উহার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে, নিবন্ধনের যে কোনো আবেদন মঞ্জুর করিতে পারিবে, অথবা, কারণ লিপিবদ্ধপূর্বক, প্রত্যাখ্যান করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যাত হইলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা সংগঠন নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবে।
(৫) আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই, অনুসন্ধান, নিবন্ধন এবং আপিল নিষ্পত্তিসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ২২. নিবন্ধিত সংগঠন বরাবরে সহায়তা প্রদান, ইত্যাদি
(১) কোনো নিবন্ধিত সংগঠন উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহায়তা যাচনা করিয়া বোর্ডের নিকট আবেদন করিতে পারিবে।
(২) বোর্ড, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রাক-অর্থ সহায়তা অবস্থা যাচাইপূর্বক যাচিত আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করিতে পারিবে।
(৩) নিম্নরূপ কোনো কর্মসূচির জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন করা যাইবে, যথা:
তবে শর্ত থাকে যে, কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে মহিলা, শিশু, ৬৫ বৎসর বা তদূর্ধ্ব বৎসর বয়সী বয়স্ক বা গুরুতর নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে;
(৪) বোর্ড, সময় সময়, আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত নিবন্ধিত সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিবীক্ষণ, তদারকি ও মূল্যায়ন করিতে পারিবে।
(৫) বোর্ড যে কোনো নিবন্ধিত সংগঠনের নথিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, প্রকাশনা বা কর্মসূচি পরিদর্শনের লক্ষ্যে উক্ত নথিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ বা প্রকাশনা বোর্ডের নিকট উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত সংগঠন তদনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ বা প্রকাশনা বোর্ডের নিকট উপস্থাপন করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৬) নিবন্ধিত সংগঠনকে, প্রতি বৎসর, বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানসহ উহার বার্ষিক আয়- ব্যয়ের হিসাব বিবরণী প্রকাশ করিতে হইবে, যাহার কপি বোর্ডের নিকট দাখিল করিতে হইবে।
Section ২৩. অভিভাবকত্বের জন্য আবেদন, অভিভাবক নিয়োগ, ইত্যাদি
(১) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে কোনো প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যক্তি বা নিবন্ধিত সংগঠন, এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, অভিভাবক হিসাবে যে কোনো নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) কোনো প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যক্তি বা নিবন্ধিত সংগঠন নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অভিভাবকত্ব গ্রহণে আগ্রহী হইলে তাহাকে জেলা কমিটি বরাবরে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদন করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা, পিতা বা অভিভাবকের লিখিত সম্মতি ব্যতীত কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হইবে না।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর জেলা কমিটি সংশ্লিষ্ট অভিভাবকত্ব নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, দায়িত্ব গ্রহণের যথার্থতা, সামর্থ্য ও উদ্দেশ্য যথাযথভাবে বিবেচনা করিবে।
(৪) জেলা কমিটি, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অভিভাবকত্বের জন্য দাখিলকৃত আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইপূর্বক সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের দায়িত্ব সুনির্দিষ্টকরতঃ বোর্ডের অনুমোদনের জন্য বোর্ড বরাবর উহার সুপারিশ পেশ করিবে।
(৫) বোর্ড, উপ-ধারা (৪) এর অধীন সুপারিশ প্রাপ্তির পর বিষয়টি যাচাই-বাছাইপূর্বক উহা অনুমোদন করিতে পারিবে।
(৬) বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে, জেলা কমিটি, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, চুক্তিনামা সম্পাদনপূর্বক অভিভাবক নিয়োগ করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির যত্নপরিচর্যা, সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ এবং লালনপালনের জন্য দায়-দায়িত্বের বিষয় চুক্তিনামা দ্বারা নির্ধারিত করিতে হইবে।
(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন অভিভাবক নিয়োগের তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবক নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির দায়-দেনার, যদি থাকে, প্রতিবেদনসহ সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিসংখ্যান বোর্ড এবং জেলা কমিটির নিকট দাখিল করিবেন।
(৮) নিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবক প্রত্যেক অর্থ-বৎসর শেষ হইবার অনধিক ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সম্পত্তির আয়-ব্যয় এবং উদ্বৃত্তপত্রসহ তাহার অধীন ন্যস্ত সকল সম্পদ ও সম্পত্তির হিসাব বিবরণী বোর্ডের এবং, ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটির নিকটি দাখিল করিবেন।
Section ২৪. সাক্ষাৎকার, পরিদর্শন, ইত্যাদি
ধারা ২৩ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রহিয়াছেন এমন নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা-পিতা, অভিভাবক, নিবন্ধিত সংগঠন বা বোর্ডের কোনো সদস্য সংশ্লিষ্ট নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহিত সাক্ষাৎ এবং তাহার সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করিতে পারিবেন।
Section ২৫. নিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবককে অব্যাহতি, ইত্যাদি
(১) ধারা ২৪ এর অধীন পরিদর্শনকালে নিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবক কর্তৃক নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি অবহেলা, নির্যাতন, সম্পত্তি আত্মসাৎ, অপব্যবহার বা অপব্যয় সংক্রান্ত কোনো ধরনের আচরণ বা কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হইলে পরিদর্শনকারী ব্যক্তি উক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবককে অব্যাহতি প্রদানের নিমিত্ত জেলা কমিটি বরাবর অভিযোগ উত্থাপন করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অভিযোগ প্রাপ্ত হইলে জেলা কমিটি, নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুসন্ধান এবং, প্রয়োজনে, শুনানী গ্রহণ করিয়া বিষয়টির সত্যতা যাচাই করিবে।
(৩) নিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবককে অব্যাহতি প্রদানের কোনো সঙ্গত কারণ থাকিলে জেলা কমিটি, বোর্ডের অনুমোদনক্রমে, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া নিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবককে অব্যাহতি প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ধারা ২৩ এর বিধান অনুসরণপূর্বক নূতন অভিভাবক নিয়োগ করিতে পারিবে অথবা নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির যত্নপরিচর্যা ও সুরক্ষার নিমিত্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে অন্য যে কোনো যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) অনুসারে অব্যাহতিপ্রাপ্ত অভিভাবক জেলা কমিটির মাধ্যমে নবনিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবকের নিকট বা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সংস্থা, সংগঠন বা ব্যক্তির নিকট তদকর্তৃক গৃহীত ও ব্যয়িত অর্থের হিসাবসহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমুদয় সম্পত্তি ও দায়-দেনার হিসাব হস্তান্তর করিতে বাধ্য থাকিবেন।
(৫) এই ধারার অধীন অব্যাহতিপ্রাপ্ত অভিভাবক নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি অবহেলা, অযত্ন বা নির্যাতন করিলে অথবা তাহার সম্পত্তি আত্মসাৎ, অপব্যবহার বা অপব্যয় করিলে অথবা উপ-ধারা (৪) এর অধীন হিসাব হস্তান্তর করিতে ব্যর্থ হইলে বা অপারগতা প্রকাশ করিলে উক্তরূপ কর্মকাণ্ড, ব্যর্থতা বা অপরাগতার জন্য তাহার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
Section ২৬. ট্রাস্টের তহবিল
(১) ট্রাস্টের একটি তহবিল থাকিবে যাহা নিম্নরূপ দুইটি অংশে বিভক্ত থাকিবে, যথা :-
(২) এই আইনের অধীন ট্রাস্ট স্থাপনের পর সরকার, যতশীঘ্র সম্ভব, ট্রাস্টের উদ্দেশ্য
বাস্তবায়নকল্পে উহার অনুকূলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ অনুদান হিসাবে প্রদান করিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এর অধীন গঠিত স্থায়ী তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা :-
(৪) স্থায়ী তহবিলের অর্থ কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসাবে জমা রাখিতে হইবে এবং ট্রাস্টের কোনো দৈনন্দিন কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে উক্ত তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, বোর্ডের পূর্বানুমোদনক্রমে, স্থায়ী আমানতের লভ্যাংশ হইতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ অর্থ দরিদ্র, মেধাবী নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি বা উপবৃত্তি এবং দু:স্থ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির চিকিৎসায় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ব্যয় করা যাইবে।
(৫) উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন চলতি তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা :-
(৬) ট্রাস্টের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যে কোনো নির্দিষ্ট নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কল্যাণে যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন ট্রাস্টের অনুকূলে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দান করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, দানপত্রে নির্দিষ্ট কোনো নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নাম উল্লেখ থাকিলে, তাহার জীবনযাত্রার মান এবং অন্য যে সকল কারণ উল্লেখপূর্বক সম্পত্তি দান করা হইবে, সেই সকল বিষয়সমূহ বোর্ড কর্তৃক নিশ্চিত হইতে হইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, উক্ত দানকৃত সম্পত্তি হইতে সংশ্লিষ্ট নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রয়োজন মিটাইবার পর উদ্বৃত্ত অর্থ, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যাইবে।
(৭) উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত চলতি তহবিলের অর্থ কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং উক্তরূপ অর্থ হইতে ট্রাস্টের দৈনন্দিন ব্যয়সহ অন্যান্য কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।
(৮) তহবিলের ব্যাংক হিসাব বোর্ড কর্তৃক, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, পরিচালিত হইবে।
(৯) তহবিলের অর্থ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যে কোনো খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে।
Section ২৭. বাজেট
ট্রাস্ট প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, পরবর্তী অর্থ-বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ট্রাস্টের কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
Section ২৮. হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা
(১) ট্রাস্ট যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্ত্তত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর ট্রাস্টের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও ট্রাস্টের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P.O. No. 2 of 1973) Article 2(1)(b)-তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট দ্বারা ট্রাস্টের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে ট্রাস্ট এক বা একাধিক চার্টার্ড একাউন্টেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত পারিতোষিক প্রাপ্য হইবেন।
(৫) উপ-ধারা (২) বা (৩) এর বিধান অনুসারে হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব নিরীক্ষক কিংবা তদ্কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি অথবা, ক্ষেত্রমত, চার্টার্ড একাউন্টেন্ট ট্রাস্টের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং যে কোনো সদস্য এবং ট্রাস্টের কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
Section ২৯. ট্রাস্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারী
ট্রাস্ট উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ৩০. ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
(১) ট্রাস্টের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকিবেন।
(২) সরকারের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণের মধ্য হইতে, সরকার কর্তৃক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিযুক্ত হইবেন।
(৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ট্রাস্টের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
Section ৩১. প্রতিবেদন
(১) প্রতি অর্থ বৎসরে ট্রাস্ট কর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন ট্রাস্ট পরবর্তী বৎসরের ৩০ শে জুনের মধ্যে সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে যে কোনো সময়, ট্রাস্ট এর নিকট হইতে যে কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী তলব করিতে পারিবে এবং ট্রাস্ট সরকারের নিকট উহা সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৩২. ক্ষমতা অর্পণ
বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা চেয়ারপারসন, ভাইস চেয়ারপারসন বা অন্য কোনো সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অন্য কোন কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ৩৩. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৩৪. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৩৫. অস্পষ্টতা দূরীকরণ
এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্তরূপ অস্পষ্টতা দূর করিতে পারিবে।
Section ৩৬. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, প্রয়োজনবোধে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।