পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন, ২০১৩
Rural Electrification Board Ordinance, 1977 (Ordinance No. LI of 1977) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
Rural Electrification Board Ordinance, 1977 (Ordinance No. LI of 1977) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু পল্লী এলাকা ও কতিপয় অন্যান্য এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি তথা কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ শক্তির কার্যকর ব্যবহার অব্যাহত রাখা এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে Rural Electrification Board Ordinance, 1977 (Ordinance No. LI of 1977) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের মাধ্যমে একটি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্সংক্রান্ত বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;
(২) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;
(৩) ‘‘পল্লী এলাকা’’ অর্থ পৌর বা সিটি কর্পোরেশন এলাকাভুক্ত নহে এমন এলাকা, এবং এতদুদ্দেশ্যে, সময়ে সময়ে, সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্দিষ্টকৃত এইরূপ কোন পৌরসভা বা পৌরসভাভুক্ত এবং সিটি কর্পোরেশন বা সিটি কর্পোরেশনভুক্ত বা অন্য কোন এলাকাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এ আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৫) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৬) ‘‘বিদ্যুৎ আইন’’ অর্থ Electricity Act, 1910 (Act No. IX of 1910); (৭) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড;
(৮) ‘‘ভূমি’’ অর্থ State Acquisition and Tenancy Act, 1950(E. B. Act No. XXVIII of 1950) এ সংজ্ঞায়িত কোন Land;
(৯) ‘‘সদস্য’’ অর্থ বোর্ডের একজন সদস্য এবং চেয়ারম্যানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(১০) ‘‘সমিতি’’ অর্থ এই আইনের অধীনে গঠিত এবং বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি; এবং
(১১) ‘‘সরকার’’ অর্থ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর বিদ্যুৎ বিভাগ।
Section ৩. বোর্ড প্রতিষ্ঠা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নামে একটি বোর্ড থাকিবে।
(২) বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে, যাহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী ও তদধীনে প্রণীত বিধিমালা সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উক্ত নামে বোর্ড মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৪. বোর্ডের কার্যালয়
বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং উহার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে বোর্ড বাংলাদেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে স্থাপিত কোন শাখা কার্যালয় স্থানান্তর বা বিলুপ্ত করিতে পারিবে।
Section ৫. বোর্ডের গঠন
(১) নিম্নবর্ণিত ১২ (বার) জন সদস্য সমন্বয়ে বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-
(১) সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন);
(২) সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন);
(৩) সদস্য (সমিতি ব্যবস্থাপনা);
(৪) সদস্য (অর্থ);
(৫) সদস্য (প্রশাসন); এবং
(১) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;
(২) বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;
(৩) বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;
(৪) বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;
(৫) বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ এর অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা; এবং
(৬) ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট।
(২) সরকার, বোর্ডের চাকুরীতে অন্যূন ২০(বিশ) বৎসরের চাকুরীসহ সমিতি ব্যবস্থাপনা
সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাগণের মধ্য হইতে সদস্য (সমিতি ব্যবস্থাপনা) এবং ইলেট্রিক্যাল বা মেকানিক্যাল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারগণের মধ্য হইতে সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) নিযুক্ত করিবে।
(৩) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সার্বক্ষণিক সদস্যগণ তাহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবেন।
Section ৬. বোর্ডের কার্যাবলী
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন এবং তদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে, যথা :-
Section ৭. অনুমতিপত্রের অধিকারী হওয়া
বোর্ড, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিদ্যুৎ আইনের অধীন অনুমতিপ্রাপ্ত হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত আইনের অধীনে অনুমতি প্রাপ্তির (Licensee) সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আইনের ধারা ৩ হইতে ১১, ধারা ২১(২)(৩), ধারা ২২, ধারা ২৩ এবং ধারা ২৭ অথবা তফসিলের দফা ১ হইতে ১২ এ অনুমতিপত্রের অধিকারীর কোন দায়-দায়িত্ব বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাইবে না।
Section ৮. চেয়ারম্যান ও সদস্যের কার্যাবলী
(১) চেয়ারম্যন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধান অনুসারে, বোর্ডের প্রশাসন পরিচালনা করিবেন।
(২) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত বা সময়ে সময়ে নির্দেশিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন।
Section ৯. বোর্ডের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) বোর্ড প্রতি বৎসর অন্যূন ৪ (চার) বার সভায় মিলিত হইবে এবং উহার সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) বোর্ডের সভা, চেয়ারম্যান এর সম্মতিক্রমে পরিচালনা বোর্ডের সচিবের স্বাক্ষরিত লিখিত নোটিশ দ্বারা আহবান করিতে হইবে।
(৪) বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য ২ (দুই) জন সার্বক্ষণিক সদস্যসহ অন্যূন ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৫) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভার সভাপতি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।
(৬) বোর্ডের সকল সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যান কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সার্বক্ষণিক সদস্য উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৭) বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা কেবলমাত্র বোর্ডের কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে অবৈধ হইবে না এবং তদ্সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ১০. চুক্তি সম্পাদন
(১) বোর্ড এবং বোর্ড কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতাবলে কোন সমিতি উহার কার্যাবলী সম্পাদনের লক্ষ্যে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিদেশী সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) এইরূপ চুক্তি বোর্ডের পক্ষে চেয়ারম্যান অথবা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সার্বক্ষণিক সদস্য বা কর্মকর্তা অথবা বোর্ড কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতাবলে সমিতির কোন কর্মকর্তা স্বাক্ষর করিতে পারিবেন।
Section ১১. প্রতিবেদন
(১) প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্তির পর অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে বোর্ড তদ্কর্তৃক পূর্ববর্তী বৎসরে গৃহীত ও সম্পাদিত কার্যাবলীর একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত প্রতিবেদনে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহের উল্লেখ থাকিতে হইবে, যথা :-
(৩) সরকার, প্রয়োজনবোধে বোর্ডের নিকট হইতে যে কোন সময় বোর্ডের যে কোন কার্যক্রম বা বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী চাহিতে পারিবে এবং বোর্ড উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ১২. ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যে কোন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা দেশী বা বিদেশী যে কোন বৈধ উৎস হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
Section ১৩. বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত বিধানাবলী
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহাই থাকুক না কেন, বোর্ড-
Section ১৪. কতিপয় বিদ্যুৎ পদ্ধতির পরিচালনা, ইত্যা
এই আইন বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহাই থাকুক না কেন, কোন পল্লী এলাকায় বোর্ড কর্তৃক বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিচালন, বা বিতরণ পদ্ধতি স্থাপনের পর উক্ত পল্লী এলাকা পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের অন্তর্ভুক্ত হইলে অনুরূপ স্থাপিত পদ্ধতিতে বোর্ড কর্তৃক বিদ্যুৎ উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কার্য এইরূপে চলমান থাকিবে যেন উক্ত এলাকা পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের অন্তর্ভুক্ত হয় নাই।
Section ১৫. প্রবেশাধিকার
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে চেয়ারম্যান অথবা কোন সদস্য বা এতদুদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত বোর্ড বা সমিতির যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিম্নোক্ত কাজে যে কোন স্থল, ঘরবাড়ী বা অঙ্গনে প্রবেশ করিতে পারিবে, যথা :-
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কার্যসমূহ সম্পাদনের লক্ষ্যে কোন ভূমি, ঘরবাড়ী বা অঙ্গনের দখলদার বা মালিককে অন্যূন চবিবশ ঘন্টার নোটিশ প্রদান করিয়া যে কোন স্থান, ঘরবাড়ী বা অঙ্গনে সূর্যোদয়ের পর ও সূর্যাস্তের পূর্বে যে কোন সময় প্রবেশ করিতে এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যে কোন কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবেন।
Section ১৬. ভূগর্ভস্থ, ভূমিস্থ ও ভূউপরিস্থ কাঠামো স্থাপনের ক্ষমতা
বোর্ড বা সমিতি বিদ্যুৎ পরিচালন, বিতরণ ও পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য এবং এই আইনের অধীন উহার অন্যান্য কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য ভূগর্ভে, ভূমিতে ও ভূমির উপরে তার, খুঁটি, বন্ধনী, যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য কাঠামো স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ১৭. বোর্ড বা সমিতি, ইত্যাদির জন্য ভূমি অধিগ্রহণ
বোর্ডের কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য কোন জমি প্রয়োজন হইলে উহা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে উহার Acquisition and Requisition of Immovable Property Ordinance, 1982 (Ordinance No. II of 1982) এর বিধান মোতাবেক হুকুমদখল বা অধিগ্রহণ করা যাইবে।
Section ১৮. তহবিল
(১) বোর্ডের কার্য পরিচালনার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড তহবিল
নামে একটি নিজস্ব তহবিল থাকিবে এবং নিম্নবর্ণিত উৎসসমূহ হইতে প্রাপ্ত অর্থ উক্ত তহবিলে জমা হইবে, যথা :-
(২) বোর্ডের তহবিল বোর্ডের নামে যে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন করা যাইবে।
(৩) বোর্ডের চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীগণের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য পারিশ্রমিকসহ এই আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট কার্যাবলীর জন্য বোর্ড তহবিল হইতে অর্থ ব্যয় করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের নিয়মনীতি ও বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।
(৪) বোর্ডের তহবিল হইতে বোর্ডের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
(৫) বোর্ড উহার তহবিল সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা ‘তফসিলি ব্যাংক’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(P.O.No. 127 of 1972) এর Article 2(J) তে সংজ্ঞায়িত ”Schedule Bank”
Section ১৯. বাজেট
বোর্ড, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ বৎসরে, সরকারের নিকট হইতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট বিবরণী সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।
Section ২০. হিসাব ও নিরীক্ষা
(১) সরকার কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে বোর্ড উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং বোর্ড কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে সমিতি বা এই আইনের ধারা ৬(ট) এ উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান উহার হিসাব নিরীক্ষা করিবেন।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক হিসাবে উল্লিখিত, যেইরূপ পদ্ধতিতে উপযুক্ত মনে করিবেন সেইরূপ পদ্ধতিতে বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষিত হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও, Chartered Accountants Order, 1973 (P.O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1) (b) তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা প্রতি বৎসর বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষা করা হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে বোর্ড Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীনে নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা এতদুদ্দেশ্যে তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তি বোর্ডের সকল রেকর্ড, বই, দলিলপত্র, নগদ অর্থ, জামানত, ভান্ডার ও অন্যান্য সম্পত্তি পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং বোর্ডের চেয়ারম্যান অথবা যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৫) এই ধারার অধীন নিরীক্ষা সম্পাদনের পর যথাশীঘ্র সম্ভব মহা হিসাব-নিরীক্ষক তাহার নিরীক্ষা প্রতিবেদন বোর্ডে প্রেরণ করিবেন এবং বোর্ড অনধিক ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে মতামতসহ উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৬) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লিখিত ত্রুটি বা অনিয়মসমূহ দূরীকরণের জন্য বোর্ড তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(৭) বোর্ডের অধীন গঠিত ও নিবন্ধিত সমিতি, এসোসিয়েশন বা কোম্পানির যাবতীয় নিরীক্ষা কার্যাবলী বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
Section ২১. ট্যারিফ প্রস্তাব, ইত্যাদি
(১) বোর্ড, সময়ে সময়ে, সমিতির সদস্যগণের নিকট বিদ্যুৎ বিক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট ট্যারিফ প্রস্তাব পেশ করিবে।
(২) বোর্ড উপ-ধারা (১) এর অধীন ট্যারিফ প্রস্তাব পেশ করিবার সময় লক্ষ্য রাখিবে যে, উক্ত মূল্যহার দ্বারা সমিতিসমূহ বা অন্যান্য শাখাসমূহ যাহাতে ন্যূনতম অর্থায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্পদের অবচয়ের অর্থ আদায় করিতে পারে।
Section ২২. পাওনা অর্থ আদায়
এই আইনের অধীনে কোন ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে বোর্ড বা সমিতিসমূহের যে কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকিলে উহা সরকারি দাবি হিসাবে Public Demands Recovary Act, 1913 (Ben Act No. III of 1913) এর বিধান অনুসারে আদায়যোগ্য হইবে।
Section ২৩. উপদেষ্টা ও পরামর্শক নিয়োগ
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বোর্ড ইহার বিশেষ কোন কার্য সম্পাদনের নিমিত্ত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপদেষ্টা বা পরামর্শক হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ২৪. কর্মকর্তা এবং কর্মচারী নিয়োগ
(১) বোর্ড উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) বোর্ড, অন্য কোন সংস্থা হইতে প্রেষণে কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং অনুরূপভাবে ইহার নিজস্ব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অন্য সংস্থায় প্রেষণে প্রেরণ করিতে পারিবে।
Section ২৫. জনসেবক
চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ ””public servant” (জনসেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সে অর্থে public servant (জনসেবক) হিসাবে গণ্য হইবেন।
Section ২৬. ক্ষমতা অর্পণ
বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত ক্ষমতা, সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, বোর্ডের চেয়ারম্যান অথবা যে কোন সদস্য বা কর্মকর্তা অথবা সমিতির কোন কর্মকর্তাকে এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন বোর্ডের যে কোন দায়িত্ব পালন ও কর্তব্য সম্পাদনের ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ২৭. নির্দেশনা প্রদানের ক্ষমতা
সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সময় সময়, বোর্ডকে, উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে তদবিবেচনায় যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং বোর্ড উক্তরূপ সকল নির্দেশনা পালন করিবে।
Section ২৮. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২৯. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও তদ্ধীন প্রণীত বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৩০. জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস
বোর্ড, সমিতি বা এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে গঠিত অন্যান্য সংস্থা বা কোম্পানীর চাকুরী সরকারের জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস হিসেবে গণ্য হইবে।
Section ৩১. বোর্ড, ইত্যাদিকে দোকান, বাণিজ্যিক স্থাপনা, কারখানা, শিল্প ইত্যাদি হিসাবে ব্যাখ্যা না করা
আপাততঃ বলবৎ অন্যান্য আইনে যাহাই থাকুক না কেন, শ্রম আইন ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২নং আইন) অনুযায়ী বোর্ড, সমিতি বা এই আইনের ধারা ৬(ট) এ বর্ণিত কোন সংগঠন বা কোম্পানীকে দোকান, বাণিজ্যিক স্থাপনা, কারখানা, শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসাবে ব্যাখ্যা করা যাইবে না।
Section ৩২. অবসায়ন
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন সংক্রান্ত আইনের কোন বিধান বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, এবং সরকারের নির্দেশ বা সরকার যে পদ্ধতি নির্দেশ করিবে উহা ব্যতীত বোর্ড অবসায়ন করা যাইবে না।
Section ৩৩. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) এর আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে Rural Electrification Board Ordinance, 1977 (Ordinance No.LI of 1977), অত:পর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, রহিত হইবে।
(২) উক্ত আইন রহিত হওয়া সত্ত্বেও-
Section ৩৪. ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ, ইত্যাদি
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে। (২) এই আইনের বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।