পল্লী এলাকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঞ্চয় ও অর্জিত অর্থ লেন-দেন ও রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ ও অগ্রিম প্রদান এবং বিনিয়োগের জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক পতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু পল্লী এলাকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঞ্চয় ও অর্জিত অর্থ লেন-দেন ও রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ ও অগ্রিম প্রদান এবং বিনিয়োগের জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক নামে একটি বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন, ২০১৪ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘ঋণ’’ অর্থ ব্যাংক কর্তৃক কোন সমিতিকে বা সদস্যকে প্রদেয় অর্থ বা সম্পদ যাহা উক্ত সমিতি বা সদস্য ব্যাংকের অনুকূলে ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে;
(২) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;
(৩) ‘‘পরিচালক’’ অর্থ ব্যাংকের পরিচালক;
(৪) ‘‘পল্লী এলাকা’’ অর্থ শহর নহে এইরূপ যে কোন অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর কৃষিনির্ভর বা সামন্ত ব্যবস্থার ন্যায় পেশাজীবী লইয়া গড়িয়া উঠা জনপদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের অধীন গ্রাম বা ওয়ার্ড লইয়া গঠিত এলাকা যাহা পৌরসভা বা সেনানিবাস এলাকার অন্তর্ভুক্ত নহে;
(৫) ‘‘প্রকল্প’’ অর্থ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’;
(৬) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৭) ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংক’’ অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(P.O.No. 127 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংক;
(৮) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড;
(৯) ‘‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’’ অর্থ ধারা ১৩ এর অধীন নিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক;
(১০) ‘‘ব্যাংক’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক;
(১১) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১২) ‘‘সদস্য’’ অর্থ সমিতির সদস্য;
(১৩) ‘‘সমিতি’’ অর্থ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় গঠিত কোন সমিতি, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জ্যপূর্ণ অনুরূপ কোন সমিতিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(১) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এবং ব্যাংক কোম্পানী সংক্রান্ত আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের সুনির্দিষ্ট বিধানসমূহ এই ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করিতে পারিবে।
[(৩) এই আইনের অধীন ব্যাংকের সহিত নিবন্ধিত সমিতির ক্ষেত্রে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩২ নং আইন) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে না।]
(১) এই আইন বলবৎ হইবার পর, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যতশীঘ্র সম্ভব, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক নামে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ব্যাংক ইহার নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক আঞ্চলিক কার্যালয় ও ব্রাঞ্চ স্থাপন করিতে পারিবে।
(১) সমিতি ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার হইবে।
(২) বোর্ড, প্রয়োজন মনে করিলে, সমিতির ন্যায় অনুরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করে এইরূপ অন্য কোন সমিতিকে, উহা যেই নামেই অভিহিত হউক না কেন, সরকারের অনুমোদনক্রমে, ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন অনুমোদনপ্রাপ্ত কোন সমিতিকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে ব্যাংকের নিকট হইতে নিবন্ধন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পর, প্রকল্পের তালিকাভুক্ত সমিতি এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
[৬ক। (১) ধারা ৬ এর অধীন ব্যাংকের নিবন্ধিত শেয়ারহোল্ডার প্রত্যেক সমিতি হইবে স্বতন্ত্র আইনগত সত্ত্বাবিশিষ্ট একটি সংস্থা, এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং সমিতি ইহার নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(২) এই আইনের অধীন নিবন্ধিত সমিতির ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন, বার্ষিক সাধারণ সভা, সম্পত্তি ও তহবিল ব্যবস্থাপনা, নিরীক্ষা, পরিদর্শন, তদন্ত, বিরোধ নিষ্পত্তি, অবসায়ন ও বিলুপ্তি, বিশেষ অধিকার, সমিতির সদস্যগণের বিশেষ সুবিধা ও দায়-দায়িত্ব ও উহা বলবৎকরণ, বকেয়া অর্থ আদায়, প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা প্রদান এবং অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে। ]
ব্যাংক নিবন্ধিত শেয়ার হোল্ডার সমিতির একটি তালিকা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবে।
(১) ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হইবে এক হাজার কোটি টাকা।
(২) অনুমোদিত মূলধন প্রতিটি ১০০ (একশত) টাকার ১০ (দশ) কোটি সাধারণ শেয়ারে সমভাবে বিভক্ত হইবে।
(৩) ব্যাংক, সরকারের অনুমোদনক্রমে, সময়ে সময়ে, ইহার অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(১) ব্যাংকের পরিশোধিত শেয়ার মূলধন হইবে দুইশত কোটি টাকা, যাহার ৫১% সরকার কর্তৃক এবং ৪৯% সমিতি কর্তৃক পরিশোধ করা হইবে।
(২) ব্যাংক, সরকারের অনুমোদনক্রমে, সময়ে সময়ে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ব্যাংকের পরিশোধিত শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(৩) ঋণ গ্রহীতা শেয়ার হোল্ডার তাহার শেয়ার সমশ্রেণির অপর ঋণ গ্রহীতার নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবে।
(১) ব্যাংকের কার্যক্রম ও বিষয়াবলীর পরিচালনা সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং তত্ত্বাবধান পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(২) ব্যাংক উহার কার্যাদি সম্পাদনে জনস্বার্থের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।
(১) নিম্নবর্ণিত পরিচালক সমন্বয়ে বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (জ) এর অধীন পরিচালক নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দফা (ক) হইতে দফা (চ) এর অধীন পরিচালকগণ সমন্বয়ে বোর্ড গঠিত হইবে।
(১) বোর্ডের একজন চেয়ারম্যান থাকিবেন যিনি ধারা ১১ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) হইতে দফা (ঙ) এ বর্ণিত পরিচালকগণের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।
(২) চেয়ারম্যানের পদ শুন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে সরকার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যতীত, তদকর্তৃক মনোনীত কোন পরিচালককে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে।
(১) ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকিবেন।
(২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে, বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাবলী বিধি দ্বারা স্থিরীকৃত হইবেঃ
তবে শর্তে থাকে যে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অন্যান্য শর্তসাপেক্ষে অনধিক ৬৫ (পয়ষট্টি) বৎসর বয়স পর্যন্ত চাকুরীতে বহাল থাকিবেনঃ
আরও শর্ত থাকে যে, সরকার, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবার জন্য কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করিতে পারিবেঃ
আরও শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এই আইন কার্যকর হইবার ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে বিধি প্রণয়ন করিতে হইবে।
(৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(৪) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শুন্য পদে নূতন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, বোর্ড কর্তৃক মনোনীত ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তা অনধিক তিন মাসের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন।
(৫) ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ রোধকল্পে, আবশ্যকীয় হইলে, বাংলাদেশ ব্যাংক, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আদেশের মাধ্যমে উক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে।
(১) পরিচালকগণের কার্যকাল হইবে প্রতি মেয়াদে সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বৎসরঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যে কোন সময় কোন পরিচালককে তাহার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেঃ
আরও শর্ত থাকে যে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যতীত অন্য কোন পরিচালক একাদিক্রমে ২ (দুই) মেয়াদের অধিক উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিতে পারিবেন না।
(২) উপ-ধারা (১) অনুসারে কোন পরিচালক একাদিক্রমে ২ (দুই) মেয়াদে পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকিলে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ব্যাংকের পরিচালক পদে পুনঃনির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।
নির্বাচিত পরিচালকের পদে সাময়িক শূন্যতা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করা হইবে এবং যে ব্যক্তি উক্তরূপ শূন্যতা পূরণের জন্য নির্বাচিত হইবেন, তিনি তাহার পূর্বসূরীর অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য দায়িত্বে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনধিক ৩(তিন) মাস মেয়াদের জন্য কোন শূন্যতা পূরণের প্রয়োজন হইবে না।
শুধু বোর্ডে কোন শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না।
চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য পরিচালকগণ বোর্ড কর্তৃক অর্পিত বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ, কার্য সম্পাদন ও দায়িত্ব পালন করিবেন।
চেয়ারম্যান বা সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন পরিচালক সরকারের নিকট লিখিত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা নির্বাচিত পরিচালক চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার অথবা, ক্ষেত্রমত, চেয়ারম্যান কর্তৃক গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত কোন পদত্যাগ কার্যকর হইবে না।
(১) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) চেয়ারম্যান এবং এক-তৃতীয়াংশ পরিচালকের উপস্থিতিতে সভার কোরাম হইবে।
(৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যতীত বোর্ডের সভায় প্রত্যেক পরিচালকের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির একটি নির্ণায়ক বা দ্বিতীয় ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৪) যে বিষয়ে কোন পরিচালকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থ রহিয়াছে সেই বিষয়ে তিনি কোন ভোট প্রদান করিবেন না।
(৫) যদি কোন কারণে চেয়ারম্যান বোর্ডের সভায় উপস্থিত হইতে অসমর্থ হন, তাহা হইলে উপস্থিত পরিচালকগণ সভাপতিত্ব করিবার জন্য উপস্থিত পরিচালকগণের মধ্য হইতে একজনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করিতে পারিবেন।
বোর্ড উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় মনে করিলে এক বা একাধিক কমিটি গঠন এবং উহার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
ব্যাংকের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
ব্যাংক এই আইন দ্বারা বা ইহার অধীন অনুমোদিত ব্যবসা ব্যতিরেকে অন্য কোন ব্যবসা পরিচালনা বা তৎসংক্রান্ত লেনদেন করিবে না।
(১) ব্যাংক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, তদকর্তৃক অনুমোদিত হারে, সুদ সম্বলিত, বন্ড ও ডিবেঞ্চার ইস্যু ও বিক্রয় করিতে পারিবে।
(২) ব্যাংকের বন্ড ও ডিবেঞ্চার ইস্যুকালে সরকার কর্তৃক, সময় সময়, নির্দিষ্টকৃত সুদের হার উক্ত বন্ড ও ডিবেঞ্চারের আসল ও প্রদানকৃত সুদ সম্পর্কে নিশ্চয়তা প্রদান করা হইবে।
ব্যাংক সমিতি ও সদস্যগণকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য নির্ধারিত মেয়াদ এবং শর্ত সাপেক্ষে জামানতসহ বা ব্যতীত ঋণ প্রদান করিতে পারিবে।
ব্যাংক বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতকালে দেশে প্রচলিত বিধিবিধান ও হিসাবমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে জারীকৃত হিসাবমান অনুসরণ করিবে।
(১) Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P. O. No. 2 of 1973) এর মর্মানুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত অন্যূন দুইটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দ্বারা প্রতি বৎসর ব্যাংকের হিসাব নিরীক্ষিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত প্রত্যেক নিরীক্ষককে ব্যাংকের বার্ষিক স্থিতিপত্র ও অন্যান্য হিসাবের অনুলিপি প্রদান করা হইবে এবং তিনি তৎসম্পর্কিত হিসাব ও ভাউচারসহ উহা পরীক্ষা করিবেন এবং ব্যাংক কর্তৃক সংরক্ষিত সকল বইয়ের একটি তালিকা তাহাকে প্রদান করা হইবে এবং তিনি যুক্তিসংগত সময়ে ব্যাংকের হিসাবের বহি ও দলিল-দস্তাবেজ পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং উক্ত হিসাব সম্পর্কে ব্যাংকের যে কোন পরিচালক বা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৩) নিরীক্ষকগণ বার্ষিক স্থিতিপত্র ও হিসাব সম্পর্কে বোর্ডের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করিবেন এবং তাহারা তাহাদের রিপোর্টে অন্যান্য বিষয়ের সহিত আরও উল্লেখ করিবেন যে, তাহাদের মতে স্থিতিপত্রে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য রহিয়াছে কিনা এবং উহা ব্যাংকের অস্থাবর সম্পত্তির সত্য ও সঠিক চিত্র তুলিয়া ধরিবার জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হইয়াছে কিনা এবং যদি তাহারা ব্যাংকের নিকট কোন ব্যাখ্যা বা তথ্য চাহিয়া থাকেন তাহা হইলে উহা দেওয়া হইয়াছে কিনা এবং উহা সন্তোষজনক কিনা।
(৪) বোর্ড, যে কোন সময় শেয়ার হোল্ডারগণ এবং ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতাগণের স্বার্থ রক্ষার্থে ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাবলীর পর্যাপ্ততা সম্পর্কে বা ব্যাংকের বিষয়াবলী নিরীক্ষা পদ্ধতির পর্যাপ্ততা সম্পর্কে উহার নিকট প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নিরীক্ষকগণকে নির্দেশ, নিরীক্ষার পরিধি পরিবর্তন, নিরীক্ষার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনের জন্য নির্দেশ প্রদান বা ব্যাংকের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইলে অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে নিরীক্ষকগণ কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদ করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১) ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক রিটার্ন, প্রতিবেদন ও বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট পেশ করিবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক উক্তরূপ প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনান্তে কোন সংশোধনমূলক নির্দেশনা প্রদান করিলে তাহা ব্যাংক কর্তৃক অবশ্য পালনীয় হইবে।
(২) ব্যাংক, প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে, ধারা ২৬ এর অধীন নিরীক্ষকগণ কর্তৃক নিরীক্ষিত একটি হিসাব বিবরণীসহ উক্ত বৎসরের ব্যাংকের কার্যাবলীর বার্ষিক প্রতিবেদন সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট পেশ করিবে।
(৩) সরকার উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে এবং জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করিবে।
ব্যাংক একটি সংরক্ষিত তহবিল গঠন করিবে এবং উক্ত তহবিলে ব্যাংকের নীট বার্ষিক মুনাফা হইতে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ জমা হইবে।
ধারা ২৮ এর অধীন সংরক্ষিত তহবিলে জমাকৃত অর্থ বাদ দেওয়ার পর এবং কু-ঋণ ও সন্দেহজনক ঋণ, সম্পদের অবচয় এবং অন্যান্য ব্যাংক কর্তৃক রক্ষিত সঞ্চিতি বা সংস্থান রাখিবার পর ব্যাংকের অবশিষ্ট নীট বার্ষিক মুনাফা বোর্ড কর্তৃক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসাবে প্রদান করা হইবে।
(১) ব্যাংক, উহার দায়িত্ব ও কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে, তবে প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(১) ব্যাংকের সকল বকেয়া পাওনা ভূমি রাজস্ব হিসাবে আদায়যোগ্য হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, দেনাদার বা উক্ত পাওনা পরিশোধের জন্য দায়ী অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে ব্যাংক কর্তৃক ১৫ (পনের) দিনের নোটিশ প্রদান ব্যতীত এই ধরনের পাওনা উক্তরূপে আদায় করা যাইবে না।
(২) ব্যাংক উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নোটিশের মাধ্যমে দেনাদার বা পাওনা পরিশোধের জন্য দায়ী অন্য কোন ব্যক্তিকে এই মর্মে অবহিত করিবে যে, তিনি উক্ত নোটিশে নির্ধারিত কিস্তিতে পাওনা পরিশোধ করিতে পারিবেন এবং কোন কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হইবার ক্ষেত্রে তাহার নিকট পাওনা সমুদয় অর্থ আদায়ের জন্য ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(৩) ব্যাংকের পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে Public Demands Recovery Act, 1913(Ben.Act. III of 1913) প্রয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত Act এর section 7, 9, 10 and 13 এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে না এবং উক্ত Act এর section 6 এর অধীন জারীকৃত সার্টিফিকেটই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হইবে যে, উহাতে বর্ণিত অর্থ ব্যাংকের পাওনা রহিয়াছে।
(৪) কেবল ব্যাংকের পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে, ব্যাংক কর্তৃক মনোনীত আঞ্চলিক পর্যায়ের কর্মকর্তাকে বিশেষ বা সাধারণ আদেশ দ্বারা তাহার কর্তৃত্বাধীন এলাকায় Public Demands Recovery Act, 1913(Ben.Act. III of 1913) এর অধীন সার্টিফিকেট অফিসারের সকল ক্ষমতা প্রদান করা যাইবে।
বোর্ড ব্যাংকের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিশ্চিতকরণ এবং উহার দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনা সুবিধাজনক করিবার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ব্যাংকের কোন কর্মকর্তাকে শর্ত সাপেক্ষে উহার যে কোন দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারিবে।
(১) যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রার্থিত বা মঞ্জুরীকৃত কোন ঋণ বা সুবিধার জন্য ব্যাংককে প্রদত্ত কোন মালিকানা দলিল বা অন্য কোন দলিলে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবরণ প্রদান করেন অথবা জ্ঞাতসারে কোন মিথ্যা বিবরণ প্রদান করিতে বা বহাল থাকিতে দেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) যদি কোন ব্যক্তি ব্যাংকের লিখিত সম্মতি ব্যতীত কোন প্রসপেক্টাস বা বিজ্ঞাপনে বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের নাম ব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংকের নিকট এমন কোন কিছু হস্তান্তর না করেন বা করিতে ব্যর্থ হন যাহা তিনি এই আইনের অধীন হস্তান্তর করিতে বাধ্য, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ব্যাংকের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যাংকের কোন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ আমলে গ্রহণ করিবে না।
কোম্পানি অবসায়ন সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট আইনের কোন বিধান ব্যাংকের উপর প্রযোজ্য হইবে না এবং সরকারের আদেশ ও নির্দেশিত পদ্ধতি ব্যতীত ব্যাংক অবসায়িত হইবে না।
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এই আইন ও তদ্ধীন প্রণীত বিধিমালার সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে এই আইনের কোন বিধানে অস্পষ্টতার কারণে কোন জটিলতা বা অসুবিধা দেখা দিলে সরকার বিদ্যমান আইনও বিধি-বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া, স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের দিক-নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
(১) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা কোন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি বা অন্য কোন দলিলে যাহা কিছু থাকুক না কেন ব্যাংক স্থাপনের পর-
তবে শর্ত থাকে যে, বিদ্যমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যাংক উপযুক্ততা পুনঃযাচাই-বাছাই করতঃ উপযুক্ত পদে, শর্তে ও বেতনে নিযুক্ত করিতে পারিবে।
[(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত উপ-ধারার দফা (খ) এর অধীন সরকার কর্তৃক উক্ত প্রকল্প বিলুপ্ত হওয়ার পূর্ব মেয়াদ পর্যন্ত উক্ত প্রকল্পের জনবল, সম্পদ ও অন্যান্য বিষয়াদি, প্রকল্প ও ব্যাংকের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি অনুযায়ী আদান প্রদান বা স্থানান্তরের মাধ্যমে, ব্যাংকের প্রয়োজনে উহার কর্ম-সম্পাদনে ব্যবহার করা যাইবে।]