ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ আইন, ২০১৪
Investment Corporation of Bangladesh Ordinance, 1976 (Ordinance No. XL of 1976) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
Investment Corporation of Bangladesh Ordinance, 1976 (Ordinance No. XL of 1976) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ ও উৎসাহ প্রদান, পুঁজিবাজার উন্নয়ন, সঞ্চয় সংগ্রহ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে Investment Corporation of Bangladesh Ordinance, 1976 (Ordinance No. XL of 1976) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু, এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল, যথা :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন
(১) এই আইন ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ আইন, ২০১৪ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কর্পোরেশনের ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে, -
(০১) ‘‘অগ্রিম’’ অর্থ বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রদানযোগ্য ঋণ;
(০২) ‘‘আর্থিক বিবরণী’’ অর্থ অন্তর্বর্তীকালীন বা চূড়ান্ত স্থিতিপত্র, আয় বিবরণী বা লাভ ও লোকসান হিসাব, ইক্যুইটি পরিবর্তনের বিবরণী, নগদ প্রবাহ বিবরণী, টীকা ও অপরাপর বিবরণী ও ইহাদের উপর ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি;
(০৩) ‘‘উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক’’ অর্থ কর্পোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক;
(০৪) ‘‘কর্পোরেশন’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি);
(০৫) ‘‘কর্মচারি’’ অর্থে কর্পোরেশনের কোন কর্মচারি এবং কর্পোরেশনের কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(০৬) ‘‘কোম্পানি’’ অর্থে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর ধারা ২(ঘ) এ সংজ্ঞায়িত কোম্পানি এবং আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনের অধীন বাংলাদেশে স্থাপিত বা নিগমিত বিধিবদ্ধ কোন সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(০৭) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;
(০৮) ‘‘ডিবেঞ্চার’’ অর্থে ডিবেঞ্চারসমূহ ইস্যুর ক্ষেত্রে কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাংলাদেশে ইস্যুকৃত ডিবেঞ্চার এবং ডিবেঞ্চার স্টকও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(০৯) ‘‘ডিপোজিট এ্যাকাউন্ট’’ অর্থ বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত নগদ জমা হিসাব;
(১০) ‘‘পরিচালক’’ অর্থ কর্পোরেশনের পরিচালক;
(১১) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(১২) ‘‘বন্ড’’ অর্থ সরকার বা কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত যে কোন ধরনের বন্ড;
(১৩) ‘‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড’’ অর্থ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর অধীন বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থার ব্যবসায়িক দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করিয়া নিবন্ধিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড;
(১৪) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১৫) ‘‘বিনিয়োগ’’ অর্থ ইক্যুইটি বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ এবং অন্য কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ;
(১৬) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ কর্পোরেশনের পরিচালনা বোর্ড;
(১৭) ‘‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’’ অর্থে কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য সাময়িকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(১৮) ‘‘মহাব্যবস্থাপক’’ অর্থ কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক;
(১৯) ‘‘শেয়ার’’ অর্থ বাংলাদেশে নিবন্ধিত অথবা বাংলাদেশের বাহিরে নিবন্ধিত যে কোন জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধিত শেয়ার; এবং
(২০) ‘‘সিকিউরিটিজ’’ অর্থে,-
তবে শর্ত থাকে যে, উহাতে কোন মুদ্রা বা নোট, খসড়া, বিনিময়যোগ্য বিল বা ব্যাংক কর্তৃক গৃহীতব্য বা কোন নোট যাহার পরিপক্কতা (maturity)), বা নবায়নের মেয়াদ অতিরিক্ত সময় ব্যতিরেকে, বারো মাসের অধিক নহে, উহা অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
ব্যাখ্যা : এই আইনে ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বা অভিব্যক্তির সংজ্ঞা দেওয়া হয় নাই, সে সকল শব্দ বা অভিব্যক্তি Capital issues (Continuance of Control) Act, 1947 (XXIX of 1947), Securities and Exchange Ordinance, 1969 (XVII of 1969), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ১৫নং আইন) এবং কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এ যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে প্রযোজ্য হইবে।
Section ৩. আইনের প্রধান্য
আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. প্রতিষ্ঠা এবং নিগমিতকরণ
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সংগে সংগে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) নামে একটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হইবে।
(২) কর্পোরেশন একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর, উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং কর্পোরেশন ইহার নিজ নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(৩) ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪নং আইন) অনুসারে লাইসেন্স প্রাপ্তি সাপেক্ষে কর্পোরেশন একটি ব্যাংকিং কোম্পানি হিসাবে গণ্য হইবে।
Section ৫. প্রধান কার্যালয়, শাখা, ইত্যাদি
কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহা, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে আঞ্চলিক ও শাখা কার্যালয় এবং এজেন্সি স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ৬. পরিচালনা এবং তত্ত্বাবধান
কর্পোরেশনের ব্যবসা ও ব্যবসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা এবং সাধারণ তত্ত্বাবধান একটি বোর্ডের উপর ন্যস্ত হইবে এবং কর্পোরেশন যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য ও বিষয়াদি সম্পাদন করিতে পারিবে, উক্ত বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য ও বিষয়াদি সম্পাদন করিবে।
Section ৭. বোর্ড
(১) নিম্নবর্ণিত পরিচালকগণের সমন্বয়ে বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঙ) এর অধীন নির্বাচিত একজন পরিচালক ৩(তিন) বছর মেয়াদের জন্য স্ব-পদে বহাল থাকিবেন এবং তাহার উত্তরসূরী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করিবেন এবং তিনি পুনঃনির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(৩) নির্বাচিত পরিচালক পদের আকস্মিক শূন্যতা নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করা হইবে এবং উক্ত শূন্যতা পূরণের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি তাহার পূর্বসূরীর অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য স্ব-পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনধিক ৩(তিন) মাসের জন্য পদ শূন্য হইলে, উক্ত শূন্য পদ পূরণের প্রয়োজন হইবে না।
(৪) পরিচালকগণ বোর্ড কর্তৃক অর্পিত বা ন্যস্তকৃত ক্ষমতা প্রয়োগ, কার্যাবলী সম্পাদন এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিবেন।
Section ৮. ব্যবস্থাপনা পরিচালক
(১) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোর্ড কর্তৃক অর্পিত বা ন্যস্তকৃত ক্ষমতা প্রয়োগ, কার্যাবলী সম্পাদন এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিবেন।
Section ৯. পরিচালকগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা
(১) কোন ব্যক্তি পরিচালক হইবেন না বা পরিচালক থাকিবেন না, যিনি-
(২) যদি কোন ব্যক্তি নিজের নামে বা যে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন, উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামে কর্পোরেশনের কমপক্ষে ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অভিহিত মূল্যের দায়মুক্ত শেয়ার ধারণ না করেন, তাহা হইলে তিনি পরিচালক হিসাবে নির্বাচিত হইতে পারিবেন না বা পরিচালক হিসাবে নির্বাচনের যোগ্য বিবেচিত হইবেন না।
Section ১০. বোর্ডের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) বোর্ডের সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি ৩(তিন) মাসে বোর্ডের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, জরুরী প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের নোটিশে বোর্ডের সভা আহবান করা যাইবে।
(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং যদি কোন কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হয় অথবা চেয়ারম্যান বোর্ড সভায় উপস্থিত থাকিতে অক্ষম হন, তাহা হইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যতিত, উপস্থিত পরিচালকমন্ডলী দ্বারা মনোনীত একজন পরিচালক সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক পরিচালকের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে, চেয়ারম্যানের একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
(৫) কোন পরিচালক এমন কোন বিষয়ে ভোট প্রদান করিবেন না যাহাতে তাহার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থ জড়িত রহিয়াছে।
(৬) ৫(পাঁচ) জন পরিচালকের উপস্থিতিতে বোর্ডের সভায় কোরাম গঠিত হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৭) কেবল কোন পদের শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে কোন ত্রুটি অথবা পরিচালকগণের নিয়োগ বা যোগ্যতার কোন ক্রটির কারণে বোর্ডের কোন কাজ বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হইবে না।
Section ১১. নির্বাহী কমিটি
(১) এই আইনের অধীন বোর্ড ইহার কার্যাবলী সম্পাদনের সহযোগিতা প্রদানের নিমিত্ত অনধিক ৫(পাঁচ) জন পরিচালক সমন্বয়ে একটি নির্বাহী কিমিটি গঠন করিবে এবং উক্ত কমিটির চেয়ারম্যানও মনোনীত করিবে।
(২) নির্বাহী কমিটির সদস্যগণের মেয়াদ বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) নির্বাহী কমিটির সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৪) নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাহী কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) নির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে, সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বার্থ জড়িত রহিয়াছে বা উক্তরূপ স্বার্থ প্রকাশ করিতে বাধ্য রহিয়াছেন এমন কোন বিষয়ে কোন সদস্য ভোট প্রদান বা আলোচনায় অংশগ্রহণ করিবেন না।
(৬) উপস্থিত ৩ (তিন) সদস্যের কোরাম ব্যতিত নির্বাহী কমিটির সভায় কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।
Section ১২. কমিটি
ধারা ১১ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বোর্ড ইহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত, প্রয়োজনে, এক বা একাধিক কমিটি গঠন এবং উহার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
Section ১৩. উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, ইত্যাদি নিয়োগ
(১) সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, কর্পোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মহাব্যবস্থাপক নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্পোরেশন, ইহার কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর্পোরেশনের জন্য প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত সংখ্যক কর্মকর্তা, কর্মচারি, উপদেষ্টা, এজেন্ট এবং পরামর্শক নিয়োগ করিতে পারিবে।
Section ১৪. অধীনস্থ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ইত্যাদি নিয়োগ
(১) সরকার, তদ্কর্তৃক নির্ধারিত শর্তাধীনে, কোন অধীনস্থ কোম্পানির ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অধীনস্থ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে একজন মহাব্যবস্থাপক নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্পোরেশন, অধীনস্থ কোম্পানির অনুরোধের প্রেক্ষিতে কর্পোরেশন এবং অধীনস্থ কোম্পানির যৌথ সম্মতিতে প্রণীত শর্ত সাপেক্ষে, উক্ত অধীনস্থ কোম্পানিতে উহার যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারিকে প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে।
Section ১৫. সভায় উপস্থিতির জন্য সম্মানী প্রদান
বোর্ড সভা বা নির্বাহী কমিটির সভা বা অন্যান্য কমিটির সভায় উপস্থিতির জন্য পরিচালক বা সদস্যগণ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে সম্মানী প্রাপ্ত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বোর্ড, সরকারের অনুমোদনক্রমে, সম্মানীর হার নির্ধারণ করিতে পারিবে।
Section ১৬. বিশ্বস্ততা এবং গোপনীয়তার ঘোষণা
কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, নির্বাহী কমিটির সদস্য, কমিটির সদস্য, উপদেষ্টা, নিরীক্ষক, পরামর্শক, এজেন্ট, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মহাব্যবস্থাপকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারি দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে এই আইনের তফসিলে প্রদত্ত ফরমে বিশ্বস্ততা ও গোপনীয়তার ঘোষণা প্রদান করিবেন।
Section ১৭. কর্পোরেশনের ব্যবসা পরিচালনার ক্ষমতা
Securities and Exchange Ordinance, 1969, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এবং ডিপোজিটরি আইন, ১৯৯৯ এবং উল্লিখিত আইনসমূহের অধীন জারীকৃত বিধি-বিধান, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পালন সাপেক্ষে কর্পোরেশ নিম্নবর্ণিত ব্যবসা, লেনদেন এবং কার্য পরিচালনা করিতে পারিবে, যথা :-
ব্যাখ্যা: এই ধারায় ওভার দ্যা কাউন্টার অর্থ আনলিস্টেড বা ডিলিস্টেড সিকিউরিটিজসমূহ ক্রয় ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কাউন্টার সুবিধা প্রদান।
Section ১৮. অধীনস্থ কোম্পানি
(১) কর্পোরেশন সকল বা অধিকাংশ শেয়ার ধারণপূর্বক অধীনস্থ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং উহার উন্নয়ন করিতে পারিবে; উক্তরূপ অধীনস্থ কোম্পানিসমূহের পৃথক ও নিজস্ব পরিচালনা বোর্ড থাকিবে এবং কর্পোরেশন উহাদের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য পর্যালোচনা, কার্যাবলী তদারকী ও নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(২) ধারা ১৭ বা অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, Securities and Exchange Ordinance, 1969 (XVII of 1969), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ১৫ নং আইন), কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এবং ডিপোজিটরি আইন, ১৯৯৯ (১৯৯৯ সনের ৬নং আইন) এবং উল্লিখিত আইনসমূহের অধীন জারীকৃত বিধি বিধান পালন সাপেক্ষে এতদুদ্দেশ্যে স্থাপিত তিনটি পৃথক অধীনস্থ কোম্পানির যে কোন একটির দ্বারা নিম্নবর্ণিত প্রতিটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হইবে, যথা :-
তবে শর্ত থাকে যে,
Section ১৯. শেয়ার মূলধন
(১) কর্পোরেশনের অনুমোদিত শেয়ার মূলধন হইবে ১ (এক) হাজার কোটি টাকা যাহা প্রতিটি ১০ (দশ) টাকা মূল্যের ১০০ (একশত) কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, সময় সময়, অনুমোদিত শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(২) কর্পোরেশনের পরিশোধিত শেয়ার মূলধনের পরিমাণ ৪ (চার) শত ২১ (একুশ) কোটি ৮৭ (সাতাশি) লক্ষ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা যাহা সরকারের অনুমোদনক্রমে, সময় সময়, বৃদ্ধি করা যাইবে।
(৩) কর্পোরেশনের শেয়ার মূলধন নিম্নবর্ণিত হারে সংগৃহীত হইবে, যথা :-
ব্যাখ্যা : ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান’ অর্থ এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এইরূপ কোন আর্থিক এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বুঝাইবে যাহার অধিকাংশ শেয়ার সরকার কর্তৃক ধারণ করা হয়।
(৪) কর্পোরেশনের শেয়ারসমূহ স্টক এক্সচেঞ্জসমূহে তালিকাভুক্ত হইবে।
Section ২০. কতিপয় শেয়ার সিকিউরিটিজ হিসাবে গণ্য হওয়া
কর্পোরেশনের শেয়ারসমূহ Trusts Act, 1882 (Act No. II of 1882) এর অধীন বিধৃত সিকিউরিটিজের অন্তর্ভুক্ত এবং Securities and Exchange Ordinance, 1969 (XVII of 1969), ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এবং বীমা আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ১৩ নং আইন) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অনুমোদিত সিকিউরিটিজ বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ২১. স্থানীয় বা বিদেশী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সহিত চুক্তি, ইত্যাদি
কর্পোরেশন আইনের ধারা ২৭ এর উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইহার যে কোন কার্য সম্পাদন বা ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় বা বিদেশী যে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সহিত যে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হইতে পারিবে।
Section ২২. শেয়ারের নম্বর
কর্পোরেশনের প্রত্যেকটি শেয়ারের একটি যথোপযুক্ত নম্বর থাকিবে এবং এই নম্বর দ্বারা শেয়ারগুলিকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা যাইবে, তবে ডিমেটেরিয়েলাইজেশনকৃত শেয়ারের ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হইবে না।
ব্যাখ্যা : ডিমেটেরিয়েলাইজেশন অর্থ এমন একটি প্রক্রিয়া, যাহার মাধ্যমে উপযুক্ত সিকিউরিটিজ কোন কোম্পানির রেজিস্ট্রারের Central Depository Bangladesh Limited (CDBL) অংশে স্থানান্তরিত হয়।
Section ২৩. নিবন্ধন বহি সংরক্ষণ
কর্পোরেশন ইহার প্রধান কার্যালয়ে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য একটি নিবন্ধন বহি সংরক্ষণ করিবে।
Section ২৪. ট্রাস্ট সম্পর্কিত নোটিশ
কর্পোরেশন শেয়ারহোল্ডারদের নিবন্ধন বহিতে ব্যক্ত, অব্যক্ত বা গঠনমূলক কোন ট্রাস্টের নোটিশ লিপিবদ্ধ করিবে না বা এই ধরনের কোন নোটিশ গ্রহণে বাধ্য থাকিবে না।
Section ২৫. শেয়ারহোল্ডারদের যোগ্যতা
(১) কোন ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার হিসাবে নিবন্ধিত হইবার যোগ্য হইবেন না যদি তিনি কোন আইনের অধীন চুক্তি সম্পাদনে অযোগ্য হন।
(২) কোন ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার হিসাবে নিবন্ধিত হইবার পর যদি কোন সময় দেখা যায় যে, নিবন্ধনের সময় উক্ত ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার হিসাবে নিবন্ধিত হইবার অযোগ্য ছিলেন, তাহা হইলে তিনি, কোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের আদেশের অধীন তাহার শেয়ারসমূহ বিক্রয়ের উদ্দেশ্য ব্যতিত, শেয়ারহোল্ডারের কোন অধিকার প্রয়োগ করিতে পারিবেন না।
Section ২৬. বার্ষিক সাধারণ সভা
(১) কর্পোরেশনের শেয়ারহোল্ডারগণের বার্ষিক সাধারণ সভা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় এবং স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে, তবে তাহা কোনক্রমেই হিসাব বন্ধের ছয় মাস সময়ের পরে অনুষ্ঠিত হইবে না।
(২) কর্পোরেশন বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারগণের বিবেচনার জন্য ধারা ২৯ এর উপ-ধারা (৫) এর অধীন তাহাদেরকে সরবরাহকৃত বার্ষিক হিসাব বিবরণী ও প্রতিবেদন উপস্থাপন করিবে।
(৩) শেয়ারহোল্ডারগণের বিবেচনার যোগ্য এমন যে কোন বিষয় বিবেচনার নিমিত্ত, বোর্ড, সময় এবং স্থান নির্ধারণপূর্বক শেয়ারহোল্ডারগণের কোন বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবে।
(৪) শেয়ারহোল্ডারগণের সভায় প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডারের যোগদানের অধিকার থাকিবে, কিন্তু কোন শেয়ারহোল্ডারের ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে না, যদি না তিনি-
(৫) ভোট প্রদানের অধিকারী প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডার ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকিয়া হস্ত প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।
(৬) কোন নির্বাচনে প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডারের প্রতি ৫ (পাঁচ)টি শেয়ারের জন্য একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে উক্ত ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।
Section ২৭. তহবিল গঠন ও মুনাফা বণ্টন
(১) কর্পোরেশন একটি সংরক্ষিত তহবিল প্রতিষ্ঠা করিবে যাহাতে বার্ষিক নীট মুনাফা হইতে বোর্ড কর্তৃক প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত একটি অংশ জমা থাকিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত অংশ বাদ দেওয়ার পর এবং পরিসম্পদের অবচয় এবং বিনিয়োগ কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদেয় সুবিধাদি অথবা তাহাদের স্বার্থে প্রয়োজন বিবেচনা করা হয় এইরূপ অন্যান্য বিষয়ের খরচ মিটাইবার পর কর্পোরেশন বার্ষিক নীট মুনাফার উদ্বৃত্ত অংশ বোর্ডের অনুমোদনক্রমে লভ্যাংশ হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নীট মুনাফা নির্ধারণ, সংরক্ষিত তহবিলে জমার পরিমাণ নির্ধারণ, ঋণ পরিশোধ, উদ্বৃত্ত অংশ ঘোষণা, লভ্যাংশের পরিমাণ, শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বণ্টনের পদ্ধতিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ২৮. ঋণ গ্রহণ ক্ষমতা
(১) কর্পোরেশন ইহার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত উপায়ে ঋণ গ্রহণ এবং অর্থ সংগ্রহ করিতে পারিবে, যথা:-
(২) কর্পোরেশন বন্ড এবং ডিবেঞ্চার ইস্যুকালীন সরকার কর্তৃক ধার্য্যকৃত হারে আসল এবং সুদের পুনঃপরিশোধ নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত সরকার কর্তৃক উল্লিখিত বন্ড এবং ডিবেঞ্চারের গ্যারান্টি প্রদান করিতে পারিবে।
Section ২৯. নিরীক্ষা, ইত্যাদি
(১) কর্পোরেশন প্রতি অর্থ বৎসর যথাযথভাবে হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং উহার বার্ষিক আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) কর্পোরেশনের বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে অধীনস্থ কোম্পানি কর্তৃক নিয়োগকৃত বহিঃনিরীক্ষক দ্বারা নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং অধীনস্থ কোম্পানি সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত করিবে।
(৩) অন্যূন দুইজন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট অনধিক ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত ও পারিশ্রমিকে নিয়োগপ্রাপ্ত হইবেন এবং তাহারা নিরীক্ষক হিসাবে কর্পোরেশনের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষা করিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিযুক্ত প্রত্যেক নিরীক্ষককে কর্পোরেশনের বার্ষিক আর্থিক বিবরণীর একটি করিয়া কপি সরবরাহ করিতে হইবে এবং তিনি উহার সহিত সংশ্লিষ্ট হিসাব ও ভাউচার পরীক্ষা করিবেন এবং কর্পোরেশন কর্তৃক রক্ষিত সকল বহির তালিকা নিরীক্ষককে সরবরাহ করিতে হইবে এবং তাহাদের যুক্তিযুক্ত সময়ে কর্পোরেশনের বহি, হিসাব এবং অন্য কোন দলিলাদি পরীক্ষা করিবার অধিকার থাকিবে এবং উক্তরূপ হিসাব সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্পোরেশনের যে কোন পরিচালক বা কর্মকর্তাকে তাহারা জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৫) নিরীক্ষকগণ শেয়ারহোল্ডারগণকে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী অবহিত করিবেন এবং তাহাদের প্রদত্ত প্রতিবেদনে এই মর্মে বর্ণনা থাকিবে যে, আর্থিক বিবরণীতে সকল প্রয়োজনীয় বিষয় সন্নিবেশিত এবং যথাযথভাবে প্রস্তুতকৃত, ইহাতে কর্পোরেশনের যাবতীয় বিষয়াদির সত্য এবং সঠিক চিত্র প্রতিফলিত হইয়াছে এবং তাহারা বোর্ডের নিকট কোন ব্যাখ্যা অথবা তথ্য তলব করিয়া থাকিলে উহা প্রদান করা হইয়াছে কি না এবং উহা সন্তোষজনক কি না তাহা উল্লেখ থাকিবে।
(৬) নিরীক্ষকগণ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কাজের জন্য অনুসৃত পদ্ধতির পর্যাপ্ততা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংস্কারের সুপারিশ করিবেন।
(৭) সরকার, যে কোন সময়ে নিরীক্ষকগণকে শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের স্বার্থ রক্ষাকল্পে কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পর্যাপ্ততা অথবা কর্পোরেশনের বিষয়াদি নিরীক্ষাকালীন পদ্ধতির পর্যাপ্ততার বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং যে কোন সময়ে নিরীক্ষার পরিধি বিস্তার বা বৃদ্ধি করিতে পারিবে অথবা যদি জনস্বার্থে নিরীক্ষা কার্যে ভিন্নরূপ পদ্ধতি গ্রহণ বা অন্য কোনরূপ পরীক্ষা প্রয়োজন হয়, তাহা হইলে নিরীক্ষকগণকে উক্ত পদ্ধতি গ্রহণ বা পরীক্ষার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৮) কর্পোরেশন উহার বার্ষিক সাধারণ সভার অন্ততঃ ১৫ (পনের) দিন পূর্বে উক্ত অর্থ বৎসরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং উক্ত অর্থ বৎসরে কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন শেয়ারহোল্ডারগণের নিকট সরবরাহ করিবে।
(৯) উপ-ধারা (১) হইতে (৮) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, বাংলাদেশের মহা-হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক দ্বারা কর্পোরেশনের সকল হিসাব নিরীক্ষা করাইতে পারিবে।
Section ৩০. রিটার্ন
(১) কর্পোরেশন, সময় সময় সরকারের চাহিদা মোতাবেক, রিটার্ন, প্রতিবেদন এবং বিবরণী সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(২) কর্পোরেশন প্রতি অর্থ বৎসর শেষে যথাশীঘ্র সম্ভব ধারা ২৯ এর অধীন নিরীক্ষকগণ কর্তৃক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীসহ উক্ত বৎসরে কর্পোরেশনের কার্যক্রমের একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষিত হিসাব ও বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারি গেজেট এবং কর্পোরেশনের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করিতে হইবে।
Section ৩১. সম্মত সময়ের পূর্বে পাওনা আদায়ের ক্ষমতা
(১) কোন চুক্তির বিপরীত হওয়া সত্ত্বেও কর্পোরেশন কোন ব্যক্তিকে প্রদত্ত অগ্রিম অথবা কোন নির্দিষ্ট তারিখ বা তারিখসমূহে প্রদেয় কোন পাওনার ক্ষেত্রে প্রদত্ত অগ্রিম পরিশোধ অথবা সমুদয় অর্থ প্রদানের জন্য নোটিশ জারি করিতে পারিবে, যদি-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ জারির পর উক্ত সমুদয় অগ্রিম অথবা উপর্যুক্ত বিলম্বিত আর্থিক দায় অবিলম্বে প্রদেয় এবং আদায়যোগ্য হইবে।
(৩) ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধি সংক্রান্ত চুক্তিপত্রের বিধি-বিধান এবং এতদ্সংক্রান্ত বর্ণিত শর্ত সত্ত্বেও কোন কোম্পানির সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারের ধারক হিসাবে কর্পোরেশন ইহার নিযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা অধিগ্রহণ করিতে পারিবে, যদি বোর্ডের বিবেচনায় কোম্পানির বিষয়াদি সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত না হয় এবং প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মূলধন ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া থাকে।
Section ৩২. কর্পোরেশনের পাওনা আদায়
কর্পোরেশনের অনাদায়ী পাওনা Public Demand Recovery Act, 1913 (Bengal Act No. III of 1913) এর অধীন বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অনাদায়ী পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে কর্পোরেশন কর্তৃক দেনাদারকে ১৫ (পনের) দিনের নোটিশ প্রদান না করিয়া অনুরূপ অনাদায়ী পাওনা আদায় করা যাইবে না।
Section ৩৩. বিশেষ ক্ষমতা
সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত প্রচলিত আইনসমূহ পরিপালন সাপেক্ষে অবলেখন এবং কোন ইস্যু প্লেসমেন্টের জন্য কর্পোরেশনের কমিশন, ব্রোকারেজ, ফি, অন্যান্য চার্জ পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হইবে।
Section ৩৪. শর্ত আরোপের ক্ষমতা
এই আইনের অধীন যে কোন ব্যক্তির সহিত কোন ধরণের ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কর্পোরেশন প্রয়োজন বা সমীচীন মনে করিলে ইহার স্বার্থ সংরক্ষণসহ অবলেখনকৃত যে কোন ইস্যুর বিপরীতে বিক্রয়লব্ধ অর্থ গ্রহণ বা প্লেসমেন্ট গ্রহণ অথবা কর্পোরেশন ও উক্ত ব্যক্তির মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি মোতাবেক যে কোন প্রকার আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের ক্ষেত্রে যে কোন শর্ত আরোপ করিতে পারিবে।
Section ৩৫. কর ও শুল্ক হইতে অব্যাহতি
কর্পোরেশন সাধারণভাবে কর ও শুল্ক হইতে কোন অব্যাহতি পাইবে না, তবে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এ সংজ্ঞায়িত কোন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইহার আয়, মুনাফা এবং অর্জনের উপর যে কর সুবিধা, রেয়াত এবং অব্যাহতিসমূহ ভোগ করিয়া থাকে কর্পোরেশনও অনুরূপ সুবিধাদি ভোগ করিবে।
Section ৩৬. ক্ষমতা অর্পণ
(১) কর্পোরেশনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে এবং ইহার ব্যবসায়িক লেনদেন সহজতর করিবার জন্য বোর্ড প্রয়োজনীয় মনে করিলে এই আইনের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারণযোগ্য শর্ত ও সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে, যদি থাকে, উহার এইরূপ ক্ষমতা ও দায়িত্ব ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্পণ করিতে পারিবে।
(২) কর্পোরেশনের ব্যবসায়িক লেনদেন সহজতর করিবার উদ্দেশ্যে কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোর্ড কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত শর্ত ও সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে, যদি থাকে, প্রয়োজনে তাহার দৈনন্দিন দপ্তর পরিচালনা সংক্রান্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব কর্পোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক এবং অন্যান্য কর্মকর্তার উপর অর্পণ করিতে পারিবেন।
Section ৩৭. অপরাধ ও দণ্ড
(১) যদি কোন ব্যক্তি, কর্পোরেশনের লিখিত সম্মতি ব্যতিরেকে, কোন প্রসপেক্টাস বা বিজ্ঞাপনে কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করেন, তাহা হইলে উহা একটি অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ২(দুই) বৎসর কারাদণ্ড, অথবা ন্যূনতম ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক, উপদেষ্টা, নিরীক্ষক, কর্মকর্তা অথবা কর্মচারি গোপনীয়তা ও বিশ্বস্ততার ঘোষণা লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উহা একটি অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ২(দুই) বৎসর কারাদণ্ড, অথবা ন্যূনতম ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) কর্পোরেশনের পক্ষ হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ ব্যতিত এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ আদালত কর্তৃক আমলযোগ্য হইবে না।
Section ৩৮. কর্পোরেশনের অবসায়ন
কোম্পানি এবং ব্যাংকের অবসায়ন সংশ্লিষ্ট আইনের কোন বিধান কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না এবং এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত আইন ব্যতিরেকে কর্পোরেশনের অবসায়ন ঘটানো যাইবে না।
Section ৩৯. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৪০. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) বোর্ড, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এই আইনের বিধানাবলী বা বিধির সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রয়োজনীয় ও সমীচীন সকল বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) বিশেষতঃ এবং পূর্ববর্তী ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া নিম্নবর্ণিত বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন করা যাইবে, যথা :-
Section ৪১. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর, সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে।
(২) এই আইন এবং ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪২. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সংগে সংগে Investment Corporation of Bangladesh Ordinance, 1976 (Ordinance No. XL of 1976), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত হইবে।
(২) উক্ত Ordinance রহিত হইবার সংগে সংগে,-
(৩) উক্ত Ordinance রহিত হওয়া সত্ত্বেও উহার অধীন গঠিত বোর্ড, প্রণীত প্রবিধানমালা, জারীকৃত প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত আদেশ, নির্দেশ, অনুমোদন, সুপারিশ, গৃহীত সকল পরিকল্পনা বা কার্যক্রম, অনুমোদিত সকল বাজেট এবং কৃত সকল কাজকর্ম উক্তরূপ রহিতের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ থাকিলে এবং এই আইনের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে এই আইনের অনুরূপ বিধানের অধীন গঠিত, প্রণীত, জারীকৃত, প্রদত্ত, অনুমোদিত এবং কৃত বলিয়া গণ্য হইবে, এবং মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা এই আইনের অধীন রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে।