সমুদ্র বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ, গবেষণালব্ধ ফলাফলের প্রয়োগ এবং এতদ্সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিকরিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু সমুদ্র বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ, গবেষণালব্ধ ফলাফলের প্রয়োগ এবং এতদসংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু, এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেই তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।
*এস, আর, ও নং ২৫৭-আইন/২০১৫, তারিখ: ১৬ আগস্ট, ২০১৫ ইং দ্বারা ২৬ শ্রাবণ ১৪২২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১০ আগস্ট ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘ইনস্টিটিউট’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট;
(২) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৩) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ইনস্টিটিউট এর পরিচালনা বোর্ড;
(৪) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৫) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক;
(৬) ‘‘সদস্য’’ অর্থ বোর্ডের সদস্য; এবং
(৭) ‘‘সভাপতি’’ অর্থ বোর্ডের সভাপতি।
(১) এই আইন বলবৎ হইবার পর, সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (Bangladesh Oceanographic Research Institute) নামে একটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) ইনস্টিটিউট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে মামলা দায়ের করা যাইবে বা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় হইবে এবং ইনস্টিটিউট প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা স্থাপন করিতে পারিবে।
ইনস্টিটিউটের পরিচালনা ও প্রশাসনের দায়িত্ব একটি পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ইনস্টিটিউট যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ইনস্টিটিউটের একটি পরিচালনা বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সরকার কর্তৃক মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে, যে কোন সময় কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে উক্তরূপ মনোনীত কোন সদস্যকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে :
আরও শর্ত থাকে যে, কোন মনোনীত সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) প্রতি ০৩ (তিন) মাসে বোর্ডের অন্যূন একটি সভা করিতে হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৪) সভাপতি, ইনস্টিটিউটের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তদকর্তৃক মনোনীত কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেক সদস্যের একটি ভোট থাকিবে এবং সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটে সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে।
(৬) প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ, সদস্যদের নিকট প্রেরণ এবং পরবর্তী বোর্ড সভায় উপস্থাপন করিতে হইবে।
(৭) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ক্রটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদ্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
ইনস্টিটিউটের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) ভৌত সমুদ্রবিদ্যা (Physical Oceanography);
(২) ভূতাত্ত্বিক সমুদ্রবিদ্যা (Geological Oceanography);
(৩) রাসায়নিক সমুদ্রবিদ্যা (Chemical Oceanography);
(৪) জৈব সমুদ্রবিদ্যা (Biological Oceanography);
(৫) জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্র (Climate Change and the Ocean);
(৬) সমুদ্রবিদ্যা বিষয়ক অন্য যে কোন বিষয়।
(১) সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় সরকারি অথবা বেসরকারি যে কোন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে উক্ত প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব (Environment Impact Assessment) বিষয়ক রিপোর্ট প্রদান এবং উপকূলবর্তী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ;
(২) একটি আধুনিক Oceanographic Data Centre প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গবেষণালব্ধ তথ্য ও ফলাফল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ;
(৩) তৈল দূষণ ঝুঁকি নিরূপণ (Oil Spil risk Assessment) বিষয়ক রিপোর্ট প্রদান;
(১) ইনস্টিটিউটের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন।
(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) মহাপরিচালক ইনস্টিটিউটের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন, এবং তিনি-
ইনস্টিটিউট উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
ইনস্টিটিউট উহার দায়িত্ব পালনে উহাকে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট তহবিল নামে একটি তহবিল গঠিত হইবে।
(২) তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা :-
(৩) তহবিলের সকল অর্থ বোর্ডের অনুমোদনক্রমে কোন তফসিলি ব্যাংকে ইনস্টিটিউটের নামে রাখা হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করা হইবে।
ব্যাখ্যা।- ‘তফসিলি ব্যাংক’ অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(P.O. 127 of 1972) এর Article (2) (J) তে সংজ্ঞায়িত Schedule Bank ।
(৪) এই তহবিলের অর্থ হইতে সরকারের নিয়ম-নীতি বা বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।
(৫) তহবিলের অর্থ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
ইনস্টিটিউট প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ইনস্টিটিউটের কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহারও উল্লেখ থাকিবে।
মহাপরিচালক, প্রয়োজনবোধে এবং তদ্কর্তৃক নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, এই আইনের অধীন তাহার উপর অর্পিত যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব লিখিত আদেশ দ্বারা ইনস্টিটিউটের কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ইনস্টিটিউট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) ইনস্টিটিউট যথাযথভাবে হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর ইনস্টিটিউটের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও ইনস্টিটিউটের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ইনস্টিটিউটের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং ইনস্টিটিউটের কোন সদস্য বা যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে ইনস্টিটিউট তদ্কর্তৃক উক্ত অর্থ বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, ইনস্টিটিউটের নিকট হইতে যে কোন সময় ইনস্টিটিউটের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং ইনস্টিটিউট উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৩) সরকার যে কোন সময় ইনস্টিটিউটের কর্মকাণ্ড অথবা যে কোন প্রকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ইনস্টিটিউট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট শীর্ষক প্রকল্পের-