রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি কোম্পানী গঠন ও এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি কোম্পানী গঠন ও এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল, যথা:-
এই আইন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আইন, ২০১৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
(১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই অাইনে,-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সংজ্ঞায়িত হয় নাই এইরূপ কোন অভিব্যক্তি এই অধ্যাদেশে ব্যবহৃত হইয়া থাকিলে উহা ‘‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ১৯ নং আইন)’’ এ সংজ্ঞায়িত অভিব্যক্তির আলোকে সংজ্ঞায়িত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অাইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
(২) এই আইনে বর্ণিত হয় নাই কিন্তু অন্য কোন আইনে বর্ণিত কোম্পানী পরিচালনা সংক্রান্ত কোন বিধান, এই অাইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, প্রয়োগযোগ্য হইবে।
(৩) বাংলাদেশ এবং রাশিয়ান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে সম্পাদিত সহযোগিতা চুক্তি বা রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টসহ ভবিষ্যতে অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংশ্লিষ্ট সম্পাদিতব্য সহযোগিতা চুক্তি এবং/অথবা সম্পাদিত চুক্তির সংযোজন এবং/অথবা পরিমার্জন, এই অাইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহার ক্ষেত্রে এই অাইনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(৪) প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে ধারা ৪ (১) অনুসারে কোম্পানী গঠন এবং নিগমিতকরণের পর, ধারা ৭ এ উল্লিখিত কোন উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোম্পানী গঠনের পূর্বে সরকার কর্তৃক সম্পাদিত কোন এগ্রিমেন্ট বা চুক্তি বা অন্য কোন কিছু হইতে অর্জিত বা অর্পিত সকল অধিকার, দায়বদ্ধতা এবং বাধ্যবাধকতা কোম্পানী কর্তৃক অর্জিত বা অর্পিত হইয়াছে এবং ধারা ৪ (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, উক্ত অধিকার, দায়বদ্ধতা এবং বাধ্যবাধকতা কোম্পানীর বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) ধারা ৪ (১) এর অধীন কোম্পানী গঠন এবং নিগমিতকরণ না হওয়া পর্যন্ত, এই ধারার কোন কিছুই প্রকল্পের পরিচালনাকে বাধাগ্রস্থ করিবে না।
(১) এই অাইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী গঠন এবং নিগমিতকরণ করিবে।
(২) কোম্পানী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালন সংস্থা (Operating Organization) হিসাবে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করিবে।
(৩) কমিশন, রাশিয়ান ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তি ও ভবিষ্যতে সম্পাদিতব্য এতদসক্রান্ত অন্যান্য চুক্তি এবং সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী মালিক সংস্থা (Owner Organization) হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন ইহার সকল বা যে কোন দায়িত্ব, প্রয়োজনবোধে, কোম্পানীর নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।
(৪) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের তফসিল ১ এবং ২ এ উল্লিখিত চুক্তি এবং ভবিষ্যতে এতদসংক্রান্ত সম্পাদিতব্য চুক্তির আওতায় প্রকল্পের সকল সম্পত্তি, শেয়ার, অঙ্গীকার এবং দায়-দায়িত্ব কোম্পানীর নিকট হস্তান্তর করিবে।
কোম্পানীর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং প্রয়োজনবোধে, বোর্ডের অনুমোদনক্রমে, দেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাইবে।
(১) কোম্পানীর অনুমোদিত শেয়ার মূলধন এবং পরিশোধিত শেয়ার মূলধন, ইহার সংঘবিধি এবং সংঘস্মারক দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোম্পানী ইহার সকল বা যে কোন কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, স্থানীয় বা বিদেশী ব্যাংকসহ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উৎস হইতে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ঋণ গ্রহণ বা অনুদান সংগ্রহ করিতে পারিবে।
(১) কোম্পানী, প্রকল্পের অধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনার স্থান উন্নয়ন, নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, কমিশনিং, পরিচালনা ও ডিকমিশনিং এর জন্য দায়ী থাকিবে।
(২) কোম্পানী, যে কোন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প পরিচালনাকালীন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২, সংস্থার গাইডলাইন ও প্রমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রচলিত প্র্যাকটিস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ, নিউক্লীয় নিরাপত্তা, বিকিরণ সুরক্ষা, নিউক্লীয় সিকিউরিটি, জরুরি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিল্পসংক্রান্ত নিরাপত্তার যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করিবে।
(৩) কোম্পানী, সংস্থার গাইড লাইন এবং আন্তর্জাতিক প্রচলিত প্র্যাকটিস অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং দক্ষ পরিচালনার জন্য সার্বিকভাবে দায়ী থাকিবে।
(৪) কোম্পানী, নিউক্লীয় সিকিউরিটি এবং নিউক্লীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের নিমিত্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং উহা বাস্তবায়ন করিবে।
(৫) উপরি-উক্ত বিধানাবলির সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এবং এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোম্পানী নিম্নলিখিত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা:-
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি এবং প্রবিধান সাপেক্ষে, কোম্পানীর কার্যক্রম এবং ব্যবসা পরিচালনা এবং সাধারণ তত্ত্বাবধান বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কোম্পানী যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য ও বিষয়াদি সম্পাদন করিতে পারিবে, বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য ও বিষয়াদি সম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) বোর্ড, ইহার কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে, জনস্বার্থ এবং সাধারণভাবে নিরাপত্তাকে যথাযথ বিবেচনায় লইয়া সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশাবলি অনুসরণ করিবে।
(১) বোর্ড, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তাবলি সাপেক্ষে, একজন চেয়ারম্যান, একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যূন ৭ (সাত) জন ও অনধিক ১২ (বার) জন পরিচালক সমন্বয়ে গঠিত হইবে।
(২) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে, বোর্ডের চেয়ারম্যান হইবেন।
(৩) কমিশনের চেয়ারম্যান, পদাধিকারবলে, কোম্পানীর একজন পরিচালক হইবেন।
(৪) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কোম্পানীর প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক হইবেন।
(৫) কোন পদের শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে কোন ক্রুটির কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না।
(১) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী এবং সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন।
(২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য পরিচালকগণ বোর্ড কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত বা অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ, কার্যাবলি সম্পাদন এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিবেন।
(১) কোন ব্যক্তি পরিচালক হইবেন না বা পরিচালক থাকিবেন না, যদি তিনি-
(২) সরকার, চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা যে কোন পরিচালককে তাহার পদ হইতে, লিখিত আদেশ দ্বারা, অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি-
(১) বোর্ডের সভা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, চেয়ারম্যান উপযুক্ত মনে করিলে যে কোন সময় ও স্থানে সভা আহবান করিতে পারিবেন।
(২) কোম্পানীর মোট পরিচালকের অর্ধেকের পরবর্তী পূর্ণসংখ্যক পরিচালকের উপস্থিতিতে বোর্ডের সভায় কোরাম পূর্ণ হইবে।
(৩) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক পরিচালকের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভার সভাপতির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
(৪) যদি কোন কারণে চেয়ারম্যান বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিতে অক্ষম হন তাহা হইলে চেয়ারম্যান কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত কোন পরিচালক সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং এইরূপ পূর্ব মনোনীত কোন পরিচালক না থাকিলে উপস্থিত পরিচালকগণ দ্বারা মনোনীত কোন পরিচালক সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) বোর্ড সভায় কোম্পানীর কোন বিষয়ে কোন পরিচালকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যক্তি স্বার্থ জড়িত থাকিলে তিনি ভোটদানে বিরত থাকিবেন।
বোর্ড উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত প্রয়োজনে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
কোম্পানী উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা, পরামর্শক, উপদেষ্টা, নিরীক্ষক এবং কর্মচারি নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
বোর্ড, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, আদেশে নির্ধারিত ইহার যে কোন ক্ষমতা, উক্ত আদেশে নির্ধারিত পরিস্থিতিতে ও শর্তাধীনে, যদি থাকে, চেয়ারম্যান বা অন্য কোন নির্ধারিত পরিচালক বা কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
কোম্পানী যে কোন তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলিতে এবং পরিচালনা করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা।- ‘‘তফসিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(P.O 127 of 1972) এর Article 2 (j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।
কোম্পানী উহার মূলধন সরকার কর্তৃক অনুমোদিত শেয়ার, সিকিউরিটিতে বা অন্য কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
কোম্পানী, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, উহার ধারণকৃত যে কোন শেয়ার অন্য কোন কোম্পানীর নিকট সমর্পণ করিতে পারিবে।
(১) কোম্পানী, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বা সরকার কর্তৃক উহাকে প্রদত্ত কোন সাধারণ কর্তৃত্বের শর্তানুযায়ী-
(২) সরকার তৎকর্তৃক উপযুক্ত পদ্ধতি এবং শর্তে কোম্পানী কর্তৃক ইস্যুকৃত কোন বন্ড, ডিবেঞ্চার বা ডিবেঞ্চার-স্টক এবং উহার সুদের পুনঃপরিশোধের জন্য গ্যারান্টি প্রদান করিতে পারিবে।
(১) কোম্পানী হিসাব সংক্রান্ত নীতিমালা, প্রতিষ্ঠিত প্রথা এবং সরকার অথবা মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক কর্তৃক ইস্যুকৃত সাধারণ নির্দেশাবলি যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক নির্ধারিত ফরমে ইহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং মুনাফা ও ক্ষতির হিসাব এবং ব্যালান্স শীটসহ উহার হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) সরকার কর্তৃক নিযুক্ত Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P.O. No. 2 of 1973) এ সংজ্ঞায়িত কোন চার্টার্ড একাউনটেন্ট অথবা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কোন নিরীক্ষক দ্বারা কোম্পানীর হিসাব নিরীক্ষা করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত প্রত্যেক নিরীক্ষককে কোম্পানীর বার্ষিক আর্থিক বিবরণীর একটি করিয়া কপি সরবরাহ করিতে হইবে এবং তিনি উহার সহিত সংশ্লিষ্ট হিসাব ও ভাউচার পরীক্ষা করিবেন এবং কোম্পানী কর্তৃক রক্ষিত সকল বহির তালিকা নিরীক্ষককে সরবরাহ করিতে হইবে এবং নিরীক্ষক যুক্তিযুক্ত সময়ে কোম্পানীর বহি, হিসাব এবং অন্য কোন দলিলাদি পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ হিসাব সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোম্পানীর যে কোন পরিচালক বা কর্মকর্তাকে নিরীক্ষক জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৪) নিরীক্ষক শেয়ারহোল্ডারগণকে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী অবহিত করিবেন এবং নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে এই মর্মে বর্ণনা থাকিবে যে, আর্থিক বিবরণীতে সকল প্রয়োজনীয় বিষয় সন্নিবেশিত এবং যথাযথভাবে প্রস্তুতকৃত, ইহাতে কোম্পানীর যাবতীয় বিষয়াদির সত্য এবং সঠিক চিত্র প্রতিফলিত হইয়াছে এবং নিরীক্ষক বোর্ডের নিকট কোন ব্যাখ্যা অথবা তথ্য তলব করিয়া থাকিলে উহা প্রদান করা হইয়াছে কি না এবং উহা সন্তোষজনক কি না তাহা উল্লেখ করিবে।
(৫) সরকার, যে কোন সময়ে নিরীক্ষককে শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের স্বার্থ রক্ষাকল্পে কোম্পানী কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পর্যাপ্ততা অথবা কোম্পানীর বিষয়াদি নিরীক্ষাকালীন পদ্ধতির পর্যাপ্ততার বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১) কোম্পানী, সময় সময়, সরকারের চাহিদা মোতাবেক, রিটার্ন, প্রতিবেদন এবং বিবরণী সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(২) কোম্পানী প্রতি অর্থ বৎসরের শেষে যথাশীঘ্র সম্ভব নিরীক্ষক কর্তৃক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীসহ উক্ত বৎসরে কোম্পানীর কার্যক্রমের একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
কোম্পানী প্রত্যেক অর্থ-বৎসর আরম্ভ হইবার পূর্বে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট দাখিল করিবে, যথা:-
(১) কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডারগণের বার্ষিক সাধারণ সভা বোর্ড কর্তৃক কোম্পানীর সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসারে নির্ধারিত স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) শেয়ারহোল্ডারগণের অন্য কোন সাধারণ সভা কোম্পানীর সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসারে আহবান করা যাইবে।
(৩) বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডারগণ বার্ষিক হিসাব, কোম্পানীর কার্যক্রমের উপর বোর্ডের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং বার্ষিক ব্যালান্স শীট ও হিসাবের উপর নিরীক্ষকের প্রতিবেদন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বোর্ডের নিকট সুপারিশ করিবার অধিকারী হইবেন।
কোম্পানী, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, একটি সংরক্ষিত তহবিল প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক ও অন্যান্য পরিচালক, উপদেষ্টা, কর্মকর্তা বা কর্মচারিগণ এই অাইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী কার্য করিবার ক্ষেত্রে Penal Code, 1860 (Act XLVof 1860) এর section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে public servant বলিয়া গণ্য হইবেন।
(১) কোম্পানী কর্তৃক, বা ইহার চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক বা অন্য কোন পরিচালক কর্তৃক সরল বিশ্বাসে তাহার কর্তব্য পালনকালীন কৃত সকল ক্ষতি এবং ব্যয়ের জন্য চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক ও অন্যান্য পরিচালকগণ কোম্পানী, বা ক্ষেত্রমত, সরকার কর্তৃক দায়মুক্তি পাইবে, যদি না উক্ত ক্ষতি বা ব্যয় তাহাদের ইচ্ছাকৃত কার্য বা অবহেলার কারণে সংঘটিত হইয়া থাকে।
(২) চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক এবং/বা অন্য কোন পরিচালক ব্যক্তিগতভাবে, কোম্পানী এবং/বা প্রকল্পের অধীন কর্মরত অন্য কোন পরিচালক বা কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক কৃত কোন কার্যের ফলে কোম্পানী এবং/বা প্রকল্পের পক্ষে গৃহীত কোন সম্পত্তি বা অর্জিত জামানতের অপর্যাপ্ততা বা স্বল্পতার কারণে কোম্পানী এবং/বা প্রকল্প বা অন্য কারো কোন ক্ষতি বা ব্যয়ের জন্য দায়ী থাকিবেন না।
এই আইন প্রবর্তনের পূর্বে বা সময় বা পরবর্তীতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার বিষয়ে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজকর্মের জন্য সরকার, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক, অন্য কোন পরিচালক, পরামর্শক, উপদেষ্টা, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।
এই অাইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোম্পানীর কোন ভূমি প্রয়োজন হইলে উহা জনস্বার্থে প্রয়োজন বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে উহা Acquisition and Requisition of Immovable Property Ordinance, 1982 (Ordinance No. II of 1982) এর বিধান মোতাবেক অধিগ্রহণ করা যাইবে।
(২) কোম্পানী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট অধিগ্রহণকৃত কোন ভূমি ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে, এতদসংক্রান্ত আইন, বিধিমালা, নীতিমালা বা নির্দেশিকা অনুসরণে অস্থায়ী ভিত্তিতে ইজারা প্রদান করা যাইবে।
কোম্পানী বা কর্পোরেশনের অবসায়ন সংক্রান্ত আইনের কোন বিধান এই কোম্পানীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ এবং নির্দেশিত পদ্ধতি ব্যতিরেকে কোম্পানীর অবসায়ন ঘটানো যাইবে না।
এই অাইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এই অাইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তফসিলে কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত বা কর্তন বা উহাতে অন্তর্ভুক্ত কোন বিষয়ের বর্ণনা পরিবর্তনের নিমিত্ত তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।
(১) ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অধ্যাদেশ, ২০১৫’ (২০১৫ সনের ১নং অধ্যাদেশ), অত:পর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উক্ত অধ্যাদেশ রহিত হইবার সংগে সংগে-
(৩) সরকার, এই আইন প্রবর্তনের পূর্বে তফসিল ১ ও ২ এ উল্লিখিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় কৃত সকল কার্যক্রমের বিষয়ে তৎকর্তৃক প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত যে কোন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত আদেশ এই আইনের অধীন প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।