দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মান এবং সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের নিমিত্ত রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মান এবং সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের নিমিত্ত রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল : -
(১) এই আইন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থি কিছু না থাকিলে, এই আইনে -
(১) ‘‘অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ বা ইনস্টিটিউট’’ অর্থ এই আইন, সংবিধি এবং বিধির বিধান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত এবং অধিভুক্ত কোন মেডিকেল কলেজ বা ইনস্টিটিউট;
(২) ‘‘অনুষদ’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন অনুষদ;
(৩) ‘‘ইনস্টিটিউট’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত বা স্থাপিত কোন ইনস্টিটিউট;
(৪) ‘‘একাডেমিক কাউন্সিল’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল;
(৫) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ;
(৬) ‘‘কর্মকর্তা’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্মকর্তা;
(৭) ‘‘কর্মচারী’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্মচারী;
(৮) ‘‘কোষাধ্যক্ষ’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ;
(৯) ‘‘চ্যান্সেলর’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর;
(১০) ‘‘ডিন’’ অর্থ কোন অনুষদের ডিন;
(১১) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(১২) ‘‘প্রভোস্ট’’ অর্থ কোন শিক্ষার্থীনিবাসের প্রধান;
(১৩) ‘‘প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর;
(১৪) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১৫) ‘‘বিভাগ’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগ;
(১৬) ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন স্থাপিত রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়;
(১৭) ‘‘ভাইস-চ্যান্সেলর’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর;
(১৮) ‘‘মঞ্জুরী কমিশন’’ অর্থ University Grants Commission of Bangladesh Order, 1973(President”s Order No. 10 of 1973) এর অধীন গঠিত University Grants Commission of Bangladesh;
(১৯) ‘‘মঞ্জুরী কমিশন আদেশ’’ অর্থ University Grants Commission of Bangladesh Order, 1973(President”s Order No. 10 of 1973);
(২০) ‘‘রেজিস্ট্রার’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার;
(২১) ‘‘শিক্ষক’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক শিক্ষক হিসাবে স্বীকৃত কোন ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(২২) ‘‘শিক্ষার্থীনিবাস’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘবদ্ধ জীবন এবং সহশিক্ষাক্রমিক শিক্ষাদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণাধীন শিক্ষার্থীনিবাস;
(২৩) ‘‘সিন্ডিকেট’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট;
(২৪) ‘‘সংবিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত সংবিধি;
(২৫) ‘‘সংস্থা’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সংস্থা।
আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী রাজশাহী মহানগরীতে অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন স্থানে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবে।
(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল সমন্বয়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠিত হইবে।
(৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উক্ত নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে মামলা দায়ের করা যাইবে।
বিশ্ববিদ্যালয় এই আইন দ্বারা বা ইহার অধীনে প্রণীত বিধি, প্রবিধান ও সংবিধি দ্বারা অর্পিত সমুদয় ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে।
এই আইন এবং মঞ্জুরী কমিশন আদেশের বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথা :-
(১) চিকিৎসা শাস্ত্রের যে কোন বিষয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের, বিশেষ করিয়া, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে কোন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার ব্যবস্থা করা;
(২) নার্সিং এ স্নাতক অধ্যয়নের ব্যবস্থা করা;
(৩) বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ বা ইনস্টিটিউটের শিক্ষাদানের জন্য পাঠক্রম নির্ধারণ করা;
(৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠক্রমে অধ্যয়ন সম্পূর্ণ করিয়াছেন এবং সংবিধির শর্তানুযায়ী এবং সংবিধিতে বিধৃত পদ্ধতিতে গবেষণা কাজ সম্পূর্ণ করিয়াছেন এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও ডিগ্রি এবং অন্যান্য একাডেমিক সম্মান প্রদান করা;
(৫) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ বা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা;
(৬) সংবিধি অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে সম্মানসূচক ডিগ্রি বা অন্যান্য সম্মান প্রদান করা;
(৭) বিশ্ববিদ্যালয়ের বা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নহেন এমন ব্যক্তিদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত ডিপ্লোমা ও সনদপত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে বক্তৃতামালার আয়োজন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং তাহাদিগকে ডিপ্লোমা বা সনদপত্র প্রদান করা;
(৮) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় দেশে-বিদেশে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্তৃপক্ষের সহিত সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা ও যৌথ ডিগ্রি প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করা;
(৯) মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং প্রয়োজনীয় অন্য কোন গবেষক ও শিক্ষকের পদ সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত ব্যক্তিগণকে চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে সেই সকল পদে নিয়োগ প্রদান করা;
(১০) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্য শিক্ষার্থীনিবাস স্থাপন করা এবং উহা রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা;
(১১) মেধার স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ ফেলোশীপ, স্কলারশীপ, পদক ও অন্যান্য পুরস্কার প্রবর্তন করা;
(১২) শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নের জন্য একাডেমিক মিউজিয়াম, পরীক্ষাগার, কর্মশিবির এবং ইনস্টিটিউট স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা;
(১৩) শিক্ষা ও গবেষণার উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য পুস্তক ও জার্নাল প্রকাশ করা এবং তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা;
(১৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও একাডেমিক শৃঙ্খলা তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করা, পাঠক্রম সহায়ক কার্যক্রমের উন্নতি বর্ধন এবং তাহাদের স্বাস্থ্যের উৎকর্ষ সাধনের ব্যবস্থা করা;
(১৫) নির্ধারিত ফি দাবি ও আদায় করা;
(১৬) ধারা ৫১ এর বিধান সাপেক্ষে, কোন মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ বা ইনস্টিটিউটকে অধিযুক্ত করা অথবা উহাদের অধিভুক্তি বাতিল করা এবং বিদেশের যে কোন মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি প্রদান করা;
(১৭) সকল প্রকার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য চিকিৎসকদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা;
(১৮) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য মঞ্জুরী কমিশন ও সরকারের অনুমতিক্রমে দেশী বা বিদেশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে অনুদান, চাঁদা ও বৃত্তি গ্রহণ করা এবং ট্রাস্ট, ইত্যাদি গঠন করা;
(১৯) বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্যে অর্জনের জন্য কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া, চুক্তি বাস্তবায়ন করা, চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করা অথবা চুক্তি বাতিল করা;
(২০) শিক্ষাদান ও গবেষণা সংস্থা হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কার্য সম্পাদন করা।
যে কোন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এবং লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত থাকিবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সম্পর্কিত সকল স্বীকৃত শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত হইবে এবং পরীক্ষাগার বা কর্ম শিবিরের সকল বক্তৃতা ও কর্ম ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(২) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শিক্ষকগণ শিক্ষাদান পরিচালনা করিবেন।
(৩) সংবিধি ও বিধি অনুযায়ী শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি নির্ধারণ করা হইবে।
(৪) বিশ্ববিদ্যালয় পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কোন মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ বা ইনস্টিটিউট বা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিত শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করিতে পারিবে।
(১) মঞ্জুরী কমিশন এক বা একাধিক ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় ও উহার ভবন, গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার, যন্ত্রপাতি বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত পরীক্ষা, শিক্ষাদান এবং অন্যান্য কাজকর্ম পরিদর্শন করাইতে পারিবে এবং একই পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোন বিষয়ে তদন্ত করাইতে পারিবে।
(২) মঞ্জুরী কমিশন তদ্কর্তৃক অনুষ্ঠেয় প্রত্যেক পরিদর্শন বা তদন্তের অভিপ্রায় সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিস প্রদান করিবে এবং এইরূপ পরিদর্শন ও তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বের অধিকার থাকিবে।
(৩) মঞ্জুরী কমিশন উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পরিদর্শন বা তদন্ত সম্পর্কে উহার অভিমত অবহিত করিয়া তৎসম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে পরামর্শ দিবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থার প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঞ্জুরী কমিশনের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৪) বিশ্ববিদ্যালয়, মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত রেজিস্টার ও নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করিবে এবং কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিবেদন, পরিসংখ্যান এবং অন্যবিধ তথ্য সরবরাহ করিবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নরূপ কর্মকর্তা থাকিবে, যথা: -
(১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হইবেন।
(২) চ্যান্সেলর বা তদ্কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ডিগ্রি ও সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) চ্যান্সেলর এই আইন ও সংবিধি দ্বারা অর্পিত ক্ষমতার অধিকারী হইবেন।
(৪) সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানের প্রতিটি প্রস্তাবে চ্যান্সেলরের অনুমোদন থাকিতে হইবে।
(৫) চ্যান্সেলরের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হইবার মত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিতেছে, সেইক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখিবার স্বার্থে তিনি প্রয়োজনীয় আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং অনুরূপ আদেশ বা নির্দেশ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে এবং ভাইস-চ্যান্সেলর উক্ত আদেশ বা নির্দেশ কার্যকর করিবেন।
(১) চ্যান্সেলর, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণের মধ্য হইতে তদ্কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, অথবা চিকিৎসা শাস্ত্রে অধ্যাপনায় পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তিকে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ৪(চার) বৎসর মেয়াদের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি একাধিক্রমে ২(দুই) মেয়াদের অধিক ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ লাভ করিবেন না।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ভাইস-চ্যান্সেলর চ্যান্সেলরের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে, স্বপদে বহাল থাকিবেন।
(৩) ভাইস-চ্যান্সেলরের পদ শূন্য হইলে কিংবা ছুটি, অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে ভাইস-চ্যান্সেলর দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত, শূন্য পদে নব নিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা ভাইস-চ্যান্সেলর পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলরগণের মধ্যে যিনি কর্মে জ্যেষ্ঠতম তিনি ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক প্রধান একাডেমিক ও নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং পদাধিকারবলে সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হইবেন।
(২) ভাইস-চ্যান্সেলর তাঁহার দায়িত্ব পালনে চ্যান্সেলরের নিকট দায়ী থাকিবেন।
(৩) ভাইস-চ্যান্সেলর এই আইন, সংবিধি, বিধি এবং প্রবিধানের বিধানাবলী বিশ্বস্ততার সহিত পালন ও কার্যকর করিবেন এবং তদ্দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।
(৪) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার কোন সভায় উপস্থিত থাকিতে এবং উহার কার্যাবলিতে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তিনি উহার সদস্য না হইলে উহাতে কোন ভোট প্রদান করিতে পারিবেন না।
(৫) ভাইস-চ্যান্সেলর সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সভা আহবান করিবেন এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৬) এই আইন, সংবিধি, বিধি ও প্রবিধান অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে ভাইস-চ্যান্সেলর সিন্ডিকেটের নিকট দায়ী থাকিবেন।
(৭) ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রয়োজন মনে করিলে, তাঁহার কোন ক্ষমতা ও দায়িত্ব, সিন্ডিকেটের পূর্বানুমোদনক্রমে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
(৮) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বরখাস্ত বা সাময়িক বরখাস্ত এবং তাহাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করিবেন।
(৯) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপর ভাইস-চ্যান্সেলরের সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকিবে।
(১০) ভাইস-চ্যান্সেলর, সিন্ডিকেটের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোন শূন্য পদে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে অনধিক ৬(ছয়) মাসের জন্য, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক ব্যতীত অন্যান্য শিক্ষক এবং প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর ও কোষাধ্যক্ষ ব্যতীত অন্য কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবেন এবং, প্রয়োজনে, উক্তরূপ নিয়োগের মেয়াদ অনধিক ৬(ছয়) মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হয় নাই এমন কোন পদে উক্তরূপ কোন নিয়োগ করা যাইবে না:
আরো শর্ত থাকে যে, বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে নিয়োগ নিয়মিত করা না হইলে উক্ত মেয়াদ শেষে নিয়োগ বাতিল করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(১১) বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের বিবেচনায় তৎসম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইলে তিনি সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে সাধারণত যে কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিতেন, সেই কর্মকর্তা, কর্তৃপক্ষ বা সংস্থাকে, যথাশীঘ্র সম্ভব, গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করিবেন।
(১২) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সিদ্ধান্তের সহিত ভাইস-চ্যান্সেলর ঐক্যমত পোষণ না করিলে তিনি উক্ত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন স্থগিত রাখিয়া তাহার মতামতসহ সিদ্ধান্তটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার পরবর্তী নিয়মিত সভায় পুনর্বিবেচনার জন্য উক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট ফেরৎ পাঠাইতে পারিবেন এবং যদি উক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার পুনর্বিবেচনার পর ভাইস-চ্যান্সেলর উহার সহিত ঐক্যমত পোষণ না করেন, তাহা হইলে তিনি বিষয়টি সিদ্ধান্তের জন্য চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং এই ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
(১) চ্যান্সেলর, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে কর্মরত অধ্যাপকগণের মধ্য হইতে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য, অনধিক ২ (দুই) জন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর নিয়োগ করিবেন।
(২) প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর সংবিধি, বিধি এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) চ্যান্সেলর, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্ত ও মেয়াদের জন্য, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে কর্মরত একজন অধ্যাপককে অথবা সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন উপযু্ক্ত ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করিবেন।
(২) ছুটি, অসুস্থতা, বা অন্য কোন কারণে কোষাধ্যক্ষের পদ সাময়িকভাবে শূন্য হইলে, সিন্ডিকেট অবিলম্বে চ্যান্সেলরকে তৎসম্পর্কে অবহিত করিবেন এবং চ্যান্সেলর কোষাধ্যক্ষের কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন মনে করিবেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৩) কোষাধ্যক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের সার্বিক তত্ত্বাবধান করিবেন এবং ইহার অর্থ সংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে পরামর্শ দিবেন।
(৪) কোষাধ্যক্ষ, সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও বিনিয়োগ পরিচালনা করিবেন এবং তিনি বার্ষিক বাজেট ও হিসাব বিবরণী পেশ করিবার জন্য দায়ী থাকিবেন।
(৫) যে খাতের জন্য অর্থ মঞ্জুরী বা বরাদ্দ করা হইয়াছে, সেই খাতেই যেন উহা ব্যয় করা হয় তাহা দেখিবার জন্য কোষাধ্যক্ষ, সিন্ডিকেট প্রদত্ত ক্ষমতা সাপেক্ষে, দায়ী থাকিবেন।
(৬) কোষাধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অর্থ সংক্রান্ত সকল চুক্তিতে স্বাক্ষর করিবেন।
(৭) কোষাধ্যক্ষ সংবিধি, বিধি এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।
রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পরীক্ষা পরিচালনার সহিত সম্পর্কিত সকল বিষয়ের দায়িত্বে থাকিবেন এবং সংবিধি, বিধি এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল কর্মকর্তার নিয়োগ পদ্ধতি, দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে এই আইনের কোন বিধানে উল্লেখ নাই, সিন্ডিকেট, সংবিধি দ্বারা, সেই সকল কর্মকর্তার নিয়োগ পদ্ধতি এবং তাহাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারণ করিবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নরূপ কর্তৃপক্ষ থাকিবে, যথা:-
(১) নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠিত হইবে, যথা:―
(২) সিন্ডিকেটের যে কোন মনোনীত সদস্য মনোনয়নের তারিখ হইতে ২(দুই) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁহার স্থলাভিষিক্ত সদস্য কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি সদস্য পদে বহাল থাকিবেন :
আরও শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডিন, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য বা কোন এসোসিয়েশন বা ইউনিয়নের সভাপতি বা সদস্য বা সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে সিন্ডিকেটের সদস্য হইয়া থাকেন, তাহা হইলে তিনি যতদিন পর্যন্ত অনুরূপ শিক্ষক, ডিন, সভাপতি, সদস্য বা সরকারি কর্মকর্তা থাকিবেন, ততদিন পর্যন্ত সিন্ডিকেটের সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।
(৩) সিন্ডিকেটের মনোনীত কোন সদস্য একাধিক্রমে ২ (দুই) মেয়াদের বেশী মনোনীত হইতে পারিবেন না।
(১) সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্তৃপক্ষ হইবে এবং এই আইন ও মঞ্জুরী কমিশন আদেশের বিধান এবং ভাইস চ্যান্সেলরের উপর অর্পিত ক্ষমতা সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যাবলি, প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং সম্পত্তির উপর সিন্ডিকেটের সাধারণ ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে এবং এই আইন, সংবিধি, বিধি এবং প্রবিধানের বিধানসমূহ যথাযথভাবে পালিত হইতেছে কিনা, সেইদিকে লক্ষ্য রাখিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ণ না করিয়া, সিন্ডিকেট নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব পালন করিবে, যথা : -
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হইবে, যথা : -
(২) একাডেমিক কাউন্সিলের যে কোন মনোনীত সদস্য মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁহার স্থলাভিষিক্ত সদস্য কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি সদস্য পদে বহাল থাকিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, যে পদ বা প্রতিষ্ঠান হইতে তিনি মনোনীত হইয়াছিলেন সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে যদি না থাকেন, তাহা হইলে তিনি একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য পদেও থাকিতে পারিবেন না।
(১) একাডেমিক কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ হইবে।
(২) এই আইন, সংবিধি এবং বিধির বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় ও উহার আওতার মধ্যে সকল শিক্ষাদান এবং শিক্ষা ও পরীক্ষার মান বজায় রাখিবার বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিল দায়ী থাকিবে এবং এই সকল বিষয়ের উপর উহার নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করিবার ক্ষমতা থাকিবে।
(৩) একাডেমিক কাউন্সিল, এই আইন, মঞ্জুরী কমিশন আদেশ, সংবিধি এবং ভাইস চ্যান্সেলর ও সিন্ডিকেটের ক্ষমতা সাপেক্ষে, শিক্ষাক্রম ও পাঠক্রম এবং শিক্ষাদান, গবেষণা ও পরীক্ষার সঠিক মান নির্ধারণের জন্য প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(৪) ভাইস চ্যান্সেলর ও সিন্ডিকেটের উপর অর্পিত ক্ষমতা সাপেক্ষে, একাডেমিক কাউন্সিলের নিম্নরূপ ক্ষমতা থাকিবে, যথা : -
(৫) একাডেমিক কাউন্সিল সংবিধি দ্বারা অর্পিত অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নবর্ণিত অনুষদ থাকিবে, যথা: -
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অনুষদ ছাড়াও চিকিৎসা ও গবেষণা সংক্রান্ত অন্য যে কোন অনুষদ বিধি ও সংবিধির বিধান সাপেক্ষে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে গঠন করা যাইবে।
(৩) একাডেমিক কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, প্রত্যেক অনুষদ সংবিধি ও বিধি দ্বারা নির্দিষ্ট বিষয়ে অধ্যাপনা ও গবেষণা পরিচালনার দায়িত্বে থাকিবে।
(৪) অনুষদ গঠন এবং উহাদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধি ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৫) প্রত্যেক অনুষদের একজন করিয়া ডিন থাকিবে এবং তিনি ভাইস-চ্যান্সেলরের তত্ত্বাবধানে অনুষদ সম্পর্কিত সংবিধি, বিধি ও প্রবিধান যথাযথভাবে পালনের জন্য দায়ী থাকিবেন।
(৬) প্রত্যেক অনুষদের ডিন সংশ্লিষ্ট অনুষদের অন্তর্ভুক্ত সকল বিভাগের শিক্ষকদের দ্বারা নির্বাচিত হইবেন।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করা হয় এমন প্রত্যেকটি বিষয়কে এক একটি বিভাগ হিসাবে গণ্য করা হইবে।
(২) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকগণের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ৩ (তিন) বৎসরের জন্য একজন শিক্ষক বিভাগের প্রধান হইবেন এবং তিনি ভাইস-চ্যান্সেলর ও ডিন এর নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ তত্ত্বাবধান সাপেক্ষে, কার্যাবলির পরিকল্পনা ও সমন্বয় সাধনের জন্য দায়ী থাকিবেন।
প্রত্যেক অনুষদে সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পাঠক্রম কমিটি থাকিবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার জন্য একটি বোর্ড অব এ্যাডভান্স স্টাডিজ থাকিবে এবং উহা সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে গঠিত হইবে।
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে অর্থ কমিটি গঠিত হইবে, যথা: -
(২) অর্থ কমিটির মনোনীত সদস্যগণ ২ (দুই) বৎসরের জন্য সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁহার স্থলাভিষিক্ত সদস্য কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি সদস্য পদে বহাল থাকিবেন।
(৩) অর্থ কমিটি -
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি গঠিত হইবে, যথা: -
(২) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির যে কোন মনোনীত সদস্য মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁহার স্থলাভিষিক্ত সদস্য কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি সদস্য পদে বহাল থাকিবেন।
(৩) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করিবে এবং অনুমোদনের জন্য সিন্ডিকেটের নিকট পেশ করিবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য এক বা একাধিক নির্বাচনী বোর্ড থাকিবে।
(২) নির্বাচনী বোর্ডের গঠন ও কার্যাবলি সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) নির্বাচনী বোর্ডের সুপারিশের সহিত সিন্ডিকেট একমত না হইলে বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং সেই ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণা কর্মের নৈতিকতা নিরূপণ, মনিটরিং ও সম্পৃক্ত অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য একটি নৈতিকতা কমিটি থাকিবে।
(২) নৈতিকতা কমিটির গঠন ও কার্যাবলি সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিত সংযুক্ত হাসপাতালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হইবে, যথা: -
(২) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির যে কোন মনোনীত সদস্য মনোনয়নের তারিখ হইতে ২(দুই) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁহার স্থলাভিষিক্ত সদস্য কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি সদস্য পদে বহাল থাকিবেন।
(৩) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা: -
সংবিধি দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্তৃপক্ষ গঠন ও উহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা যাইবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শৃঙ্খলা বোর্ড থাকিবে।
(২) শৃঙ্খলা বোর্ডের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী সংবিধি বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ করা হইবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বেতনভোগী শিক্ষক ও কর্মকর্তা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে নিযুক্ত হইবেন, চুক্তিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের নিকট সংরক্ষিত থাকিবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে উহার একটি অনুলিপি প্রদান করা হইবে।
(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বেতনভোগী শিক্ষক বা কর্মকর্তা সংসদ-সদস্য হিসাবে বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিবার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরি হইতে ইস্তফা দিবেন।
(৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বেতনভোগী শিক্ষক বা কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তাহার কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ, নৈতিকস্খলন বা অদক্ষতার কারণে সংবিধি বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে চাকুরি হইতে অপসারণ বা পদচ্যুত করা অথবা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করা যাইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে কোন তদন্ত কমিটি কর্তৃক তদন্ত অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এবং তাহাকে ব্যক্তিগতভাবে বা কোন প্রতিনিধির মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়া চাকুরী হইতে অপসারণ বা পদচ্যুত করা অথবা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করা যাইবে না।
শিক্ষকদের দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী সংবিধি ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত শিক্ষার্থীনিবাস বা স্থানে এবং শর্তাধীনে বসবাস করিবে।
(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীনিবাস সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত ধরনের হইবে।
(৩) শিক্ষার্থীনিবাসের প্রভোস্ট, তত্ত্বাবধানকারী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ ও তাহাদের দায়িত্ব সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
অনুষদ পূর্ণ কমিটি বা সাব-কমিটি দ্বারা পাঠক্রম তৈরী করিবে এবং ইহা একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করিবে।
(১) এই আইন এবং সংবিধির বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রের যে কোন বিষয়ে স্নাতকোত্তর, নার্সিং এ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং অন্যান্য পাঠক্রমে শিক্ষার্থী ভর্তি, একাডেমিক কাউন্সিলের ভর্তি কমিটি কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা দ্বারা, পরিচালিত হইবে।
(২) বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত কোন মেডিকেল কলেজ অথবা সমপর্যায়ের কোন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হইতে স্নাতক পর্যায়ের কোন ডিগ্রি না থাকিলে কোন ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হইতে পারিবে না।
ভাইস চ্যান্সেলরের সাধারণ নিয়ন্ত্রণাধীনে পরীক্ষা-নিয়ন্ত্রক সংবিধি বা বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা পরিচালনার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(১) সংবিধি বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা গ্রহণ করা হইবে।
(২) পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য সংবিধি দ্বারা এক্রেডিটেশন কমিটি গঠন করা হইবে।
(১) রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা: -
(২) তহবিলের অর্থ সিন্ডিকেট কর্তৃক নির্ধারিত কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এই তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন করা যাইবে।
(৩) তহবিল হইতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
(৪) সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিলের অংশবিশেষ বিনিয়োগ করা যাইবে।
(৫) বিশ্ববিদ্যালয় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, ব্যক্তি বা এলামনাই এর নিকট হইতে প্রাপ্ত অনুদান দ্বারা ট্রাস্ট গঠন এবং ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৬) বিশ্ববিদ্যালয় কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে আলাদা তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিতে পারিবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন সিন্ডিকেটের নির্দেশানুসারে প্রস্তুত করিতে হইবে এবং পরবর্তী শিক্ষা বৎসর শেষ হইবার পূর্বেই উহা মঞ্জুরী কমিশনের নিকট পেশ করিতে হইবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক হিসাব ও ব্যালেন্স শীট সিন্ডিকেটের নির্দেশ অনুসারে প্রস্ত্তত করিতে হইবে এবং উহা মঞ্জুরী কমিশনের মনোনীত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিরীক্ষিত হইবে।
(২) বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অনুলিপি মঞ্জুরী কমিশনের নিকট পেশ করিতে হইবে।
এই আইন, সংবিধি বা বিধিতে এতদ্সম্পর্কিত বিধানের অবর্তমানে কোন ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষের সদস্য হইবার অধিকার সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে উহা চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরিত হইবে এবং এই ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।
এই আইন বা সংবিধি দ্বারা কোন কর্তৃপক্ষকে কমিটি গঠনের ক্ষমতা প্রদান করা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ, সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে, তদকর্তৃক স্থিরকৃত উহার কোন সদস্য এবং প্রয়োজনবোধে, অন্যান্য ব্যক্তি সমন্বয়ে উক্তরূপ কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষের কোন কার্য বা কার্যধারা কেবল উহার কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা উক্ত পদে নিযুক্তি, মনোনয়ন বা নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যর্থতা বা ত্রুটির কারণে অথবা উক্ত কর্তৃপক্ষের গঠনের বিষয়ে অন্য কোন ত্রুটির কারণে অবৈধ হইবে না কিংবা তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
এই আইন বা সংবিধিতে বিশেষভাবে বিধৃত হয় নাই এইরূপ কোন বিষয় বা চুক্তি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় এবং উহার কোন শিক্ষক বা কর্মকর্তার মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে, শিক্ষক বা কর্মকর্তার অনুরোধে ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক চ্যান্সেলরের নিকট বিরোধীয় উক্ত বিষয়টি সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করিতে হইবে এবং এই ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি এবং শর্ত সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় উহার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীর কল্যাণার্থে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, অবসরভাতা, যৌথ বীমা, কল্যাণ তহবিল বা ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে অথবা আনুতোষিক বা গ্রাচ্যুইটি প্রদানের ব্যবস্থা করিতে পারিবে।
(১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন বা আইনগত দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Rajshahi University Act, 1973 (Act No. XXVI of 1973) এর অধীন স্থাপিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ বা ইনস্টিটিউট বা অন্য কোন মেডিকেল প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, সরকার কর্তৃক ভিন্নরূপ কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত না হইলে, রাজশাহী বিভাগ, খুলনা বিভাগ ও রংপুর বিভাগের আওতাধীন সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ বা ইনস্টিটিউট বা অন্য কোন মেডিকেল প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হইবে।
এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, সিন্ডিকেট, চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে, সংবিধি দ্বারা নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে বিধান করিতে পারিবে, যথা:-
(১) এই আইন ও সংবিধির বিধান সাপেক্ষে, বিধি দ্বারা নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা: -
(২) সিন্ডিকেট, মঞ্জুরী কমিশনের সুপারিশক্রমে এবং চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বিধি প্রণয়ন করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ ব্যতীত বিধি প্রণয়ন করা যাইবে না, যথা:
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংস্থা নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যে এই আইন, সংবিধি ও বিধির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা: -
(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা উহার সভার তারিখ এবং বিবেচ্য বিষয় সম্পর্কে উক্ত কর্তৃপক্ষের বা সংস্থার সদস্যগণকে নোটিস প্রদান করিবার জন্য এবং সভার কার্যবিবরণীর রেকর্ড রাখিবার জন্য প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(৩) সিন্ডিকেট এই ধারার অধীন প্রণীত কোন প্রবিধান তৎকর্তৃক নির্দেশিত মতে সংশোধন করিবার বা বাতিল করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে;
তবে শর্ত থাকে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা অনুরূপ নির্দেশে অসন্তুষ্ট হইলে চ্যান্সেলরের নিকট আপীল করিতে পারিবে এবং এই ব্যাপারে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভর যোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।