বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর আইন, ২০১৬
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর গঠন ও তদ্সম্পর্কিত বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর গঠন ও তদ্সম্পর্কিত বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর গঠন ও তদ্সম্পর্কিত বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু, এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল, যথা:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর আইন, ২০১৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
(৩) ইহার প্রয়োগ সমগ্র বাংলাদেশে হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১)‘‘অধিদপ্তর’’ অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অধিদপ্তর;
(২)‘‘ইউনিট’’ অর্থ ধারা ১৩ এর অধীন গঠিত কোন ইউনিট;
(৩)‘‘উপদেষ্টা কমিটি’’ অর্থ ধারা ১২ এর অধীন গঠিত উপদেষ্টা কমিটি;
(৪)‘‘কর্মচারী’’ অর্থ অধিদপ্তর বা কোরের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন স্থায়ী পদে নিযুক্ত কোন কর্মচারী;
(৫)‘‘কোর’’ (Corps) অর্থ ধারা ৩ এর অধীন গঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর;
(৬)‘‘ক্যাডেট’’ অর্থ ধারা ১৫ এর অধীন তালিকাভুক্ত কোন শিক্ষার্থী;
(৭)‘‘তালিকাভুক্ত’’ অর্থ এই আইনের অধীন কোরে তালিকাভুক্ত;
(৮)‘‘নির্দেশাবলী’’ অর্থ এই আইন বা বিধির অধীন মহাপরিচালক কর্তৃক, সময়ে সময়ে, জারীকৃত কোন নির্দেশ;
(৯)‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(১০)‘‘বাহিনী’’ অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত কোর;
(১১)‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১২)‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক;
(১৩)‘‘স্বীকৃত বিদ্যালয়’’, ‘‘স্বীকৃত মহাবিদ্যালয়’’ বা ‘‘স্বীকৃত বিশ্বদ্যিালয়’’ অর্থ আপাতত বলবৎ কোন আইন দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত অন্য কোন বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
Section ৩. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর গঠন
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইনের অধীন একটি বাহিনী গঠন করিবে যাহা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (Bangladesh National Cadat Corps) নামে অভিহিত হইবে।
(২) তালিকাভুক্ত সদস্যগণ এবং কোরে নিযুক্ত কর্মচারীগণের সমন্বয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর গঠিত হইবে।
(৩) কোরের জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হইবে।
Section ৪. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের লক্ষ্য
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের লক্ষ্য হইবে দেশের স্বীকৃত বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমন সুনাগরিক হিসাবে গড়িয়া তোলা যাহাতে তাহারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে দেশ ও জাতিকে শান্তি ও যুদ্ধকালীন সময় সংগঠিত ও সুশৃঙ্খলভাবে সেবা প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা রাখিতে পারে।
Section ৫. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের দায়িত্ব ও কর্তব্য
(১) বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের প্রত্যেক তালিকাভুক্ত সদস্য এবং কর্মচারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(২) সাধারণভাবে কোরের কোন সদস্যকে সক্রিয় সামরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা যাইবে না।
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, এই আইন ও বিধি অনুযায়ী উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত দায়িত্ব পালনে কোরের সদস্যকে সম্পৃক্ত বা নিয়োজিত করা যাইবে।
Section ৬. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অধিদপ্তর গঠন
(১) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অধিদপ্তর নামে একটি অধিদপ্তর থাকিবে।
(২) অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে, এবং প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দেশের যে কোন স্থানে ইহার এক বা একাধিক শাখা কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যাইবে।
(৩) অধিদপ্তরের জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হইবে।
Section ৭. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অধিদপ্তরের কার্যাবলী
(১) বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের প্রশাসন, পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান অধিদপ্তরের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং অধিদপ্তর প্রযোজ্য সকল আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক কোর পরিচালনা করিবে।
(২) তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে ডাটাবেজ তৈরি করিয়া কোরের প্রশিক্ষণাধীন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ সকল ক্যাডেটের তালিকা রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে, যাহাতে দেশের ক্রান্তিকালে উক্ত ক্যাডেটগণকে কোরের অধীনে স্বেচ্ছাসেবা প্রদান কাজে সম্পৃক্ত বা নিয়োজিত করা যায়।
Section ৮. মহাপরিচালক
(১) অধিদপ্তরের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন, যিনি মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, নামে অভিহিত হইবেন।
(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক সশস্ত্র বাহিনী হইতে নির্ধারিত শর্তে নিযুক্ত হইবেন।
(৩) মহাপরিচালক অধিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মচারী এবং কোরের অধিনায়ক (Commander) হইবেন।
Section ৯. মহাপরিচালকের ক্ষমতা ও কর্তব্য
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মহাপরিচালকের ক্ষমতা ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
Section ১০. মহাপরিচালকের ক্ষমতা অর্পণ
মহাপরিচালক, এই আইন ও বিধির অধীন তাহার উপর অর্পিত যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, লিখিত আদেশ দ্বারা, অধিদপ্তর বা বাহিনীর যে কোন কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
Section ১১. অধিদপ্তর ও কোরের কর্মচারী
(১) সরকার এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অধিদপ্তর ও কোরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) সরকার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহিত পরামর্শক্রমে, কোরের কোন স্থায়ী পদ, সম্মানীর ভিত্তিতে কিন্তু অবৈতনিকভাবে নির্ধারিত শর্ত ও মেয়াদের জন্য পূরণ করিতে পারিবে।
Section ১২. উপদেষ্টা কমিটি
(১) বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য, সময় সময়, সরকার বা, ক্ষেত্রমত, মহাপরিচালককে পরামর্শ বা উপদেশ প্রদানের লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপদেষ্টা কমিটি, প্রয়োজনে সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক, অনধিক আরো ৩ (তিন) জন ব্যক্তিকে কমিটিতে সহযোজন (Co-opt) করিতে পারিবেন।
(৩) উপদেষ্টা কমিটি প্রত্যেক বৎসরে অন্যূন একটি সভা করিবে এবং সভাপতি কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
Section ১৩. ইউনিট গঠন এবং বিলুপ্তকরণ
(১) সরকার দেশের যে কোন স্থান, স্বীকৃত কোন বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরের এক বা একাধিক ইউনিট গঠন করিতে পারিবে যাহার সদস্য স্বীকৃত বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হইতে নির্বাচন করা হইবে।
(২) সরকার যে কোন সময় পূর্বে গঠিত ইউনিট বিলুপ্ত, পুনর্গঠিত, সম্প্রসারিত বা পরিবর্তন করিতে পারিবে।
Section ১৪. কোরের অধীন ডিভিশনসমূহ
(১) বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের অধীন নিম্নবর্ণিত ০২(দুই)টি ডিভিশন থাকিবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত প্রতিটি ডিভিশনকে মহাপরিচালক, প্রয়োজনে, নারী ও পুরুষ উপ-ডিভিশনে বিভক্ত করিয়া গঠন করিতে পারিবেন।
Section ১৫. ক্যাডেট তালিকাভুক্তি
নির্ধারিত যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে-
Section ১৬. কমিশন প্রদান, ইত্যাদি
কোরের নির্ধারিত কোন পদে নিয়োজিত কোন শিক্ষককে কমিশন প্রদান করা যাইবে এবং কমিশন প্রদানের পদ্ধতি ও শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৭. অব্যাহতি প্রদান
(১) কোরের তালিকাভুক্ত কোন সদস্যকে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইলে অব্যাহতি প্রদান করা হইবে।
(২) মহাপরিচালক, এই আইন বা বিধি সাপেক্ষে, কোন তালিকাভুক্ত সদস্যকে যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক, যে কোন সময়, কোরের তালিকা হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।
Section ১৮. শৃঙ্খলা-পরিপন্থি ও অপরাধমূলক কার্য ও ব্যবস্থা
(১) যদি কোন কর্মচারী বা ক্যাডেট এই আইন, বিধি বা নির্দেশাবলীর অধীন শৃঙ্খলা-পরিপন্থি কার্য হিসাবে বিবেচিত কোন কার্য করেন, তাহা হইলে-
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোরের কোন তালিকাভুক্ত সদস্য বা অধিদপ্তর বা কোরে প্রেষণে বা স্থায়ীভাবে নিযুক্ত কোন অসামরিক কর্মচারী দেশের অসামরিক ফৌজদারী আইন অনুযায়ী অসামরিক আদালতে বিচার্য ও শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ করিলে, তাহার বিরুদ্ধে প্রচলিত ও প্রযোজ্য অসামরিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোরে বা অধিদপ্তরে প্রেষণে নিযুক্ত সশস্ত্র বাহিনীর কোন কর্মচারী দেশে অসামরিক ফৌজদারী আইন অনুযায়ী অসামরিক আদালতে বিচার্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করিলে তাহাকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র বাহিনীতে প্রত্যার্পণ করা হইবে এবং সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র বাহিনী, প্রচলিত ও প্রযোজ্য আইন বা বিধি-বিধান অনুযায়ী, তাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
Section ১৯. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২০. ক্রান্তিকালীন বিধান
এই আইন কার্যকর হইবার পর-
Section ২১. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর গঠন সম্পর্কিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৩ মার্চ ১৯৭৯ তারিখের ৪৮/৭/ডি-১/৭৯/ ২১২ নং আদেশ এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত রহিত আদেশের অধীন গঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর কর্তৃক সম্পাদিত সকল কার্যাবলী এমনভাবে বহাল ও কার্যকর থাকিবে যেন উক্ত আদেশ রহিত হয় নাই।
(৩) এই আইন কার্যকর হইবার পূর্বে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের নামে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর কর্তৃক ক্রয়কৃত বা অধিগ্রহণকৃত সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা অধিদপ্তরের উপর বর্তাইবে।
Section ২২. আইনের ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে যাহা এই আইনের ইংরেজি পাঠ নামে অভিহিত হইবে।
(২) আইনের বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।