Bangladesh Nursing Council Ordinance, 1983 রহিতক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক পুনঃপণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারীকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় এবং সিভিল আপিল নং ৪৮/২০১১ তে সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১ নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং যেহেতু ২০১৩ সনের ৭নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হয়; এবং যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাকঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে Bangladesh Nursing Council Ordinance, 1983 (Ordinance No. LXI of 1983) এর বিষয়বস্তু বিবেচনাপূর্বক রহিতক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
(১) এই আইন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন, ২০১৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
[(১) “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” অর্থ ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী, ক্ষেত্রমত, অপরাধ আমলে গ্রহণ অথবা বিচারের এখতিয়ারসম্পন্ন কোনো আদালত;
(১ক) “কাউন্সিল” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল;]
(২) ‘‘তফসিল’’ অর্থ এই আইনের কোন তফসিল;
(৩) ‘‘নার্স’’ অর্থ এই আইনের অধীন স্বীকৃত কোন নার্স;
(৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৫) ‘‘পোস্ট-বেসিক’’ অর্থ ডিপ্লোমা উত্তীর্ণ রেজিস্টার্ড নার্স ও মিডওয়াইফদের জন্য ২ (দুই) বৎসর মেয়াদী বিএসসি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ;
(৬) ‘‘প্রেসিডেন্ট’’ অর্থ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট;
(৭) ‘‘ফৌজদারী কার্যবিধি’’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898);
(৮) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৯) ‘‘মিডওয়াইফ’’ অর্থ এই আইনের অধীন স্বীকৃত কোন মিডওয়াইফ;
(১০) ‘‘রেজিস্ট্রার’’ অর্থ ধারা ৭(১) এর অধীন নিয়োগকৃত কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার;
(১১) ‘‘সদস্য’’ অর্থ কাউন্সিলের সদস্য;
(১২) ‘‘সহযোগী পেশা’’ অর্থ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে স্বীকৃত অন্য কোন পেশা, যেমন:- সহকারী নার্স, জুনিয়র মিডওয়াইফ, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক, পরিবার কল্যাণ সহকারী, ডিপ্লোমাত্তোর স্পেশালাইজেশন, কমিউনিটি বেসড স্কিল্ড বার্থ এটেনডেন্ট, কমিউনিটি প্যারামেডিক, যাহারা কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত অন্যান্য কোর্স সম্পন্নক্রমে সংশ্লিষ্ট পেশায় অনুশীলন (Practice) করিবার জন্য নিবন্ধিত;
(১৩) ‘‘স্বীকৃত’’ অর্থ বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত বা অধিভুক্ত; এবং
(১৪) ‘‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’’ অর্থ কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত এবং অনুমোদিত সিলেবাস এবং কোর্স-কারিকুলাম অনুযায়ী নার্সিং ও মিডওয়াইফারি বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোন প্রতিষ্ঠান।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হইবে।
(২) কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংন্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে, এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার এবং চুক্তি সম্পাদন করিবার ক্ষমতা থাকিবে, এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) কাউন্সিল নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) - (ঞ), (ড) এবং (ত)- (দ) তে উল্লিখিত মনোনীত সদস্যগণ ব্যতীত কাউন্সিলের অন্যান্য মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে মনোনয়ন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ মনোনীত কোন সদস্যকে তাহার দায়িত্ব হইতে যে কোন সময় অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) কাউন্সিল কোন কারণে বাধাগ্রস্ত না হইলে উহার প্রথম সভায় সদস্যগণের মধ্য হইতে একজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট, একজন ট্রেজারার ও একজন সচিব নির্বাচন করিবে।
(৫) কোন সদস্য, প্রেসিডেন্ট বরাবরে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, তবে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পদত্যাগ কার্যকর হইবে না।
(৬) কোন ব্যক্তি একাধিক [যোগ্যতা বা পদমর্যাদায়] কাউন্সিলের সদস্য হইতে বা থাকিতে পারিবেন না।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কাউন্সিলের ক্ষমতা ও দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কাউন্সিল উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) প্রতি বৎসর কাউন্সিলের অন্যূন ২ (দুই) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৪) প্রেসিডেন্ট কাউন্সিলের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, এবং তাহার অনুপস্থিতিতে কাউন্সিলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) কাউন্সিলের অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে কাউন্সিলের সভার কোরাম গঠিত হইবে, তবে মূলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৬) সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কাউন্সিলের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৭) কেবল কাউন্সিলের কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা কাউন্সিল গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কাউন্সিলের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না, বা গৃহীত কোন সিদ্ধান্ত বাতিল হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) কাউন্সিলের একজন রেজিস্ট্রার থাকিবে, যিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং যাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(২) কাউন্সিল উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) রেজিস্ট্রার, কাউন্সিল ও নির্বাহী কমিটি কর্তৃক নির্দেশিত দায়িত্ব পালন ও কার্য-সম্পাদন করিবেন।
(৪) রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রেজিস্ট্রার তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে উক্ত শূন্য পদে নব নিযুক্ত রেজিস্ট্রার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত, অথবা রেজিস্ট্রার পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) কাউন্সিলের একটি নির্বাহী কমিটি থাকিবে।
(২) কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত উহার ৫ (পাঁচ) জন সদস্যসহ মোট ৭ (সাত) জন সদস্য সমন্বয়ে নির্বাহী কমিটি গঠিত হইবে।
(৩) কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট, পদাধিকারবলে, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এবং ভাইস-চেয়ারম্যান হইবেন।
(৪) উপ-ধারা (৫) এর বিধান সাপেক্ষে, কাউন্সিলের পরিচালনা ও প্রশাসন নির্বাহী কমিটির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং নির্বাহী কমিটি কাউন্সিল কর্তৃক এবং এই আইনের অধীন গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করিবে।
(৫) নির্বাহী কমিটি উহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের নিকট দায়ী থাকিবে এবং কাউন্সিল কর্তৃক, সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করিবে।
কাউন্সিল উহার কাজের সহায়তার জন্য, প্রয়োজনবোধে, এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সংখ্যা ও উহার দায়িত্ব ও কার্যধারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল তহবিল নামে কাউন্সিলের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা :-
(২) কাউন্সিলের তহবিলের অর্থ কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন করা যাইবে।
(৩) কাউন্সিলের তহবিল হইতে কাউন্সিলের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
ব্যাখ্যা এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘তফসিলী ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(President’s Order No. 127 of 1972) এর article 2 (j) তে সংজ্ঞায়িত “Scheduled Bank” কে বুঝাইবে।
(১) কাউন্সিল প্রতি বৎসর, ৩০ জুনের পূর্বে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী প্রস্তুত করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়সহ পরিকল্পনা গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্যাদি উল্লেখ থাকিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রস্তুতকৃত বাজেট কাউন্সিলের সভায় অনুমোদিত হইতে হইবে।
(১) কাউন্সিল যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি বৎসর কাউন্সিলের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কাউন্সিলের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কাউন্সিলের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং রেজিস্ট্রার ও কাউন্সিলের যে কোন সদস্য কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(১) কাউন্সিল প্রতি বৎসর তদকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি প্রতিবেদন পরবর্তী বৎসরের ৩০ জুনের মধ্যে সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, যে কোন সময়, কাউন্সিলের নিকট উহার যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী তলব করিতে পারিবে এবং কাউন্সিল উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(১) বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত নার্সিং শিক্ষা যোগ্যতার ডিপ্লোমা অথবা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে উক্ত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি ব্যবহার করিতে চাহিলে, উহা এই আইনের অধীন কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত হইতে হইবে।
(২) বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত নার্সিং শিক্ষা যোগ্যতার ডিপ্লোমা বা স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি প্রদানকারী কোন নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, যথাক্রমে, তফসিল ‘ক’ বা ‘খ’ বা ‘গ’ তে অন্তর্ভুক্ত না থাকিলে, উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রিধারী ব্যক্তিকে এই আইনের অধীন উক্ত যোগ্যতার স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী বাংলাদেশের বাহিরে অর্জিত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি সংশ্লিষ্ট দেশের নার্সিং কাউন্সিল বা অনুরূপ সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত হইলে, আবেদনকারী কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবে এবং উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিকে, কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক নিবন্ধন প্রদান করা যাইবে।
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর, কাউন্সিল, এতদুদ্দেশ্যে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ডের আলোকে, বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত নার্সিং শিক্ষা যথাযথ বলিয়া বিবেচনা করিলে, আবেদনকারী বা, ক্ষেত্রমত, আবেদনকৃত নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট নার্সিং শিক্ষা যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রদানের জন্য তফসিল ‘ক’, ‘খ’ বা ক্ষেত্রমত ‘গ’ সংশোধনক্রমে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম উক্ত যোগ্যতাসহ সংশ্লিষ্ট তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করিবে।
(১) বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত নার্সিং শিক্ষা যোগ্যতার স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে উক্ত ডিগ্রি ব্যবহার করিতে চাহিলে, উহা এই আইনের অধীন স্বীকৃত হইতে হইবে।
(২) বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত নার্সিং শিক্ষা যোগ্যতার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদানকারী কোন নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম তফসিলের, যথাক্রমে, ‘ক’, ‘খ’ বা ‘গ’ অংশে অন্তর্ভুক্ত না থাকিলে, উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত ডিগ্রিধারী ব্যক্তিকে এই আইনের অধীন উক্ত যোগ্যতার স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর কাউন্সিল, এতদুদ্দেশ্যে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ডের আলোকে, বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত নার্সিং শিক্ষা যথাযথ বলিয়া বিবেচনা করিলে, আবেদনকারী বা, ক্ষেত্রমত, আবেদনকৃত নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট নার্সিং শিক্ষা যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রদানের জন্য তফসিল ‘ক’, ‘খ’ বা ‘গ’ সংশোধনক্রমে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উক্ত যোগ্যতাসহ সংশ্লিষ্ট অংশে অন্তর্ভুক্ত করিবে।
(১) বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত মিডওয়াইফারি শিক্ষা যোগ্যতার [ডিপ্লোমা বা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর] পর্যায়ের ডিগ্রিধারী কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে উক্ত ডিগ্রি ব্যবহার করিতে চাহিলে, উহা এই আইনের অধীন স্বীকৃত হইতে হইবে।
(২) বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত মিডওয়াইফারি শিক্ষা যোগ্যতার [ডিপ্লোমা বা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর] পর্যায়ের ডিগ্রি প্রদানকারী কোন মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম তফসিল ‘ঘ’ তে অন্তর্ভুক্ত না থাকিলে, উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রিধারী ব্যক্তিকে এই আইনের অধীন উক্ত যোগ্যতার স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী বাংলাদেশের বাহিরে অর্জিত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি সংশ্লিষ্ট দেশের কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত হইলে, আবেদনকারী, কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিবে এবং আবেদনকারী উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইলে তাহাকে নিবন্ধন প্রদান করা হইবে।
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর কাউন্সিল, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ডের আলোকে, বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা যোগ্যতা যথাযথ বলিয়া বিবেচনা করিলে, আবেদনকারী বা, ক্ষেত্রমত, আবেদনকৃত মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট মিডওয়াইফারি শিক্ষা যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রদানের জন্য তফসিল ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ বা ‘ঘ’ সংশোধনক্রমে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম উক্ত যোগ্যতাসহ সংশ্লিষ্ট তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করিবে।
নিবন্ধনযোগ্য সহযোগী পেশার শিক্ষা যোগ্যতার স্বীকৃতি।- (১) বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে তফসিল ‘ঙ’, ‘চ’, ‘ছ’ বা ‘জ’ তে অন্তর্ভুক্ত না থাকিলে, উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত ডিগ্রিধারী ব্যক্তিকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশার সহায়ক শিক্ষা কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত কোন পেশার ডিপ্লোমাধারীগণ, এই আইনের অধীন নিবন্ধিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ডিপ্লোমা বা ডিগ্রিধারীগণকে এই আইনের অধীন উক্ত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি নিবন্ধনের জন্য কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর কাউন্সিল, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ড ও নীতিমালার আলোকে, বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা যোগ্যতা যথাযথ বলিয়া যোগ্য বিবেচনা করিলে, আবেদনকারীর উক্ত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি নিবন্ধন করতঃ তাহাকে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধন সনদ প্রদান করিবে এবং তফসিল ‘ঙ’, ‘চ’, ‘ছ’ বা ‘জ’ সংশোধনক্রমে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উক্ত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রিসহ অন্তর্ভুক্ত করিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন সহযোগী পেশার নিবন্ধিত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রিধারীগণ কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালার অধীনে নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকিতে পারিবেন।
(৫) এই আইনের অধীন নিবন্ধিত কোন ব্যক্তি উচ্চতর শিক্ষা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষায়িত শিক্ষা বা সহায়ক শিক্ষা গ্রহণ করিলে তিনি ঐ একই নিবন্ধন নম্বরে পরবর্তীতে অর্জিত ডিগ্রির অতিরিক্ত নিবন্ধন সনদ পাইবেন।
(১) নির্বাহী কমিটির কোন [সুপারিশের] ভিত্তিতে কাউন্সিলের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, -
তাহা হইলে কাউন্সিল, উহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় মন্তব্যসহ, উক্ত [সুপারিশে] উল্লিখিত বিষয়ে, তদকর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, ব্যাখ্যা দাখিল করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা, ক্ষেত্রমত, মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিকট [সুপারিশটি] প্রেরণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত ব্যাখ্যা প্রাপ্ত হইবার পর, বা কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দাখিল করা না হইলে, উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার পর, কাউন্সিল, উহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উক্ত নার্সিং, মিডওয়াইফারি, বা সহযোগী পেশার ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা স্বীকৃত নহে মর্মে সংশ্লিষ্ট তফসিলের মন্তব্য কলামে উল্লেখক্রমে উক্ত তফসিল সংশোধন করিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কাউন্সিল, স্বীকৃত নার্স, মিডওয়াইফ বা, সহযোগী পেশাজীবীদের নিবন্ধনপূর্বক এতদসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিবরণসহ তাহাদের নাম, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, একটি রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করিবে।
(২) কাউন্সিল উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত রেজিস্টার প্রণয়ন ও সংরক্ষণ করিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট স্বীকৃত নার্স, মিডওয়াইফ বা, সহযোগী পেশাজীবীকে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, কাউন্সিলে আবেদন করিতে হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর কাউন্সিল, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ডের আলোকে যোগ্য বিবেচনা করিলে, আবেদনকারী নার্স, মিডওয়াইফ বা, সহযোগী পেশাজীবীকে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধনপূর্বক নিবন্ধন সনদ প্রদান করিবে।
(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন নার্স, মিডওয়াইফ বা সহযোগী পেশাজীবীকে নিবন্ধন করা যাইবে না, যদি না উক্ত নার্স, মিডওয়াইফ বা সহযোগী পেশাজীবী স্বীকৃত কোন নার্সিং, মিডওয়াইফারি বা সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন ডিপ্লোমা, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন, বা উক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হইবার পর এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হন।
(৬) এই ধারার অধীন নিবন্ধিত কোন ব্যক্তি [তফসিল ‘ক’] তে অন্তর্ভুক্ত নার্সিং শিক্ষা বা মিডওয়াইফারি শিক্ষা সংক্রান্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করিলে, উক্ত ব্যক্তির আবেদনক্রমে, কাউন্সিল রেজিস্টারে উক্ত ব্যক্তির নামের সহিত উক্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি যুক্ত করিবে।
ধারা ১৯ এর অধীন প্রণীত ও সংরক্ষিত রেজিস্টারসমূহ Evidence Act, 1872 (Act No. 1 of 1872) এর অধীন সরকারি দলিল বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইনের অধীন নিবন্ধন ব্যতীত কোন নার্স বা, মিডওয়াইফ বা, সহযোগী পেশায় কোন ব্যক্তি নিজেকে নিয়োজিত করিতে, বা নিজেকে নার্স বা, মিডওয়াইফ বা, সহযোগী কোন পেশাজীবী বলিয়া পরিচয় প্রদান করিতে পারিবে না।
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড, অথবা ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(১) এই আইনের অধীন নিবন্ধিত কোন পেশাদার নার্স, মিডওয়াইফ বা সহযোগী পেশাজীবী এই আইন বা বিধির কোন বিধান বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পেশাগত আচরণ বা নীতিমালার কোন বিধান লঙ্ঘনের কারণে দোষী সাব্যস্ত হইলে কাউন্সিল উক্ত ব্যক্তির নিবন্ধন বাতিলক্রমে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার হইতে তাহার নাম প্রত্যাহার (remove) করিতে পারিবে।
(২) কাউন্সিল, উহার বিবেচনাক্রমে, উপ-ধারা (১) এর অধীন নিবন্ধন বাতিলকৃত ও রেজিস্টার হইতে প্রত্যাহারকৃত ব্যক্তির নাম এই আইনের বিধান অনুসারে পুনরায় নিবন্ধন করিতে পারিবে।
(১) ধারা ১৪, ১৫ বা ১৬ এর অধীন দাখিলকৃত নার্সিং বা মিডওয়াইফারি শিক্ষা যোগ্যতা বা সহযোগী কোন পেশার শিক্ষা যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রদানের কোন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হইলে, অথবা ধারা ১৯ এর অধীন কোন ব্যক্তির নাম নিবন্ধন বা রেজিস্টারভুক্ত করা না হইলে, অথবা ধারা ২২ এর অধীন নিবন্ধনকৃত কোন ব্যক্তির নাম সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার হইতে প্রত্যাহারকৃত হইলে, কাউন্সিল উক্ত প্রত্যাখ্যান বা অসম্মতি বা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবগত করিবে।
(২) কোন ব্যক্তি উক্ত সিদ্ধান্ত দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি উক্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত হইবার ৩০ (ত্রিশ) কার্য দিবসের মধ্যে, উহার বিরুদ্ধে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করিলে, সরকার, কাউন্সিল কর্তৃক উক্ত প্রত্যাখ্যান, অসম্মতি, বা ক্ষেত্রমত, নাম প্রত্যাহারের কারণসমূহ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে, এতদ্সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ বা নির্দেশ চূড়ান্ত লিয়াব গণ্য হইবে।
(১) কোন স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান কোন নার্সিং, মিডওয়াইফারি বা কোন সহযোগী পেশার শিক্ষা সংক্রান্ত কোন শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ, পাঠ্যসূচী প্রণয়ন, কোর্স পরিচালনা, প্রশিক্ষণ প্রদান অথবা এতদ্সংক্রান্ত কোন সনদ, ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা প্রদান করিতে পারিবে না।
(২) কোন প্রতিষ্ঠান উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘল হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠান অনধিক ২ (দু্ই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে, এবং উহার অতিরিক্ত, উক্ত অপরাধ অব্যাহত থাকিলে প্রতিদিনের জন্য অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।
ব্যাখ্যা।- যদি ইহা প্রমাণিত হয় যে, উক্ত অপরাধ উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে বা তাহাদের অবহেলার ফলে সংঘটিত হইয়াছে, তাহা হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সচিব বা কর্মচারী উক্ত অপরাধের জন্য অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন।
(১) কাউন্সিল, তফসিলে উল্লিখিত নার্সিং, মিডওয়াইফারি বা সহযোগী শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের স্বীকৃতি বা, ক্ষেত্রমত, নিবন্ধন প্রদানের লক্ষ্যে, সংশ্লিষ্ট নার্সিং, মিডওয়াইফারি বা সহযোগী কোন পেশার শিক্ষা বা অন্য কোন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাঠ্যসূচী, পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি, প্রশিক্ষণ বা এতদ্সংক্রান্ত অন্য কোন বিষয়ে, সময় সময়, প্রয়োজনীয় তথ্যাদি তলব করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কাউন্সিলকে, সময় সময় , তলবকৃত প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(১) কাউন্সিল, স্বীকৃত নার্সিং বা মিডওয়াইফারি বা সহযোগী শিক্ষা যোগ্যতার জন্য আবেদনকারী নার্সিং বা মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত সংশ্লিষ্ট নার্সিং, মিডওয়াইফারি বা সহযোগী পেশার শিক্ষা যোগ্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে, বাংলাদেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট নার্সিং বা মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত পাঠ্যসূচী, পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি, প্রশিক্ষণ এবং এতদ্সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করিতে পারিবে।
(২) কাউন্সিল, উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিদর্শনের নিমিত্ত, উহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিদর্শক নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিয়োগকৃত পরিদর্শক সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা উহার পরীক্ষা পরিচালনা বা অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শনসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচী, প্রশিক্ষণের মান ও এতদ্সংক্রান্ত বিষয়ে রেজিস্ট্রারের নিকট প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।
(১) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন নিবন্ধনকৃত কোন নার্স বা মিডওয়াইফ বা সহযোগী পেশার কোন নাম, পদবী, বিবরণ বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করিবেন না, যাহার ফলে তাহার কোন অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে মর্মে কাহারও মনে হইতে পারে, যদি না উহা কোন স্বীকৃত নার্সিং, মিডওয়াইফারি বা সহায়ক শিক্ষা যোগ্যতা হইয়া থাকে।
(২) কাউন্সিল অনুমোদিত অন্যূন ৩ (তিন) বৎসরের নার্সিং বা মিডওয়াইফারি ডিপ্লোমা প্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি নার্স বা মিডওয়াইফ হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিতে বা অনুরূপ পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করিতে পারিবেন না।
(৩) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত অপরাধ অব্যাহত থাকিলে, প্রত্যেকবার উহার পুনরাবৃত্তির জন্য অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে, দণ্ডনীয় হইবেন।
(১) যদি কোন ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় লইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে একজন স্বীকৃত নার্স বা মিডওয়াইফ হিসাবে এই আইনের অধীন নিবন্ধন করেন বা নিবন্ধন করিবার উদ্যোগ গ্রহণ, বা মিথ্যা বা প্রতারণামূলক প্রতিনিধিত্ব প্রকাশ করিবার চেষ্টা করেন, বা মৌখিক বা লিখিতভাবে উক্তরূপ ঘোষণা করেন, অথবা এই আইনের অধীন নিবন্ধনকৃত না হইয়াও যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে এই আইনের অধীন নিবন্ধনকৃত একজন নার্স বা মিডওয়াইফ বলিয়া প্রতারণা করেন, বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার নাম বা পদবীর সংগে নিবন্ধনকৃত মর্মে কোন শব্দ, বর্ণ বা অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্তরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ সংঘটনে সহায়তাকারী ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দণ্ডের সমদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
এই আইনের অধীন কোন অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার, আপিল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
[৩০। এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে।]
[৩১। ফৌজদারী কার্যবিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২১, ২৭ ও ২৮ এর অধীন কারাদণ্ড প্রদানের এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের সংশ্লিষ্ট ধারায় উল্লিখিত অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষমতাও থাকিবে।]
[৩১ক। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোনো আইনে বা এই আইনের অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, মোবাইল কোর্ট কর্তৃক বিচার্য হইবে।]
কাউন্সিল, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন নার্সিং, মিডওয়াইফারি বা সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত নার্সিং বা মিডওয়াইফারি বা সহায়ক শিক্ষা যোগ্যতার ডিপ্লোমা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির [স্বীকৃতি প্রদান, বাতিলকরণ বা অন্তর্ভুক্তির] উদ্দেশ্যে তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কাউন্সিল, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন করা যাইবে, যথা:-
(১) Bangladesh Nursing Council Ordinance, 1983 (Ordinance No. LXI of 1983), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উক্ত Ordinance রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে -
(৩) উক্ত Ordinance রহিতকরণ সত্ত্বেও -
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।