ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কিত বিদ্যমান আইন রহিতপূর্বক কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃপ্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কিত বিদ্যমান আইন রহিতপূর্বক কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃপ্রণয়নকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু, এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল: -
(১) এই আইন ক্যাডেট কলেজ আইন, ২০১৭ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সমগ্র বাংলাদেশে ইহার প্রয়োগ হইবে।
(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে, -
(১) সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তারিখে কোন এলাকায় এক বা একাধিক ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
(২) প্রত্যেক কলেজ উহার নিজ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতাসহ একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে, এবং উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকারের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তর করিবার, চুক্তি সম্পাদন করিবার, এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদন করিবার ক্ষমতা থাকিবে, এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা করা যাইবে।
সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত স্থানে কলেজের কার্যালয় অবস্থিত হইবে।
কলেজের ক্ষমতা ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
ক্যাডেট কলেজসমূহের একটি কেন্দ্রীয় পরিষদ থাকিবে এবং উহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(১) চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে, কেন্দ্রীয় পরিষদ সাধারণভাবে প্রতি বৎসর ২(দুই) বার ঢাকায়, সভায় মিলিত হইবে।
(২) চেয়ারম্যান, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পরিষদের বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবেন।
(৩) চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন অর্ধেক সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে।
(৫) সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
(৬) উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
কেন্দ্রীয় পরিষদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা: -
নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠিত হইবে, যথা:-
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, পরিচালনা পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) পরিচালনা পরিষদের সভা সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন অর্ধেক সদস্যের উপস্থিতিতে পরিচালনা পরিষদের সভার কোরাম গঠিত হইবে।
(৪) সভাপতি পরিচালনা পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
(৬) উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
কোন পদে শূন্যতা বিদ্যমান থাকিবার কারণে, কেন্দ্রীয় পরিষদ কিংবা পরিচালনা পরিষদের কোন সিদ্ধান্ত, কার্য বা কার্যধারা অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে না।
(১) পরিচালনা পরিষদ ক্যাডেট কলেজের নির্বাহী পরিষদ হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে, এবং এই আইনের অন্যান্য বিধান ও পরিচালনা পরিষদকে প্রদত্ত ক্ষমতা সাপেক্ষে, কলেজের কার্যক্রম ও বিষয় সম্পত্তির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করিবে।
(২) কলেজের যাবতীয় পরিসম্পদ পরিচালনা পরিষদের অধীন ন্যস্ত থাকিবে।
(৩) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, পরিচালনা পরিষদ, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে, যথা:-
(১) পরিচালনা পরিষদের নির্দেশনায় কলেজসমূহ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিয়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষ সমাপ্তির ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সরকার, কেন্দ্রীয় পরিষদ ও পরিচালনা পরিষদের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার বা, ক্ষেত্রমত, কেন্দ্রীয় পরিষদ, উপ-ধারা (১) এর অধীন পেশকৃত বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করিয়া, কোন বিষয়ে পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক মনে করিলে, পরিচালনা পরিষদকে উহা অবহিত করিবে, এবং পরিচালনা পরিষদ, যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া তদ্কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকারকে বা, ক্ষেত্রমত, কেন্দ্রীয় পরিষদকে অবহিত করিবে।
(১) পরিচালনা পরিষদ কলেজের জন্য বার্ষিক বাজেট প্রাক্কলন প্রস্তুত করিয়া বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় পরিষদের নিকট দাখিল করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন বার্ষিক বাজেট প্রাক্কলন কেন্দ্রীয় পরিষদের নিকট দাখিলকৃত হইলে, উক্ত পরিষদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় মতামত বা সুপারিশসহ, উক্ত বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উহা সরকারের নিকট অগ্রায়ন করিবে।
(৩) কেন্দ্রীয় পরিষদের মতামত বা সুপারিশের আলোকে, সরকার, কলেজসমূহকে প্রতি বৎসর প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ প্রদান করিবে।
(১) কলেজসমূহ উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর কলেজসমূহের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন।
(৩) নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অনুলিপি সরকার, পরিচালনা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রদান করিতে হইবে।
(৪) উপ-ধারা-২ এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কলেজের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কলেজের হিসাব সংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) Cadet College Ordinance, 1964(Ordinance No. II of 1964), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন -
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।