বাংলাদেশে মোটরযান ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, পরিকল্পিত ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং তদ্সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশের মোটরযান ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, পরিকল্পিত ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং তদ্সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭ নামে অভিহিত হইবে।
*(২) সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।
* এস, আর, ও নং ৩৪২-আইন/২০১৯, তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ইং দ্বারা ১৬ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১ নভেম্বর, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ হতে উক্ত আইন কার্যকর ।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
আপাতত কার্যকর অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন অন্য কোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে Motor Vehicles Ordinance, 1983 (Ord. No. LV of 1983) এর Chapter IA এর section 2A এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Road Transport Authority (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ) এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত।
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার অধস্তন বা শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হইবে নিম্নরূপ যথা:-
(১) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের প্রশাসন ও কার্যক্রম পরিচালিত হইবে।
(২) কর্তৃপক্ষ উহার প্রশাসন ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন, বিধি, প্রবিধান ইত্যাদি এবং পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করিবে।
কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে মোটরযান ও ইহার চালককে যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সম্মুখীন হইতে বাধ্য করিতে পারিবে এবং যেইরূপ যথাযথ মনে করিবে সেইরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ ইহার অধঃস্তন কোন কার্যালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত মোটরযান নিবন্ধন সনদ, ফিটনেস সনদ, রুট পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি পুনঃ পর্যালোচনা করিয়া যেইরূপ নির্দেশ প্রদান করিবে অধঃস্তন কার্যালয় সেইরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকিবে এবং উক্ত উপদেষ্টা পরিষদ নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত উদ্দেশ্য ও মেয়াদের জন্য যে কোনো ব্যক্তিকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসাবে কো-অপ্ট করিতে পারিবে।
(১) উপদেষ্টা পরিষদের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(২) উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক প্রণীত নীতি, সুপারিশ, নির্দেশনা ইত্যাদি কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করিবে।
(১) উপদেষ্টা পরিষদের সভা প্রত্যেক ৪ (চার) মাসে একবার অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো সময় সভা অনুষ্ঠান করা যাইবে।
(২) উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি উহার সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য-সচিব, উহার সভাপতির সহিত পরামর্শক্রমে, উপদেষ্টা পরিষদের সভা আহবান করিবেন এবং এইরূপ সভা উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৪) উপদেষ্টা পরিষদ উহার সভায় কোন আলোচ্য বিষয়ে বিশেষ অবদান রাখিতে সক্ষম বা পারদর্শী এইরূপ যে কোন ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপে আমন্ত্রিত কোন ব্যক্তি সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন।
(৫) শুধুমাত্র উপদেষ্টা পরিষদের কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে উপদেষ্টা পরিষদের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না তদ্সম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
কর্তৃপক্ষের একটি পরিচালনা পরিষদ থাকিবে এবং নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠিত হইবে, যথা :-
পরিচালনা পরিষদের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) পরিচালনা পরিষদের সভা প্রত্যেক ৩ (তিন) মাসে একবার অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো সময় সভা অনুষ্ঠান করা যাইবে।
(২) পরিচালনা পরিষদের সভাপতি উহার সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তদ্কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত সময় ও স্থানে উহার সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৪) ন্যূনতম একজন বহিঃসদস্যসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম হইবে।
(৫) শুধুমাত্র পরিচালনা পরিষদের কোনো সদস্য পদে শূন্যতা পরিচালনা বা পরিষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পরিচালনা পরিষদের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তদ্সম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) কর্তৃপক্ষের একজন চেয়ারম্যান থাকিবে।
(২) চেয়ারম্যান প্রজাতন্ত্রের কর্মে কর্মরত কর্মচারীগণের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের মুখ্য নির্বাহী কর্মচারী হইবেন এবং তিনি এই আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধানের বিধান অনুসারে কর্তৃপক্ষের প্রশাসন পরিচালনার জন্য দায়ী থাকিবেন।
(৪) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে বা অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে উক্ত শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত, অথবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো কর্মচারী চেয়ারম্যানরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন।
কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলি দক্ষতার সহিত সম্পাদনে সহায়তা করিবার জন্য, প্রয়োজনে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী বা অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত কমিটির সদস্য সংখ্যা, কার্যাবলি ও কর্মপরিধি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(১) কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষের কর্মচারীগণ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন।
(৩) কর্তৃপক্ষের সকল কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি নিয়োগ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
কর্তৃপক্ষ, প্রতি অর্থ বছর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থবৎসরের বার্ষিক বাজেট প্রস্তুত করিয়া সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ করিবে, হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে এবং সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(২) চেয়ারম্যান প্রত্যেক অর্থ বৎসরের আয় ও ব্যয়ের হিসাব কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরীক্ষক দ্বারা নিরীক্ষা করাইবেন এবং নিরীক্ষক নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) কর্তৃপক্ষের সকল প্রকার ব্যয় প্রাক-নিরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিশোধিত হইবে।
(৫) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি অর্থ বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করিবেন।
(৬) উপ-ধারা (৫) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন এক বা একাধিক কোম্পানি গঠন করিতে পারিবে।
কর্তৃপক্ষ সরকারের বিধি-বিধান অনুসরণ করিয়া উহার কাজ বা সেবা আউট সোর্সিং করিতে পারিবে।
সরকার, সময় সময়, কর্তৃপক্ষকে, তদ্বিবেচনায় যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা পালন করিতে বাধ্য থাকিবে।
কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনে, লিখিতভাবে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, উক্ত আদেশে বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে, যদি থাকে, এই আইনের অধীন উহার কোনো ক্ষমতা চেয়ারম্যান, পরিচালনা পরিষদের কোনো সদস্য বা কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের সহিত সামঞ্জ্যপূর্ণ বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) The Motor Vehicles Ordinance. 1983 (Ord. No. LV of 1983) এর Chapter IA এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও -
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) ইংরেজি ও বাংলা পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।