আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত কনভেনশন বাস্তবায়নের নিমিত্ত বেসামরিক বিমান চলাচলের সুরক্ষা, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ [, যাত্রী সেবা নিশ্চিতকরণ] এবং এতদ্সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যুগোপযোগী বিধান করিবার লক্ষ্যে Civil Aviation Ordinance, 1960 রহিতক্রমে একটি নূতন আইন প্রনয়ণকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত কনভেনশন বাস্তবায়নের নিমিত্ত বেসামরিক বিমান চলাচলের সুরক্ষা, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ [, যাত্রী সেবা নিশ্চিতকরণ] এবং এতদ্সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যুগোপযোগী বিধান করিবার লক্ষ্যে Civil Aviation Ordinance, 1960 (Ordinance No. XXXII of 1960) রহিতক্রমে, একটি নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সকল বেসামরিক বিমানঘাঁটি ও বিমানবন্দর, হেলিপোর্ট, বাংলাদেশের সকল নাগরিক, বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোন বিমানে আরোহণকৃত ব্যক্তি, উহা যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বিমানে আরোহণকৃত ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের কোন কিছুই-
(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘অপারেটর’’ অর্থ বেসামরিক বিমান পরিচালনার সহিত সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তি;
(২) ‘‘অবতরণ এলাকা’’ অর্থ বিমানঘাঁটি বা বিমানবন্দরের যে অংশে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করে;
(৩) ‘‘আইসিএও’’ অর্থ International Civil Aviation Organization;
(৪)‘‘আকাশসীমা লঙ্ঘন’’ অর্থ বিমানের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রয়োজন ব্যতীত, যথাযথ অনুমতি অথবা চেয়ারম্যানের অনুমোদন ব্যতিরেকে, বাংলাদেশের আকাশসীমায় কোন বিমানের ইচ্ছাকৃত প্রবেশ;
(৫) ‘‘আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি’’ বা ‘‘এ্যাপলায়েন্স’’ অর্থ প্যারাসুট ও যোগাযোগ সরঞ্জামাদি এবং অন্য কোন কৌশল বা বিমান উড্ডয়নের সময় উহার সহিত স্থাপিত বা সংযুক্ত কৌশলসহ বিমানের নেভিগেশন, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি, এ্যাপারেটাস, পার্টস, এ্যাপারটেন্যান্স বা একসেসরিজ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এবং বিমান, বিমানের ইঞ্জিন বা প্রপেলার ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৬) ‘‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন’’ অর্থ দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে ভাড়া বা পারিতোষিকের বিনিময়ে বিমানে যাত্রী, পণ্য বা ডাক পরিবহন;
(৭) ‘‘এরিয়াল কার্য’’ অর্থ কৃষি, নির্মাণ কাজ, চিত্রগ্রহণ, জরিপ, পর্যবেক্ষণ ও টহল, তল্লাশি ও উদ্ধার বা এরিয়াল বিজ্ঞাপন, ইত্যাদি সম্পর্কিত কোন বিশেষ কাজের ক্ষেত্রে বিমানের ব্যবহার;
(৮) ‘‘এয়ারম্যান’’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি-
(৯) ‘‘এয়ার অপারেটর’’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি বা সংস্থা যাহা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বা নিজের মাধ্যমে বা লীজ গ্রহণ করিয়া বা অন্য কোন ব্যবস্থাধীনে বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন ও পরিচালনার সহিত সম্পৃক্ত;
(১০) ‘‘এয়ার নেভিগেশন অর্ডার’’ বা ‘‘এএনও’’ অর্থ এই আইনের অধীন এ্যারোনটিক্যাল ও নন-এ্যারোনটিক্যাল বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জারীকৃত আদেশ:
(১১) ‘‘এয়ার নেভিগেশন সুবিধা’’ অর্থ এয়ার নেভিগেশনের জন্য ব্যবহৃত বা ব্যবহারের জন্য ডিজাইনকৃত কোন সুবিধাসহ বিমানবন্দর, অবতরণ এলাকা, লাইট অথবা আবহাওয়ার তথ্য সম্প্রচার, সিগন্যাল, বেতার নির্দেশনা সন্ধান বা বেতার ও অন্যান্য তড়িৎ-চৌম্বকীয় যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত কোন এ্যাপারেটাস বা যন্ত্রপাতি, এবং আকাশে কোন বিমান বা ফ্লাইটের অবতরণ ও উড্ডয়নের নির্দেশনা প্রদান বা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অন্য কোন কাঠামো বা কৌশলও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১২) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭ (২০১৭ সনের ৩নং আইন) এর ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ;
(১৩) ‘‘ক্রু সদস্য’’ অর্থ কোন অপারেটর কর্তৃক ফ্লাইটের সময় বা বিমান উড্ডয়নকালে বিমানের কোন দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি;
(১৪) ‘‘খুচরা যন্ত্রাংশ’’ বা ‘‘যন্ত্রাংশ’’ অর্থ বিমান, বিমান ইঞ্জিন, প্রপেলার ও এ্যাপলায়েন্স এর কোন অংশ, যাহা কোন বিমান, বিমান ইঞ্জিন, প্রপেলারে বা এ্যাপলায়েন্সে স্থাপন বা ব্যবহারের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, কিন্তু উহাদের মধ্যে স্থাপন বা সংযুক্ত করা হয় নাই;
[(১৪ক) “গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডার” অর্থ কোনো বিমানবন্দর বা বিমানঘাঁটিতে একটি বেসামরিক বিমান অবতরণ করিবার পর হইতে উহা পরবর্তী উড্ডয়নের পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত প্রয়োজনীয় যাত্রী ও পণ্য পরিষেবাগুলি সরবরাহ করিবার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে নিবন্ধনপ্রাপ্ত সংস্থা;]
(১৫) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান;
[(১৫ক) “জনস্বার্থ” অর্থ ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ভাড়া নির্ধারণে নায্য ও যৌক্তিক পদ্ধতি অনুসরণ;]
(১৬) ‘‘জেনারেল এভিয়েশন’’ বা ‘‘সাধারণ এভিয়েশন’’ অর্থ বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন বা এরিয়াল কার্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে সাধারণ বিমান পরিচালনা;
[(১৬ক) “ট্যারিফ” অর্থ যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনের জন্য এয়ার অপারেটর কর্তৃক আরোপিত চার্জ, ফি বা ট্যাক্স ব্যতীত ভাড়া;
(১৬খ) “ট্রাভেল এজেন্সি” অর্থ বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৬১ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (১) এ সংজ্ঞায়িত ট্রাভেল এজেন্সি;
(১৬গ) “ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল (Distribution Channel)” অর্থ কোনো এয়ার অপারেটরের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম (Passenger Service System) এর সহিত যুক্ত (integrated) টিকেট বিক্রয়ের ব্যবস্থা যেমন, ওয়েবপোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ), Global Distribution System (GDS), New Distribution Capability (NDC), হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারভিত্তিক প্লাটফর্ম ইত্যাদি যাহা গ্রাহক বা ট্রাভেল এজেন্সির নিকট সরাসরি কিংবা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিমানের টিকেটের প্রাপ্যতা, সংরক্ষণ এবং বিক্রয় সংক্রান্ত লেনদেনের সুবিধা প্রদান করে;]
(১৭) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ এএনও দ্বারা নির্ধারিত;
(১৮) ‘‘নেভিগেশনযোগ্য বা বিমান চলাচলযোগ্য আকাশসীমা’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত সর্বনিম্ন ফ্লাইট উচ্চতার ঊর্ধ্বের (altitude) আকাশসীমা, এবং বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য সুরক্ষার নিশ্চয়তা আবশ্যক এইরূপ আকাশসীমাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৯) ‘‘প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য বেআইনি আচরণ’’ অর্থ বেসামরিক বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিপন্ন করে এইরূপ কোন কার্য এবং নিম্নবর্ণিত কার্যসমূহও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা: -
(২০) ‘‘প্রপেলার’’ অর্থে প্রপেলারের খুচরা যন্ত্রাংশ, আনুষঙ্গিক ও সহায়ক সরঞ্জামও ইহা অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২১) ‘‘বিদেশি এয়ার অপারেটর’’ অর্থ এমন কোন এয়ার অপারেটর যিনি কোন রাষ্ট্র কর্তৃক অন্য কোন রাষ্ট্রের আকাশ সীমায় বিমান পরিচালনার জন্য এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত হইয়াছেন;
(২২) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(২৩) ‘‘বিপজ্জনক পণ্য’’ অর্থ এমন কোন দ্রব্য বা বস্তু যাহা স্বাস্থ্য, সম্পত্তি বা পরিবেশের ক্ষতি করিতে পারে বা উহাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করিতে পারে এবং যাহা আইসিএও এর টেকনিক্যাল নির্দেশনায় বিপজ্জনক পণ্যের তালিকার অন্তর্ভুক্ত বা শ্রেণিভুক্ত;
(২৪) ‘‘বিমান’’ অর্থে কোন যন্ত্র যাহা বাতাসের প্রতিঘাত, ভূ-পৃষ্ঠের বিপরীতে নহে, দ্বারা বায়ুমণ্ডলে ভর করিয়া ভাসিতে পারে, এবং বদ্ধ বা মুক্ত বেলুন, এয়ার শিপ, ঘুড়ি, ড্রোন, গ্লাইডার এবং উড্ডয়নরত যন্ত্রও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২৫) ‘‘বিমান ইঞ্জিন’’ অর্থ এইরূপ কোন ইঞ্জিন যাহা বিমান চালনার জন্য বা বিমান চালনার অভিপ্রায়ে ব্যবহৃত হয়, এবং প্রপেলার ব্যতীত বিমানের সকল খুচরা যন্ত্রাংশ, আনুষঙ্গিক ও সহায়ক সরঞ্জামও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২৬) ‘‘বিমানঘাঁটি’’ অর্থ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিমান অবতরণ বা আগমন, উড্ডয়ন বা প্রস্থান এবং ভূমিতে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত সুনির্দিষ্ট কোন স্থল বা জলভাগ এবং কোন ইমারত, স্থাপনা ও যন্ত্রপাতিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২৭) ‘‘বিমান ছিনতাই’’ অর্থ বলপ্রয়োগ ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে বা যে কোন ধরনের ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে কোন বিমান আটক, নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ বা উহার উদ্যোগ গ্রহণ করা;
(২৮) ‘‘বিমান পরিবহন সেবা’’ অর্থ আকাশপথে যাত্রী, পণ্য, ডাক ও অন্যান্য সামগ্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোন সেবা;
(২৯) ‘‘বিমানবন্দর’’ অর্থ এমন কোন বিমানঘাঁটি, যেখানে বেসামরিক বিমান চলাচলের গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন করা হইয়াছে;
(৩০) ‘‘বিমানের নেভিগেশন’’ অর্থে বিমানের পাইলটিং বা চালনা কার্যও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩১) ‘‘বেসামরিক বিমান’’ অর্থ রাষ্ট্রীয় বিমান ব্যতীত অন্য কোন বিমান;
(৩২) ‘‘বেসামরিক বিমান চলাচল’’ অর্থ সাধারণ বা বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন অথবা এরিয়াল কার্যের উদ্দেশ্যে কোন বেসামরিক বিমান পরিচালনা;
(৩৩) ‘‘বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন’’ অর্থ বিমান কর্তৃক ভাড়া বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে যাত্রী, পণ্য বা ডাক পরিবহনসহ অন্যান্য কার্যক্রম;
[(৩৪) “ব্যক্তি” অর্থ যে কোনো ব্যক্তি বা আইনানুগ ব্যক্তি (legal person), প্রতিষ্ঠানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;]
[(৩৪ক) “যাত্রী সেবা” অর্থ বিমান যাত্রার পূর্ব, যাত্রাকালীন ও যাত্রা পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা, সুবিধা, উপাত্ত সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে প্রদত্ত সকল প্রকার সেবা ও সহায়তা;]
(৩৫) ‘‘রাষ্ট্রীয় বিমান’’ অর্থ শৃঙ্খলা বাহিনী, কাস্টমস এবং বাংলাদেশ সরকারের জন্য ব্যবহৃত বিমান;
(৩৬) ‘‘শিকাগো কনভেনশন’’ অর্থ Convention on International Civil Aviation, 1944;
(৩৭) ‘‘শিকাগো কনভেনশনের পরিশিষ্ট’’ অর্থ আইসিএও কর্তৃক ইস্যুকৃত বেসামরিক বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মানদণ্ড ও সুপারিশ সংবলিত দলিল;
(৩৮) ‘‘সার্টিফিকেট’’, ‘‘লাইসেন্স’’ বা ‘‘পারমিট’’ অর্থ এই আইনের অধীন চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট, লাইসেন্স বা পারমিট;
[(৩৮ক) “সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি [General Sales Agent (GSA)]” অর্থ বাংলাদেশে এক বা একাধিক দেশি বা বিদেশি এয়ার অপারেটরের পক্ষে যাত্রী অথবা কার্গো অথবা যাত্রী ও কার্গো উভয়ের সেবা বিপণন এবং বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত প্রতিনিধি;]
(৩৯) ‘‘সেবা প্রদানকারী সংস্থা’’ অর্থ বিমান চলাচলের পরিসেবা প্রদানকারী যে কোন প্রতিষ্ঠান;
(৪০) ‘‘স্ক্রিনিং’’ অর্থ এইরূপ কোন যন্ত্র বা যন্ত্রের ন্যায় কোন বস্তুর ব্যবহার, যাহা কোন অস্ত্র, বিস্ফোরক বা যন্ত্রপাতি, বস্তু বা সামগ্রী শনাক্ত বা সন্ধান করিতে পারে; এবং
(৪১) ‘‘হেলিপোর্ট’’ অর্থ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কোন হেলিকপ্টার অবতরণ, উড্ডয়ন ও ভূ-পৃষ্ঠে চলাচল করিবার জন্য ব্যবহৃত বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নিমিত্ত বিমানঘাঁটি বা কোন কাঠামোর উপর নির্ধারিত এলাকা।
(১) লাইসেন্স এবং, ক্ষেত্রমত, সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন বিমানবন্দর বা বিমানঘাঁটি পরিচালনা করা যাইবে না।
(২) কোন বিমানবন্দর বা বিমানঘাঁটির লাইসেন্স এবং, ক্ষেত্রমত, সার্টিফিকেটের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর বা বিমানঘাঁটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিয়াছে তাহা হইলে তিনি উহার অনুকূলে লাইসেন্স এবং, ক্ষেত্রমত, সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন।
(১) এই আইনের অধীন কোন বেসামরিক বিমান নিবন্ধিত না হইলে বাংলাদেশে উহা পরিচালনা করা যাইবে না।
(২) কোন বেসামরিক বিমান নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হইয়াছে তাহা হইলে তিনি উক্ত বিমান নিবন্ধন করিবেন এবং নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন।
(৪) কোন বেসামরিক বিমান এই আইনের অধীন নিবন্ধিত হইলে উহা বাংলাদেশী বিমান হিসাবে স্বীকৃত হইবে।
(৫) কোন বিদেশি রাষ্ট্রের আইনের অধীন নিবন্ধিত বিমানের ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(১) লাইসেন্স এবং, ক্ষেত্রমত, সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি এয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন না।
(২) এয়ারম্যান লাইসেন্স এবং, ক্ষেত্রমত, সার্টিফিকেটের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আবেদনকারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিয়াছেন তাহা হইলে তিনি আবেদনকারীর বরাবর এয়ারম্যান লাইসেন্স এবং, ক্ষেত্রমত, সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন।
(৪) কোন বিদেশি নাগরিক এয়ারম্যান লাইসেন্স এবং, ক্ষেত্রমত, সার্টিফিকেটের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিলে চেয়ারম্যান যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবেন সেইরূপ বিধি-নিষেধ আরোপপূর্বক উক্ত বিদেশি নাগরিক বরাবর এয়ারম্যান লাইসেন্স এবং, ক্ষেত্রমত, সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন।
(১) এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট ব্যতীত বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোন বেসামরিক বিমান পরিচালনা করা যাইবে না।
(২) এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেটের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, সংশ্লিষ্ট বিমান নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিয়াছে তাহা হইলে তিনি উহার অনুকূলে এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন।
(১) এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন করিতে পারিবেন না।
(২) এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেটের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তপূরণ সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আবেদনকারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিয়াছেন তাহা হইলে তিনি অবেদনকারীর বরাবর তাহার অনুকূলে এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন।
(১)সার্টিফিকেট ব্যতীত বেসমারিক বিমান পরিচালনা সংক্রান্ত কোন প্রশিক্ষণ সংস্থা বা বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থা পরিচালনা করা যাইবে না।
(২) বেসামরিক বিমান পরিচালনা সংক্রান্ত কোন প্রশিক্ষণ সংস্থা বা বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থার সার্টিফিকেটের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ সংস্থা বা বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিয়াছে তাহা হইলে তিনি উহার অনুকূলে সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন।
(৪) চেয়ারম্যান নির্ধারিত পদ্ধতিতে বেসামরিক বিমান পরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সংস্থা এবং বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থাসমূহের রেটিং এর ব্যবস্থা করিবেন।
(১) পারমিট ব্যতীত কোন বিদেশি এয়ার অপারেটর বাংলাদেশে কোন বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন সেবা প্রদান করিতে পারিবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশে কোন বিদেশি এয়ার অপারেটর কর্তৃক সিডিউল ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সহিত বিমান চলাচল চুক্তি থাকিতে হইবে।
(২) বিদেশি এয়ার অপারেটরকে পারমিটের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, সংশ্লিষ্ট বিদেশি এয়ার অপারেটর নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিয়াছে তাহা হইলে তিনি উহার অনুকূলে পারমিট ইস্যু করিবেন।
[(৪) কোনো বিদেশি এয়ার অপারেটর বাংলাদেশে বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন সেবা প্রদান করিতে চাহিলে উহাকে বাংলাদেশে নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন অথবা বাংলাদেশি নাগরিকের শতভাগ মালিকানাধীন ও বাংলাদেশে নিবন্ধিত এক বা একাধিক সংস্থাকে সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে নিয়োগপূর্বক কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে
(৫) কোনো দেশি এয়ার অপারেটর, প্রয়োজনে, সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগের পূর্বেই সংশ্লিষ্ট এয়ার অপারেটর উক্ত বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবে এবং কর্তৃপক্ষ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও শর্তাধীনে, সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিবন্ধন প্রদানসহ উহার কার্যক্রম তদারকি করিবে।]
[(৬) আপতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো দেশি বা বিদেশি এয়ার অপারেটর সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করিয়া তাহার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করিলে এবং উক্ত এয়ার অপারেটর ও উক্ত সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধির মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে বা সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধির নিবন্ধন বাতিল ঘোষিত হইলে উক্ত এয়ার অপারেটরের বিমান পরিবহন সেবা বন্ধ করা যাইবে না।
(৭) এই ধারার অন্যান্য উপ-ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উদ্ধৃত কোনো বিরোধ বা নিবন্ধন বাতিলের কারণে কোনো সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধির নিকট হইতে সেবা গ্রহণ করা সম্ভব না হইলে সংশ্লিষ্ট এয়ার অপারেটর, এই ধারার বিধানাবলি প্রতিপালন সাপেক্ষে, সাময়িকভাবে নূতন সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করিতে পারিবে।]
[৯ক। (১) নিবন্ধন ব্যতিরেকে কোনো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডার বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে না।
(২) কোনো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডারকে নিবন্ধনের জন্য, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও শর্তাধীনে, চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, সংশ্লিষ্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডার বিধি দ্বারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিয়াছে, তাহা হইলে তিনি উক্ত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডারকে নিবন্ধন সনদ প্রদান করিবেন।
(১) কোনো ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল এই আইনের অধীন নিবন্ধন ব্যতিরেকে বাংলাদেশে উহার কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে না।
(২) কোনো ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলকে নিবন্ধনের জন্য, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও শর্তপূরণ সাপেক্ষে, চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল বিধি দ্বারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিয়াছে, তাহা হইলে তিনি উহাকে নিবন্ধন সনদ প্রদান করিবেন।
(৪) Application Programming Interface (API) ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, ইন্টারফেস, ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল-কে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কারিগরি স্পেসিফিকেশন, সাইবার সুরক্ষা পলিসি ও ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা মানিয়া চলিতে হইবে।
(৫) চেয়ারম্যান, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এয়ার অপারেটরের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেমের সহিত যুক্ত টিকেট ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের বুকিং, ব্লকিং ও মূল্য সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজে বা ডেটাফিল্ডে এপিআই এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে নিরীক্ষা ও তদারকির জন্য তাৎক্ষণিক প্রবেশ (real time access) করিতে পারিবেন।
(৬) কোনো নিবন্ধিত ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের বিরুদ্ধে জনস্বার্থের পরিপন্থি কর্মকান্ডের প্রমাণ প্রাপ্ত হইলে চেয়ারম্যান, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্ত এয়ার অপারেটরের ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে বিদ্যমান সকল বুকিং জনস্বার্থে অক্ষুণ্ণ রাখিয়া বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাহার নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবেন।]
এই আইনের অধীন লাইসেন্স, সার্টিফিকেট, নিবন্ধন সার্টিফিকেট, পারমিটের আবেদন ও প্রদানের পদ্ধতি, শর্ত, ফি এবং উহাদের মেয়াদ ও নবায়ন সম্পর্কিত বিষয় শিকাগো কনভেনশনের সংশ্লিষ্ট পরিশিষ্ট এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে এএনও দ্বারা নির্ধারিত হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কোন লাইসেন্সি, সার্টিফিকেটধারী বা পারমিটধারী এই আইন, বিধি বা এএনও-এর কোন বিধান অথবা লাইসেন্স, সার্টিফিকেট বা পারমিটের কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে চেয়ারম্যান-
(২) সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সি, সার্টিফিকেটধারী বা পারমিটধারীকে কারণ দর্শানো ও যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন লাইসেন্স, সার্টিফিকেট বা পারমিট স্থগিত, প্রত্যাহার বা বাতিল অথবা সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সি, সার্টিফিকেটধারী বা পারমিটধারীর উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, চেয়ারম্যান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, লাইসেন্স, সার্টিফিকেট বা পারমিটের কোন শর্ত ভঙ্গ এইরূপ প্রকৃতির হয় যাহাতে বিমানে আরোহণকৃত অথবা ভূমিতে অবস্থানরত কোন ব্যক্তির জীবননাশের সমূহ সম্ভাবনা রহিয়াছে তাহা হইলে, তিনি কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে কোন লাইসেন্স, সার্টিফিকেট বা পারমিট স্থগিত, প্রত্যাহার বা বাতিল অথবা সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সি, সার্টিফিকেটধারী বা পারমিটধারীর উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ দ্বারা কোন লাইসেন্সি, সার্টিফিকেটধারী বা পারমিটধারী সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি, আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, চেয়ারম্যানের নিকট বিষয়টি পুনঃবিবেচনার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্তে কোন লাইসেন্সি, সার্টিফিটেকধারী বা পারমিটধারী সংক্ষুব্ধ হইলে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং এইক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) কোন লাইসেন্সি, সার্টিফিটেকধারী বা পারমিটধারী উপ-ধার (১) এর অধীন আরোপিত জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করিলে উহা Public Demands Recovery Act, 1913(Act III of 1913) এর বিধান অনুযায়ী সরকারি দাবি হিসাবে আদায় করা যাইবে।
(৬) এই ধারার অধীন আদায়কৃত জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হইবে।
শিকাগো কনভেনশনভুক্ত রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স, সার্টিফিকেট বা পারমিট চেয়ারম্যান নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক গ্রহণ করিতে পারিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকে শিকাগো কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা পালনকারী হইতে হইবে।
(১) এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর এবং বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে, চেয়ারম্যান তাহার উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পাদন করিতে পারিবেন।
(২) স্ব-উদ্যোগে অথবা কোন অভিযোগের ভিত্তিতে যদি চেয়ারম্যানের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বেসামরিক বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি কারণ উল্লেখপূর্বক উপযুক্ত আদেশ বা নির্দেশনা জারি করিতে পারিবেন।
[১৪। (১) সরকার, যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে।
(২) চেয়ারম্যান শিকাগো কনভেনশনের পরিশিষ্টসমূহ এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে সুরক্ষা, নিরাপত্তা, পরিবেশ ও যাত্রীসেবা সংক্রান্ত এএনও এবং অন্যান্য আদেশ জারি ও সংশোধন করিতে পারিবেন।
(৩) এই ধারার অধীন এএনও প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশনা, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এবং সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিতে হইবে।]
চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমানের মাধ্যমে বিপজ্জনক পণ্যের নিরাপদ পরিবহনের ক্ষেত্রে শিকাগো কনভেনশনে উল্লিখিত বিপজ্জনক পণ্য সংক্রান্ত পরিশিষ্ট ও আইসিএও এর টেকনিক্যাল নির্দেশাবলির প্রতিপালন নিশ্চিত করিবেন।
চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান চলাচলের সুরক্ষা তদারকির বিষয়ে শিকাগো কনভেনশনের Article 83 bis অনুসরণপূর্বক অন্য কোন রাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহিত চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সুরক্ষা তদারকি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা প্রতিপালনে ব্যর্থ রাষ্ট্রের সহিত এইরূপ চুক্তি করা যাইবে না।
(১) চেয়ারম্যান বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন পরিদর্শক নিম্নবর্ণিত কোন বিষয়ে পরিদর্শন এবং দলিল ও রেকর্ডপত্র পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ পরিদর্শন ও পরীক্ষাকালে এতদ্সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিদর্শন এবং দলিল ও রেকর্ডপত্র পরীক্ষাকালে কোন ব্যক্তি বাধা সৃষ্টি করিতে পারিবে না।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিদর্শন বা পরীক্ষান্তে যদি চেয়ারম্যান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে -
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ বিমান, বিমান ইঞ্জিন, প্রপেলার এবং এ্যাপলায়েন্স মেরামতযোগ্য হইলে প্রয়োজনীয় মেরামত করিবার পর চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে উহা পুনরায় ব্যবহার করা যাইবে।
(১) চেয়ারম্যান নিম্নবর্ণিত কোন কারণে কোন এয়ার অপারেটর বা এয়ারম্যানকে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাইবে না মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন, যথা :-
(২) চেয়ারম্যান বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত কোন কারণে কোন বিমান আটক করিতে পারিবে, যথা : -
(১) সরকার নিম্নবর্ণিত কোন বিমানের দুর্ঘটনা ও মারাত্মক ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করিবার লক্ষ্যে শিকাগো কনভেনশনের পরিশিষ্ট-১৩ (Annex-13) অনুসরণপূর্বক একটি কমিটি গঠন করিতে পারিবে, যথা :-
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
সাগরের জলরাশি, সাগর সৈকত বা বেলাভূমিতে পতিত বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের ক্ষেত্রে Bangladesh Merchant Shipping Ordinance, 1983 (Ordinance No. XXVI of 1983) সহ প্রচলিত আইনের বিধানাবলি, প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে, প্রযোজ্য হইবে।
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন বিমানঘাঁটি বা বিমানবন্দরে আগত বা অবস্থিত অথবা বিমানঘাঁটি বা বিমানবন্দর হইতে পরিত্যাগকারী কোন বিমানের মাধ্যমে সৃষ্ট বা ছড়ানো সম্ভাব্য সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধের জন্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্দেশ্যে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) ধারা ২১ এর বিধান সত্ত্বেও, সরকার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, বাংলাদেশ বা ইহার কোন অংশে কোন মারাত্মক মহামারী রোগের প্রাদুর্ভাবের হুমকি রহিয়াছে এবং বিমানের মাধ্যমে উক্ত রোগে আক্রান্ত হইবার বা সংক্রমিত অথবা ছড়াইয়া পড়িবার আশঙ্কা রহিয়াছে তাহা হইলে সরকার, জন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যে কোন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে যে কোন আদেশ, নির্দেশ বা পরিপত্র জারি করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন জারীকৃত আদেশ, নির্দেশ বা পরিপত্র প্রকাশের তারিখ হইতে উহা ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, প্রয়োজনে, উক্ত সময় অনধিক ৩(তিন) মাসের জন্য বর্ধিত করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যুদ্ধ বা জরুরি অবস্থা অথবা জন-নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে নিম্নবর্ণিত যে কোন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন আদেশের ফলে কোন বিমানঘাঁটি, বিমানবন্দর, বিমান প্রশিক্ষণ সংস্থা বা বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হইলে উহাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এর অধীন ক্ষতিগ্রস্ত বিমানঘাঁটি, বিমানবন্দর, বিমান প্রশিক্ষণ সংস্থা বা বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থা কর্তৃপক্ষের সহিত পারষ্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হইবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন পারষ্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হইলে, সরকার, এতদুদ্দেশ্যে, সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য কোন ব্যক্তিকে সালিসকারী হিসাবে নিয়োগ করিবে এবং প্রয়োজনে, সালিসকারীকে সহায়তার জন্য ক্ষতির প্রকৃতি বিবেচনা করিয়া এতদ্বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন সরকার কর্তৃক কোন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করা হইলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি তাহার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করিবার জন্য একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) সালিসের পদ্ধতি এবং সালিসকারী ও বিশেষজ্ঞের সম্মানী সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৭) সালীসকারী কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে।
(৮) এই ধারার অধীন সালিসের ক্ষেত্রে প্রচলিত অন্য কোন আইনের কোন বিধান প্রযোজ্য হইবে
যদি কোন ব্যক্তি এই আইন, তদধীন প্রণীত বিধি বা এএনও এর কোন বিধান অথবা এই আইনের অধীন ইস্যুকৃত কোন সার্টিফিকেট, নিবন্ধন সার্টিফিকেট, লাইসেন্স বা পারমিটের কোন শর্ত লঙ্ঘন করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
যদি কোন ব্যক্তি কোন সার্টিফিকেট, নিবন্ধন সার্টিফিকেট, লাইসেন্স বা পারমিট জাল বা পরিবর্তন করেন বা করিবার চেষ্টা করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
যদি কোন ব্যক্তি―
তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
যদি কোন এয়ার অপারেটর ইচ্ছাকৃতভাবে―
তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত এয়ার অপারেটর অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
যদি কোন ব্যক্তি এই আইন, বিধি বা এএনও এর অধীন আবশ্যকীয় কোন বিষয় বা তদন্তের স্বার্থে তাহার হেফাজতে রাখা কোন রেকর্ডপত্র বা দলিল উপস্থাপন করিতে অথবা উক্তরূপ রেকর্ডপত্র বা দলিলের বিষয়ে তথ্য প্রদান করিতে অস্বীকার করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা বেপরোয়াভাবে এইরূপ কোন কার্য করেন যাহাতে নির্বিঘ্নভাবে বিমান পরিচালনায় অসুবিধা সৃষ্টি হয় এবং উহা দ্বারা কোন মানুষের জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হয় তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অনধিক ৫(পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে দুর্ঘটনা কবলিত কোন বেসামরিক বিমানের কোন যন্ত্রাংশ বা উক্ত বিমানের ভিতর বা বাহির হইতে কোন সম্পত্তি বা মালামাল সরাইয়া ফেলেন বা গোপন করেন বা প্রদান করিতে অস্বীকার করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৭(সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপসারিত যন্ত্রাংশের মূল্যের দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারিত শর্ত প্রতিপালন ব্যতীত বিমানে বিপজ্জনক কোন পণ্য পরিবহন করেন বা করিবার চেষ্টা করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৭(সাত) বৎসর এবং অন্যূন ৩ (তিন) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
যদি কোন বিমানের পাইলট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোন বিমান ভূমি বা পানিতে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি বা সম্পত্তির জন্য বিপজ্জনক পদ্ধতিতে চালনা করেন এবং যদি তিনি প্রমাণ করিতে ব্যর্থ হন যে, বিমানের উক্তরূপ পরিচালনা তাহার প্রত্যক্ষ ত্রুটি বা ব্যর্থতার কারণে সংঘটিত হয় নাই, তাহা হইলে তিনি অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অনধিক ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।
এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত বিমান, বস্তু বা, ক্ষেত্রমত, উপকরণ সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন বা উক্ত অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র করেন বা প্ররোচনা দেন এবং উক্ত ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হয়, তাহা হইলে উক্ত সহায়তাকারী, ষড়যন্ত্রকারী বা প্ররোচনাদানকারী উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
আবহাওয়া এবং অন্য কোন পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় বিমান চলাচলের জন্য যে উচ্চতা যৌক্তিক সেইরূপ উচ্চতার উপর দিয়া কোন বিমান চলাচলকে অথবা উক্ত বিমান সংক্রান্ত সাধারণ ঘটনাকে অনধিকার প্রবেশ বা উপদ্রপ হিসাবে চিহ্নিত করিয়া কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না।
এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) প্রযোজ্য হইবে।
(১) কোন কোম্পানি বা সংস্থা কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে উক্ত কোম্পানি বা সংস্থার এইরূপ মালিক, পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব, অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি বা সংস্থা আইনগত সত্ত্বা হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানি বা সংস্থাকে পৃথকভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শুধু অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘‘কোম্পানি’’ বা ‘‘সংস্থা’’ অর্থে নিগমিত বা নিবন্ধিত হউক বা না হউক এইরূপ যে কোন কোম্পানি বা সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি বা একাধিক ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন এবং সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা সরকারের সম্পূর্ণ বা আংশিক মালিকানাধীন কোন কোম্পানি বা সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(১) বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোন বেসামরিক বিমান এবং উহাতে ব্যবহৃতব্য কোন বিমান ইঞ্জিন, প্রপেলার, এ্যাপলায়েন্স বা খুচরা যন্ত্রাংশের স্বত্ব বা স্বার্থ নির্ধারণকারী দলিলপত্রের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি জাতীয় রেকর্ডিং সিস্টেম থাকিবে এবং কোন দলিল উক্ত সিস্টেমে রেকর্ডভুক্ত না হইলে উহা বৈধ হইবে না।
(২) কোন্ কোন্ দলিল জাতীয় রেকর্ডিং সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হইবে উহা এবং অন্তর্ভুক্তকরণের পদ্ধতি এএনও দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) চেয়ারম্যান, প্রয়োজনে, তাহার কোন ক্ষমতা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের কোন সদস্য, কর্মকর্তা, পরিদর্শক বা ইউনিটকে অর্পণ করিবেন।
(২) চেয়ারম্যান, প্রয়োজনে, তাহার কোন ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তিকে অর্পণ করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ ক্ষমতা এমন কোন কাজের জন্য কোন ব্যক্তিকে অর্পণ করা যাইবে না যাহাতে উক্ত ব্যক্তির স্বার্থ রহিয়াছে।
এই আইন, বিধি, এএনও, নির্দেশনা এবং আদেশ অনুসরণক্রমে প্রত্যেক অপারেটর, সেবা প্রদানকারী সংস্থা উহাদের কার্যক্রম পরিচালনা করিবে এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে ব্যবহৃত সকল অবকাঠামো ও ইকুইপমেন্ট নিয়মিত পরিদর্শন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত করিবে বা করাইবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
এই আইনের অধীন কোন এএনও জারির ক্ষেত্রে শিকাগো কনভেনশনের সংশ্লিষ্ট পরিশিষ্টের মানদণ্ড সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করা সম্ভব না হইলে চেয়ারম্যান, উক্তরূপ বৈসাদৃশ্য সম্পর্কে, আইসিএও কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আইসিএও-কে অবহিত করিবেন।
বাংলাদেশে নেভিগেশনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে নিবন্ধিত নয় এইরূপ কোন বিদেশি বিমানে কোন উদ্ভাবন (invention) ব্যবহারের ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে, Patents And Designs Act, 1911 (Act No. ΙΙ of 1911) এর section 42 এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
[৪৩ক। (১) এয়ার অপারেটরসমূহ, সময় সময়, তাহাদের সকল রুটের সকল শ্রেণির ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ ট্যারিফ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করিবে।
(২) কোনো রুটে একচেটিয়া কারবার, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বা কৃত্রিম সংকট পরিলক্ষিত হইলে, চেয়ারম্যান, জনস্বার্থে, যুক্তিসংগত মূল্য নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, ট্যারিফ অনুমোদনসহ অন্যান্য বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আদেশ জারি করিতে পারিবে।
(৪) কর্তৃপক্ষ ও গ্রাউন্ড অপরেটর কর্তৃক ধার্যকৃত বিভিন্ন প্রকার ফি, চার্জ, রয়্যালটি, প্রিমিয়াম ও ভাড়া নির্ধারণের জন্য সরকার, উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করিবে।
(৫) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত উপদেষ্টা পর্ষদ নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(৬) উপ-ধারা ৫ এর দফা (ক) ও (চ) এর অধীন নিযুক্ত সদস্যগণ তাহাদের নিযুক্তির তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।
(৭) সভাপতি উপদেষ্টা পর্ষদের সভার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করিবেন এবং সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৮) কর্তৃপক্ষ, উপদেষ্টা পর্ষদকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে।
(৯) উপদেষ্টা পর্ষদ বিমানবন্দরের অবস্থান, বিমানের প্রকৃতি, এয়ার অপারেটরের প্রকৃতিসহ এতদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিবেচনা করিয়া সকল ক্ষেত্রে একই প্রকার অথবা, প্রয়োজনে, ভিন্ন প্রকার ফি, চার্জ, রয়্যালটি, প্রিমিয়াম ও ভাড়া আরোপের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ করিবে।
(১০) সরকার, উপ-ধারা (৯) অনুযায়ী প্রাপ্ত সুপারিশের আলোকে কর্তৃপক্ষের ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডারদের জন্য প্রযোজ্যতা অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রকার ফি, চার্জ, রয়্যালটি, প্রিমিয়াম ও ভাড়া নির্ধারণ করিবে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭ (২০১৭ সনের ৩ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ১৭ এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী চেয়ারম্যান উহার তফসিল প্রকাশ করিবেন।
(১১) উপদেষ্টা পর্যদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার, সময় সময়, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রাপ্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডারদের জন্য প্রযোজ্যতা অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রকার ফি, চার্জ, রয়্যালটি, প্রিমিয়াম ও ভাড়া আরোপ করিবে এবং উক্ত আইনের ধারা ১৭ এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী চেয়ারম্যান উহার তফসিল প্রকাশ করিবে।
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার সহিত সঙ্গতি রাখিয়া, বিমান চলাচলের ফলে নিঃসরিত কার্বন ফুটপ্রিন্ট (carbon footprint) হ্রাস করিবার লক্ষ্যে টেকসই বিমান জ্বালানির ব্যবহার ও উন্নয়নের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।
অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো দেশি বা বিদেশি এয়ার অপারেটর ট্রাভেল এজেন্সি স্থাপন করিয়া টিকেটিং ব্যবসার সহিত সম্পৃক্ত হইতে পারিবে না অথবা সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে নিবন্ধিত হইতে পারিবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, ইহা এয়ার অপারেটরদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে টিকেট বিক্রয় অথবা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে অন্য এয়ার অপারেটরের টিকেট বিক্রয়কে বারিত করিবে না।
(১) কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচলকে সেবাবান্ধব করিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, ইত্যাদি ফ্রন্টিয়ার (frontier) প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করিবে, তবে এইক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রচলিত বিধি-বিধান মানিয়া চলিতে হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নূতন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি পরিকাঠামো, নীতিমালা, মান ও নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রণয়ন করিবে।]
(১) সরকার, জনস্বার্থে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে, যে কোন বিমান বা বিমান শ্রেণি এবং যে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তি শ্রেণিকে এই আইন বা বিধি সকল বা যে কোন বিধান হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(২) চেয়ারম্যান, জনস্বার্থে, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে কোন বিমান বা বিমান শ্রেণি এবং যে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তি শ্রেণিকে এএনও-তে বর্ণিত শর্তাবলি প্রতিপালন হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।
[৪৪ক। এই অধ্যাদেশের কোনো বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্তরূপ অসুবিধা দূরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করিতে পারিবে।]
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, সরকার নিম্নবর্ণিত বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা :-
এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখ হইতে ২১ (একুশ) দিন পর কার্যকর হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ২১, ২২ ও ২৩ এর অধীন প্রণীত বিধির ক্ষেত্রে উক্ত বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Civil Aviation Ordinance, 1960 (Ordinance No. XXXII of 1960) রহিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত Ordinance এর অধীন
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।