বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭
কৃষি ও কারিগরি গবেষণার মাধ্যমে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে গবেষণা পরিচালনার জন্য Bangladesh Rice Research Institute Act, 1973 রহিতপূর্বক সময়োপযোগী করিয়া উহা পুনঃপ্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
কৃষি ও কারিগরি গবেষণার মাধ্যমে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে গবেষণা পরিচালনার জন্য Bangladesh Rice Research Institute Act, 1973 রহিতপূর্বক সময়োপযোগী করিয়া উহা পুনঃপ্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু কৃষি ও কারিগরি গবেষণার মাধ্যমে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে গবেষণা পরিচালনার জন্য Bangladesh Rice Research Institute Act, 1973 (Act No. X of 1973) রহিতপূর্বক সময়োপযোগী করিয়া উহা পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭ নামে অভিহিত হইবে। (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে- (১) ‘‘ইনস্টিটিউট’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট; (২) ‘‘কাউন্সিল’’ অর্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ১৩ নং আইন) এর ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল; (৩) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান; (৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান; (৫) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; (৬) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত বোর্ড; (৭) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক।
Section ৩. ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা
(১) Bangladesh Rice Research Institute Act, 1973 (Act No. X of 1973) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। (২) ইনস্টিটিউট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইনস্টিটিউট ইহার নিজ নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৪. ইনস্টিটিউটের কার্যালয় ও কেন্দ্র
(১) ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় গাজীপুর জেলায় থাকিবে। (২) ইনস্টিটিউট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার আঞ্চলিক কেন্দ্র ও উপকেন্দ্র স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ৫. ইনস্টিটিউটের কার্যাবলি
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইনস্টিটিউটের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:- (১) জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠনসমূহের সহযোগিতায় ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা কর্মসূচি গ্রহণ করা; (২) প্রয়োজনীয় সংখ্যক গবেষণাগার ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা; (৩) ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত ধানের নূতন জাত ও প্রযুক্তিসমূহের প্রদর্শনী এবং উক্ত বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণের জন্য এলাকা নির্ধারণ ও স্কিম গ্রহণ করা; (৪) ধান উৎপাদনে উন্নত প্রযুক্তির উপর সরকারি বা বেসরকারি কর্মচারী, কৃষক ও দেশি-বিদেশি গবেষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা; (৫) স্নাতকোত্তর গবেষণার সুযোগ-সুবিধার সৃষ্টি করা; (৬) বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা চিহ্নিত সমস্যাবলি সম্পর্কে মত বিনিময় এবং ধানের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক উদ্ভাবনের সহিত পরিচিত হইবার সুযোগ সৃষ্টি করিবার জন্য সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা; (৭) জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলায় ধান গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা; (৮) ধান গবেষণায় জীব প্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) প্রয়োগের মাধ্যমে রোগ ও পোকা-মাকড় প্রতিরোধ এবং খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঠাণ্ডা ও তাপসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ সহিষ্ণু ধানের জাত ও ধান উৎপাদন বিষয়ক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা; (৯) ধানের জার্ম প্লাজম (germ plasm) সংগ্রহ, সংরক্ষণ, মূল্যায়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা ও মেধাসত্ত্ব নিশ্চিত করা; (১০) কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, পুষ্টি, সাপ্লাই ও ভ্যালুচেইন এবং অর্থ-আসামাজিক উন্নয়নের উপর গবেষণা পরিচালনা করা; (১১) ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত ধানের জাতসমূহের দ্রুত বিস্তারের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্রিডার বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ করা; (১২) ধান গবেষণা, শিক্ষা ও সম্প্রসারণে আইসিটি এর প্রয়োগ করা; (১৩) স্থানীয়ভাবে কৃষক কর্তৃক ব্যবহৃত বিভিন্ন ধানের জাত ও প্রযুক্তি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন সাধন করা; (১৪) ধান গবেষণা সংক্রান্ত মনোগ্রাফ, বুলেটিন, শস্য-পঞ্জিকা ও অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করা; (১৫) সরকার কর্তৃক, সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে উহার উপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা; এবং (১৬) প্রয়োজনীয় অন্য যে কোন কার্য সম্পাদন করা।
Section ৬. কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা প্রতিপালন
(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ইনস্টিটিউট কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ, সুপারিশ বা পরামর্শ প্রতিপালন করিবে: তবে শর্ত থাকে যে, ইনস্টিটিউটের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে উক্তরূপ কোন সুপারিশ বা পরামর্শ প্রতিপালন করা সম্ভব নয় তাহা হইলে ইনস্টিটিউট, অনতিবিলম্বে, কারণ উল্লেখপূর্বক উহার মতামত কাউন্সিলকে অবহিত করিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর শর্তাংশের অধীন ইনস্টিটিউটের নিকট হইতে প্রাপ্ত মতামত বিবেচনা করিয়া কাউন্সিল তদ্কর্তৃক প্রদত্ত কোন সুপারিশ বা পরামর্শ সংশোধন বা বাতিল করিতে পারিবে বা উক্ত বিষয়ে নূতন কোন সুপারিশ বা পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ৭. বোর্ড গঠন
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ইনস্টিটিউটের বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-
Section ৮. বোর্ডের কার্যাবলি
বোর্ডের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:- (১) গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণ; (২) ইনস্টিটিউটের কার্যাবলির তত্ত্বাবধান এবং দিক নির্দেশনা প্রদান; (৩) ইনস্টিটিউটের নীতিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান; (৪) ইনস্টিটিউটের প্রস্তাবিত নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন; (৫) সরকারের নিকট হইতে বা অন্য কোন উৎস হইতে অনুদান গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন; (৬) ঋণ গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন; (৭) সরকারের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন; (৮) ফেলোশিপ প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন; (৯) বিদেশে উচ্চ শিক্ষা বা গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব অনুমোদন; (১০) প্রকল্প অনুমোদন।
Section ৯. বোর্ডের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে। (২) বোর্ড প্রতি ৪(চার) মাস পর পর সভায় মিলিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত হইবে। (৩) বোর্ডের সদস্য-সচিব, চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, লিখিত নোটিশ দ্বারা বোর্ডের সভা আহবান করিবেন। (৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে চেয়ারম্যান এর অনুপস্থিতিতে উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক, তাহাদের মধ্য হইতে, মনোনীত কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন। (৫) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন অর্ধেক সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না। (৬) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতি নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন। (৭) কেবল কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদ্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ১০. মহাপরিচালক
(১) ইনস্টিটিউটের একজন মহাপরিচালক থাকিবে। (২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির মেয়াদ ও শর্তাবলী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে। (৩) মহাপরিচালক ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি -
Section ১১. পরিচালক, উপদেষ্টা ও পরামর্শক
ইনস্টিটিউটের কার্যাবলি দক্ষভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচালক, উপদেষ্টা ও পরামর্শক থাকিবে এবং তাহারা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকুরির মেয়াদ ও শর্তাবলী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
Section ১২. কর্মচারী নিয়োগ
(১) ইনস্টিটিউট উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে। (২) কর্মচারীদের নিয়োগ এবং চাকরির শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৩. তহবিল
(১) ইনস্টিটিউটের একটি তহবিল থাকিবে যাহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) তহবিলের সকল অর্থ কোন তফসিলি ব্যাংকে ইনস্টিটিউটের নামে জমা রাখিতে হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করা হইবে। ব্যাখ্যা।- ‘‘তফসিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে। (৩) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।
Section ১৪. বাজেট
ইনস্টিটিউট প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বাৎসরিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ইনস্টিটিউটের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহাও উল্লেখ থাকিবে।
Section ১৫. হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা
(১) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ইনস্টিটিউট উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে। (২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর ইনস্টিটিউটের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও ইনস্টিটিউটের নিকট প্রেরণ করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ইনস্টিটিউটের সকল রেকর্ড, দলিল, দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং বোর্ডের যে কোন সদস্য বা ইনস্টিটিউটের যে কোন কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন। (৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President’s Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা ইনস্টিটিউটের হিসাব নিরীক্ষা করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্য ইনস্টিটিউট এক বা একাধিক Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবে। (৫) ইনস্টিটিউট, যথাশীঘ্র সম্ভব, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত কোন ত্রুটি বা অনিয়ম প্রতিকার করিবার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
Section ১৬. প্রতিবেদন
(১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৪ (চার) মাসের মধ্যে ইনস্টিটিউট উক্ত বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে এবং সরকার উহা জাতীয় সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবে। (২) সরকার, প্রয়োজনে, ইনস্টিটিউটের নিকট হইতে যে কোন সময় ইনস্টিটিউটের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন ও বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং ইনস্টিটিউট উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ১৭. কমিটি
ইনস্টিটিউট উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদানের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
Section ১৮. ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইনস্টিটিউট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহা পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ১৯. চুক্তি সম্পাদন
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইনস্টিটিউট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে।
Section ২০. বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চ শিক্ষা
(১) ইনস্টিটিউট, বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে, উহার বিজ্ঞানীদের জন্য প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চ শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে। (২) কোন বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রশিক্ষণ বা গবেষণার জন্য মনোনীত হইলে এবং উক্ত ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হইলে ইনস্টিটিউট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উহার সমুদয় বা অংশবিশেষ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ২১. গবেষক বা প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ
ইনস্টিটিউট, নিজস্ব জনবল দ্বারা সক্ষম না হইলে, ধান সম্পর্কিত উদ্ভূত কোন সমস্যা নিরসন বা উহার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কোন প্রযুক্তি বা কৌশল উদ্ভাবনের জন্য, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গবেষক বা প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ করিতে পারিবে।
Section ২২. ফেলোশিপ প্রদান
ইনস্টিটিউট সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে ও তদ্কর্তৃক স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয় হইতে কৃষি বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে সাফল্য ও কৃতিত্বের সহিত ডিগ্রি অর্জনকারী ব্যক্তিদের, ইনস্টিটিউটের উদ্দেশ্যের সহিত সম্পর্কিত বিষয়ে দক্ষ বিজ্ঞানী, গবেষক এবং প্রযুক্তিবিদ হিসাবে গড়িয়া তুলিবার লক্ষ্যে, ফেলোশিপ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ২৩. ক্ষমতা অর্পণ
বোর্ড, প্রয়োজনে, উহার কোন ক্ষমতা, লিখিত আদেশ দ্বারা ও নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, উহার কোন সদস্য, কর্মচারী বা কোন কমিটিকে অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ২৪. জনসেবক
ইনস্টিটিউটের সকল কর্মচারী, উপদেষ্টা ও পরামর্শক এবং ইনস্টিটিউটের পক্ষে কোন কাজ করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তি Penal Code (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে জনসেবক (public servant) বলিয়া গণ্য হইবেন।
Section ২৫. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২৬. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইনস্টিটিউট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২৭. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) Bangladesh Rice Research Institute Act, 1973 (Act No. X of 1973), অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Act এর অধীন -
Section ২৮. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে। (২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।