বীজ আইন, ২০১৮
Seeds Ordinance, 1977 রহিতক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক যুগোপযোগী করিয়া পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
Seeds Ordinance, 1977 রহিতক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক যুগোপযোগী করিয়া পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৭৯ সনের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারীকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ৩ক ও ১৮ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় এবং সিভিল আপিল নং ১০৪৪-১০৪৫/২০০৯ তে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (পঞ্চম সংশোধন) আইন, ১৯৭৯ (১৯৭৯ সনের ১ নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং যেহেতু ২০১৩ সনের ৬নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হয়; এবং যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং যেহেতু কোনো ফসল বা জাতের বীজ উৎপাদন, বিক্রয়, সংরক্ষণ, আমদানি, রপ্তানি, বিনিময় বা অন্যভাবে সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ন্ত্রণ এবং উহার মানদণ্ড নির্ধারণের বিষয়ে বিধান করা আবশ্যক; এবং যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে Seeds Ordinance, 1977 (Ordinance No. XXXIII of 1977) রহিতক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক যুগোপযোগী করিয়া পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বীজ আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে। (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে- (১) ‘‘অধ্যাদেশ’’ অর্থ Seeds Ordinance, 1977 (Ordinance No. XXXIII of 1977); (২) ‘‘কৃষি’’ অর্থ খাদ্য ও আঁশ জাতীয় ফসল উৎপাদন, এবং উদ্যান ফসল (Horticul-ture) উৎপাদনও ইহার অন্তর্ভূক্ত হইবে; (৩) ‘‘জাত’’ অর্থ বৃদ্ধি, ফলন, চারা, ফল, বীজ বা অন্যান্য চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র একটি শ্রেণির কোনো উপ-বিভাগ; (৪) ‘‘ধারক’’ অর্থ থলে, পিপা, বোতল, বাক্স, খাঁচা, প্যাকেট, বস্তা, টিন, পাত্র, আধার, মোড়ক ঝুড়ি, কলসি, কোলা, টুকরি, পাতি বা অন্য কোনো আধার বা পাত্র যাহার মধ্যে কোনো কিছু রাখা বা মোড়কীকরণ করা যায়; (৫) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত; (৬) ‘‘নিবন্ধন সনদ’’ অর্থ ধারা ৮ অনুসারে বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত কোন নিবন্ধন সনদ; (৭) ‘‘নিয়ন্ত্রিত ফসল বা জাত’’ অর্থ ধারা ৭ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত কোনো ফসল বা জাত; (৮) ‘‘ফসল’’ অর্থ এক বা একাধিক সংশ্লিষ্ট প্রজাতি বা উপ-প্রজাতি যাহা প্রত্যেকটি এককভাবে বা সমষ্টিগতভাবে একটি সাধারণ নামে পরিচিত, যেমন, ধান, গম, আলু, ভুট্টা ইত্যাদি; (৯) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থে কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, সমিতি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা অন্য কোনো সংস্থাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (১০) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন গঠিত জাতীয় বীজ বোর্ড; (১১) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; (১২) ‘‘বীজ’’ অর্থ মাদকদ্রব্য অথবা চেতনানাশক হিসাবে ব্যবহার ব্যতীত, পুনঃউৎপাদন এবং চারা তৈরিতে সক্ষম নিম্নবর্ণিত যে কোনো জীবিত ভ্রুণ বা বংশ বিস্তারের একক (প্রপাগিউল), যেমন-
Section ৩. জাতীয় বীজ বোর্ড
(১) এই আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও যথাযথ প্রয়োগের বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদান এবং এই আইনের অধীন অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে সরকার উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় বীজ বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করিবে। (২) বোর্ডে নিম্নবর্ণিত সদস্য থাকিবেন, যথা :-
Section ৪. বোর্ডের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে। (২) বোর্ডের সভা-চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, উহার সচিব কর্তৃক আহূত হইবে এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে। (৩) প্রতি ৬ (ছয়) মাসে বোর্ডের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের নোটিশে বোর্ডের সভা আহ্বান করা যাইবে। (৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন। (৫) অন্যূন ১৪ (চৌদ্দ) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বোর্ডের সভার কোরাম গঠিত হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না। (৬) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে। (৭) বোর্ড উহার সভায় কোনো আলোচ্য বিষয় সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বা বিশেষ অবদান রাখিতে সক্ষম এইরূপ যে কোনো বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে সভায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে এবং উক্ত ব্যক্তি সভার আলোচনায় অংশগ্রহণপূর্বক মতামত প্রদান করিতে পারিবেন, তবে তাহার কোনো ভোটাধিকার থাকিবে না। (৮) কেবল বোর্ডের কোনো সদস্য পদের শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা গৃহীত কোনো কার্যধারা বাতিল হইবে না বা তদ্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ৫. সচিবের দায়িত্ব
সচিব,-
Section ৬. কমিটি গঠন
(১) বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উহার কার্যাবলী সম্পাদনে সহায়তা করিবার জন্য বোর্ডের সদস্য সমন্বয়ে অথবা বোর্ডের সদস্য ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে অথবা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির সমন্বয়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত কমিটির সদস্য সংখ্যা, দায়িত্ব এবং কর্মপরিধি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
Section ৭. বীজের জাত ও মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা
(১) সরকার কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার্য এবং বিক্রয়যোগ্য যে কোনো ফসল বা জাতের বীজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করিবে। (২) সরকার, বোর্ডের সহিত পরামর্শক্রমে, যদি এই মর্মে মনে করে যে, কোনো ফসল বা জাতের বীজ বিক্রয়, বিতরণ, বিনিময়, আমদানি ও রপ্তানি বা অন্য কোনো ভাবে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন বা সমীচীন, তাহা হইলে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত ফসল বা জাতকে নিয়ন্ত্রিত ফসল বা জাত হিসাবে নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং ভিন্ন ভিন্ন এলাকার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ফসল বা জাত নিয়ন্ত্রিত হিসাবে নির্ধারণ করিতে পারিবে। (৩) কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক উদ্ভাবিত নিয়ন্ত্রিত ফসলের নূতন জাত বোর্ড কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বোর্ডের অনুমোদনক্রমে ছাড়কৃত ও বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধিত হইবে। (৪) কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক আমদানিকৃত বা স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত অনিয়ন্ত্রিত ফসলের নূতন জাত নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার বৈশিষ্ট্যসহ নিবন্ধিত হইতে হইবে। (৫) কোনো ফসল বা জাতের বীজ কৃষির জন্য ক্ষতিকর বা সম্ভাব্য ক্ষতিকর বলিয়া প্রতীয়মান হইলে বোর্ড, আদেশ দ্বারা, উহার বিক্রয়, বিতরণ, বিনিময়, আমদানি বা অন্য যে কোনো উপায়ে উহার সরবরাহ নিষিদ্ধ করিতে বা অন্য যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে। ব্যাখ্যা।- ‘অনিয়ন্ত্রিত ফসল’ অর্থে নিয়ন্ত্রিত ফসল বা জাত নয় এমন কোনো ফসল বা বীজের জাত ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
Section ৮. বীজ ডিলারের নিবন্ধন
(১) কোনো ব্যক্তি নিবন্ধন সনদ ব্যতীত বীজ ডিলার হিসাবে ব্যবসা করিতে পারিবেন না। (২) কোনো ব্যক্তি বীজ ডিলার হিসাবে ব্যবসা করিতে চাহিলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফি প্রদান সাপেক্ষে, নিবন্ধনের জন্য বোর্ডের নিকট আবেদন করিবে। (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর বোর্ড, আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাবলী পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক, নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও মেয়াদে, আবেদনকারীকে বীজ ডিলার হিসাবে নিবন্ধন সনদ প্রদান করিবে।
Section ৯. বীজের শ্রেণিবিন্যাস
সরকার, বোর্ডের সহিত পরামর্শক্রমে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উৎসের ভিত্তিতে বীজের শ্রেণিবিন্যাস করিতে পারিবে।
Section ১০. বীজের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নির্ধারণ, ইত্যাদি
সরকার, বোর্ডের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বীজের গুণগতমান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি নির্ধারণ করিতে পারিবে, যথা:-
Section ১১. নিয়ন্ত্রিত ফসলের বীজের বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ
বীজ ডিলার স্বয়ং বা তাহার পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি নিয়ন্ত্রিত ফসলের বীজ বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য সংরক্ষণ ও প্রস্তাব, বিনিময়, আমদানি, রপ্তানি বা অন্য কোনোভাবে সরবরাহের ব্যবসা করিতে পারিবেন না, যদি না-
Section ১২. বীজ পরীক্ষাগার
(১) অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত সরকারি বীজ পরীক্ষাগার এমনভাবে বহাল থাকিবে এবং কার্যক্রম পরিচালনা করিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। (২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, প্রয়োজনবোধে, যে কোনো স্থানে সরকারি বীজ পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে। (৩) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে কোনো বীজ পরীক্ষাগারকে, প্রয়োজনবোধে, সরকারি বীজ পরীক্ষাগার হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।
Section ১৩. বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি
(১) অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, জেলা বা শাখা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। (২) অন্যান্য বিষয়াদির মধ্যে, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
Section ১৪. বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি কর্তৃক সনদপত্র প্রদান
(১) কোনো ফসল বা জাতের বীজ বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য সংরক্ষণ, বিক্রয়ের প্রস্তাব, বিনিময় অথবা অন্য কোনোভাবে সরবরাহ করেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি বীজ প্রত্যয়ন করাইতে চাহিলে তিনি এতদুদ্দেশ্যে সনদপত্র প্রাপ্তির জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফি প্রদান সাপেক্ষে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির নিকট আবেদন করিতে পারিবেন। (২) সনদপত্রের জন্য আবেদন প্রাপ্ত হইবার পর বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি যাচাই-বাছাইক্রমে যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী ধারা ১০ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মানদন্ড নিশ্চিত করিয়াছেন, তাহা হইলে নির্ধারিত শর্তে সনদপত্র ইস্যু করিবেন এবং মানদন্ড নিশ্চিত না হইলে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আবেদনটি নামঞ্জুর করিবেন।
Section ১৫. সনদপত্র বাতিল
যদি কোনো ব্যক্তি- (১) ভুল, অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করিয়া ধারা ১৪ এর অধীন সনদপত্র গ্রহণ করেন, (২) সনদপত্রে উল্লিখিত শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হন, বা (৩) এই আইন বা বিধির কোন বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে, এই আইনের অধীন আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করিবার ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি উক্ত ব্যক্তিকে যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শাইবার সুযোগ প্রদান করিয়া, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রদত্ত সনদপত্র বাতিল করিবে।
Section ১৬. আপিল
(১) ধারা ১৫ এর অধীন বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি কর্তৃক প্রদত্ত কোনো সিদ্ধান্তের দ্বারা কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং উক্ত আপিল নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করিতে হইবে : তবে শর্ত থাকে যে, আপিল কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলকারীর আপিল দায়ের না করিবার যথাযথ কারণ বিদ্যমান ছিল, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদ আরও ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবস পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আপিল প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করিতে হইবে এবং আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ১৭. বিদেশি বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রের স্বীকৃতি
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, বোর্ডের সুপারিশক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিদেশে প্রতিষ্ঠিত কোনো বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রকে নির্ধারিত শর্তপূরণ সাপেক্ষে স্বীকৃতি প্রদান করিতে পারিবে।
Section ১৮. বীজ পরিদর্শক
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কর্মের অধিক্ষেত্র নির্দিষ্টকরণপূর্বক নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বীজ পরিদর্শকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।
Section ১৯. বীজ পরিদর্শকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
(১) বীজ পরিদর্শক নিম্নবর্ণিত ব্যক্তির নিকট হইতে যে কোনো ফসল বা জাতের বীজের নমুনা সংগ্রহ করিতে পারিবেন, যথা:―
Section ২০. বীজ পরিদর্শক কর্তৃক অনুসরণীয় পদ্ধতি
(১) বীজ পরিদর্শক কোনো ফসল বা জাতের বীজের নমুনা বিশ্লেষণের জন্য সংগ্রহ করিতে চাহিলে, তিনি―
Section ২১. বীজ বিশ্লেষক
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কর্মের অধিক্ষেত্র নির্দিষ্টকরণপূর্বক নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বীজ বিশ্লেষকের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।
Section ২২. বীজ বিশ্লেষকের প্রতিবেদন
(১) বীজ বিশ্লেষক ধারা ২০ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (খ) এর অধীন বীজের নমুনাপ্রাপ্ত হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভম বীজ পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করিবেন এবং উহার ফলাফলের প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি নির্ধারিত ফরমে বীজ পরিদর্শকের নিকট এবং অপর একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বীজের মালিকের নিকট প্রেরণ করিবেন। (২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন মামলা দায়ের হইবার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্ধারিত ফি পরিশোধ সাপেক্ষে, ধারা ২০ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) বা (খ) এ উল্লিখিত যে কোনো একটি নমুনা বীজ পরীক্ষাপূর্বক প্রতিবেদন লাভের উদ্দেশ্যে পরীক্ষাগারে প্রেরণ করিবার জন্য আদালতে আবেদন করিতে পারিবেন এবং আদালত উক্ত আবেদনপ্রাপ্ত হইবার পর ধারা ২০ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) অনুসারে প্রদত্ত সীল ও চিহ্ন অথবা বাঁধন অক্ষুণ্ণ রহিয়াছে কি না তৎসম্পর্কে নিশ্চিত হইয়া, উহার নিজস্ব সিলসহ সংশ্লিষ্ট নমুনা বীজ পরীক্ষাগারে প্রেরণ করিবেন। (৩) বীজ বিশ্লেষক উপ-ধারা (২) এর অধীন নমুনা বীজ প্রাপ্ত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে বীজ বিশ্লেষণের প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করিবেন। (৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত বীজ বিশ্লেষকের প্রতিবেদন উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত বীজ বিশ্লেষকের প্রতিবেদনের উপর প্রাধান্য পাইবে।
Section ২৩. বীজ আমদানি ও রপ্তানি
(১) ধারা ১০ এ বর্ণিত বীজের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নিশ্চিত না করিলে এবং উক্ত বীজের ধারকে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে সঠিক তথ্যাবলি সংবলিত লেবেল বা চিহ্ন না থাকিলে কোনো ব্যক্তি, কোনো শ্রেণি বা জাতের বীজ আমদানি বা রপ্তানি করিতে বা করাইতে পারিবেন না। (২) ধারা ১০ এ বর্ণিত মানদণ্ডের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, গবেষণা বা অভিযোজন ক্ষমতা পরীক্ষার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও পরিমাণে বীজ আমদানি করা যাইবে। (৩) ধারা ১০ এর দফা (খ) অনুসারে বীজের নির্ধারিত মানদণ্ড নিশ্চিত করা সাপেক্ষে, অনিয়ন্ত্রিত ফসলের বীজ আমদানির ক্ষেত্রে কোনো বিধি নিষেধ প্রযোজ্য হইবে না। (৪) এই আইনের অধীন বীজ আমদানি ও রপ্তানি করিবার ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ, রপ্তানি নীতি এবং উদ্ভিদ সংগনিরোধ আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ৫নং আইন) এবং তদধীন প্রণীত বিধি প্রযোজ্য হইবে।
Section ২৪. অপরাধ ও দণ্ড
(১) যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন বীজ পরিদর্শকের উপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করেন বা অন্য কোনোভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ন্ত্রিত ফসলের বীজের বিক্রয়ের কোনো শর্ত লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তি অনধিক ৯০ (নববই) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
Section ২৫. অপরাধ সংঘটনে সহায়তার দণ্ড
যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে অন্য কোন ব্যক্তিকে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অপরাধ সংঘটনকারীর সমপরিমাণ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
Section ২৬. অপরাধ পুনঃসংঘটনের দণ্ড
এই আইনে উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য পূর্বে দোষী সাব্যস্ত কোন ব্যক্তি যদি পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
Section ২৭. অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ
Code of Criminal Procedure,1898 (Act No. V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্ধারিত পদ্ধতিতে বীজ পরিদর্শকের লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।
Section ২৮. মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ
এই আইনের অন্য কোনো বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত করিয়া বিচার করা যাইবে।
Section ২৯. কোম্পানি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ
কোন কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত কোম্পানির মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা যিনি এই অপরাধ সংঘটনকালে কোম্পানির ব্যবসায় পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, তিনি অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছিল অথবা তিনি উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করিয়াছিলেন। ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে- (১) ‘‘কোম্পানি’’ অর্থ সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং কোনো ফার্ম অথবা এইরূপ কোনো ব্যক্তিসংঘও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং (২) ‘‘পরিচালক’’ অর্থ ফার্মের ক্ষেত্রে, ফার্মের অংশীদার।
Section ৩০. অপরাধের আমলযোগ্যতা
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (non-cognizable) ও জামিনযোগ্য (bailable) হইবে।
Section ৩১. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৩২. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সংগে সংগে Seeds Ordinance, 1977 (Ordinance No. XXXIII of 1977), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন,-