বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও সনদের সহিত সঙ্গতিপূর্ণক্রমে প্রবাসী ও তাহাদের উপর নির্ভরশীলদের সুরক্ষা ও কল্যাণ সাধনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও সনদের সহিত সঙ্গতিপূর্ণক্রমে প্রবাসী ও তাহাদের উপর নির্ভরশীলদের সুরক্ষা ও কল্যাণ সাধনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
(১) এই আইন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে -
(১) ‘‘অভিবাসী’’ অর্থ বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যিনি কোনো কাজ বা পেশায় নিযুক্ত হইবার উদ্দেশ্যে বিদেশে গমন করিয়াছেন এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রে অবস্থান করিতেছেন;
(২) ‘‘অভিবাসী কর্মী’’ অর্থ বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যিনি অন্য কোনো রাষ্ট্রে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে-
(৩) ‘‘তহবিল’’ অর্থ ধারা ১৪ এর অধীন গঠিত তহবিল;
(৪) ‘‘নির্ভরশীল’’ অর্থ অভিবাসীর স্ত্রী বা স্বামী এবং মাতা, পিতা, ক্ষেত্রমত, সন্তান, ভাই, বোন বা যাহারা উক্ত ব্যক্তির উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল;
(৫) ‘‘পরিচালনা পরিষদ’’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত পরিচালনা পরিষদ;
(৬) ‘‘প্রবাসী’’ অর্থ অভিবাসী ও অভিবাসী কর্মী;
(৭) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৮) ‘‘বহির্গমন’’ অর্থ কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের দেশের বাহিরে গমন;
(৯) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১০) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড;
(১১) ‘‘ব্যুরো’’ অর্থ Ministry of Health, Population Control and Labour এর স্মারক No. VIII/E-4/76/296, Dated 3-4-1976 দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো;
(১২) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ বোর্ডের মহাপরিচালক;
(১৩) ‘‘রিক্রুটিং এজেন্ট’’ অর্থ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৮ নং আইন) এর ধারা ৯ এর অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি; এবং
(১৪) ‘‘সভাপতি’’ অর্থ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি।
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড নামে একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হইবে।
(২) বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং বোর্ড ইহার নিজ নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
(১) বোর্ডের সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন পরিচালনা পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং পরিচালনা পরিষদের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে উক্ত ক্ষমতা মহাপরিচালক কর্তৃক প্রযুক্ত হইবে।
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করিলে মহাপরিচালক, পরিচালনা পরিষদের অনুমতি সাপেক্ষে, তাহার যে কোনো ক্ষমতা ও দায়িত্ব অধীনস্থ কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ গঠিত হইবে, যথা :-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ড) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যে কোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, উক্তরূপ মনোনীত কোনো সদস্যকে সদস্য পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে এবং মনোনীত কোনো সদস্যও সরকারের উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ডের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(১) প্রবাসীদের কল্যাণার্থে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন;
(২) যুদ্ধাবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি লে-অফ বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির কারণে অভিবাসী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং, ক্ষেত্র বিশেষে, দেশে প্রত্যাবর্তনে সহায়তা প্রদান;
(৩) দেশে প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষা ও পুনর্বাসন;
(৪) অভিবাসী কর্মীদের বিদেশ গমনের জন্য প্রাক-বহির্গমন ব্রিফিং সেন্টার স্থাপন, পরিচালনা ও ব্রিফিং প্রদান;
(৫) অভিবাসী কর্মীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিমানবন্দরে এবং প্রয়োজনে অন্যান্য বহির্গমন ও প্রত্যাগমন স্থানে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক স্থাপন ও পরিচালনা;
(৬) বিদেশে কর্মরত কোনো অভিবাসী কর্মী নির্যাতনের শিকার, দুর্ঘটনায় আহত, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হইলে তাহাদেরকে উদ্ধার, দেশে আনয়ন এবং, প্রয়োজনে, আইনগত ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান;
(৭) প্রবাসীদের মৃতদেহ দেশে আনয়ন এবং, প্রয়োজনে, দাফন-কাফন বা অন্তোষ্টিক্রিয়া বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান;
(৮) বিদেশে মৃত্যুবরণকারী অভিবাসী কর্মীর মৃত্যু ও পেশাগত কারণে অসুস্থতাজনিত ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন, ইন্সুরেন্স ও সার্ভিস বেনিফিট আদায়ে সহায়তা এবং নির্ভরশীলদের আর্থিক অনুদান প্রদান;
(৯) প্রবাসীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের ও নির্ভরশীলদের কল্যাণার্থে সহায়তা প্রদান;
(১০) বোর্ডের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন;
(১১) বোর্ডের তহবিলের অর্থ ঝুঁকিমুক্ত ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগ; এবং
(১২) সরকার কর্তৃক প্রবাসীদের জন্য নির্ধারিত অন্যান্য কল্যাণমূলক দায়িত্ব পালন।
নারী অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণে বোর্ডের বিশেষ দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, পরিচালনা পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) প্রতি ২ (দুই) মাসে পরিচালনা পরিষদের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) পরিচালনা পরিষদের সভার কোরামের জন্য অন্যূন ৯(নয়) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
(৪) পরিচালনা পরিষদের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে।
(৫) পরিচালনা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি সভায় তাহার মতামত ব্যক্ত করিতে পারিবেন, তবে তাহার ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে না।
(৬) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা পরিচালনা পরিষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পরিচালনা পরিষদের কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদ্সম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সভাপতি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইলে বোর্ডের পরবর্তী সভায় উহার অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(১) বোর্ডের একজন মহাপরিচালক থাকিবে, যিনি সরকারের যুগ্মসচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।
(২) মহাপরিচালক বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি-
(৩) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোন সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) বোর্ড উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্মচারীদের নিয়োগ এবং চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) বোর্ডের একটি তহবিল থাকিবে যাহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথা :-
(২) তহবিলের সকল অর্থ কোনো তপশিলি ব্যাংকে বোর্ডের নামে জমা রাখিতে হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করা হইবে।
ব্যাখ্যা : ‘‘তপশিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(President's Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।
(৩) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাইবে।
(১) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে বোর্ড উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং বোর্ড উহার উপর মন্তব্য বা আপত্তি, যদি থাকে, সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বোর্ডের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং পরিচালনা পরিষদের যে কোনো সদস্য বা বোর্ডের যে কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President's Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউনটেন্ট দ্বারা বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষা করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে বোর্ড এক বা একাধিক চার্টার্ড একাউনটেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৫) বোর্ড, যথাশীঘ্র সম্ভব, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম প্রতিকার করিবার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৪ (চার) মাসের মধ্যে বোর্ড উক্ত বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, বোর্ডের নিকট হইতে যে কোনো সময় বোর্ডের যে কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন ও বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং বোর্ড উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিবে।
বোর্ড উহার কার্য সম্পাদনে কোনো ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা চাহিলে উক্ত ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান অনুরূপ সহায়তা প্রদান করিবে।
পরিচালনা পরিষদের কোনো সদস্য অথবা বোর্ডের কর্মচারীর কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ অথবা দুর্নীতির কারণে কোনো প্রবাসী, নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তি বা বোর্ডের কোনো সেবা গ্রহণকারী ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা সেবা হইতে বঞ্চিত হইলে অথবা অন্য কোনো কারণে সংক্ষুব্ধ হইলে সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অভিযোগ দায়ের, নিষ্পত্তি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আপিল দায়েরের মাধ্যমে উক্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল বিধিমালা, ২০০২, অতঃপর উক্ত বিধিমালা বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত বিধির অধীনে-
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।