বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন আইন, ২০১৮
Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলী বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলী বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত করিবার জন্য সার, সেচ, বীজ ও উদ্যান উন্নয়ন সংক্রান্ত কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির উৎপাদন, সংগ্রহ, মেরামত প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক; এবং যেহেতু Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961 (E.P. Ordinance No. XXXVII of 1961) রহিতক্রমে উহার বিধানাবলী বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে। (২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
Section ৩. আইনের প্রাধান্য
বলবৎ অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961(E.P. Ord No. XXXVII of 1961) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Agricultural Development Corporation (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। (২) কর্পোরেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৫. পরিচালনা ও প্রশাসন
(১) কর্পোরেশনের পরিচালনা ও প্রশাসনের দায়িত্ব একটি পরিচালনা পর্ষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কর্পোরেশন যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে, পর্ষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে। (২) পর্ষদ উহার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণী বিষয়ে সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে, প্রদত্ত নির্দেশাবলি দ্বারা পরিচালিত হইবে এবং কর্পোরেশনকে প্রদত্ত কোনো নির্দেশ নীতি-নির্ধারণী কিনা তৎসম্পর্কে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ৬. পরিচালনা পর্ষদ গঠন
পরিচালনা পর্ষদ নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :-
Section ৭. পর্ষদের সভা
(১) চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও স্থানে পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক ৩ (তিন) মাসে কমপক্ষে একবার পর্ষদের সভা অনুষ্ঠান করিতে হইবে। (২) চেয়ারম্যান পর্ষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন; তবে এতদুদ্দেশ্যে কোনো মনোনয়ন না থাকিলে, উপস্থিত সদস্যবৃন্দ কর্তৃক নির্বাচিত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন। (৩) পর্ষদের সভার কোরামের জন্য চেয়ারম্যান ও পরিচালক নয় এইরূপ কমপক্ষে ১ (এক) জন সদস্যসহ কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে। (৪) পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোটাধিকার থাকিবে এবং সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যগণের ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে; তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারীর দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে। (৫) পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী সভার সভাপতি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইবে এবং সদস্যগণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে। (৬) পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী বহি আকারে রেকর্ডভুক্ত করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে। (৭) চেয়ারম্যান পর্ষদের সভা অনুষ্ঠানের তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সভার আলোচ্যসূচি, কার্যপত্র এবং কার্যবিবরণীর কপি সরকারের নিকট প্ররণ করিবেন। (৮) শুধু কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা পর্ষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পর্ষদের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ৮. চেয়ারম্যান
(১) কর্পোরেশনের একজন চেয়ারম্যান থাকিবে। (২) চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে। (৩) চেয়ারম্যান কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং এই আইন, বিধি ও প্রবিধানের বিধান সাপেক্ষে কার্যসম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন। (৪) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি সাময়িকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।
Section ৯. পরিচালক
(১) কর্পোরেশনের অনধিক ৫ (পাঁচ) জন পরিচালক থাকিবে। (২) পরিচালকগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকরির শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে। (৩) পরিচালকগণ এই আইন, বিধি এবং প্রবিধান দ্বারা অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবেন। (৪) চেয়ারম্যান পরিচালকগণের দপ্তর বণ্টন করিবেন।
Section ১০. চেয়ারম্যান এবং পরিচালকগণের অযোগ্যতা, অপসারণ ইত্যাদি
(১) কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যিনি-
Section ১১. কার্যাবলি
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্পোরেশন নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা :- (১) বীজ ও উদ্যান উন্নয়ন সংক্রান্ত কৃষি উপকরণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ , গুদামজাতকরণ ও বিপণন এবং কৃষকদের নিকট সরাসরি বা ডিলারের মাধ্যমে সরবরাহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (২) কৃষি ক্ষেত্রে সেচ সুবিধা সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ; (৩) সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সার সংগ্রহ, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং কৃষকদের নিকট সরাসরি বা ডিলারের মাধ্যমে সরবরাহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (৪) দফা (১) হইতে (৩) এ উল্লিখিত দ্রব্য ও সেবা, সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষ্যে, কৃষকদেরকে বিনামূল্যে সাহায্য বা প্রণোদনা হিসাবে প্রদান; (৫) পাট, ডাল, দানা জাতীয় শস্য, কন্দাল ফসল, তৈলবীজ, সবজিবীজ এবং অন্যান্য শস্যবীজ সংগ্রহের লক্ষ্যে চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের মাধ্যমে উন্নতমানের ভিত্তি এবং প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (৬) কর্পোরেশনের খামারে শংকর বীজ, ব্রিডার, ভিত্তি এবং প্রত্যায়িত ও উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (৭) কর্পোরেশনের উৎপাদিত ও সংগৃহীত বীজ যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং মাননিয়ন্ত্রণ করিয়া কৃষকদের নিকট সরবরাহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (৮) সেচকার্য পরিচালনা ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে লিফট, পাম্প, গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন এবং অন্যান্য সেচ উপকরণ সংরক্ষণ ও সরবরাহ; (৯) সেচনালা এবং সেচ ও ফসল রক্ষ্যা অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও উন্নয়ন; (১০) সেচযন্ত্র, সেচ এলাকা, পানিসম্পদ, পানির গুণাগুণ, স্তর ও প্রাপ্যতার জরিপ পরিচালনা এবং সমীক্ষা, গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ডাটা ব্যাংক তৈরি; (১১) কৃষিকাজে পানির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে -
Section ১২. সাধারণ ক্ষমতা
(১) কর্পোরেশন, এই আইনের অন্য কোনো বিধানের দ্বারা অর্পিত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-
Section ১৩. ভূমি ব্যবহার সম্পর্কিত ক্ষমতা
ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে কর্পোরেশনের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথা :-
Section ১৪. যোগাযোগ উন্নয়ন বিষয়ক ক্ষমতা
কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে, সংশ্লিষ্ট এলাকার অভ্যন্তরে ও বাহিরে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নকল্পে কর্পোরেশন নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে, যথা :-
Section ১৫. ভূমি জরিপ এবং উহার ব্যয় নির্বাহের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পুরণকল্পে কোনো ভূমি জরিপ প্রয়োজনীয় ও উপযোগী বলিয়া বিবেচিত হইলে, কর্পোরেশন,-
Section ১৬. প্রবেশাধিকারের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে চেয়ারম্যান বা তৎকর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি যে কোনো ভূমিতে-
Section ১৭. সরকার কর্তৃক কর্পোরেশনের উপর ক্ষমতা ও কার্যাবলি অর্পণ বা ন্যস্তকরণ
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনের অধীন সরকার বা উহার অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য বা সম্পাদনযোগ্য ক্ষমতা ও কার্য সরকার, সরকারি আদেশ দ্বারা, কর্পোরেশন বা যে কোনো কর্মচারীর উপর অর্পণ বা ন্যস্ত করিতে পারিবে।
Section ১৮. ফি বা চার্জ ধার্য ও আদায়
(১) কর্পোরেশন, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, সেচ চার্জ ধার্য ও আদায় করিতে পারিবে। (২) কোনো পানি ব্যবহারকারী যথাসময়ে উপ-ধারা (১) এর অধীন ধার্যকৃত সেচ চার্জ প্রদানে ব্যর্থ হইলে, উক্ত সেচ চার্জের সহিত অনধিক ২০(বিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যাইবে। (৩) কর্পোরেশন, এই আইনের অধীন উহার কার্যাবলি সম্পাদনের ব্যয় নির্বাহের জন্য, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প বা উহার কোনো অংশে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সেচ চার্জ ছাড়াও, অন্য কোনো ফি বা চার্জ ধার্য ও আদায় করিতে পারিবে।
Section ১৯. পরিকল্পনা প্রণয়ন
কর্পোরেশন, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, পরিকল্পনা প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২০. কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প
(১) কর্পোরেশন, নির্দিষ্ট কোনো এলাকার কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুতপূর্বক উহা সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিতে হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রস্তুতকৃত প্রত্যেক কার্যক্রম, কর্মসূচি প্রকল্প প্রস্তাবে , এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকিতে হইবে,যথা:-
Section ২১. কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকায় কর্পোরেশনের ক্ষমতা এবং কার্যাবলি
কর্পোরেশন, এই আইনে বর্ণিত ক্ষমতা এবং কার্যাবলি ছাড়াও, কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকায় কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প দলিলে বর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে।
Section ২২. কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকা পরিত্যাগ
কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হইবার পর কর্পোরেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্ত কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকা পরিত্যাগ করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকা পরিত্যাগ করিবার পর উক্ত এলাকায় কর্পোরেশনের যে কোনো কাজ বা দায়িত্বের নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখিবার জন্য কর্পোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
Section ২৩. সমন্বিত কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি
এই আইনের অধীন প্রস্তাবিত বা বাস্তবায়নাধীন কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পের এলাকাসমূহকে যে কোনো সময়ে, কোনো সমন্বিত কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা যাইবে।
Section ২৪. সহায়ক সংগঠন
কর্পোরেশন উহার কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে সহায়ক সংগঠন গঠন করিতে পারিবে এবং উপযুক্ত বিবেচিত হইলে, উহার কোনো ক্ষমতা বা কার্যাবলি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্তরূপ কোনো সহায়ক সংগঠনের উপর অর্পণ বা ন্যস্ত করিতে পারিবে।
Section ২৫. ভূমি অধিগ্রহণ
কর্পোরেশন কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে, স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ (২০১৭ সনের ২১ নং আইন) এর বিধান অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
Section ২৬. কর্পোরেশনের তহবিল
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন তহবিল’’ নামে কর্পোরেশনের একটি তহবিল থাকিবে। (২) তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
Section ২৭. বাজেট
কর্পোরেশন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ-বৎসরে, সরকারের নিকট হইতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট বিবরণী সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।
Section ২৮. আদেশ অমান্য করা
কোনো ব্যক্তি, এই আইন বা এই আইনের অধীন কোনো নোটিশ দ্বারা প্রদত্ত, কোনো আদেশ অমান্য করিলে অথবা পালন করিতে ব্যর্থ হইলে এবং উহা এই আইনের অন্য কোনো ধারার অধীন দণ্ডযোগ্য অপরাধ না হইলে, উক্তরূপ অমান্য বা ব্যর্থতার জন্য তাহার উপর অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, পুনঃপুন অমান্য বা ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সর্বশেষ জরিমানা প্রদানের তারিখের পর প্রত্যেক দিবসের জন্য অতিরিক্ত ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা হারে জরিমানা আরোপিত হইবে।
Section ২৯. নোটিশ অগ্রাহ্যের প্রেক্ষিতে কর্পোরেশন কর্তৃক কার্যাদি সম্পাদনের ক্ষমতা
কর্পোরেশন, এই আইনের অধীন কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো কার্য সম্পাদন করিতে অথবা কোনো কাজ করা হইতে বিরত থাকিবার জন্য নোটিশ প্রদান করিলে এবং উক্ত ব্যক্তি নোটিশ অনুযায়ী উক্ত কাজ করিতে বা করা হইতে বিরত থাকিতে ব্যর্থ হইলে, কর্পোরেশন উক্তরূপ কাজের বাস্তবায়ন, ব্যবস্থা গ্রহণ বা সম্পাদন করিতে পারিবে এবং উহাতে ব্যয়িত সকল অর্থ উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবে।
Section ৩০. সীমানা প্রাচীর, ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণের দণ্ড
যদি কোনো ব্যক্তি বৈধ কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে-
Section ৩১. ঠিকাদারকে বাধা প্রদান বা কোনো চিহ্ন অপসারণের দণ্ড
যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন-
Section ৩২. অননুমোদিত চাষাবাদ, ইত্যাদির দণ্ড
কর্পোরেশনের লিখিত অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তি যদি-
Section ৩৩. জবর দখল বা অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের ক্ষমতা
কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কোনো ভূমি বা কর্পোরেশনের মালিকানাধীন বা কর্পোরেশনের নিকট ন্যস্ত কোনো ভূমির মালিকানা বা অধিকার ভোগ করেন না এমন কোনো ব্যক্তি উক্ত ভূমির দখল গ্রহণ করিয়াছেন বা দখল গ্রহণের চেষ্টা করিতেছেন বলিয়া চেয়ারম্যান নিশ্চিত হইলে, তিনি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করিয়া উক্ত ভূমিতে পুনঃপ্রবেশ করিতে পারিবেন এবং কর্পোরেশনের পক্ষে উক্ত ভূমি পুনর্দখল করিতে এবং কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ প্রদান ব্যতিরেকে, উক্ত ভূমির সকল শস্য, বৃক্ষ এবং ভবন ও স্থাপনার দখল গ্রহণ করিতে পারিবেন।
Section ৩৪. অপরাধের প্রেক্ষিতে কর্পোরেশনের অতিরিক্ত ক্ষমতা
ধারা ৩২ এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে মর্মে নিশ্চিত হইলে, কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিরুদ্ধে উক্ত ধারার অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে অথবা উক্ত ধারার অধীন সংশ্লিষ্ট অপরাধী দণ্ডপ্রাপ্ত হইবার পর-
Section ৩৫. কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইবার জন্য ক্ষতিপূরণ
(১) কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো কাজ করিবার বা না করিবার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হইলে এবং সংশ্লিষ্ট কাজ করিবার বা না করিবার কারণে কর্পোরেশনের কোনো সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে আদালত, দণ্ড প্রদানের পাশাপাশি, কর্পোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে, কর্পোরেশনকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তিকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের অর্থ দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক স্বেচ্ছায় প্রদত্ত না হইলে, উক্ত অর্থ আদালত কর্তৃক পরোয়ানার মাধ্যমে এমনভাবে আদায় করা যাইবে যেন উহা সংশ্লিষ্ট আদালত কর্তৃক দণ্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে অর্থদণ্ড হিসাবে আদায় করা হইতেছে।
Section ৩৬. অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ
চেয়ারম্যান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারীর লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন কৃত কোনো অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।
Section ৩৭. ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ
এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, এই আইনে বর্ণিত যে কোনো অপরাধের তদন্ত, অভিযোগ দায়ের, বিচার, আপিলসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) প্রযোজ্য হইবে।
Section ৩৮. বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও লেনদেন
কর্পোরেশন বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা সংগঠনের সহিত বাণিজ্যিক লেনদেন করিতে পারিবে।
Section ৩৯. ক্ষতিপূরণ প্রদানে কর্পোরেশনের সাধারণ ক্ষমতা
কর্পোরেশন, চেয়ারম্যান, কোনো পরিচালক বা কোনো কর্মচারী কর্তৃক এই আইনে সুস্পষ্ট বিধান নাই এইরূপ কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে, কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ৪০. পাওনা অর্থ আদায়
এই আইন অথবা এই আইনের বিধান অনুযায়ী সম্পাদিত কোনো চুক্তির অধীনে কোনো ব্যক্তির নিকট কর্পোরেশনের কোনো অর্থ পাওনা থাকিলে উহা সরকারি দাবি হিসাবে Public Demands Recovery Act, 1913(Bengal Act No. III of 1913) এর বিধান অনুসারে আদায়যোগ্য হইবে।
Section ৪১. হিসাব ও নিরীক্ষা
(১) কর্পোরেশন যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে। (২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর কর্পোরেশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্পোরেশনের নিকট পেশ করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশনের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, সদস্য, পরিচালক বা যে কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
Section ৪২. বার্ষিক প্রতিবেদন
(১) কর্পোরেশন প্রত্যেক অর্থ-বৎসর শেষে, যথাশীঘ্র সম্ভব, উহার এবং সহায়ক প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক উক্ত অর্থ-বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবেন। (২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার কর্পোরেশনের নিকট, যে কোনো সময়, যে কোনো ধরনের বিবরণী, হিসাব, পরিসংখ্যান এবং কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন যে কোনো বিষয় সম্পর্কিত তথ্য বা উক্তরূপ যে কোনো বিষয় সম্পর্কিত প্রতিবেদন যাচনা করিতে পারিবে এবং কর্পোরেশন অনতিবিলম্বে উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৪৩. ক্ষমতা অর্পণ
(১) পর্ষদ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন উহার যে কোনো ক্ষমতা চেয়ারম্যান বা কোনো পরিচালক বা কোনো কর্মচারীর উপর অর্পণ করিতে পারিবে। (২) চেয়ারম্যান এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন তাহার যে কোনো ক্ষমতা কোনো পরিচালক বা কোনো কর্মচারীর উপর অর্পণ করিতে পারিবেন : তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত কোনো ক্ষমতা তিনি অন্য কোনো ব্যক্তিকে অর্পণ করিতে পারিবেন না।
Section ৪৪. জনসেবক
চেয়ারম্যান, সদস্য, পরিচালক এবং কর্পোরেশনের কর্মচারীগণ Penal Code, 1860 (Act XLV of 1860) এর section 21 G public servant (জনসেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই public servant (জনসেবক) বলিয়া গণ্য হইবেন।
Section ৪৫. কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি
(১) কর্পোরেশন উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে। (২) কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ৪৬. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৪৭. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
কর্পোরেশন এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির সহিত অসামঞ্জস্য না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৪৮. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961(E.P. Ord. No. XXXVII of 1961), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, রহিত হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Agricultural Development Corporation এর