জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি আইন, ২০১৮
জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন
জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়িয়া তুলিবার লক্ষ্যে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে। (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
Section ৩. একাডেমি প্রতিষ্ঠা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে Government Educational and Training Institutions Ordinance, 1961(E.P. Ordinance No. XXVI of 1961)-এর অধীন পরিচালিত জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির কার্যক্রম এমনভাবে অব্যাহত থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। (২) একাডেমি একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৪. একাডেমির কার্যালয়
একাডেমির প্রধান কার্যালয় থাকিবে ঢাকায় এবং একাডেমি, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ৫. পরিচালনা ও প্রশাসন
একাডেমির পরিচালনা ও প্রশাসনের দায়িত্ব পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
Section ৬. পরিচালনা বোর্ড
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই ধারার বিধানাবলি সাপেক্ষে, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ অনধিক ১৫ (পনের) সদস্যবিশিষ্ট একাডেমির একটি পরিচালনা বোর্ড থাকিবে। (২) মন্ত্রী বা, ক্ষেত্রমত, প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ, ভাইস চেয়ারম্যান হইবেন : তবে শর্ত থাকে যে, মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী একইসঙ্গে উক্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকিলে, মন্ত্রী চেয়ারম্যান এবং প্রতিমন্ত্রী ভাইস চেয়ারম্যান হইবেন। সেইক্ষেত্রে ‘সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ’ বোর্ডের সদস্য হইবেন। (৩) বোর্ড, সরকার কর্তৃক, সরকারি কর্মচারী ও বেসরকারি প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে গঠিত হইবে। (৪) সরকারি কর্মচারীগণ পদাধিকারবলে এবং বেসরকারি প্রতিনিধিগণ ৩ (তিন) বৎসরের জন্য বোর্ডের সদস্য থাকিবেন : তবে শর্ত থাকে যে, মেয়াদ উত্তীর্ণের পর, কোনো বেসরকারি প্রতিনিধিকে অনধিক ২(দুই) বার পুনরায় নিযুক্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকিবে না। (৫) মহাপরিচালক বোর্ডের সদস্য-সচিব হইবেন। (৬) সরকার, কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, যে কোনো সময়, যে কোনো সদস্যকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
Section ৭. বোর্ডের সভা
(১) বোর্ডের সদস্য-সচিব, চেয়ারম্যানের পরামর্শ মোতাবেক, সভার সময়, স্থান, আলোচ্যসূচি ও কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবেন। (২) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না। (৩) চেয়ারম্যান, বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে ভাইস চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ জরুরি সভা আহবান করিবেন। (৪) বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোটাধিকার থাকিবে এবং সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারীর দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে। (৫) বোর্ডের সদস্য-সচিব সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ ও সদস্যবৃন্দের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং পরবর্তী বোর্ড সভায় উপস্থাপন করিবেন। (৬) শুধু কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। (৭) প্রতি তিন মাসে ন্যূনতম বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
Section ৮. একাডেমির কার্যাবলি
একাডেমির কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
Section ৯. মহাপরিচালক
(১) একাডেমির একজন মহাপরিচালক থাকিবেন। (২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে। (৩) মহাপরিচালক একাডেমির সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
Section ১০. কর্মচারী নিয়োগ
একাডেমি উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১১. কমিটি গঠন
একাডেমি, দায়িত্ব পালনে উহাকে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে, প্রয়োজনে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
Section ১২. তহবিল
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি তহবিল’ নামে একাডেমির একটি তহবিল থাকিবে। (২) তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা :-
Section ১৩. বাজেট
একাডেমি, প্রত্যেক বৎসর, সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বৎসরে সরকারের নিকট হইতে একাডেমির কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
Section ১৪. হিসাব ও নিরীক্ষা
(১) একাডেমি যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে। (২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর একাডেমির হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও একাডেমির নিকট পেশ করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি একাডেমির সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কোনো সদস্য, মহাপরিচালক বা একাডেমির যে কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন। (৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P. O. Order NO. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট দ্বারা ট্রাস্টের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে ট্রাস্ট এক বা একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।
Section ১৫. প্রতিবেদন
(১) প্রত্যেক অর্থ-বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৩(তিন) মাসের মধ্যে একাডেমি তৎকর্তৃক উক্ত অর্থ-বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে। (২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, একাডেমির নিকট হইতে, যে কোনো সময়, একাডেমির যে কোনো বিষয়ের উপর রিটার্ন, বিবরণী, প্রাক্কলন, পরিসংখ্যান, তথ্য, প্রতিবেদন বা দলিল সরবরাহের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং একাডেমি উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ১৬. ক্ষমতার্পণ
(১) বোর্ড, বিশেষ বা সাধারণ আদেশ দ্বারা নির্ধারিত শর্তাধীনে, কোনো সদস্য মহাপরিচালক, কমিটি বা একাডেমির যে কোনো কর্মচারীকে উহার যে কোনো ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে। (২) মহাপরিচালক, উপ-ধারা (১) এর অধীন তাহার উপর অর্পিত ক্ষমতা ব্যতীত, প্রয়োজনবোধে এবং তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, এই আইনের অধীন তাহার উপর অর্পিত যে কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব, লিখিত আদেশ দ্বারা, একাডেমির যে কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
Section ১৭. জনসেবক
মহাপরিচালক এবং একাডেমির কর্মচারীগণ Penal Code, 1860 (Act XLV of 1860) এর section 21 এ ‘‘public servant’’ (জনসেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে ‘‘Public Servant’’ (জনসেবক) বলিয়া গণ্য হইবেন।
Section ১৮. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ১৯. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
বোর্ড, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির সহিত অসামঞ্জস্য না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২০. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে,-