National Sports Council Act, 1974 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু National Sports Council Act, 1974 (Act No. LVII of 1974) রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
(১) এই আইন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘কার্যনির্বাহী কমিটি’’ অর্থ ধারা ১২ এর অধীন গঠিত পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটি;
(২) ‘‘ক্রীড়া’’ অর্থ এক ধরনের খেলা যাহা মন, দেহ ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধন করে এবং যাহা শৃঙ্খলাবদ্ধ, উন্মুক্ত, ঐচ্ছিক, পেশাদারিত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, এবং ধারা ৬ এর অধীন সরকার কর্তৃক ঘোষিত ক্রীড়াও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩) ‘‘ক্রীড়া সংস্থা’’ অর্থ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন, বোর্ড ও অন্যান্য সংস্থা;
(৪) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ পরিষদের চেয়ারম্যান;
(৫) ‘‘জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা’’ অর্থ ধারা ৫(১) এর অধীন স্বীকৃত এবং তপশিলে উল্লিখিত ক্রীড়া সংস্থা;
(৬) ‘‘তপশিল’’ অর্থ এই আইনের তপশিল;
(৭) ‘‘পরিষদ’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ;
(৮) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৯) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১০) ‘‘ভাইস-চেয়ারম্যান’’ অর্থ পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান;
(১১) ‘‘[নির্বাহী পরিচালক]’’ অর্থ পরিষদের [নির্বাহী পরিচালক];
(১২) ‘‘সভাপতি’’ অর্থ সাধারণ পরিষদ ও কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি;
(১৩) ‘‘সহ-সভাপতি’’ অর্থ সাধারণ পরিষদ ও কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি;
(১৪) ‘‘সাধারণ পরিষদ’’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত সাধারণ পরিষদ;
[(১৪ক) “সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান” অর্থ পরিষদের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান; এবং]
(১৫) ‘‘স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থা’’ অর্থ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা।
(১) National Sports Council Act, 1974 (Act No. LVII of 1974) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (National Sports Council) এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে।
(২) পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং পরিষদ ইহার নিজ নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিষদের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(১) দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন এবং ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন;
(২) আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ক্রীড়া সংস্থার প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন;
(৩) স্টেডিয়াম, ব্যায়ামাগার, সুইমিংপুল, খেলার মাঠ এবং প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(৪) ক্রীড়াক্ষেত্রে সকল পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, রেফারি, ফিজিও, পুষ্টিবিদ ও ক্রীড়া চিকিৎসকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ;
(৫) ক্রীড়া সংস্থার স্বীকৃতি প্রদান;
(৬) জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা বা অন্য কোনো ক্রীড়া সংস্থার জন্য আদর্শ গঠনতন্ত্র [অনুমোদন];
(৭) ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের জন্য জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা, স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থা ও অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থাকে অনুদান প্রদান এবং স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল ও [ব্যায়ামাগারসহ অন্যান্য ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণ ও সংস্কারের] জন্য সহায়তা প্রদান ও উহাদের নিরীক্ষিত হিসাবের প্রতিবেদন তলব, পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইকরণ;
(৮) বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্য ও এতদঞ্চলের অধিবাসীদের যাপিত জীবনের বিবর্তনের ধারা বহনকারী হিসাবে লোকজ ক্রীড়া চর্চা ও উহার পৃষ্ঠপোষকতা এবং বহির্বিশ্বে উহার প্রচার ও প্রসারে বিভিন্ন প্রীতি ও প্রতিযোগিতামূলক আসরের আয়োজন;
(৯) আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অ্যাসোসিয়েশন, ফেডারেশন বা অনুরূপ কোনো সমিতিতে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্তি বিবেচনা ও অনুমোদন;
(১০) বিদেশগামী ক্রীড়াদল এবং সহগামী কর্মচারীগণের তালিকা অনুমোদন;
(১১) ক্রীড়া ও ক্রীড়াবিদদের বিষয়ে তথ্য ভাণ্ডার তৈরিসহ পুস্তক, সাময়িকী, পুস্তিকা, ইত্যাদি প্রকাশ;
(১২) অসচ্ছল ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান;
(১৩) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার প্রদান; এবং
(১৪) সরকার কর্তৃক, সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে, উহার উপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন।
(১) পরিষদ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ক্রীড়া সংস্থাকে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা হিসাবে স্বীকৃতি ও সনদ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থা গঠিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষদ কর্তৃক স্বীকৃত বলিয়া গণ্য হইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে কোনো খেলাকে ক্রীড়া হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত হইবে, যথা : -
[*]
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ল) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৪ (চার) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যে কোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, উক্তরূপ মনোনীত কোনো সদস্যকে সদস্য পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে এবং মনোনীত কোনো সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী [/উপদেষ্টা] পরিষদের চেয়ারম্যান হইবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে [সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান অথবা] ভাইস-চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
[ ৮ক। মন্ত্রী/উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী সকলই বিদ্যমান থাকিলে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/উপদেষ্টা ব্যতীত, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অন্য দুইজন বা একজন সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হইবেন।]
[৯। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান হইবেন।]
(১) প্রতি দুই বছরে সাধারণ পরিষদের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে এবং সভার সময়, স্থান ও উহার কার্যপদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সাধারণ পরিষদের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা : -
পরিষদের সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন কার্যনির্বাহী কমিটির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং পরিষদ যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে কার্যনির্বাহী কমিটিও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(১) পরিষদের একটি কার্যনির্বাহী কমিটি থাকিবে এবং উহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা : -
[*]
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঠ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৪ (চার) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যে কোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, উক্তরূপ মনোনীত কোনো সদস্যকে সদস্য পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে এবং মনোনীত কোনো সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, কার্যনির্বাহী কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) প্রতি ৩ (তিন) মাসে কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যূন একটি অনুষ্ঠিত সভা হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) [নির্বাহী পরিচালক], সভাপতির সম্মতিক্রমে, লিখিত নোটিশ দ্বারা সভা আহবান করিবেন।
(৪) সভাপতি কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে [জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি] সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) কার্যনির্বাহী কমিটির সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মূলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৬) কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৭) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে উহার কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদ্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) পরিষদের একজন [নির্বাহী পরিচালক] থাকিবেন।
(২) [নির্বাহী পরিচালক] সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরিকৃত হইবে।
(৩) [নির্বাহী পরিচালক] পরিষদের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হইবেন এবং তিনি পরিষদ ও কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিবেন।
(৪) [নির্বাহী পরিচালকের] পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে তিনি তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত [নির্বাহী পরিচালক] কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি [নির্বাহী পরিচালকের] দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) পরিষদের একজন কোষাধ্যক্ষ থাকিবেন।
(২) কোষাধ্যক্ষ পরিষধ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার দায়িত্ব, কার্যাবলি ও অন্যান্য শর্তাবলি পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(১) পরিষদ উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্মচারী নিয়োগ এবং চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তহবিল নামে একটি তহবিল থাকিবে, যাহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথা :―
(২) তহবিলের অর্থ কোনো তপশিলি ব্যাংকে পরিষদের নামে জমা রাখিতে হইবে এবং উক্তরূপ অর্থ হইতে কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি পরিশোধসহ পরিষদের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
ব্যাখ্যা।―‘‘তপশিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2 (j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।
(৩) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালিত হইবে, তবে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারের বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে উক্ত তহবিল পরিচালনা করা যাইবে।
পরিষদ প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বাৎসরিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে পরিষদের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
(১) পরিষদ নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর পরিষদের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও পরিষদের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি পরিষদের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কার্যনির্বাহী কমিটির যে কোনো সদস্য বা পরিষদের কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President’s Order No. 2 of 1973) এর Article 2 (1) (b) তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউনটেন্ট দ্বারা পরিষদ উহার হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবে।
(১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে পরিষদ উক্ত বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, পরিষদের নিকট হইতে যে কোনো সময় পরিষদের যে কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন ও বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং পরিষদ উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন, চুক্তি বা আইনি দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পরিষদ জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা বা তপশিলে উল্লিখিত ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটি, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যথাযভাবে দায়িত্ব পালন করিতেছে না বা সংস্থার স্বার্থের পরিপন্থি কার্যক্রম পরিচালনা করিতেছে মর্মে পরিষদের নিকট প্রতীয়মান হইলে, উক্ত নির্বাহী কমিটি ভাঙ্গিয়া দিতে পারিবে এবং, প্রয়োজনে, একটি এ্যাডহক কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে।
আপতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা আইনি দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তপশিলে বর্ণিত সংস্থার প্রধান হিসাবে একজন সভাপতি থাকিবেন, যিনি সরকার কর্তৃক মনোনীত অথবা, ক্ষেত্রমত, বিধি মোতাবেক নির্বাচিত হইবেন।
জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা : ―
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সময় সময়, পরিষদের কর্মকাণ্ডের দক্ষ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে যেইরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরিষদকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং পরিষদ উহা প্রতিপালন করিতে বাধ্য থাকিবে।
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তপশিল সংশোধন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) National Sports Council Act, 1974(Act No. LVII of 1974) অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত Act এর অধীন―
(৩) উক্ত Act রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত Act এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Council এর―
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।