জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) ‘‘অধিদপ্তর’’ অর্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর;
(২) ‘‘কমিটি’’ অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত উপদেষ্টা কমিটি;
(৩) ‘‘ক্ষমতাপ্রাপ্তকর্মচারী’’ অর্থ ধারা ৩০ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী;
(৪) ‘‘তপশিল’’ অর্থ এই আইনের তপশিল;
(৫) ‘‘বাহক’’ অর্থ এক প্রাণী হইতে অন্য প্রাণীর দেহে জীবাণু বহনকারি আণুবীক্ষণিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী;
(৬) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৭) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক;
(৮) ‘‘সংক্রামকরোগ’’ অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত কোনো সংক্রামক রোগ।
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সংক্রামক রোগ অর্থে নিম্নবর্ণিত রোগসমূহ অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমতার আওতায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(২) এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালন এবং কার্য-সম্পাদনের জন্য মহাপরিচালক দায়ী থাকিবেন।
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হইবে,-
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, প্রয়োজনে, সংক্রামক রোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কোনো ব্যক্তিকে উপদেষ্টা কমিটিতে কো-অপ্ট করিতে পারিবে।
(৩) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে।
কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) কমিটি প্রত্যেক বৎসর অন্যূন ২ (দুই) টি সভায় মিলিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) কমিটির সদস্য-সচিব, চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, লিখিত নোটিশ দ্বারা, বোর্ডের সভা আহ্বান করিবেন।
(৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তদ্কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।
(৫) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন অর্ধেক সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মূলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৬) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতি নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।
(৭) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা কমিটি গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কমিটির কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদ্সম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
সংক্রামক রোগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিস্তার হইতে জনগণকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে উক্ত রোগসমূহ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল, উক্ত রোগের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সতর্কতা জারি ও পারস্পরিক সহায়তার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এতদ্সংক্রান্ত শিক্ষা বিস্তার, রোগের উন্নতি পর্যালোচনা, অধিকার সংরক্ষণসহ অন্যান্য পদ্ধতিগত ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)কর্তৃক, প্রকাশিত এবং তপশিলে উল্লিখিত International Health Regulations, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে।
(১) যদি কোনো চিকিৎসক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন এবং উক্ত রোগে আক্রান্ত হইয়া মৃত্যুবরণকারি ব্যক্তি, কোনো বাসগৃহ, প্রাঙ্গণ বা এলাকায় সংক্রামক রোগের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত হন, তাহা হইলে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনকে অবহিত করিবেন।
(২) যদি কোনো বোর্ডিং, আবাসিক হোটেল বা অস্থায়ী বাসস্থানের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির যুক্তিসঙ্গত কারণে ধারণা হয় যে, উক্ত স্থানে বসবাসকারি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হইয়াছেন, তাহা হইলে তিনি অনতিবিলম্বে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করিবেন।
(৩) কোনো সিভিল সার্জন সংক্রামক রোগ বা উক্ত রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত হইলে তিনি বিষয়টি অনতিবিলম্বে মহাপরিচালককে অবহিত করিবেন।
(১) মহাপরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, আদেশ দ্বারা, নিম্নবর্ণিত কোনো এলাকাকে সংক্রমিত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবেন, যথা:-
(২) মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংক্রামক রোগ সীমিত বা নির্মূল করা সম্ভব নহে, তাহা হইলে তিনি সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে বা সংক্রমিত স্থানে অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ, সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হইয়াছেন বা তাহার দেহে সংক্রামক জীবাণুর উপস্থিতি রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে নমুনা সংগ্রহ এবং উহা পরীক্ষা করিতে পারিবেন।
(২) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী উপ-ধারা (১) এর অধীন সংগৃহীত নমুনার প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করাইবেন।
(৩) প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় উক্ত নমুনাতে সংক্রামক রোগ বা জীবাণুর উপস্থিতি নিশ্চিত হইলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী করণীয় বিষয়ে পরামর্শসহ বিষয়টি নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত সিভিল সার্জনকে অবহিত করিবেন এবং উক্ত বিষয়ে তিনি সিভিল সার্জনের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন।
যদি কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবহৃত দ্রব্যাদিতে উক্তরূপ রোগের জীবাণু রহিয়াছে তাহা হইলে তিনি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্তরূপ দ্রব্যাদি বিশুদ্ধ বা ধ্বংস করিতে পারিবেন।
যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোনো সংক্রমিত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করা না হইলে তাহার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হইতে পারেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, সাময়িকভাবে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর বা জনবিচ্ছিন্ন করা যাইবে।
সংক্রামক রোগের বিস্তার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর যদি এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোনো ব্যক্তির বাসগৃহ, অন্য কোনো গৃহ, আঙ্গিনা বা ব্যবহৃত দ্রব্যাদিতে সংক্রামক রোগের উপস্থিতি বা জীবাণু রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত স্থান পরিদর্শন করিতে পারিবেন।
(১) কোনো স্থান বা স্থাপনায় সংক্রামক রোগের জীবাণুর উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হইবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন,-
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, যে কোনো সন্দেহজনক স্থান, স্থাপনা বা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করিতে পারিবেন।
(১) যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নিকট প্রতীয়মান হয় যে, জীবাণুযুক্ত কোনো স্থাপনা ধারা ১৬ এর অধীন জীবাণুমুক্তকরণ সম্ভব নহে, তাহা হইলে তিনি উহা সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনকে অবহিত করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অবহিত হইবার পর, সিভিল সার্জন, প্রয়োজনে, উক্ত স্থাপনা ধ্বংস করিবার জন্য উহার মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো নির্দেশ প্রদান করা হইলে সিভিল সার্জন অনতিবিলম্বে উহা মহাপরিচালককে অবহিত করিবেন।
ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নিকট যদি এইরূপ বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, কোনো যানবাহন সংক্রামক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হইয়াছে বা উহাতে সংক্রামক জীবাণুর উপস্থিতি রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি উক্ত যানবাহন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, জীবাণুমুক্তকরণের জন্য উক্ত গাড়ীর মালিক বা স্বত্বাধিকারি বা তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(১) কোনো যানবাহন, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি বা পশুপাখি সংক্রামক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হইলে বা আক্রান্ত হইয়াছে বলিয়া যুক্তিসঙ্গতভাবে ধারণা হইলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী উহা জব্দ করিতে পারিবেন।
(২) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী উপ-ধারা (১) এর অধীন জব্দকৃত যানবাহন, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি বা পশুপাখি জীবাণুমুক্তকরণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন জব্দকৃত যানবাহন, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি বা পশুপাখি জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব না হইলে উহা সিভিল সার্জনকে অবহিত করিতে হইবে এবং উক্তরূপে অবহিত হইবার পর সিভিল সার্জন বিষয়টি নিয়ে মহাপরিচালকের সহিত পরামর্শক্রমে তদনুযায়ী উহা ধ্বংস করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে মৃত্যুবরণ করেন বা করিয়াছেন বলিয়া সন্দেহ হয় তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির মৃতদেহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নির্দেশনা মোতাবেক দাফন বা সৎকার করিতে হইবে।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সংক্রামক রোগের জীবাণু বহন করিতে পারে এইরূপ খাদ্য, পণ্য, পশুপাখি বা অন্য কোনো পদার্থ আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার সহিত সমন্বয় সাধন করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, প্রয়োজনে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(১) Imports and Exports (Control) Act, 1950 (Act No. XXXIX of 1950)বা তদধীন, সময় সময়, সরকার কর্তৃক জারিকৃত আমদানি ও রপ্তানি নীতি বা আদেশে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি খাদ্য, ভোগ্যপণ্য বা নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদি আমদানি বা রপ্তানি করিতে পারিবেন না, যদি-
বিদ্যমান থাকে।
(২) Imports and Exports (Control) Act, 1950, বাংলাদেশ পশু ও পশুজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৬ নং আইন) এবং উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ৫ নং আইন)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি ফুল, উদ্ভিদ এবং পশুপাখি আমদানি বা রপ্তানি করিতে পারিবেন না, যদি-
বিদ্যমান থাকে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, কোনো যানবাহন, স্থান বা স্থাপনা জীবাণুমুক্তকরণের জন্য ব্যয়িত সরকারি অর্থ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ফেরত গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটিতে সহায়তা করেন, বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসিবার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তাহার নিকট গোপন করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(১) যদি কোনো ব্যক্তি-
তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (Non-cognizable), জামিনযোগ্য (Bailable)এবং আপোষযোগ্য (Compoundable)হইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, প্রয়োজনে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহণ করিতে পারিবে।
মহাপরিচালক, প্রয়োজনে, লিখিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, উক্ত আদেশে বর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, যদি থাকে, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি দ্বারা, তাহার উপর অর্পিত কোনো ক্ষমতা অধিদপ্তরের যে কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
এই আইনের কোনো বিধানের অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে, সরকার, এই আইনের অন্যান্য বিধানের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তপসিলসংশোধন করিতে পারিবে।
(১) The Epidemic Diseases Act, 1897 (২) The Public Health (Emergency Provisions) Ordinance, 1944 (৩) The Bangladesh Malaria Eradication Board (Repeal) Ordinance, 1977 এবং (৪) The Prevention of Malaria (Special Provisions) Ordinance, 1978 অতঃপর রহিতকৃত অধ্যাদেশসমূহ বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও-
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text)প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা পাঠে ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।