বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০১৮
Technical Education Act, 1967 রহিতক্রমে যুগোপযোগী করিয়া নূতনভাবে প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
Technical Education Act, 1967 রহিতক্রমে যুগোপযোগী করিয়া নূতনভাবে প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু Technical Education Act, 1967 (Act No. 1 of 1967) রহিতক্রমে যুগোপযোগী করিয়া নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে। (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে- (১) “কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (Technical and Vocational Education and Training)” অর্থ তপশিল ১ এ উল্লিখিত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ; (২) “চেয়ারম্যান” অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান; (৩) “জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামো (National Technical and Vocational Qualification Framework)” অর্থ তপশিল ২ এ উল্লিখিত জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামো; (৪) “জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ” অর্থ জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৪৫ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; (৫) “তহবিল” অর্থ ধারা ১৭ এর অধীন গঠিত তহবিল; (৬) “তপশিল” অর্থ এই আইনের কোনো তপশিল; (৭) “পরিচালনা পর্ষদ” অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ; (৮) “পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি (Recognition of Prior Learning)” অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে অর্জিত কোনো শিক্ষা, দক্ষতা বা জ্ঞানের পূর্ববর্তী শিখন স্বীকৃতি; (৯) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান; (১০) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; (১১) “বোর্ড” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড; (১২) “সচিব” অর্থ বোর্ডের সচিব; এবং (১৩) “সক্ষমতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন (Competency Based Training and Assessment)” অর্থ জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামো অর্জনের জন্য গৃহীত প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন।
Section ৩. বোর্ড প্রতিষ্ঠা
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড নামে একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হইবে । (২) বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি-বিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং বোর্ড উহার স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৪. বোর্ডের কার্যালয়
বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং বোর্ড প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার আঞ্চলিক ও শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ৫. পরিচালনা ও প্রশাসন
বোর্ডের পরিচালনা ও প্রশাসনের দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং বোর্ড যেসকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা পর্ষদও সেইসকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
Section ৬. পরিচালনা পর্ষদ
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হইবে, যথা:-
Section ৭. পরিচালনা পর্ষদের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, পরিচালনা পর্ষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে। (২) পরিচালনা পর্ষদের সভা উহার চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে উহার সদস্য-সচিব কর্তৃক আহূত হইবে এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে। (৩) প্রতি ৩ (তিন) মাস অন্তর অন্তর পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদ সভা আহ্বান করিতে পারিবে। (৪) চেয়ারম্যান পরিচালনা পর্ষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের মধ্য হইতে নির্বাচিত একজন সদস্য পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন। (৫) পরিচালনা পর্ষদের সভায় কোরামের জন্য অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না। (৬) পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং উপস্থিত সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় ও নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে। (৭) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা পরিচালনা পর্ষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পরিচালনা পর্ষদের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ৮. বোর্ডের দায়িত্ব ও কার্যাবলি
[(১)] বোর্ডের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনা, স্বীকৃতি ও নিয়ন্ত্রণ;
(খ) এই আইনের পরিধিভুক্ত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কোর্স নির্ধারণ এবং উক্ত কোর্সসমূহের জন্য পাঠ্যক্রম প্রস্তুত ও কারিকুলাম প্রণয়ন;
(গ) বোর্ড কর্তৃক প্রণীত কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা উপকরণ তৈরী;
(ঘ) কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ পরীক্ষা গ্রহণ, সক্ষমতা যাচাই, ফি নির্ধারণ, ফল প্রকাশ এবং সনদ প্রদান;
(ঙ) বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন;
(চ) বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন, তদারকি ও পরিবীক্ষণ;
(ছ) এই আইনের পরিধিভুক্ত পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি প্রদান;
(জ) বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(ঝ) শিল্প দক্ষতা পরিষদের মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের চাহিদা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ;
(ঞ) শিল্প দক্ষতা পরিষদের সহযোগিতায় সক্ষমতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করা;
(ট) জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামো এর আওতায় যোগ্যতা মানদণ্ড নির্ধারণ;
(ঠ) কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বৃত্তি, পদক বা পুরস্কার প্রদান;
(ড) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিদেশি কোনো সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে; এবং
(ঢ) সরকার কর্তৃক নির্দেশিত অন্য কোনো দায়িত্ব পালন।
[(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি অতিমারি (pandemic), মহামারী (epidemic), দৈব-দুর্বিপাক (Act of God) এর কারণে বা সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত কোনো অনিবার্য পরিস্থিতিতে, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ এবং সনদ প্রদান করা সম্ভব না হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা, কোনো বিশেষ বৎসরের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা গ্রহণ ব্যতীত বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ করিয়া, উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন এবং সনদ প্রদানের জন্য নির্দেশনাবলি জারি করিতে পারিবে।]
Section ৯. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ স্বীকৃতি প্রদান, ইত্যাদি
(১) বোর্ড কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ স্বীকৃতি প্রদান করিবে: তবে শর্ত থাকে যে, বিদেশে অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এই আইনের আওতাভুক্ত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত স্বীকৃতি প্রদানের পদ্ধতি, ফি, স্বীকৃতি স্থগিত বা বাতিল, স্বীকৃতি স্থগিত বা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১০. পরিদর্শন
(১) বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা তদ্কর্তৃক পরিচালিত কোনো পরীক্ষা বা সক্ষমতা যাচাই পরিদর্শন করিতে পারিবেন। (২) পরিদর্শনকারী ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিচালিত পরিদর্শন প্রতিবেদন বোর্ডকে অবহিত করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিদর্শন প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
Section ১১. জবাবদিহিতা
(১) বোর্ড উহার কার্যাবলির জন্য সরকারের নিকট দায়ী থাকিবে। (২) বোর্ড সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয়ে পরিদর্শন বা তদন্ত করিবার ক্ষমতা সরকারের থাকিবে। (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন অনুষ্ঠিত পরিদর্শন বা তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার বোর্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্তরূপে কোনো নির্দেশনা প্রদান করা হইলে বোর্ড উহা প্রতিপালন করিবে। (৪) সরকার, জনস্বার্থে, লিখিত আদেশ দ্বারা বোর্ডের কোনো কার্যক্রম বা কমিটি বাতিল করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে, এইরূপ আদেশ প্রদানের পূর্বে সরকার, কেন উক্ত আদেশ প্রদান করা হইবে না, সেই মর্মে কারণ দর্শাইবার জন্য চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কমিটিকে তলব করিবেন।
Section ১২. চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং তাহার ক্ষমতা ও দায়িত্ব
(১) বোর্ডের একজন চেয়ারম্যান থাকিবেন। (২) চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির মেয়াদ ও শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে। (৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি-
Section ১৩. সচিব
(১) বোর্ডের একজন সচিব থাকিবেন, যিনি অন্যূন সরকারের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মচারীগণের মধ্য হইতে প্রেষণে নিযুক্ত হইবেন। (২) সচিব বোর্ডের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হইবেন এবং তিনি চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের সভার তারিখ, সময় এবং আলোচ্যসূচি নির্ধারণ, সভার কার্যবিবরণী প্রস্তুত, বোর্ড কর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ এবং বোর্ড কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদন করিবেন।
Section ১৪. কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি
(১) বোর্ড উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে। (২) কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৫. কমিটি গঠন
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠন করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বোর্ডের নিম্নবর্ণিত কমিটি থাকিবে, যথা:-
Section ১৬. পরামর্শক নিয়োগ
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতার প্রয়োজন হয় এইরূপ কোনো কার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, বোর্ড, প্রয়োজনে, পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করিতে পারিবে। (২) বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শকের দায়িত্ব ও তাহাদের নিয়োগের শর্তাবলি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
Section ১৭. তহবিল
(১) বোর্ডের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
Section ১৮. বাজেট
বোর্ড, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট বিবরণী সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।
Section ১৯. হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা
(১) বোর্ড যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে। (২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর বোর্ডের হিসাব-নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট পেশ করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য বোর্ড অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। (৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President’s Order No. 2 of 1973)-এর Article 2(1) (b)-তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট দ্বারা বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে বোর্ড এক বা একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে এবং এইরূপ নিয়োগকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত হারে পারিতোষিক প্রাপ্য হইবেন। (৫) বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি অথবা উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিয়োগকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বোর্ডের সকল রের্কড, দলিল, বার্ষিক ব্যালেন্স শিট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, সচিব বা কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
Section ২০. বার্ষিক প্রতিবেদন
(১) বোর্ড প্রত্যেক অর্থ বৎসর শেষে ৩১ জুলাই এর মধ্যে উক্ত বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে। (২) সরকার, প্রয়োজনে, বোর্ডের নিকট হইতে যে কোনো সময় যে কোনো বিবরণী, হিসাব, পরিসংখ্যান এবং বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন যে কোনো বিষয় সম্পর্কিত তথ্য বা উক্তরূপ যে কোনো বিষয় সম্পর্কিত প্রতিবেদন যাচনা করিতে পারিবে এবং বোর্ড উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ২১. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকগণের চাকরির সাধারণ শর্তাবলি
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকগণের চাকরির শর্তাবলি ও আচরণবিধি সম্পর্কে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২২. জনসেবক
চেয়ারম্যান, সচিব এবং বোর্ডের কর্মচারীগণ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর Section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে জনসেবক (public servant) বলিয়া গণ্য হইবেন।
Section ২৩. অবসর গ্রহণের বয়স
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুন কেন, বোর্ডের স্থায়ী কর্মচারীগণের অবসর গ্রহণের বয়স হইবে ৬০ (ষাট) বৎসর।
Section ২৪. ক্ষমতা অর্পণ
বোর্ড, প্রয়োজনে, লিখিতভাবে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, উক্ত আদেশে বর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, যদি থাকে, এই আইনের অধীন উহার কোনো ক্ষমতা চেয়ারম্যান, সচিব বা কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ২৫. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কোর্সের ধরন, মেয়াদ, মান ও যোগ্যতা সনদ নির্ধারণ
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কোর্সের ধরন, মেয়াদ, মান ও যোগ্যতা সনদ তপশিল ১ অনুযায়ী হইবে।
Section ২৬. তপশিল সংশোধনের ক্ষমতা
সরকার, বোর্ডের সুপারিশক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তপশিল সংশোধন করিতে পারিবে।
Section ২৭. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২৮. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে। (২) বিশেষ করিয়া এবং উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বোর্ড, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোনো বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে; যথা:-
Section ২৯. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Technical Education Act, 1967(Act No. 1 of 1967), অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও-
Section ৩০. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে। (২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।