Bangladesh Standards and Testing Institution Ordinance, 1985 রহিতক্রমে উহা নূতনভাবে প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তপশিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হয় এবং সিভিল আপিল নং ৪৮/২০১১ তে সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১ নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং যেহেতু ২০১৩ সনের ৭নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হয়; এবং যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে, Bangladesh Standards and Testing Institution Ordinance, 1985 (Ord. No. XXXVII of 1985) রহিত করিয়া এর বিষয়বস্তু বিবেচনাপূর্বক সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘ইনস্টিটিউশন’’ অর্থ ধারা ৪ এ বর্ণিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন;
(২) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ পরিষদের চেয়ারম্যান;
(৩) ‘‘ট্রেড মার্ক’’ অর্থ কোনো নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক অথবা কোনো পণ্যের সহিত ব্যবহৃত বা ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবিত এমন কোনো মার্ক যাহাতে ব্যবসায় উক্ত পণ্যের উপর মার্ক ব্যবহারকারী স্বত্বাধিকারীর অধিকার রহিয়াছে মর্মে প্রতীয়মান হয়;
(৪) ‘‘দ্রব্য’’ অর্থ উৎপাদিত বা প্রাকৃতিক, অথবা আংশিক উৎপাদিত বা আংশিক প্রাকৃতিক, অথবা কাঁচা বা আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াজাতকৃত বা উৎপাদিত কোনো বস্তু;
(৫) ‘‘পরিদর্শক’’ অর্থ ধারা ২২ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত পরিদর্শক বা মহাপরিচালক কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ইনস্টিটিউশনের কোনো কর্মচারী;
(৬) ‘‘পরিষদ’’ অর্থ ধারা ৮ এর অধীন গঠিত পরিষদ;
(৭) ‘‘প্রক্রিয়া’’ অর্থ কোনো দ্রব্যের উৎপাদনের প্রচলিত রীতি, পদ্ধতি ও ধরন;
(৮) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ ধারা ৪৮ এর অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৯) ‘‘ফি’’ অর্থ ইনস্টিটিউশন কর্তৃক প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত যে কোনো ফি ও চার্জ বা এই আইনের অধীন ফি বাবদ প্রদেয় যে কোনো অর্থ;
(১০) ‘‘ফৌজদারি কার্যবিধি’’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
(১১) ‘‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড’’ অর্থ ইনস্টিটিউশন কর্তৃক নির্ধারিত ও প্রকাশিত বাংলাদেশের জাতীয় স্ট্যন্ডার্ড যাহা এইরূপ কোনো দ্রব্য বা প্রক্রিয়ার মান নির্দেশক, এবং এই দফার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিন্মবর্ণিত বিষয়ও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(১২) ‘‘বিধি’’ অর্থ ধারা ৪৭ এর অধীন প্রণীত বিধি;
(১৩) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থ কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, সমিতি, অংশীদারি কারবার, সংবিধিবদ্ধ বা অন্য কোনো সংস্থা বা উহাদের প্রতিনিধিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৪) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক;
(১৫) ‘‘মার্ক’’ অর্থ কোনো ডিভাইস, ব্রান্ড, শিরোনাম (heading), লেবেল, টিকেট, নাম, স্বাক্ষর, শব্দ, অক্ষর, প্রতীক, সংখ্যা, সংখ্যাযুক্ত উপাদান বা রং এর সমন্বয়, এবং উহাদের যে কোনোরূপ সমন্বয়ও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৬) ‘‘লাইসেন্স’’ অর্থ ধারা ১৬ এর অধীন, কোনো দ্রব্য বা প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, প্রদত্ত লাইসেন্স;
(১৭) ‘‘লেবেল’’ অর্থ কোনো পণ্যের পরিচিতি, গঠন, উপাদান, গুণাগুণ, ব্যবহারের নির্দেশনা, বৈশিষ্ট্য, ওজন, পরিমাণ, মূল্য, উৎপাদন বা মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ সম্পর্কিত তথ্যাদি প্রদানের উদ্দেশ্যে উক্ত পণ্য বা পণ্যের ধারক বা ট্যাগে লিখিত, মুদ্রিত বা চিত্রিত কোনো কিছু প্রদর্শন অথবা উক্ত পণ্য সম্পর্কিত মুদ্রিত বিবরণ (literature) বা উহার সহিত যুক্ত এইরূপ অন্যান্য উপাদান;
(১৮) ‘‘শ্রেণিবিন্যাস’’ অর্থ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ বস্তুর শ্রেণিবিভাগ;
(১৯) ‘‘সরলীকরণ’’ অর্থ কোনো মালামালের অপ্রয়োজনীয় আকার এবং ভিন্নতা হ্রাসকরণ;
(২০) ‘‘স্ট্যান্ডার্ড মার্ক’’ অর্থ বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিনিধিত্ব করিবার উদ্দেশ্যে ধারা ৬ এর দফা (ট) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন সার্টিফিকেশন মার্ক।
এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন গৃহীত কার্যধারা বা ব্যবস্থা অন্য কোনো আইনের অধীন গৃহীত ব্যবস্থার অতিরিক্ত হইবে এবং অন্য আইনের অধীন গৃহীত ব্যবস্থাকে ক্ষুণ্ণ করিবে না।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, Bangladesh Standards and Testing Institution Ordinance, 1985 (Ord. No. XXXVII of 1985) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Standards and Testing Institution এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত।
(২) ইনস্টিটিউশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে, এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) ইনস্টিটিউশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) ইনস্টিটিউশন, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যে কোনো স্থানে উহার কার্যালয় এবং শাখা স্থাপন করিতে পারিবে।
ইনস্টিটিউশনের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) ইনস্টিটিউশনের পরিচালনা ও প্রশাসনের দায়িত্ব একটি পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ইনস্টিটিউশন যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, পরিষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) পরিষদ উহার দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে এই আইন, বিধি, প্রবিধান ও সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করিবে।
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে পরিষদ গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত মনোনীত কোনো সদস্য মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি তাহার পদ বা নিয়োগের কারণে সদস্য হিসাবে মনোনীত হন, সেইক্ষেত্রে তাহার, পদ বা নিয়োগ বাতিল হইলে, সদস্য পদও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হইবে।
(৩) সদস্য হিসাবে মনোনীত কোনো ব্যক্তি যে কোনো সময় চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে লিখিত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, চেয়ারম্যান কর্তৃক গৃহীত না হওয়া ক্ষেত্রমত কোনো পদত্যাগ কার্যকর হইবে না।
(৪) কোনো পদে কেবল শূন্যতা অথবা পরিষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পরিষদের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদ্সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে এবং তদকর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান, বা চেয়ারম্যান ও প্রথম ভাইস চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় ভাইস চেয়ারম্যান অথবা তাহাদের সকলের অনুপস্থিতিতে, উপস্থিত সদস্যগণের দ্বারা এতদুদ্দেশ্যে নির্বাচিত একজন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) অন্যূন ৮ (আট) জন সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোরামের প্রয়োজন হইবেনা।
(৫) পরিষদের সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যগণের ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
(৬) পরিষদের সভায় প্রত্যেক পরিচালকের একটি করিয়া ভোট থাকিবে , তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে, সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
(৭) প্রতি ৪ মাসে ন্যূনতম একবার পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে।
(১) পরিষদ উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কমিটি গঠনকল্পে পরিষদ প্রয়োজনীয়তার নিরিখে কমিটির চেয়ারম্যান এবং সদস্য নির্ধারণ করিবে।
(৩) কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদে দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) পরিষদ বা ধারা ১০ এর অধীন গঠিত কমিটি উহার কার্যসম্পাদনে সহায়তা বা পরামর্শ প্রদান আবশ্যক মনে করিলে, যে কোনো ব্যক্তিকে উহার সহিত সম্পৃক্ত করিতে পারিবে।
(২) পরিষদ অথবা ধারা ১০ এর অধীন গঠিত কমিটির সহিত সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি পরিষদ বা, ক্ষেত্রমত, কমিটির সভায় আলোচনায় অংশ গ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তাহার ভোটাধিকার থাকিবে না।
(১) ইনস্টিটিউশনের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন যিনি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিয়োগপ্রাপ্ত হইবেন।
(২) মহাপরিচালক ইনস্টিটিউশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি ইনস্টিটিউশনের প্রশাসন যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য দায়ী থাকিবেন।
(১) ইনস্টিটিউশন উহার কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) ইনস্টিটিউশনের কর্মচারীদের নিয়োগ পদ্ধতি এবং চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
ইনস্টিটিউশনের সকল আদেশ ও সিদ্ধান্ত, এবং জারিকৃত অন্যান্য সকল দলিল, এতদুদ্দেশ্যে পরিষদ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রমাণীকৃত হইবে।
(১) ধারা ১৬ এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে, কোনো ব্যক্তি কোনো দ্রব্য বা প্রক্রিয়ায়, বা কোনো প্যাটেন্টের শিরোনামে, অথবা কোনো ট্রেড মার্ক বা ডিজাইনে স্ট্যান্ডার্ড মার্ক অথবা উহার কোনো অনুকরণ ব্যবহার করিতে পারিবে না।
(২) ধারা ১৬ এর অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও, যদি কোনো পণ্য বা প্রক্রিয়া বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় তাহা হইলে কোনো ব্যক্তি উহাতে স্ট্যান্ডার্ড মার্ক বা উহার কোনো অনুকরণ ব্যবহার করিতে পারিবেন না।
(১) কোনো ব্যক্তি, কোনো পণ্য অথবা প্রক্রিয়া বা কোনো প্যাটেন্টের শিরোনাম বা কোনো ট্রেড মার্ক বা ডিজাইনে স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার করিতে চাহিলে অথবা ধারা ২০ বা ২১ অনুযায়ী অনুরূপ বাধ্যবাধকতা থাকিলে, তিনি স্ট্যান্ডার্ড মার্কের এইরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে লাইসেন্স গ্রহণের জন্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ইনস্টিটিউশনের নিকট আবেদন করিবেন।
(২) ইনস্টিটিউশন প্রয়োজনীয় তদন্তের পর নিম্নবর্ণিত বিষয় সম্পর্কে সন্তুষ্ট হইলে লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-
(৩) ইনস্টিটিউশন কর্তৃক, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও শর্তে, ফি প্রাপ্তি সাপেক্ষে, লাইসেন্স প্রদান করা যাইবে।
(৪) এই ধারার অধীন প্রদত্ত লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বৎসর বলবৎ থাকিবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, লাইসেন্সে বর্ণিত কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হইয়াছে মর্মে সন্তুষ্ট হইলে ইনস্টিটিউশন, শুনানি গ্রহণের যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিয়া, উহা বাতিল করিতে পারিবে।
(৬) কোনো লাইসেন্সধারীর লাইসেন্স হারাইয়া গেলে বা অন্যভাবে নষ্ট হইয়া গেলে তিনি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফি প্রদান সাপেক্ষে লাইসেন্সের প্রতিলিপির জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।
(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর ইনস্টিটিউশন প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও সময়ে লাইসেন্সের প্রতিলিপি প্রদান করিবে।
ইনস্টিটিউশন আমদানিকৃত পণ্যের অনুকূলে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং ফি পরিশোধ সাপেক্ষে, গুণগতমানের ছাড়পত্র প্রদান করিতে পারিবে।
প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত ক্ষেত্র এবং পরিস্থিতি ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্র বা পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তি, ইনস্টিটিউশনের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে, নিম্নরূপ কোনো নাম, অভিব্যক্তি বা মার্ক ব্যবহার করিতে পারিবেন না, যথা:-
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘নির্দিষ্টকরণ (specification)’’ অর্থ কোনো দ্রব্য বা প্রক্রিয়াকে অন্য কোনো দ্রব্য বা প্রক্রিয়া হইতে পৃথক করিবার জন্য যতদূর সম্ভব উহার প্রকৃতি, মান, দৃঢ়তা, বিশুদ্ধতা, মিশ্রণ, পরিমাণ, আয়তন, ওজন, শ্রেণিবিন্যাস, স্থায়ীত্ব, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, স্থায়ীত্ব, উপকরণ,উৎস, প্রস্তুতকরণের ধরন অথবা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য উল্লেখপূর্বক দ্রব্য বা প্রক্রিয়ার বিবরণ।
(১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ কোনো নাম বা মার্ক ব্যবহারের ফলে ধারা ১৫ বা ১৮ এর বিধান লঙ্গিত হয় এইরূপ নাম বিশিষ্ট কোনো কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি শ্রেণিকে অথবা ট্রেড মার্ক বা ডিজাইন নিবন্ধন করিবে না।
(২) কোনো নাম বা মার্ক ব্যবহারের ফলে ধারা ১৫ বা ধারা ১৮ এর বিধান লঙ্গিত হইয়াছে কিনা তদমর্মে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে, নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে, এবং এইক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ কোনো কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, অথবা ব্যক্তি-শ্রেণি, অথবা কোনো ট্রেড মার্ক বা ডিজাইন নিবন্ধনের জন্য অথবা প্যাটেন্ট প্রদানের জন্য আপাতত বলবৎ কোনো আইনের অধীন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ।
(১) সরকার, ইনস্টিটিউশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত শর্ত এবং ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, যে কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনার পণ্য যাহা রপ্তানির সহিত সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ধারণ করে না অথবা প্রচলিত সাধারণ রীতি, বাণিজ্য রীতিসহ, অনুসরণ করে না তাহা বাংলাদেশের বাহিরে লইয়া যাওয়া নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ অথবা অন্য কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(২) নির্দিষ্ট বর্ণনার কোনো পণ্য সরকারের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্সের শর্ত অনুসরণ ব্যতিরেকে বাংলাদেশের বাহিরে নেওয়া যাইবে না।
(৩) যে সকল পণ্যের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো প্রজ্ঞাপন প্রযোজ্য উহা Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) এর section 16 এর অধীন সীমাবদ্ধ বা নিষিদ্ধ করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং তদনুসারে উক্ত Act এর সকল বিধান কার্যকর থাকিবে।
(১) সরকার, ইনস্টিটিউশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তারিখ হইতে উহাতে বর্ণিত কোনো পণ্যের, যাহা উক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে ইনস্টিটিউশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে না, বিক্রয়, বিতরণ এবং বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তারিখ, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ হইতে ২ (দুই) মাসের কম হইবে না।
(২) সরকার, কোনো পণ্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হইলে, উহা সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, স্ট্যান্ডার্ড মার্ক দ্বারা চিহ্নিত করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-
(১) ইনস্টিটিউশন, কোনো দ্রব্য বা প্রক্রিয়ায় বা কোনো প্যাটেন্টের শিরোনামে, অথবা কোনো ট্রেড মার্ক বা ডিজাইনে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড মার্ক অনুচিতভাবে ব্যবহৃত হইয়াছে কিনা উহা পরিদর্শন এবং তাহার উপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিদর্শক নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান সাপেক্ষে, একজন পরিদর্শকের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথা:-
(৩) প্রত্যেক পরিদর্শককে ইনস্টিটিউশন কর্তৃক পরিদর্শক হিসাবে নিয়োগের সনদপত্র প্রদান করা হইবে এবং পরিদর্শকগণ চাহিবামাত্র উহা প্রদর্শন করিবেন।
প্রত্যেক লাইসেন্সধারী, ইনস্টিটিউশনের চাহিদা অনুযায়ী, কোনো পণ্য অথবা প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নমুনা এবং তথ্য ইনস্টিটিউশনের নিকট দাখিল করিবেন।
ইনস্টিটিউশন, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, লিখিতভাবে আদেশে উল্লিখিত ক্ষেত্রে ও শর্তে, যদি থাকে, উহার যে কোনো ক্ষমতা চেয়ারম্যান বা মহাপরিচালক বা পরিষদের কোনো সদস্য বা ইনস্টিটিউশনের কোনো ৯ম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডভুক্ত কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(১) ধারা ৬ এর দফা (ঠ) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি, সিদ্ধান্ত প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩ (তিন) মাসের মধ্যে অথবা সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অনুমোদিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত ফি পরিশোধ সাপেক্ষে সরকারের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।
(২) সরকার, ইনস্টিটিউশনের নিকট হইতে প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র তলব করিতে পারিবে এবং উক্ত বিষয়ে, প্রয়োজনে, তদন্তের পর আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুরূপ আদেশই চূড়ান্ত হইবে।
(১) এই আইনের অধীন কোনো পরিদর্শক বা পরিষদের কোনো সদস্য বা ইনস্টিটিউশনের কোনো কর্মচারী কর্তৃক প্রদত্ত কোনো বিবৃতি বা সরবরাহকৃত বা প্রদত্ত কোনো সাক্ষ্য বা পরিদর্শনের ফলে প্রাপ্ত যে কোনো তথ্য গোপনীয় বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন বিচারকার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য প্রকাশ করিবার ক্ষেত্রে উক্ত উপ-ধারার কোনো কিছু প্রযোজ্য হইবে না।
(১) কোনো ব্যক্তি যদি ধারা ১৫, ১৮ বা ১৯ এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, তবে পঁচিশ হাজার টাকার নিম্নে নহে, বা উভয় দণ্ড দণ্ডিত হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ব্যক্তিকে দণ্ডাদেশ প্রদানকারী আদালত যে সম্পত্তি সম্পর্কে আইনের বিধান লঙ্ঘিত হইয়াছে উহা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
কোনো ব্যক্তি যদি ধারা ২০ এর অধীন জারিকৃত কোনো প্রজ্ঞাপন অথবা উহার অধীন প্রদত্ত কোনো লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি, ধারা ২০ এর উপ-ধারা (৩) দ্বারা প্রয়োগযোগ্য Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) এর বিধানের অধীন বাজেয়াপ্তি বা দণ্ড ক্ষুণ্ণ না করিয়া, অনধিক ১(এক) বৎসর কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, তবে ১০ (দশ) হাজার টাকার নিম্নে নহে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোনো ব্যক্তি যদি ধারা ২১ এর অধীন জারিকৃত কোনো প্রজ্ঞাপনের বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইল উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৪(চার) বৎসর কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ২(দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, তবে ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকার নিম্নে নহে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোনো ব্যক্তি যদি পরিদর্শক কর্তৃক সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা প্রদান করেন, অথবা মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১(এক) বৎসর কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, তবে ১০ (দশ) হাজার টাকার নিম্নে নহে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোনো ব্যক্তি যদি এই আইন বা তদধীন প্রণীত কোনো বিধি বা প্রবিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইল উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি, যদি এই আইনের কোনো ধারায় কোনো দণ্ডের বিধান না থাকে, অনধিক ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, তবে ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকার নিম্নে নহে, দণ্ডিত হইবেন।
এই আইনে উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তি যদি পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে দণ্ড রহিয়াছে উহার দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোনো আদালত, সরকার বা ইনস্টিটিউশন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের লিখিত অভিযোগ ব্যতীত, এই আইনের অধীন কোনো মামলা বিচারার্থে আমলে গ্রহণ করিবে না।
(১) ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কর্তৃক বিচার্য হইবে।
(২) ধারা ২৯ বা, ক্ষেত্রমত, অন্য কোনো ধারায় বর্ণিত অপরাধ পুনঃসংঘটনের ক্ষেত্রে উহার বিচার ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে।
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই আইনের অধীন অপরাধের ক্ষেত্রে, উক্ত আইনের তপশিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, মোবাইল কোর্ট দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩২ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির উপর এই আইনের কোনো ধারায় উল্লিখিত অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ধারায় উল্লিখিত অর্থদণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন।
(১) এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধ যে দ্রব্য বা বস্তু সম্পর্কে বা যাহার দ্বারা সংঘটিত হইয়াছে উহা বাজেয়াপ্ত করা যাইবে।
(২) এই আইনের অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য কোনো দ্রব্য, ধারা ২৭ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন বাজেয়াপ্তির আদেশ প্রদানের পর, অবিলম্বে মহাপরিচালকের নিকট, অথবা মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ইনস্টিটিউশনের কোনো কর্মচারীর নিকট হস্তান্তর করিতে হইবে এবং তিনি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত উপায়ে উহা ধ্বংস বা নিষ্পন্নের ব্যবস্থা করিবেন।
(১) কোনো দ্রব্য পরীক্ষার পর, যদি দেখা যায় যে, উহা ইনস্টিটিউশন কর্তৃক উক্ত দ্রব্য সম্পর্কে নির্ধারিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডের অনুরূপ নহে, অথবা ২০ এর শর্ত অনুসরণ ব্যতীত বাংলাদেশের বাহিরে লইয়া যাওয়া বা প্রেরণ করিবার কার্যক্রম গ্রহণ করা হইয়াছে বা ধারা ২১ এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এমন কোনো দ্রব্য বিক্রয়, বিতরণ বা উহার বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হইতেছে, তাহা হইলে মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ইনস্টিটিউশনের কোনো কর্মচারী লিখিত আদেশ দ্বারা, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত দ্রব্য উৎপাদনকারী কারখানা অথবা উক্ত দ্রব্য যে প্রাঙ্গণে গুদামজাত রহিয়াছে উহা বন্ধ করিতে পারিবেন।
(২) কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপ-ধারা (১) এর অধীন বন্ধকরণের আদেশ প্রদান করা হইলে, তিনি এইরূপ আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘‘প্রাঙ্গণ’’ অর্থে নিম্নবর্ণিত স্থান, পণ্যাগার, আবাসস্থল, যানবাহন, ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
এই আইন বা ইনস্টিটিউশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন অন্য কোনো আইনের অধীন কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ বা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ইনস্টিটিউশনের কোনো কর্মচারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্যান্য সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করিবার জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং এইরূপ কোনো অনুরোধ করা হইলে উক্ত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ উক্ত সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
ধারা ৬ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন,-
(১) ইনস্টিটিউশনের একটি তহবিল থাকিবে এবং নিন্মবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ উক্ত তহবিলে জমা হইবে, যথা:-
(২) তহবিলের অর্থ ইনস্টিটিউশনের নামে ইনস্টিটিউশন কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত কোনো তপশিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করা যাইবে।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘তপশিলি ব্যাংক’’ অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(P.O. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত কোনো “Scheduled Bank”।
(৩) তহবিলের অর্থ হইতে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, তহবিলের অর্থে বাস্তবায়নাধীন কোনো প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বা যে কোনো অর্থ-বৎসরের শুরুতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখিয়া তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ, যদি থাকে, সরকারি কোষাগারে জমা করিতে হইবে।
ইনস্টিটিউশন, প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ইনস্টিটিউশনের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
(১) ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক বলিয়া অভিহিত, এর সহিত পরামর্শক্রমে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে।
(২) মহা হিসাব-নিরীক্ষক যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবেন সেইরূপ পদ্ধতিতে ইনস্টিটিউশনের হিসাব নিরীক্ষিত হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে, মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা এতদুদ্দেশ্যে তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ইনস্টিটিউশনের সকল রেকর্ড, বহি, দলিল, নগদ অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যান্য সম্পদ পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং ইনস্টিটিউশনের যে কোনো সদস্য, মহাপরিচালক অথবা অন্য কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৪) মহা হিসাব-নিরীক্ষক তাহার নিরীক্ষা প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবেন এবং উহার একটি কপি ইনস্টিটিউশনের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(১) ইনস্টিটিউশন প্রতিবৎসর তদকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পরবর্তী বৎসরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, যে কোনো সময়, ইনস্টিটিউশনের নিকট হইতে উহার যে কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন, বিবরণী বা রিটার্ন আহবান করিতে পারিবে এবং ইনস্টিটিউশন উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
এই আইনের কোনো বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্তরূপ অসুবিধা দূর করিতে পারিবে।
ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও কর্মচারীগণসহ এই আইনের অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী দণ্ডবিধির ধারা ২১ এ public servant (জনসেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) এই আইনের অধীন অপরাধ দমনে সহায়তাকারী কোনো সরকারি কর্মচারী জ্ঞাতসারে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে বা কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে অনুরূপ ব্যর্থতা বা লঙ্ঘনের জন্য তিনি দায়ী হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো ব্যর্থতা বা লঙ্ঘনের অভিযোগে কোনো সরকারি কর্মচারী দায়ী হইলে তিনি সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি-বিধান অনুযায়ী আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত হইবেন এবং উক্ত কারণে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করিতে হইবে।
সরকার, ইনস্টিটিউশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের তপশিল সংশোধন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইনস্টিটিউশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) Bangladesh Standards and Testing Institution Ordinance, 1985 (Ord. No. XXXVII of 1985), অতঃপর রহিত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত Ordinance এর অধীন-
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত Ordinance এর অধীন প্রণীত কোনো প্রবিধান, জারিকৃত কোনো প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোনো আদেশ, নির্দেশ, অনুমোদন, সুপারিশ, প্রণীত সকল স্কীম বা কার্যক্রম এবং অনুমোদিত সকল হিসাব বিবরণী ও বার্ষিক প্রতিবেদন উক্তরূপ রহিতের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ থাকিলে, এই আইনের কোনো বিধানের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অনুরূপ বিধানের অধীন প্রণীত, জারিকৃত, প্রদত্ত এবং অনুমোদিত বলিয়া গণ্য হইবে, এবং মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা এই আইনের অধীন রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) ইংরেজি পাঠ এবং মূল বাংলা পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।