মৎস্য, মৎস্যপণ্য ও উপকারী জীবাণুর আন্তর্জাতিক পরিবহণের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রোগজীবাণুর অনুপ্রবেশ ও বিস্তার রোধকল্পে এবং মৎস্যস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনে মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের সঙ্গনিরোধ, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং এতদ্সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু মৎস্য, মৎস্যপণ্য ও উপকারী জীবাণুর আন্তর্জাতিক পরিবহণের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রোগজীবাণুর অনুপ্রবেশ ও বিস্তার রোধকল্পে এবং মৎস্যস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনে মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের সঙ্গনিরোধ, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং এতদ্সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন মৎস্য সঙ্গনিরোধ আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) “আমদানি” অর্থ জল, স্থল বা আকাশ পথে অন্য কোনো দেশ হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো পণ্য বৈধভাবে আনয়ন করা;
(২) “আমদানি অনুমতিপত্র” অর্থ ধারা ১০ এর অধীন ইস্যুকৃত আমদানি অনুমতিপত্র;
(৩) “আমদানিকারক” অর্থ বাংলাদেশে কোনো পণ্য আমদানি করিতে ইচ্ছুক বা আমদানির সহিত সম্পৃক্ত এইরূপ কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন, স্বত্বাধিকারী, প্রাপক (Consignee) বা প্রতিনিধি (Agent);
(৪) “উপকারী জীবাণু” অর্থ ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, নেমাটোড, ভাইরাস, ভাইরাসের মত জীবাণুসহ যে কোনো সমজাতীয় জীবাণু বা এমন কোনো অমেরুদণ্ডী প্রাণী যাহা মৎস্যের রোগজীবাণু দমনে বা বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান মৎস্যজাত দ্রব্যাদি উৎপাদনের জন্য উপকারী এবং যাহা সরকার কর্তৃক, সময় সময়, মৎস্য উৎপাদনের জন্য উপকারী বলিয়া ঘোষিত;
(৫) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(৬) “নিয়ন্ত্রিত এলাকা” অর্থ ধারা ১৯ এর অধীন ঘোষিত নিয়ন্ত্রিত এলাকা;
(৭) “প্যাকিং দ্রব্যাদি” অর্থ মৎস্য, মৎস্যপণ্য ও উপকারী জীবাণুর প্যাকিং, ধারণ অথবা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয় এমন কোনো দ্রব্য;
(৮) “ফৌজদারি কার্যাবিধি” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
(৯) “বাহন” অর্থ মৎস্য, মৎস্যপণ্য ও উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি জল, স্থল বা আকাশ পথে এক স্থান হইতে অন্য স্থানে পরিবহণ করিতে সক্ষম এমন সকল প্রকার যান্ত্রিক বা অযান্ত্রিক বা প্রাণী বা মানুষ চালিত বাহন;
(১০) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১১) “মৎস্য” অর্থ সকল প্রকার কোমল অস্থি ও কঠিন অস্থি বিশিষ্ট মাছ (Cartilaginous and Bony Fishes), স্বাদু ও লবণাক্ত পানির চিংড়ি (Prawn and Shrimp), উভচর জলজ প্রাণী (Amphibians), কচ্ছপ (Tortoise), কাছিম, কুমির (Crocodile), কাঁকড়া জাতীয় প্রাণী (Crustacean), শামুক বা ঝিঁনুক জাতীয় জলজ প্রাণী (Molluscs), একাইনোডার্মস (Sea Cucumber) জাতীয় প্রাণী, ব্যাঙ (Frogs/Toad) এবং উহাদের জীবন্তকোষ ও জীবনচক্রের যে কোনো ধাপ এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষিত অন্য কোনো জলজ প্রাণী;
(১২) “মৎস্যপণ্য” অর্থ কোনো মৎস্য হইতে উৎপন্ন পণ্য বা প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত পণ্য (By product);
(১৩) “মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্তৃপক্ষ” বা “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৪ এর বিধান অনুযায়ী মৎস্য অধিদপ্তর;
(১৪) “মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা (Fisheries Quarantine Officer)” অর্থ ধারা ৭ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা;
(১৫) “সংক্রমিত (Infected)” অর্থ কোনো নির্দিষ্ট মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদির মধ্যে ক্ষতিকারক রোগজীবাণুর উপস্থিতি;
(১৬) “সঙ্গনিরোধ (Quarantine)” অর্থ মৎস্য রোগের প্রাদুর্ভাব বা বিস্তার রোধকল্পে আমদানির উদ্দেশ্যে মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি পৃথকীকরণ (Isolation) এবং পরীক্ষার জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোনো স্থান বা আঙ্গিনায় মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অন্তরীণ (Confined) রাখা।
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে মৎস্য সঙ্গনিরোধের বিষয়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মৎস্য অধিদপ্তর, মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবে।
কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(১) মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এই আইনের অধীন কর্তৃপক্ষের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ উহার যে কোনো ক্ষমতা মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের অধীন প্রদত্ত কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সরকার মৎস্য অধিদপ্তরের অধীন প্রয়োজনীয় সংখ্যক মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরির শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারী মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ও কর্মচারী হিসাবে দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদন করিবেন।
(১) সরকার Imports and Exports (Control) Act, 1950 (Act No.XXXIX of 1950) এর অধীন প্রণীত আমদানি নীতি আদেশে উল্লিখিত শর্তে কোনো মৎস্য, মৎস্যপণ্য বা উপকারী জীবাণু বা মানুষের রোগের সংক্রমণের কারণ হইতে পারে, উহার আমদানি নিষিদ্ধ, সীমিত বা অন্য কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো মৎস্য, মৎস্যপণ্য বা উপকারী জীবাণু এবং প্যাকিং দ্রব্যাদি আমদানির ক্ষেত্রে Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) এ শুল্ক কর্মকর্তার বাধা-নিষেধ আরোপ করিবার যে ক্ষমতা রহিয়াছে, সেই ক্ষমতা মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।
(১) আমদানি অনুমতিপত্র ব্যতিরেকে কোনো আমদানিকারক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি আমদানি করিতে পারিবে না।
(২) কোনো মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি নির্ধারিত বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করিতে হইবে।
(৩) সরকার, সময় সময়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি আমদানির শর্ত নির্ধারণ করিতে পারিবে অথবা কোনো শর্ত হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(১) আমদানি অনুমতিপত্রের জন্য, নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে, কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক অনুমোদিত পদ্ধতি ও ফরমে আবেদন করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষ, নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে, আমদানির অনুমতিপত্র ইস্যু করিতে পারিবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ, যুক্তিসঙ্গত কারণে, ইস্যুকৃত আমদানির অনুমতিপত্র বাতিল বা স্থগিত বা সংশোধন করিতে পারিবে।
(১) মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা আমদানিকৃত মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি, বাহন, গুদাম ও উহার অভ্যন্তরস্থ দ্রব্যাদি পরিদর্শন, পরীক্ষা ও উহার নমুনা সংগ্রহ করিতে পারিবেন এবং প্রয়োজনে শোধনপূর্বক, নির্ধারিত পদ্ধতিতে ছাড়করণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(২) মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তার আদেশ মোতাবেক মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি বহনকারী বা গুদামজাতকারী বা বাহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট গুদাম, বাহন ও উহার অভ্যন্তরস্থ দ্রব্যাদি পরিদর্শন এবং প্রয়োজনে শোধনের জন্য উন্মুক্ত করিয়া দিতে বাধ্য থাকিবেন।
(৩) আমদানিকারক, মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তার চাহিদা অনুযায়ী, আমদানিকৃত দ্রব্যাদি পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহ করিবার অনুমতি প্রদানে বাধ্য থাকিবেন।
মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা পরীক্ষাধীন মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি তাহার অনুমতি ব্যতীত স্থানান্তরিত করা যাইবে না বা কোনো কন্টেইনার খোলা যাইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, শুল্ক কর্মকর্তার কার্য নির্বাহের জন্য উক্ত বিধানটি শিথিলযোগ্য হইবে।
এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিয়া বাংলাদেশে আমদানি করা মৎস্য, মৎস্যপণ্য বা উপকারী জীবাণু অথবা ট্রানজিটে থাকা বা বাংলাদেশের এক অংশ হইতে অন্য অংশে বহন করা মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি, যাহা রোগজীবাণু পোষণকারী হিসাবে সন্দেহযুক্ত বা সংক্রমিত, উহা আটক করা যাইবে অথবা ক্ষেত্রবিশেষে প্রবেশের অসম্মতি প্রদান করা যাইবে।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘ট্রানজিট’’ বলিতে কোনো মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি এক দেশ হইতে অন্য দেশে পরিবহণকালে বাংলাদেশ অতিক্রমের সময়কে বুঝাইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আটক বা বাজেয়াপ্ত সকল মৎস্য, মৎস্যপণ্য বা উপকারী জীবাণু সঙ্গনিরোধের জন্য মৎস্য সঙ্গগনিরোধ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে থাকিবে এবং তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত মৎস্য, মৎস্যপণ্য বা উপকারী জীবাণুর সঙ্গনিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(১) মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ধারা ১৩ এর অধীন আটককৃত মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি বাজেয়াপ্ত, ধ্বংস, অপসারণ, শোধন বা মৎস্যস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ধ্বংস করিতে হইবে এমন দ্রব্য ব্যতীত অন্যান্য দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হইলে উহা প্রকাশ্য নিলামে বা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক অন্য কোনো আইনসম্মত উপায়ে বিক্রয় করা যাইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করিতে হইবে।
(৪) মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ধারা ১৩ এর অধীন মৎস্য, মৎস্যপণ্য বা উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদির আটক এবং উপ-ধারা (১) এর অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়, কারণসহ, আমদানিকারক অথবা, ক্ষেত্রমত, মালিককে অবহিত করিবেন।
(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন আটককৃত দ্রব্যাদি শোধন বা অপসারণ বা ধ্বংস করিবার ক্ষেত্রে সকল ব্যয় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক বহন করিবে।
(১) কোনো ব্যক্তি তাহার সম্মতিক্রমে বা অসম্মতিতে কোনো মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি বাংলাদেশের বাহির হইতে প্রাপ্ত হইলে, তিনি এবং সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিকটস্থ মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তার নিকট উক্ত বিষয়ে ঘোষণা প্রদান করিবেন।
(২) মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দ্রব্যাদি পরীক্ষান্তে উহা ছাড়করণ বা ধারা ১৫ এর বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
মৎস্য রোগজীবাণু সীমাবদ্ধকরণ বা নির্মূলকরণের লক্ষ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে কোনো মৎস্য, মৎস্যপণ্য বা উপকারী জীবাণু, জেনেটিক্যালি মডিফাইড অর্গানিজমস্, লিভিং মডিফাইড অর্গানিজমস্ ও এলিয়েন ইনভেসিউ স্পেসিস, জার্মপ্লাজম, প্যাকিং দ্রব্যাদি, ক্ষতিকারক রোগজীবাণু অথবা সমজাতীয় অন্য যে কোনো দ্রব্য, যাহা মৎস্য রোগজীবাণু পোষণকারী ও বিস্তারকারী, উহার অনুপ্রবেশ, প্রবর্তন, বিক্রয়, চাষাবাদ, বংশবৃদ্ধিকরণ বা পরিবহণ নিষিদ্ধ বা বাধা-নিষেধ আরোপ করিতে পারিবে।
(১) কোনো ক্ষতিকারক রোগজীবাণু যদি মৎস্য উৎপাদন, উপকারী জীবাণু বা প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য শঙ্কাপূর্ণ হয় অথবা কোনো ক্ষতিকারক রোগজীবাণু যদি বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করিয়াছে মর্মে নিশ্চিত হওয়া যায় বা বাংলাদেশে বিদ্যমান রহিয়াছে এবং এমন ক্ষতিকারক রোগজীবাণু সীমাবদ্ধকরণ ও নির্মূলকরণ প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হয়, তাহা হইলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত রোগজীবাণুকে সংক্রামক রোগজীবাণু হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।
(২) কোনো পুকুর, দিঘি বা যে কোনো ধরনের জলাশয় অথবা কোনো আঙ্গিনায় সংক্রামক রোগজীবাণু হিসাবে পরিচিত বা অনুমিত রোগজীবাণু পাইবার ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট জলাশয় বা আঙ্গিনার অধিকারী বা মালিক উহা নিকটস্থ মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন।
সরকার মৎস্য সঙ্গনিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে, যথা :-
বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বাংলাদেশ কাস্টমস, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, ডাক বিভাগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, শিপিং এজেন্সিজ এবং সমজাতীয় সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এই আইনের পরিপন্থি কার্যক্রম রোধ করিতে পারিবেন এবং মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তাকে এই আইনের অধীন ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবেন।
(১) কোনো আমদানিকারক আমদানি অনুমতিপত্র ব্যতীত অথবা এই আইনের অধীন নিষিদ্ধ কোনো মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি বাংলাদেশে আমদানি, উৎপাদন, মজুদ, বহন বা বিক্রয় করিলে, উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অন্যূন ১ (এক) বৎসর এবং অনূর্ধ্ব ৭ (সাত) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি তাহার অধিকার, তত্ত্বাবধান বা নিয়ন্ত্রণে রাখিলে অথবা উৎপাদন, মজুদ, বহন, বিক্রয়, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপন প্রচার, বিতরণ বা পরিবহণ করিলে, উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অন্যূন ১ (এক) বৎসর এবং অনূর্ধ্ব ৭ (সাত) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি বা আমদানিকারক-
উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানির এমন প্রত্যেক পরিচালক, অংশীদার, প্রধান নির্বাহী, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা প্রতিনিধি উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারায়-
মৎস্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন কোনো মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (Non cognizable) এবং জামিনযোগ্য (Bailable) হইবে।
এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে।
ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এই আইনের অধীন দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।
এই আইনের অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২১ এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন অপরাধ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তপশিলভুক্ত করিয়া বিচার করা যাইবে।
(১) এই আইনের অধীন কোনো লিখিত আদেশ দ্বারা কোনো আমদানি অনুমতিপত্র গ্রহীতা সংক্ষুব্ধ হইলে উক্ত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উক্ত আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে-
আপিল করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আপিল দাখিল করা হইলে, আপিল দাখিলের অনধিক ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
সরকার মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি পরিদর্শন, পরীক্ষণ অথবা উক্ত মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি ধারা ১৫ এর অধীন ধ্বংস, অপসারণ বা শোধনের জন্য, সময় সময়, ফিস ও মাসুল, নির্ধারিত পদ্ধতি ও হারে, নির্ধারণ ও আদায় করিতে পারিবে।
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নির্ধারিত বন্দরসমূহে মৎস্য সঙ্গনিরোধ স্টেশন স্থাপন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।