রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রম বা পাঠ্যক্রমের স্বীকৃতি, রিহ্যাবিলিটেশন সেবা প্রতিষ্ঠান বা ইউনিট অনুমোদন, রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীর নিবন্ধন, এবং উহাদের যোগ্যতা ও সেবার মান নির্ধারণ ও নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে কাউন্সিল গঠন এবং এতৎসংশ্লিষ্ট বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা কার্যক্রম বা পাঠ্যক্রমের স্বীকৃতি, রিহ্যাবিলিটেশন সেবা প্রতিষ্ঠান বা ইউনিট অনুমোদন, রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীর নিবন্ধন, এবং উহাদের যোগ্যতা ও সেবার মান নির্ধারণ ও নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে কাউন্সিল গঠন এবং এতৎসংশ্লিষ্ট বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল, যথা:-
(১) এই আইন বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) “কাউন্সিল” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল;
(২) “তপশিল” অর্থ এই আইনের সহিত সংযুক্ত কোনো তপশিল;
(৩) “নির্বাহী কমিটি” অর্থ ধারা ১০ এর অধীন গঠিত নির্বাহী কমিটি;
(৪) “প্রতিবন্ধী ব্যক্তি” অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩ এ বর্ণিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি;
(৫) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোনো প্রবিধান;
(৬) “ফৌজদারী কার্যবিধি’’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898);
(৭) “বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোনো বিধি;
(৮) “রিহ্যাবিলিটেশন” অর্থ কতিপয় স্বীকৃত পদ্ধতি অথবা ব্যবস্থার সমষ্টি, যাহা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অথবা প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যক্তির প্রাত্যহিক অথবা ব্যবহারিক জীবনমানের প্রত্যাশিত উন্নয়ন ঘটাইবার মাধ্যমে জীবনের সকলক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সহিত স্বাভাবিক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে;
(৯) “রিহ্যাবিলিটেশন টেকনিশিয়ান” অর্থ কাউন্সিল কর্তৃক এই আইনের অধীন নিবন্ধিত এমন কোনো টেকনিশিয়ান, যাহার তৃতীয় তপশিলে উল্লিখিত যোগ্যতা রহিয়াছে, এবং যিনি রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনারের তত্ত্বাবধানে সেবা প্রদান করেন;
(১০) “রিহ্যাবিলিটেশন টেকনোলজিস্ট” অর্থ কাউন্সিল কর্তৃক এই আইনের অধীন নিবন্ধিত এমন কোনো টেকনোলজিস্ট, যাহার দ্বিতীয় তপশিলে উল্লিখিত যোগ্যতা রহিয়াছে, এবং যিনি রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনারের তত্ত্বাবধানে সেবা প্রদান করেন;
(১১) “রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী” অর্থ কাউন্সিল কর্তৃক এই আইনের অধীন নিবন্ধিত এমন কোনো পেশাজীবী যাহার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তপশিলে উল্লিখিত যোগ্যতা রহিয়াছে;
(১২) “রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনার” অর্থ কাউন্সিল কর্তৃক এই আইনের অধীন লাইসেন্স প্রাপ্ত কোনো রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনার, যাহার প্রথম তপশিলে উল্লিখিত যোগ্যতা রহিয়াছে;
(১৩) “রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” অর্থ চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তপশিলে উল্লিখিত রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;
(১৪) “রিহ্যাবিলিটেশন সেবা ইউনিট” অর্থ কাউন্সিল কর্তৃক এই আইনের অধীন অনুমোদিত কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের অধীন রিহ্যাবিলিটেশন সেবা প্রদানের নিমিত্ত সৃষ্ট সেন্টার, বিভাগ বা ইউনিট;
(১৫) “রিহ্যাবিলিটেশন সেবা প্রতিষ্ঠান” অর্থ কাউন্সিল কর্তৃক এই আইনের অধীন অনুমোদিত কোনো রিহ্যাবিলিটেশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান;
(১৬) “রেজিস্ট্রার” অর্থ ধারা ৮ এর অধীন নিয়োগকৃত কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার; এবং
(১৭) “স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান” অর্থ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অথবা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অথবা ক্ষেত্রবিশেষে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ (State Medical Faculty) কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে, এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার, হস্তান্তর করিবার এবং চুক্তি সম্পাদন করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) কাউন্সিলের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত হইবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, দেশের যে কোনো স্থানে কাউন্সিলের অধঃস্তন বা শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
(১) কাউন্সিল নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (২) এর দফা (ধ), (ন), (ফ), (ব), (ভ), (ম) ও (য) তে উল্লিখিত মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে মনোনয়ন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত যে কোনো সদস্যকে তাহার দায়িত্ব হইতে যে কোনো সময় অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) কাউন্সিলের কোনো সদস্য, সভাপতি বরাবরে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, তবে সভাপতি কর্তৃক গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পদত্যাগ কার্যকর হইবে না।
(৪) কোনো ব্যক্তি একাধিক যোগ্যতায় কাউন্সিলের সদস্য হইতে বা থাকিতে পারিবে না।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “পেশাজীবী সংগঠন” বলিতে প্রথম তপশিলে উল্লিখিত রিহ্যাবিলিটেশন প্র্যাকটিশনারের পেশা সংশ্লিষ্ট ও সরকারের যথাযথ নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পেশাজীবী সংগঠন হিসাবে নিবন্ধনপ্রাপ্ত সংগঠনকে বুঝাইবে।
কাউন্সিলের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, কাউন্সিল উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) প্রতি ৬ (ছয়) মাসে কাউন্সিলের অন্যূন ১ (এক) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে এবং জরুরি প্রয়োজনে, যে কোনো সময়ে বিশেষ সভা আহ্বান করা যাইবে।
(৪) কাউন্সিলের সকল সভায় উহার সভাপতি সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত কাউন্সিলের কোনো সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৬) সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় অথবা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৭) কেবল কাউন্সিলের কোনো সদস্যপদে শূন্যতা বা কাউন্সিল গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কাউন্সিলের কোনো কার্য অথবা কার্যধারা অবৈধ হইবে না, বা কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) কাউন্সিলের একজন রেজিস্ট্রার থাকিবে।
(২) রেজিস্ট্রার রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনারের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) রেজিস্ট্রার কাউন্সিলের এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য-সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদন করিবে।
(৪) রেজিস্ট্রার এর পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রেজিস্ট্রার তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে উক্ত শূন্য পদে নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত, অথবা রেজিস্ট্রার পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি রেজিস্ট্রার এর দায়িত্ব পালন করিবে।
(১) কাউন্সিল, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুসারে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) কাউন্সিলের কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) কাউন্সিলের একটি নির্বাহী কমিটি থাকিবে।
(২) কাউন্সিলের সভাপতি, রেজিস্ট্রার এবং সদস্যগণের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক, এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, অনধিক ০৫ (পাঁচ) জন সদস্য সমন্বয়ে নির্বাহী কমিটি গঠিত হইবে।
(৩) কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সনও হইবেন।
(৪) কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার নির্বাহী কমিটির সদস্য-সচিবও হইবেন।
(৫) কাউন্সিলের পরিচালনা ও প্রশাসন নির্বাহী কমিটির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কাউন্সিল যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে নির্বাহী কমিটিও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(৬) নির্বাহী কমিটি উহার ক্ষমতা প্রয়োগ, কার্যাবলি সম্পাদন ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কাউন্সিলের নিকট দায়ী থাকিবে এবং কাউন্সিল কর্তৃক, সময়ে সময়ে, প্রদত্ত নির্দেশনা, আদেশ ও নির্দেশ অনুসরণ করিবে।
কাউন্সিল উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, প্রয়োজনবোধে, এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(১) বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল তহবিল নামে কাউন্সিলের একটি তহবিল থাকিবে এবং নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ দ্বারা উক্ত তহবিল গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত তহবিল কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত কোনো তপশিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, তবে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী, তহবিল পরিচালনা করা যাইবে।
(৩) কাউন্সিলের তহবিল হইতে কাউন্সিলের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘তপশিলি ব্যাংক’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত ‘Scheduled Bank’ কে বুঝাইবে।
(১) বিদ্যমান অন্য কোনো আইনের অধীন কোনো কর্তৃপক্ষ হইতে কোনোরূপ অনুমোদন বা স্বীকৃতি প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী সকল রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানকে কাউন্সিলের নিকট হইতে স্বীকৃতি গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃতি গ্রহণের জন্য রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী সকল রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানকে এই আইন বলবৎ হইবার ১৮০ (একশত আশি) দিনের মধ্যে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) কাউন্সিল বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তপূরণ সাপেক্ষে প্রত্যেক রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা কার্যক্রমকে স্বীকৃতি প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো ব্যক্তি রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান কোনো কোর্স বা প্রশিক্ষণ বা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করিলে অথবা সনদ প্রদান করিলে উহা হইবে এই আইনের অধীন একটি অপরাধ এবং উক্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ০২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ০১ (এক) লক্ষ টাকা হইতে অনূর্ধ্ব ০২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
(১) বিদ্যমান অন্য কোনো আইনের অধীন কোনো কর্তৃপক্ষ হইতে কোনোরূপ অনুমোদন বা স্বীকৃতি প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, রিহ্যাবিলিটেশন সেবা প্রতিষ্ঠান অথবা সেবা ইউনিটের সপ্তম তপশিলে অন্তর্ভুক্ত না থাকিলে উক্ত প্রতিষ্ঠান বা ইউনিটকে এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কাউন্সিলের নিকট হইতে অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদন লাভের জন্য বিদ্যমান সকল রিহ্যাবিলিটেশন সেবা প্রতিষ্ঠান বা সেবা ইউনিটকে এই আইন বলবৎ হইবার ১৮০ (একশত আশি) দিনের মধ্যে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) কাউন্সিল বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তপূরণ সাপেক্ষে প্রত্যেক রিহ্যাবিলিটেশন সেবাপ্রতিষ্ঠান বা রিহ্যাবিলিটেশন সেবা ইউনিটকে অনুমোদন প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো ব্যক্তি কোনো রিহ্যাবিলিটেশন সেবা প্রতিষ্ঠান অথবা রিহ্যাবিলিটেশন সেবা ইউনিট পরিচালনা করিলে উহা হইবে এই আইনের অধীন একটি অপরাধ এবং তৎজ্জন্য তিনি অন্যূন ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ০১ (এক) লক্ষ টাকা হইতে অনূর্ধ্ব ০২ (দুই) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দন্ডিত হইবেন।
(১) বিদ্যমান অন্য কোনো আইনের অধীন কোনো কর্তৃপক্ষ হইতে কোনোরূপ নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীগণকে এবং রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনারগণকে এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাউন্সিলের নিকট হইতে যথাক্রমে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কাউন্সিল কর্তৃক নিবন্ধন বা, ক্ষেত্রমত, লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী বা রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনারকে এই আইন বলবৎ হইবার ১৮০ (একশত আশি) দিনের মধ্যে কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) কাউন্সিল বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তপূরণ সাপেক্ষে প্রত্যেক রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী বা রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনারকে যথাক্রমে নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রতিপালন না করিয়া কোনো ব্যক্তি রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী অথবা রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনার হিসাবে পেশা অথবা কার্য পরিচালনা করিলে তিনি অন্যূন ০২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ০১ (এক) লক্ষ টাকা হইতে অনূর্ধ্ব ০২ (দুই) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(১) বিদেশি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হইতে ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ অথবা সনদপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্ত ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ অথবা সনদমূলে বাংলাদেশে রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী অথবা রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনার হিসাবে পেশা বা কার্য পরিচালনা করিতে আগ্রহী হইলে বা বাংলাদেশে উক্ত ডিগ্রি অথবা সনদ ব্যবহারে আগ্রহী হইলে উক্ত ব্যক্তিকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(২) কাউন্সিল বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও শর্ত পূরণসাপেক্ষে উপযুক্ত বিবেচনা করিলে আবেদনকারীকে নিবন্ধন ও, ক্ষেত্রমতে, লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রতিপালন না করিয়া কোনো ব্যক্তি রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী অথবা রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনার হিসাবে পেশা অথবা কার্য পরিচালনা করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অন্যূন ০২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ০১ (এক) লক্ষ টাকা হইতে অনূর্ধ্ব ০২ (দুই) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দন্ডিত হইবেন।
(১) কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যদি কাউন্সিলের নিকট প্রতীয়মান হয় যে-
তাহা হইলে কাউন্সিল যেরূপ যুক্তিসংগত হয় সেইরূপ মন্তব্যসহ উক্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়ে তৎকর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পেশ করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রতিবেদনটি প্রেরণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর কাউন্সিল উহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বা স্থগিত বা প্রত্যাহার করিতে পারিবে।
(১) কাউন্সিল রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীদের নিবন্ধন করত প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন বহিতে (Register) অন্তর্ভুক্ত করিবে এবং উক্ত নিবন্ধনসমূহ তৎকর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে যথাযথভাবে প্রকাশ এবং স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করিবে।
(২) রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীদের নিবন্ধনের শর্ত, নিবন্ধনের প্রক্রিয়া, কোনো বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ অথবা এতৎসংক্রান্ত বিষয়াদি কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী নামের পূর্বে অথবা পরে কী রূপ পদবি, চিহ্ন, ডিগ্রি, বর্ণনা ব্যবহার করিবে তাহা কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(১) বাংলাদেশের অভ্যন্তরের অথবা বাহিরের কোনো আইনানুগ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়া সত্ত্বেও কোনো নিবন্ধিত রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত নহে এইরূপ কোনো নাম, উপাধি, বর্ণনা অথবা চিহ্ন ব্যবহার অথবা প্রকাশ করিতে পারিবে না যাহাতে কোনো ব্যক্তির এইরূপ ধারণা জন্মে যে তিনি অতিরিক্ত অথবা অন্যবিধ কোনো পেশাগত যোগ্যতার অধিকারী।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রতিপালন না করিয়া কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নাম, উপাধি, বর্ণনা অথবা চিহ্ন ব্যবহার অথবা প্রকাশ করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অন্যূন ০২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ০১ (এক) লক্ষ টাকা হইতে অনূর্ধ্ব ০২ (দুই) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে, এবং তাহার নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাতিল হইবেন।
কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হইয়া অথবা স্বীকৃত যোগ্যতা অর্জন না করিয়া যদি রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী হিসাবে ভুয়া সনদ ব্যবহার করেন অথবা পেশা বা কার্য পরিচালনা করেন অথবা মিথ্যা বা নকল ডিগ্রি অথবা সনদ ব্যবহার করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অন্যূন ০৭ (সাত) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ০১ (এক) লক্ষ টাকা হইতে অনূর্ধ্ব ০২ (দুই) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(১) যদি কাউন্সিলের নিকট প্রতীয়মান হয় যে-
তাহা হইলে কাউন্সিল তাহাকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া নিবন্ধন বহি হইতে তাহার নিবন্ধন সাময়িক অথবা স্থায়ীভাবে বাতিল করিতে পারিবে, এবং কোনো রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীর নিবন্ধন বাতিল করা হইলে রিহ্যাবিলিটেশন প্র্যাকটিশনার হিসাবে তাহার লাইসেন্সটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ব্যক্তির স্থায়ীভাবে অথবা সাময়িকভাবে বাতিলকৃত নিবন্ধন কাউন্সিল তাহার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যথোপযুক্ত বিবেচনা করিলে পরবর্তীকালে পুনর্বহাল করিতে পারিবে।
(৩) কোনো রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী স্থায়ী বা সাময়িকভাবে নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করিলে, কাউন্সিল উপযুক্ত বিবেচনা করিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের অধীন কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংক্ষুব্ধ হইলে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আপিল আবেদনের বিষয়ে সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে এবং এই বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
কোনো রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী মৃত্যুবরণ করিলে মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীর মৃত্যুর তারিখ ও স্থানসহ বিস্তারিত বিবরণী সংবলিত এবং স্বাক্ষরিত একটি মৃত্যু সনদ অবিলম্বে ডাকযোগে, ই-মেইল অথবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারের নিকট প্রেরণ করিবে, এবং তৎভিত্তিতে মৃত ব্যক্তির নাম রেজিস্টার হইতে কর্তন করা যাইবে।
কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত ও সংরক্ষিত রেজিস্টারসমূহ Evidence Act, 1872 (Act 1 of 1872) এর অধীন সরকারি দলিল বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) কাউন্সিল প্রতি বৎসর, ৩০ জুনের পূর্বে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বাৎসরিক বাজেট বিবরণী প্রস্তুত করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়সহ পরিকল্পনা গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্যাদি উল্লেখ থাকিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রস্তুতকৃত বাজেট কাউন্সিলের সভায় অনুমোদিত হইবার পর উহা সরকারের নিকট পেশ করিতে হইবে।
(১) কাউন্সিল যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া অভিহিত, প্রতি বৎসর কাউন্সিলের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া কপি সরকার ও কাউন্সিলের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কাউন্সিলের সকল রেকর্ড, দলিল ও কাগজপত্র, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং রেজিস্ট্রার ও উহার যে কোনো সদস্য বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(১) কাউন্সিল, প্রতি বৎসর, তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি প্রতিবেদন পরবর্তী বৎসরের ৩০ জুনের মধ্যে সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, যে কোনো সময়, কাউন্সিলের নিকট উহার যে কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী তলব করিতে পারিবে এবং কাউন্সিল উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(১) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে সরকার অথবা কাউন্সিল কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।
(২) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
(৩) এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার, আপিল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
ফৌজদারি কার্যবিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির উপর এই আইনের অধীন অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এই আইনে উল্লিখিত অর্থদণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ৫৯ নং আইন) এর তপশিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, মোবাইল কোর্ট দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কাউন্সিল, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোনো বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন করা যাইবে, যথা:-
সরকার, সময়ে সময়ে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তপশিল সংশোধন করিতে পারিবে।
এই আইনের কোনো বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতার উদ্ভব হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে উক্ত অস্পষ্টতা দূর করিতে পারিবে।
কাউন্সিল, এই আইনের অধীন উহার উপর অর্পিত যে কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব, প্রয়োজনবোধে, তদকর্তৃক নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, লিখিতভাবে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, কাউন্সিলের সদস্য, নির্বাহী কমিটির সদস্য বা কাউন্সিলের যে কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।