উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ, নিবন্ধন, প্রজননবিদ ও কৃষকের অধিকার সংরক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু কৃষি উন্নয়ন ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষক ও প্রজননবিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যেহেতু উদ্ভিদের গবেষণা, জাতের উন্নয়ন, বীজ উৎপাদন, ব্যবহার, বিতরণ, বিপণন, রপ্তানি এবং প্রজনন ও জাত সংরক্ষণের সুফল কৃষকদের নিকট কার্যকরভাবে পৌঁছাইয়া দেওয়ার জন্য উৎসাহ, নির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন; যেহেতু সরকারি এবং বেসরকারি খাতে জাত উন্নয়ন ও প্রজনন কর্মকাণ্ডে প্রজননবিদ ও কৃষকের উদ্ভিদের কৌলিসম্পদ সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করা সমীচীন; যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (World Trade Organization) এর সদস্য এবং বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলির মেধা স্বত্বাধিকার (Trade Related Aspects of Intellectual Property Rights) সংক্রান্ত চুক্তি মানিয়া চলিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ; এবং যেহেতু জীববৈচিত্র্য কনভেনশন (Convention on Biological Diversity) এবং খাদ্য ও কৃষির জন্য উদ্ভিদের কৌলিসম্পদ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি মানিয়া চলিতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ; এবং যেহেতু উপরি-উক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনাপূর্বক একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ, নিবন্ধন, প্রজননবিদ ও কৃষকের অধিকার সংরক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
(১) এই আইন উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ আইন, ২০১৯ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেই তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) “অত্যাবশ্যকীয়ভাবে উদ্ভূত জাত (Essentially Derived Variety)’’ অর্থ এমন একটি জাত যাহা অন্য একটি প্রাথমিক (primary) জাত হইতে বংশ বিস্তার বা রূপান্তরের মাধ্যমে উৎপন্ন এবং যাহাতে উক্ত প্রাথমিক জাতের জেনোটাইপ বা জেনোটাইপসমূহের মিলনের ফলে নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে, যথাঃ-
(২) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ;
(৩) “কৃষক” অর্থ বাংলাদেশে বসবাসকারী এমন ব্যক্তি যিনি-
(৪) “কৃষক অধিকার” অর্থ ধারা ২৩ এ বর্ণিত অধিকার;
(৫) ‘কৃষক জাত’ অর্থ-
(৬) “কৌলিসম্পদ” অর্থ উদ্ভিদের সম্পূর্ণ, অংশবিশেষ বা বংশ বিস্তারক্ষম অংশ যেমন- বীজ, অঙ্গজ অংশ, কলা বা কোষসমষ্টি (Tissue) ও জীবকোষ (Cell) জিন (Gene) ও জেনোমিক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড অনুক্রম; কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির সকল প্রকরণও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৭) “কোম্পানি” অর্থ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর ধারা ২ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এ সংজ্ঞায়িত কোনো কোম্পানি;
(৮) “চেয়ারম্যান” অর্থ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান;
(৯) “জাত” অর্থ বীজ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৩) এ উল্লিখিত জাত;
(১০) “জাতীয় বীজ বোর্ড” অর্থ বীজ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬ নং আ্নি) এর ধারা ৩ এর অধীন গঠিত জাতীয় বীজ বোর্ড;
(১১) “জিএমও (Genetically Modified Organism)” অর্থ কৌলিগতভাবে রূপান্তরিত প্রাণসত্তা (Organism) যাহা মলিকুলার পর্যায়ে জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত এবং নূতন ধরনের বৈশিষ্ট্য উৎপন্ন করিতে বা নূতন বৃত্তির প্রকাশ ঘটাইতে সক্ষম;
(১২) “নামকরণ” অর্থ সংশ্লিষ্ট জাত বা উহার বীজ বা বংশ বিস্তারক্ষম অংশের নাম যাহা যে কোনো ভাষায় লিখিত বর্ণসমষ্টি বা যুগপৎভাবে বর্ণসমষ্টি ও সংখ্যা দ্বারা প্রকাশিত;
(১৩) “নিবন্ধন বহি” অর্থ ধারা ১৫ এ উল্লিখিত নিবন্ধন বহি;
(১৪) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি বা, ক্ষেত্রমত, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;
(১৫) “প্রজননবিদ” অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি-
(১৬) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(১৭) “বীজ” অর্থ বীজ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (১২) তে উল্লিখিত বীজ;
(১৮) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি:
(১৯) “বোর্ড” অর্থ এই আইনের ধারা ৮ এর অধীন গঠিত পরিচালনা বোর্ড;
(২০) ‘‘রেজিস্ট্রার’’ অর্থ ধারা ১২ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার; এবং
(২১) ‘‘সংরক্ষিত জাত’’ অর্থ ধারা ১৫ এর বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত উদ্ভিদের জাত।
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ‘উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা নিজ নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় থাকিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরুপ, যথা :-
কর্তৃপক্ষের সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে।
(১) কর্তৃপক্ষের একটি পরিচালনা বোর্ড থাকিবে, যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঞ), (ণ) এবং (ত) এ উল্লিখিত মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে বহাল থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, জনস্বার্থে, উক্ত মেয়াদ সমাপ্ত হইবার পূর্বে, কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, কোনো মনোনীত সদস্যকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে এবং মনোনীত সদস্যগণও যে কোনো সময় চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন ।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সরকার কর্তৃক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন, তবে উক্তরূপ সদস্য নিযুক্ত না হইয়া থাকিলে, বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) প্রতি ৬ (ছয়) মাসে বোর্ডের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের নোটিশে বোর্ডের সভা আহবান করা যাইবে।
(৪) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে এবং তৎকর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে সদস্য সচিব কর্তৃক আহূত হইবে।
(৫) বোর্ডের মোট সদস্যের অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতেই সভার কোরাম হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৬) বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে, সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
(৭) শুধু কোনো সদস্য পদের শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে কোনো ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা এতদ্বিষয়ে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) কর্তৃপক্ষের একজন চেয়ারম্যান থাকিবে।
(২) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক এবং প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(৩) চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির মেয়াদ ও শর্তাবলি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৪) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোনো সদস্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) চেয়ারম্যান এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের বিধান অনুসারে নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব পালনের জন্য দায়ী থাকিবেন, যথা : -
(২) চেয়ারম্যান তাহার অর্পিত দায়িত্ব পালন এবং ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের নিকট দায়ী থাকিবেন।
(১) কর্তৃপক্ষের একজন রেজিস্ট্রার থাকিবে, যিনি সরকারের উপসচিব বা সমমর্যাদাধারীদের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন।
(২) রেজিস্ট্রার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব ও কার্য সম্পাদন করিবেন এবং তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যক্রমের জন্য চেয়ারম্যানের নিকট দায়ী থাকিবেন।
(১) কর্তৃপক্ষ উাহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী এবং, সময় সময়, সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সাধারণ ও বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করিয়া সংরক্ষণ এবং ওয়েব সাইটে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘উদ্ভিদের গণ (Plant genus)’ বলিতে এমন উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ বা উদ্ভিদের জাত বুঝাইবে যাহা কৃষি, খাদ্য, ঔষধি, পুষ্টি ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যবহার উপযোগী এবং অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো প্রজননবিদ কর্তৃক উদ্ভাবিত জাত অত্যাবশ্যকীয়ভাবে উদ্ভূত জাত বা কৃষকের জাত ও জিএমও সংরক্ষিত জাত হিসাবে নিবন্ধন করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সংরক্ষিত জাত হিসাবে নিবন্ধনের জন্য, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে, কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদনপত্রের সহিত বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফি পরিশোধ করিতে হইবে এবং নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত জাতের কারিগরি ও প্রজনন পদ্ধতির বিবরণ দাখিল করিতে হইবে।
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদন যথাযথভাবে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, পরীক্ষা করিতে হইবে।
(৫) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৪) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদন পরীক্ষা করিবার পর যথাযথ বলিয়া বিবেচিত হইলে উদ্ভিদের সংরক্ষিত জাত হিসাবে নিবন্ধন সনদ প্রদান করিবে।
(৬) এই ধারার অধীন নিবন্ধিত সংরক্ষিত জাত প্রয়োজনীয় তথ্যসহ একটি নিবন্ধন বহিতে ম্যানুয়াল এবং ডিজিটাল উভয় পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৭) কোনো ব্যক্তি কোনো সংরক্ষিত জাত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করিতে চাহিলে তাহাকে কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন করিতে হইবে এবং কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে উক্ত তথ্য প্রদান করিতে পারিবে।
(৮) কোনো প্রজননবিদ যদি উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত নিবন্ধন বহিতে তাহার নামে নিবন্ধিত সংরক্ষিত জাতের তথ্য গোপন রাখিতে চাহেন, তাহা হইলে তাহাকে কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে এবং কর্তৃপক্ষ, যুক্তিযুক্ত মনে করিলে, উহা গোপনীয় হিসাবে চিহ্নিত করিতে পারিবে।
(৯) উপ-ধারা (৬) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিবন্ধন বহিতে সংরক্ষিত কোনো তথ্য উপ-ধারা (৮) এর অধীন গোপনীয় হিসাবে চিহ্নিত করা হইলে উক্ত তথ্য কোনো ব্যক্তির অনুকূলে সরবরাহ করা যাইবে না।
(১০) এই ধারার অধীন সংরক্ষিত জাতের নিবন্ধনপ্রাপ্ত ব্যক্তি যে কোনো সময় কর্তৃপক্ষের বরাবর লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তাঁহার নিবন্ধন প্রত্যাহার করিতে পারিবে।
(১) নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণের জন্য আবেদনের যোগ্য বলিয়া গণ্য হইবে, যথা : -
(২) কোনো সংস্থার চাকরি বা চুক্তিতে নিয়োজিত কোনো কর্মচারী যদি কোনো উদ্ভিদের জাত প্রজনন করেন, তাহা হইলে চাকরির শর্ত বা সম্পাদিত চুক্তিতে ভিন্ন কোনোরূপ শর্ত না থাকিলে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ উহা সংরক্ষণের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।
(৩) যদি একাধিক প্রজননবিদ নূতন উদ্ভিদের জাত উদ্ভাবন করেন, তাহা হইলে তাহারা যৌথভাবে অথবা তাহাদের দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো একজন প্রজননবিদ জাত সংরক্ষণের আবেদন দাখিল করিতে পারিবেন।
(৪) যদি একাধিক প্রজননবিদ যৌথভাবে উদ্ভিদের নূতন জাত প্রজনন বা উদ্ভাবন করেন এবং যৌথভাবে উহার অধিকার সংরক্ষণ করিতে আগ্রহী হন, তাহা হইলে তাহাদের সকলের স্বাক্ষরে যৌথভাবে জাত সংরক্ষণের আবেদন দাখিল করিতে হইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো ব্যক্তি জাত সংরক্ষণের নিবন্ধনের জন্য আবেদনের যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি -
(অ) আবেদনকৃত জাতটির প্রজননে কৃষকের জ্ঞান বা কৌলিসম্পদ ব্যবহারের প্রমাণ,
(আ) কৃষকের জ্ঞান বা কৌলিসম্পদ ব্যবহারে কৃষক বা কৃষক সমিতির নিকট হইতে প্রজনন অধিকারের কারণে প্রাপ্য সুবিধাদি সংক্রান্ত শর্তাবলি ও অনুমতির উল্লেখসহ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ফরমে চুক্তি, এবং
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘টার্মিনেটর টেকনোলজি অথবা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড রেস্ট্রিকশন টেকনোলজি’ অর্থ জাতের কৌলিক পরিবর্তন যাহার দ্বারা বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা পরবর্তী বৎসরে বাধাগ্রস্ত হইয়া থাকে।
(১) ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ), (গ) ও (ঘ) এ উল্লিখিত কোনো প্রজননবিদ অন্য কোনো দেশে আবেদন দাখিল করিলে, সংশ্লিষ্ট জাতটি সংরক্ষণের জন্য এই আইনের অধীন আবেদন দাখিলের সময়সীমা গণনার ক্ষেত্রে ১২ (বার) মাসের অগ্রগণ্যতা পাইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অগ্রগণ্যতা প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রজননবিদকে প্রথম আবেদনে উল্লিখিত দেশ ও আবেদন দাখিলের তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে পরবর্তী আবেদনে উল্লেখ করিতে হইবে।
(৩) এই ধারার অধীন মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে প্রথম আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে গণনা শুরু করিতে হইবে।
(১) নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান থাকিলে কোনো উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ করা যাইবে, যথা :-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এ উল্লিখিত নূতনত্ব বলিতে এই আইনের অধীন সংরক্ষিত জাত নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আবেদন দাখিলের পূর্ববর্তী ১ (এক) বৎসর বা বাংলাদেশের বাহিরে আবেদন দাখিলের পূর্ববর্তী ৪ (চার) বৎসর, বা বৃক্ষ ও লতাজাতীয় উদ্ভিদের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের পূর্ববর্তী ৬ (ছয়) বৎসরের পূর্বে উদ্ভাবিত জাতকে বুঝাইবে যাহার বীজ বা ফসল বিক্রয় বা হস্তান্তর করা হয় নাই।
(৩) কোনো সংরক্ষিত জাত অন্যের নিকট বিক্রয় বা হস্তান্তরের ফলে নূতনত্ব ক্ষুণ্ণ হইবে না, যদি -
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ক্ষেত্রে উৎপন্ন সামগ্রী প্রজননবিদ বা তাঁহার উত্তরসূরির নিকট প্রত্যর্পিত হইবে; এবং
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উপ-ধারা (১) এর -
তবে শর্ত থাকে যে, নির্দিষ্ট কোনো বংশ বিস্তার পদ্ধতির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য প্রতীয়মান হইলেও এই বৈচিত্র্য জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে থাকিবে; এবং
(৫) যদি কোনো প্রজননবিদ তৎকর্তৃক উদ্ভাবিত কোনো জাত অন্য কোনো দেশে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন, তাহা হইলে উক্ত আবেদনের তারিখ হইতে উক্ত জাতটি জ্ঞাত জাত বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) প্রতিটি সংরক্ষিত জাত একটি গোষ্ঠীগত নাম দ্বারা চিহ্নিত হইবে।
(২) সংরক্ষিত জাত কোনো নামে নিবন্ধিত হইলে উহা স্থায়ী নাম হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত জাত নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইলেও উক্ত নাম কার্যকর থাকিবে।
(৩) এই ধারার অধীন কোনো জাতের নামকরণে সুনির্দিষ্টভাবে জাতের বৈশিষ্ট্য, মূল্য বা পরিচিতি বা প্রজননবিদের পরিচিতির উল্লেখ থাকিতে হইবে।
(৪) একই উদ্ভিদের প্রজাতি বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কিত প্রজাতির বিদ্যমান কোনো জাতের নামকরণ হইতে উহা ভিন্নতর হইতে হইবে।
(৫) কোনো প্রজননবিদ কর্তৃক প্রস্তাবিত নামকরণ উপ-ধারা (৩) এর শর্তপূরণ না করিলে, কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রজননবিদকে ভিন্ন নাম প্রস্তাব করিতে নির্দেশ প্রদান করিবে এবং উক্ত প্রস্তাব অনুমোদিত হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত নামে জাতটিকে নিবন্ধনভুক্ত করিতে পারিবে।
(৬) যদি পূর্বাধিকারের কারণে কোনো প্রজননবিদ কর্তৃক প্রস্তাবিত নাম ব্যবহার করা না যায়, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ প্রজননবিদকে সংশ্লিষ্ট জাতের জন্য নূতন নামকরণের প্রস্তাব দাখিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৭) কর্তৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত জাতের নাম নিবন্ধনের আবেদনটি প্রাথমিকভাবে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য বলিয়া প্রতীয়মান হইলে, কর্তৃপক্ষ উক্ত নামের বিষয়ে কাহারও কোনা আপত্তি রহিয়াছে কিনা উহা অবহিত করিবার জন্য সরকারি গেজেট, ইলেকট্রনিক গেজেট (যদি থাকে), ওয়েব সাইট এবং বহুল প্রচারিত একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে উহার প্রাক্-প্রকাশ করিবে।
(৮) উপ-ধারা (৭) এর বিধান অনুযায়ী প্রাক্-প্রকাশিত নাম নিবন্ধনের বিষয়ে কাহারও কোনো আপত্তি বা পরামর্শ থাকিলে উহা প্রাক্-প্রকাশের অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে লিখিতভাবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ, কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(৯) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (৮) এর অধীন প্রাপ্ত আপত্তি বা পরামর্শ বিবেচনা করিয়া যথাশীঘ্র সম্ভব সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে উহা অনুমোদন করিবে এবং সরকারি গেজেটে উহার চূড়ান্ত প্রকাশ করিবে।
(১০) এই ধারা অধীন নামকরণের প্রস্তাব গৃহীত হইবার পর যদি দেখা যায় যে, আবেদনকারী কোনো তথ্য গোপন করিয়াছেন এবং কোনো কৃষকের জাতের নাম অবৈধভাবে ব্যবহার ও প্রস্তাব করিয়াছেন, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত নামকরণ বাতিল করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত জাত ব্যবহারের জন্য নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে, যথা:-
(২) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে এবং নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে, কোনো প্রজননবিদ উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অনুমোদনের ক্ষমতা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।
(৩) কোনো প্রজননবিদের সংরক্ষিত জাত এক বা একাধিকবার ব্যবহার করিয়া যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত জাতের মৌলিক বিশিষ্ট্যসমূহ অক্ষুণ্ণ রাখিয়া এক বা একাধিক নূতন জাত উদ্ভাবন করেন, তাহা হইলে মূল সংরক্ষিত জাতের উদ্ভাবক প্রজননবিদের অধিকার বহাল থাকিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, একজন ব্যক্তি―
(৫) কর্তৃপক্ষ, জনস্বার্থে সংরক্ষিত জাত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধান অনুযায়ী প্রজননবিদের অধিকার, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে, সীমিত করিতে পারিবে, যথা:―
(৬) কর্তৃপক্ষ, সরকারের অনুমোদনক্রমে, জিএমও জাতের উৎপাদন, বিক্রয়, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারে প্রজননবিদের অধিকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সীমিত বা, ক্ষেত্রমত, নিষিদ্ধ করিতে পারিবে।
(৭) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (৫) এর দফা (গ) ও (ঘ) এ উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করিবার উদ্দেশ্যে, সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদকে যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া তাহার অধিকার সীমিত করিতে পারিবে এবং সংরক্ষিত জাতের উৎপাদন, বিক্রয়, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য অন্য কোনো এক বা একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে, অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
(৮) উপ-ধারা (৭) এর অধীন অনুমতি প্রদানের সময় সংরক্ষিত জাত নিবন্ধনের পর অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর বহাল থাকিবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদের জন্য যথাযথ পারিতোষিক ধার্য করিতে হইবে।
(৯) যে পরিস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন সেইরূপ পরিস্থিতি বিদ্যমান না থাকিলে কর্তৃপক্ষ উক্ত অনুমতি বাতিল করিতে পারিবে।
(১০) উপ-ধারা (৯) এর অধীন অনুমতি প্রত্যাহার বা বাতিল করা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংরক্ষিত জাতের উৎপাদন, বিক্রয়, বিতরণ, আমদানি বাব্যবহার করিতে পারিবেন না।
(১) ধারা ২১ এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সংরক্ষিত জাত ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদের অনুমোদন গ্রহণের মেয়াদ হইবে নিম্নরূপ, যথা :―
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে সংরক্ষিত জাত নিবন্ধনের আবেদন দাখিল করিবার তারিখ বা ধারা ১৮ এ উল্লিখিত অগ্রগণ্যতা প্রাপ্তির তারিখের মধ্যে যেইটি সর্বাগ্রে হয় সেই তারিখ হইতে গণনা আরম্ভ করিতে হইবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্র বা কারণে এই আইনের অধীন প্রদত্ত প্রজননবিদের অধিকার স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করিতে পারিবে, যথা:―
(৪) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (৩) এর অধীন একজন প্রজননবিদের অধিকার স্থগিত বা বাতিল করিবার পূর্বে উহার কারণ উল্লেখপূর্বক তাঁহাকে নোটিশ প্রদান করিবে এবং নোটিশে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তদ্কর্তৃক সম্পাদিত কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৫) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৪) এর অধীন দাখিলকৃত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করিবে এবং প্রজননবিদের অধিকার স্থগিত বা বাতিলের বিষয়ে যথোপোযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে এবং উক্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর বিধান অনুযায়ী প্রজননবিদের অধিকার বাতিল করা হইলে তিনি এই আইনের অধীন কোনো অধিকার দাবি করিতে পারিবেন না।
(৭) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পরও সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত জাতটির নাম পরিবর্তন না করিয়া উৎপাদন, পুনরুৎপাদন, সংরক্ষণ, ব্যবহার, পুনঃব্যবহার, বিনিময় বা বিক্রয় করা যাইবে।
(৮) এই আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো প্রজননবিদের সহিত কোনো ব্যক্তির আইনসংগত স্বার্থ বিদ্যমান থাকিলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদের একক বা নিরঙ্কুশ অধিকার অকার্যকর বা বাতিল ঘোষণার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
(১) কর্তৃপক্ষ, কৃষকের নিম্নরূপ অধিকারসমূহ রক্ষা এবং কার্যকর করিবে, যথা : -
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অধিকারসমূহ ব্যতিরেকেও একজন কৃষক বাণিজ্যিক বিপণনের উদ্দেশ্য ব্যতীত, সংরক্ষিত জাতের বীজ উৎপাদন, পুনরুৎপাদন, সংরক্ষণ, ব্যবহার, পুনঃব্যবহার, বিনিময় বা বিক্রয় করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা - এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘চিরায়তজ্ঞান (Traditional Knowledge)’ বলিতে জীববৈচিত্র্য ও জীবসম্পদ সংশ্লিষ্ট সকল ধরনের জ্ঞান, মেধা ও বুদ্ধি বৃত্তিক চর্চা ও কৃষ্টি যাহা লিখিত, মৌখিক, লোককথা ও কাহিনি আকারে প্রচলিত এবং যাহা যুক্তিসম্মত, বাস্তব বা রূপক, প্রতীকধর্মী বা রেখাচিত্রমূলক হইতে পারে এবং যাহা কোনো একক ব্যক্তির উদ্ভাবন বা প্রচেষ্টার ফল নহে।
(১) যদি কোনো ব্যক্তি, সংগঠন, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সংরক্ষিত জাত উদ্ভাবনে অবদান থাকে তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, সংগঠন, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত জাতের নিবন্ধনের জন্য প্রজননবিদের অধিকার ও সুবিধাদি বিষয়ে অংশীদারিত্ব দাবি করিয়া কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো ব্যক্তি, সংগঠন, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সংরক্ষিত জাত উদ্ভাবনে অবদান রহিয়াছে এইরূপ কোনো জাত যদি এই আইনের অধীনে এককভাবে কোনো প্রজননবিদের অনুকূলে নিবন্ধিত হইয়া থাকে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, সংগঠন, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ দাবী করিতে পারিবে।
(১) কর্তৃপক্ষ, উদ্ভিদের জাতসংরক্ষণ ও উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা সংস্থার অনুকূলে ‘স্বীকৃতিসনদ’ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) যদি কোনো প্রজননবিদ কর্তৃক উদ্ভাবিত উদ্ভিদের কোনো জাত নূতন জাত হিসাবে সনদ লাভের উপযুক্ত কিন্তু উহা সংরক্ষণের আবেদন দাখিল করা হয় নাই, তাহা হইলে উহা স্বীকৃতি প্রাপ্তির যোগ্য এবং জাতীয় সম্পদ হিসাবে গণ্য হবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ, দেশে উদ্ভিদের জাতসংরক্ষণ ও উন্নয়নে অবদানের গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক যাহাই হউক না কেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে গবেষণা অনুদান বা আর্থিক পুরস্কার প্রদান করিতে পারিবে।
(১) কোনো ব্যক্তি সংরক্ষিত জাতের মিথ্যা নামকরণ করিলে, বা নিবন্ধিত কোনো জাতের বাণিজ্যিক ব্যবহারকালে স্বেচ্ছায় কোনো দেশ বা স্থান, প্রজননবিদ বা তাহার ঠিকানা সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) কোনো ব্যক্তি নিবন্ধিত কোনো সংরক্ষিত জাতের ভুল নাম ব্যবহার করিলে, বা জাত উৎপাদনের দেশ বা স্থানের নাম বা প্রজননবিদের নাম, ঠিকানা মিথ্যা বা বিকৃত করিয়া উক্ত জাত বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন বা বিক্রয়, বাণিজ্য বা উৎপাদনের জন্য নিজ দখলে রাখিলে উহা এই আইনের অধীন একটি অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত কোম্পানির মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তা যিনি এই অপরাধ সংঘটনকালে কোম্পানির ব্যবসায় পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, তিনি অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছিল বা তিনি উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করিয়াছিলেন।
এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের তদন্ত ও বিচার Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) অনুযায়ী সম্পন্ন হইবে।
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (non-cognigable) ও জামিনযোগ্য (bailable) হইবে।
এই আইনে উল্লিখিত ক্ষতিপূরণ এবং উদ্ভিদের নূতন জাত প্রজনন বা উদ্ভাবনের জন্য প্রজননবিদ বা বীজ উৎপাদকের উদ্দেশ্য প্রণোদিত অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সংক্ষুব্ধ কৃষক, ব্যক্তি, সংগঠন, সমিতি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা সংক্ষুব্ধ নাগরিক, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ ও পদ্ধতিতে, ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ আদায় করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ তহবিল’ নামে কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে।
(২) নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ দ্বারা উক্ত তহবিল গঠিত হইবে, যথা: -
(৩) কর্তৃপক্ষের তহবিল কোনো তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং উক্ত তহবিল বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে।
(৪) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি এবং কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় তহবিল হইতে নির্বাহ করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এতদসংশ্লিষ্ট প্রচলিত বিধি-বিধান ও নিয়ম-নীতি অনুসরণ করিতে হইবে।
(৫) কর্তৃপক্ষ তহবিলের অর্থ বোর্ডের অনুমোদনক্রমে যে কোনো তপশিলি ব্যাংক বা সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
(৬) প্রত্যেক অর্থবৎসরে উহার সকল ব্যয় নির্বাহের পর কর্তৃপক্ষ তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিতে হইবে।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘তপশিলি ব্যাংক’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(President's Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) এ সংজ্ঞায়িত 'Scheduled Bank'।
কর্তৃপক্ষ, উহার দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সংস্থা হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
কর্তৃপক্ষ প্রতিবৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট দাখিল করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
(১) কর্তৃপক্ষ, যথাযথভাবে উহার আয়-ব্যয়ের হিসাবরক্ষণ এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রতিবৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি কর্তৃপক্ষ ও সরকারের নিকট দাখিল করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ব্যতিরেকেও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President's Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) এ সংজ্ঞায়িত ‘chartered accountant' দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক 'chartered accountant' নিয়োগ করিতে পারিবে এবং এইরূপ নিয়োগকৃত 'chartered accountant' সরকার কর্তৃক, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে, পারিশ্রমিক প্রাপ্য হইবেন।
(৫) কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিয়োগকৃত 'chartered accountant' কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিলাদি, বার্ষিক স্থিতিপত্র, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি, ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার বা কর্তৃপক্ষের যে কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৬) এই ধারার বিধানাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৬ নং আইন) এর বিধান, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অনুসরণ করিতে হইবে।
(১) প্রত্যেক অর্থবৎসর সমাপ্তির ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে উহার কার্যাবলি বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য, বিবরণী, প্রাক্কলন, পরিসংখ্যান বা অন্য কোনো তথ্য আহবান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।