Bangladesh Flag Vessels (Protection) Ordinance, 1982 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন Bangladesh Flag Vessels (Protection) Ordinance, 1982 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তপশিলের ৩ক, ১৮ ও ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হয় এবং সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং ১০৪৪-১০৪৫/২০০৯ ও সিভিল আপিল নং-৪৮/২০১১ তে সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে সামগ্রিকভাবে অননুমোদনপূর্বক (total disapproval of Martial law) উহাদের বৈধতা প্রদানকারী, যথাক্রমে, সংবিধান (পঞ্চম সংশোধন) আইন, ১৯৭৯ (১৯৭৯ সনের ১নং আইন) এবং সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং যেহেতু ২০১৩ সনের ৬ ও ৭ নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হয়; এবং যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে Bangladesh Flag Vessels (Protection) Ordinance, 1982 (Ordinance No. XIV of 1982) রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
(১) এই আইন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন, ২০১৯ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে ¾
(১) ‘বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ’ অর্থ বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোনো জাহাজ;
(২) ‘নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ’ অর্থ মহাপরিচালক, নৌপরিবহন অধিদপ্তর অথবা এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত অন্য কোনো কর্মকর্তা, সংস্থা অথবা কর্তৃপক্ষ।
(১) আপাতত বলবৎ, অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে সমুদ্রপথে পরিবাহিত পণ্যের অন্যূন ৫০% পণ্য এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ কর্তৃক পরিবাহিত হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না, যথা :¾
(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকারি তহবিলের অর্থে সমুদ্র পথে পরিবাহিত পণ্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোনো শিপিং সংস্থার মাধ্যমে পরিবহণ করিতে হইবে।
(৩) উপধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন অব্যাহতি প্রাপ্তির লক্ষ্যে জাহাজ মালিক বা তাহার প্রতিনিধিকে পণ্য বোঝাই করিবার অন্যূন ১৫ (পনেরো) কার্যদিবস পূর্বে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করিতে হইবে।
ব্যাখ্যা : এই ধারায় উল্লিখিত ‘‘সরকারি তহবিল’’ বলিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ২৪ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত তহবিলকে বুঝাইবে।
নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হইতে অন্য কোনো দেশে বা অন্য কোনো দেশ হইতে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ দ্বারা পণ্য পরিবহণের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে, যদি¾
বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ নহে এইরূপ কোনো বিদেশি জাহাজ দ্বারা উপকূলীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণ করা যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত অব্যাহতি সনদপ্রাপ্ত জাহাজের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ মালিকগণ তাহাদের জাহাজের বিস্তারিত বিবরণী সংক্রান্ত অসত্য তথ্য পরিবেশন করিয়া নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে পণ্য পরিবহণের জন্য বিদেশি জাহাজের পক্ষে বা বিপক্ষে অব্যাহতি সনদ প্রদানের জন্য সুযোগ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিতে পারিবেন না।
(১) কোনো জাহাজ ধারা ৩ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো পণ্য পরিবহণ করিলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ উক্ত জাহাজের মালিক অথবা ভাড়াকারীর উপর উক্ত পণ্য পরিবহণের ভাড়ার অধিক নহে এইরূপ পরিমাণ অর্থ প্রশাসনিক জরিমানা হিসাবে আরোপ করিতে পারিবে।
(২) এই আইনের অন্যান্য বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ অন্যূন পাঁচ লক্ষ টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(১) কোনো ব্যক্তি ধারা ৭ এর অধীন প্রদত্ত জরিমানার আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি উক্ত আদেশ প্রাপ্তির ৩০(ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন।
(২) সরকার আপিল আবেদন প্রাপ্তির ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে ইহা নিষ্পত্তি করিবে এবং এই ক্ষেত্রে সরকারের আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) এই আইনের অধীন কোনো বিধান কোনো কোম্পানি কর্তৃক লঙ্ঘিত হইলে উক্তরূপ লঙ্ঘনের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানির এইরূপ মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা প্রতিনিধি উক্ত লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত লঙ্ঘন তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত লঙ্ঘন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
ব্যাখ্যা।¾ এই ধারায়¾
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত সত্ত্বা হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত পদবির ব্যক্তিসহ উক্ত কোম্পানির উপর পৃথকভাবে এই কার্য-ধারায় প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যাইবে।
সরকার এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Bangladesh Flag Vessels (Protection) Ordinance, 1982 (Ordinance No. XIV of 1982), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত হইবে।
(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত Ordinance এর অধীন প্রণীত কোনো বিধি অথবা জারিকৃত কোনো আদেশ, বিজ্ঞপ্তি অথবা প্রজ্ঞাপন এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, বলবৎ থাকিবে।
(৩) এই আইনের অধীন গৃহীত কোনো কার্যধারা চলমান থাকিলে উহা এইরূপে নিষ্পত্তি হইবে যেন উক্ত Ordinance রহিত হয় নাই।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) ইংরেজি পাঠ এবং মূল বাংলা পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।