কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণার দ্বারা শিল্প ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামতপূর্বক শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি এবং এতদ্সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণার দ্বারা শিল্প ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামতপূর্বক শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি এবং এতদ্সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণার দ্বারা শিল্প ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামতপূর্বক শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি এবং এতদ্সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
(১) এই আইন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) আইন, ২০১৯ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘কমিটি’ অর্থ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে গঠিত কমিটি অথবা কমিটিসমূহ;
(২) ‘কেন্দ্র’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক);
(৩) ‘চেয়ারম্যান’ অর্থ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান;
(৪) ‘পরিচালনা পর্ষদ’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত পরিচালনা পর্ষদ;
(৫) ‘প্রবিধান’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৬) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; এবং
(৭) ‘মহাপরিচালক’ অর্থ কেন্দ্রের মহাপরিচালক।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ২৬-০৫-১৯৬২ তারিখের Resolution No. C & P-9 (11)/62 দ্বারা প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Industrial Technical Assistance Center বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) Bangladesh Industrial Technical Assistance Center (BITAC) নামে অভিহিত হইবে এবং এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত।
(২) কেন্দ্র একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে, এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) কেন্দ্রের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত হইবে।
(২) কেন্দ্র, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে-কোনো স্থানে উহার আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
কেন্দ্রের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
ব্যাখ্যা।- এই দফায় ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৩ এ অন্তর্ভুক্ত এবং ধারা ৩১ এর অধীন নিবন্ধিত কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি;
(১) কেন্দ্রের পরিচালনা ও প্রশাসনের দায়িত্ব একটি পরিচালনা পর্ষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কেন্দ্র যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, পরিচালনা পর্ষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) পরিচালনা পর্ষদ উহার দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে এই আইন, বিধি, প্রবিধান ও সরকার কর্তৃক সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কেন্দ্রের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকিবে এবং উক্ত পরিচালনা পর্ষদ নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :-
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানসাপেক্ষে, পরিচালনা পর্ষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) পরিচালনা পর্ষদের সভা, চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে এবং তৎকর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান পরিচালনা পর্ষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) সভাপতিসহ অন্যূন পরিচালনা পর্ষদের এক তৃতীয়াংশ সদস্যদের উপস্থিতিতে সভার কোরাম হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৫) পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় অথবা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
(৬) প্রত্যেক ইংরেজি পঞ্জিকা বৎসরে পরিচালনা পর্ষদের অন্যূন দুইটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৭) কোনো সদস্য পদে কেবল শূন্যতা অথবা পরিচালনা পর্ষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পরিচালনা পর্ষদের কার্য অথবা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
পরিচালনা পর্ষদ উহার কার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে, প্রয়োজনে, এক অথবা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(১) কেন্দ্রের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন, যিনি সরকারের অতিরিক্ত সচিবগণের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।
(২) মহাপরিচালক কেন্দ্রের সার্বক্ষণিক প্রধান নির্বাহী হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন এবং কেন্দ্রের সুষ্ঠু প্রশাসনের জন্য দায়ী থাকিবেন।
(৩) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা, বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।
মহাপরিচালক নিম্নরূপ কার্যসমূহ সম্পাদন করিবেন, যথা :―
(১) কেন্দ্র উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো-অনুযায়ী এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত সাধারণ ও বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কেন্দ্রের কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) কেন্দ্রের জন্য একটি তহবিল থাকিবে এবং নিম্নরূপ উৎস হইতে তহবিলে অর্থ জমা হইবে, যথা :―
(২) কেন্দ্রের তহবিলের সকল অর্থ কোনো তপশিলি ব্যাংকে কেন্দ্রের নামে জমা রাখিতে হইবে এবং সরকারের প্রচলিত বিধি-বিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করিতে হইবে।
ব্যাখ্যা।―এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘‘তপশিলি ব্যাংক’’ অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(P.O. 127 of 1972) (এর) Article 2 (j) তে সংজ্ঞায়িত কোনো ‘‘Scheduled Bank”।
(৩) তহবিলের অর্থ হইতে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে কেন্দ্রের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।
(৪) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোনো খাতে তহবিল বা উহার অংশ বিশেষ বিনিয়োগ করা যাইবে।
কেন্দ্র, প্রতিবৎসর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, পরবর্তী অর্থবৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থবৎসরে সরকারের নিকট হইতে কেন্দ্রের জন্য কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
(১) কেন্দ্র, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে প্রতি বৎসর তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণসংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, যে-কোনো সময়, কেন্দ্রের নিকট হইতে উহার যে-কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন অথবা বিবরণী আহবান
(১) কেন্দ্র যথাযথভাবে উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং লাভ-ক্ষতির হিসাব ও স্থিতিপত্রসহ বার্ষিক হিসাব বিবরণী প্রস্তুত করিবে এবং এইরূপ হিসাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে, প্রদত্ত সাধারণ নির্দেশনা পালন করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব-নিরীক্ষক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি বৎসর কেন্দ্রের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক অনুলিপি সরকার ও কেন্দ্রের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্র অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P.O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) এ সংজ্ঞায়িত কোনো "chartered accountant" দ্বারা কেন্দ্রের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কেন্দ্র এক বা একাধিক "chartered accountant" নিয়োগ করিতে পারিবে এবং এইরূপ নিয়োগকৃত "chartered accountant" সরকার কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত হারে পারিতোষিক প্রাপ্য হইবেন।
(৫) কেন্দ্রের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিয়োগকৃত chartered accountant কেন্দ্রের সকল রেকর্ড, দলিলাদি, বার্ষিক ব্যালেন্স সিট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি, ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, সদস্য বা কেন্দ্রের যে কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
মহাপরিচালক, প্রয়োজনবোধে এবং তদ্কর্তৃক নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, এই আইনের অধীন তাহার উপর অর্পিত যে কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব লিখিত আদেশ দ্বারা কেন্দ্রের ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কেন্দ্র, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন অথবা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, ২৬-০৫-১৯৬২ তারিখের Resolution No. C & P-9 (11)/62 এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Resolution এর অধীন-
(৩) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, উক্ত Resolution দ্বারা গঠিত Bangladesh Industrial Technical Assistance Center এর-
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) ইংরেজি পাঠ ও মূল-বাংলা পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।