বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০২১
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণ সাধনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণ সাধনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণ সাধনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট স্থাপনসহ এতদ্সংক্রান্ত বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০২১ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।
- এস, আর, ও নং ২৯০-আইন/২০২১, তারিখঃ ২৯ আগস্ট, ২০২১ ইং দ্বারা ১৭ ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ হতে উক্ত আইন কার্যকর ।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
Section ৩. ট্রাস্ট স্থাপন
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর, সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট স্থাপন করিবে।
(২) ট্রাস্ট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৪. ট্রাস্টের কার্যালয়
ট্রাস্টের কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
Section ৫. পরিচালনা ও প্রশাসন
ট্রাস্টের পরিচালনা ও প্রশাসন একটি ট্রাস্টি বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ট্রাস্ট যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে উক্ত বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
Section ৬. ট্রাস্টের কার্যাবলি
ট্রাস্টের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
Section ৭. ট্রাস্টি বোর্ড গঠন
(১) ট্রাস্টি বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যে কোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, উক্ত সদস্যকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে অথবা উক্ত সদস্যও, যে কোনো সময়, সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৩) কেবল কোনো সদস্যপদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোনো কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ৮. বোর্ডের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) বোর্ডের সভা, চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, উহার সদস্য-সচিব কর্তৃক আহূত হইবে এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) প্রতি ৪ (চার) মাসে বোর্ডের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো সময় বিশেষ সভা আহবান করা যাইবে।
(৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যানগণ ক্রমানুযায়ী সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন পঞ্চাশ ভাগ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৬) বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভার সভাপতির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
Section ৯. ব্যবস্থাপনা পরিচালক
(১) ট্রাস্টের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকিবেন।
(২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ট্রাস্টের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
(৪) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য থাকিলে বা হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি ব্যবস্থাপনা পরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন।
Section ১০. কর্মচারী নিয়োগ
(১) ট্রাস্ট, উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১১. তহবিল
(১) ট্রাস্টের একটি তহবিল থাকিবে, যাহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথা :-
(২) তহবিলের অর্থ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো তপশিলি ব্যাংকে সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাবে ও স্থায়ী আমানত হিসাবে জমা রাখা যাইবে এবং ট্রাস্টের কোনো কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে উক্ত তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বোর্ডের পূর্বানুমোদনক্রমে, স্থায়ী আমানতের লভ্যাংশ হইতে সর্বোচ্চ ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অর্থ চলচ্চিত্র শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যাইবে।
ব্যাখ্যা।-“তপশিলি ব্যাংক” বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(President's Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank- কে বুঝাইবে।
(৩) তহবিলের ব্যাংক হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে।
(৪) তহবিলের অর্থ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যে কোনো খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে।
Section ১২. তহবিল হইতে প্রদেয় আর্থিক সহায়তা, ইত্যাদি
(১) বোর্ড নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে তহবিল হইতে আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করিতে পারিবে, যথা :-
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কোনো ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশন হইতে একই উদ্দেশ্যে কোনো আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত হইয়া থাকিলে তিনি তহবিল হইতে আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন না এবং, একইভাবে, তহবিল হইতে কোনো আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত হইয়া থাকিলে, একই উদ্দেশ্যে, তিনি সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কোনো ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশন হইতেও আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির যোগ্য হইবেন না।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তহবিল হইতে আর্থিক সহায়তা গ্রহণের জন্য আবেদন, আবেদন যাচাই-বাছাই, আর্থিক সহায়তার পরিমাণ এবং আবেদন মঞ্জুরের পদ্ধতিসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৩. বাজেট
ট্রাস্ট প্রত্যেক বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ট্রাস্টের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
Section ১৪. হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা
(১) ট্রাস্ট উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর ট্রাস্টের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং, বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা রিপোর্ট দাখিল করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President's Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b)- তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা ট্রাস্টের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে ট্রাস্ট এক বা একাধিক Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত Chartered Accountant এতদুদ্দেশ্যে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হারে পারিশ্রমিক প্রাপ্য হইবেন।
(৫) উপ-ধারা (২) ও (৩) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি অথবা, ক্ষেত্রমত, Chartered Accountant ট্রাস্টের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কোনো সদস্য এবং ট্রাস্টের কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
Section ১৫. প্রতিবেদন
(১) প্রত্যেক অর্থ বৎসরে ট্রাস্ট, তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন, পরবর্তী বৎসরের ৩০ জুনের মধ্যে সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, ট্রাস্টের নিকট হইতে, যে কোনো সময়, উহার যে কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী যাচনা করিতে পারিবে এবং ট্রাস্ট সরকারের নিকট উহা সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ১৬. ক্ষমতা অর্পণ
বোর্ড, প্রয়োজনে, উহার কোনো ক্ষমতা, নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, উহার কোনো সদস্য বা অন্য কোনো কর্মচারীর নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ১৭. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ১৮. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
ট্রাস্ট, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ১৯. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।