বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস আইন, ২০২১
National Archives Ordinance, 1983 রহিতক্রমে সময়োপযোগী করিয়া উহা নূতনভাবে প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
National Archives Ordinance, 1983 রহিতক্রমে সময়োপযোগী করিয়া উহা নূতনভাবে প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সনের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সনের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তপশিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হইয়াছে এবং সিভিল আপিল নং-৪৮/২০১১ এ সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১ নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পাইয়াছে; এবং যেহেতু ২০১৩ সনের ৭ নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হইয়াছে; এবং যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং যেহেতু সরকারের উপরি-উল্লিখিত সিদ্ধান্তের আলোকে, National Archives Ordinance, 1983 (Ordinance No. XXXIX of 1983) রহিতক্রমে সময়োপযোগী করিয়া উহা নূতনভাবে প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস আইন, ২০২১ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘অধিদপ্তর’ অর্থ ধারা ৩ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর;
(২) ‘উপদেষ্টা পরিষদ’ অর্থ ধারা ৫ এর অধীন গঠিত উপদেষ্টা পরিষদ;
(৩) ‘জাতীয় আরকাইভস’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস;
(৪) ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী’ অর্থ কোনো সরকারি অফিসের ক্ষেত্রে উক্ত অফিসের প্রধান অথবা সাময়িকভাবে উক্ত অফিস প্রধানের দায়িত্ব ও কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৫) ‘পাণ্ডুলিপি’ অর্থ গ্রানাইট ব্যতীত কোনো কাগজ, ধাতব বা অন্য কোনো বস্তুর উপর হস্ত লিখিত, যান্ত্রিক বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে প্রস্তুতকৃত কোনো রচনা বা দলিলপত্র;
(৬) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৭) ‘ব্যক্তিগত আরকাইভস’ অর্থ সরকারি আরকাইভস ব্যতীত অন্যান্য রেকর্ড, পাণ্ডুলিপি, দলিলপত্র অথবা মুদ্রিত বস্তু;
(৮) ‘ব্যক্তিগত রেকর্ড’ অর্থ ব্যক্তিগত কার্যাবলি সম্পাদনের সময় গৃহীত, উৎপাদিত বা প্রস্তুতকৃত অন্যূন ৩০ (ত্রিশ) বৎসরের পুরাতন রেকর্ড, পাণ্ডুলিপি, দলিলপত্র বা নথিপত্র যাহার ঐতিহাসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রহিয়াছে;
(৯) ‘মহাপরিচালক’ অর্থ আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক;
(১০) ‘সরকারি অফিস’ অর্থ তপশিলে বর্ণিত অফিসসমূহ;
(১১) ‘সরকারি আরকাইভস’ অর্থ জাতীয় আরকাইভসে স্থায়ী সংরক্ষণের জন্য রক্ষিত হইয়াছে অথবা জমা প্রদান করা হইয়াছে এইরূপ সকল সরকারি রেকর্ড এবং অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি, দলিল অথবা মুদ্রিত বস্তু; এবং
(১২) ‘সরকারি রেকর্ড’ অর্থ সরকারি অফিস কর্তৃক অফিসের কার্যাবলি সম্পাদনের সময় গৃহীত, উৎপাদিত বা প্রস্তুতকৃত ২৫ (পঁচিশ) বা ততোধিক বৎসরের পুরাতন ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রশাসনিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সাংস্কৃতিক তাৎপর্যসম্পন্ন যে কোনো মূল নথি, দলিলপত্র, পাণ্ডুলিপি, পত্রিকা, চিঠি, প্রতিবেদন, বহি, ম্যাগাজিন, পরিকল্পনা, নিবন্ধনবহি, মানচিত্র, চিত্র, ছবি, নকশা, তালিকা(chart), গেজেট, গেজেটিয়ার অথবা অন্য যে কোনো রেকর্ড বা উহার অংশবিশেষ যাহা গ্রানাইট ব্যতীত ধাতব বস্তু বা দলিল বা অন্য কোনো কিছুর উপর হস্ত লিখিত, অঙ্কিত বা মুদ্রিত এবং সরকারি অফিস কর্তৃক গৃহীত অডিও-ভিজুয়াল সামগ্রী, সিনেমাটোগ্রাফ, টেপ, রেকর্ডিং, ডিস্ক, ফিল্ম, ইত্যাদিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
Section ৩. আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর নামে একটি অধিদপ্তর থাকিবে যাহার প্রধান নির্বাহী হইবেন একজন মহাপরিচালক।
(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) উপ-ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, অধিদপ্তরের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে নিয়োগ করা যাইবে।
(৪) আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০০২ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন।
Section ৪. জাতীয় আরকাইভস প্রতিষ্ঠা
(১) National Archives Ordinance, 1983 (Ordinance No. XXXIX of 1983) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত National Archives, বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস নামে অভিহিত হইবে এবং উহা এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে।
(২) ইহা সরকারের কেন্দ্রীয় রেকর্ড সংরক্ষণাগার হিসাবে বিবেচিত হইবে।
(৩) জাতীয় আরকাইভসের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী একটি দাপ্তরিক সিলমোহর থাকিবে এবং উক্ত সিলমোহর আইনগতভাবে গ্রাহ্য হইবে।
(৪) জাতীয় আরকাইভসের সিলমোহর মহাপরিচালকের তত্ত্বাবধানে থাকিবে এবং তিনি বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী জাতীয় আরকাইভসের কার্যে এই সিলমোহর ব্যবহার করিতে পারিবেন।
Section ৫. উপদেষ্টা পরিষদ গঠন
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে জাতীয় আরকাইভসের জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকিবে।
(২) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হইবে, যথা :-
(৩) দফা (গ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণের মেয়াদ হইবে মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর।
Section ৬. উপদেষ্টা পরিষদের সভা
(১) উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) প্রতি বৎসর অন্যূন ২(দুই) বার উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) সভাপতির সম্মতিক্রমে মহাপরিচালক উপদেষ্টা পরিষদের সভা আহবান করিবেন।
(৪) উপদেষ্টা পরিষদের সভার কোরামের জন্য অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে।
(৫) উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৬) কেবল কোনো সদস্যপদে শূন্যতা বা উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে উপদেষ্টা পরিষদের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদ্সম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ৭. উপদেষ্টা পরিষদের কার্যাবলি
উপদেষ্টা পরিষদের কার্যাবলি হইবে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা, যথা :-
Section ৮. মহাপরিচালকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
(১) মহাপরিচালক জাতীয় আরকাইভস এবং উহাতে রক্ষিত সরকারি ও ব্যক্তিগত আরকাইভসের দায়িত্বে থাকিবেন এবং তিনি সরকারি ও ব্যক্তিগত আরকাইভস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, মহাপরিচালকের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :¾
Section ৯. ক্ষমতা অর্পণ
মহাপরিচালক তাহার ক্ষমতা ও দায়িত্ব অধিদপ্তরের কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
Section ১০. সরকারি রেকর্ড নির্বাচন, শনাক্তকরণ ও জাতীয় আরকাইভসে স্থানান্তর
(১) সরকারি রেকর্ড জমা রহিয়াছে এইরূপ যে কোনো স্থানে মহাপরিচালকের প্রবেশের অধিকার থাকিবে এবং উহার তালিকা বা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরীক্ষা করিবার বা উহা জাতীয় আরকাইভসে স্থানান্তরপূর্বক স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা থাকিবে।
(২) কোনো সরকারি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী বা অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো সরকারি রেকর্ডের তত্ত্বাবধানে থাকিলে তাহার দায়িত্ব হইবে-
তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় আরকাইভসে কোনো সরকারি রেকর্ডের স্থানান্তর সাময়িকভাবে মূলতবি রাখা যাইবে এবং এইরূপ রেকর্ড প্রশাসনিক বা অন্য কোনো প্রয়োজনে মহাপরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী যেইরূপ সম্মত হন সেইরূপ সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে রক্ষিত হইবে এবং এইরূপ প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী উক্তরূপে রক্ষিত রেকর্ডের তালিকা মহাপরিচালককে হস্তান্তর করিবেন :
আরও শর্ত থাকে যে, কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী রেকর্ডসমূহ হস্তান্তর করিবার সময়ে যদি মনে করেন যে উক্ত রেকর্ডপত্র গোপনীয় বা গোপনীয় প্রকৃতির বা উহাতে এইরূপ তথ্য রহিয়াছে যাহা জনসাধারণের নিকট প্রকাশ করা উচিত নহে, তাহা হইলে সেই সকল অফিসের রেকর্ডপত্র জাতীয় আরকাইভসে রাখিবার এবং জনসাধারণের পরিদর্শনের বিষয়ে শর্ত আরোপ করিতে পারিবেন এবং মহাপরিচালক উক্ত শর্ত প্রতিপালন করিবেন।
Section ১১. সরকারি অফিস বন্ধ করিবার ক্ষেত্রে উহার দলিলাদির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ পদ্ধতি
যেক্ষেত্রে কোনো সরকারি অফিস বন্ধ বা অবসায়ন করিতে হয়, সেইক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী উক্ত সরকারি অফিসের শ্রেণিকরণকৃত সরকারি রেকর্ডসমূহের একটি সম্পূর্ণ তালিকা জাতীয় আরকাইভসে স্থানান্তর করিবেন এবং সেই সকল রেকর্ড জাতীয় আরকাইভসে জমা করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন যাহা মহাপরিচালক জাতীয় আরকাইভসে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য নির্বাচন বা প্রয়োজন বলিয়া নির্ধারণ করিবেন।
Section ১২. ব্যক্তিগত রেকর্ড জাতীয় আরকাইভসে স্থানান্তর
(১) কোনো ব্যক্তির নিকট বা কোনো ইনস্টিটিউট, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অধীন ব্যক্তিগত রেকর্ড থাকিলে, উহার বিষয়ে মহাপরিচালককে অবহিত করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ব্যক্তিগত রেকর্ড সম্পর্কে অবহিত হইলে মহাপরিচালক উহা পরিদর্শন করিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উক্ত কাজে সার্বিক সহায়তা প্রদান করিবেন।
(৩) মহাপরিচালক, উপযুক্ত ক্ষেত্রে, ব্যক্তিগত রেকর্ড জাতীয় আরকাইভসে স্থানান্তর করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৪) সংশ্লিষ্ট প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা ব্যক্তি ব্যক্তিগত রেকর্ড আরকাইভসে জমা প্রদান করিবার ক্ষেত্রে, উহা বা উহার অংশ বিশেষ প্রকাশনা বা অন্য যে কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য, যে কোনো শর্ত আরোপ করিতে পারিবেন।
Section ১৩. রেকর্ডে জনসাধারণের অভিগম্যতা
(১) কোনো ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় আরকাইভসে সংরক্ষিত সরকারি এবং ব্যক্তিগত রেকর্ড হইতে প্রচলিত আইন ও বিধি বিধান সাপেক্ষে, তথ্য সরবরাহ করা যাইবে।
(২) নির্ধারিত ফি প্রদান করিয়া মহাপরিচালক বরাবর উপ-ধারা (১) এর অধীন তথ্য সরবরাহ করিবার জন্য আবেদন করিতে হইবে।
Section ১৪. কমিশনের রেকর্ডপত্র
Commissions of Inquiry Act, 1956 (Act No. VI of 1956) এর অধীন গঠিত যে কোনো তদন্ত কমিশনের সচিব অথবা সরকার কর্তৃক নিয়োজিত কোনো তদন্ত কমিটি, তদন্তের সহিত সম্পর্কিত সকল রেকর্ড, চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির ৩ (তিন) মাসের মধ্যে, জাতীয় আরকাইভসে জমা প্রদান করিবে।
Section ১৫. বাংলাদেশ হইতে পান্ডুলিপি এবং দলিলদস্তাবেজ বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ
(১) সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে মহাপরিচালক লিখিত অনুমতি প্রদান করিলে কোনো ব্যক্তি কোনো সরকারি রেকর্ড, দলিল, পান্ডুলিপি বা মুদ্রিত কোনো বস্তু যাহা ৭৫ (পঁচাত্তর) বৎসরের অধিক পুরাতন এবং যাহার ঐতিহাসিক অথবা সাংস্কৃতিক অথবা সাহিত্যিক মূল্য রহিয়াছে, উহা বাংলাদেশের বাহিরে প্রেরণ করিতে পারিবেন।
(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি মহাপরিচালক বিবেচনা করেন যে, উক্ত রেকর্ড, দলিলপত্র অথবা পান্ডুলিপির এইরূপ ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক বা সাহিত্যিক মূল্য রহিয়াছে যাহাতে বাংলাদেশের বাহিরে উহার প্রেরণ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি, তাহা হইলে তিনি অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাইতে পারিবেন।
(৩) মহাপরিচালক লিখিত অনুমতি প্রদান করিতে অস্বীকার করিবার কারণে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উক্ত অস্বীকৃতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত হইবার ১৪ ( চৌদ্দ) দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং এতদ্বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ১৬. অনুলিপি ও উদ্ধৃতাংশের প্রমাণীকরণ
মহাপরিচালক বা তদ্কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী কোনো সরকারি বা ব্যক্তিগত আরকাইভসের অনুলিপি বা উহার উদ্ধৃতাংশ যথাযথ প্রমাণীকরণ করিয়া জাতীয় আরকাইভসের সিলমোহর যুক্ত করিলে কোনো মূল দলিল বা পান্ডুলিপি কোনো আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে যেইরূপ গ্রহণযোগ্য হইতো উক্ত অনুলিপি বা উহার উদ্ধৃতাংশও সেইরূপ গ্রহণযোগ্য হইবে।
Section ১৭. সরকারি এবং ব্যক্তিগত রেকর্ড জাতীয় আরকাইভসে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য জমা রাখা
স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য মহাপরিচালক কর্তৃক গৃহীত সরকারি এবং ব্যক্তিগত রেকর্ড জাতীয় আরকাইভসের সংরক্ষণাগারে জমা থাকিবে।
Section ১৮. জাতীয় আরকাইভস হইতে সাময়িকভাবে রেকর্ড স্থানান্তর
জাতীয় আরকাইভস হইতে কোনো সরকারি আরকাইভস অন্য কোথাও স্থানান্তর করা যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো সরকারি অফিস তৎকর্তৃক জাতীয় আরকাইভসে স্থানান্তরিত কোনো রেকর্ড, নথিপত্র, দলিল, পান্ডুলিপি বা অন্য কোনো বস্তু আবশ্যক মনে করে, তাহা হইলে মহাপরিচালক কর্তৃক উক্ত রেকর্ড, নথিপত্র, পান্ডুলিপি, দলিল বা অন্য কোনো বস্তুর অনুলিপি সংরক্ষণ করিয়া উক্ত অফিসে প্রেরণ করা যাইতে পারে এবং মহাপরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত অফিসকে উহা ফেরত পাঠাইতে হইবে।
Section ১৯. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার
সরকারি ও ব্যক্তিগত আরকাইভস চিহ্নিতকরণ, সংগ্রহ, হেফাজত, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত কার্যে এবং জাতীয় আরকাইভস কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া ও কার্যক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করিতে হইবে।
Section ২০. আরকাইভস বিষয়ে কোর্স পরিচালনা
অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং প্রচলিত আইন ও বিধি বিধান অনুসরণক্রমে, জাতীয় আরকাইভস বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্স বা ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করিতে পারিবে।
Section ২১. বাৎসরিক প্রতিবেদন
মহাপরিচালক, উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনক্রমে, প্রতি অর্থ বৎসর সমাপ্ত হইবার অনধিক ৪ (চার) মাসের মধ্যে উক্ত বৎসরের জাতীয় আরকাইভসের সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবেন।
Section ২২. অপরাধ ও দণ্ড
১) যদি কোনো ব্যক্তি জ্ঞাতসারে জাতীয় আরকাইভসে রক্ষিত কোনো রেকর্ড, নথিপত্র, পত্রিকা, মানচিত্র, পান্ডুলিপি বা দলিলপত্র ইত্যাদি বিকৃত করেন, দাগান্বিত করেন, ছিঁড়িয়া ফেলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বা সার্ভারে রক্ষিত তথ্য মুছিয়া ফেলেন বা হ্যাক করেন, তাহা হইলে উহা হইবে এই আইনের অধীন একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের কারাদণ্ড এবং অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে আরকাইভসে রক্ষিত কোনো রেকর্ড, নথিপত্র, পত্রিকা, মানচিত্র, পান্ডুলিপি বা দলিলপত্র ইত্যাদি আত্মসাৎ করেন, দেশে বা বিদেশে পাচার করেন বা জাতীয় আরকাইভস ভবনের বাহিরে অসৎ উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করেন, তাহা হইলে উহা হইবে এই আইনের অধীন একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসরের কারাদণ্ড এবং অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
Section ২৩. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২৪. তপশিল সংশোধনের ক্ষমতা
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময়, এই আইনের তপশিল সংশোধন করিতে পারিবে।
Section ২৫. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) National Archives Ordinance, 1983 (Ordinance No. XXXIX Of 1983), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন-
(৩) উক্ত Ordinance রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে উহার অধীন প্রতিষ্ঠিত National Archives বিলুপ্ত হইবে, এবং বিলুপ্ত National Archives এর-
Section ২৬. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।