বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড এর কার্যক্রম পরিচালনা, পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এতৎসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড এর কার্যক্রম পরিচালনা, পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এতৎসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড এর কার্যক্রম পরিচালনা, পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এতৎসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘আবাসন’ অর্থ বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ (২০১৪ সনের ১৫ নং আইন) এর অধীন সংজ্ঞায়িত হোটেল;
(২) ‘কোম্পানি’ অর্থ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর ধারা ২ (ঘ) তে সংজ্ঞায়িত কোম্পানি;
(৩) ‘ট্যুর অপারেটর’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যাহা পর্যটকদের জন্য এক বা একাধিক ভ্রমণসেবা সংশ্লিষ্ট আবাসন, আহার বা আপ্যায়ন, পরিবহণ, পর্যটন আকর্ষণ সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন বা পরিভ্রমণসহ অন্যান্য পর্যটন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করিয়া দলভিত্তিক বা একক ট্যুর আয়োজন ও পরিচালনা করে অনলাইন ট্যুর পরিচালনাকারীরাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(৪) ‘ট্যুর গাইড’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তি যিনি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণসেবা, পর্যটন আকর্ষণ সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন বা পরিভ্রমণসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য পর্যটন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করিয়া দলভিত্তিক বা একক ট্যুর পরিচালনার গাইড হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন;
(৫) ‘নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ;
(৬) ‘নিবন্ধন সনদ’ অর্থ ধারা ৭ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদানকৃত নিবন্ধন সনদ;
(৭) ‘নির্ধারিত’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(৮) ‘পরিবহণ’ অর্থ নৌপথ, স্থলপথ এবং আকাশপথে পরিবহণ;
(৯) ‘পর্যটক’ অর্থ এমন ব্যক্তি, যিনি তাহার স্বাভাবিক বসবাসের স্থান হইতে অন্য কোনো স্থানে অবকাশযাপন, বিনোদন, ব্যবসায়িক প্রয়োজন বা অন্য কোনো কারণে ভ্রমণ করিয়া অনধিক এক বৎসর অবস্থান করেন;
(১০) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; এবং
(১১) ‘ব্যক্তি’ অর্থে যে কোনো ব্যক্তি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা অন্য কোনো সংস্থাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
Section ৩. নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করিতে পারিবে।
Section ৪. নিবন্ধন সনদ ব্যতীত ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড পরিচালনার উপর নিষেধাজ্ঞা
(১) ধারা ৭ এর বিধান অনুসারে নিবন্ধন সনদ ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যটকদের জন্য ভ্রমণসেবা সংশ্লিষ্ট আবাসন, আহার বা আপ্যায়ন, পরিবহণ, পর্যটন আকর্ষণ সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন, পরিভ্রমণ ও অনুরূপ অন্যান্য পর্যটন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করিয়া দলভিত্তিক বা একক ট্যুর আয়োজন ও পরিচালনা বা ট্যুর গাইড হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন না।
(২) বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড এর কার্যক্রম পরিচালনা করিতে চাহিলে সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) বিদ্যমান অনিবন্ধিত ট্যুর অপারেটরগণ ও ট্যুর গাইডগণকে এই আইন কার্যকর হইবার ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিকট ধারা ৫ এর বিধান অনুযায়ী আবেদনপূর্বক ধারা ৭ এর বিধান অনুসারে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করিতে হইবে।
Section ৫. নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন
(১) কোনো ট্যুর অপারেটর নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করিতে চাহিলে তাহাকে নিম্নবর্ণিত কাগজপত্রসহ নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে এবং ফিসহ আবেদন করিতে হইবে, যথা:-
(২) কোনো ট্যুর গাইড নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করিতে চাহিলে তাহাকে নিম্নবর্ণিত কাগজপত্রসহ নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে এবং ফিসহ আবেদন করিতে হইবে, যথা:-
Section ৬. নিবন্ধন সনদ প্রাপ্তির যোগ্যতা
কোনো ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড নিবন্ধন সনদ প্রাপ্তির যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন না, যদি তিনি-
Section ৭. নিবন্ধন সনদ প্রদান
(১) ধারা ৫ এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়া নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ উহার সঠিকতা সম্পর্কে-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন কোনো আবেদন নামঞ্জুর করা হইলে আবেদনকারী নামঞ্জুরের বিষয়ে অবহিত হইবার পরবর্তী ২০ (বিশ) কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করিতে পারিবে এবং নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের উক্তরূপ আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের মধ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
Section ৮. নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ও নবায়ন
(১) নিবন্ধন সনদের মেয়াদ হইবে উহা প্রদানের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর এবং উহা নবায়নযোগ্য হইবে।
(২) নিবন্ধন সনদের মেয়াদ শেষ হইবার অন্যূন ৩ (তিন) মাস পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান সাপেক্ষে, নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়া নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ উহার সঠিকতা সম্পর্কে-
১৫ (পনেরো) কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীর অনুকূলে নির্ধারিত ফরমে নিবন্ধন নবায়ন সনদ প্রদান করিবে;
(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে নবায়নের আবেদন দাখিল করা না হইলে নির্ধারিত জরিমানা প্রদান করিয়া নিবন্ধন সনদের মেয়াদ শেষ হইবার অনধিক ৩ (তিন) মাসের মধ্যে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ বরাবর নবায়নের আবেদন দাখিল করিতে হইবে।
Section ৯. নিবন্ধন সনদ হস্তান্তর, ঠিকানা পরিবর্তন
(১) নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনক্রমে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদ হস্তান্তর করা যাইবে, যথা:-
(২) ট্যুর অপারেটর নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনক্রমে ব্যবসায়িক ঠিকানা পরিবর্তন করিতে পারিবে।
(৩) ট্যুর গাইড এর আবাসন ঠিকানা পরিবর্তন হইলে, উহা নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিতে হইবে।
Section ১০. নিবন্ধন সনদ স্থগিত বা বাতিল
(১) নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত কোনো কারণে উপযুক্ত তদন্ত ও শুনানির সুযোগ প্রদানপূর্বক কোনো ট্যুর অপারেটর বা ট্যুর গাইড এর নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ট্যুর অপারেটর বা ট্যুর গাইড এর নিবন্ধন সনদ স্থগিত করা হইলে উক্ত ট্যুর অপারেটর বা ট্যুর গাইড কোনো ব্যক্তির ভ্রমণের সহিত সংশ্লিষ্ট ভ্রমণসেবা ও অনুরূপ অন্যান্য সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে না।
Section ১১. পর্যটককে প্রতিশ্রুত সেবার নিশ্চয়তা বিধান
(১) নিবন্ধিত ট্যুর অপারেটর নিম্নবর্ণিত শর্তসমূহ প্রতিপালনে বাধ্য থাকিবে:-
(২) নিবন্ধিত ট্যুর গাইড নিম্নবর্ণিত শর্তসমূহ প্রতিপালনে বাধ্য থাকিবে:
Section ১২. আপিল
(১) কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে উক্তরূপ আদেশ প্রদানের পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে সরকার বরাবর আপিল করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আপিল প্রাপ্তির পরবর্তী ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ১৩. অপরাধ ও দণ্ড
কোনো ব্যক্তি এই আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে, উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড এবং অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
Section ১৪. কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
ধারা ১৩ এর অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংঘটিত হইয়া থাকিলে, উক্তরূপ অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ প্রত্যেক মালিক, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা প্রতিনিধি উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
ব্যাখ্যা।- এই ধারায় ‘পরিচালক’ বলিতে কোনো অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ড, যে নামেই অভিহিত হউক, এর সদস্যকে বুঝাইবে।
Section ১৫. অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ
(১) কোনো আদালত, নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত, এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।
(২) এই আইনের অধীন অপরাধের বিচার ও কার্যধারা গ্রহণের ক্ষেত্রে, Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898)-এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
Section ১৬. মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার
এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ, যেক্ষেত্রে যতটুকু প্রযোজ্য, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ৫৯ নং আইন) এর তপশিলভুক্ত করিয়া বিচার করা যাইবে।
Section ১৭. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ১৮. অসুবিধা দূরীকরণ
এই আইনের কোনো বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা বা অসুবিধা পরিলক্ষিত হইলে সরকার, আদেশ দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্ত অস্পষ্টতা বা অসুবিধা দূর করিতে পারিবে।
Section ১৯. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) ইংরেজি পাঠ ও মূল বাংলা পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।