Bangladesh Jatiya Jadughar Ordinance, 1983 রহিতক্রমে সময়োপযোগী করিয়া নূতনভাবে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সনের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সনের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক আইন দ্বারা জারীকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হয় এবং সিভিল আপিল নং-৪৮/২০১১ তে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১ নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা হারাইয়াছে; এবং যেহেতু ২০১৩ সনের ৭ নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হয়; এবং যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলায় নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং যেহেতু সরকারের উল্লিখিত সিদ্ধান্তের আলোকে Bangladesh Jatiya Jadughar Ordinance, 1983 (Ordinance No. LIII of 1983) রহিতক্রমে সময়োপযোগী করিয়া নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
(১) এই আইন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আইন, ২০২২ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) ‘কিউরেটোরিয়াল’ অর্থ জাদুঘরের নিদর্শন সংগ্রহ, সংগৃহীত নিদর্শনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং গবেষণা সংক্রান্ত কার্যাদি;
(২) ‘জাদুঘর’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর;
(৩) ‘তহবিল’ অর্থ ধারা ১৪ এ উল্লিখিত জাদুঘরের তহবিল;
(৪) ‘নিদর্শন’ অর্থ সংরক্ষণ, গবেষণা বা প্রদর্শন করিবার উদ্দেশ্যে জাদুঘরে সংগৃহীত ও নিবন্ধিত বা সংগ্রহযোগ্য কোনো উপকরণ, বস্তু বা বস্তুশ্রেণি;
(৫) ‘নির্ধারিত’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;
(৬) ‘পর্ষদ’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত পর্ষদ;
(৭) ‘পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন (antiquity)’ অর্থ-
(৮) ‘প্রবিধান’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৯) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১০) ‘মহাপরিচালক’ অর্থ জাদুঘরের মহাপরিচালক;
(১১) ‘সদস্য’ অর্থ পর্ষদের কোনো সদস্য;
(১২) ‘সভাপতি’ অর্থ পর্ষদের সভাপতি; এবং
(১৩) ‘সংরক্ষণ’ অর্থ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিদর্শনের স্থায়িত্ব প্রদান, প্রাকৃতিক ক্ষতিকর প্রভাব হইতে রক্ষা বা পুনরাণায়ন (restoration) সংশ্লিষ্ট কাজ।
(১) Bangladesh Jatiya Jadughar Ordinance, 1983 (Ordinance No. LIII of 1983) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Jatiya Jadughar এই আইনের অধীন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর নামে এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে।
(২) জাদুঘর একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, জাদুঘরের স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাদুঘরের বিভিন্ন বিভাগ, অনুবিভাগ, দপ্তর ও শাখা থাকিবে।
(৩) জাদুঘর, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বিভাগীয় শহরে বিভাগীয় জাদুঘর, জেলা শহরে জেলা জাদুঘর এবং বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে শাখা জাদুঘর, বিষয়ভিত্তিক জাদুঘর, স্মৃতি জাদুঘর, সংগ্রহশালা, গবেষণা কেন্দ্র, ইনস্টিটিউট বা মহাফেজখানা (archive) স্থাপন, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করিতে পারিবে।
(৪) জাদুঘর, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রয়োজনবোধে, দেশের বাহিরে জাদুঘর, সংগ্রহশালা, প্রদর্শনী গ্যালারি ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করিতে পারিবে।
(৫) জাদুঘর দেশের সার্বিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন নিশ্চিত করিয়া দেশের অন্যান্য স্থানের ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনাপূর্বক স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটাইয়া জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাদুঘরের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
জাদুঘরের সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন পর্ষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং জাদুঘর যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে পর্ষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে।
(১) নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে পর্ষদ গঠিত হইবে, যথা :-
(২) সভাপতিসহ উপধারা (১) এর দফা (ঝ), (ঞ), (ট) এবং (ঠ)-তে উল্লিখিত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মনোনীত সদস্যগণ অনধিক ১ (এক) মেয়াদের জন্য পুনঃমনোনয়নের যোগ্য হইবেন :
আরও শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে সরকার, যে কোনো সময়, উক্তরূপ মনোনীত কোনো সদস্যকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে বা মনোনীত কোনো সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, পর্ষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) পর্ষদের সভার তারিখ, সময় ও স্থান সভাপতির সহিত আলোচনাক্রমে, মহাপরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) প্রতি ৪ (চার) মাসে পর্ষদের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ সদস্যের লিখিত অনুরোধের প্রেক্ষিতে সভাপতি পর্ষদের বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবেন।
(৪) সভাপতি পর্ষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে সভাপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) পর্ষদের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য এর অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৬) পর্ষদের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে উক্ত সভার সভাপতির একটি নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৭) পর্ষদ উহার কোনো সভায় কোনো আলোচ্য বিষয়ে বিশেষ অবদান রাখিতে সক্ষম এইরূপ যে কোনো বিশেষজ্ঞ বা পরামর্শককে আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে এবং উক্ত ব্যক্তি সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে ভোট প্রদানের কোনো ক্ষমতা তাহার থাকিবে না।
(৮) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা পর্ষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পর্ষদের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
(৯) পর্ষদের প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী রেকর্ডভুক্তকরণ, সংরক্ষণ, সদস্যগণের নিকট প্রেরণ এবং পরবর্তী পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করিতে হইবে।
পর্ষদের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(১) জাদুঘরের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন।
(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির মেয়াদ ও শর্তাবলি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) মহাপরিচালক জাদুঘরের প্রধান নির্বাহী হইবেন, এবং তিনি এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে -
(৪) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন।
(১) জাদুঘরের একজন কিউরেটর থাকিবেন, যিনি মহাপরিচালকের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশক্রমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করিবেন।
(২) কিউরেটর জাদুঘর কর্তৃক নিযুক্ত হইবে এবং তাহার চাকরির মেয়াদ ও শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) কিউরেটর জাদুঘরের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন;
(১) জাদুঘরের সহকারী কিউরেটর থাকিবে।
(২) সহকারী কিউরেটর জাদুঘর কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির মেয়াদ ও শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) সহকারী কিউরেটর জাদুঘরের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, জাদুঘরের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত উপসচিবের নিম্নে নহে এমন একজন পরিচালকসহ অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল থাকিবে।
(২) জনবলের নিয়োগ এবং চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) জাদুঘরের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নরূপ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা: -
(২) তহবিলের সকল অর্থ কোনো তপশিলি ব্যাংকে জাদুঘরের নামে জমা রাখিতে হইবে।
ব্যাখ্যা। - উপ-ধারা (২) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘তপশিলি ব্যাংক’ অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(President Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত ‘Scheduled Bank’।
(৩) সরকারের নিয়ম-নীতি ও বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে জাদুঘরের তহবিল পরিচালিত হইবে এবং তহবিলের অর্থ হইতে জাদুঘরের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।
জাদুঘর প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বাৎসরিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে জাদুঘরের কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহারও উল্লেখ থাকিবে।
(১) জাদুঘর উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর জাদুঘরের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং এতৎসংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা রিপোর্ট দাখিল করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কোনো সদস্য বা জাদুঘরের কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(১) কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা উহার অংশবিশেষ ধ্বংস, বিনষ্ট পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের উপর খোদাইকরণ, লিখন, উৎকীর্ণ লিপি বা স্বাক্ষর করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৪) উপ-ধারা (১), (২) ও (৩) এ উল্লিখিত অর্থদণ্ডের ক্ষেত্রে আদালত এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে যে অর্থদণ্ডের সমুদয় বা উহার কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত নিদর্শনটিকে উক্ত অপরাধ সংঘটনের পূর্বকালীন অবস্থায় প্রত্যর্পণ করিবার নিমিত্ত ব্যয় করা যাইবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে-
এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার, আপিল ও এতৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) প্রযোজ্য হইবে।
(১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, জাদুঘর উক্ত বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, যে কোনো সময় জাদুঘরের নিকট হইতে উহার যে কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং জাদুঘর উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
পর্ষদ লিখিতভাবে, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, আদেশে উল্লিখিত পরিস্থিতি ও শর্তে, যদি থাকে, উহার কোনো ক্ষমতা সভাপতি, কোনো সদস্য বা জাদুঘরের কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাদুঘর, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) Bangladesh Jatiya Jadughar Ordinance, 1983 (Ordinance No. LIII of 1983), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন-
(৩) উক্ত Ordinance রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত Ordinance এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Jatiya Jadughar এর-
সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ও জামানত, সকল দাবি, হিসাববহি, রেজিস্টার, রেকর্ড, দলিল, পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন, শিল্পকলা, জাতিতাত্ত্বিক নমুনা, স্মৃতিস্মারক, অনুকৃতি ও অন্যান্য নিদর্শন, ভূমি ও দালান জাদুঘরের সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ও জামানত, দাবি, হিসাববহি, রেজিস্টার, রেকর্ড, দলিল, পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন, শিল্পকলা, জাতিতাত্ত্বিক নমুনা, স্মৃতিস্মারক, অনুকৃতি ও নিদর্শন, ভূমি ও দালান হিসাবে গণ্য হইবে;
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।