সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩
দেশের সর্বস্তরের জনগণকে টেকসই পেনশন কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে প্রণীত আইন
দেশের সর্বস্তরের জনগণকে টেকসই পেনশন কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে প্রণীত আইন যেহেতু দেশের সর্বস্তরের জনগণের বিশেষ করিয়া গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতাভুক্ত করা প্রয়োজন; এবং যেহেতু ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে নির্ভরশীলতার হার বৃদ্ধি পাইবে; এবং যেহেতু সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) “অস্বচ্ছল চাঁদাদাতা” অর্থ পেনশন স্কিমে চাঁদা প্রদানকারী কোনো চাঁদাদাতা, যিনি শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে চাঁদা প্রদানের সক্ষমতা হারাইয়াছেন;
(২) “অ্যানুইটি” অর্থ সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ধার্যকৃত হারে অংশগ্রহণকারী চাঁদাদাতা কর্তৃক নিরবচ্ছিন্নভাবে চাঁদা প্রদানের শর্তে তাহার বয়স ৬০ (ষাট) বৎসর পূর্তিতে আজীবন বা পেনশনে থাকাকালীন চাঁদাদাতার মৃত্যুজনিত কারণে তাহার নমিনিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাসিক নির্ধারিত হারে প্রদত্ত পেনশন;
(৩) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ;
(৪) “চাঁদাদাতা” অর্থ পেনশন স্কিমে চাঁদা প্রদানকারী ব্যক্তি;
(৫) “তপশিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(P. O. No 127 of 1972) এর Article 2(J)-তে সংজ্ঞায়িত তপশিলি ব্যাংক;
(৬) “তহবিল” অর্থ ধারা ১৬ এর অধীন গঠিত সর্বজনীন পেনশন তহবিল;
(৭) “নির্ধারিত” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;
(৮) “নির্বাহী চেয়ারম্যান” অর্থ ধারা ৬ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান;
(৯) “পরিচালনা পর্ষদ” অর্থ ধারা ১০ এর অধীন গঠিত পরিচালনা পর্ষদ;
(১০) “পেনশনার” অর্থ ধারা ১৪ এর বিধান অনুযায়ী পেনশনপ্রাপ্ত ব্যক্তি:
(১১) “পেনশনের সম্মুখ অফিস” অর্থ পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণকারী চাঁদাদাতাগণের মাসিক চাঁদা সংগ্রহ এবং সংগৃহীত চাঁদা পেনশন তহবিলে জমাকরণের কাজে নিয়োজিত অফিস;
(১২) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(১৩) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১৪) “সরকার” অর্থ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগকে বুঝাইবে;
(১৫) “সর্বজনীন পেনশন তহবিল ব্যবস্থাপনা কমিটি” অর্থ ধারা ২২ এর উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কমিটি; এবং
(১৬) “স্কিম” অর্থ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত সর্বজনীন পেনশন স্কিম।
Section ৩. আইনের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর বা অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার বা হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা নিজ নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৫. কর্তৃপক্ষের কার্যালয়
কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দেশের যেকোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ৬. কর্তৃপক্ষের গঠন ইত্যাদি
(১) একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবে।
(২) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকরির মেয়াদ ও শর্ত বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) কর্তৃপক্ষসহ সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনার সহিত সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সরকার নির্বাহ করিবে।
(৪) নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন।
Section ৭. কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
Section ৮. ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নিজ নামে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
Section ৯. কর্তৃপক্ষ কতৃর্ক সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষমতা
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বা এই স্কিমের আওতাধীন কোনো কার্যক্রম, স্কিম অথবা প্রকল্পের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা কমর্চারী এই আইন বিধি বা প্রবিধানের কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে আদালতের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তি বা কর্মচারীর সম্পত্তি বা এক বা একাধিক ব্যাংক হিসাব ক্রোক করিতে পারিবে।
Section ১০. পরিচালনা পর্ষদ
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি পেনশন পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হইবে, যথা :-
(২) পরিচালনা পর্ষদ, প্রয়োজনে, যে-কোনো ব্যক্তিকে পর্ষদের সভায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে।
(৩) পরিচালনা পর্ষদ বৎসরে অন্যূন ৩ (তিন)-টি সভা অনুষ্ঠান করিবে।
(৪) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের সহিত পরামর্শক্রমে, নির্বাহী চেয়ারম্যান পর্ষদের সভা আহবান করিবেন এবং এইরূপ সভা পর্ষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৫) সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যগণের উপস্থিতিতে পরিচালনা পর্ষদের সভার কোরাম গঠিত হইবে ও উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
Section ১১. পরিচালনা পর্ষদের কার্যাবলি
(১) পরিচালনা পর্ষদ, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, এই আইনের অধীন প্রবিধান প্রণয়নসহ কর্তৃপক্ষের যে কোনো নীতি বা কৌশল অথবা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উত্থাপিত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অথবা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ প্রদান করিবে।
(২) পরিচালনা পর্ষদ পেনশন তহবিলের অর্থ সরকারি সিকিউরিটি, কম ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য সিকিউরিটিজ, লাভজনক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত গাইডলাইন অনুমোদন এবং, সময় সময়, প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা দিক্নির্দেশনা প্রদান করিবে।
(৩) পরিচালনা পর্ষদ এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে যে-কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।
Section ১২. জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ তহবিল
(১) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ তহবিল নামে কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) তহবিলের অর্থ কর্তৃপক্ষের নামে কোনো তপশিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন করা যাইবে।
(৩) তহবিলের অর্থ হইতে কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, সদস্য এবং কমর্কর্তা-কর্মচারীগণের বেতন-ভাতা, পারিশ্রমিক, সম্মানি ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
Section ১৩. কর্তৃপক্ষের কর্মচারী নিয়োগ ইত্যাদি
(১) কর্তৃপক্ষ, উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৪. সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, সরকার, অবিলম্বে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্য-সংবলিত বা শর্তে বা পদ্ধতিতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করিবে, যথা :-
তবে শর্ত থাকে যে, বিশেষ বিবেচনায় ৫০ (পঞ্চাশ) বৎসর ঊর্ধ্ব বয়সের নাগরিকগণও সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন এবং সেইক্ষেত্রে স্কিমে অংশগ্রহণের তারিখ হইতে নিরবচ্ছিন্ন ১০ (দশ) বৎসর চাঁদা প্রদান শেষে তিনি যে বয়সে উপনীত হইবেন সেই বয়স হইতে আজীবন পেনশন প্রাপ্য হইবেন;
(২) সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতিতে সরকারি অথবা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করিতে পারিবে এবং এইক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের চাঁদার অংশ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হইবে;
তবে শর্ত থাকে যে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত, সরকারি ও আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীগণ সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা-বহির্ভূত থাকিবে।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যেপূরণকল্পে, প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৫. পেনশন সহায়তাকারী অফিসসমূহ
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের সহিত পরামর্শক্রমে, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পরিচালনা, পেনশন তহবিল ব্যবস্থাপনা, চাঁদাদাতার চাঁদা জমাকরণ, পেনশনের অর্থ প্রদান ইত্যাদি প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সম্মুখ অফিস প্রতিষ্ঠা বা পেনশন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি অথবা নিয়োগ ও পরিচালনা করিতে পারিবে।
(২) তপশিলি ব্যাংক এবং ডাক অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়সমূহ এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পেনশনের সম্মুখ অফিস হিসাবে কাজ করিবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, এই আইনের আওতায় চাঁদাদাতার সহিত সরাসরি সংযোগ স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানই হইবে পেনশনের সম্মুখ অফিস।
Section ১৬. সর্বজনীন পেনশন তহবিল
(১) এই আইনের আওতায় পেনশন বাবদ জমাকৃত অর্থ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সর্বজনীন পেনশন তহবিল গঠিত হইবে; সর্বজনীন পেনশন তহবিলে চাঁদাদাতার চাঁদা জমা, জমার হিসাব সংরক্ষণ, পুঞ্জীভূত অর্থের সুষ্ঠু ও নিরাপদ বিনিয়োগ এবং পেনশন প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদিত হইবে।
(২) তহবিলে অর্থের উৎস হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
Section ১৭. কেন্দ্রীয় রেকর্ড সংরক্ষণ
এই আইনের আওতায় পেনশন কার্যক্রমে রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত কেন্দ্রীয় রেকর্ড সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকিবে।
Section ১৮. সর্বজনীন পেনশন তহবিল ব্যবস্থাপনা
এই আইনের আওতায় চাঁদার মাধ্যমে সংগৃহীত পেনশন তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের বিষয়টি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৯. সর্বজনীন পেনশন তহবিলের ব্যাংকার
বিধি দ্বারা নির্ধারিত এক বা একাধিক তপশিলি ব্যাংক জাতীয় পেনশন তহবিলের ব্যাংকার হিসাবে কাজ করিবে।
Section ২০. অ্যান্যুইটি সার্ভিস প্রদান
চাঁদাদাতা পেনশন বয়সে উপনীত হইলে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর্তৃপক্ষ অ্যান্যুইটি সার্ভিস প্রদান করিবে।
Section ২১. সর্বজনীন পেনশন বিতরণ পরিকাঠামো
কর্তৃপক্ষ ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় মাসিক পেনশন পেনশনারের নিকট নির্দিষ্ট সময়ে পৌছানো নিশ্চিত করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন একটি কেন্দ্রীভূত ও স্বয়ংক্রিয় পেনশন বিতরণ পরিকাঠামো গঠন করা হইবে।
Section ২২. সর্বজনীন পেনশন তহবিল ব্যবস্থাপনা কমিটি
(১) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের একজন সদস্যকে সভাপতি এবং উক্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সদস্য করিয়া পেনশন তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কমিটি থাকিবে।
(২) কমিটির কাঠামো এবং কার্যপরিধি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ২৩. সর্বজনীন পেনশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন
কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সর্বজনীন পেনশনের অর্থ বা অ্যানুইটি বাবদ প্রদেয় অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির অধিকার এই আইনের অধীনে নির্ধারিত হইবে এবং উক্তরূপ বিষয়ে বাংলাদেশের আইন বা আইনসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
Section ২৪. কর্তৃপক্ষের বার্ষিক প্রতিবেদন
(১) কর্তৃপক্ষ ইহার অর্থ-বৎসর সমাপ্তির অনধিক তিন মাসের মধ্যে সরকারের নিকট তৎকর্তৃক পূর্ববর্তী অর্থ বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলি সম্পর্কে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত প্রতিবেদনে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা :-
Section ২৫. বার্ষিক বাজেট বিবরণী
কর্তৃপক্ষ প্রতি অর্থ-বৎসর শুরুর অন্যূন তিন মাস পূর্বে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বৎসরে কর্তৃপক্ষের পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারের নিকট হইতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অর্থ-বৎসর অর্থ জুলাই মাসের প্রথম দিবসে যে বৎসরের শুরু এবং পরবর্তী বৎসরের ৩০ জুন যাহা শেষ হয়।
Section ২৬. হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা
(১) কর্তৃপক্ষ, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উহার হিসাব রক্ষণ এবং হিসাববিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিলাদি, বার্ষিক ব্যালেন্স শিট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ জামানত, ভাণ্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান, সদস্য বা কর্তৃপক্ষের যে-কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
Section ২৭. সরকারের নিকট রিপোর্ট, ইত্যাদি দাখিল
কর্তৃপক্ষ সরকার কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত ও প্রদত্ত কোনো ফরমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত রিপোর্ট, রিটার্ন, বিবরণী ও অন্যান্য তথ্য সরকারের চাহিদামতে ও সময়ে দাখিল করিবে।
Section ২৮. সরকারি কর্মচারী
কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্য বা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী কার্য করিবার সময়, তাহার পক্ষে বা তাহার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এর সংজ্ঞা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন।
Section ২৯. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ৩০. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
কর্তৃপক্ষ, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৩১. জটিলতা নিরসনে সরকারের ক্ষমতা
কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে এই আইনের বিধানে অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, অন্যান্য বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া সরকারি গেজেটে আদেশ দ্বারা, উক্ত বিধানের স্পষ্ঠীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদান করিয়া কর্তৃপক্ষের করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
Section ৩২. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) এই আইনের বাংলা পাঠ এবং ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।