বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন আইন, ২০২৩
Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation Act, 1957 রহিতক্রমে নূতনভাবে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation Act, 1957 রহিতক্রমে নূতনভাবে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation Act, 1957 (Act No. XVII of 1957) রহিতক্রমে নূতনভাবে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন আইন, ২০২৩’ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) ‘অতি ক্ষুদ্র শিল্প’ বা ‘মাইক্রো শিল্প’ অর্থ-
১০ (দশ) লক্ষ টাকা, বা যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে অনধিক ১৫ (পনেরো) জন শ্রমিক কাজ করে;
(২) ‘ঋণ’ অর্থ দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে কোনো চুক্তি, নীতিমালা, সমঝোতা স্মারক বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো দলিলের ভিত্তিতে আর্থিক বা মূল্যবান কোনো বস্তু বিনিময়, যাহা নির্দিষ্ট মেয়াদের পর গ্রহীতা কর্তৃক দাতাকে সুদ-আসলে ফেরত প্রদানযোগ্য;
(৩) ‘ঋণ গ্রহীতা’ অর্থ এই আইনের অধীন কর্পোরেশনের নিকট হইতে ঋণ গ্রহণ করিয়াছেন এইরূপ যে কোনো ব্যক্তি;
(৪) ‘কুটির শিল্প’ অর্থ সেই সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান যাহার জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা এবং যাহা সর্বাধিক পারিবারিক সদস্যসহ অন্যান্য সদস্য সমন্বয়ে গঠিত এবং যাহার জনবল অনধিক ১৫ (পনেরো) জন;
(৫) ‘কর্পোরেশন’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation);
(৬) ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ অর্থ-
১০ (দশ) লক্ষ ১ (এক) টাকা হইতে অনধিক ২ (দুই) কোটি টাকা, বা যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ১৬ ( ষোলো) জন হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) জন শ্রমিক কাজ করে;
(৭) ‘চেয়ারম্যান’ অর্থ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান;
(৮) ‘ডেভেলপার’ অর্থ ধারা ১৯ এর অধীন নিযুক্ত শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরী ডেভেলপার;
(৯) ‘তপশিল’ অর্থ এই আইনের তপশিল;
(১০) ‘পরিচালক’ অর্থ কর্পোরেশনের কোনো পরিচালক;
(১১) ‘পর্ষদ’ অর্থ কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদ;
(১২) ‘প্রবিধান’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(১৩) ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
(১৪) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১৫) ‘ব্যক্তি’ অর্থে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা অন্য কোনো সংস্থা, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৬) ‘মাঝারি শিল্প’ অর্থ-
৩০০ (তিনশত) জন শ্রমিক কাজ করে:
তবে শর্ত থাকে যে, তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান বা শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্পে শ্রমিকের সংখ্যা অনধিক ১ (এক) হাজার জন হইতে হইবে;
২ (দুই) কোটি ১ (এক) টাকা হইতে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) কোটি টাকা, বা যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ৫১ (একান্ন) জন হইতে অনধিক ১২০ (একশত বিশ) জন শ্রমিক কাজ করে;
(১৭) ‘শিল্পপার্ক’ বা ‘শিল্পনগরী’ অর্থ ধারা ১৭ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো শিল্পপার্ক, শিল্পনগরী, একক খাতভিত্তিক শিল্পপার্ক, হস্ত ও কারুশিল্প পল্লি বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠান; এবং
(১৮) ‘হস্ত ও কারুশিল্প’ অর্থ কারুশিল্পীর শৈল্পিক মনন ও শ্রমের ব্যাপক ব্যবহার বা বংশ পরম্পরায় প্রাপ্ত মেধা, দক্ষতা ও কলা-কৌশলের মাধ্যমে অথবা সৃজনশীল ব্যক্তি কর্তৃক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিয়া, প্রয়োজনে, আধুনিক প্রযু্ক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এবং সময়ের পরিবর্তনশীলতাকে সমন্বয় করিয়া উৎপাদিত নান্দনিক ও ব্যবহারিক পণ্য।
Section ৩. আইনের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation Act, 1957 (Act No. XVII of 1957) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation) নামে অভিহিত হইবে এবং উহা এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে।
(২) কর্পোরেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে, যাহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে, এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৫. কর্পোরেশনের কার্যালয়
(১) কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) কর্পোরেশন, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ৬. কর্পোরেশনের কার্যাবলি
কর্পোরেশনের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(১) কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্পের নিবন্ধন;
(২) শিল্পপার্ক ও শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা এবং উহার ভূমি বা প্লট, ভবন বা ভবনের স্পেস বরাদ্দ, ভাড়া বা ইজারা প্রদান;
(৩) কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প ও মাঝারি শিল্পখাতে নূতন উদ্যোক্তা তৈরি, দক্ষ ব্যবস্থাপক ও কর্মী তৈরি, ইত্যাদি কাজের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ;
(৪) কুটির শিল্প, অতিক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বৃহৎ শিল্প ও মাঝারি শিল্পের সহিত উহাদের উপ-ঠিকাদারী সম্পর্ক স্থাপন ও চুক্তিবদ্ধ হইতে সহায়তা প্রদান;
(৫) কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প ও মাঝারি শিল্পের পণ্য উৎপাদন, বিপণন, রপ্তানি, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের জন্য উপযুক্ত স্থানসমূহে সাধারণ সুবিধা কেন্দ্র, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, যেমন- প্রযুক্তি উন্মেষ কেন্দ্র বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠান স্থাপন;
(৬) কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প ও মাঝারি শিল্পখাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ, দেশি ও বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ আকর্ষণ;
(৭) কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প ও মাঝারি শিল্প পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশি ও বিদেশি মেলার আয়োজন এবং উক্ত মেলায় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান;
(৮) কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প ও মাঝারি শিল্পখাতে পণ্যের উৎপাদন বহুমুখীকরণ এবং দেশি ও বিদেশি বাজার সম্প্রসারণের জন্য গবেষণা কেন্দ্র, নকশা উন্নয়ন কেন্দ্র এবং বিক্রয়ের লক্ষ্যে প্রদর্শনী বা বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন;
(৯) চাষি, উৎপাদক বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কর্তৃক উৎপাদিত বিশেষ বা অনন্য প্রকৃতির পণ্য, যেমন- লবণ, মধু, নৃতাত্ত্বিক পণ্য, ইত্যাদি প্রসারে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান;
(১০) ঋণ প্রবিধানমালা বা এতৎসংক্রান্ত বিধি-বিধানের আলোকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান;
(১১) বাংলাদেশ ব্যাংক, তপশিলভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহিত যৌথভাবে বিনিয়োগ তপশিল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন;
(১২) শিল্প স্থাপন বা পুনরুজ্জীবিতকরণ, ব্যবসায় রূপান্তর, ব্যবসায় পরিকল্পনা, প্রকল্প প্রস্তাব, ঋণ সংক্রান্ত আবেদনপত্র ও এতৎসংক্রান্ত অন্যান্য দলিলাদি প্রণয়নে পরামর্শ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তা প্রদান;
(১৩) কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্প সম্পর্কিত উপাত্ত ভান্ডার প্রতিষ্ঠা;
(১৪) কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্পের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং
(১৫) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশনা প্রতিপালন ও কার্যাবলি সম্পাদন।
Section ৭. মূলধন
(১) কর্পোরেশনের অনুমোদিত মূলধন হইবে ৩ (তিন) হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন হইবে ২৬৩৭.২২ কোটি টাকা, যাহা কর্পোরেশনের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদত্ত হইবে।
(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কর্পোরেশনের অনুমোদিত বা পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(৩) সরকার কর্পোরেশনের অংশীদার হইবে এবং কর্পোরেশন কর্তৃক যে কোনো সময়ে ইস্যুকৃত শেয়ারের অন্যূন শতকরা ৫১ (একান্ন) ভাগ ধারণ করিবে এবং অবশিষ্ট শেয়ার জনসাধারণের ক্রয়ের সুযোগ থাকিবে।
Section ৮. শেয়ার সিকিউরিটিজ
কর্পোরেশনের শেয়ারসমূহ Trusts Act, 1882 (Act No. II of 1882) এর অধীন বিধৃত সিকিউরিটিজের অন্তর্ভুক্ত এবং Securities Act, 1920 (Act No. X of 1920), Securities and Exchange Ordinance, 1969 (Ordinance No. XVII of 1969), বীমা আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ১৩ নং আইন) এবং সরকারি ঋণ আইন, ২০২২ (২০২২ সনের ১৭ নং আইন) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অনুমোদিত সিকিউরিটিজ বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ৯. পরিচালনা ও প্রশাসন
(১) কর্পোরেশনের পরিচালনা ও প্রশাসন পরিচালনা পর্ষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(২) পর্ষদ, কর্পোরেশনের যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করিবে এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করিবে।
Section ১০. পরিচালনা পর্ষদ
(১) কর্পোরেশনের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকিবে যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :-
(২) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা পরিচালনা পর্ষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পরিচালনা পর্ষদের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ১১. পরিচালনা পর্ষদের সভা
(১) চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় এবং স্থানে পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) চেয়ারম্যান পরিচালনা পর্ষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো পরিচালক সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) সভাপতিসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম হইবে, তবে মুলতুবি সভার ক্ষেত্রে কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৪) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিচালনা পর্ষদের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৫) কোনো পরিচালকের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থ রহিয়াছে এইরূপ বিষয়ে তিনি ভোট প্রদান করিতে পারিবেন না।
Section ১২. চেয়ারম্যান
(১) কর্পোরেশনের একজন চেয়ারম্যান থাকিবে।
(২) চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং এই আইন, বিধি ও প্রবিধানের বিধান সাপেক্ষে কার্যসম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৪) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি সাময়িকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।
Section ১৩. পরিচালক
(১) কর্পোরেশনের অনধিক ১০ (দশ) জন পরিচালক থাকিবে।
(২) পরিচালকগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।
(৩) পরিচালকগণের চাকরির শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৪) পরিচালকগণ এই আইন, বিধি ও প্রবিধান দ্বারা অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৫) চেয়ারম্যান পরিচালকগণের দপ্তর বণ্টন করিবেন।
Section ১৪. চেয়ারম্যান এবং পরিচালকগণের অযোগ্যতা, অপসারণ, ইত্যাদি
(১) কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যিনি-
(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, লিখিতভাবে নির্দেশ জারি করিয়া, চেয়ারম্যান বা কোনো পরিচালককে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন, যদি তিনি-
Section ১৫. কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি
(১) কর্পোরেশনের নিকট পেশকৃত কোনো প্রকল্পের উপর অথবা পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক মতামতের জন্য প্রেরিত অন্য কোনো বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ প্রদানের জন্য বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে কর্পোরেশন এক বা একাধিক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির গঠন ও কর্মপরিধিসহ অন্যান্য বিষয় কর্পোরেশন কর্তৃক সরকারি গেজেটে আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সভায় বিবেচ্য কোনো প্রকল্প বা বিষয়ের সহিত উক্ত কমিটির কোনো সদস্যের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ স্বার্থ জড়িত থাকিলে, তিনি উহা লিখিতভাবে উক্ত কমিটির আহ্বায়ককে অবহিত করিবেন এবং উক্ত সভায় অংশগ্রহণ করা হইতে বিরত থাকিবেন।
(৪) ঋণ, আর্থিক বিশেষ প্রণোদনা বা সুবিধা লাভের জন্য আবেদনকারী কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য অথবা কারিগরি উপদেষ্টা কমিটিকে অবহিত করা হইয়াছে এইরূপ কোনো তথ্য, আবেদনকারীর লিখিত সম্মতি ব্যতিরেকে, উক্ত কমিটির কোনো সদস্য প্রকাশ করিতে বা ব্যবহার করিতে পারিবেন না।
Section ১৬. জেলা ও উপজেলা শিল্প উন্নয়ন কমিটি
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, প্রয়োজনে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা শিল্প উন্নয়ন কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) জেলা ও উপজেলা শিল্প উন্নয়ন কমিটির গঠন, কার্যপরিধি এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সরকার কর্তৃক বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৭. শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরী, ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা
কর্পোরেশন কুটির শিল্প, অতিক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শিল্পপার্ক, শিল্পনগরী, একক খাতভিত্তিক শিল্পপার্ক, হস্ত ও কারুশিল্প পল্লী এবং অনুরূপ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
Section ১৮. নিবন্ধন, ইত্যাদি
(১) কর্পোরেশন কর্তৃক স্থাপিত শিল্পপার্ক বা শিল্প নগরীতে অবস্থিত সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানকে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর্পোরেশনের অধীন নিবন্ধিত হইতে হইবে।
(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্পোরেশনের শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীর বাহিরে কোনো ব্যক্তি যিনি কুটির শিল্প, অতিক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্প স্থাপন করিয়াছেন অথবা অনুরূপ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা করিয়াছেন তিনি, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, কর্পোরেশনের নিকট হইতে নিবন্ধন গ্রহণ করিবেন।
(৩) যদি কর্পোরেশন এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান যে উদ্দেশ্যে নিবন্ধিত হইয়াছে উহার অস্তিত্ব নাই বা নিবন্ধন প্রদানের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসরের মধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয় নাই, তাহা হইলে কর্পোরেশন উহার নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবে।
Section ১৯. ডেভেলপার নিয়োগ
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্পোরেশন শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডেভেলপার নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সরকার ও অন্য কোনো দেশের সরকারের মধ্যে অংশীদারিত্ব বা উদ্যোগে অথবা এক বা একাধিক সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতায় বা অংশীদারিত্বে শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ডেভেলপার নিয়োগ করিতে পারিবে।
Section ২০. অনুমতিপত্র স্থগিত বা বাতিলকরণ
(১) কর্পোরেশন যে কোনো সময়, ডেভেলপারকে প্রদত্ত অনুমতিপত্র স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে, যদি ডেভেলপার-
(২) উপধারা (১) এর অধীন ডেভেলপারকে প্রদত্ত অনুমতিপত্র স্থগিত বা বাতিলকরণের পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ২১. শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীর মধ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদান
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে, কর্পোরেশন কোনো শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীতে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যাংককে অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
Section ২২. শুল্কাধীন পণ্যাগার সুবিধা
কর্পোরেশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মতিক্রমে, নিম্নবর্ণিত বিষয়ে বন্ডেড সুবিধা প্রদান করিতে পারিবে, যথা :-
Section ২৩. পণ্যাগার স্থাপন
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্পোরেশন, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীর প্রয়োজন বিবেচনায় Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) যথাযথ অনুসরণপূর্বক শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীর কাঁচামাল, প্যাকেজিং সামগ্রী, আধা-প্রক্রিয়াজাত দ্রব্যাদি, ইত্যাদি আমদানির জন্য পাবলিক পণ্যাগার স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ব্যবস্থা করিতে পারিবে।
Section ২৪. অন্যান্য আইনের প্রয়োগ হইতে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীতে অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানকে তপশিলে বর্ণিত কোনো আইনের সকল বা যে কোনো বিধান হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে, অথবা এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে যে, উক্ত সকল বা যে কোনো আইনের বিধানাবলি, উক্ত প্রজ্ঞাপনে বিধৃত পরিবর্তন বা সংশোধন সাপেক্ষে, কোনো শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
Section ২৫. আর্থিক প্রণোদনা ও সহায়তা প্রদান
(১) সরকার কর্পোরেশনের শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীতে স্থাপিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য Bangladesh Export Processing Zones Authority Act, 1980 (Act No. XXXVI of 1980), বাংলাদেশ বেসরকারী রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন, ১৯৯৬ (১৯৯৬ সনের ২০ নং আইন) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪২ নং আইন) এ উল্লিখিত একই ধরনের আর্থিক বিশেষ প্রণোদনা ও সুবিধা প্রদান করিতে পারিবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কর্পোরেশনের শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীতে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রপ্তানিকৃত পণ্যের অনুরূপ পণ্য রপ্তানিকারী উক্ত শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীর বাহিরের কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
Section ২৬. আমদানি স্বত্ব নির্ধারণ
(১) অনুমোদিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল ও মোড়ক উপকরণ আমদানির জন্য আমদানি স্বত্বের প্রয়োজন হইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কর্পোরেশনের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে আবেদন করিতে হইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন বিবেচনার পর কর্পোরেশন যে আমদানি স্বত্ব নির্ধারণ করিবে সেই স্বত্ব অনুযায়ী যাহাতে উক্ত যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল ও মোড়ক উপকরণ আমদানি করা যায় তজ্জন্য কর্পোরেশন বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র প্রদান করিবে।
Section ২৭. কর্পোরেশনের বিশেষ অধিকার
কর্পোরেশনের নিম্নবর্ণিত বিশেষ অধিকার থাকিবে, যথা:-
(১) শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীর কোনো কোম্পানি, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট কর্পোরেশনের কোনো পাওনা অপরিশোধিত থাকিলে, উক্ত কোম্পানি, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক বা পরিচালনা পর্ষদ চুক্তি অনুযায়ী তাহার বা তাহাদের ব্যক্তিগত সম্পদ হইতে উক্তরূপ দেনা পরিশোধের জন্য দায়ী হইবেন এবং উক্তরূপ দেনা পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে কর্পোরেশন উহার পাওনা আদায়ের জন্য উক্ত কোম্পানি, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক বা পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কার্যধারা গ্রহণ করিতে পারিবে;
(২) কোনো শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীর কোনো কোম্পানি, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কোনো শ্রমিক, কর্মচারী, নির্বাহী বা ব্যবস্থাপক যদি এমন কোনো কার্যের সহিত জড়িত থাকে বা এমন কোনো কার্যে প্ররোচনা প্রদান করে, যাহার ফলে কোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ, ধর্মঘট বা লক আউট এর উদ্ভব হয়, তাহা হইলে কর্পোরেশন উক্তরূপ শিল্প প্রতিষ্ঠানকে উহার সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, কর্মচারী, নির্বাহী বা ব্যবস্থাপককে বরখাস্ত করাসহ নির্ধারিত সময়ের জন্য উক্ত শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং তজ্জন্য কর্পোরেশন কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে না; এবং
(৩) যদি শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীতে অবস্থিত কোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কর্পোরেশনের বকেয়া পাওনা, অন্যান্য পাওনা এবং দায়-দেনা পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে কর্পোরেশন এককভাবে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মেশিনপত্র, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল অথবা অন্য কোনো পণ্য অপসারণক্রমে উহা, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্ধারিত হারে মূল্যায়নপূর্বক, অন্য কোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ প্রদান করিয়া বা বিক্রয় করিয়া উক্ত বকেয়া আদায় করিতে পারিবে।
Section ২৮. গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তি সম্পাদন
(১) কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারু শিল্পে নিয়োজিত জনবলকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করিবার লক্ষ্যে বা এতৎসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে কর্পোরেশন, এতৎসংক্রান্ত গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্পের সহিত চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উপধারা (১) এ উল্লিখিত দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বা প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে বিদেশি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কোনো সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে।
Section ২৯. ঋণ প্রদান
(১) কর্পোরেশন কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারু শিল্পখাতে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত ঋণের উপর আরোপিত সুদের হার, সময় সময়, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
Section ৩০. ঋণ বা চাঁদার জামানত
কর্পোরেশন কর্তৃক কোনো ঋণ বা চাঁদা প্রদান করা যাইবে না, যদি না উহা স্থাবর বা অস্থাবর কোনো সম্পত্তির পণ, বন্ধক, দায়বদ্ধকরণ বা অনুরূপ সম্পত্তি স্বত্বনিয়োগ দ্বারা পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয় :
তবে শর্ত থাকে যে, ব্যক্তি পর্যায়ে এইরূপ ঋণ বা চাঁদা সর্বসাকুল্যে অনূর্ধ্ব ২ (দুই) লক্ষ টাকা হইলে উহা একজন জামিনদারসহ অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ করিয়া প্রদান করা যাইবে।
Section ৩১. সমুদয় অর্থ তাৎক্ষণিক পরিশোধের দাবি করিবার ক্ষমতা
(১) কর্পোরেশনের সহিত ঋণগ্রহীতার সম্পাদিত কোনো চুক্তিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ঋণগ্রহীতা যদি-
তাহা হইলে পর্ষদ বা এতদুদ্দেশ্যে পর্ষদ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঋণ বা উহার অধীন প্রদেয় সুদ সংক্রান্ত ঋণের অপরিশোধিত সম্পূর্ণ অর্থ অথবা যে কোনো অংশ পরিশোধ করিবার জন্য অথবা কর্পোরেশনের স্বার্থ রক্ষার্থে পর্ষদ কর্তৃক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পালনের জন্য ঋণগ্রহীতাকে নোটিশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত নোটিশে উল্লেখ থাকিবে যে, যদি ঋণগ্রহীতা দাবিকৃত ঋণ নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হন অথবা উহাতে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে পর্ষদের নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে পর্ষদ ঋণগ্রহীতাকে ঋণখেলাপি হিসাবে ঘোষণা করিয়া একটি সনদ প্রদান করিবে।
(৩) যদি ঋণগ্রহীতা, উপধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে প্রদত্ত নির্দেশনা পালন করিতে, অথবা দাবিকৃত দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে পর্ষদ নির্ধারিত ফরমে এবং পদ্ধতিতে ঋণ গ্রহীতাকে ঋণখেলাপি হিসাবে ঘোষণাপূর্বক এবং নির্দিষ্ট তারিখে বা তারিখের পর সুদসহ কর্পোরেশনকে প্রদেয় মোট অর্থের পরিমাণ এবং সুদের হার উল্লেখপূর্বক একটি সনদ জারি করিতে পারিবে।
(৪) ঋণগ্রহীতা উপধারা (৩) এর অধীন জারীকৃত সনদের বিরুদ্ধে সনদ জারির তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন এবং সরকার জারীকৃত সনদ বহাল, বাতিল বা সংশোধন করিতে পারিবে।
(৫) উপধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, উপধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত সনদ এই মর্মে চূড়ান্ত সাক্ষ্য হইবে যে প্রত্যয়িত পাওনা কর্পোরেশন কর্তৃক ঋণ গ্রহীতার নিকট হইতে আদায়যোগ্য ছিল এবং উহা অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৮ নং আইন) এর অধীন আদায়যোগ্য হইবে।
Section ৩২. আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তি
কর্পোরেশন কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহিত এই মর্মে চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে যে, অনুরূপ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ঋণ প্রদানের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি ও মন্দ ঋণ, যদি থাকে, এবং ঋণের সুদ কর্পোরেশন ও অনুরূপ আর্থিক প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে বহন করিবার শর্তসাপেক্ষে, শিল্পের উদ্যোক্তাদেরকে সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত নীতিমালা ও বিধি-বিধানের আলোকে ঋণ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ৩৩. ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা
কর্পোরেশন এই আইনের অধীন কার্যাবলি সম্পাদনের নিমিত্ত দেশি বা বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো উৎস হইতে প্রয়োজনীয় ঋণ বা অনুদান গ্রহণ করিতে পারিবে, তবে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
Section ৩৪. কোম্পানি গঠন
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্পোরেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) অনুযায়ী কোম্পানি গঠন করিতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি এতৎবিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের অধীন গঠিত ও পরিচালিত হইবে।
Section ৩৫. সমিতি, সংঘ, ইত্যাদি
কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্প পরিচালনাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে সমিতি বা সংঘ গঠন করিতে পারিবে।
Section ৩৬. নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও সুরক্ষা প্রদান
কর্পোরেশন শিল্প ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও তাহাদের সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
Section ৩৭. কর্মীদের কল্যাণ
সরকার, কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্পের সহিত জড়িত কর্মীদের কল্যাণার্থে শ্রমবান্ধব ও নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।
Section ৩৮. তহবিল
(১) কর্পোরেশনের নামে একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথা :-
(২) তহবিলের অর্থ কর্পোরেশনের নামে কর্পোরেশন কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত কোনো তপশিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালিত হইবে।
(৩) তহবিলের অর্থ হইতে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে কর্পোরেশনের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।
(৪) কর্পোরেশন উহার তহবিল নিরাপত্তা জামানত বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
Section ৩৯. সংরক্ষিত তহবিল গঠন
(১) কর্পোরেশন ইহার মূল তহবিল হইতে সংরক্ষিত তহবিল গঠন করিতে পারিবে।
(২) কর্পোরেশন সংরক্ষিত তহবিল হইতে পর্ষদের অনুমোদনক্রমে কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) কর্পোরেশন সংরক্ষিত তহবিলের অর্থ মূল তহবিলে অথবা মূল তহবিল হইতে সংরক্ষিত তহবিলে অর্থ স্থানান্তর করিতে পারিবে।
Section ৪০. বাজেট
কর্পোরেশন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ-বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ-বৎসরে, সরকারের নিকট হইতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট বিবরণী সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।
Section ৪১. হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা
(১) কর্পোরেশন যথাযথভাবে ইহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বাৎসরিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর কর্পোরেশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা রিপোর্ট দাখিল করিবেন।
(৩) উপধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P.O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1) (b) তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা কর্পোরেশনের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্পোরেশন এক বা একাধিক Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবেন।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত Chartered Accountant এতদুদ্দেশ্যে পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত হারে পারিশ্রমিক প্রাপ্য হইবেন।
(৫) কর্পোরেশনের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত Chartered Accountant কর্পোরেশনের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, পরিচালক বা কর্পোরেশনের যে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
Section ৪২. বাৎসরিক প্রতিবেদন
(১) কর্পোরেশন প্রত্যেক আর্থিক বৎসর সমাপ্ত হইবার পর উহার বাৎসরিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, যে কোনো সময়, কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকা কোনো বিষয়ের প্রতিবেদন, রিটার্ন, বিবরণী, প্রাক্কলন, পরিসংখ্যান বা অন্যান্য তথ্য সরবরাহের জন্য আহ্বান করিতে পারিবে এবং কর্পোরেশন উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৪৩. মিথ্যা তথ্য প্রদানের দণ্ড
যদি কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশন হইতে ঋণ বা অন্য কোনো সুবিধা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন বা জ্ঞাতসারে মিথ্যা বিবরণী ব্যবহার করেন বা কর্পোরেশনকে কোনো প্রকারে মিথ্যা প্রতিবেদন গ্রহণ করিবার জন্য প্ররোচনা প্রদান করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
Section ৪৪. সীমানা প্রাচীর, ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণের দণ্ড
যদি কোনো ব্যক্তি বৈধ কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে-
তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক
৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
Section ৪৫. ডেভেলপার বা ঠিকাদারকে বাধা প্রদান বা চিহ্ন অপসারণের দণ্ড
যদি কোনো ব্যক্তি-
তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
Section ৪৬. অননুমোদিত ভূমি দখল, স্থাপনা নির্মাণ, ইত্যাদির দণ্ড
যদি কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশনের লিখিত অনুমোদন ব্যতিরেকে-
তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
Section ৪৭. প্লটের অবৈধ হস্তান্তর, ইত্যাদির দণ্ড
(১) যদি কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশনের নিকট হইতে শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীতে কোনো প্লট বরাদ্দ প্রাপ্ত হইয়া উক্ত প্লট বা উহার অংশবিশেষ অবৈধভাবে হস্তান্তর বা ভাড়া প্রদান করেন বা শিল্প কারখানা ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) উপধারা (১) অনুযায়ী কোনো শিল্প প্লটের বরাদ্দ গ্রহীতা দণ্ডিত হইলে কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট প্লটের সম্পূর্ণ বা অংশ বিশেষ নিজ দখলে গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহা পুনঃবরাদ্দ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ৪৮. কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইবার জন্য ক্ষতিপূরণ
(১) অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির দ্বারা কর্পোরেশনের কোনো সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে, কর্পোরেশন কর্তৃক ক্ষতিপূরণ দাবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত, এই আইনে বর্ণিত দণ্ড ও অর্থদণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে, কর্পোরেশনকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য উক্ত ব্যক্তিকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের অর্থ কর্পোরেশনকে প্রদান করা না হইলে, উক্ত অর্থ আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ড আদায়ের ন্যায় আদায় করা যাইবে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের অর্থ যথাশীঘ্র সম্ভব কর্পোরেশনকে প্রদানের ব্যবস্থা করিবে।
Section ৪৯. অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ও বিচার
(১) চেয়ারম্যান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন কোনো মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।
(২) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
(৩) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার অধীন অপরাধের অভিযোগ তদন্ত, আপিল ও বিচার সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
Section ৫০. ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩২ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এই আইনের ধারা ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬ ও ৪৭ এ উল্লিখিত পরিমাণ অর্থদণ্ড আরোপ এবং ধারা ৪৮ এ বর্ণিত ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
Section ৫১. কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
(১) কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে, উক্ত কোম্পানির এইরূপ প্রত্যেক পরিচালক, ব্যবস্থাপক, অংশীদার, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘঠিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত সত্তা হইলে, উক্ত উপধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ব্যতীতও উক্ত কোম্পানিকে পৃথকভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শুধু অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারায়-
Section ৫২. কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী
(১) কর্পোরেশন উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ৫৩. গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, পরামর্শক, আইন উপদেষ্টা ও প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ
কর্পোরেশন উহার কর্মকাণ্ড দক্ষতার সহিত সম্পাদনের জন্য গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, পরামর্শক, উপদেষ্টা এবং মামলা পরিচালনা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনগত মতামত প্রদানের জন্য আইন উপদেষ্টা ও প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ বা নিযুক্ত করিতে পারিবে।
Section ৫৪. জোরপূর্বক দখল বা অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের ক্ষমতা
কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কোনো ভূমি বা কর্পোরেশনের মালিকানাধীন বা কর্পোরেশনের নিকট ন্যস্ত কোনো ভূমির মালিকানা বা অধিকার ভোগ করেন না এমন কোনো ব্যক্তি উক্ত ভূমির দখল গ্রহণ করিয়াছেন বা দখল গ্রহণের চেষ্টা করিতেছেন বলিয়া কর্পোরেশন নিশ্চিত হইলে, চেয়ারম্যান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশনের পক্ষে উক্ত ভূমি পুনর্দখল করিতে এবং কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ প্রদান ব্যতিরেকে, উক্ত ভূমির সকল ভবন ও স্থাপনা অপসারণ এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, দখল গ্রহণ করিতে পারিবেন।
Section ৫৫. নোটিশ অগ্রাহ্যে কর্পোরেশন কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণ
কর্পোরেশন, এই আইনের অধীন কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো কার্য সম্পাদন করিতে অথবা কোনো কাজ করা হইতে বিরত থাকিবার জন্য নোটিশ প্রদান করিলে এবং তিনি নোটিশ অনুযায়ী উক্ত কাজ করিতে বা করা হইতে বিরত থাকিতে ব্যর্থ হইলে, কর্পোরেশন উক্তরূপ কাজ সম্পাদন বা বাস্তবায়ন বা এতদ্বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহাতে ব্যয়িত সকল অর্থ উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবে।
Section ৫৬. অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা
কর্পোরেশন কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প এবং হস্ত ও কারুশিল্প স্থাপন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং বিপণন কার্যক্রমে যে কোনো সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চাহিতে পারিবে এবং এইরূপ সহযোগিতা চাওয়া হইলে, উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ সহযোগিতা প্রদান করিবে।
Section ৫৭. অস্পষ্টতা দূরীকরণ
এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা দেখা দিলে সরকার উক্তরূপ অস্পষ্টতা দূরীকরণার্থে, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
Section ৫৮. ক্ষমতা অর্পণ
পরিচালনা পর্ষদ, লিখিতভাবে সাধারণ অথবা বিশেষ আদেশ দ্বারা ইহার নির্দিষ্ট ক্ষমতাসমূহ, নির্দিষ্ট অবস্থা ও শর্তে, কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অথবা কোনো পরিচালক অথবা কোনো কর্মকর্তাকে প্রয়োগ করিবার ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ৫৯. কর্পোরেশনের অবসায়ন
কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ উল্লিখিত অবসায়ন সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না এবং আইন প্রণয়ন ব্যতিরেকে উহার অবসায়ন করা যাইবে না।
Section ৬০. মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ
এই আইনে বর্ণিত অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তপশিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, মোবাইল কোর্ট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
Section ৬১. তপশিল সংশোধনের ক্ষমতা
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তপশিল সংশোধন করিতে পারিবে ৷
Section ৬২. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করিতে পারিবে।
Section ৬৩. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্পোরেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত কর্পোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করিতে পারিবে।
Section ৬৪. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation Act, 1957 (Act No. XVII of 1957), অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত Act এর অধীন-
(৩) উক্ত Act রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে উহার অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation এর-
Section ৬৫. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) এই আইনের বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।